Home দগ্ধ প্রেমানল দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ৯+১০

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ৯+১০

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ৯+১০
আনায়া আফরিন

দু’কাপ কফি বানালো।বাহিরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে।বিরহের সাথে বৃষ্টি আর কফির কম্বিনেশন মন্দ নয়।তাও আবার রাতের আধারে!এবার কফির কাপ দুটো নিয়ে হাটা ধরলো যেই রুম থেকে গানের মৃদু আওয়াজ আসছে সেই রুমের দিকে।বাড়িটা চারতলা।তারা থাকে তিন তলায়।দু’টো ফ্লাট প্রতি তলায়।তিনতলার এক ফ্লাটে তাদের বাবা-মা থাকে আর অন্য ফ্লাটে আদিল-আনায়া থাকে।আনায়া গানের সুর আসা রুমটির সামনে গিয়ে টোকা দিলো।রুমটার ভিতর থেকে গানের লাইন ভেসে আসছে-

“সে কি দেখতে পেয়েও পায়না,
নাকি দেখতে আমায় চায়না?”
তিনবার টোকা দেওয়ার পর আদিল দরজা খুললো।চোখ তুলে তাকালো না সে।চোখ তুলে তাকালেই বোনের কাছে ধরা খাবে।আনায়াও চোখ তুলে তাকালো না।চোখের অবস্থা দুইজনেরই খারাপ।আনায়া আদিলকে কফি দিলো।আদিল কাপটা নিয়ে খাটে এসে বসলো।আনায়াও এসে রুমের কর্ণারে থাকা সোফাটায় বসলো।আদিল এবার আনায়াকে জিজ্ঞাসা করলো-
“এতো রাতে কফি খাচ্ছিস তুই?আমার ঘুম ভাঙিয়েছিস কফি খাওয়ার জন্য?”
আনায়া এবার কৌতুক হেসে বললো-
“ঘুমাচ্ছিলে বুঝি?”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

আদিল-“তো এতো রাতে কি করবো?এই বৃষ্টির মধ্যে কি তোর মতো বারান্দায় বসে গান শুনবো?”
আনায়া:”তুমি না ঘুমিয়েছিলে তবে দেখলে কীভাবে?”
আদিল এবার চুপ রইলো!আনায়াও চুপ।পুরো ঘর নিস্তব্ধ।কেবল বৃষ্টির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে।আদিল এবার কফিতে চুমুক দিতে দিতে বললো-
“ঠিক আছিস তুই?”

আনায়া নিশ্চুপ।এই দুনিয়াতে ইন্ট্রোভার্ট মানুষ গুলো নিজের অনুভুতি প্রকাশে বেশ ব্যার্থ হয়ে থাকে।তারা যখন অতিরিক্ত কাছের কোন মানুষ পায় তখন তারা সেখানে খোলা বইয়ের মতো নিজেকে প্রকাশ করে।গুনতে গেলে দেখা যায় তাদের এই ধরনের মানুষ খুব কম।তাদের দুঃখ-সুখ অর্থাৎ সকল অনুভুতি আড়াল করে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তারা।আনায়াও সেইরকমই।এতো কষ্টে তার এতোক্ষণের দমে রাখা কান্না গুলো আদিলের “ঠিক আছিস তুই?” শব্দটায় যেনো আশকারা পেয়ে গেলো।এবার যেনো চোখের পানি গুলো আর বাধ মানলো না।আনায়া চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে পানি পড়ছিলো।মাথা নিচু করে বসে ছিলো যাতে ভাই তার এই ব্যাথাতুর দৃষ্টি না দেখে।অথচ ভাইয়ের চোখের আর আড়াল হতে পারলো না।আদিল চুপচাপ বসে কফিটা শেষ করলো।এবার বোনের মাথায় আলতো করে হাত রেখে বললো-

“এ্যানা জীবন একটাই।উপভোগ কর অনেক।এই একজীবনে শত শত মানুষ আসবে আমাদের জন্য।সামনে হয়তো ভালো কিছুই আছে,তাই মরিচিকার পিছনে আর ছুটিস না।একটা জিনিস যখন স্বাধীন থাকে তখন সেই জিনিসটা যে কেউই চাইলে নিয়ে নিতে পারে তবে জিনিসটা যখন অন্যের অধীনে হয়ে যায় তখন সেই জিনিসের প্রতি সামান্য ঝোক থাকাটাও উচিত না!ভালোবাসিস,বাস তাহলে।তবে ভালোবাসাকে দুর্বলতা না বানিয়ে শক্তি বানা বোন আমার!যার জন্য চোখের নিচে এই কালির প্রলেপ,উশখ-খুশকো চুল,রাত জাগা,অসুস্থতা,খাবার না খাওয়া,চোখ ভরা পানি সে কি আদৌ জানে?হয়তো জানবেও না কখনো।তাই পারলে এগিয়ে যা বোন!”
আনায়া মনোযোগ দিয়ে শুনলো।কান্নার প্রকোপ বাড়লো তার।কান্নারত গলায় বললো-
“আমি আগাতে পারবো না ভাইয়া।তুমি কী পারবে?”

