Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৮৩ (৩)

দাহশয্যা পর্ব ৮৩ (৩)

দাহশয্যা পর্ব ৮৩ (৩)
Raiha Zubair Ripti

বাশার সুলতান কেঁদে কেঁদে অস্থির হয়ে যাচ্ছে। আমিরুল সুলতান সামলাচ্ছে। কেবিনের ভেতরে থাকা সকলের চোখ বেডে নিস্তব্ধ হয়ে শুয়ে থাকা এজওয়ানের মুখের দিকে। কেবিনের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে মাহি আর সাফওয়ান। মাহি ট্রান্সপারেন্ট গ্লাস দিয়ে এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। বেশ অনেকক্ষণ ঠাই দাঁড়িয়ে থাকলো। ভেতরে যাওয়ার হয়তো সাহস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে ভেতরে গিয়ে এজওয়ান কে একটু দেখতে চাওয়া মানে সবাই এক অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে তাকাবে। আর সেই দৃষ্টি মোটেও ইতিবাচক হবে না। কাজটাই হয়তো মাহি নেতিবাচক করে ফেলছে। মাহি আর দাঁড়িয়ে থাকলো না। শেষবার এজওয়ান কে দেখে মাহি চলে গেলো হসপিটাল থেকে বোনের বাসায়। খারাপ তো হলোই সবার চোখে। এখন না হয় আরো খারাপ হওয়া যাক। আর মাহি খারাপ ভালোর এসব ধার ধারেও না। যার যা ভাবার সে সেটা ভাবুক।

একে একে সবাই ডাকছে এজওয়ান কে। আনোয়ার সুলতান এই বৃদ্ধ বয়সে এসে নাতির কোমায় চলে যাওয়াটা মানতে পারছে না। এই ছেলেকে তো এমন নিস্তব্ধ মানায় না। উড়নচণ্ডী খামখেয়ালি মেজাজের ছেলেটা আজ এত ঠাণ্ডা!
পুরো কেবিন জুড়ে শুধু কান্নার রোল। একজন মহা বিরক্ত হলো এই কান্নার শব্দ শুনে। কেমন সবাই মরা কান্না কাঁদছে। বিরক্তিকর। সেজন্য বিরক্তের সহিত বলল-
“ আহ্ কান্না থামাবে তোমরা? মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি। ঘুমাতে দাও আমাকে। তোমাদের এই মরা কান্নার জন্য ঘুমোতে অসুবিধে হচ্ছে আমার। ”
আচমকা সবার কান্নার রোল থেমে গেলো। মাথা তুলে তাকালো একটা মুখের দিকে। চোখ বন্ধ করে আছে। বাশার সুলতান হন্তদন্ত হয়ে ছেলের মাথার কাছে বসলো। ছেলে কি তার সত্যি কথা বললো!

“ বাপ তুই কথা বললি? তুই সুস্থ? কথা বল আবার এজওয়ান। বল না। ”
এজওয়ান চোখ মেলে তাকালো না। শুধু বললো-
“ শব্দ করো না। ঘুমের ইনজেকশন দিছে ডক্টর। ঘুমাতে চাই। তোমাদের জন্য পারছি না। ”
সোলেমান এবার এগিয়ে এলো কিছুটা। চাপা স্বরে বলল-
“ ডক্টর যে বললো তুই কোমায়? মিথ্যা বললো! ”
“ না মিথ্যা বলে নি। আমিই বলছি গিয়ে বলতে। আর কোমা মিন্স স্লিপিং। ঘুমাতে দাও। আই নিড স্লিপিং। ”
“ আমাদের কষ্ট দিতে খুব ভালো লাগে তাই না?”
এজওয়ান এবার চোখ মেলে তাকালো। বাপের মুখে পানে তাকিয়ে বলল-
“ এতেই তোমার এই অবস্থা, চোখ মুখ ফুলিয়ে মেয়েদের মতো মুখ বানিয়েছো। যেদিন সত্যি সত্যি ম’রে যাব,তখন তো দেখছি তোমাকে খুঁজেই পাওয়া যাবে না তাহলে। ”
বাশার সুলতান রেগে গেলো।

