দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ১৯+২০
আনায়া আফরিন
~আফরিনের চোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে।আরশ কিছু বললো না।চুপচাপ চলে যেতে নিলো।আফরিন ঠান্ডা স্বরে বলে উঠলো-
“পানি লাগবে।একটু পানির ব্যবস্থা করবেন?”
আরশ পিছু না ফিরেই সাথের লোকটিকে বললো-
“পানি দাও ওকে।”
“কিন্তু স্যার পানি তো নেই এখানে।”
“আমার কাছে আছে।সেখান থেকে এনে দাও।”
এটা বলে সে চলে গেলো।লোকটিও দাত কিড়মিড়িয়ে চলে গেলো পানি আনতে।আফরিনের হৃদয়ের ঝড়টা কেউ আর টের পেলো না।রুদ্ভিকা আফরিনকে উঠিয়ে পাশে বসালো।আনায়া ছাড়া পেয়ে অধরার কাছে গিয়ে বসলো।বাচ্চাটা কাদছে এখনো।লোকটি পানি আনতেই আফরিন গ্লাসটি নিয়ে বাচ্চাটির কাছে গেলো।অতি যত্ন্র বাচ্চাটিকে পানি খাইয়ে দিলো।বাচ্চাটি পানি পেয়ে কান্না থামালো।অধরার মেয়ের এই অবস্থা দেখে বুক ফে*টে যাচ্ছে।আনায়া মাথা নিচু করে বসে ভাবতে থাকলো কি করা যায়।আফরিন বলে উঠলো-
“আমরা জীবনে যা পছন্দ করি তা পা*প,অবৈধ অথিবা অত্যন্ত দামী হয় কেন?আমাদের হৃদয়ের ভিতরেই বা তারা রয় কেন?”
আনায়া কি বলবে বুঝলো না।রুদ্ভিকা আফরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো।অধরা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বসে রইলো।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
তিন দিন পেরিয়ে আজ চতুর্থ দিন অথচ মেয়েগুলোর এখনো কোন খোজ নেই।আদিল,ফারাজ,এরিদ,এরিক সকলেই খুজেছে অস্থির হয়ে।অথচ তারা কোথাও নেই।অতঃপর থানায় এসেছে তারা।এবার খোজা হলো পুলিশ নিয়ে।খোজ চললো তিনদিন একটানা।এই তিনদিনে মেহেরের শরীর ভেঙে গিয়েছে অনেকটা।বোনদের চিন্তায় ক্লান্ত প্রায় সে।চোখের জলও তার ফুরিয়ে গিয়েছে কাদতে কাদতে।অন্যদিকে সবিতা বেগম আর মিতালি বেগম উন্মাদ হয়ে গিয়েছে মেয়েদের হারিয়ে।
তাদের স্বামীরা কোনমতে সামলাচ্ছে তাদের।মন তগেকে সকলেই ভেঙে গিয়েছে।আদিল বাড়ি ফিরেছে কিছুক্ষণ হলো।সঙ্গে ফারাজও আছে।আদিল এসেই আনায়ার রুমে ডুকলো।বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়লো।ফারাজও আসলো।রুমের কোনায় থাকা সোফাটায় বসলো নিরবে।
আদিল তাকিয়ে রইলো উপরে।কাতর স্বরে বলে উঠলো-
“আমার এ্যানা কোথায় তুই?কতোদিন হয়ে গেলো বোন আমার?আমার এ্যানা রে?নিজের ভিতিরে যেভাবেই হোক জান টা রাখিস বোন।ভাই আসবে খুব শীঘ্রই।রুদুর জানটাও রাখিস বোন আমার।ভাই আসবে তোদের নিতে।”
ফারাজও চুপচাপ বসে রইলো।চোখ নিবদ্ধ তার টেবিলে।আনায়ার ছবিখানার দিকে তাকিয়ে রইলো।সকলেই তার প্রিয়জনদের খুজছে।তারা ব্যথিত হচ্ছে,তাদের ব্যথিত হওয়ার কারণ তাদের বোনরা অথচ এখানে তার বোন নেই।তবে বোনের মতো দুজন নারী আছে।রুদ্ভিকা আর আফরিন।তবে আনায়া?চিন্তাটা সেই বোনদের জন্য হলেও বুকে যেই ব্যাথাটা হচ্ছে সেটা আনায়ার জন্য হচ্ছে।ছেলেটা চাপা দুঃখ নিয়ে ঘুরছে।নিজের অতিপ্রিয়
নারীকে হারানোর ভয় যে তাকেও কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।কাকে বলবে সে এটা।কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই আনায়ার হাস্যোজ্জ্বল পিকটা হাতে তুললো সে টেবিলে সামনে গিয়ে।আদিল তাকালো।ফারাজ বললো-
“তাকে খুজতে তার ছবির প্রয়োজন।এটা লাগবে।একবার খুজে পেলেই আবার এখানে রেখে দিবো”
