তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪২
নওরিন মুনতাহা হিয়া
ফাঁকা বন্ধ ক্লাসরুমে পাশাপাশি অবস্থান করছে মেঘ আর আদ্রিয়ান। এক হাত দিয়ে শাড়ির নিচের কুঁচির অংশ ধরে তার সম্মুখে দাঁড়ান পুরুষের দিকে ভ্রু কুচঁকে তাকিয়ে আছে মেঘ! মূলত আদ্রিয়ানের সাহায্য করার কথা শুনে বেশ অবাক হয়েছে! মেঘ আদ্রিয়ানকে প্রশ্ন করে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ আপনি কি করে সাহায্য করবেন আমাকে? আপনি কি শাড়ি পড়াতে পারেন?”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ান সম্মতি সূচক মাথা নাড়িয়ে উত্তর প্রদান করে
“হুম‚ আমি শাড়ি পড়াতে পারি। এর আগেও বহুবার শাড়ি পড়িয়েছি।”
শাড়ি পাড়ানর কথা শুনে চোখ বড় বড় করে আদ্রিয়ানের দিকে তাকায় মেঘ! আদ্রিয়ানের কথার মানে তার বোধগম্য হয়নি‚ পুরুষ মানুষ হয়ে শাড়ি পড়ান জানে কি করে? আর এর আগে ও অন্য কোন নারীকে শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছে আদ্রিয়ান। আমেরিকার মানুষ সাধারণ শাড়ি পড়ে না তবে কি তার প্রিয় ছাএী জিয়ারকে শাড়ির পড়িয়ে দিয়েছে আদ্রিয়ান! মেঘের কপালে কুঁচকে থাকা ভ্রু অধিক কুঁচকায় আর সন্দিহান দৃষ্টি নিয়ে নিয়ে দ্রুতার সহিত প্রশ্ন করে উঠে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“আপনি এর আগে কতজন নারীকে শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছেন আদ্রিয়ান স্যার?”
হঠাৎ মেঘের চোখে মুখে রাগ‚ হিংসা‚ আর সন্দেহ দেখে আদ্রিয়ান অবাক হয়! এর আগে বহুবার সে শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছে কিন্তু তা অন্য কোন নারীকে নয় । বরং তার আপন বোন সৃষ্টিকে। ছোটবেলা থেকে শাড়ি পড়া সৃষ্টির ভীষণ প্রিয় শখ ছিল। বাঙালি নারীর শাড়ি মানে হল আবেগ ‚ আর শখ কিন্তু সৃষ্টির ছিল অভ্যাস! সৃষ্টির রুমের আলমারি জুড়ে থ্রি_ প্রিস ‚ জামা বা অনান্য পোশাকসজ্জার দেখা না মিললে ও শাড়ি সবসময় পাওয়া যেতো!
শার্লিন বেগমের কাছে প্রায়ই শাড়ি পড়ার বায়না ধরত সৃষ্টি। সৃষ্টির জেদের কাছে বাধ্য হয়ে তাকে শাড়ি পড়িয়ে দিত শার্লিন বেগম৷ কিন্তু সৃষ্টির বয়স তখন কম থাকায় শাড়ি পড়ার পর সামলে রাখতে পারত না। তাই প্রায়ই আদ্রিয়ানের কাছে এসে ঠোঁট উল্টো বাচ্চা মুখশ্রী নিয়ে আবদার করত। তার শাড়ির কুঁচি বা আঁচল ঠিক করার জন্য। আদ্রিয়ান তখন ডক্টরি পড়াশোনা নিয়ে যথেষ্ট ব্যস্ত থাকত কিন্তু একমাত্র ছোট বোনের আবদার পূরণ করার জন্য সে ইউটিউব দেখে শাড়ি পড়া শিখেছিল। যদি ও এখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে এর মধ্যে আর কাউকে শাড়ি পড়িয়ে দেয়নি। কিন্তু আদ্রিয়ানের সৃতি শক্তি বেশ প্রখন এখন সে শাড়ি পড়ানর নিয়ম ভুলে যায়নি। শাড়ি কুঁচি সে ঠিক করতে পারবে খুব বেশি অসুবিধা হবে না।
কিন্তু অতীতের সৃতির কথা মনে পড়ে আদ্রিয়ানের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। বাংলাদেশে থাকতে তার জীবন কতো সুন্দর ছিল ‚ বোনের সাথে খুনসুটি ‚ মায়ের আদর ‚ আর বাবার রাগী কণ্ঠে আদুরে শাসন। চাচা‚ চাচির সাথে কতো সুন্দর বন্ডিং ছিল তার কিন্তু ধীরে ধীরে তার জীবন থেকে সব হারিয়ে গেল। এই ডক্টরি পড়াশোনার জন্য আমেরিকায় আসার স্বপ্নে তার পরিবার থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দিল। দীর্ঘ নয় বছর কতো দ্রুত তার জীবন থেকে চলে গেল!
