Home দুইজনাতেই দুইজনাতেই পর্ব ৩০ (২)

দুইজনাতেই পর্ব ৩০ (২)

দুইজনাতেই পর্ব ৩০ (২)
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

(পর্ব ৩০ আবার দেওয়া হয়েছে আগেরটা যারা পড়েছেন তারা আবার এটা পড়েন )

দ্বিতীর জন্য ভারী গহনা, শাড়ি সব রাখা আছে বিছানায়। একটু পরই সাজানোর লোক আসবে। অথচ ঘুমকাতুরে দ্বিতীর চোখে ঘুম। মিটমিট করে আসা চোখ কচলে নিয়ে সে বাইরে এল এত বেলাতে। মনে মনে উশখুঁশ লাগলেও সর্বপ্রথম গেল সাজিয়া আফরোজের কাছেে।মুখে বানোয়াট হাসি টেনে বলল,
“ সাজি আম্মু..”
কথাটা বলতেই সাজিয়া আফরোজ যখন ফিরে চাইল ঠিক তখনই দ্বিতীর কথক থেমে গেল। নিজেকে মনে হলো এক আসামীর ন্যায়। শুকনো ঢোক গিলল কেবল সে। সাজিয়া আফরোজ পরমুহূর্তেই বলে উঠল,
“ উঠেছিস আম্মু? যা যা খাবার টেবিলে বস তো। খেয়ে নে। আবার শুরু হবে ব্যস্ততা। ”
দ্বিতী শুধু মাথা নাড়াল। বাধ্য মেয়ের মতো চুপচাপ শুনতেই ফের আবার বলল,
“ সাক্ষ্যটাকেও ডেকে নে তো আম্মু। খায়নি সকাল থেকে। ”
দ্বিতী এবারেও মাথা নাড়াল। বাধ্য মেয়ের মতো ফের হাজির হলো রুমে। অতঃপর এপাশ ওপাশ চেয়ে সাক্ষ্যকে দেখে বলল,

“খান নি সকাল থেকে? সাজি আম্মু ডেকেছে আপনাকে। ”
সাক্ষ্য চাইল মাথা উঁচু করে। আলমারিতে শার্ট খুঁজছিল বেচারা। কোন শার্টটা পড়লে আপাতত ঘাড়ের ছিলে যাওয়া অংশ চোখে পড়বে না। তারপর হুট করেই দ্বিতীর কথা শুনে মাথা তুলে চেয়ে বলল,
“ এদিকে আসুন। সমস্যা যে ক্রিয়েট করেছেন, সমাধান ও দিয়ে যান। ”
দ্বিতী ভ্রু বাঁকাল। কপাল কুঁচকে বলল,
“ কোন সমস্যা? ”
সাক্ষ্য এবার ভ্রু উঁচাল। নিজের ঘাড়ের দিকটা ইশারা করেই বলল,
“ রাক্ষসের মতো নখ রাখবেন না এরপর থেকে। আমার মানসম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে। ”
দ্বিতী এই পর্যায়ে উত্তর না করে দপাদপ পা ফেলে এগিয়ে গেল। আলামারিতে ভালো করে চোখ বুলিয়ে একটা শার্ট টেনে ধরল। মুখ কুঁচকে বলে উঠল,

“ আপনার মানসম্মান নিয়ে টানাটানি পড়লে আমার কি? আমার তো মানসম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ছে না। ”
“ হু। আমার তো আরো একটা বউ আছে যে প্রথম রাতে এসেই গলার চামড়া নিয়ে গেছে। লোকে তো তাই ভাববে। আপনার মানসম্মান নিয়ে কেন টানাটানি পড়বে বলুন? ”
দ্বিতী ভ্রু বাঁকাল। পাত্তা না দিয়ে আলামরিতে চেয়েই বলে উঠল,
“এটা কি শুধু আপনার আলমারি? ”
“ আর কার হবে ম্যাম?”
“ পুরো আলমারি ভর্তি জামাকাপড় ? পার্মানেন্ট ভাবে বউ ঘরে তোলার আগে বউয়ের জামাকাপড় রাখার জন্য আলমারির জায়গা খালি করেননি? ”
সাক্ষ্য হেসে ফেলল এবারে। ছোটকাল থেকে সবকিছুতে একা একা থেকেছে সাক্ষ্য। কোনকিছু শেয়ার করিনি। না রুম, না বিছানা, না আলমারি আর না তো ওয়াশরুম। অথচ এখন থেকে কিনা তার সবকিছুতে এই দ্বিতীকা তাসনিমের ও ভাগ আছে। ভাবা যায়? ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,