আদিল তাকিয়ে রইলো ফারাজের দিকে।কিছু বললো না।ফারাজ ছবিখানা নিয়ে চলে গেলো।আদিল এবার আফসোসের সুরে বলে উঠলো-
“রাজকে দুঃখ দিয়ো না খোদা।ভাঙা কাচকে জোড়া লাগাতে গিয়ে যেনো তার হাত ক্ষ*ত বি*ক্ষ*ত না হয় আল্লাহ।”
এরিদ এখনো পুলিশ স্টেশনে।এরিক ফিরে এসেছে।রাত ১১ টা।মেহের বসে আছে প্রতিদিনের মতো।এরিক আসতেই সে দৌড়ে যায় এরিকের কাছে।হোচট খেতে নিলেই এরিক সামলে নেয়।এরিক জানে মেহেরের প্রশ্নটা কি।তাও এরিক শুনে।মেহের উদাস গলায় জিজ্ঞাসা করে-
“পেয়েছেন আফরিন কে?আনায়া-রুদ্ভিকা কোথায়?আজ ফিরেছে আমার বোনরা?কোথায় মেয়ে গুলো? ”
এরিক এবার আলতো হাতে মেহেরের গাল দুটো ধরে বলে-
“আসবে ওরা।আমরা পেয়ে যাবো ওদের।তুমি চিন্তা করো না।পাবো আমরা”
মেহের-“কিন্তু আপনার চোখ তো অন্য কিছু বলছে।আমি এই চোখে আশা দেখতে পারছি না কেন রিক?”
এই প্রথম মেহেরের মুখে নিজের নামের এই সংক্ষিপ্ত রুপ শুনে এরিকের শিহরণ ঘটলো।তবে বোনকে না পাওয়ার দুঃখতে এটা চাপা পড়লো।এরিক মেহেরকে শক্ত করে ঝড়িয়ে ধরলো।মেহেরও এরিকের বুকে মাথা গুজে ফুপিয়ে কাদতে লাগলো।এরিক হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো।
গত তিনদিনের চারটি মেয়েই পুরো শুকিয়ে গিয়েছে।প্রত্যেকের চোখের নিচে কালি পড়েছে।অধরার পা আর হাতের অবস্থা খুবই খারাপ।অনেকাংশেই ছি*লে গিয়েছে।বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে সে লড়াই করছে পাষাণ ব্যক্তিদের সাথে।নারীলো*ভী পুরুষ গুলো এই কয়েকদিন অজস্র বার হা*ম*লে পড়েছে তাদের উপর।সকলে নিজের রক্ষা করেছে তবে এর জন্য বারবার তাদের ক্ষ*ত*বি*ক্ষ*ত হতে হচ্ছে।অধরাকে নিজের পাশাপাশি মেয়েকেও সামলাতে হচ্ছে।অধরা কখনো মেয়েকে এসবের আশেপাশেও ভিড়তে দেয়নি অথচ ছোট্ট বাচ্চাটা আজ কতো কিছু সাফার করছে।আনায়া রীতিমতো ক্লান্ত জীবন নিয়ে।তার নিজের থেকে বেশি চিন্তা হচ্ছে বাকিদের নিয়ে।রুদ্ভিকা স্তব্ধ।তার বেশি খারাপ লাগছে আফরিনের জন্য।মেয়েটা একটা কিথাও বলেনি সেদিনের পর থেকে।
কেবল ঘুমোয় আর না হয় চেয়ে থাকে এক নাগারে কোন শব্দ ছাড়া।তাদেরকে খাবার দেওয়া হয় একবেলা করে।আনায়া আর আধরা একটু খেয়ে বাকিটুকু রেখে দেয় বাচ্চা মেয়েটার জন্য।বাচ্চাটাও শুকিয়ে গিয়েছে।তবে মুখে কী অদ্ভুত এক মায়া।যে কেউই বাচ্চাটির দিকে তাকালে মায়ায় পড়ে যাবে।এদিকে থাকা প্রত্যেকটা নারীও এই বাচ্চাটির মায়ায় পড়ে গিয়েছে।অধরা যখন হাত আর পা ব্যাথায় নড়তে পারে না তখন আনায়া দেখে অধরাকে।আর বাচ্চাটি তখন রুদ্ভিকার সাথে থাকে।
কে*টে গেলো আর একদিন।সন্ধ্যা তখন ৪:২০।আফরিন ঝিমুচ্ছে।আনায়া বাচ্চাটিকে নিয়ে এক কোণায় শুয়ে আছে।রুদ্ভিকা বসে আছে অধরার পাশে।অধরার পা-য়ে র*ক্ত জমে গিয়েছে।মেয়েটা ব্যাথায় গুঙাচ্ছে!আফদিন ওয়াশরুমে গিয়েছে।এই অন্ধকার জায়গাটি আসলে স্টোর রুম।উপরে দু’তলায় ওয়াশরুম।আফরিন সিড়ি দিয়ে নামার সময় একটি লোক হুট করে সামনে আসলো।আফরিন ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলো।লোকটি আঙুলের ইশারার আফরিনকে ওয়াশরুমে নিয়ে আসা লোকটিকে চলে যেতে বললো।লোকটি চলে গেলো।এবার আফরিন চিনলো তার সামনে আসা লোকটিকে।ঘৃ*নায় মুখ ফিরিয়ে নিলো।সামনের ছেলেটি হাসলো এটা দেখে।জিজ্ঞাসা করলো-
“কেমন লাগছে?”
