তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৫ || Suraiya Aayat

2113

তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৫
Suraiya Aayat

গাড়িটা নিয়ে আরিশ ওর বাসার সামনে এসে দাঁড়াল , আরিশ প্রথমে গাড়ি থেকে নেমে আরূর হাতটা ধরে ওকে গাড়ি থেকে নামল ৷ আরূকে হাত ধরে গেটের সামনে নিয়ে যেতেই আরূ একদফা চমকে গেল কারণ কালকে রাতে বাসাটা যেমন দেখেছিল আজকে সম্পূর্ণ তার বিপরীত ৷ চারিদিকে মরিচ বাতিতে সাজানো , রংবেরঙের আলো তে সারা বাড়ি ঝিলমিল করছে , বাসায় ঢোকার মাঝখানের রাস্তার দুই ধারে মোমবাতি দিয়ে সাজানো ৷ পুরো বাড়িতে মরিচ বাতি জ্বলছে , আরীশের বেলকনিতে বেশকিছু মোমবাতি রাখা রয়েছে ৷আজকে বাড়িটাকে চেনার উপায় নেই ৷ কালকে রাতে মনে হচ্ছিল একটা জনমানব শূন্য ভুতুড়ে বাড়ি সেই বাড়িতে আজ রং বেরঙের আলোর সজ্জায় সজ্জিত হয়ে এক অপরূপ সৌন্দর্য নিয়েছে….
আরিশ আরূর দিকে মুচকি হেসে তাকিয়ে বলল,,,

__” কেমন লাগলো আরুপাখি?”
আরুর বাড়ির সাজানো টা খুব পছন্দ হয়েছে তাছাড়া ওর কাছে সবথেকে আকৃষ্ট হলো আরিশ নামের ব্যক্তিটা ৷ আরূর সাজানোটা খুব পছন্দ হয়েছে তবুও তার সৌন্দর্য এখন আরিশের সামনে দেখাতে চায় না আরু , এখনো আরিশকে কিছু শাস্তি দেওয়া বাকি আছে ওর….
আরিশের দিকে মুখ ভ্যাংচিয়ে বললো,,,,
__” আপনি যেমন আপনার বাড়িও এমন পচা, কোনটাই ভালো না ৷”
আরিশ আরূকে কোলে নিয়ে বলল,,,,,
__” সে যাই হোক আমার বাসা পচা আমিও পচা সব ওকে তবুও তো সেই পচা মানুষের সাথেই এই পচা বাড়িতে ,পচা ঘরে ,পচা বিছানায় রাত পার করতে হবে ,আর সারাটা জীবনও পার করতে হবে ৷ তাই তোমার এসব অভিযোগ মেনে নিলাম বউ ৷
আরিশের এমন আবেগমাখা কথা শুনে আরূর মনে প্রশান্তির অদ্ভুত এক ঝড় বয়ে গেল ৷
আরূর মনে মনে বলল,,,,,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

__”এই পচা মানুষটার সাথেই যে আমি নিজের সারাটা জীবন কাটাতে চাই , ভালোবাসতে চাই, তার সেই ছোট্ট হৄদয়টা জুড়ে বিরাজ করতে চাই ৷”
আরিশ আরুকে কোলে তুলে নিয়েছে আর আরূ আরিশের গলাটা জড়িয়ে ধরে রেখেছে শক্ত করে আর ছলছল চোখে আরিশের দিকে তাকাচ্ছে , মানুষটাকে দেখলেই যেন সমস্ত পিপাসা মিটে যাই ওর ৷
আরিশ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে আর আরু ওর কোলে, আরিশের দিকে একনজরে তাকিয়ে আছে ক্রমাগত ৷
__” নিজের বরের ওপর কেউ এত নজর নেই?
আরূ থতমত খেয়ে বলল,,,,,

