দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ১১+১২
আনায়া আফরিন
দিনটা শুক্রবার।ইউহান ভিলাতে মানুষের বেশ সমাগম।বেলা ১২:৪০।এরিক দাড়িয়ে এরিদকে ধমকাচ্ছে।আফরিন এরিকের পিছনে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।এরিদ কিছুক্ষণ আগে আফরিনকে বকেছে অতিরিক্ত ছোটাছুটি করার জন্য।বাড়িতে ছেলে মানুষ আছে তাই আফরিনকে সাবধান করেছে। আফরিন মুখ ফুলিয়ে ঘরে বসেছিলো।বোনের দেখা না পাওয়ায় এরিক এসে দেখে বোন মুখ ফুলিয়ে বসে আছে কারণ জানতে চাইলে বলে এরিদ বকেছে।কিন্তু কেন বকেছে সেটা আর বলেনি।এরিদ এখন নিশ্চুপ বসে বসে এরিকের ধমকানো শুনছে।এরিকের শেষ হলে এরিদ বলে-
“জিজ্ঞাসা করো তো কেন বকেছি ওকে আমি?”
এরিক এবার আফরিনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো-
“বকেছে কেন তোকে বনু?”
আফরিন অসহায়ের মতো মুখ করে বললো-
“অকারণেই বকেছে!”
এরিদ এবার ধমক দিয়ে বলে উঠলো-
“এই এমনি বকেছি আমি তোকে?বাড়িতে তোমার আমার বন্ধু আছে।ও লাফিয়ে লাফিয়ে পুরো বাড়িতে হাটাচলা করছে।শান্ত হতে বলেছি বলে এমন ভেবলি সেজে আসছে!”
এরিক এবার বোনের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললো-
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“বনু আর এমন করো না।বাড়িতে মানুষ আছে।তারা যদিও তোমার ভাইদের মতোই কিন্তু তুমি ছোটাছুটি করো না।”
আফরিন “আচ্ছা” বলে চলে গেলো।এরিক এবার এরিদের দিকে তাকিয়ে বললো-
“আর তুই বেচারিকে এতো ধমকাস কেন?সুন্দর করে বলবি!”
এরিদ এবার ব্যঙ্গ করে বলে উঠলো-
“তোমার বোন কি শোনে সুন্দর করে বললে!”
এরিক আর এটা শুনলো না।সে চলে গিয়েছে নিজের কাজে!এরিদ গেলো রেডি হতে।তাদের হৃদয় ব্যাকুল কখন তারা তাদের প্রিয়তমাদের দেখবে!
~~দুপুর ২:২০!এরিদ রেডি হয়ে লিভিং রুমে বসে আছে।আফরিন ঘষামাজা করছে।ফারাজ আর আদিল তখন একসাথে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো।আদিল চলে গেলো এরিকের রুমে সে রেডি হয়েছে কি না দেখতে।ফারাজ এরিদের সাথে কথা বলতে শুরু করলো!আদিল রুমে গিয়ে দেখলো এরিক মাত্র গোসল করে বেরিয়েছে।চুল দিয়ে টিপটিপ করে পানি পড়ছে।তোয়ালে পেচিয়ে দাড়িয়ে নিজের শেরওয়ানি দেখিছে।আদিল এসে তাড়া দিয়ে বললো-
“কিরে তুই এখনও রেডি হসনি?বাজে কয়টা দেখেছিস?”
এরিক আদিলকে দেখে বললো-
“আরে মামাহ্ তোকে তো দেখতে সেই লাগছে।কিন্তু এই তুই কি কিছু উল্টাপাল্টা জিনিস খাস নাকি?চোখ সারাক্ষণ লাল থাকে কেন?ইদানীং চোখের নিচের কালি তো পুরো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে!”
আদিল এবার মলিন হেসে বললো-
“ঘুম হয়নি কালকে রাতে!”
এরিক-“তুই না ফারাজের সাথে ছিলি।ওর তো সেই ঘুম হয়েছে তবে তোর হয়নি কেন?অসুবিধা হয়েছে কালকে থাকতে!”
আদিল বলল-
“কালকে আমি ফুপির বাসায় গিয়েছিলাম রাতে।ফিরতে ফিরতে সকাল হয়ে গিয়েছে।ঘুমায়নি আর!”
এরিক ছোট্ট করে “ওহ” বললো!আদিল এবার বলে উঠলো-
“তুই রেডি হ জলদি।বাহিরে সবাই রেডি।যাবি নাকি তোকে রেখেই চলে যাবো!”
এরিক এবার রেডি হওয়া শুরু করলো।আদিল বন্ধুর পাশেই দাঁড়িয়ে রইলো।তখনই ফারাজ আসলো।বললো-
“এই এরিক তিনটা বাজে।তুই যাবি নাকি তোকে রেখে চলে যাব।”
এরিক এবার তার পিঠে একটা ঘুষি দিয়ে বললো-
“বর ছাড়া গেলে সেই ফিরেই আসতে হবে তোকে।”
ফারাজ-“কেন এই যে আমার আরেকটা বুড়ো বন্ধু আছে না তাকে বর বানিয়ে দিবো!”