আদিল থমকাল।সে এতোক্ষণ যে কথাগুলো বললো সেগুলো তো আনায়াকে বললো।নিজের ক্ষেত্রে তো সে এগুলো পারবে না।চুপ করে রইলো।বোনকে অত্যন্ত আদরে বুকে টেনে হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো মাথায়।বৃষ্টি থেমেছে।আপাতত পরিবেশ ঠান্ডা কিছুটা।তবে বাতাস বইছে বেশ।আদিল দেখলো আনায়া ঘুমিয়ে গিয়েছে।বোনকে নিজের ঘরে শুইয়ে রেখে বারান্দায় গিয়ে বসলো।একটা সিগারেট ধরালো।সিগারেট আদিলের অপছন্দের জিনিস ছিলো আগে।তবে বছর খানিক ধরে এটা তার প্রিয় এক সঙ্গী!বসে বসে জীবনের ছক মিলাচ্ছে।দেখলো সবই মিললো তার জীবনে।তবে মেহেরের সাথে আর তার ভাগ্যের মিলন হলো না!”পুরুষরা কাদতে জানে না” এই কথাটা ভুল।প্রিয় মানুষ হারানোর শোকে মানুষ ভেঙে পড়বেই সে পুরুষ হোক অথবা নারী।আদিলের চোখ দিয়ে পানি পড়লো অনবরত।রাত গেলো দুই ভাইবোনের এই বিরহেই।যদিও এটা প্রথম রাত না,এমন অজস্র রাত তারা না ঘুমিয়ে পাড় করেছে।তবে তখন ছিলো না পাওয়ার যন্ত্রণা আর এখন এর চেয়ে বড় যন্ত্রণা-অন্য কারো পাশে দেখার যন্ত্রণা!

শ্রাবণ মাস চলছে।বাহিরের পরিবেশ আপাতত ঠিকঠাক।চৌধুরী বাড়িতে বিয়ের আমেজ।দিনটা মঙ্গলবার।এই সপ্তাহেই বিয়ে।কিছু আত্নীয়-স্বজনও আছে তাদের বাড়িতে।দুর-সম্পর্কের তবে আত্নীয়তা তাদের সাথে ভালোই।বাড়িটা সাজানো নানা বাতিতে ও ফুলের বাহারে।আদিল-আনায়ার এক সপ্তাহ আগেই আসার কথা কিন্তু আজ এসেছে।আনায়া এসেছে।আদিল বলেছে সে বরপক্ষ থাকবে।এই নিয়ে মিতালি বেগম একটু ধমকা-ধমকি করেছিলেন কিন্তু আদিল সেখানেই থাকবে।তার প্রাণপ্রিয় বন্ধুর বিয়ে বলে কথা।ভাগ্যবান পুরুষটাকে আদিল দেখতে চায়।পাওয়ার সুখ দেখতে চায়,যা সে পায়নি।আনায়ার ইচ্ছে ছিলো না আসার।তবে মিতালি বেগম এই নিয়ে বড্ড অভিমান করে ছিলেন,ফুপুর জন্যই সে এসেছে এখানে।এসে মনে হলো ভালোই হয়েছে,ভাগ্যবতী নারীটাকে দেখতে পারবে।আনায়ার মাঝে মাঝে যন্ত্রণাকে রোমাঞ্চকর মনে হয়।একতরফা ভালোবাসাকে অন্য কারো সাথে দেখলে,উহু নিজের বান্ধুবীর মতো বোনের সাথে দেখলে বোধহয় যন্ত্রণা গাঢ় হবে তাই ব্যাপারটা আরো যন্ত্রণাদায়ক,আরো রোমাঞ্চকর।

অন্যদিকে মেহেরের দিন কাটছে উদাসীন।লাল শাড়িতে সাজবে মেহের,স্বপ্ন ছিলো তার।তবে আদিলের জন্য,এরিকের জন্য না!এই দুঃখতেই সে ভেঙে পড়ছে।রুদ্ভিকা স্বাভাবিক।সেদিন এরিকের সাথে দেখা হওয়ার পর বুঝলো মানুষটা অমায়িক,তার বোন মানিয়ে নিতে পারলে জীবন সুন্দর আর না মানিয়ে নিতে পারলেও লোকটা সামলে নিবে।তাই সে খুশিও না আবার দুঃখীও না।তবে বোনের জন্য মন পুড়ছে কিছুটা,আবার আদিলের জন্যও।আদিল সর্বদা তাকে আনায়ার মতোই ভালো বেসেছে।এদের পরিনতি যেনো এই পর্যন্তই শেষ হয়,এর চেয়ে খারাপ কিছু না ঘটলেই হলো।এটাই তার চাওয়া।ফিহাও এসেছে।ফিহার বাবা-মা বেশ স্বাধীনতা দেয় মেয়েকে।আর রুদ্ভিকা ফিহার শিশুকালের সঙ্গী।এই সঙ্গীর সাথে তারা মোটেও দ্বিধাবোধ করে না ফিহাকে দিতে।