__” কে বলল আপনাকে আমি আপনার দিকে তাকিয়ে আছি?মোটেও আমি আপনার দিকে তাকিয়ে নেই ৷”
__” That means তুমি ট্যারা ৷”
__” আরু আরিশের দিকে মুখ ভ্যাংচিয়ে বলল,,,,,,
__” আপনি ট্যারা আপনার বউ ট্যারা ৷”
__” সেটাই তো বলছি আমি যে আমার বউ ট্যারা ৷”
__” এত প্যারা দেন কেন আমাকে শান্তিতে থাকতে দেন না এক মুহূর্তও ৷”
__” প্যারা তো সবে সুরূ সানশাইন , এখনো তো কিছুই দেখলেনা ৷”
আরূর মনে মনে ভয় পাচ্ছে এই ভেবে যে আরিশ ওকে কি পানিশমেন্ট দেবে এই ভেবে ৷
আরিশ আরূকে নিয়ে ওর রূমে গেল ৷রূমে ঢুকতেই আরূশি একদফা অবাক হলো,,,,আরিশের রূমটা একদম নরমাল,, সারা বাড়িটা যেভাবে আলোয় ঝলমলে আর রূমটা একদমই নয় ৷ আরূ আরিশের ভাবগতিক কিছুই বুঝতে পারছে না, মানুষটাকে ও কবে সঠিকভাবে জানবে আর বুঝবে সেই দিনটার জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষায় অপেক্ষারত ও ৷

ব্যাপারটা ওর কাছে খুব অবাক জনক লাগলেও তবুও তার ভাবভঙ্গির কোনটাই মুখে প্রকাশ করলো না কারণ এই মুহূর্তে আরিশকে যদি প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করে যে সারা বড়ি এতো সুন্দর করে সাজালেও ঘরটাকে সাজাইনি কেন তাহলে আরিশ ওর দুষ্টুমি গুলো করার জন্য আরও বেশি সুযোগ পেয়ে যাবে আর সেই সুযোগ আরু এই মুহূর্তে দিতে চায়না , তাই নিজের এই মুহূর্তে নিজের অবাক হওয়া টাকে আটকে রেখে চুপ করে রইলো ও ৷
আরিশ আরূকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে মুচকি হেসে জিজ্ঞাসা করল,,,,,,

__” কি পছন্দ হয়েছে নিজের রুমটা?”
আরূ আরিশের কথার কোন উত্তর না দিয়ে আরিসকে বলল,,,,,
__” আমি কি আজকে সারাদিন এভাবেই থাকবো নাকি ড্রেসটাও চেঞ্জ করবো ৷”
আরিশ হালকা হেসে বলল রুমের ভিতরে থাকা বড় ওয়াড্রবটার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার থেকে একটা সাদা রঙের শাড়ী বার করে আরূকে দিল ৷ সাদার মধ্যে শাড়িটা এত সুন্দর কারুকার্য করা যে তা দেখলে যেকোনো মেয়েরই পছন্দ হবে , আর আরিশের কথার মতো শাড়িটা সত্তিই ইউনিক একদম ৷ এর আগে আরূ এই ধরনের শাড়ি দেখেনি ৷
আরিশ ওয়াড্রপের দরজাটা সম্পূর্ণ খুলে দিয়ে আরূকে সেদিকে তাকাতে বলল,,,,

আরু অবাক চোখে তাকিয়ে দেখল যে এতবড়ো ওয়াড্রব জুড়ে শুধু শাড়ি আরা শাড়ি ৷ ঘটনাটা ওর চোখে অত্যন্ত আশ্চর্যজনক কারন আরূ নিজেও কখনো এতগুলো শাড়ি কেনেনি আর এতগুলো শাড়ি কেনার কথা হয়তো কখনো ভাবেওনি ৷
একটা ছেলে হয়ে কতোটা সৌন্দর্য নিয়ে আরুর চাওয়াপাওয়া গুলোকে ভালোবেসেছে,,,, কতগুলো ভাবতেই আরুর অবাক লাগছে ৷ মানুষ টা সত্যিই কতোটা ওকে ভালবাসে , ওর ছোট ছোট আশা ইচ্ছে গুলো পূরণ করে যেগুলো আরূ নিজেও হয়তো কখনো ভেবে দেখেনি ৷
চাইতে না চাইতে আরুর চোখে বারবার জল চলে আসে আরিশের সব কর্মকাণ্ডে ৷ আরিশ ওকে যতটা ভালোবাসে ও নিজেও হয়তো কখনো নিজেকে এতটা ভালোবাসেনি ৷ তাহলে হয়তো ভালোবাসার সংজ্ঞাটা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি আরূ , আরিশের হাত ধরে পথ চলতে চলতেই হয়তো ভালোবাসার সংজ্ঞাটা বুঝাবে আর আরু সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি

আরু এই মুহূর্তে নিজেকে সংযত করে নিল শুধুমাত্র আরিশ কে পানিসমেন্ট দেবে তাই ৷ তারপর নিজের সমস্ত আবেগ অনুভূতি গুলোকে আরিসের সামনে প্রকাশ করবে যেমনটি আরিশ করে চলেছে এখন ৷
আরিসের হাত থেকে শাড়ীটা নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেল আরূ ৷
আরিশ মনে মনে বলতে লাগল,,,,
__” বউকে কষ্ট দেওয়ার সময় মনে থাকেনা এবার ঠেলা সামলা ৷”
কথাটা ভেবে রুম থেকে বেরিয়ে গেল আরিশ ৷
শীতের দিনে রাত, চারিদিকে ঠান্ডা আবহাওয়ার মাঝে ঠাণ্ডা জলটা মুখে দিতেই ওর সারা শরীর জুড়ে শীহরন বয়ে গেল ৷ শীতকালে ঠান্ডা জলের স্পর্শ পেয়েও খুব একটা খারাপ লাগছে না ৷ সারাদিনের ধকলে শরীরটাও ক্লান্ত তাই ভাবল গোসল করবে, ঝট করে শাওয়ারটা অন করতেই শাওয়ারের জল ওর সারা শরীরটাকে ভিজিয়ে দিল ৷ সারা শরির জুড়ে শীতল অনুভুতির সাথে ক্রমশ তাল মেলাচ্ছে ওর আবেগমাখা অনুভীতিগুলো ৷

পাঞ্জাবির হাতাটা ভাজ করে হাতে থাকা ঘড়িটার দিকে তাকাল আরিশ, সময় ক্রমশ এগিয়ে চলেছে তবে আরূর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসার নাম নেই, বিগত কুড়ি মিনিট ধরে বসে আছে আরিশ আর অপেক্ষা করছে আরিশ তবুও মেয়েটা এখনও ওয়াশরুম থেকে বেরোচ্ছে না ৷ পাশে ট্রে তে রাখা খাবারটাও ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে আসছে ৷ কিছুক্ষণ আগে যে গরম খাবার থেকে ধোঁয়া উঠেছিল সেই ধোঁয়া যেন শীতের হিমেল হাওয়াই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ৷
আরিশ এবার একটু দৄঢ় কণ্ঠে বলে উঠলো,,,,,

__” আরূপাখি আর কতক্ষণ ! প্রায় 40 মিনিট হয়ে গেল তুমি সেই ওয়াশরুমে ঢুকেছ তার পরে কি আর বের হতে ইচ্ছা করছে না, নাকি আমি না গেলে তুমি বেরোবে না ৷ আমার কিন্ত প্রেম প্রেম পাচ্ছে ৷
কথাটা বলা মাত্রই আরুশি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো, পরনে আরিসের দেওয়া সাদা শাড়িটা , মুখে কোন মেকাপ ছাড়া সৌন্দর্যটা যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে ৷ ভিজে চুল থেকে টপটপ করে জলগুলো ফ্লোরে পড়ছে আর শাড়ির আঁচলটা ক্রমশ মাটিতে নেতিয়ে যাচ্ছে তবে আরুশিল সেদিকে খেয়াল নেই , সে তো এখন তার দুই হাত দিয়ে এই ঠান্ডার জড়তা টাকে কাটাতে নিজের শরীরটাকে ঢাকতে ব্যস্ত , তবু যে এটা করে এই প্রবল শীতের প্রবল কাঁপুনিটাকে নিজের অয়ত্তে আনা সম্ভব নয় সেটা হয়তো এখন তার বোধগম্য নয়….
আরিশ আবার উঠে আরুর কাছে গিয়ে নিজের গরম হাড়জোড়া আরুশির মুখে স্পর্শ করতেই আরু আবেগে চোখ দুটো বন্ধ করে নিল…..