“ ডানপাশে তাকান মিসেস এহসান। অলরেডি অনেক জায়গা দখলে নিয়ে নিয়েছেন।”
দ্বিতী মুহূর্তেই চাইল। হু,ডানপাশটা প্রায় খালি। এমনকি ওখানে মেয়েলি কাপড়ও জায়গা নিয়ে নিয়েছে ইতোমধ্যে। অথচ দ্বিতী এখনো কোন কাপড় রাখেনি। ভ্রু কুঁচকেই বলল,
“ কার কাপড় এনে ভর্তি করে ফেলেছেন? কণার নাকি নিধির? ”
সাক্ষ্য ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। উত্তরে বলল,
“ যাকে বিয়ে করেছি, ঘরে তুলেছি তার। ”
দ্বিতী জানে সাক্ষ্য যে নাক উঁচু স্বভাবের মানুষ। ভালোবাসে, অথচ কখনো প্রকাশ করতে মানা। মুখে বলতে নিষেধ। ভাব দেখায় এই ছেলে? ভালোবেসে জেনেই দ্বিতী রাজি হয়েছিল আনুষ্ঠানিক বিয়েতে। রাজি হয়েছিল সংসারে। কারণ নিজেও ঐ একই স্বভাবের মানুষ। সাক্ষ্যকে ভালোবাসে। সাক্ষ্য বলতে পাগল। অথচ ভাবখানা দেখায় এমন যে, সাক্ষ্যকে সে দুইচোখেই সহ্য করতে পারছে না। দ্বিতী গলা ঝেড়েই বলল,

“ নাম বলতে কি অসুবিধা হয়? ”
সাক্ষ্য এবারে সুচালো চাহনিতে চাইল। পাশাপাশি দাঁড়ানোতে আচমকাই দ্বিতীর কোমড় টেনে ধরে তীর্যক চাহনি ফেলে বলল,
“ কেন? বিয়ে কি দুইজনকে করেছি আমি? নাকি সংশয় আছে? ”
দ্বিতী মুখ লাল করে চাইল। বলে,
“ করতেও পারেন। আকদের এতদিন পরেও শুনি যেখানে বউ সাজার কথা অন্যজনের ছিল। সত্যি করে বলুন তো, ভালো টালো বাসেন কাউকে? ”
“ বাসব না কেন? অনুভূতিহীন নাকি আমি?”
“ তো কাকে বাসেন? কে সে দুর্ভাগ্যবতী? ”
সাক্ষ্য মুখ এগোল ওভাবেই কোমড় টেনে। একদম দ্বিতীর কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস গলায় জানাল,