ফিহাও আজই এসেছে।সে থাকবে কিছুক্ষণ।রুদ্ভিকার অনুরোধ বিয়ের পুরো আমেজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফিহা থাকবে।ফিহার বাবা-মার এতে কোন চিন্তা নেই।মেয়ে নিরাপদে থাকলেই হলো।আলতাফ সাহেব আর মিতালি বেগম আশ্বাস দিয়েছে মেয়ে নিরাপদেই থাকবে।

রাতের প্রহরে ঠিক করা হলো মেহেরের সাথে আনায়া থাকবে আর রুদ্ভিকার সাথে ফিহা।আনায়া চেয়েছিলো গেস্ট রুমে থাকতে তবে মিতালি বেগম বলেছেন তার তৃতীয় মেয়ে গেস্ট রুমে থাকবে না কখনোই।আনায়া আর কিছু বলতে পারেনি।আনায়া উপলব্ধি করলো তার রাগ-অভিমান বাড়ছে দিনকে দিন।আগে এই গুলো তার মধ্যে খুব কম ছিলো এখন অকারণেই রাগ উঠে তার।সে এখন মেহেরের থেকে দুরত্ব বজায় রাখে।তার ভয় হয় মেহের না জানি কখন তার রাগের মুখোমুখি হয়ে হৃদয়ে চরম আঘাত পায়।

রাত ১১:৪০।আনায়া বিছানায় শুয়ে ফোন ঘাটছিলো।মেহের চোখ বন্ধ করে ছিলো।কয়েকবার সে আনায়ার সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে চেয়েছে তবে আনায়া কেবল হু-হা উত্তর দিয়ে আর কিছু বলেনি।আনায়ার এমন পরিবর্তনের কথা ভাবতে ভাবতেই মেহেরের ফোন বেজে উঠলো।তার ফোনটা আনায়ার পাশের টেবিলে ছিলো।মেহেরের উঠতে ইচ্ছা করলো না।তাই সে আনায়াকে মোবাইলটা দিতে বললো।আনায়া ফোনটা হাতে নিতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠা নাম্বারটা কিছুক্ষণের মধ্যেই চিনে ফেললো।দুঃখরা হানা দিলো তার হৃদয়ে।

মেহের অপরিচিত নাম্বার দেখে অবাক হলো।এতো রাতে কে কল করলো তাকে।সে কলটা ধরে সালাম দিলো।অপর পাশ থেকে সালামের উত্তর এলো।মেহের তখনও বুঝতে পারলো না কে এটা!অপরপাশ থেকে সালাম দিলো,মেহেরও উত্তর দিলো!সে জিজ্ঞাসা করার আগেই অপর পাশ থেকে শুনা গেলো-
“আমি এরিক।এখন কল করার জন্য কি আপনার কোন অসুবিধা হচ্ছে মেহের?”
মেহের যেনো অপ্রস্তুত ছিলো এই সময় এই কলের জন্য।সে নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো-

“অসুবিধা তো হওয়ার কথা না আমার!”
অপর পাশ থেকে খুবই নম্র গলায় ভেসে আসলো-
“আচ্ছা।এখন বলুন কেমন আছেন?”
মেহের-“আছি ভালো।আপনি?”
এরিক-“আলহামদুলিল্লাহ বেশ আছি।খাওয়া দাওয়া হয়েছে?
মেহেরের যেনো এক আকাশ পরিমাণ অনিচ্ছা কথা বলার।তবুও সে কোনরকম তা চেপে রেখে কথার উত্তর দিলো-
“জ্বি”

এরিক-“আচ্ছা আমাদের তো কিছুদিন পর বিয়ে কিন্তু আপনি আমার ব্যাপারে তেমন কিছুই জানেন না।আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন?”
মেহের এবার শান্ত গলায় বলে উঠলো-
“আপাতত খুজে পাচ্ছি না।”
এরিক-“আপনার কি ঘুম এসেছে?”
মেহের-“জ্বি”
এরিক-“আচ্ছা তাহলে ঘুমান।শুভ রাত্রি।”
মেহের কিছু না বলেই ফোন কেটে দিলো।এরিক এটা মনে ধরলো না।সে কেবল নাম্বারটার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলে উঠলো-