“ সুস্থ থাকলে দিতাম ক’টা চ’ড় বে’য়াদব। ”
ডক্টর আসলো ভেতরে। এই এজওয়ান ছেলেটা তাকে বেশ বিপাকে ফেলেছে। ঢোকা মাত্রই বাশার সুলতান আর সোলেমান কেমন একটা নজরে তাকালো।
“ আপনারা এখন বের হন কেবিন থেকে। এজওয়ানের রেস্ট দরকার। ”
আমিরুল সুলতান সবাইকে ইশারায় বের হতে বলল। বাশার সুলতান বের হতে হতে ডক্টর কে শাসিয়ে বলল-
“ তোমাকে আমি দেখে নিব ডাক্তার। ”
সবাই চলে গেলো। ডক্টর এবার এজওয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
“ এমন মিথ্যা কথা কেউ বলতে বলে? ”
“ যা কেউ পারে না,তা আমি অনায়াসে পারি ডক্টর। বাড়ি ফিরবো কবে সেটা বলুন। এই বেড এজওয়ানের জন্য না। ”
“ শীগ্রই। ”

ডক্টর আরো কিছুক্ষণ এজওয়ান কে পর্যবেক্ষণ করে চলে গেলো। ডক্টর যেতেই সাফওয়ান ঢুকলো। এজওয়ান পায়ের শব্দ পেয়ে তাকালো। ভেবেছে ভাইজান আসছে। কিন্তু সাফওয়ান কে দেখে কিঞ্চিৎ ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে বলল-
“ বেঁচে আছি, সেজন্য তাকে আর পাওয়া হলো না আপনার। সো স্যাড। ”
সাফওয়ান কিছু বলতে যাবে তার আগেই এজওয়ানের চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। ঘুমের ইনজেকশনের প্রভাবে হয়তো। সাফওয়ান আর কিছুই বলতে পারলো না। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চলে গেলো।
মাহি বোনের বাসায় আসার পরই মোহনা বলতে লাগলো-
“ কি রে এজওয়ান কেমন আছে এখন? ভালো আছে? সাফওয়ান কে বাঁচাতে গিয়ে গুলি লাগলো দেখলাম। ”
মাহি সোফায় বসলো। মাথার চুল গুলো এলোমেলো কাকের বাসার মতো হয়ে আছে। চোখ মুখ ফোলা। তারপরও শান্ত গলায় বললো-

“ কোমায় আছে। ”
মোহনা চমকালো এ কথা শুনে।
“ কোমায়! ”
“ হু। ”
“ তুই এখানে যে তাহলে? ”
“ চলে এসেছি। ক’দিন থাকবো এখানে। তারপর নিজের অ্যাপার্টমেন্টে চলে যাব। ”
“ ও বাড়িতে ফিরবি না? ”
” না। ”
মাহি আর কোনো কথা না বলে চলে গেলো উপরে।
বিকেলের দিকে নিবাসে আসে বাড়ির সকলে। এজওয়ানের ওখানে আছে শুধু আমিরুল সুলতান। এই প্রথমবার নিবাসে আসলো মোতালেব ভুঁইয়া। বাড়ির ম্যেড রান্না বান্না সব করে রেখেছে। সবাই ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলো আগে। খাওয়ার সময় আনোয়ার সুলতান মাহি কে খুঁজলো। ঊর্মি জানালো মাহি বাড়িতে আসে নি। বাশার সুলতান সে কথা শুনে চাপা স্বরে বলল-

“ ও মেয়েকে যদি এজওয়ান এ বাড়িতে নিয়ে এসেছে তো আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। দুশ্চরিত্রা মেয়ে একটা। কিভাবে বড়দের সামনে অন্য পুরুষ কে জড়িয়ে ধরলো। ”
সোলেমান খাবার খাওয়া শেষ করে উঠে যেতে যেতে বলল-
“ তোমার ছেলে মানলে তো! ”
বাশার সুলতান বাপের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ বাবা তুমি বুঝাবে এই ছেলেকে। সুলতান বাড়ির বউ যদি এমন হয় তাহলে কিভাবে হয়? ও মেয়ে আমার এজওয়ান কে একটুও ভালোবাসে না। কখনও সম্মান দেয় নি। স্বামীর জন্য কখনও এক গ্লাস জল এগিয়ে দেয় নি। এমন মেয়ের সাথে ওর থাকাটা কতটুকু যৌক্তিক তুমিই বলো। ”
“ ঠিক আছে বোঝাবো। আমিও আজ হতবাক হয়ে গেছি,ও মেয়ের এমন আচরণ দেখে। বাড়ি ফিরুক আগে এজওয়ান। তারপর বলবো। ”