আফরিন থমথমে মুখে বললো-
“প্রতারকদের মুখের সামনে থাকলে ঠিক যতোটা ঘৃ/ণা লাগে ততোটাই ঘৃ/ণা লাগছে আপাতত।”
আরশ বললো-
“বিশ্বাস ভাঙলাম যে,ক্ষমা তো করবে না জানি।প্রতিশোধ নিবে না?”
আফরিন গম্ভীর স্বরে বললো-
“নাহ্।আমি প্রতিশোধ নেইনা।আমি আল্লাহর কাছে বিচার দেই।আজও দিলাম”
আরশ হাসতে হাসতে বললো-
“কি বললে একটু শুনি?”
আফরিন-“বললাম আপনার মতো প্রতা/রকরাও প্রেমে পড়ুক।আপনাদের পাষাণ মনটাও ভেঙে টুকরো টুকরো হোক।ভালোবাসাই আপনাদের ধ্বং*স করুক!”
আরশ-“অসম্ভব।এই পৃথিবীতে ভালোবাসা আমাদের জন্য নয়।তোমাকে একটা সত্যি কথা বলি?”
আফরিন চুপ রইলো।আর সত্যি সে জানতে চায়না।আর কিছু সইতে পারার শক্তি আপাতত তার নেই।
আরশ বলে উঠলো-
“তোমার বাবা-মায়ের মৃ*ত্যুর পিছনে কিন্তু একটু তুমিও দায়ী।তুমিই তো ফোনে বায়না ধরেছিলে জলদি ফিরতে হবে।তারাও তাড়াহুড়ো করতে লাগলো।তারপর….”
আরশ হাসতে হাসতে চলে গেলো।আফরিন স্তব্ধ।আর কতো ভাঙবে।আর কি সত্যি আছে?সে বিশ্বাস করতে পারলো না এটা।একটা লোক এসে তাকে নিয়ে গেলো সেই অভিশ*প্ত রুমটায়।তার এখন আর কিছু ভালো লাগেনা।বড্ড অস/হ্য লাগে সব।
(রাত ১১:২০)
আফরিন আর রুদ্ভিকা অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে।অধরার চোখে ঘুম থাকা সত্ত্বেও মেয়েটা ব্যাথায় ঘুমাতে পারছে না।আনায়া বাচ্চাটিকে কোলে নিয়েই ঘুমাচ্ছে।বাচ্চাটিও ঘুম।এসময় হনহন করে অনেক গুলো লোক জড়ো হয়ে গেলো রুমটিতে।সকলের হাতে ব*ন্ধু*ক।মেয়েগুলোর চোখের ঘুম ছুটে গেলো।সকলে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো।বাচ্চাটাকে আনায়া নিজের মাঝে যত্ন করে রাখলো।অধরা আনায়ার সামনে বসলো।লোকগুলোর চেচামেচি করছিলো।তখন আরশ এসে কারণ জানতে চাইলো।লোকগুলো জানালো বাহিরে পুলিশ এসেছে।তাদের ঠিকানা জেনে গিয়েছে।আরশ হকচকিয়ে গেলো।অবাক হলো বড্ড।সে দ্রুত মাস্ক পড়ে নিজের চেহারা ডেকে নিলো।ততোক্ষণে বাহির থেকে পুলিশ ফোর্স ভিতরে চলে এসেছে।পুরো বিল্ডিং তারা ঘিরে ফেলেছে।পালানোর পথ নেই কারো।এসময় ভিতিরে ঢুকলো আদিল আর এরিক।দৌড়ে আসলো ফারাজ আর এরিদ।এসেই দেখতে পেলো আটক হওয়া চার নারী আর একটি বাচ্চাকে সকলের মাথায় ব*ন্ধু*ক ঠেকানো।কেবল আফরিনকে একজন মুখোশধারী ল্পক গলায় ছু*রি ধরে রেখেছে।এরিদ-এরিদ যেনো এটা দেখে দিশেহারা হয়ে উঠলো।লোকগুলো বললো তাদের চলে যেতে দিতে।এরিক বলে উঠলো-
“পালানোর আর পথ নেই।নিজেদের সপে দিয়ে এদের ছেড়ে দে।অনেক হয়েছে এই খেলা!”