“আমি জানি একসময় আপনি আমাকে অবশ্যই ভালোবাসবেন।আমিও আপনার পুরনো ক্ষত সারিয়ে দিতে নিজের সব ভালোবাসা ঢেলে দিবো।অপেক্ষায় রইলাম আপনার রাজনন্দিনী আমার।”
~~~মেহের কল রেখে বিরক্তিতে পাশের টেবিলে রাখলো।কিন্তু পাশের মানুষটার দিকে তাকাতেই মলিন হয়ে গেলো তার মুখখানা।মেয়েটা চোখের উপর নিজের হাত দিয়ে শুয়ে আছে।চোখের কার্ণিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলগুলো মেহেরের থেকে আর লুকানো হলো না।মেহের এক লম্বা নিঃশ্বাস নিলো।সে কি করবে। তার হাতে মেয়েটার দুঃখ কমানোর ক্ষমতা থাকলে সে অবশ্যই কমিয়ে ফেলতো!সব দোষ তার মতে আদিলের।আদিল যদি মেহেরের হতো তাহলে হয়তো কোথাও না কোথাও আনায়ার মানুষটা একাই থাকতো!

“ইউহান” ভিলাটা দেখার মতো হয়ে আছে।চাকচিক্যময় বাতিতে এই আলিশান বাড়িটা যেনো বেশিই সুন্দর লাগছে।বাড়িতে দোতলা হলেও মোটামুটি বেশ বড়।বেশ ভালো জায়গা নিয়েই তৈরি।বাহিরে বেশ বড় ফাকা জায়গা।পাশেই দুটো গাড়ি।এই বাড়ির দুই ছেলের দুই গাড়ি।বাড়িতে আপাতত মানুষ কম কারণ এরিকের যতো বন্ধু-বান্ধব আছে তারা সবাই বাহিরের দেশেই থাকে।তারা আসবে সন্ধ্যার পর।আত্নীয়-স্বজন তাদের তেমন কেউ নেই।এরিদ তার কিছু বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছে আর আফরিন তার সেকশনের সকলেই দাওয়াত দিয়ে এসেছে।এই নিয়ে এরিক কিছু না বললেও এরিদ তাকে সকালে মাথামোটা বলায় সে আপাতত ফুলে বসে আছে।এরিদ জীবনেও যাবে না তার রাগ ভাঙাতে এখন।তবে এরিক বাসায় না থাকলে সে অবশ্যই যেতো।

আপাতত তার ছুটি সব জায়গার থেকে।এরিক ভেবেছিলো তাকে আর এরিদ কে একা একাই সব সামলাতে হবে তবে সঙ্গ পেলো আরো দুজন এর।তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু আদিল আর ফারাজ এর!ফারাজের সাথে তাদের যোগাযোগ আপাতত ব্যস্ততায় কম হলেও বন্ধুত্বের গাঢ়ত্ব সেই স্কুল জীবনের মতোই।বন্ধুর বিয়ে বলে সমস্ত ব্যস্ততা ভুলে ফারাজ এসেছে।এরিক তো প্রথমে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাসই কর‍তে পারছিলো।এরিদও বেশ অবাক হয়েছে।পাশাপাশি অনেক খুশি হয়েছে।তারা সকলে তাদের কাজ করছে।এরিক আদিলকে কি বলবে জানে না!তার জানা নেই।আদিলের সাথে কথা বলতে গেলে এখন তার গলা ভারি হয়ে আসে!আদিল কি কি করতে হবে সব নিজে গিয়েই জিজ্ঞাসা করছে এরিককে!কারণ তার বন্ধুর ভারী হয়ে আসা গলার স্বর সে ঠিকই বুঝে।অন্যদিকে এরিদ তো আছেই বোঝানোর জন্য!আফরিন আপাতত বেশ খুশি!বড় ভাইয়ের বিয়ে ফাইনালি।

সন্ধ্যায় শুরু হয় অনুষ্ঠান।ইউহান বাড়িতে এখন বেশ মানুষই আছে।তার সকল বন্ধুরাই এসেছে পাশাপাশি অতিরিক্ত কাছের বন্ধুদের পরিবারও এসেছে।এরিককে হলুদ ছোয়ানো হবে।আগে বড়রা সকলে ছোয়ালো।তারপর আফরিন আসলো।হলুদ একটা থ্রি-পিস পড়েছে সে।কাপড় পড়তে বলেছিলো তার বান্ধুবীরা কিন্তু তার ভাইয়ের বিয়েতে সে অনেক আনন্দ করতে চায়।কাপড় পড়লে সামলাতে ঝামেলা আর সে সামান্য ঝামেলারও মুখোমুখি হতে চায়না!তবে গর্জিয়াস পাকিস্তানি এই হলুদ রঙের থ্রি-পিসে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।ভাইয়ের পাশে বসলো।ভাইকে ইচ্ছেমতো হলুদ দিলো।এরিক কিছু বললো না কেবল হাসলো।বসে বসে বেশ ছবি তুললো।