তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪৪
নওরিন মুনতাহা হিয়া
নিউইয়র্ক সিটির অন্ধকার আচ্ছন্ন জনমানবহীন ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে এক গাড়ি। গাড়ির যথেষ্ট তীব্র বেগে ছুটে চলছে কিন্তু হঠাৎ মাঝ রাস্তায় ধপ করে চলন্ত গাড়ি থেমে যায়। নির্জন রাস্তার মাঝ বরাবর গাড়ি থামিয়ে‚ ড্রাইভিং স্ট্রোরিং শক্ত করে হাত দিয়ে চেপে ধরে। দুই হাত সহ সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে আদ্রিয়ানের তার চোখ বেয়ে অজস্র অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়ছে। চোখে শুধু মেঘের মায়াবী মুখশ্রী ভেসে উঠে ‚ কিন্তু মেঘের কথা স্বরণ আদ্রিয়ানের মনে কোন সুখময় অনুভূতি হয় না বরং তার হৃদয়ে তীব্র যন্ত্রণা আর হারানর ভয় সৃষ্টি হয়।
আজ নিজের উপর ভীষণ ঘৃণা আর মায়া হচ্ছে আদ্রিয়ানের। শুধুমাএ তার ভুল আর স্বার্থপরতার জন্য তার সকল প্রিয়জন এখন তাকে ঘৃণা করে। সে আজ নিস্ব একলা পথের পথিক। যার প্রিয়জনরা এখন পর। কিন্তু আদ্রিয়ান কি খুব স্বার্থপর ছিল? সে এখন ও চাইনি অন্য কাউকে কষ্ট দিতে! ডক্টর হওয়ার স্বপ কি শুধু তার ছিল? মেঘকে বিয়ে করে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে রেখে আসার জন্য দায়ী কি শুধু সে একা ছিল? শেষ বারের মতো সুযোগ চেয়েছিল আদ্রিয়ান কিন্তু মেঘ দেয়নি! কেন? কারণ আদ্রিয়ান খারাপ? আদ্রিয়ানের মতো মানুষকে কেউ ভালোবাসে না!
মেঘ অন্য একজনকে ভালোবাসে? তার হবু বউ এখন মেঘ। কিন্তু আদ্রিয়ান কি করে বাঁচবে মেঘকে ছাড়া? তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে! আদ্রিয়ান মেঘকে ভালোবাসে ভীষণ ভালোবাসে! তার দ্বারা কি মেঘকে ডিভোর্স দেওয়া সম্ভব হবে! তার বউ অন্য কারো হয়ে যাবে তা সয্য করতে পারবে! আদ্রিয়ান মন ভেঙে চুড়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরে পরিণত হবে। কিন্তু আদ্রিয়ান এই শাস্তি পাওয়ার যোগ্য! অবশ্য আদ্রিয়ান এই শাস্তি পেতে চাই। কারণ তার মেঘ তাকে কষ্ট দিতে চাই‚ অন্য কারো সাথে সুখে থাকতে চাই মেঘ। তবে আদ্রিয়ান সব শাস্তি মাথা পেতে নিবে সব কষ্ট সয্য করে নিবে। তবুও মেঘ সুখে থাকুক তার সাথে না হয় অন্য কারো সাথে। সুখে থাকুক মেঘ ‚ ভীষণ সুখী হোক।দূর থেকে আদ্রিয়ান মেঘকে ভালোবেসে যাবে। তাছাড়া আদ্রিয়ানকে সবাই ঘৃণা করে এখন না হয় মেঘ ও করবে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
চোখ জমে থাকা অশ্রু কণা ধীরে ধীরে গাল বেয়ে থুঁতনি দিয়ে শার্টে গড়িয়ে পড়ে। পড়নের সাদা শার্টের উপরের অংশ সম্পূর্ণ ভিজে গেছে। মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা বিশ্বাস করা খুব কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে আদ্রিয়ানের জন্য। মেঘের দূরে চলে যাওয়ার দৃশ্য বারবার তার চোখের মণিতে দৃশ্যমান হচ্ছে! নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আদ্রিয়ানের। বুকের বা পাশে ডিপ ডিপ শব্দ করছে! কাঁপা কাঁপা হাতে আদ্রিয়ান গাড়ির সাইডের ড্রয়ার খুলে এক প্যাকেট সিগারেট বের করে। এরপর খরখরে মসৃণ ঠোঁট জোড়ায় চেপে ধরে ‚ হাতে থাকা লাইটার দিয়ে আগুন ধরায় সিগারেটে! পরপর জোরে দুই থেকে তিন বার টান দেয় এরপর ঠোঁট থেকে সিগারেট সরিয়ে নাক দিয়ে জোরে নিশ্বাস নেয়।