আদিল এবার তাকে ইচ্ছা মতো ঘুষি দিলো।ফারাজও ছাড়লো না।তাদের এই ধস্তাধস্তিতেই এরিকের রেডি হওয়া শেষ।সে এবার দুইটাকে ছাড়িয়ে দুই পাশে নিয়ে হাটা ধরলো।শেরওয়ানি পরিহিত পুরুষটি দুই পাশে দুইজন সুদর্শন পুরুষ।আদিল আর ফারাজ তারা কোর্ট পড়েছে।তারা সব বন্ধুরাই ব্ল্যাক কোর্ট আর ভিতরে সাদা শার্ট পড়েছে।এরিদের বন্ধুরাও সেম পড়েছে।সবাই লিভিং রুমে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে একজনের আশায়।সেটা হলো বরের বোন।কিছুক্ষণ পর আফরিনকে ধীরে ধীরে সিড়ি দিয়ে নামতে দেখা গেলো।সে পড়েছে হালকা গোলাপি কালার একটা গাউন।তার এই দেহের থেকেও গাউনের ওজন বেশি হবে মনে হচ্ছে।তাই বেচারি বহু কষ্টেই সিড়ি দিয়ে নামছে।তাকে আজ মনে হচ্ছে কোন এক রাজ্যের রাজকন্যা।চুলগুলো ছাড়িয়ে রেখেছে।পায়ের উঁচু জুতো আর এই ভারী গাউনে অবশেষে সে সিড়ি দিয়ে নামতে সফল হলো।ভাইদের সামনে এসে খুশিতে বললো-
“দেখো তো কেমন লাগছে?”
এরিক মুচকি হেসে তার মাথায় হাত রেখে বললো-
“মাশ-আল্লাহ কি সুন্দর লাগছে আমার বোনকে।”
এরিক একবারে মিহি সুরে “মাশ-আল্লাহ” বলে উঠলো।আফরিন তাকাতেই সে বললো-
“পেত্নী লাগছে তোকে।আরেকটু আটা-ময়দা মাখলে সুন্দর লাগতো।বাসায় এসে দেখবো রান্নাঘরে আটা -ময়দা নেই আর।”
আফরিন জানতো এমন উত্তরই আসবে।তাই সে মুখ ভেঙচি মেরে বললো-
“সমস্যা কি তুমি কিনে আনবে আবার!তোমার কেনার টাকা না থাকলে আমার এরিক ভাইয়া আছে তার থেকে নিও হুহ!”
এরিক কিছু বলার পুর্বেই ফারাজ বললো-
“ভাই ঝগড়া বাসায় এসে করিস।আপাতত চল!”
এরিদ কিছু না বলে সামনে চলে গেলো।এরিক আগে হাটছে।আফরিন তার বান্ধুবীদের সাথে বের হচ্ছে।বাড়ির বাহিরে আসতেই গাউনের সাথে পা লেগে হোচট খেলো।চোখ বন্ধ করে নিলো সে।ভাবলো শেষ তার ইজ্জত।কিন্তু পরক্ষণেই অনুভব করলো একজোড়া হাতের বাধনে সে!পিটপিটিয়ে চোখ মেলতেই দেখলো আরশ তাকে ধরে রেখেছে।দ্রুত সে সোজা হয়ে ধারালো।আরশ অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো তার দিকে।মুচকি হেসে সে বললো-
“ঠিক আছেন ম্যাডাম?”
আফরিন চোখ নামিয়েই বললো-
“জ্বি!ধন্যবাদ!”
আরশ এবার একটু ঝুকে বললো-
“আমার হৃদয় আবারও হরণ করলেন আপনি!প্রেয়সীর এই রুপে আবারও আমার হৃদয়ে ঝড় বইছে।”
আফরিন যেনো একটু লজ্জা পেলো।সে বললো-
“ভাইরা সামনে।সরুন দেখলে গিলে খাবে আমাকে!”
আরশ বলল-
“একদিন আপনার ভাইদের কাছে আপনাকে চাওয়ার অনুমতি নিবো।তারপর তাদের আর আমাকে গিলে খাওয়ার সুযোগ নেই!”
আফরিন দ্রুত সরে গেলো।আরশ সোজা হয়ে তার পিছনে হাটা শুরু করলো।তারা জানলো না একজোড়া চোখ এতোক্ষণ তাদের দেখছিলো তীক্ষ্ণ নজরে।আফরিন এসে এরিদএর সাথে বসলো।এরিদ সামনে বসলো।পিছনের সিটে আদিল,ফারাজ আর এরিক বসেছে।বাকি বরযাত্রীরা সবাই পিছনে আরো গাড়ি আছে সেগুলোতে রয়েছে আর এরিক ও এরিদের বন্ধুরা সবাই বাইক নিয়ে যাবে।রওনা দিলো তারা!