আরো মানুষ হলুদ ছোয়াবে যে তার কোন চিন্তাই নেই।অতঃপর এরিদের চোখ রাঙানিতে উঠলো!আফরিন এবার তার ভার্সিটির বন্ধুদের কাছে গেলো।এসেছে অনেকেই।আফরিন বলেছে তাদের অভিভাবকদেরও সাথে নিয়ে আসতে।কারণ স্বাভাবিক সন্ধ্যার পর কোন মেয়ের বাবা-মাই মেয়েকে একা ছাড়তে চাইবে না।তাই দেখা গেলো অনেকেরই অভিভাবক এসেছে।আফরিন তাদেরও চিনেও।সবার সাথে কথা বলতে বলতে চোখ গেলো তার ভিড়ের সমাগম থেকে দূরে দাড়িয়ে থাকা এক পুরুষের দিকে।আফরিন থমকাল।হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত পুরুষটি তার দিকেই তাকিয়ে আছে।আফরিন এবার সবার থেকে একটু দূরে সরলো।পুরুষটি তাকে দেখে মুচকি হাসলো।আফরিন কাছে এসে বললো-

“আপনি এখানে?”
আরশ ভ্রু কুচকে বললো-
“ভালো লাগছে না আমাকে দেখে ম্যাডাম?”
আফরিন-“না ভালো লাগবে না কেন?এরিদ ভাইয়া আপনাকে দেখলে ঠ্যাং ভাঙবে আমার।এমনিই সন্দেহ করে আপনার চাহনি দেখে!”
আরশ এবার আফরিনের চোখে চোখ রেখে বললো-
“নিজের বোনের দিকে অন্য পুরুষ তাকালে তার সহ্য হয় না তাহলে আমার বোনকে কি করে এই রাতের বেলা একা ছাড়বো আমি?”
আফরিনের হঠাৎ করেই মনে পড়লো তার ক্লাসের আর্শিয়ার ভাই-ই আরশ।তাহলে আর্শিয়ার সাথে তো আসবেই।সে এবার আরশের দিকে তাকিয়ে বললো-
“চোখ নামান।যেভাবে তাকিয়ে আছেন যে কেউ দেখলে বুঝবে কার দিকে তাকিয়ে আছেন!আমার ভাইরা দেখলে তো শেষ!”

এটা বলে আফরিন হনহন করে চলে গেলো।বোকা আফরিন জানতেই পারলো না এই পুরুষের নজর আসার পর থেকেই কেবল তার দিকে।দুনিয়ার মানুষের কথা ভুলে এই পুরুষ কেবল তাকেই দেখছে আর দেখবে।আফরিনের যাওয়ার পানে আরশ তাকিয়ে রইলো!মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো-
“এই নারীকেই চাই তার।এই নারীকে পাওয়ার জন্য সে সব করবে সব!”
রাত ১১ টা।খাওয়াদাওয়া চলছে আপাতত।এরিদ,এরিক,আফরিন একসাথে ছবি তুলবে।ছবি তুলতে গিয়ে এরিকের কাছে মনে হলো কিছু নেই এখানে।এরিদ আছে আফরিন আছে কী নেই!অতঃপর বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো তার বাবা-মা নেই।তার জন্মদাতা-জন্মদাত্রী নেই।তার দাদু নেই।দুঃখদের আড়াল করার প্রয়াস চালালো।এরিদেরও এই শুন্যতা অনুভব হলো যখন ক্যামেরাম্যান

এসে বললো পাত্রর বাবা-মা কে নিয়ে আসুন।তারা আগে হলুদ ছুইয়ে দেক।এরিদের মুখ থেকে বের হলো না যে তারা আর নেই।চুপ রইলো।অতঃপর আদিল বললো।বাবা-মার অনুপস্থিতি তাদের সব জায়গায়ই পীড়া দেয়।তাদের ছবির পর্ব শেষ হলো এবার এরিদ তার বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুললো আর আফরিন তার বান্ধুবীদের নিয়ে।এরিকও সবাইকে নিয়ে তুললো।আদিল আর ফারাজকে নিয়ে আলাদা তুললো।কোন ছবিতেই আদিলের হাসি নেই।মলিন চেহারা তার।দুঃখ পুষে বুকের ভিতর জমা রাখলো।নিদ্রাহীন কোন এক রাতে আবার না হয় এই দুঃখগুলো নিয়ে দুঃখবিলাস করবে।
গায়ে হলুদার অনুষ্ঠান পর্ব এভাবেই চলতে রইলো ইউহান বাড়িতে!

চৌধুরী বাড়িতে আপাতত বেশ মানুষের সমাগম।আশেপাশের প্রতিবেশী এবং ফ্লাটের ভাড়াটিয়া সবাই-ই উপস্থিত।মেহেরের মুখ মলিন।সে একটু হাসেনি।পাড়ার প্রতিবেশীরা বোধহয় খোচা মেরে মনে শান্তি পাচ্ছে।নানান মানুষের নানান কথা।কেউ কেউ তো আফসোসের সুরে বলছে মেয়েটার মুখ মলিন ধরেবেধে বিয়েতে বসিয়েছে।আরেকজন বলছে ২৫ বছরের মেয়েকে আর কতোই ঘরে রাখবে।মেহেরের কানে সবই যাচ্ছে তবে তার এখন এসবে প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই।তবে রুদ্ভিকা যতো যাই হোক,অন্যায় দেখলে সে সেটার প্রতিবাদ করবেই।মেহেরকে হলুদ ছোয়াতে এসে শুনতে পেলো এক মহিলা বলছে-