__” এত এত রাত্রে গোসল কেন করলে সানশাইন?”
আরু চোখ জোড়া বন্ধ করে রেখেই বলল,,,,
__” নিজেকে কেমন একটা অগোছালো মনে হচ্ছিল , পানির ছোঁয়াতেই নিজেকে খুঁজে নিতে চাইছিলাম ৷”
আরিশ মুখে কিঞ্চিত হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলে আরুকে বিছানায় বসালো তারপরে আরূর হাতে থাকা তোয়ালেটা নিজে নিয়ে পরম যত্নে আরূর ভিজে চুলগুলো মুছে দিতে লাগলো ৷
__” আমি যে আমার এই অগোছালো আরূপাখিকেই বেশি পছন্দ করি কারণ আমি যে চায় তাকে আমি নিজের মতো করে পরিপাটি করি , কারণ তাকে ভালোবাসার সমস্ত দায়িত্বটা যে আমার ৷”

আরুশি অজান্তেই মুচকি একটা হাসি দিল আরিশকে লুকিয়ে ৷ আরিশের কথার বিপরীতে তার উত্তরটা যেন ওর কাছে বড্ড কঠিন , মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই কারণটা ও নিজেই কখনো ভেবে দেখেনি কখনো ৷ প্রিয় মানুষটার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সপে দিয়ে নিজেকে বড্ড বেশি আবেগি অনুভব করছে, এতটা ভালবাসা হয়তো আগে কখনো পাওয়া হয়ে ওঠেনি ৷ প্রিয় মানুষের ভালবাসাটাকে অনুভব করার মতো প্রশান্তি আর কোন কিছুতেই নেই ৷
আরুর চুলটা যত্ন সহকারে মুছিয়ে অরিশ আরুকে নিজের দিকে ঘোরালো….
মুখের ওপর পড়ে থাকা চুলটা আরুর কানে গুজে দিয়ে বলল,,,,

__” এমনটা আর কখনো করবে না , করলে কিন্তু আমি রেগে যাব….”
__” আপনি রেগে গেলেন বা না গেলেন তাতে আমার বয়েই গেল ৷”
__” যখন পানিশমেন্টটা ভালোভাবে পাবে তখন কথাটা বারবার মনে আসবে, তখন মনে হবে আগ বাড়িয়ে পানিশমেন্ট টা কেন নিতে গেলাম ৷ একসাথে সমস্তটা নিতে পারবে না আরুপাখি তাই এমনটা করো না আর ৷”
আরু আরো অবাক হয়ে আরিশের দিকে তাকালো, __” এমন ভাবে কি কখনো আমি ভেবে দেখেছি ?”(আরু মনে মনে)
__” এই যে সানশাইন হা করো এবার ৷”

আরিশের কথাই চমকে খিয়ে আরূ দেখল আরিশ ওর মুখের সামনে এক চামচ নুডুলস ধরে আছে ৷
আরিশের হাতে নুডুলসটা দেখে আরু সামনে থাকা বাটিটার দিকে তাকালো,,,,
নুডুলসটা থেকে হালকা গরম ভাব,আসছে , তার মানে একটু আগেই যে নুডুলসটা বানানো সেটা বেশ ভালই বোঝা যাচ্ছে,তবে ওর কিছুটা অনিয়মের জন্য তা ঠান্ডা হওয়ার পথে…..
আরূ মুখ বাঁকিয়ে আরিসের থেকে নুডুলস এর বাটিটা নিতে গেলেই আরিশ বলে উঠলো,,,,
__” প্রথমটা আমি দেবো তারপর চাইলে নিজে খাবে তার আগে নয় ৷ নাও হা করো তাড়াতাড়ি করে ৷”
আরু মনে মনে ভীষণ খুশি , আরিশের এমন কাজে ও খুব অস্থির হয়ে যাই ৷ বাস্তবে তা এতটাই ভালোবাসা পেতে চেয়েছিল আরিশ এর কাছ থেকে আর যখন তা সত্যি হচ্ছে তাহলে কেন নিজে থেকে এভাবে ফিরিয়ে দিতে চাইছে সেটা ও জানে না ৷ এটা কি ওর ক্ষনিকের অভিমান থেকে !