মেহের,ফিহা,রুদ্ভিকা মিলে রেডি হচ্ছে।পার্লার থেকে দু’জন মহিলা এসেছে।আনায়া মেহেরের রুমে একাই সাজছে।সাজছে বললে ভুল হবে বসে আছে গাউন পড়ে!তার বিরক্ত লাগছে সব কিছু।বিষন্নতা জেকে ধরছে তাকে।যার সাথে সংসার সাজানোর স্বপ্ন দেখেছে এতো বছর তার বিয়েতে সেজে সে নিজের ধ্বংস দেখবে আজ।রাগে তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।রুদ্ভিকা আসে তাকে ডাকতে।সে পড়েছে সাদা কালার একটা গাউন।শ্যামসুন্দর গায়ে এই গাউনটা বড্ড মানাচ্ছে।তাকে দেখতে মারাত্নক সুন্দর লাগছে।আনায়া পড়েছে কালো রঙের একটা গাউন।সাদা পাথরে গাউনটা চিকচিক করছে।আনায়ার কাছে মনে হলো তার আজকের দিনে এটা পড়া উচিত।কারণ আজকের পড় তার হৃদয় অন্ধকারেই ডুবে থাকবে হয়তো।রুদ্ভিকা এসে দেখলো আনায়া আয়নার সামনে বসে আছে।চোখের পানি শুকিয়ে গিয়েছে।পানির দাগ গালে বোঝা যাচ্ছে।রুদ্ভিকার দীর্ঘশ্বাস ফেললো।তার বড্ড খারাপ লাগে।সে আনায়ার কাধে হাত রেখে বললো-
“আপায়!”
আনায়া রুদ্ভিকার দিকে তাকিয়ে বললো-
“মাশ-আল্লাহ কি সুন্দর লাগছে আমার রুদু পাখিকে।”
রুদ্ভিকা হাসলো।জিজ্ঞাসা করলো-
“রেডি হওনি কেন আপায়?সবাই রেডি।”
আনায়া এবার মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করে বললো-
“আসছি আমি!”
রুদ্ভিকা কিছু না বলে দাঁড়িয়ে রইলো!আনায়া জিজ্ঞাসা করলো-
“কি হয়েছে কিছু বলবি পাখি?”
রুদ্ভিকা এবার জিজ্ঞাসা করে উঠলো-
“এরিক ভাইয়াকে না পেলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে তোমার?”
আনায়া অবাক হলো।রুদ্ভিকা কি করে জানলো।আনায়া রুদ্ভিকার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললো-
“কি বলছিস তুই রুদু?”
রুদ্ভিকা-“আপু আমি জানি সব।
তুমি বলো ক্ষতি হবে কি বেশি?”
আনায়া এবার ডুকরে কেদে উঠলো-
“আমি মরে যাব রুদু তাকে না পেলে।না পাওয়ার যন্ত্রণা মানতেই কি কষ্ট আমার।সেখানে অন্য কারো হতে দেখবো তাকে আমি,বাচতে পারবো না আমি!”
রুদ্ভিকা আনায়াকে জড়িয়ে ধরলো।বোনকে সে শান্তনা দেওয়ার ভাষা খুজে পেলো না।আনায়া কিছুক্ষণ পর নিজেই শান্ত হলো।রুদ্ভিকা নিজ হাতে বোনকে সাজিয়ে দিলো।চুল ছাড়া রাখলো কারণ তারা সবাই চুল ছাড়া রেখেছে।কেবল বউয়ের চুল-ই আটকানো হয়েছে। বউ তো বউ-ই।তাকে অবশ্যই ব্যতিক্রম থাকতে দিতে হবে।
আনায়াকে নিয়ে সে মেহেরের কাছে গেলো।মেহের আনায়ার দিকে তাকালো।মেহের ভাবলো আনায়া তার দিকে তো এখন ফিরেও তাকাবে না।অভিমানের পালা হয়তো আরো ভারী হয়েছে।কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে আনায়া তার সামনে এসে তার গাল দু’টো ধরে বললে-
“কি সুন্দর লাগছে তোমাকে।”
মেহের মুচকি হাসলো।”তোমাকে” শব্দটা তার হৃদয়কে নাড়িয়ে দিলেও তার সাথে আনায়া কথা বলেছে এটাই তার কাছে অনেক।সে আনায়াকে বললো-
“ধন্যবাদ।তোকেও অসম্ভব সুন্দর লাগছে!”
তখনই ফিহা দৌড়ে এসে বললো “বর এসে পড়েছে!”
রুদ্ভিকা চললো ফিহার সাথে।আনায়া যাবে মেহেরকে নিয়ে।তখনই মিতাল বেগম ঘরে প্রবেশ করলেন।দুই মেয়েকে দেখে বললেন-
“কারো নজর না লাগুক আমার মেয়েদের।কি দারুণ লাগছে!”