“মাইয়ারে ২৫ বছর ঘরে রাইখা এহন বিয়ে দিতাছে।গায়ের রঙ সুন্দর দেইখা জামাই তো বেশ ভালোই পাইলো নাইলে এতোদিনে চামড়া গুছাইয়া যাইতো আর বুড়া বেডার সাথে বিয়া দিতে হইতো!”
রুদ্ভিকার যেনো এটা শুনে শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকলো।আনন্দঘন মুহুর্তটাকে খারাপ করতে চাইছিলো না এতোক্ষণ তবে এখন তাদের সামনে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো-
“আমার বোনের তো চাচি রুপ,গুন,মেধা সবই আছে তাই বাবা রেখে দিয়েছিলো এছাড়াও আল্লাহর রহমতে আমার বাবা-মার মন মানসিকতা বেশ ভালো তাই তো মেয়ে জিএসসিতে ফেল করায় টাকা ওয়ালা টাক চাচার সাথে বিয়ে দিয়ে দেইনি।তাইতো ২৫ বছর বয়সে আমার বোনের এটাই প্রথম বিয়ে।না হয় অন্যের মেয়ের তো ২২ বছর বয়সে ৩ বিয়ে হয়ে যায়।যাই হোক,আপনার মেয়ের এই সংসার কেমন চাচি?আর গলায় যে চেইন টা এটা শিউলি আপুর কোন স্বামী দিয়েছিলো?বেশ সুন্দর তো!”

মহিলার চোখমুখ যেনো লাল হয়ে গেলো লজ্জায় আর রাগে।সে হনহন করে চলে যেতে যেতে ফিসফিসিয়ে বললো-
“এই মাইয়ার মুখ এতো চালু হইলো কবে থেইকা।দেখলে তো মনে হয় ভাজা মাছ উলটাইয়া খাইতে পারে না।এহনকার দিনের ছেমরি রা যা মনে করে নিজেগো!”
রুদ্ভিকা তার দিকে তাকিয়ে কেবল হাসলো!সব জায়গায় চুপ থাকলে চলে না।কিছু জায়গায় উত্তর দিতে হয়।বিশেষ করে যখন একটা মানুষ নিজেই নোং*রা থাকে এবং অন্য এক পরিষ্কার মানুষকে দেখে নাক ছিটকায় সেসকল মানুষদের জবাব না দিয়ে পারা যায় না!
রুদ্ভিকা বোনের কাছে গেলো।মেহের চুপচাপ বসে আছে।তাকে সকলে হলুদ মাখাচ্ছে।রুদ্ভিকা আসার পর মেহের আস্তে করে রুদ্ভিকাকে জিজ্ঞাসা করলো-

“নিশ্চয়ই মহিলাটা আমার বা আনায়ার ব্যাপারে কিছু বলেছে তাই না?তুই ও কথা শুনিয়েই এসেছিস তাই না?”
রুদ্ভিকা ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে জবাব দিলো-
“হুহ!”
মেহের এবার রুদ্ভিকাকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললো-
“সব জায়গায় সব কথা বলতে নেই বোন।দরকার কি এদের সাথে কথা বলে। সময় আর মুখ ন*ষ্ট!”
রুদ্ভিকা কিছু বললো না।সে নিঃশব্দে বোনকে হলুদ ছোয়ালো।গেলো আনায়াকে ডাকতে।মেহেরের রুমে আনায়া।রুম বন্ধ।রুদ্ভিকা বন্ধ থাকবে এটাই আশা করেছিলো।ওপাশ থেকে দরজা খুলবে না এটা জেনেও সে দু’বার টোকা দিলো।উত্তর এলো-

“আমি আসছি পরে!”
রুদ্ভিকা “জলদি বের হও” বলে চলে গেলো।রুমের ও’পাশে একখান ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিয়ে একটি মেয়ে বসে রইলো।গায়ে কাচা হলুদ রঙের অত্যন্ত গর্জিয়াস লেহেঙ্গা মোড়ানো।ওড়নাটা খাটের একপাশে পড়ে আছে।চুলগুলো ভেজা।টিপটিপ করে পানি পড়ছে চুলগুলো থেকে মেঝেতে।তার এসবে হুশ নেই সে ফেসবুকে একখান ছবি বেশ জুম করে দেখছে।আফরিন একটু আগে ভাইদের সাথে তোলা একটা ছবি ছেড়েছে।আনায়া সেটাই দেখছে।ছবিটা নয়,ছবির ভিতরে থাকা কাঙ্ক্ষিত একটা পুরুষকে।তার ডাক্তার সাহেবকে!কি সুন্দর লাগছে পুরুষটাকে হলুদ পাঞ্জাবিতে।হঠাৎ করেও ছবিটা দেখে ডুকরে কেদে উঠলো।কান্নারত গলায় বিরবির করে বলে উঠলো-