হৃদয়ে জমে থাকা শত যন্ত্রণা নিকট ধোঁয়া হয়ে বের হয়ে যায়। গাড়ির জানালা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ধোয়াঁর ফলে ঘুমেট পরিবেশ সৃষ্টি হয়! আদ্রিয়ান গাড়ির জানালা খুলে দেয়। সাদা কাঁচের ফ্রেমের জানালা ভেদ করে শীতল ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হয়। সকল ধোয়াঁ নিমিষেই উদাও হয়ে যায়। বাহির থেকে আসা সতেজ ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্রাণ খুলে শ্বাস নেয় আদ্রিয়ান। এরপর ধপ করে ড্রাইভিং সিটে হেলান দিয়ে শুয়ে পড়ে পুনরায় ঠোঁটে জড়ায় আধ – পোড়া সিগারেট! চোখ বন্ধ করে রাখা অবস্থায় কণ্ঠে দিয়ে বেরিয়ে আসে আত্মানাথ বোধক গানের সুর
___ “আমার আগুনের ছাই জমে জমে”___.
___“কত পাহাড় হয়ে যায়”—–.
—–“আমার ফাগুনেরা দিন গুণে গুণে”—-.
—-“আর উধাও হয়ে যায়”—–.
—–“যত পথের বাঁধা”—.
—–“সবই তো কালো সাদা”—-.
—-“কবে ঠিকনা পেয়ে হবে রঙিন?”—-.
—“চেনা নামেরই ডাকে আমি কি পাব তাকে?”—
—-“কবে যে আসবে সে রেদেলা দিন?—-.
কলেজ গেইটের রাস্তায় বেশ দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে মেঘ। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে আদ্রিয়ানের গাড়ি কোথাও নাই! তবে কি আদ্রিয়ান একা চলে গেছে? নিশ্চয়ই আদ্রিয়ান মেঘের উপর রাগ করেছে। অবশ্য আজ অনুষ্ঠানে যা হয়েছে তারপর আদ্রিয়ানের রাগ বা কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। আদ্রিয়ানের চোখে ছলছল করছিল তখন। তবে কি আদ্রিয়ান কান্না করছে! আজ নিজের ভালোবাসার মানুষকে অন্য কার সাথে দেখার যে কষ্ট তা হয় আদ্রিয়ান অনুভব করেছে। কিন্তু কষ্ট আর যন্ত্রণা কি আদ্রিয়ান একা পেয়েছে? দীর্ঘ নয় বছর ধরে জমিয়ে থাকা কষ্ট‚ কান্না‚ অপেক্ষা ‚ অভিযোগ সবকিছুর শাস্তি স্বরূপ এইটুকু যন্ত্রণা আদ্রিয়ান ডিজার্ব করে!
আজ ফারহানের সাথে মেঘের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে দেখে আদ্রিয়ানের হিংসা হচ্ছে। অথচ মেঘ যখন জিয়ার সাথে নিজের স্বামীর পরকীয়া দেখত তখন? ছাদে যখন জিয়া আদ্রিয়ানের ঠোঁটে চুমু দিয়েছিল তখন মেঘের কি কষ্ট হয়নি! মেঘের দেহ থেকে আত্মা ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তখন। বাচ্চাদের মতো মেঝেতে হামাগুড়ি দিয়ে কান্না করেছিল তখন। আদ্রিয়ানের পাশে জিয়াকে দেখে মেঘ মন যে আত্মানাথ শুরু হয়েছিল তা কি আদ্রিয়ান শুনেছে। সব ভুল কি শুধু “সরি” বললে শেষ হয়ে যায়‚ সব ব্যাথার কি মলম হয়!