অতীতে সৃতির মধ্যে ডুবে থাকা আদ্রিয়ানের মুখশ্রীর দিকে তীর্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকায় মেঘ। তার মুখের আদলে প্রথমে হাসির ঝলক দেখা যায় ‚ কিন্তু এরপর আবার কষ্টের ছাপ ফুটে উঠে। আদ্রিয়ানের মুখ থেকে তার মনের অস্থিরতা বুঝতে অক্ষম হয় মেঘ। বেশ দীর্ঘ সময় আদ্রিয়ানকে চুপচাপ থাকতে দেখে মেঘ বিরক্ত হয়ে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ কি হয়েছে আপনার? কোথায় হারিয়ে গেলেন আপনি? কথা বলছেন না কেন?”
বিরক্তি মাখা কণ্ঠে মেঘের ডাক শুনে আদ্রিয়ানের ঘোর কাটল। অতীতের সৃতি থেকে বাস্তবতায় ফিরল সে। বহু সময় আগে করা মেঘের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করল
“মেঘ‚ আমার বোন সৃষ্টির শাড়ি পড়ার ভীষণ প্রিয় ছিল। ছোটবেলায় প্রায়ই আমার কাছে শাড়ি পড়ার বায়না ধরত! তখন ইউটিউবের ভিডিও দেখে শিখেছিলাম। আমি শাড়ি পড়াতে পারি‚ তুমি চাইলে শাড়ির কুঁচি ঠিক করে দিতে পারি আমি।”
সৃষ্টির কথা শুনে মেঘ চুপ হয়ে যায়! সৃষ্টির শাড়ি পছন্দ তা মেঘ জানে কারণ তারা ছোটবেলা থেকে একসাথে বড়ো হয়েছে। স্কুল ‚ কলেজ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেঘ প্রায়ই সৃষ্টির আলমারি থেকে শাড়ি নিয়ে পড়ত। কিন্তু আদ্রিয়ান সৃষ্টিকে শাড়ি পড়িয়ে দিত এই কথা মেঘ জানত না। অবশ্য মেঘের জানার কথা ও না কারণ তালুকদার বাড়িতে প্রবেশ করার প্রথমদিন আদ্রিয়ান আমেরিকায় চলে যায়। এরপর দীর্ঘ নয় বছর। এখন আর অতীত মনে করতে চাই না মেঘ! কিন্তু আদ্রিয়ানের থেকে শাড়ি পড়া কি তার উচিত হবে? না‚ নূহার ডান্স শেষ করা অবধি অপেক্ষা করবে! কিন্তু নূহা যদি শাড়ি পড়াতে না পারে তখন! আর আদ্রিয়ান সাধারণ মেঘের শাড়ির নিচের অংশের কুঁচি ধরবে! সম্পূর্ণ শাড়ি তো আর পড়িয়ে দিবে না। তাছাড়া শাড়ির কুঁচি ধরে আর কতোখন দাঁড়িয়ে থাকবে সে! এইবার হাত ব্যাথা শুরু হয়ে যাবে তার।
মেঘ কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা মাথায় ভাবে এরপর শান্ত হয়ে আদ্রিয়ানকে বলে উঠে
“ওকে‚ আদ্রিয়ান স্যার আপনি শাড়ির কুঁচি ধরেন।”
আদ্রিয়ান মেঘের সম্মতি পেয়ে শাড়ির কুঁচি নিজ হাতের বাঁধনে নেয়।
কলেজ করিডরে মেঘকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে ফারহান! মেঘ কোথায় চলে গেল? কিছুক্ষণ আগে এখানে দাঁড়িয়ে ছিল! ফারহান চারপাশে খুঁজতে থাকে কিন্তু করিডরে কোথা ও মেঘ নাই। হঠাৎ ফাঁকা ক্লাস রুম থেকে মেঘের কণ্ঠের আওয়াজ ভেসে আসল। ফারহান দ্রুত ছুটে যায় ক্লাস রুমের দরজার কাছে ‚ এরপর দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে ডাক দেয়
“মেঘ‚ মেঘ কোথায় তুমি?মেঘ?”