“ডাক্তার সাহেব আপনি আর হলে কি এমন ক্ষতি হতো?আমি জ্বলছি,পুড়ছি,ভাঙছি তবুও এর বিনিময়ে আপনাকে পাচ্ছি না।উলটো সারা জীবনের জন্য হারাচ্ছি।নিয়তি আমার সাথে এতো নিষ্ঠুর কেন হলো?”
হঠাৎই দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ শোনা গেলো।আনায়া চোখ মুছে নিজেকে ঠিক করে উঠে দরজা খুললো।বাহিরে তার মা দাড়ানো।সবিতা বেগমের মুখে রাগ স্পষ্ট তবে মেয়ের চেহারা দেখার সাথে সাথে রাগ নিভে গেলো।তিনি মেয়েকে হালকা ধমক দিয়ে বললেন-
“তোর এই অবস্থা কেন?মিতালি বললো সারাদিন ঘর থেকে বের হোস নি।কি হয়েছে মা তোর?চোখের অবস্থা এমন কেন?কেদেছিস তুই?”
আনায়া এবার শান্ত গলায় বলল,

“আহা আম্মু আস্তে!এতো প্রশ্নের জবাব কীভাবে দিবো।কাদছিলাম না কালকে সারারাত ঘুমায়নি।আজ ঘুমিয়েছি।তাই চোখের এই অবস্থা।দেখো না জামা পড়ে বসে আছি।”
সবিতা বেগমের বিশ্বাস হলো না তবুও সে মেয়ের কথা শুনলো।হাতে চিরুনি নিয়ে বললো-
“বস খাটের উপরে।মাথা আছরিয়ে দেই।একটু সাজবি তো?আমি মাথা ঠিক করে দিয়ে যাই তুই রেডি হয়ে আয়।নিচে সবাই জিজ্ঞাসা করছে তোরা কোথায়!একজন তো চলেই গিয়েছে বরপক্ষ হয়ে আরেকজন ঘরে ঝামটি মেরে বসে আছে!”

আনায়া কিছু বললো না।চুপচাপ মায়ের বিরবির শুনতে লাগলো।কিছুক্ষণ পর সবিতা বেগম চলে গেলো।সেও রেডি হলো।দুঃখগুলোকে আড়াল করে স্টেজে গেলো।রুদ্ভিকা-আনায়া দু’জনের অবাক হলো।তারা ভেবেছিলো সে আসবেই না।মেহের এতোক্ষণে এই প্রথম একটু মুচকি হাসলো আনায়াকে দেখে।মেয়েটা তাকে এড়িয়ে চলে এতে তার বড্ড দুঃখ হয় কিন্তু সে আনায়ার প্রতি অভিযোগ রাখেনা।আনায়ার জায়গায় সে হলেও একই কাজ করতো।আনায়াকে আসতে দেখে রুদ্ভিকা দ্রুত তার কাছে যায়।টেনে এনে মেহেরের পাশে বসায়!

আনায়া একবার মেহেরের দিকে তাকায়।মেহেরও তাকায়।আনায়া ঠোঁট উলটে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে।তার প্রাণপ্রিয় বোন,তার শৈশবের সই তাকে ছেড়ে চলে যাবে।কার কাছে যাবে?তার ভালোবাসার কাছে।কীজন্য যাবে?তার স্ত্রী হয়ে।কোন দুঃখ আনায়া সইবে।মেহেরের চোখেও পানি টলমল করছে।সে শক্ত করে আনায়ার হাত ধরলো।আনায়া কোনরকম হলুদ ছুইয়ে উঠে গেলো।কান্নারা দলা পেকে গলায় বিধে আছে।কিন্তু এখন আর পানি ফেলা যাবে না।তাই ছাদের এক কোণায় চুপচাপ বসে রইলো।

রাত ৩:২০।আদিল বাড়ির ভিতিরে ডুকলো।বিয়ে বাড়িতে রাত-দিন সর্বক্ষণই মানুষ সজাগ থাকে।তফাত হলো দিনে সবাই জেগে থাকে আর রাতে কিছু মানুষ।বাড়ির উঠোনে রান্না হচ্ছে কালকের জন্য তাই গেইটও খোলা কারণ আলতাফ আর ইরফান সাহেব নিচে।এতো রাতে আদিলকে আসতে দেখে তারা জিজ্ঞাসা করলেন কি হয়েছে!আদিল উত্তর দিলো এমনিই সব ঠিক আছে কিনা দেখতে এসেছে।আলতাফ বললেন আজ এখানে থেকে যেতে কাল সকালে না হয় আবার চলে যেতে।আদিলও মানলো কারণ সে এখন বড্ড ক্লান্ত।মায়ের কাছে গেলো সে।মা-কে তার এখন বড্ড দরকার।গিয়ে দেখলো সবিতা বেগম ঘুমাচ্ছে।তাই তাকে ডিস্টার্ব না করে গেলো আনায়ার কাছে চার্জার নিতে।মোবাইল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।বাড়িতে একজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলো আনায়া মেহেরের রুমে।সে গেলো।তবে নক করার আগে মনে হলো যদি মেহের জেগে থাকে।পরক্ষণেই ভাবলো সারাদিনের ক্লান্তিতে এই মেয়ে জেগে থাকবে নাকি।ঘুমাচ্ছে হয়তো।বিয়ে তার কাল।তাই সে আস্তে করে নক করলো।একজন দরজা খুললো।আদিল থমকে গেলো।তার বিনাশিনীকে আজ বিষাদিনী লাগছে।সে কতোক্ষণ তাকিয়ে রইলো নিঃশ্চুপ।মেহের মাথা নিচু করেই জবাব দিলো-