এতোদিন পর বোনদের দেখে আদিল,এরিক,এরিদের কী যে শান্তি লাগলো।তবে পুলিশ ফোর্স ভিতরে ডোকার পর এই শান্তি আর অবশিষ্ট রইলো না।হট্টগোল লেগে গেলো।পুলিশ সকলকে ধীরে ধীরে ধরে নিলো।এই সবকিছুর মাঝে নিশ্চুপ একমাত্র আফরিন।তার তো বিশ্বাসই হিচ্ছে না যাকে কি না সে এই বুকে পুষলো সেই আজ তার গলায় ছু*রি ধরে রেখেছে।ডেবে গিয়েছে কিছুটা।র*ক্তও বের হচ্ছে তবে আফরিনের গলার থেকে বুকটা বেশি জ্বলছে।সে নিশ্চুপ।কেউ মাস্কের আড়ালে থাকা মুখটা না চিনলেও আফরিনের জন্য কেবল চোখ দুটোই যথেষ্ট আরশকে চেনার জন্য।
আফরিনের গলা দিয়ে র*ক্ত পড়ছে অথচ জ্বলছে বুকটা।পুলিশ একসময় সকলেই ধরে ফেললো।এ সময় আফরিনের চিল্লানো আর গু*লির আওয়াজে চারপাশ স্তব্ধ হয়ে গেলো।ফারাজের চোখ দিয়ে এবার নোনা জল গড়িয়ে পড়লো।আদিল স্তব্ধ হয়ে গেলো।রুদ্ভিকা আর অধরা বসে পড়লো।আনায়া আর আফরিন দুজনই লুটিয়ে পড়ছে মাটিতে।আরশ তার সহচারীকে নিয়ে গায়েব।আফরিনের গলা বেয়ে র*ক্ত পড়ছে।আনায়ার পেটের ডানপাশ দিয়ে র*ক্তের স্রোত বইছে।ফারাজ দৌড়ে গিয়ে আনায়াকে ধরলো।আনায়ার চোখ প্রায় বুঝে এলো।ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো-
“ভাইয়া অ-অধুকে নিয়ে হাসপাতালে যাও।ও-ওর শরীর খু-খুব খা-রাপ।”
আনায়া চোখ বুজে ফেললো।আফরিনকে এরিক জড়িয়ে ধরে মাটিতে বসে পড়লো।রুদ্ভিকা মাটিতে বসে পড়লো দুই জনের সামনে।অধরা হাতরে তাদের কাছে গেলো।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।আনায়ার সামনে বসলো।বাচ্চাটাও ফুপিয়ে কাদছে।
~হসপিটালের বাহিরে পাইচারি করছে তিনজন বিধ্বস্ত পুরুষ।দুইজন নারীও বসে আছে স্তব্ধ হয়ে।ডাক্তার বেরিয়ে এলেই আদিল-এরিদ দ্রুত তার কাছে গেলো।এরিদ কাপা কাপা কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলো-
“আফরিনের কী অবস্থা ডাক্তার?”
ডাক্তার-“গ*লা খানিকটা কে*টে গিয়েছে।বেশি ভিতর পর্যন্ত যায়নি।ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।একটু সময় লাগবে।ঠিক হয়ে যাবে!”
এবার আদিল জিজ্ঞাসা করলো-
“আর-আর আমার বোন,আমার আনায়ার অবস্থা? ”
ডাক্তার হতাশার সুরে বললেন-
“তার কথা বলা যাচ্ছে না।অবস্থা খারাপ।তবে আমরা চেষ্টা করছি।আ/ঘা/ত খুব বেশি।এছাড়াও প্রচুর র*ক্ত*ক্ষরণ হয়েছে।তাই অবস্থা আরো বেশি খারাপ”
আদিল আর কিছু শুনতে পারলো না।ধপ করে বসে পড়লো সে পাশের চেয়ারে।এরিদ দ্রুত আদিলকে সামলালো।ফারাজ স্তব্ধ হয়ে গেলো।তার ইচ্ছে করছে নিজের হৃদয়টা বের করে আনায়াকে দিয়ে দিতে।তার সকল সুস্থতা আনায়ার নামে করে দিতে।তার ভিতরে যে যন্ত্রণা হচ্ছে বলে বোঝানোর মতো না।অন্যদিকে রুদ্ভিকা বসে আছে বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে।ইতোমধ্যে জানতে পারলো মেয়েটার নাম মুনতাহা।রুদ্ভিকার পাশে গুটিসুটি মেরে বসে আছে মেয়েটা।অনেকক্ষণ ধরে তার একমাত্র আশ্রয়স্থল অধরাকে দেখতে না পেয়ে এবার কেদে দিলো।অধরার পা গুরুতর ভাবে জ*খ*ম হয়েছে।এছাড়াও সে খুবই দুর্বল।আপাতত চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।রুদ্ভিকা কোলে তুললো তাকে আলতো করে।কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বাচ্চাটিকে বললো-
“মা কো-থায়?মা-র কাছে যাবো।”
রুদ্ভিকা এবার ঠোঁটে হাসি রেখে বলার চেষ্টা করলো-
“মা আছে বাবু।মা এখানেই।ক্লান্ত তো তাই ঘুমাচ্ছে।তোমার কী লাগবে বলো আমাকে?”