দুদিন হসপিটালে থাকলো এজওয়ান। দু’দিন পর ডক্টর ডিসচার্জ করে দিলো এজওয়ান কে। এজওয়ানকে নিবাসে নিয়ে আসা হলো। নিবাসে ঢুকতেই সারা বাড়িতে চোখ বুলালো এজওয়ান। খুঁজলো দুটো চোখ হয়তো মাহি কে। হসপিটালে আর দেখে নি এজওয়ান মাহি কে। কাউকে জিজ্ঞেস ও করে নি মাহি কোথায়। এজওয়ান রুমাইসার দিকে তাকালো শেষে। রুমাইসা বুঝলো সেই চোখের ভাষা।
“ ভাবি নেই বাসায় ভাইয়া। চলে গেছে। ”
এজওয়ান শুধু জিজ্ঞেস করলো-
“ কোথায়? ”
“ ভাবির বোনের বাসায়। ”

আর কোনো কথা বললো না এজওয়ান। চলে গেলো নিজের রুমে। তারপর পকেট থেকে ফোনটা বের করে কাউকে কিছু বললো। আর সময় বেঁধে দিলো ২০ মিনিট।
আহমেদ বাড়িতে….বেলকনির চেয়ারে বসে আছে মাহি। আজ কয়েকটা দিন ধরে বাহিরের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন মাহি। রুম থেকে বের হয় না বললেই চলে। ফোনটাও কোথায় চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে কে জানে। বাড়ি থেকে বেরই হয় নি সেদিনের পর। একটু আগে ম্যেড এসে কফি দিয়ে গেলো। সেটাই এক ঘন্টা ধরে খাচ্ছে। আকাশে আজ রোদ নেই। মেঘলা। ঠান্ডা বাতাস। কি অসহ্য লাগছে এই আকাশ টাকে। অথচ মেঘলা আকাশ মাহির বড্ড প্রিয়। কফির মগটা শব্দ করে রাখলো ফ্লোরে। চেয়ারে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করতেই খুব চিরচেনা একটা পারফিউমের গন্ধ নাকে আসলো মনে হলো। চোখ খুললো না মাহি। ভ্রম! আবার সেই ভ্রম!
মাহি বিরবির করে বলল-

“ আপনার পারফিউমের ঘ্রাণ টা আপনার মতই জঘন্য। সুস্থ হয়ে চেঞ্জ করবেন। জ্বালাচ্ছে খুব। ”
এজওয়ান হয়তো এ কথা শুনে নিজের গায়ে থাকা শার্ট টা নাকের কাছে নিয়ে শুঁকে দেখলো। এক এক্সপেন্সিভ পারফিউমের ঘ্রাণ নাকি জঘন্য!
“ ঠিক আছে চেঞ্জ করবো। এখন বাসায় চলো। ”
“ এসেছেন কেনো আপনি? কোমায় থেকেও ভণ্ডামি বাদ দিচ্ছেন না। আমাকে জ্বালাতে কেনো আসেন বারবার? বিরক্ত হচ্ছি। চলে যান। আসবেন না আর। ভালো লাগে না আপনাকে আমার। ”
“ চোখ মুখে পানির ছিটা দিয়ে আসো তরিকুলের বেটি। লাল পানি খেয়েছো? দেখলাম তো কফি খেলে। চলো নিতে এসেছি আমি। ”

“ ভালো লাগছে না কথা বলতে। আর আসবেন না। যান। ”
হুট করে মনে হলো ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো কেউ। তারপর ফিসফিস করে বলল-
“ আমি তোমার ভ্রম না। ”
মাহি সাথে সাথে চোখ মেলে তাকালো। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো। নাহ কেউ নেই। সবটা ভ্রম। এজওয়ান আসবে কি করে? ও তো কোমায়।
ঠিক তখনই শাকিল ঢুকে রুমে হন্তদন্ত হয়ে। মাহিকে ডেকে,মাহিকে নিয়ে চলে যায়। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটা জিজ্ঞেস করার সুযোগ টাও শাকিল দিলো না মাহি কে।
এজওয়ান চোখ বন্ধ করে সোফায় বসে সময় গুনছিলো। আচমকা নিচ থেকে শোরগোলের আওয়াজ পেতেই ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি ফুটলো। অসুস্থ শরীর নিয়ে আস্তেধীরে রুম থেকে বের হলো। করিডরের সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দেখলো শাকিল মাহিকে রেখে চলে যাচ্ছে আর বাশার সুলতান বলছে-
“ এই নিয়ে যাও তোমার শালিকা কে। ওর মতো থার্ডক্লাস মেয়ের দরকার নেই আমার ছেলের। ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিবে। সাইন করে দিতে বলো। ”

এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে বলল-
“ কাকে থার্ডক্লাস বলছো তুমি? ছেলের বউ হয়। মুখে লাগাম টেনে কথা বলো বাবা। ”
মাহি তাকালো মাথা তুলে। শাকিল যে তাকে এখানে নিয়ে আসবে ভাবতে পারে নি। কিন্তু এজওয়ানের কন্ঠ শুনে তাকালো মাথা তুলে। দেখতে পেলো এজওয়ান কালো শার্টে কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুস্থ হয়ে গেছে! মাহি ফের মাথা নত করলো।
বাশার সুলতান ক্ষোভ ভরা কন্ঠে বলল-
“ আমি না হয় মুখে লাগাম টানবো। কিন্তু এই মেয়ে কি তার চরিত্রে লাগাম টানবে? তুই হসপিটালের বেডে শোয়া অথচ এই মেয়ে তার প্রেমিক কে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছিলো! এরপর চলে গেলো। কোথায় চলে গেলো? বোনের বাসায়। তোকে দেখতে পর্যন্ত এলো না। তারপরও এই অসভ্য মেয়ের হয়ে কথা বলছিস! সুলতান বাড়ির বউরা এমন বেশরম না। মেহরিন ও তো সুলতান বাড়ির বউ। কই মাহির মতো তো বেহায়াপনা করে না। স্বামীর সাথে অভদ্র ব্যবহার করে না। মেহরিনের মতো ভদ্র সভ্য কেনো হতে পারে না? এতো উশৃংখল কেনো এই মেয়ে? ”

“ ডোন্ট কম্পেয়ার। ডোন্ট! ভাবি পৃথিবীর একমাত্র সভ্য ভদ্র নারী হলেও ভাবির সাথে মাহির কম্পেয়ার করবে না কখনও। এর আগেও একবার বলেছি। আজ লাস্টবার বলছি। ”
“ এই মেয়ে যেন এ বাড়িতে না থাকে বলে রাখলাম। শাকিল আমাদের ঘাড়ে ফেলে রেখে চলে গেলো। ”
“ কি করতে বলছো এখন? ”
“ বের করে দে। একদম এই মেয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখবো না আর আমরা। ”
“ রেখো না তোমরা। আমি তো রাখতে বলি নি তোমাদের । ”
“ এই মাহি তুমি বের হয়ে যাও। কেনো এসেছো তুমি? লজ্জা নেই? নির্লজ্জ মেয়ে কোথায়। ”
এজওয়ান চাপা স্বরে হুমকি দিয়ে বলল-
“ বাবা লাস্ট ওয়ার্নিং করছি কিন্তু। ”
“ কি করবি তুই? আমি এই মেয়েকে বের করে দিব। ও থাকলে আমি থাকবো না। ”
এজওয়ান সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যেতে যেতে বলল-
“ আর ও না থাকলে আমি এই বাড়িতে থাকবো না। আমাকেও তাহলে ওর সাথে বেড়িয়ে যেতে হবে। তুমি চাও সেটা? চাইলে বলো। চলে যাচ্ছি। ”
বাশার সুলতান অবাক না হয়ে পারছে না। এখনও মাহির হয়ে কথা বলছে এই ছেলে!
এজওয়ান একবার পেছন ফিরে মাহির দিকে তাকিয়ে ফের বলল-
“ তুমি থাকতে পারো মাহি এ বাড়িতে। তুমি চলে গেলে আমাকেও চলে যেতে হবে এ বাড়ি থেকে। আর আমার বাপ আবার ছেলে ছাড়া থাকলে ফিট খেয়ে ম’রে যাবে। তোমার অপমান কেউ করবে না। তার গ্যারান্টি আমি নিচ্ছি। থাকো তুমি। এই নিবাসেই থাকো।” তারপর সবার দিকে তাকিয়ে এজওয়ান আবার বলল-“ কেউ কিছু বলবে না মাহি কে। কেউ না। ”