গেইটে দাঁড়িয়ে মেঘ যখন তার ভাবনার জগৎতে ডুবে ছিল তখন হঠাৎ আর সামনে বিশাল বড় এক গাড়ি এসে দাঁড়ায়। হঠাৎ এমন করে গাড়ি আসার কারণে মেঘ ভয় পেয়ে যায়! মাথা উঁচু করে উঁকি দিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা মানুষের মুখ দেখার চেষ্টা করে। মূলত মেঘ আশা করেছিল হয়ত আদ্রিয়ান এসেছে? আদ্রিয়ান যতই মেঘের উপর রাগ বা অভিমান করে থাকুক‚ মেঘকে একা রেখে সে কোথাও যাবে না। কিন্তু মেঘের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয় যখন গাড়ির অপর পাশের কাঁচের গ্লাস নামিয়ে দিয়ে ফারহানের মুখ মণ্ডল স্পষ্ট হয়। ফারহান মুখে মৃদু হাসি বজায় রেখে বলে
“মেঘ‚ তুমি রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে আছো কেন? বাসায় যাবে না?”
গাড়ির ভিতরে ফারহান চৌধুরীকে দেখে মেঘ বেশ বিরক্ত বোধ করে। অনুষ্ঠানে তখন যা ঝামেলা করেছে তা নিয়ে ফারহানের উপর যথেষ্ট বিরক্ত মেঘ। তাছাড়া একটু আগেই স্পষ্ট ভাষায় বলল‚ বিয়ে না হওয়া অবধি ফারহান যেন মেঘের সামনে না আসে! তবুও এখন কেন এসেছে? মেঘ বিরক্তি নিয়ে বলে
“হুম‚ বাসায় যাব। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”
মেঘের বিরক্তিমাখা মুখশ্রী দেখে ফারহান ভাবল হয়ত অনুষ্ঠানের ঘটনা নিয়ে মেঘ তার উপর রাগ করেছে! ফারহানের উচিত হয়নি মেঘের অনুমতি ব্যতীত প্রপোজ করা। কিন্তু যা ভুল করেছে তার জন্য সরি বলতে চাই সে! ফারহান বলে
“মেঘ‚ তুমি আমার গাড়িতে উঠে বস। তোমার বাসা কোথাও ঠিকানা বল। ড্রাইভার পৌঁছে দিবে।”
ফারহানের কথা শুনে মেঘ চোখ মুখ কুঁচকে বিরক্তি মাখা মুখ নিয়ে তাকায়। এরপর কড়া কণ্ঠে বলে
“ফারহান স্যার‚ আমি একা চলে যেতে পারব।”
মেঘের কড়া কণ্ঠের উত্তর যেন ফারহান কানে তুলল না। ফারহান পুনরায় বলে উঠে
“মেঘ‚ তুমি রাগ করছ কেন? আমি শুধু তোমায় গাড়ি করে বাসায় পৌঁছে দিতে চাই। প্লিজ মেঘ উঠে বস গাড়িতে।”
ফারহানের অনুরোধ মেঘের বিরক্ত যেন দিগুণ বাড়িয়ে দিল। রাগী স্বরে বেশ তিতা কিছু কথা শুনিয়ে দিতে ইচ্ছা করল তার। কিন্তু মেঘ পারল না কারণ ফারহান তার বড় আব্বু বন্ধুর ছেলে! মেঘ বলে
“ফারহান স্যার। দয়া করে আপনি চলে যান। আমি কেব বুক করে চলে যাব।”
মেঘের বারণ শুনল না ফারহান বেশ দীর্ঘক্ষণ ধরে গাড়িতে বসার অনুরোধ করল। কিন্তু মেঘ প্রতিবার স্পষ্ট স্বরে “না” বলে দেয়। ফারহান বাধ্য হয়ে যখন গাড়ি থেকে নামতে যাবে তখন মেঘ বাঁধা দেয়। আশেপাশে তাকায় মেঘ কলেজ গেইটে দাঁড়িয়ে এখন কোন সিনক্রিয়েট সে করতে চাই না। তাছাড়া অনেক রাত হয়ে গেছে এখন একা একা বাড়ি ফিরা নিরাপদ হবে না। তাছাড়া আমেরিকার রাস্তাঘাট মেঘের পরিচয় নয়‚ যদি কোন বিপদ হয় তখন! মেঘ বলে
“ফারহান স্যার‚ আপনাকে আর গাড়ি থেকে নামতে হবে না। আমি যাব আপনার গাড়িতে।”