বাচ্চাটি এবার কাদো কাদো গলায় বলে উঠলো-
“আমার খিদা পেয়েছে।মা চাই আমার।”
সকলে এবার তার দিকে তাকালো।রুদ্ভিকার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো।তার বোন এবং বোনের মতো মেয়েগুলোর অবস্থা ভেবে তার চোখ দিয়ে পানি পড়লো।বাচ্চাটির মুখের দিকে তাকিয়ে তার মায়া হলো।মনে পড়লো এখন সময়টা দুপুর বেলা।বাচ্চাটি কাল রাত থেকে না খাওয়া।রুদ্ভিকা কোলে নিয়ে উঠতে গেলো।দুর্বলতা আর পায়ের ব্যাথায় পড়ে যেতে নিলে একজোড়া শক্ত হাত তাকে ধরে বুকের মাঝে গুজে নিলো।এরিদ দ্রুত তাকে বসালো।আদিল এগিয়ে এলো বোনের দিকে।রুদ্ভিকার চোখ দিয়ে গড়ানো জল মুছে দিয়ে বললো-
“এরিদ আর ফারাজকে নিয়ে খেয়ে আয় তুই।বাসায় চলে যা এরিদের সাথে।কাউকে কিছু জানাবি না।বাবা-মা জানলে পা/গ/ল হয়ে যাবে।তুই যা,মেয়েটির খিদে পেয়েছে!”
ফারাজ বলে উঠলো-
“আমি যাবো না।আনায়ার জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত এইখানেই থাকবো আমি!”
আদিল কিছু বললো না।এরিদ রুদ্ভিকার দিকে তাকিয়ে বললো-
“চলো কিছু খেয়ে নাও।তোমার অবস্থা বেশি ভালো না।”
রুদ্ভিকা-“কিন্তু আনায়া আপু?আপুর এই অবস্থায় আমার গলা দিয়ে খাবার নামবে না।সে সুস্থ হোক আগে”
এরিদ-“তাহলে বাচ্চাটির কি হবে?”
রুদ্ভিকা-“ওর জন্য একটু খাবার আনতে হবে।মেয়েটা কিচ্ছু খায়নি কালকে থেকে।”
এরিদ চলে গেলো।এরিক আফরিনের রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে রইলো।বাহির থেকে চেয়ে রইলো তার বোনের পানে।তার বাবার-মার রেখে যাওয়া অত্যন্ত যত্নশীল একটা জিনিসের দিকে।সকলের অগোচরে একফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো তার চোখ দিয়ে।যেই বোনকে সে কখনো একটি সামান্য আঘাত পেতে দেয়নি সেই বোনের এই অবস্থা আজ।তবে কি সে তার বোনের যত্ন ঠিকভাবে করতে পারেনি।ভাই হিসেবে তাহলে সে কি ব্যার্থ?