আদ্রিয়ান হাঁটু গেঁড়ে ফ্লোরে বসে মেঘের শাড়ির নিচে৷ কুঁচির অংশে হাত রাখে। ঠিক তখনই হঠাৎ ফারহানের কণ্ঠে শুনে তারা দুইজন চমকে যায়। দরজার বাহিরে ফারহান মেঘের নাম দিয়ে অনারবত ডেকে যাচ্ছে! দরজার বাহিরে ফারহানের কণ্ঠ শুনে মেঘ আঁতকে উঠে? ফারহান চৌধুরী এখানে কি করছে? কণ্ঠ স্বর শুনে মনে হচ্ছে ওনি দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে আছেন? কিন্তু কেন এসেছেন ওনি এখানে?
মেঘ ভর্য়াত কণ্ঠে আদ্রিয়ানের দিকে তাকায়। কিন্তু আদ্রিয়ান বেশ শান্ত! তার মুখের ভাব ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে ফারহানের কণ্ঠে তার কানে পৌঁছায় নি! এই ফাঁকা রুমে আদ্রিয়ান আর মেঘ এখন একসাথে রয়েছে ‚ আদ্রিয়ানের হাতে এখন মেঘের শাড়ির অংশ! এমন অবস্থায় যদি ফারহান তাদের দুইজনকে দেখে ‚ নিশ্চয়ই কোন অশ্লীল চিন্তা ভাবনা করবে! যদিও এখানে তাদের দুইজনের মধ্যে এমন কোন অশ্লীল কাজ হচ্ছে না। কিন্তু ফারহান কি তা বিশ্বাস করবে! নিজের চোখে দেখা দৃশ্য নিশ্চয়ই মিথ্যা বলে এড়িয়ে যাবে না।
অবশ্য ফারহানের ভাবনা নিয়ে মেঘের কোন কিছু যায় আসেনা। কারণ মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে না! তাছাড়া এখন ও আদ্রিয়ান আর তার ডিভোর্স হয়নি! যেখানে নিজের স্বামীর সাথে এখন ও মেঘের বিচ্ছেদ হয়নি সেখানে হবু স্বামীর কথা কোন ভাবতে যাবে? মেঘের ইচ্ছা হল ফারহান যেন রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে তাদের দুইজনাকে একসাথে দেখে কোন নেগেটিভ চিন্তা করে। এরপর যাতে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়!
কিন্তু মেঘের ইচ্ছা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়! কারণ ফারহান যদি আদ্রিয়ান আর তার বিয়ে কথা জানে তবে সর্বনাশ হয়ে যাবে! যদি ফারহানের মাধ্যমে কলেজের ছাএ ছাএীরা জেনে যায় তখন? তারা হয়ত মেঘের চরিত্র নিয়ে বাজে মন্তব্য করবে! তাছাড়া যদি জিয়ার কানে একবার যায় যে‚ আদ্রিয়ানের বিবাহিত স্ত্রী মেঘ। তবে নিউইয়র্ক সিটির উপর দিয়ে টনের্ডো বয়ে যাবে। আর বর্তমানে মেঘ যে মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করছে তার প্রধান শেয়ারহোল্ডার হল জিয়ার বাবা ইরফান সাহেব। যদি মেঘের সাথে শএুতা করে তাকে কলেজ থেকে বের করে দেয়। তখন কি হবে? মেঘের কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে! আর আদ্রিয়ানের উপর সুইসাইড কেস করবে।
অতএব মেঘের মেডিক্যালে পড়াশোনা শেষ হওয়া অবধি আদ্রিয়ান আর তার বৈবাহিক সম্পর্কর কথা লুকিয়ে রাখা হবে! আর যদি আর পঁচিশ দিন পর তাদের দুইজনের ডিভোর্স হয় তবুও তা ঘরোয়া ভাবে হবে। যেন জিয়া বা বাহিরের অন্য কোন সদস্য এই কথা না জানে? মেঘ আর কেরিয়ার আর চরিত্র নিয়ে কোন রিক্স নিতে চাই না! অসম্ভব! দরজার অপর পাশে থাকা ফারহানের ডাক শুনে মেঘের ঘোর কাটল! শাড়ির নিচের অংশ খপ করে আদ্রিয়ানের হাত থেকে নিয়ে দ্রুত বলে উঠে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ দরজার বাহিরে ফারহান চৌধুরীর কণ্ঠ শুনা যাচ্ছে? এখন কি করব আমরা? ওনি যদি ভিতরে চলে আসেন তখন?”