মেঘের কথা শুনে ফারহান খুশি হয়ে যায়। এরপর হাত দিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দেয়। মেঘ গাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ফারহানের থেকে দূরে চুপচাপ এক কোণায় বসে থাকে। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দেয়। গাড়ির মধ্যে ফারহান বেশ বকবক করে মেঘের সাথে কিন্তু মেঘ হুম বা না ছাড়া কোন শব্দ মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে না। যথেষ্ট শান্ত আর চুপচাপ থাকে।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর বাসার সামনে এসে গাড়ি থামে। মেঘ গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায় এরপর বলে
“ফারহান স্যার‚ বাসায় এসে পড়েছি আমরা। ধন্যবাদ আপনাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য।”
“ধন্যবাদ দেওয়ার কোন প্রয়োজন নাই মেঘ? তুমি আমার হবু বউ। তোমার উপর আমার একটা দায়িত্ব আছে।”
ফারহানের কথার বিপরীতে মেঘ আর কোন উত্তর দেয় না।মেঘ বলে
“আমি এখন বাসায় যায়। বাই।”
মেঘ আর কথা বাড়ায় না বাসার ভিতরে চলে যায়। কিন্তু হঠাৎ উপরে তাকিয়ে খেয়াল করল এখুনি কোন ছায়ার প্রতিম্বব সরে গেছে। কিন্তু কে ছিল ওখানে? আদ্রিয়ান? আদ্রিয়ানের রুমের পর্দা নড়ে উঠল মনে হল? তবে কি আদ্রিয়ান মেঘ আর ফারহানের একই গাড়ি করে আসা বিষয়টা দেখছ?
দরজা খুলে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করল মেঘ। ড্রয়িং রুমে ঘুটঘুটে অন্ধকার লাইট জ্বালান হয়নি এখন? কিন্তু দরজা খোলা রয়েছে? তাহলে কি আদ্রিয়ান স্যার বাড়ি ফিরে এসেছে? মেঘ বাম পাশের সুইচের টিপ দিয়ে লাইট জ্বালায় এরপর ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পড়ে। সিঁড়ির ঠিক সামনে আদ্রিয়ানের ঘর দরজা মিশিয়ে রাখা! মেঘ এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানের রুমের কাছে এরপর উঁকি দিয়ে দেখে আদ্রিয়ান রুমে আছে কি না? কিন্তু দরজার সামান্য ফাঁক দিয়ে কোন কিছুই দেখা সম্ভব হয়নি! মেঘ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যায় দরজার কাছে এরপর সামান্য শব্দ করে দরজায় খুলে।
রুমের ভিতর প্রবেশ করে কিন্তু অদ্ভুত বিষয় কোথাও আদ্রিয়ান নাই? ঘুটঘুটে অন্ধকার জুড়ে রয়েছে সারা রুম। রুমের প্রতিটা কোণায় মেঘ নজর বুলায় কিন্তু কোথাও আদ্রিয়ান নাই? মেঘের মন হঠাৎ অজানা ভয়ে আঁতকে উঠে। দ্রুত রুমের লাইট জ্বালিয়ে মেঘ আশপাশে খুঁজতে থাকে। আদ্রিয়ান কি এখন ও বাড়ি ফিরে আসেনি? বেশ চিন্তায় পড়ে যায় মেঘ? কিন্তু এতো রাত অবধি আদ্রিয়ান কোথায় থাকবে? মেঘ তার হাতে থাকা ফোন দিয়ে আদ্রিয়ানের নাম্বারে কল দেয়। ফোনে কল যায় নিচে মেঝের থেকে শব্দ শুনা যায় কলের। মেঘ দ্রুত মেঝের দিকে তাকায় দেখে মেঝের এক কোণায় আদ্রিয়ানের ফোন পড়ে আছে। আর সারা মেঝে জুড়ে শত খানিক অর্ধ _ পোড়া সিগারেট ছড়িয়ে আছে!