এজওয়ান চলে গেলো। কি আশ্চর্য মাহি তো এত অপমান লাঞ্ছনা সহ্য করার মতো মেয়ে না। অথচ আজ শুনে যাচ্ছে। মাহি কি বুঝতে পেরেছে তার ভুল টা ঠিক কোথায়? নাকি অন্য কোনো কারনে সয়ে গেলো সবটা।
সোলেমান বাড়ি নেই বলে হয়তো বাশার সুলতান এভাবে রাগারাগি করতে পারলো। আমিরুল সুলতান বাগান বাড়িতে নিবাসের বাহিরে। আর মোতালেব ভুঁইয়া তেহরান দের বাসায়। ডক্টর দেখিয়ে নওগাঁ ফিরে যাবে।
আনোয়ার সুলতান ছেলেকে নিয়ে সোফায় বসলো। ছেলের জন্য হলেও বাশার কে এখন চুপ থাকতে হবে। রুমাইসা মাহি কে বললো রুমে যেতে এজওয়ানের কাছে। মেহরিন দূর থেকে দেখেছে সব টা। তার নিজেরও খারাপ লাগে। বাশার সুলতান কথায় কথায় মেহরিন কে টেনে এনে কম্পেয়ার করে। মাহির কাজটাও খুব দৃষ্টি কটু ছিলো। তাদের বিয়ে কিভাবে হয়েছে মেহরিন জানে না। তবে তাদের সাংসারিক জীবন আর পাঁচটা দম্পত্তির মতো না। সব সময় মাহি এজওয়ানের সব কথার বিপরীতে ছুটে চলে। এজওয়ান ও যে কম মেহরিন সেটাও বলবে না। হয়তো ইচ্ছে করেই করে।
মেহরিন এগিয়ে এসে বলল-

“ ভেতরে যান। কোথায় ভুল করেছেন বুঝতে পারছেন? হয়তো পেরেছেন বলেই নীরব। এভাবে সংসার হয় না আপু। দু’জনের মন-মানসিকতা এক রকমের না হলে সে সংসারে ভাঙন ধরে। বিয়ের বয়সটাও তো কম হলো না বলুন। কি সমস্যা আপনাদের সেটা বসে সমাধান করুন। বাড়ির সবাই খুব বিরক্ত হয়ে আছে আপনার উপর। ভাইয়া কিভাবে মানছে বিষয়টা জানি না। মাঝেমধ্যে নত হতে হয়। নত হওয়া মানে সয়ে যাওয়া না। দুজন দুজনের দিক থেকে চেষ্টা করুন সম্পর্ক টার উন্নতি করার। ”
মাহি উত্তর দিলো না। চেষ্টা! যেটা মাহি এই দেড় বছরে কখনই করে নি। মাহি সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে আসলো। রুমে ঢুকে দেখতে পেলো এজওয়ান পড়নের শার্ট খোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। মাহি এগিয়ে আসে শার্ট টা ধরতে চাইলে এজওয়ান বললো-
“ ডোন্ট। আমি পারবো। অভ্যস্ত আমি। ”

এজওয়ান একা একাই খুললো শার্ট টা। তারপর ওয়াশরুমে গেলো। হয়তো হাত মুখ ধুবে। মাহির অস্বস্তি লাগছে। হাত মুখ ধোয়া শেষ হলে এজওয়ান বেরিয়ে আসলো। টাওয়াল দিয়ে হাত মুখ মুছে আয়না দিয়ে মাহির মুখের দিকে তাকালো। মাথা নত! সব সময় তো এই মেয়ের মাথা উঁচু থাকে।
এজওয়ান ডেকে উঠলো মাহিকে। মাহি তাকালো এজওয়ানের পানে।
“ আমার পরিবারের কারো কথায় রাগ করে আবার মে’রে ফেলতে যেও না। রাগ টা জায়েজ আছে তাদের। সেজন্য করেছে। আমি যেমন করে তোমার সব ভুল গুলো ফুল ভেবে ভুলে যাই। তুমি ফুল ভেবে ওদের ভুল গুলো ভুলে যেও। আর হ্যাঁ আরেকটা কথা.. তোমার মন যা চায় তাই করো। যদিও আমি দুঃখ পাই…তারপরও তুমি সেই পথে হাঁটো। যে পথে হাঁটলে তোমার সুখ হয়। কেউ তোমাকে বাঁধা দিবে না। না আমি আর না আমার পরিবার। আজ থেকে, তুমি মুক্ত, তুমি স্বাধীন। ”

এজওয়ান ফোনটা বের করে রফিক কে বললো এক মগ কফি পাঠাতে। রফিক এসে কফির মগ দিয়ে গেলো। এজওয়ান কফির মগ নিয়ে বেলকনিতে চলে আসলো। চেয়ারে বসে গা এলিয়ে দিয়ে আকাশের পানে তাকালো। যেখানে সব মেয়েরা এজওয়ানের জন্য পাগল সেখানে সবাই ভাবছে এজওয়ান সুলতান কতটা বেহায়া নির্লজ্জ যে মেয়ে চাইছে না সংসার করতে তাকে জোর করে সাথে রেখেছে। অথচ এজওয়ান জানে সে কেনো মাহির বিষয়ে এতটা নির্লজ্জ এতটা বেহায়া। এই মেয়ে তার চোখের দূরে গেলেই এই মেয়ের মৃ’ত্যু নিশ্চিত। আর এজওয়ান পুনর্জন্মের বিশ্বাসী নয়। সেজন্য এই জন্মেই মাহিকে সাথে নিয়ে বাঁচার ইচ্ছে প্রচুর। একটা ভুলের জন্য সে মাহিকে হারাতে রাজি নয়। অন্তত নিজের মৃত্যুর আগে তো নয়ই।