মেঘের মুখে “ফারহান চৌধুরী” নাম শুনে আদ্রিয়ানের শান্ত চেহারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। চোখে মুখে স্পষ্ট রাগ‚ হিংসা দৃশ্যমান হয়! মুখের শান্ত আদলে মুহূর্তের মধ্যে হিংস্রতা প্রকাশ পায়! আদ্রিয়ান হাঁটু গেঁড়ে বসে থাকা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ায়‚ মেঘ এখন দরজার ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বাহির থেকে ফারহানের বিচলিত কণ্ঠ শুনা যাচ্ছে হয়ত এখুনি রুমের দরজা খুলে ভিতরে চলে আসবে। আদ্রিয়ান মুখে ফারহানের জন্য যে ভয় আর উৎকণ্ঠা দেখে নীরবে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে! তার বুকের ভিতর এক অদ্ভুত পীড়া অনুভব করে৷ প্রিয় মানুষের চোখে অন্য পুরুষের জন্য ভালোবাসা দেখা এতোটা সহজ নয়! মেঘ হয়ত ফারহানকে ভালোবাসে না! কিন্তু ফারহানের প্রতি মেঘের সামান্য কেয়ার‚ ভয়‚ আর যত্ন যে আদ্রিয়ান সয্য করতে পারবে না!! কারণ মেঘ যে তার! প্রতিনিয়ত মেঘের প্রতি আদ্রিয়ানের যে মুগ্ধতা আর ভালোবাসা সৃষ্টি হচ্ছে তার মিথ্যা নয়!
মেঘের পাশে অন্য পুরুষের ছায়া সয্য করা আদ্রিয়ানের দ্বারা সম্ভব নয়! মেঘ শুধুমাএ আদ্রিয়ানের! মেঘের যত্ন ‚ ভালোবাসা‚ হাসি_ কান্না সব তার। এবং কি মেঘের ঘৃণা অবধি ও আদ্রিয়ানের! আদ্রিয়ানকে ভালোবাসা বা ঘৃণা করা দুইটার অধিকার শুধু মেঘের রয়েছে। কারণ মেঘ তার স্ত্রী! আদ্রিয়ান মেঘের দিকে তাকিয়ে বিক্ষিপ্ত নয়নে বলে
“তুমি কি চাও মেঘ? ফারহান চৌধুরী যেন এই রুমে না আসুক? আমাদের দুইজনকে এমন অবস্থায় না দেখুক”
“হুম‚ আমি চাই ফারহান চৌধুরী যেন এই রুমে এসে আমাদের একসাথে না দেখে? ওনি এখুনি চলে আসবে আদ্রিয়ান স্যার! চলুন লুকিয়ে পড়ি আমরা।”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ানের বিগড়ে থাকা মেজাজা যেন অত্যাধিক খারাপ হল! কে এই ফারহান চৌধুরী? কেন তাদের দুইজনের সম্পর্ক মেঘ তার থেকে লুকিয়ে রাখতে চাই? মেঘ শাড়ির কুঁচি ধরে দ্রুত কোথা ও লুকিয়ে পড়ার জায়গা খুঁজছিল! দূরে থাকা দরজার পাশে ফাঁকা অংশে লুকিয়ে পড়ার জায়গা দ্রুত পা বাড়ায় মেঘ! কিন্তু মেঘ এক পা নড়ার আগেই ‚ তার বাহু শক্ত করে চেপে ধরে আদ্রিয়ান তাকে থামিয়ে দেয় আর বলে
“মেঘ কে এই ফারহান চৌধুরী? কি সম্পর্ক তোমার আর ওর মধ্যে?”
বাহু ধরে শক্ত করে চেপে ধরায় মেঘ থেমে যায় আদ্রিয়ানের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এখন তার নাই। মেঘ বলে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ হাত ছাড়ুন আমার। আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদান করার মতো সময় আমার হাতে নেই। আগে দ্রুত লুকান আপনি”।
মেঘের কথা কর্ণপাত করল না আদ্রিয়ান‚ বরং জেদ দেখিয়ে মেঘের বাহুদ্বয় দ্বিগুণ শক্ত চেপে ধরল! আদ্রিয়ানের শক্ত হাতের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে এক পা নাড়ার শক্তি মেঘের নাই! মেঘ বুঝল এখন আদ্রিয়ানের প্রশ্নের উত্তর উপেক্ষা করে যাওয়া অসম্ভব। তাই বুকে সাহস নিয়ে কণ্ঠ তেজ বজায় রেখে বলে উঠে
“ফারহান চৌধুরী আমার হবু স্বামী হয়। শুনছেন আপনি! আর আগামী মাসে তার সাথে আমার বিয়ে! আর আমি চাই না বিয়ের আগে আমার হবু স্বামী ‚ এই ফাঁকা রুমে আমাদের দুইজনকে একসাথে দেখুক!”