__” চুপচাপ আর কোন কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি হা করো আরুপাখি ৷”
আরু আর কোন কথা বাড়ালো না, চুপচাপ আরিশের হাত থেকে খেয়ে নিলো ৷ আরুকে এক চামচ খাইয়ে দিয়ে আরুর হাতে নুডুলস এর বাটিটা ধরিয়ে দিল ৷
__”নাও এবার তুমি খাও ৷”
আরূ আরো দু চামচ খেতেই মুচকি হসলো,,,,আসলে নুডুলসটা খুব মজার তবে এটা কি আরিশ বানিয়েছে তা জানার জন্য আরিশকে একটু ঘেটে দেখল আরু ৷
__” তা এতো রাতে খাবার অর্ডার দেয়ার কি দরকার ছিল ? আমারটা আমি নিজেই বানিয়ে নিতে পারতাম ৷”
__” আজ্ঞে না , খাবারটা আমি বানিয়েছি , এখন বলেন কেমন লাগলো,আসলে সেভাবে রান্না পারি না, 1st টাইম বানালাম ৷”

একটা পুরুষ মানুষ এতটা ভাল রান্না করতে পারে সেটা আগে জানতো না আরু তবে আরিশ ওর জন্য প্রথম বার কিচেনে গিয়ে নিজের হাতে বানিয়েছে প্রথমবার এটা ভেবেই ভালো লাগছে ৷
__” আমার জামাইতো দেখছি multi-talented ৷”( মনে মনে)
__” এত লাফালাফি করার কিছু হয়নাই, খুব একটা ভাল হয়নি ৷ আপনার যদি এতই জানার ইচ্ছা হয় যে এটা কেমন খেতে হয়েছে তাহলে আপনিই না হয় এক চামচ খেয়ে দেখেন যে কেমন হয়েছে ৷”
নুডুলস এর বাটিটা থেকে নুডুলস নিয়ে আরিশের মুখের সামনে দিতেই আরিশ মুচকি হেসে খেয়ে নিলো ৷
__” আরিশ মুচকি হেসে বললো, সত্যিই খারাপ হয়েছে, কেমন একটা লাগছে খেতে যেনো , আজিব আজিব ৷”
(এটা সত্তি যে নিজের রান্না নিজেরই কখনো পছন্দ হয় না, আরিশের ও যেমন রুচিতে ধরে নাই তেমনটা লেখিকার ও ৷”)
আরু আরিশের দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল,,,,

__” এত খারাপ খাবার তো আমি একা খেতে পারিনা, তাই আপনিও খান আমার সাথে ৷”
__” তুমি খাইয়ে দিলে খাবো নাহলে না ৷”
__” পারবোনা ৷”
__” তাহলে আমিও খেলাম না, আমারো বয়েই গেলো ৷”
আরু এবার ফিক করে হেসে ফেলে বলল,,,,
__”আমার ডাইলগ আমাকেই?”
__” তুমিও তো দাও আমার ডাইলগ ওই যে ” লাইক সিরিয়াসলি ৷”
__” হোয়াটএভার ৷”
__”আবার !”
__” মিঃঅভদ্র ৷”
__” ? ৷”

আরু জানে যে আরিশ নিজেও সারাদিন কিছু খাইনি , যে মানুষটা ওকে এত ভালবাসে সে যে ওকে রেখে কখনো খেয়ে নেবে সেটা আরূ কখনোই বিশ্বাস করবেনা, এমনকি আরিশ বললেও না ৷ তাই নিজেও খেলো আর আরিশকেও খাওয়ালো ৷ এটাই হয়তো দুজন দুজনের প্রতি ভালোবাসা , আর আন্ডারস্ট্যান্ডিং…..(প্রতিটা সম্পর্কে এমনটাই হওয়া উচিত)
আরুর খাওয়া শেষ হয়ে গেলে আরিশ বললো,,,,
__” তুমি এখন ঘুমিয়ে পড়ো আরূপাখি,কালকে অনেক ধকল যাবে ৷ আর ঘুমিয়ে বেশি বেশি এনার্জি কালেক্ট করে নাও, আমার দেওয়া পানিশমেন্ট গুলো এখনো বাকি আছে যে ৷”(কথাটা বলৈ আরুর দিকে চোখ মারলো)
আরূর খুব হাসি পাচ্ছে আরিশের কান্ড দেখে , ও কিছুই বুঝতে পারছেনা আরিশের কথার মানে ৷ তবে আজকে কোনো পানিশমেন্ট দেবে না শুনে আরু এভার একটু মুড নিয়ে বললো,,,