এজওয়ান কফির মগে প্রথম চুমুক টা বসালো। টেস্ট টা ভালো লাগছে না। রফিকের আজকের চা টা এতো জঘন্য কেনো! কফির মগ ফ্লোরে নামিয়ে রাখলো। এজওয়ান শব্দ পেলো,মাহি হয়তো ওয়াশরুমে গেছে। এজওয়ান একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বিরবির করে বলল-
“ পাগলের মতো খুঁজছে ওরা তোমাকে। তুমি অব্দি পৌঁছে গেলে তোমার মৃত্যু নিশ্চিত। আর আমি এজওয়ান বেঁচে থাকতে তাদেরকে তুমি অব্দি পৌঁছাতে দিব না। খুব লুকিয়ে বাঁচিয়ে রাখছি তোমায়। আর এতে যদি আমার নিজের মৃত্যু হয় তাহলে হোক। সমস্যা নেই আমার। তুমি তো বাঁচো। এজওয়ানের একটাই তো জীবন। সেটাও না হয় তোমার নামে উৎসর্গ করে দিলাম। ”

অন্ধকার রুমের এক কোনায় জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে প্রেমা। বাহির থেকে দরজা ধাক্কার আওয়াজ ভেসে আসছে। অথচ প্রেমা খুলছে না। খুললেই জানোয়ার গুলো ঝাঁপিয়ে পড়বে। হাতে আছে এখনও সেই ছু’রিটা। কতক্ষণ দরজা দরজার জায়গায় থাকবে জানা নেই প্রেমার। সেজন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখলো। কাছে আসলেই দিবে এক কোপ। অনেক ধস্তাধস্তির পর দরজাটা অবশেষে ভেঙে গেলো। দুজন পুরুষ ঢুকলো প্রথমে। সুইচ হাতরে লাইট জ্বালানোর সাথে সাথে প্রেমা আঘাত করতে নিলে শেখর ধরে ফেলে সেই হাতটা। তারপর পেছনে মুড়ে ধরে।
রুমের লাইট জ্বলে উঠে। প্রেমা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করে। শেখর প্রেমার কাঁধে থুঁতনি রেখে বলে-
“ অনেক জ্বালাচ্ছ শুনলাম। এখনও তেজ কমে নি এখানে এসে? আরো হিংস্র হতে বলছো আমায়? ”
প্রেমা ঘৃণায় কাঁপতে কাঁপতে বলল-

“ কিছু বাদ রেখেছেন আপনি করার জন্য আর? সব পাড় করে ফেলছেন। একটা জঘন্য অমানুষ আপনি। ”
“ তারপর? ”
“ ছাড়ুন আমায়। ছেড়ে দিন। কতটা অধপতনে গিয়েছেন আপনি ভাবুন। নিজের রক্ত কে নিজ হাতে খু’ন করেছেন। এখন বউ দিয়ে দেহ ব্যবসা করতে চাইছেন! ”
“ হু চাইছি। ”
“ আপনার মৃ’ত্যুটা যেন আল্লাহ আমাকে নিজ চোখে দেখিয়ে তারপর মৃত্যু দেয়। ”
“ ততদিন তো বাঁচিয়ে রাখবো না তোমায় ডার্লিং। চলো খদ্দের এসেছে। ”
শরীর টা জ্বলে যেতে লাগলো প্রেমার।
“ আল্লাহ’র দোহাই লাগে। এই পাপ কাজ আমার সাথে কইরেন না। এরচেয়ে মেরে ফেলেন। ”
শেখর টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। বয়স্ক এক লোক। রুমে বসে অপেক্ষা করছিলো নারী দেহের। শেখর প্রেমা কে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে সেই রুমে ফেলে দিয়ে বলল-