মেঘের বলা সব কথা আদ্রিয়ানের কানে যায় না! কারণ মেঘের প্রথম বলা “হবু স্বামী” শব্দটা যে মস্তিষ্কে গিঁথে গেছে আদ্রিয়ানের। নিজ মনে বেশ কয়েকবার শব্দটা আওড়াল আদ্রিয়ান? হবু স্বামী মানে? নয় বছর আগে মেঘের বিয়ে হয়েছে আদ্রিয়ানের সাথে! আর এখন ও তাদের ডিভোর্স হয়নি তবে অন্য কোন পুরুষ মেঘের স্বামী হয় কি করে! আদ্রিয়ান রাগ নয় বরং বিস্ময়ের সহিত প্রশ্ন করল
“ফারহান তোমার হবু স্বামী মানে? মেঘ কি বলছ তুমি?
আদ্রিয়ান যে বড়সর এক ঝটকা খাবে কথাটা শুনে তা মেঘ জানত! মেঘ বলে
“হুম‚ আমার বড় আব্বু ফারহানের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে।”
“বড় আব্বু” কে ওনি? আদ্রিয়ানের জানা মতে মেঘ এতিম। জন্মের সময় তার মা মারা গিয়েছিল‚ আর চৌদ্দ বছর বয়সে তার বাবা। তবে এই বড় আব্বু কে?ওয়েট ‚ কোথাও আব্বু মানে জামান সাহেবের কথা বলছে কি মেঘ? আদ্রিয়ান বলে
“কে তোমার এই বড় আব্বু? কি নাম তার?”
মেঘের বাবার বন্ধু মানে জামান সাহেবের কথা বলছে মেঘ! জামান সাহেব আদ্রিয়ানের বাবা। কিন্তু হঠাৎ জামান সাহেব কেন মেঘের বিয়ে ফারহানের সাথে ঠিক করবে! আর তার বউয়ের বিয়ে এক মাস পর অথচ সে কিছুই জানে না? আদ্রিয়ানের রাগ বাড়ল তার বাবার উপর আর এই ফারহানের উপর! খুব শখ না আদ্রিয়ানের বউকে বিয়ে করার! ওয়েট ফারহান চৌধুরী! আই এম কামিং! হঠাৎ আদ্রিয়ান মেঘের বাহুদ্বয় ছেড়ে দিয়ে‚ দরজার দিকে পা বাড়ায়। মেঘ বলে
“আদ্রিয়ান স্যার আপনি দরজার কাছে যাচ্ছেন কেন? বাহিরে ফারহান রয়েছে! ”
মেঘের কথা শুনে আদ্রিয়ানের মুখে সয়তানি হাসি ফুটে উঠল। আদ্রিয়ান বলে
“দরজার বাহিরে তোমার হবু স্বামীর কাছে যাচ্ছি মেঘ! আমরা ফাকা রুমে দুইজনে এতোখন কি করছিলাম তার ডিটেইলস বলতে যাচ্ছি!”
আদ্রিয়ানের কথার মানে বুঝতে পারল মেঘ! কিন্তু এখন আদ্রিয়ান দরজার প্রায় কাছে পৌঁছে গেছে। মেঘ দ্রুত দৌড়ে দরজার কাছে যায়। পিছন থেকে আদ্রিয়ানের হাত ধরে শক্ত করে চেপে ধরে টান দিয়ে দরজার পাশে থাকা ফাঁকা অংশে নিয়ে যায় মেঘ। দরজার বাহিরে বেশ দীর্ঘ সময় ধরে মেঘের নাম ধরে ডাকার পর যখন মেঘের কোন সাড়া পায়নি! তখন ফারহান ঠাস করে দরজা খুলে ক্লাস রুমের ভিতরে প্রবেশ করে!
ফাঁকা ক্লাসরুমে এখন পিনপিন নিরবতা বিরাজ করছে। সারা রুম জুড়ে শুধু সারিবদ্ধ করে রাখা বেঞ্চ আর টেবিল! কোথাও কোন জন মানবের অস্বস্তি নেই! ক্লাস রুমের কোথাও মেঘকে না দেখতে পেয়ে অবাক হয় ফারহান! কলেজ করিডরে নাই আবার ক্লাসরুমে ও নাই তবে কোথায় চলে গেল মেঘ? মেঘ কি এই রুমে আসেনি! কিন্তু ফারহান স্পষ্ট শুনেছে মেঘের কণ্ঠ। কিন্তু কোথায় মেঘ?