“ বলা নিষেধ। ”
এইটুকু বলেই কোমড় ছাড়ল সাক্ষ্য। ঠোঁটে সূক্ষ্য বাঁকা হাসি রেখে সরে দাঁড়াল কিছুটা। অতঃপর নিজের পরনের টিশার্টটা একটানেই খুলে নিল। উম্মুক্ত সুদর্শন বক্ষটা দ্বিতীর চোখের সামনে পড়তেই আচমকা নজর সরাল সে। জামা পাল্টানোর আর জায়গা পায়নি এই লোক? দ্বিতী ফোঁস করে শ্বাস তুলল। অস্বস্তিতে চোখের নজর আলমারিতে রাখতেই চোখে পড়ল ডান পাশের নিচের দিকটায় ভাজ করে রাখা লেহেঙ্গাটায়। সন্দেহ বশত মেলেও চাইল সে সেটা। এই লেহেঙ্গাটা হুবুহু তার বিয়ের লেহেঙ্গার মতোই যেটা সাক্ষ্য পাঠিয়ছে। বলতে গেলে যেটা দ্বিতীর পছন্দ হয়েছিল এবং কণা নিয়েছিল। এই একই লেহেঙ্গাটা এখানে দেখে ভ্রু কুঁচকাল। বলল,
“ এসব কণার জামাকাপড়? লেহেঙ্গাটা তো কণার তাই না? ”
সাক্ষ্য একপাশে গিয়ে বসল। শরীনের শার্টটা জড়াতে জড়াতে বলল,
“ কণার লেহেঙ্গাটার ডিজাইন সেইম না। ভালো করে দেখুন। ভালো করে তাকান। বুঝতে পারবেন। ”
দ্বিতী ভালো করেই তাকাল। লেহেঙ্গাটার ডিজাইন, কালার সবই তার বিয়ের লেহেঙ্গার মতোই। সে অনুযায়ী কণার লেহেঙ্গাও তো একই হওয়ার কথা ছিল। নাকি পরে ডিজাইন বদলেছিল? দ্বিতী অবশ্য বিয়ের দিন অতোটা ভালো করে খেয়াল করেনি। বলল,

“ অন্য ডিজাইনের? কিন্তু আমার বিয়ের লেহেঙ্গার সাথে তো পুরোপুরি মিল। কণাও তো সেদিন একই কালারের লেহেঙ্গা পরেছিল। ”
“ তো? ”
“ ভিন্ন ছিল? ”
“ গিয়ে দেখে আসুন। ”
দ্বিতীর মুখটা কালো হয়ে এল। একই রকমের দুটো লেহেঙ্গাও বা কিনবে কেন? এই নিয়ে মাথায় প্রশ্নরা ভর করতেই সাক্ষ্য পা এগোল। আচমকা দ্বিতীর হাতটা চেপে ধরে বলে উঠল,
“ ক্ষিধে পেয়েছে। পেটের অবস্থা আর খারাপ করতে চাইনা। চলুন..”
দ্বিতী কেমন করে যেন চাইল। সে না গেলে কি খেত না নাকি সাক্ষ্য? নাকি না খেয়ে থাকত? মনের মধ্যে প্রশ্নের নিয়েই হাজির হলো খাবার টেবিলে। অতঃপর দুইজনকেই খাবার দেওয়া হলো। দ্বিতী প্রথমে নুডুলসটাই খেল। পছন্দের খাবার তার। বাসায় তার খাওয়া শেষের পর আম্মু নিজেরটা থেকেও বেড়ে দিত। কিন্তু এখনতো অন্য বাড়িতে, অন্য ঘরে। বলা যাবে না। চুপচাপ পানির গ্লাসটা হাতে তুলতেই সাক্ষ্য দ্বিতীর খালি প্লেটটা এগিয়ে নিল। নিজের প্লেটের অর্ধেক নুডুলস দ্বিতীর প্লেটে তুলে দিয়ে হেসে বলল,

“ শেষ করুন। স্বামীর প্লেটের খাবার খেলে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বাড়ে। ”
দ্বিতী ভ্রু কুঁচকায়। সঙ্গে সঙ্গেই বলল,
“ আপনার প্রতি তো আমার ভালোবাসাই নাই, বাড়া কমা তো দূরের কথা। ”
কথাটুকু বলেই পানি খেয়ে উঠতে নিচ্ছিল দ্বিতী। সাক্ষ্য প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বউয়ের কোমড় চেপে ধরে বসাল পাশে। ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলল,
“ আমার প্রতি না থাকলেও চলবে, কিন্তু আপনার স্বামীর প্রতি ভালোবাসা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। বুঝলেন? ”
দ্বিতী ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল এবারে,
“ আপনার বুঝি আপনার স্ত্রীর প্রতি অনেক ভালোবাসা? কই? কোনদিন তো চোখে পড়েনি। ”
“ আপনি যে আগে থেকেই কানা, তা বলতে হবে না। যে হারে মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকেন কানা না হয়ে কি করবেন? ”
দ্বিতী মুহূর্তে চটে গেল। প্রশ্ন ছুড়ল,