এরিদ কিছুক্ষণ পর খাবার নিয়ে আসলো।সে রুদ্ভিকা আর মুনতাহা দুইজনের জন্যই এনেছে।রুদ্ভিকা অতি যত্নে মেয়েটিকে খাইয়ে দিলো।তার খাবার সেভাবেই পড়ে রইলো।বোনদের সেভাবে রেখে তার কি আদৌ খাওয়া সম্ভব?এরিদ তাকিয়ে রইলো একনজরে মেয়েটার দিকে।কি আদুরে সেই শ্যামবর্ণ মুখখানা।চুলগুলো পুরোই এলোমেলো।কি মায়াবী!এসব ভাবতেই ভাবতেই ডাক্তার এসে ডাক দিলো।বললো আফরিন আর অধরার জ্ঞান ফিরেছে।তারা চাইলে এখন দেখা করতে পারে তাদের সাথে।আফরিন আর অধরাকে আলাদা কেবিনেই দেওয়া হয়েছে।এরিক-এরিদ এটা শুনে দ্রুত ভিতরে ঢুকে গেলো।ডাক্তার বললো অধরা নামের পেশেন্ট তার মেয়েকে চাচ্ছে।এটা শুনে রুদ্ভিকা মুনতাহাকে নিয়ে যেতে নিলেই সে দাড়াতে পারলো না ঠিকমতো।আদিল এসে কোলে নিলো মুনতাহাকে।মুনতাহা হাত পা ছুটাচ্ছে কখন সে মায়ের কাছে যাবে।এসময় আদিল ঢুকলো মুনতাহাকে কোলে নিয়ে।অধরা টের পেলো।তাকাতেই দেখলো আদিলের কোলে মুনতাহা।আদিল এগিয়ে এলো অধরার দিকে।মুনতাহা যেনো মা-কে পেয়ে লেপ্টে গেলো একবারেই মায়ের সাথে।অধরাও সে কি যত্নে আগলে নিলো বুকে মেয়েটাকে।মেয়ের মাথায় অজস্র চু*মু দিলো।আদুরে গলায় জিজ্ঞাসা করলো-
“ঠিক আছো মা?খেয়েছো কিছু তুমি?”
মুনতাহা মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ালো।অধরার মনে হলো এই যে তার পৃথিবীর সর্ব সুখ এই খানেই সীমাবদ্ধ।এই যে তার মুনতাহার গালে হাসির কারণে পড়া টোল দুটোতে সে নিজে কখনো তাকায় না।যদি নজর লেগে যায় তার সে ভয়ে।আদিল তাকিয়ে পরখ করলো তাদের।মনে পড়লো তার বোনের কথা।তার বোনের চোখে সে দেখেছিলো অধরাকে রক্ষা করার মিনতি।সেটাই বোধহয় পালন করছে সে।বোনের জন্য তার বুক পু*ড়ছে।চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে।তাই দ্রুত বের হতে নিলেই অধরা বলে উঠে-
“ধন্যবাদ”
আদিল পিছু ফিরে জিজ্ঞাসা করলো-
“ঠিক কোন কারণে?”
অধরা বললো-
“আমার ৬৩ কেজি ওজন বহন করে আমাকে হসপিটালে নিয়ে আসার জন্য।আমার মেয়েকে এই পর্যন্ত কোলে করে নিয়ে আসার জন্য।আপনার নিশ্চয়ই হাত ব্যাথা করছে?”
আদিল-“আমি অনায়াসেই ৮০ কেজি বহন করতে পারি।৬৩ কেজি ব্যাপার না!”
অধরা কিছু বললো না।আদিল এবার বোনের জন্য আসা ব্যাথাটুকু লুকালো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে।অতঃপর পিছু ফিরে জিজ্ঞাসা করলো-
“তোমার স্বামীর নাম্বার দেও।তাকে ফোন দিয়ে আসতে বলি।সে হয়তো চিন্তা করছে তোমার আর মুনতাহার জন্য।”
অধরা তাচ্ছিল্যের সুরে বললো-
“স্বামী?বিয়ে কবে করলাম?”
আদিল ভ্রু কুচকে তাকালো।জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকালো।অধরা বোধহয় কারণটা বুঝলো।নিজে নিজেই বলে উঠলো-
“ভাইয়ার মেয়ে।আধার ভাইয়ের।”
আদিল-“ওহ্।আধার ভাইয়া কোথায়?তাকে বলি।সে নিশ্চয়ই চিন্তা করছে তোমাদের।”
অধরা হেসে বললো-
“সে ঘুমোচ্ছে।আমার ভাই নিশ্চিন্তে তার ভালোবাসার মানুষের সাথে ঘুমোচ্ছে।”
আদিল বুঝলো না।এবার অধরা জিজ্ঞাসা করলো-
“আনায়া কোথায়?মেয়েটা ঠিক আছে?রুদু আর আফরিন ওরা কেমন আছে?”
আদিল বললো “রুদু আর আফরিন ঠিক আছে!”
অধরা-“আর অনু?”
আদিল কিছু বলতে পারলো না।গলায় কা/টা অনুভুত হলো।অধরা বুঝলো মেয়েটা ঠিক নেই।চোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়লো।অতঃপর অনুভব করলো ছোট্ট একটা হাত তার চোখের জল মুছে দিচ্ছে।মুনতাহা গুটিসুটি মেরে তাকিয়ে আছে তার দিকে।জিজ্ঞাসা করলো-
“মা কান্না করো কেন তুমি?”