[ প্রায় পাঁচ মিনিট আগে ]
দরজার পিছনের অংশে দেয়ালের সাথে পিঠ ঘেসে লুকিয়ে পড়ে মেঘ আর আদ্রিয়ান। কিন্তু ফারহান যখন জোরে শব্দ করে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে‚ তখন শক্ত দরজার বারি লাগে আদ্রিয়ানের পিঠে। আদ্রিয়ান মুখে ব্যাথাতুর আওয়াজ করে না ‚ কিন্তু তার চোখ মুখ দেখে স্পষ্ট মেঘ বুঝতে পারে আদ্রিয়ান ব্যাথা পেয়েছে! মুহূর্তের মধ্যে ফারহানের ভয় মেঘের মন থেকে দূরে সরে যায়‚ মেঘ বলে উঠে
“আ অ — —-।”
মেঘের কণ্ঠ থেকে কোন শব্দ উচ্চারণ হওয়ার আগেই আদ্রিয়ান তার মুখ চেপে ধরে। এরপর ইশারা দিয়ে ফারহানকে দেখায়! ফারহান এখন ও রুম থেকে বাহির হয়নি! মেঘ চুপ হয়ে যায় কিন্তু তার এক হাত নিয়ে রাখে আদ্রিয়ানের পিঠে। এরপর মৃদু ধাক্কা দিয়ে আদ্রিয়ানে৷ শরীর মিশিয়ে দেয় তার শরীরের সাথে! আদ্রিয়ান ধমকায় মেঘের এমন কাণ্ডে!
পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে ফারহানের দিকে তাকায় আদ্রিয়ান। এই সয়তান এখন এখানে দাঁড়িয়ে আছে! মেঘ যখন চাই না ফারহান তাদের সম্পর্কের কথা জানুক। তবে আদ্রিয়ান এখন বলবে না! ফারহান এখন রুমের চারপাশে মেঘাে খুঁজে যাচ্ছে! আদ্রিয়ান বিরক্তি মাখা মুখ নিয়ে ফারহানের দিকে তাকায় এরপর আবার ঘাড় সোজা করে ফিরে তাকায় মেঘের দিকে।
উভয়ই বেশ কাছাকাছি থাকায় আদ্রিয়ান যখন মেঘের দিকে তাকায়। তখন বেশ কাছাকাছি চলে আসে তারা! দুইজনের মধ্যে নিঃশ্বাস ছাড়ার মতো জায়গা নেই! আদ্রিয়ান আর মেঘ দুইজনে একে অপরের দিকে তাকায়! মেঘের গোলাপ রাঙা দুই ঠোঁট বেশ কাছ থেকে দেখছে আদ্রিয়ান। হঠাৎ কেমন জানি অদ্ভুত ঘোর লেগে যায় দুইজনের মধ্যে! আদ্রিয়ান দেয়ালে রাখা তার হাত ধীরে ধীরে মেঘের চুল স্পর্শ করে তার কানের লতি ছুঁয়ে দেয়।
শীতল হাতের স্পর্শে মেঘ কেঁপে উঠে! তার চোখ জুড়া খিঁচে বন্ধ করে নেয়! আদ্রিয়ান তার হাত অগ্রসর করায় মেঘের গাল অবধি। ডান পাশের গালে আলতো করে আঙুল দিয়ে হাত বুলায়! মেঘ লজ্জা বা শিহরণে কেঁপে উঠে। মেঘের গোলাপি অধর জুড়া বেশ আকর্ষণ করে আদ্রিয়ানকে! একবার তার ঠোঁট দিয়ে মেঘের অধর জোড়া ছুঁয়ে দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে আদ্রিয়ানের মনে! নিজ ইচ্ছাকে ধমিয়ে রাখা আদ্রিয়ানের দ্বারা সম্ভব হয়নি।
বুড়ো আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে মেঘের অধর জোড়া স্পর্শ করে আদ্রিয়ান। এরপর আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করে! গোলাপি অধর জুড়ার মৃদু চাপ প্রয়োগ করে আঙ্গুলের সাহায্য! মেঘ তার হাত দিয়ে শক্ত করে শাড়ি চেপে ধরে! অতিরিক্ত শিহরণে মেঘের সারা শরীর কাঁপছে আর তার অধর জুড়া ও। কাঁপা কাঁপা অধর জুড়ার প্রতি আদ্রিয়ানের আর্কষণ আরো তীব্র হয়। আদ্রিয়ান এইবার একটু এগিয়ে যায় মেঘের কাছে‚ তাদের দুইজনের মধ্যে এখন শ্বাস চলাচল করার মতো জায়গা অবশিষ্ট নাই। আদ্রিয়ান তার ঠোঁট এগিয়ে মেঘের অধর জোড়া ছুঁয়ে দিতো যাবে‚ ঠিক তখন দরজায় ধপ করে শব্দ করে উঠে।