আনায়া মুচকি হাসলো।মেহের মা-কে জড়িয়ে ধরতেই মিতালি বেগম কেদে ফেললেন।২৫ বছর ধরে নিজের গড়া একটা ফুল অন্য কাউকে দিতে নিলে তো কষ্ট লাগবেই।মেহেরেরও চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকলো।তাদের এই আবেগঘন মুহুর্ত আনায়া দাঁড়িয়ে দেখলো।
মেহেরকে ছাদে নিয়ে যেতে বললো মিতালি বেগম।কারণ আয়োজনটা ছাদেই।মেহেরকে ধীরে ধীরে আনায়া ছাদে নিয়ে গেলো ধরে।ফিহা আর রুদ্ভিকা দৌড়ে আসলো।নিচে তারা বেশ উপার্জন করেছে আজ।সেও এসে মেহেরের সাথে উপরে চলে গেলো।
~~~অন্যদিকে ফারাজ সিড়ি দিয়ে উঠছে আর এরিদকে বকছে।গেইটে মেয়েরা চেয়েছিলো ২০ হাজার যেখানে তাদের ১০ হাজার দেওয়া যেতো সেখানে রুদ্ভিকার এক কথায়-ই সে ২০ হাজার দিয়ে দিলো।আফরিনও ফোড়ন কেটে বললো-
“দিবেই তো ভাইয়া।ঘরে বোনের ময়দা কিনার টাকা নেই বাহিরে আবার উড়ানোর জন্য টাকা আছে!”
এরিদ এবার আফরিনের মাথায় টোকা দিলো।আফরিন এরিকের কাছে গিয়ে মুখ ভেঙচি দিলো।তারা ছাদে আসতেই স্টেজের সামনে গেলো।ছাদটা বেশ সুন্দর করে সাজানো।জায়াগাও বিশাল।স্টেজের সামনে আসতেই এরিক থমকালো মেহেরকে দেখে।তার রাজনন্দিনী এটা?তার?আদিল তাকালো আবার।স্তব্ধ হয়ে গেলো।এই বউ সাজেই তো সে সেই ২০ বছর বয়স থেকে চেয়েছিল মেয়েটা।আজ দেখছেও কিন্তু অন্য কারো হয়ে।চোখ নামিয়ে নিলো সে।বন্ধুর হবু স্ত্রী এখন মেহের।আর তার নেই।অন্যের স্ত্রীর দিকে তাকানোটাও অন্যায়।সে স্টেজের থেকে একটু দূরে দাড়ালো।এরিদ আর এরিক স্টেজের উপর উঠলো।আনায়া আর রুদ্ভিকা মেহেরের পাশেই বসে ছিলো।ফারাজ এবার তাকালো বসে থাকা রমণীদের দিকে।তার চোখ আটকে গেলো এক রমণীতে।সে যেনো পলক ফেলতে ভুলে গেলো!
ফারাজ চেয়ে রইলো মেয়েটার দিকে।এটা কি সেই আনায়া।যাকে সে দেখেছিলো বছর খানেক আগে।বড় হয়ে গিয়েছে মেয়েটা অনেক।এটা কি সেই অষ্টাদশী টা?মনে প্রশ্ন জাগলো এখন নিশ্চয়ই পঁচিশ ছুয়েছে? সাত বছর আগের অষ্টাদশী মেয়েটার চেহারায় আজ এক আকাশ পরিমাণ তফাৎ।গোলগাল চেহারাটা এখন শুকিয়েছে।আগের থেকেও শান্ত লাগছে।রুপ যেনো এখনও আগের মতোই।ফারাজ তাকিয়ে রইলো সেইদিকেই।চোখ সরাতে পারলো না।আনায়া দেখলো না কেউ একজন পলকবিহীন তার দিকে তাকিয়ে আছে,সে তো অন্য কারো ভাবনায় মত্ত!এরিকের ডাকে ফারাজের ধ্যান ফিরলো।এরিকের পাশে দাড়ালো সে।এরিক এবার একনজর তাকালো মেহেরের দিকে।থমকে গেলো তার হৃদয়।ঠান্ডা হাওয়া বোধহয় তার হৃদয়কে স্পর্শ করলো!
শরীরে প্রেমের বাতাস বইলো!ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পাওয়ার খুশি কী কম নাকি?সে সেটাই উপলব্ধি করছে এখন।মেহের তাকালো না।দেখতেও পেলো না।তার চোখ অন্যদিকে।সেও তার ভালোবাসার মানুষকেই খুজছে।হারিয়ে ফেলেছে সে তাকে।অন্যদিকে রুদ্ভিকা লজ্জায় আড়ষ্ট।সে অপরিচিত দের সাথে সহজে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না।তাই ফিহার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকে।অথচ একজোড়া চোখ খুব নিখুঁত ভাবে তাকে দেখে ফেলে।শ্যামবর্ণের এই নারীর দিকে তাকালে এরিদ দিন-দুনিয়া ভুলে যায়।কি জানি আছে রুদ্ভিকার মধ্যে?কোনো নে*শা?হয়তো!এরিদ হয়তো আসক্ত এই নে*শায়!