মুনতাহা মেয়ের মাথায় চুমু দিয়ে বললো-
“হারানোর ভয়ে কাদছি মা।তুমি মা-র বুকে গুজে থাকো।আমার বুকে তুমি থাকো।আমি দুঃখগুলো একটু লুকিয়ে রাখি।”
বাচ্চাটি সুন্দর করে আদুরে গলায় বললো-
“আচ্ছা মেয়ে।তুমি কিন্তু আমারে রেখে আর অন্য জায়গায় একা ঘুমাতে যাবে না!”
অধরা তার গালে হাত রেখে বললো-
“আচ্ছা আম্মা।আপনি এখন একটু ঘুমান।আমি এই জীবনে আপনাকে রেখে কোথাও যাবো না।”
মুনতাহা হাসলো মিষ্টি করে।সেই হাসির দিকে অধরা বেশিক্ষণ তাকালো না।তার আবার অতি পছন্দের জিনিস হারিয়ে ফেলার ভাগ্য আছে।এই শেষ সম্বল হারালে সে পুরোপুরি নিঃস্ব।
আদিল সম্পুর্ণ সময় এদের পরখ করলো।যাওয়ার সময় বললো-
“তুমি রেস্ট নাও।পায়ের ব্যাথা বাড়ছে।”
অধরা পিছন থেকে ডাক দিলো-
“আদিল ভাই”
আদিল পিছু ফিরলো।
“বলো”
“আমার জন্য কষ্ট করে আপনার কোন পরিচিত লোক ফ্ল্যাট ভাড়া দিলে একটু কথা বলবেন?”
আদিল অবাক হলো।বললো-
“কিন্তু আঙ্কেল-আন্টি….”
অধরা-“কেউ নেই।আপনি একটু পারলে এই উপকারটা করিয়েন।কেবল দেখে রাখলেই হবে।আমি এই শহরের সব ভুলে গিয়েছি।আপনি আনায়া সুস্থ হলে একটু দেখেন কথা আমিই বলবো নে।”
আদিল-“আচ্ছা”
যেতে যেতে ভাবলো এই অধরার এই অবস্থা,এই পরিনতি কেন আজ?কোথায় তার প্রিয়জন?
আদিলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে অধরা বিড়বিড়িয়ে বললো-
“আমি এই শহরের সব ভুলে গিয়েছি আদিল ভাই।কেবল আপনি আর আপনার সাথে জড়িত মানুষগুলোকে ভুলতে পারিনি আদিল ভাই।”
বোনের আদুরে মুখটার দিকে তাকিয়ে এরিদের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো।এরিদ দ্রুত মুছে নিলো।আফরিন তাকিয়ে আছে তাদের দিকেই।এরিদ এগোলো না।এরিক এগিয়ে গেলো বোনের দিকে।মেয়েটার চোখের নিচে দাগ পড়েছে। শরীর ভেঙে পড়েছে এই কয়েকদিনে।এরিক বোনের সামনে বসলো।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো-
“ঠিক আছিস এলি?”
এই “এলি” ডাকটা এরিদ-এরিক তখনই ডাকে যখন তারা আফরিনকে হারানোর অতিরিক্ত ভয় পায়।আফরিন এটা জানে।আজ বুঝলোও।মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।এরিক বোনের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে নিয়ে বললো-
“জা*ন বেরিয়ে যাচ্ছিলো এলি।ভাইদের ক্ষমা কর।ভাইরা তোর দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারিনি এলি আমার।”
আফরিন ফুপিয়ে কেদে উঠলো।ভাইদের চোখ,মুখের অবস্থা,এলেমেলো চুল,শরীরের কাপড় এসবই বলে দিচ্ছে তাদের উপর কি বয়েছে এতো দিন।আফফিনকে ফুপিয়ে কাদতে দেখেই দুই ভাই উতলা হয়ে গেলো।এরিদ দ্রুত এসে বোনের হাত ধরলো।জিজ্ঞাসা করলো-
“কাদছিস কেন এলি?শরীর খারাপ লাগছে?কোথায় খারাপ লাগছে এলি?”
আফরিন বুকের বা-পাশে আঙুল দিয়ে বললো-
“ভাইয়া এই পাশে ব্যাথা হচ্ছে।গলার থেকে বেশি জ্বলছে এই জায়গাটা।ভাইয়া তোমরা তো জানো বিশ্বাসঘা/ত/ক আমার মোটেও পছন্দ না তবে আমিই কেন…..”