“ অনেক তেজ আছে এই মেয়ের। বুঝেশুনে আগাবেন। বাহির থেকে লাগিয়ে দিচ্ছি। ”
শেখর বাহির থেকে ছিটকানি লাগিয়ে দিলে। প্রেমা দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিয়ে বারবার অনুরোধ অনুনয় করে বলতে লাগলো দরজাটা খুলে দেওয়ার জন্য। কেউ খুললো না। এদিকে ঐ লোকটা ক্রমশ এগিয়ে আসলো প্রেমার দিকে। প্রেমা দু হাত জোর করে বলল-
“ আপনি আমার বাবার বয়সী হবেন। দয়া করে আমায় ছেড়ে দিন। আমার এত বড় সর্বনাশ করবেন না। ”
লোকটা শুনলো না। প্রেমার পড়নে থাকা ওড়না ধরে টানতে লাগলো। প্রেমা ওড়নার প্রান্ত ধরে ফের অনুরোধ করলো। শুনলো না। যখন শরীরে হাত দিবে তখন প্রেমা আর দিশামিশা না পেয়ে পাশ থেকে পিতলের ফুলদানি টা নিয়ে সজোড়ে বাড়ি মারলো লোকটার মাথায়।
লোকটা সাথে সাথে লুটিয়ে পড়লো ফ্লোরে। রক্তে ভেসে যেতে লাগলো ফ্লোর টা। প্রেমা কি খু’ন করে ফেললো! ভয়ে এগিয়ে এসে নাকে কাছে হাত রেখে দেখলে শ্বাস ফেলছে না। ম’রে গেছে এই লোক! প্রেমা খু’নি হয়ে গেলো!
ওরা যখন দরজা খুলে দেখবে লোকটাকে প্রেমা মে’রে ফেলছে। তখন কি হবে! মে’রে ফেলবে প্রেমাকে? হ্যাঁ প্রেমা তাহলে ম’রেই যেতে চায়। এই অপরাধের জন্য হলেও ওরা যেন প্রেমাকে মৃ’ত্যু দেয়।

রাতের দিকে সোলেমান ফিরলো নিবাসে। ঘটনা টা কে ঘটিয়েছে রমনায় সেটা তদন্ত করার জন্য স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে। এত গুলো মৃত্যু যার জন্য হলো তাকে পেলে সোলেমান মাটির নিচে পুঁতে রাখবে পাড়া দিয়ে। মেহরিন এশার নামজ টা পড়ে বাবার সাথে কথা বলছিলো। তার বাবা আগামীকাল বিকেলো চলে যাবে। মেহরিন আর রুমাইসা কে সোলেমান দিয়ে আসবে তেহরান দের বাসায় সেজন্য । সারা দিন থাকবে। সন্ধ্যার দিকে নিয়ে আসবে। মেহরিন জিজ্ঞেস করলো ডক্টর কি বললো চেক-আপ করে।
মোতালেব ভুঁইয়া জানালো- সব ঠিকঠাক আছে। ঔষধ নিয়মিত খেলে সুস্থ হয়ে যাবে। ”
মেহরিন সে কথা শুনে বলল-

“ এটা তো ক বছর ধরেই শুনছি আব্বু। সুস্থ তো হচ্ছো না। একটু দুশ্চিন্তা করলেই শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। উনাকে বলবে ভালো ডক্টরের ঠিকানা দিতে। সেখানে নিয়ে যাব তোমায়। ”
“ আরে নাহ্ এই ডক্টর অনেক ভালো। মিথ্যা বলবে নাকি? কত পুরোনো রোগী আমি তার। তুই চিন্তা করিস না। বাবার শরীর একদম ভালো আছে। ”
আরো কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে মেহরিন ফোন কাটলো। সোলেমান ফ্রেশ হয়ে এসেছে। মেহরিন বলল-
“ খাবেন? ”
সোলেমান মাথা নেড়ে জানালো-
“ হু। রুমে নিয়ে আসো খাবার। ”
মেহরিন তাই করলো। নিচে গিয়ে প্লেটে খাবার সাজিয়ে রুমে আসার পথে দেখলো এজওয়ান বালিশ নিয়ে স্টাডি রুমের দিকে যাচ্ছে। ভ্রু কুঁচকে আসলো সেটা দেখে মেহরিনের। আবার কথা কাটাকাটি হয়েছে নাকি দুজনের? আগে তো কখনও বালিশ নিয়ে বের হতে দেখে নি এজওয়ান কে সে।
মেহরিন চলে গেলো।
মাহি দরজার পানে তাকিয়ে আছে। একটু আগেই এজওয়ান রুম থেকে বের হয়ে গেছে। কি হলো জানে না মাহি। রুমে আসলো। তারপর বালিশ টা নিয়ে চলে যেতে লাগলো। মাহি জিজ্ঞেস করলো-