~বরপক্ষ আসতে দেরি করেছে এমনিই।তাই সময় পেরিয়ে গিয়েছে অনেক।সন্ধ্যা গড়িয়েছে।কাজী এবার তাড়া দিলো।তার নাকি কাজ আছে।খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ হতে হতেই সন্ধ্যা গড়িয়েছে।মেহের আর এরিককে এবার মুখোমুখি বসানো হলো।এরিক আড়চোখে মেহেরকেই দেখছে।মেহের মাথা নিচু করে বসে আছে।বুকের মধ্যে ঝড় বইছে তার।শান্ত করার মতো মানুষ নেই।ঝড়ের কারণ যে,সে বড্ড পাষাণ।বিষন্নতাকে উপেক্ষা করার প্রয়াস চালালো।কাজী সাহেব শুরু করলেন বিয়ে পড়ানো।এরিককে কবুল বলতে বলা হলো!এরিক সাথে সাথেই বলে উঠলো-
“কবুল!”
মেহেরকে বলা হলো।মেহেরের এবার সকল কান্না উপচে পড়লো।সে এবার শব্দ করেই কেদে উঠলো।মনে মনে আওড়ালো-
“আদিল ভাই আজ এখন থেকে আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ শেষ হলো।হৃদয়ের কোণায় তার স্থান হলো।আমার প্রতি আপনার দাবি শেষ হলো।পাওয়ার আশার সমাপ্তি ঘটলো।আক্ষেপের দাগ হৃদয়ে লেগে রইলো।এবার শেষ-ভালোবাসি আদিল ভাই!”
কাজী আবার বললো কবুল বলতে।মেহের এবার আস্তে করে সময় নিয়ে বলে উঠলো-“কবুল!”
সকলেই এবার একসাথে হেসে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো।স্তব্ধ রইলো দুইজন।ভাই বোন তাকালো একে-অপরের দিকে।আদিল ফারাজের সাথেই দাড়িয়ে ছিলো।আনায়া মেহেরের সাথে বসে ছিলো।আদিল চোখ সরিয়ে মেহেরের দিকে তাকালো।আনায়াও চোখ সরিয়ে এরিকের দিকে তাকালো।নিঃশব্দে চলে গেলো তারআ দূরে সরে।রুদ্ভিকা দৃশ্যটা দেখলো।বোনের বিদায়বার্তা আর এই দুই হৃদয়ের এমন ভাঙনে তার চোখ গড়িয়ে জল পড়লো।আনায়া যেতে যেতে একবার এরিকের দিকে তাকালো।বিড়বিড় করে বললো-
“পুর্নজন্ম বলতে যদি কিছু থাকে তাহলে পরের জন্মে মেহুর জায়গায় আমাকে বসাবেন ডাক্তার সাহেব।পিছনে আপনার বন্ধুর পাশে আমার বোন থাকবে।সেটা হবে সবচেয়ে সুন্দর একখান পুর্নতা।আজ এই মুহুর্তে যেটা হলো সেটা কেবল আপনার পুর্নতা আর আমাদের বিরহ।”
তার এই বিরহ কেউ দেখতে পেলো না।চাপা রইলো তার ভিতরে।চলে গেলো সে মেহেরের রুমে।অন্যদিকে আদিল চলে গেলো ছাদের এক কোণায়।যেখানে বর্ষার সামান্য পানি জমে পিচ্ছিল হয়ে আছে।সেখান থেকে কিছুটা দুরেই স্টেজ করা হয়েছে।তাই সেই জায়গাটা আপাতত বেশ অন্ধকার!বৃষ্টি হওয়ায় আকাশও মেঘে ঢেকে আছে।
চাঁদ নেই আজ আকাশে।আজ বোধহয় আকাশও আদিলের মতো তার চাঁদকে হারিয়ে ফেলেছে।পার্থক্য এতোটুকুই।আকাশ হারিয়েছে ক্ষণিকের জন্য,আদিল হারিয়েছে চিরজীবনের জন্য।আকাশ বুঝি আদিলকে কটুক্তি করে বলছে-
“যাকে একসময় এই বিশাল ছাদে বসে আমার চাঁদের সাথে তুলনা করতি সে কোথায়?হারিয়ে গেছে না?বোকা মানুষ তোরা।প্রকৃতির সাথে তোদের কোন মিলই নেই।”
আদিলও বোধহয় কটাক্ষ করে বললো-
“আমার চাঁদ হারায়নি।আমার চাঁদ এই যে আমার হৃদয়ে আছে।”
৯ বছরের ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলার দুঃখকে আপাতত দমন করতে সে সিগা*রেট ধরালো একটা!দাড়িয়ে রইলো সে জায়গায়!