সে আমার কিছু বলতে পারলো না।চোখ দিয়ে তার জল পড়ছে অনবরত।এরিক বুঝলো না আফরিন কার কিথা বলছে।এরিদ জিজ্ঞাসা করলো-
“কে করেছে পাখি বল?কিছু হয়েছে এলি?ভাইরা আছি তো।ভাইরা থাকতে তোর আর কিছু হবে না।এটাই আমাদের প্রথম আর শেষ ভুল তারপর আর কিছু হবে না”
আফরিম এবার কাদতে কাদতেই জিজ্ঞাসা করলো-
“ভ-ভাইয়া বাবা-মার মৃ*ত্যুর পিছনে নাকি আ-আমি দায়ী?”
এরিক এরিদ দুজনই স্তব্ধ হয়ে গেলো।এতো বছর পর তার বোনের মুখে এমন প্রশ্ন শুনে দু’জনই স্তব্ধ।এরিক কিছুক্ষণ পর বললো-
“এতো বড় মিথ্যে কে বলেছে?”
আফরিন-“দুনিয়া থেকে শুনলাম”
এরিক-“এই দুনিয়া নির্ল*জ্জ।তারা সত্যি জানে না।তারা একটু কাহিনি জানে।পুরোটা না।তুই কান দিবি না এলি।তোর দুনিয়াতে কেবল আমাদের রাখবি।”
আফরিন কিছু বললো না।এসময় এরিদের ফোন বেজে উঠলো।মেহের কল দিয়েছে।এরিক অনুভব করলো তার মোবাইল সেই কখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।মেয়েটা নিশ্চয়ই উ*ন্মা*দ হয়ে গিয়েছে এতোক্ষণে।এরিদ ফোন রিসিভ করে এরিকের কাছে দিলো।ওপাশ থেকে ভাঙা গলার আওয়াজ আসলো-
“ওদের পেয়েছো এরিদ?আর কতোক্ষণ ভাই?”
এরিক নরম সুরে বললো-
“মেহের পেয়েছি আপনার বোনদের।সবাই ঠিকা আছে।একজন নতুন নারী দেখলাম।হয়তো আপনি চিনেন।আর আফরিন ঠিকা আছে।রুদ্ভিকাও ঠিক আছে।”
মেহের খুশিতে কেদে দিলো।খোদার কাছে শুকরিয়া আদায় করলো।এরিক আফরিনের কাছে ফোন দিতেই আফরিন বললো-
“ভাবীইইই ঠিকা আছিইই আমি।”
মেহের আপ্লুত হয়ে বললো-
“জলদি ফিরে আসো।তোমাদের অপেক্ষায় কাতর আমি।এই বাড়ি তোমার শুন্যতায় স্তব্ধ।জলদি আসো মেয়ে।”
আফরিন মুচকি হেসে বললো-
“শীগ্রই আসবো ভাবী!”
এরিক ফোনটা নিয়ে একটু দূরে গেলো।বললো-
“গলার একি অবস্থা করেছেন রাজনন্দিনী।বাসায় এসে আমি যেনো বিধ্বস্ত মেহের নয়,বরং আমার রাজনন্দিনীকে পাই!”
মেহের কিছু বললো না।এরিক বললো-
“কিছু বলবে আর?”
“আফরিন আর রুদ্ভিকা ঠিক আছে।নতুন মেয়েটিও ঠিকা আছে কিন্তু আমার আনায়া?মেয়েটা কেমন আছে?”
এরিক-“তার অবস্থা এখনও বলেনি।জ্ঞান ফিরেনি আত্র। শুনো মেয়ে সেও ঠিক হয়ে যাবে।আর বাসায় কাউকে বলো না এই খবর।তারা এমনিতেই চিন্তিত।কেবল বলো সবাইকে পাওয়া গিয়েছে এবং আমরা শীঘ্রই ফিরছি!”
আনায়ার কথা শুনে মেহেরের বুকটা কেপে উঠলো।মেয়েটা এমনিতেই তো দিশেহারা হয়ে আছে।কাপা কাপা কণ্ঠে এরিককে বললো-
“একটা আবদার করতে পারি?”
এরিক-“তোমার যতো আবদার আছে সব করো।পুরণ আমি করবো।একটা না সহস্রটা করো!”
মেহের-“আমার অনুটার যখন জ্ঞা*ন ফিরবে তার সামনে একটু যাবেন দয়া করে।”
এরিক চুপ করে রইলো।সেকেন্ডখানিক পর মেহেরকে বললো-
দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ১৭+১৮
“নিজের যত্ন নিও।রাখি মেয়ে।আর কেদো না তুমি।তোমার গলার কি অবস্থা করেছো।আল্লাহ জানে আমার রাজনন্দিনীর কি অবস্থা!”
মেহের “আচ্ছা” বলে কল কেটে দিলো।এরিক মোবাইলটা এরিদকে দিয়ে বোনের সামনে দুই ভাই বসে রইলো।আফরিন এখনো আরশের সত্যটা মেনে নিতে পারছে না।কিছুক্ষণ পর পরই তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে!
