Home ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৪+৫+৬

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৪+৫+৬

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৪+৫+৬
তানিশা ভট্টাচার্য্য

রাতে সবাই খাওয়ার টেবিলে বসেছিল, আর্ভিক আর তানভীর মা সবাই কে খাবার পরিবেশন করছিল। রুদ্র বাবু আর অভিক সাহেব নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন, তোজো আপন মনে খাচ্ছিল, ঋষির একটা দরকারি কাজ থাকায় সে তাড়াতাড়ি খেয়ে চলে গেল। আর্ভিক এতক্ষণ ওপরে ছিল সে নেমে এসে তানভীর সামনের চেয়ারটা টেনে বসল। তানভীর মা তার প্লেটে খাবার দিলেন। কিছুক্ষন পর আর্ভিকের মা তানভীকে বলেন-

-“গুল্লু, খাওয়ার পর একবার আমার রূমে আসিস তো”
-“আচ্ছা বড়মা”
রাত ১০টার দিকে তানভী তার বড়মার রুমে গেলে তার হাতে একটা বড় ব্যাগ ধরিয়ে দিলেন তিনি।
-” এতে কী আছে বড়মা?”
-” তুই নিজেই খুলে দেখ। তোর ভাইয়া এনেছে তোর জন্য”।
-“কে, ঋষি ভাইয়া?”
-“না, আর্ভিক ভাইয়া। রুমে গিয়ে দেখ যা।”
-“আচ্ছা”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

রুমে এসে ব্যাগটা খুলতেই তানভী অবাক হয়ে যায়, সেখানে তানভীর অব পছন্দের জিনিস গুলো রাখাছিল ৫টা সুন্দর সুন্দর ড্রেস, ডজন খানেক ক্লিপ, এক বাক্স Kitkat আরও নানান রকমের খাবারের জিনিস, এবং কুড়িটা বাংলাদেশী উপন্যাসের বই, আর সবশেষে ছিল একটা র‍্যাপিং পেপারে মোড়ানো বাক্স, সেটাতে Apple brand- এর একটা iPad pro আর একটা headphone ছিল।
তানভী একসাথে এত gift পেয়ে অনেক খুশি হল, তারপর ভাবল, যে তাকে সহ্যই করতে পারে না সেই মানুষটা তার জন্য এত কিছু এনেছে, সে বেশ অবাক হল। তারপর বলল-

-” যাই হোক এনেছে যখন ওনাকে Thank you বলাটা উচিত।”
তারপর তানভী নিজের রুম থেকে বের হয়ে আর্ভিকের রুমের দিকে গেল, আর্ভিকের রুমের দরজা অর্ধেক খোলা ছিল তানভী অনেকবার ডাকার পরও কোনো উত্তর না পেল না। রুমের সব লাইট বন্ধ ছিল, তানভী ভাবল আর্ভিক হয়তো ঘুমোচ্ছে। সে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই যাবে তখন একটা গুন গুন করে গানের শব্দ পেল , আওয়াজটা আর্ভিকের রুমের বেলকানি থেকে আসছিল। তানভী যাবে কি যাবে না ভাবতে ভাবতে রুমে প্রবেশ করল।
আর্ভিক বেলকানির রেলিং এ হেলান দিয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর সাথে গান করছে –
“তুমি গল্প ছিলে আমার উপন্যাসে
তুমি কবিতার মত, এই দিনের শেষে!!”
তানভী এবার আস্তে করে ডাকে
-” আর্ভিক ভাইয়া ”

তানভীর ডাকে আর্ভিক পিছনে ফিরে তাকায়। তারপর অনেকটা সময় নিয়ে স্বভাব সুলভ গম্ভীর কন্ঠে বলল
-“এত রাতে এখানে, কিছু বলবি ?”
তানভী ভয় মিশ্রিত কন্ঠে বলল
-” Thank You Arvik Vaiya. ”
আর্ভিক ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল
-“কিসের জন্য?”
-“ওই gift গুলোর জন্য”
-“ওহ্”

তানভী এবার যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই যাবে তখন আর্ভিক ওর হাতটা পিছন থেকে চেপে ধরে। হঠাৎ এমন কান্ডে তানভী কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। আর্ভিক আস্তে আস্তে গম্ভীর কন্ঠে বলল
-“আমার রুমে এসেছিস নিজের ইচ্ছায়, কিন্তু যাবি আমার ইচ্ছায়।”
আর্ভিকের এমন কথা শুনে তানভী ভয়ে থরথর করে কাঁপতে শুরু করলো। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল
-“ভাইয়া প্লিজ ছাড়ুন, আমি রুমে যাব। আর কখনও বিনা অনুমতিতে আসব না।”

তানভীর অবস্থা দেখে আর্ভিক একটা Devil Smile দেয়, তারপর তানভীর কানের কাছে মুখ নিয়ে যায় তানভী ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয় আর্ভিক ফিসফিস করে তানভীর কানে বলে
-“ভবিষ্যতে ভাইয়া ডাকলে এক থাপ্পরে সব দাঁত ফেলে দেব। Mind it. এখন যা”
এটা বলা মাত্র আর্ভিক তানভীর হাত ছেড়ে দিল তানভী পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিল। যাওয়ার অনুমতি পেয়ে এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় সে।
আর্ভিক তানভীর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে আর মুচকি হাসে।