~বিদায়ের পালা ঘনিয়ে এলো।আলতাফ সাহেব মেয়ের মাথায় হাত রাখতেই মেহের বাবার বুকে মুখ গুজে কাদতে লাগলো।আলতাফ সাহেব মেয়ের মাথায় অতি যত্নে হাত বুলিয়ে দিলেন।বাড়ির বিশাল বড় উঠোনে সকলে দাঁড়িয়ে।মিতালি বেগম এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।তার এতো বছরের যত্নে গড়া একটা ফুলকে অন্যের হাতে দিতে বড্ড খারাপ লাগছে।তবে এটাই যে নিয়তি।এরিক মেহেরের পাশেই দাড়িয়ে।আলতাফ সাহেব মেহেরের হাতটা এরিকের হাতে দিয়ে বললেন-
“শুনো বাবা,অনেক ইচ্ছে নিয়ে এই মেয়েকে তোমার হাতে দিচ্ছি।আশা করি দেখে রাখবে তুমি।তুমি আমার মেয়েকে নিচ্ছো না,আমার হৃদয়ের একটা বৃহত্তম অংশ নিচ্ছো।আমার বাগানের সবচেয়ে সুন্দর একটি ফুল নিচ্ছো।যত্নে রেখো,আগলে রেখো।যদি কখনো আমার মেয়ে কোন ভুল করে তবে তাকে কথার আঘাত দিয়ো না।আমাকে বলিও,আমি বোঝাবো!যদি কখনো আমার মেয়েকে তোমার আর ভালো না লাগে,তবে আমার এই ফুলকে ছুড়ে ফেলে দিও না,যেভাবে নিচ্ছো সেভাবেই দিয়ে যেয়ো।আমার আঙিনায় আমি তাকে ফুলের মতোই রাখবো!ওকে দুঃখ দিও না বাবা!”
বাবার কথায় মেহেরের জন্য হৃদয় আহ্লাদে ভরে উঠলো।সে বাবার বুকে মুখ গুজে ফুপিয়ে কাদতে থাকলো।রুদ্ভিকাও বোনকে জড়িয়ে ধরলো।সে আপাতত কান্না আটকানোর প্রয়াস চালাচ্ছে।মানুষের সামনে যে নিজের অনুভুতি প্রকাশ করতে বরাবরেই মতোই নারাজ।তার বুক ফাটবে তবু মুখ ফুটবে না।
এমন সময় সবিতা বেগম আসলেন।তিনি মুলত তার সন্তান দের খুজছিলেন।একজনকে খুজেই পায়নি,আরেকজনকে খুজে পেলেও এখানে আসতে সে বরাবর নারাজ।সবিতা বেগম মেহেরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।মেয়েটা তার আনায়ার মতোই তো।ছোটবেলা তো একসাথেই দুইজনকে বড় হতে দেখলো।তারও চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো।মেহের মুখ উঠালো।কাঙ্ক্ষিত দুজন মানুষকে খুজলো।কিন্তু পেলো না।দুই ভাই-বোনের অভিমান এতো কেন?আদিল না-ই আসলো তবে আনায়া?সেও আসলো না।ভালোবাসার কাছে এতো বছরের সম্পর্ক তুচ্ছ হয়ে গেলো?কী আজব।মেহেরের এবার কান্নার বেগ বাড়লো।বোকা মেহের জানতেই পারলো না ছাদের কোণায় দাঁড়ানো এক পুরুষ আর মেহেরের অন্ধকার রুমে দাড়ানো একজন নারী তাকে দেখছে।তাদের চোখ দিয়েও যে জল পড়ছে।পুরুষটার চোখ দিয়ে জল পড়ছে আজীবনের জন্য অতি মুল্যবান আর শখের জিনিস হারিয়ে ফেলায় আর নারীটার চোখ দিয়ে জল পড়ছে নিজেই সাথী হারানোর,ভালোবাসা হারানোর,স্বপ্ন ভাঙার!