বন্ধ করে রাখা মেঘের চোখ দরজার শব্দ শুনে খুলে যায়। মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখে ফারহান রুমে নাই! তবে কি ফারহান চলে গেছে? কিন্তু আদ্রিয়ানের এখন ওই খেয়াল নাই সে মেঘের ঠোঁট জুড়ায় যখন ছুঁবে তখন মেঘ বলে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ ফারহান চৌধুরী চলে গেছে।”
মেঘের এই কথায় ছিল যথেষ্ট ছিল আদ্রিয়ানের মুডের বারোটা বাজিয়ে দিতে। আদ্রিয়ান এক রাশ বিরক্তি নিয়ে মেঘের থেকে দূরে সরে আসে! ফারহানকে ইচ্ছামত বিশ্রি গালি দিতে ইচ্ছা হচ্ছে তার ‚ তার কিছুক্ষণ যদি রুমে থাকত তবে হয়ত সে বউয়ের সাথে রোমান্স করতে পারত!
আদ্রিয়ানের বিরক্তি মাখা মুখ দেখে মেঘ ঠোটঁ টিপে হাসল! এরপর বলে
“এখন চলুন বাহিরে যায়।”
মেঘ আদ্রিয়ানের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল। কিন্তু আদ্রিয়ান তার হাত ধরে থামিয়ে দেয়‚ মৃদ্যু ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে দেয়! মেঘ চোখ বড় বড় করে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে। হাঁটু গেঁড়ে নিচে বসে পড়ল আদ্রিয়ান ‚ মেঘ আদ্রিয়ানের মতলব বুঝল না মেঘ বলে
“আদ্রিয়ান স্যার কি করছেন?”
মেঘের প্রশ্নের কোন উত্তর দিল না আদ্রিয়ান। মেঘের হাত থেকে শাড়ির কুঁচি নিয়ে নেয় এরপর তা ঠিক করতে থাকে! মেঘ এখন বুঝল আদ্রিয়ান কি করছে! শাড়ির নিচের অংশ ঠিক করে যখন আদ্রিয়ান উপরে মেঘের পেটের অংশের কুঁচি ঠিক করবে! তখন তার নজর যায় মেঘের উন্মুক্ত পেপে! আদ্রিয়ান ইচ্ছা করে মেঘের পেট ছুঁয়ে তার শাড়ির কুঁচি ঠিক করছিল! আর এইদিকে আদ্রিয়ানের হাতের সংস্পর্শে এসে মেঘের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম!
আদ্রিয়ান একবার তাকায় মেঘের চোখ মুখের দিকে। মেঘের এমন অবস্থা দেখে সে মিটমিট করে হাসছে! এরপর যখন আদ্রিয়ান শাড়ির কুঁচি ঠিক করা শেষ করে‚ পেটে গুঁজে দিতে চাই। তখন মেঘ কাঁপা কাঁপা হাতে আদ্রিয়ানের হাত থেকে শাড়ি কেঁড়ে নিয়ে বলে
“আমি একাই পারব।”
আদ্রিয়ান ঠোঁট টিপে হাসে আর বলে
“ওকে।”
মেঘ আর শাড়ির কুঁচি গুজেঁ বাহিরে চলে যায়। কিন্তু দরজা খুলে বাহির হওয়ার আগেই পিছন থেকে আদ্রিয়ান বলে উঠে
“মেঘ‚ তোমার নাভির নিচের তিলটা ভীষণ সুন্দর। আই লাইক ইট।”
আদ্রিয়ানের কথা শুনে মেঘ থমকে যায় রাগী চোখে তাকায় পিছনে ফিরে। আদ্রিয়ান শব্দ করে হেঁসে উঠে! মেঘ আর দাঁড়ায় না এক দৌড়ে বাহিরে চলে যায়।
কলেজ গাউনে মেঘের সাথে দেখা হয় ফারহান। ফারহান মেঘের দিকে এগিয়ে এসে মেঘের হাত ধরে বলে
“মেঘ‚তুমি ঠিক আছো? কোথায় ছিলে তুমি?