“কিছু লাগবে?”
আদিল এবার ভাবনা থেকে বেরিয়ে বললো-
“আনায়ার থেকে চার্জার নিতে এসেছিলাম!”
“ঘুমিয়েছে সে!নিয়ে যান আমার টা!”
মেহের চার্জারটা এনে আদিলের হাতে দিলো।আদিল কেন জানি হুট করেই জিজ্ঞাসা করলো-
“ঠিক আছিস মেহের?”
মেহেরের এবার রাগ হলো বড্ড আদিলের প্রতি।অসময়ে জিজ্ঞাসা করলো সে প্রশ্নটা।কান্নারা ভিড় করছে চোখের কোণায়।সে আস্তে করে উত্তর দিলো-

“হ্যাঁ ঠিক আছি!”
বলেই দরজা চাপিয়ে বারান্দায় চলে গেলো।ফুপিয়ে কাদলো অনেকক্ষণ।পেছন থেকে একটা পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে আসলো।শুনা গেলো-
“হয়েছে কান্না?”
মেহের দেখলো না পিছু ফিরে।জানে আদিল দাড়িয়ে।তার ধ্বংসকারী।মেহের এবার কণ্ঠে বিষাদ রেখে বলে উঠলো-
“সারাজীবন কান্নার কারণ দিয়ে এখনই বলছেন হয়েছে নাকি?থেকে যেতেন আদিল ভাই কি এমন হতো?কেন রইলেন না কেন?”
আদিল প্রশ্নকে উপেক্ষা করে বললো-

“বাহিরে ঠান্ডা।ভিতরে গিয়ে শুয়ে পড়।একটু পড়েই সকাল হয়ে যাবে আর তোকে উঠতে হবে।”
মেহের এবার পিছন ফিরে আদিলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।আদিল হতভম্ব হলো।সে দ্রুত মেহেরকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো।বারান্দায় দাঁড়িয়ে তারা।কেউ দেখলে শেষ।তবে মেহের যেনো চুম্বকের মতো লেগে রইলো।মেহেরের ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদা আদিলকে আরো ভেঙে দিচ্ছে।এবার সে না পেরে মেহেরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
মেহেরও সেভাবেই আদিলের বুকে পড়ে রইলো।প্রশস্ত এই বুকে মেহের আজীবন থাকতে চেয়েছিলো,আদিলও এই দেহখানা নিজের বুকে রাখতে চেয়েছিলো কিন্তু তারা চাইলেও নিয়তি চাইনি।আদিল এবার মেহেরকে জড়িয়ে ধরে বললো-

“গিয়ে শুয়ে পড় মেহু।আমি ভুল,তুই শুধু শুধুই আমাকে ফুল ভেবে যাচ্ছিস।আমার কাটায় নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করছিস।এখন ঘুমা,কাল তোর বিয়ে!”
মেহের এবার কান্নারত গলায়ই বললো-
“আটকিয়ে দিন আদিল ভাই এই বিয়ে।পারবোনা আপনাকে ছাড়া থাকতে।অন্য কারো হয়ে কীভাবে বাচবো আমি?”
আদিল-

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ৭+৮

“বাচতে হবে মেহু!বাচতে হবে।”
মেহেরের এবার বুকে ব্যাথা বাড়লো।সে এক ঝটকায় আদিলকে সরিয়ে বললো-
“আমার এই প্রতি ফোটা চোখের পানির হিসেব আপনাকে দিতে হবে আদিল ভাই!”
আদিল কিছু না বলে হনহন করে চলে গেলো।তারও বড্ড খারাপ লাগছে।সে ছাদে গিয়ে বসে রইলো।মেহের এবার হালকা শব্দ করেই কাদছিলো।তাদের এই চূর্ণবিচূর্ণ হৃদয়,হাহাকার এইসব ঘরে থাকা আরেকটা মেয়েও শুনলো!নিঃশব্দে সে এই ব্যাথার সাক্ষী রইলো!

দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ১১+১২