মেহের এসব জানলো না।বিদায় বেলা আবারও ফিরে দেখলো।আসেনি একজনও।লতিফা বেগম বোধহয় বুঝলেন।আশস্ত করলেন রুদ্ভিকা,এরিদ,ফারাজ,আনায়া,
আদিল যাবে পরের গাড়িতেই।এই গাড়িতে যাবে এরিক,আফরিন,মেহের।এরিক এখনো মেহেরের হাত ছাড়েনি।আলতাফ সাহেব ধরিয়ে দেওয়ার পর এখনও শক্ত করেই ধরে রেখেছে অথচ মেহের সোজা করে রেখেছে হাতের তালু।এরিক যদিও এতে কিছু মনে করেনি।আফরিন অতি যত্নে মেহেরের ভারী লেহেঙ্গাখানা উচু করে গাড়িতে বসিয়ে দিয়েছে ভাবিকে।হোচট খেয়েছে একবার যদিও।তবে পিছনে থেকে একটি হাত খুব সাবধানে তাকে ধরে ফেলেছে!সে পরিচিত এই স্পর্শের সাথে তাই আর বেশি ঘাটেনি।কেবল মুচকি হেসেছে।তার ভাইদের পর আরশ ছাড়া তাকে কেউ এমন আগলে ধরে না।আরশ দূর থেকে একবার ইশারা দিয়ে বলেছে-“সাবধানে হাটাচলা করো!”আফরিন কেবল হেসেছে।তারা জানেই না তাদের এই খুনসুটি একজোড়া চোখ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছে।
অন্যদিকে মেহের গাড়িতে বসার পর এরিক তাকে টিস্যু বক্স এগিয়ে দিলো।মেহের এরিকের দিকে একবারও তাকায়নি এখন পর্যন্ত।সে এখনও ফুপিয়ে কেদেই যাচ্ছে।এরিক অত্যন্ত নরম গলায় বললো-
“শান্ত হোন রাজনন্দিনী।আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন এভাবে কাদতে থাকলে।আচ্ছা,থাক কেদে দিন আজই শেষবার।তারপর আপনার চোখ থেকে আর জল গড়ানোর সুযোগই পাবেন না!”
মেহের কিছু বললো না।সে টিস্যু নিয়ে চোখের পানি মুছতে ব্যস্ত।আফরিনও নিশ্চুপ।তার মন তো এখন অন্য কোথাও।
~~সবিতা বেগম আদিল আর আনায়াকে খুজে দু’জনকে রেডি হতে বললেন।তারা সে বাসায় যাবে।প্রথম দিন মেহেরকে আশ্বাস দেওয়ার জন্য হলেও তার প্রিয়জনদের প্রয়োজন।তাই আনায়া,রুদ্ভিকা আর ফিহা যাবে।ফিহা যেহুতু এখানে তাই সেও যাবে।আনায়া যেতে না চাইলে মিতালি আর সবিতা বেগম বড্ড নারাজ।তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই সে গেলো।এরিদের গাড়িতে যাবে তারা।আদিল রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির সামনে।আনায়া আসলো তখন।ভারী গাউন বদলে সে এখন মেরুন রঙের একটা সিল্কের জামা পড়েছে।যেটায় হালকা কাজ করা।মুখ পুরোই সাধারণ।চোখের কাজল উঠানোর ফলে চোখের নিচটায় এখন তার দাগ রয়েছে।তাকে এখন মায়াভরা বিষাদিনী লাগছে।আনায়া ভাইয়ের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো –
“খারাপ লাগছে আমাকে?”
আদিল এবার মুচকি হেসে বললো-
“একদমই না।মায়াপরী লাগছে তোকে!”
আনায়া এবার এক আকাশ সম বেদনা কণ্ঠে মিশিয়ে বললো-
“তোমাদের সবার চোখে পড়ে আমার এই সৌন্দর্য অথচ যার জন্য এই রুপের যত্ন করতাম সে কি নিখুঁতভাবেই এড়িয়ে গেলো!”
আদিল নিশ্চুপ।উত্তর দেওয়ার ভাষা নেই।আনায়া এবার কথা ঘুরিয়ে বললো-
“তোমার চুল এমন এলোমেলো কেন?কেমন দেবদাস লাগছে তোমাকে?”
আদিল মুচকি হেসে বললো-
“আপাতত দেবদাসই লাগার কথা।পারুকে হারালাম যে।”
দুই ভাইবোন কিছুক্ষণ মাটির দিকে চেয়ে রইলো।পরমুহূর্তেই হেসে ফেললো সামান্য আওয়াজ করে।দুঃখ ঢাকার প্রয়াস চালালো নাকি নিজেদের জীবন নিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো কে জানে।এরিদ আসলো তখন।পিছনে দু’জন নারী!তারাও জামা বদলেছে।ফিহা একটা হালকা গোলাপি রঙের টি-শার্ট পড়েছে সাথে সাদা রঙের একটা প্যান্ট।রুদ্ভিকা পড়েছে হালকা হলুদ রঙের একটা ঝাকজমক পুর্ণ পাকিস্তানি থ্রি-পিস।তার গায়ে এটা বড্ড মানাচ্ছে।সুর্যের রশ্নির মতো উজ্জ্বল লাগছে তাকে।এরিদ এই রুপে তাকে দেখে বিড়বিড়িয়ে বললো-
“চৈত্রিকা আমার!মাশ-আল্লাহ!”
আর কতোবার হৃদয় দহন হবে কে জানে!তবে দহনকারী যদি হয় রুদ্ভিকা তবে সে শতবার পুড়তেও রাজি।রুদ্ভিকাও আড়চোখে তাকাতে ভুললো না।কয়েকবারই দেখলো এরিদকে।চোখাচোখি হতেই আর চোখ তুলে সে এরিদের দিকে তাকায়নি।লজ্জায় তার মাটি ফাক করে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করলো।ফারাজ তখন উপস্থিত হলো।সে আদিলকে বললো তার বাইকে আসতে।ওরা চারজন গাড়িতেই যাক।আরামে যাক। আদিলও রাজি হলো!