ফারহানের হাত ধরায় মেঘ বেশ বিরক্ত হয় নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে
“আমি ওয়াশরুমে ছিল ফারহান স্যার।”
“ওহ্। আচ্ছা চল এখন অনুষ্ঠানের ওইদিকে যায়।”
“ফারহান স্যার আপনি যান। আমি আসছি।”
“চল মেঘ আমরা একসাথে যায়।”
“না আপনি যান আগে। আমাদের একসাথে দেখলে হয়ত ছাএ ছাএীরা অন্য কিছু ভাববে।”
“সো হোয়াট মেঘ! আমি তোমার স্বামী হয়!”
“হবু স্বামী! এখন ও বিয়ে হয়নি। আর কখন হবে কি না তার ও সিউর নাই।”
“ সিউর নাই মানে।”
____ মেঘ ফারহানের কথার কোন উত্তর দিল না। বড় বড় পা ফেলে চলে যায় সেখান থেকে চলে যায়।
রাত এখন ৬:০০
অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে। ফারহান প্রধান অতিথি তাই অনুষ্ঠানের শেষ কথা সেই বলবে। ফারহান মঞ্চে উঠে এরপর ছাএ ছাএীর উদ্দেশ্য কিছু কথা বলে। সব শেষে ফারহান প্রশ্ন করে
“তোমরা সকল শিক্ষার্থীরা আমায় কোন প্রশ্ন করবে?
শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বলে উঠে
“ফারহান স্যার আপনি কি বিবাহিত?
ফারহান প্রশ্ন শুনে হাসে। এরপর বলে
“না‚ আমি বিবাহিত নয়। তবে আমার হবু বউ আছে। আর সৌভাগ্য বশত সে এই কলেজে পড়ে।”
ফারহানের কথা শুনে সকল ছাএ ছাএী অবাক হয়ে যায়! আদ্রিয়ান দূরে দাঁড়িয়ে ছিল! কিন্তু ফারহানের কথা শুনে সে তার দিকে তাকায়। হঠাৎ এমন কথা শুনে মেঘ নিজে ও অবাক হয়ে যায়! ছাএীরা আবার জিজ্ঞেস করে
“কে আপনার হবু বউ? তার নাম কি?”
মেঘের মনে ভয় জন্মায় তবে কি ফারহান তার নাম বলে দিবে! কিন্তু ফারহান তার চেয়ে ও বড়ো কিছু করল! সকারে দেওয়া মেঘের গোলাপ ফুলের তুরা হাতে নিয়ে মঞ্চ থেকে নিচে নামল। এরপর এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা মেঘের কাছে এস অবিশ্বাস্য কাজ করল। হাঁটু গেঁড়ে মেঘের সামনে বলে বলল
“ও মেঘ। আমার হবু বউ। মেঘ চৌধুরী।”
ফারহানের কথা শুনে সমগ্র কলেজ থমকে যায়। মেঘের পায়ের নিচের মাটি সরে যায়! মেঘ কি বলবে তা ভুলে যায়। ফারহান আবার বলে
“ মেঘ আমি তোমায় ভীষণ ভালোবাসি! তুমি কি আমায় ভালোবাসো? একমাস পর কি তুমি আমায় বিয়ে করবে মেঘ ?”
ফারহানের কাণ্ড মেঘ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে। আদ্রিয়ান অপর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল! মেঘ এখন কি করবে! আদ্রিয়ানের রাগ হয় ফারহানের উপর। সে পা বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে চাই মেঘ আর ফারহানের দিকে। কিন্তু হঠাৎ থেমে যায় অপর পাশে থাকা মানুষকে দেখে!
ফারহান পুনরায় বলে
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪১
“ মেঘ উত্তর দাও তুমি কি আমায় ভালোবাসো? বিয়ে করবে আমায়?
কলেজের সকল ছাএ ছাএী উচ্চ স্বরে বলে উঠে
” say yes Meg. Say yes.
মেঘের শরীর শীতল হয়ে যায়। আদ্রিয়ান আর মেঘ একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে শুধু। সারা কলেজ মেঘেে উত্তরের অপেক্ষায় এবং কি আদ্রিয়ান ও। মেঘের উত্তর কি হবে এখন?