__” আপনি কি এখানেই ঘুমাবেন ? না আপনি যদি তেমনটা ভেবে থাকেন তাহলে তেমনটি হচ্ছে না ৷ আপনি আমার সাথে ঘুমাবেন না, অন্য কোথাও গিয়ে ঘুমান ৷”
আরিশ মুচকি হেসে ব্যালকনিতে চলে গেল ৷
আরুর আরিশের রিয়েকশানটা যেন ঠিক হজম হলো না ৷ আরুকে নিজের করে পাওয়ার জন্য যে আরিশ এত কিছু করলো আর সে এত সহজে নিজের বাসর রাতে আরূর কথাটা এতো সহজ ভাবে মেনে নিলো ! কথাটা যেন ঠিক বিশ্বাস হলো না আরিশের , তার ওপরে সারা রাস্তায় আরিশ বলতে বলতে এসেছে যে আজ ওদের বাসর রাত ৷আর পানিশমেন্ট হিসাবে একরাশ ভালোবাসা এনে দেবে আরুকে ৷

__” তার মানে কি উনি আমার উপর রাগ করেছেন? নিজের অভিমান গুলোকে দেখাতে গিয়ে কি নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছি ?আমি কি আমার কথাতে ওনাকে আঘাত দিয়ে ফেললাম?”
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই একরাশ ঘুম আরুর দুচোখে ভর করলো ৷
বেলকনির রেলিং এর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরিস , চোখ দুটো রুমে থাকা তার প্রেয়শীর দিকে ৷ আরুর দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মনে মনে বলতে লাগল,,,,

তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৪

__” তোমার কি মনে হয় না আরুপাখি যে এত কিছু করে তোমাকে কষ্ট দিয়ে তোমাকে বিয়ে করার পর আজ বাসর রাতে বাসর করার জন্য তোমার ওপর নিজের স্বামীর অধিকারটা খাটাতে পারতাম না? আমি কি জোর করতে পারতাম না তোমাকে নিজের করে নিতে? জোর না করে হলেও তোমাকে মানিয়ে নিয়ে তোমার ওপর অধিকার ফলাতে পারতাম , কিন্তু আমি যে তেমনটা চাইনা ! এতটা কঠিন রাস্তা পার করে যখন তোমাকে পেয়েছি তখন পাওয়ার পর এতটা ভালোবাসা দেওয়ার অযুহাত দিয়ে তোমার থেকে কোন কিছুই পেতে চাইনা আমি ৷ আর আমি যদি তোমার ওপর জোর খাটাতাম তাহলে তোমার একটা সময় হলেও মনে হতো যে আজ রাতের ভালোবাসাটা তুমি দিতে না চাইলেও আমি তোমার কাছ থেকে জোর করে নিয়েছি ৷ সব সময় জোর করে সব কিছু পাওয়া গেলেও মন থেকে কখনো তার সাই দেওয়া যায়না ৷ আজ রাতের পর তুমিও বুঝবে যে তুমি আমার প্রতি কতোটা আসক্ত,,,,,যেমনটা আমি তোমাকে চাই তেমনটা তুমি চাও ৷ চাইলেও কা কখনো এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?আমাতেই ফিরতে হবে তোমাকে ৷

এবার ভালোবাসাটা হবে অন্য যেখানে তুমি নিজেই তোমার ভালোবাসা দিয়ে তোমার মিঃ অভদ্র নামক অদ্ভুত আসক্তিটাকে কাছে টেনে নেবে ৷ আমাকে একবার তোমার নেশায় আসক্ত করে তুমি ভালোবেসে তোমার কাছে টেনে নাও তারপর তুমি আর সেই সুযোগটা পাবে না তার কারন তোমার এই. মিঃ অভদ্রটা নিজে থেকেই তোমাকে ভালোবেসে কাছে টেনে নেবে বারাবার ৷ এটাই যে আসক্তি ৷”

তোমার নেশায় আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৬