সে গেলো ফারাজের বাইকে।অন্যদিকে এরিদ আর রুদ্ভিকা সামনে বসলো,ফিহা আর আনায়া পিছনে।এরিদ ড্রাইভ করার পাশাপাশি রুদ্ভিকাকে দেখতেও ভুললো না।সে কিছুক্ষণ পরপরই রুদ্ভিকার এসিতে খারাপ লাগছে কি না জিজ্ঞাসা করলো।রুদ্ভিকা ছোট্ট করে “না” বললো প্রতিবার।রুদ্ভিকা যতোটা শান্ত ফিহা ততোটাই চঞ্চল।সে আনায়ার সাথে বকবক করেই চলছে।আনায়া কেবল “হ্যা-হু” বলছে।এরিদও ফিহার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।এরিদের কাছে আনায়াকে অদ্ভুত লাগে।প্রথম দিন থেকে সে প্রতিটা নারীর মুখেই হাসি দেখেছে একবার হলেও কিন্তু আনায়ার মুখ সর্বদা গম্ভীরই দেখেছে।তার মনে হয় আনায়া এখানে থেকেও নেই।তার মন অন্য কোথাও বসে আছে।সে এটা নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসাও করেনি কারণ মেয়েটা অসস্তিতে পড়তে পারে।
আনায়া তার থেকে বড়জোর মাসখানিকের ছোট হবে।আনায়া মাথাটা সিটের দিকে এলিয়ে বসে থাকে।ফিহা বকবক করতেই থাকলো।রুদ্ভিকা অবাক হয় মাঝে মাঝে এই মেয়ের কী গলা শুকিয়ে যায়না।তবে তার কাছে এই চঞ্চল ফিহাই বড্ড পছন্দের।২০ মিনিটের রাস্তা শেষ হতে তাদের ৪৫ মিনিট লেগে যাচ্ছে অথচ রাস্তাই ফুরোচ্ছে না।রাস্তায় প্রচুর জ্যাম।রুদ্ভিকার বড্ড লজ্জা লাগছে আবার ভালোও লাগছে এরিদের পাশে বসতে।লজ্জায় মনে মনে দ্রুত জ্যাম ছোটার জন্য গভীর প্রার্থনা করতে থাকে।অন্যদিকে এরিদ গভীর প্রার্থনা করতে থাকে যাতে এই জ্যামের সময়কাল আরো দীর্ঘ হয়।তার চৈত্রিকার সাথে যেনো সে আরো বেশি সময় থাকতে পারে।দুইজনের ভিন্নরুপ প্রার্থনা চলছে মনে মনে।
~ফারাজ আর আদিলও জ্যামে আটকা পড়েছে তবে বাইক হওয়ায় চিপাচাপা দিয়ে দ্রুতই এগোতে পেরেছে।ফারাজ এবার আদিলকে প্রশ্ন করলো-
“আচ্ছা ভাবিরা কয় বোন?’
আদিল জবাব দিলো-
” দুই বোন!”
ফারাজ এবার অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো-
“কীভাবে?ভাবির এক বোন দেখলাম গেইটে।নাম কি যেনো?হ্যাঁ রুদ্ভিকা।ভাবির নাম সম্ভবত মেহের।তবে তুই যার সাথে রিলেশনে ছিলি তার নাম তো রোজা বলেছিলি।সে নাকি তোর ফুফাতো বোন।তবে তোর আরো ফুপু আছে নাকি?কারণ বিয়েতে তো তোর এক ফুপুকেই দেখলাম!”
আদিল এবার শান্ত স্বরে জবাব দিলো-
“মেহেরই রোজা,এরিকের স্ত্রী!”
ফারাজ এটা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।আদিলের ভালোবাসা এরিকের স্ত্রী।কীভাবে সম্ভব?বন্ধুমহলের সবাই জানে আদিল তার এই ফুফাতো বোনকে কতো ভালোবাসে তবে?সে আদিলকে জিজ্ঞাসা করলো-
“মজা করছিস?”
আদিল-“মজা করার মতো প্রশ্ন ছিলো যে উত্তরটা মজার হবে?”
দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ৯+১০
ফারাজ যেনো আকাশ থেকে পড়লো।কি হলো এটা?এমন পরিনতি কেন হলো?আদিল ছাড়লো কেন আর এরিক জানা সত্ত্বেও এই কাজটা করলো কেন?তার মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে।প্রশ্ন করার আগেই রাস্তার জ্যাম ছুটে গেলো।আদিল দ্রুত সামনে এগোতে বললো।ফারাজ যেনো নিজের বিস্ময়ই কাটাতে পারলো না।আদিলের একটা কিল খেয়ে সে এগোলো সামনে।পুরো রাস্তায় তার মাথার ভিতরের সব এলোমেলো লাগছিলো।