আদ্রিয়ান সিগারেট খায়? তা মেঘ জানত না। কিন্তু ফোন আর সিগারেট যখন রুমে আছে তার মানে আদ্রিয়ান বাড়ি ফিরে এসেছে? কিন্তু রুমে কোথাও নাই কেন? মেঘ এগিয়ে যায় বেলকনির দিকে কিন্তু বেলকনি সম্পূর্ণ ফাঁকা আদ্রিয়ান নাই সেখানে। মেঘ রুমে ফিরে আসে হঠাৎ মেঘের চোখ যায় ওয়াশরুমের দরজার দিকে। ওয়াশরুমের দরজা খোলা! মেঘ দ্রুত ওয়াশরুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে।
____ ওয়াশরুমের সারা মেঝে জুড়ে যেন পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে! কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হল পানির রং হালকা লাল যেন পানির সঙ্গে র*ক্ত মিশ্রিত হয়েছে! মেঘ ভয়ার্ত চোখে বাথ টবের দিকে তাকায়। সমগ্র বাথ টব এখন পানির দিয়ে ভরা পানির রং লাল। মেঘের হঠাৎ চোখ যায় বাথ টবের উপরে কয়েক জোড়া পুরুষালি আঙ্গুলের দিকে। শুধু কয়েক জোড়া আঙুল দেখা যাচ্ছে ঘাড় বা মাথা নয়। মেঘ বেশ ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ যখন আদ্রিয়ানের কথা মনে পড়ে তখন মেঘ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় বাথ টবের দিকে এরপর বাথ টবের পানির মধ্যে হাত দেয়। হঠাৎ তার হাত স্পর্শ করে অন্য একজনের হাতে! মেঘ দ্রুত হাত উপরে উঠায়।
হাতের কবজি দিয়ে চুয়ে চুয়ে রক্ত পড়ছে শিরা কাঁটা হয়েছে মনে হয়। ভয়ে মেঘের কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাতের কবজির উপর আদ্রিয়ানের ঘড়ি দেখে মেঘ দ্রুত হাত সহ টান দিয়ে উপরে উঠায়। সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিয়ান নিথর মাথা বাথ টবের ভিতর থেকে বের হয়ে আসে। মেঘ জোরে শব্দ করে ডাক দেয়
“আদ্রিয়ান স্যার? আদ্রিয়ান স্যার?”
মেঘের ডাক হয়ত আদ্রিয়ান শুনল না। মেঘ আদ্রিয়ানের মুখের দিকে তাকায়। সারা মুখ ফেকাসে হয়ে গেছে। অতিরিক্ত সময় পানির মধ্যে থাকায় মুখের আদল রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। মেঘ আদ্রিয়ান গালে হাত দিয়ো ডাক দেয়
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪৩
“আদ্রিয়ান শুনছেন আমার কথা? আদ্রিয়ান? কথা বলুন? আদ্রিয়ান?”
আদ্রিয়ানের হাতের কবজি দিয়ে অজস্র রক্ত বের হয়ে যাচ্ছে। তার সারা শরীর পাথরের ন্যায় ঠাণ্ডা যেন জমে বরফ হয়ে গেছে। আদ্রিয়ানের কোন সারা শব্দ নায় দেখে মেঘের কলিজা কেঁপে উঠে।মেঘ জোরে চিৎকার দিয়ে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান”