“ কোথায় যাচ্ছেন? ”
এজওয়ান একবার ফিরে বলল-
“ স্টাডি রুমে। কাজ আছে। আমার অনুপস্থিতিতে তোমার ভালো ঘুম হবে আশা করি। দরজা লাগিয়ে দিও। ”
তারপর চলে গেলো এজওয়ান। মাহি ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো।
এজওয়ান স্টাডি রুমে এসে ল্যাপটপ টা ওপেন করলো। তখনই ফোনটা বেজে উঠলো। এজওয়ান রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে ভেসে আসলো-

“ খোঁজ পেয়েছো তার? ”
এজওয়ান শক্ত গলায় বলল-
“ না পাই নি। ”
“ কিন্তু আমার কাছে তো অন্য খবর আছে। ”
“ কি? ”
“ তুমি জানো সে কে। ”
“ না জানি না। ”
“ শিওর? ”
“ জেরা করছেন? ”
“ না। একটু অবিশ্বাস লেগেছে। তুমি পারো না এমন কোনো কাজই নেই। ”
“ আমি আল্লাহর বানানো কোনো ফেরেস্তা নই। আমি রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। আমাকে দিয়ে সব কাজ হবে এটা ভাব বন্ধ করুন। ”

“ ঠিক আছে বিশ্বাস করলাম। এখন ফুল এক্সেস দাও আমাদের। ”
“ কিসের? ”
“ তোমার রিসার্চের। তুমি ফুল এক্সেস দাও নি। ওটাকে জাস্ট তুমিই কন্ট্রোল করতে পারছো। আমাদের দিবে না কন্ট্রোল করতে? ”
“ নো। ওটার মালিক আমি। তাই ওটার ফুল এক্সেস টাও থাকবে আমার কাছে। ”
“ এখানে এতে লুকোচুরি কেনো? আমাদের ফুল এক্সেস দিলে সমস্যা কোথায়? ”
“ আমি ইচ্ছুক নই দিতে। আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করলে আপনাকে যেটুকু এক্সেস দেওয়া হয়েছিল সেটুকুও কেঁড়ে নিব। ”
“ আমার ফুল এক্সেস চাই এজওয়ান। আমি কন্ট্রোল করতে চাই এটাকে। ”
এজওয়ান ল্যাপটপে কিছু একটা করে বলল-
“ যেটুকু এক্সেস দিয়েছিলাম,যান সেটুকুও কেঁড়ে নিলাম। ”
লোকটা নিজের ল্যাপটপে চেক করে দেখলো সত্যি সে কিছু দেখতে পারছে না। রাগে চিৎকার করে উঠলো।
“ কাজটা তুমি ঠিক করলে না এজওয়ান। হ্যাক করতে বলছো তোমার সব? করবো? ”
এজওয়ান এ কথা শুনে গা কাঁপিয়ে হাসলো।

“ আমার সব কিছু হ্যাক করবেন আপনি! নাইস জোক্স। এতদিনে কি এজওয়ান কে আপনি চিনেন নি প্রফেসর? এজওয়ান সকল সিস্টেম হ্যাক করার ক্ষমতা রাখে। আর সেখানে আপনি এজওয়ানের আইডেন্টিটি হ্যাক করার কথা বলছেন! চেষ্টা করুন। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যেন সাপ বের হয়ে না আসে। ”
“ অস্ট্রেলিয়া আসো তুমি। দেখে নিব তোমায়। ”
“ ওকে প্রফেসর দেখা হবে তাহলে খুব শীগ্রই। নিজের আইডেন্টিটি বাঁচাতে না আবার আমার পা ধরে কান্না কাটি করতে হয়। তাই ভেবে চিন্তে কাজ করুন। অল দ্যা বেস্ট। ”

দাহশয্যা পর্ব ৮৩ (২)

এজওয়ান ফোন কেটে দিলো। কালসাপ একটা। তার এতো বছরের পরিশ্রমের কাজ টা এর হাতে তুলে দিবে! এজওয়ান কি পাগল? এজওয়ানের জিনিসের দিকে যে নজর দিবে তাকেই এজওয়ান ধ্বংস করে দিবে। হোক সেটা একটা রিসার্চ প্রজেক্ট আর হোক সেটা একটা মানুষ। নিজের জিনিসের উপর কারো দখলদারি এজওয়ান সহ্য করে না।
অনেক রাত অব্দি এজওয়ান কাজ করলো স্টাডি রুমে। তারপর ক্লান্ত হয়ে চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে পিটপিট চোখে নিজের দিকে তাকাতেই দেখলো তার গায়ে চাদর! অথচ সে সাথে করে কোনো চাদরই নিয়ে আসে নি রুম থেকে। তাহলে আসলো কোথা থেকে এটা?

দাহশয্যা পর্ব ৮৪