ঘড়ির কাঁটায় তখন ভোর ৫ বেজে ১০ মিনিট, আর্ভিক স্নান করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে খুব ব্যস্ততার সাথে রেডি হচ্ছে।
আজ তার পরনে ছিল একটা ল্যাভেন্ডার রঙের কুর্তা কুর্তার হাতা গোটানো, হোয়াইট জিন্স,বাম হাতে লেদারের এনালগ ঘড়ি। Perfume এর colection থেকে একটা Perfume বের করে মেখে নিল। এলোমেলো চুল গুলো সুন্দর করে আঁচড়ে নিল।
তারপর আস্তে আস্তে কোনো রকম আওয়াজ ছাড়াই নীচে নামল। বাড়ির সবাই তখনও ঘুমিয়ে ছিল। সে বাইক নিয়ে বেরিয়ে যেতে নিলে তাদের দারোয়ান রমেশ কাকা জিজ্ঞাসা করল-

-“সিনু বাবা কই যাও এত সকালে ?”
রমেশ কাকা আর্ভিকদের বাড়িতে বিগত ৩০ বছর ধরে কর্মরত আছেন। দুনিয়াতে ওনার নিজের বলতে কেউ নেই। ঋষি আর আর্ভিকে তিনি অনেক স্নেহে নিজের ছেলের মত করে মানুষ করেছেন। আর্ভিক ঋষি ও ওনাকে খুব ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন।

-“একটু কাজ আছে কাকা”
-“আচ্ছা, সাবধান যেও বাবা”
-“হুমম”
রমেশ কাকার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেল আর্ভিক।

সকাল ৯ টা নাগাদ তানভী ঋষি আর তোজো বসে আছে সোফায়। রাখী রায়চৌধুরী আর দোয়েল ব্যানার্জী রান্না ঘরে কাজ করছিলেন, কিছু একটা কারণে আজ সকাল থেকে দোয়েল ব্যানার্জী মন খারাপ। রাখী রায়চৌধুরী দোয়েল ব্যানার্জীর এমন অবস্থা দেখে বললেন –
-“কী হয়েছে রে,তোর আজকের দিনে মন খারাপ কেন?”
-“কিছু না দিদি”
এটা বলে তিনি পুনরায় কাজে মন দেন। আর্ভিকের মা আবার জিজ্ঞেস করে

-“হ্যাঁ রে, আজকের দিনে নীলয় আসবে না?”
দোয়েল ব্যানার্জী এবার আর্ভিকের মায়ের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল কিন্তু কিছু বলল না। শুধু একফোঁটা জল ওনার চোখে বেয়ে নেমে এল। আর্ভিকের মা বলল
-“নীলয়ের নম্বর আজে?”
-“না”
-“তোর বাবার?”
-“হুমম”
-“ফোন কর”
-“না দিদি,থাক”
-“নম্বরটা দে আমি ফোন করছি”
দোয়েল ব্যানার্জী এবার আঁতকে উঠলেন তাঁর বুকের ভিতরটা যেন হুহু করে উঠলো। তিনি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললেন –

-“না দিদি, এত গুলো বছরে হয়ত ওনারা আমাকে ভুলে গেছেন। আসলে দোষটা তো আমারই ছিল।”
এই বলে তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আর্ভিকের মা আর কিছু বললেন না। যে যার কাজে ব্যস্ত হয়েগেলেন।
সেই সময় রুদ্র বাবু আর অভিক সাহেব নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামছিলেন। তানভীদের বসে থাকতে দেখে অভিক সাহেব বললেন
-“গুল্লু, ভাইয়াদের সবাই কে রাখী পড়ানো হয়েগেছে?”
-“না আঙ্কেল, আর্ভিক ভাইয়া যে এখনো আসেনি!”
-“কী! সিনু আজকের দিনে এত বেলা পর্যন্ত পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে ”
এই বলে তিনি আর্ভিককে দুই থেকে তিন বার জোরে জোরে ডাকেন। কোনো উত্তর না পেয়ে সোফায় বসতে বসতে তোজো কে বলেন

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ২+৩

-“তোজো বাবা, যাও ভাইয়া কে ডেকে আনো।”
-“আচ্ছা”
এই বলে তোজো আর্ভিককে ডাকতে গেল। আর্ভিকের রুমের দরজা খোলা ছিল তোজো দুইবার ডাকল তারপর কোনো উত্তর না পেয়ে সে রুমের ভিতরে ঢুকে গেল। কিন্তু রুমের কোথাও আর্ভিক কে খুঁজে পেল না। প্রথমে ভেবেছিল হয়তো Washroom এ আছে, কিন্তু Washroom এর দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা। তাই সে দৌড়ে নীচে নেমে আসে আর সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলে
-“ভাইয়া তো রুমে নেই”

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৭+৮+৯