“ কাকে কানা বলেছেন? আমাকে? ”
“ ছিঃ, নাহ। ”
“ আপনি কানা মিস্টার সাক্ষ্য এহসান। আমি বুঝি না ভার্সিটি হতে আত্মীয় স্বজন সকলে এই কানা সাক্ষ্য এহসানের জন্য কোন দুঃখে পাগল হয়ে যায়। হোয়াই? ”
সাক্ষ্য হাসল ঠোঁট চেপে। ভ্রু নাচিয়ে দ্বিতীর দিকে চেয়ে বলল,
“ আপনি কোন দুঃখে পাগল হয়েছিলেন ম্যাম? ”
“ কে বলেছে আমি পাগল হয়েছি? এর চেয়ে ভালো তো বুড়িগঙ্গা নদীতে ঝাপ দিয়ে মরা। ”
এইটুকু বলতে বলতেই সাক্ষ্য হুট করেই দ্বিতীর কোমড় ছেড়ে সেজা হয়ে বসল। মুখচোখ হুট করেই গম্ভীর হয়ে এল। পাশ থেকে তখনই এল সাক্ষ্যর আম্মু। কি ভদ্র ছেলে সেজে গেল মুহূর্তে। দ্বিতী যেন অবাকই হলো এমন রূপ দেখে। কিছু বলতে নিতেই সাক্ষ্য গম্ভীর স্বরে বলল,
“ আম্মু? তোমার বান্ধবীর মেয়ে তো খাবার খায়নি। পরে পেটে ক্ষিধায় সেন্সলেস হয়ে না বদনাম ছড়ায়। ”
দ্বিতী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল,

“ ভুলকথা সাজি আম্মু। খেয়েছি আমি। ”
সাক্ষ্যর আম্মু চোখ ছোট ছোট করে চাইল। প্লেটের দিকে চেয়ে বলল,।
“ ঐটুকু খাবারে পেট ভরেছে মা? সারাদিন কত ছাপ যাবে। খেয়ে নে পেট ভরে। পরে কোন দুপুরে খাবি। ”
“ এখনও প্রায় দুপুরই তো সাজি আম্মু। ”
“ দুপুর তো কি? পরে ক্ষিধেতে মাথা টাথা ঘুরে পড়ে যাবি আম্মু। খেয়ে নে।”
এইটুকু বলেই কাজের ব্যস্ততায় আবার চলে গেলেন। সাক্ষ্যর গম্ভীর মুখ ফের আগের মতো হয়ে গেল। হেসে হাত বাড়িয়ে চামচে খাবার তুলে বলল,
“ হা করুন, খাইয়ে দেই। ”
দ্বিতী শুধু কটমট করে চাইল। কি নাটকবাজ। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ গিরগিটি। ”
সাক্ষ্য হাসে। চামচের খাবারটুকু দ্বিতীকে খাইয়ে দিয়ে বলে,
“ কি? টেস্ট না? স্বামীর হাতের খাবারে দারুণ টেস্ট থাকে। ”
“ হু দারুণ টেস্ট। একদম গলা চেপে ধরার মতো টেস্ট। ”

সাক্ষ্য আর কথার রিসিপশনের অনুষ্ঠানটা অন্য একটা জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে। আত্মীয় স্বজনে মোটামুটি ভীড়ই। কথার পরনে মেরুন রঙের শাড়িটা মেয়েটাকে সত্যিই মানিয়েছে। গোলগাল আলুথালু শরীরটায় লাগছে পুতুলের মতো। সে সাজটা চেঞ্জ করল না সে কারোর কথাতে। বরং ওভাবে থেকেই খুঁজতে খুঁজতে সাম্য বন্ধু নিহালের কাছে এল। জানতে চাইল,
“নিহাল ভাই, সাম্য ভাই কোথায়? দেখেছেন? মামনি ডাকে।”
“ বোধহয় রাস্তার আছে। ডেকে আনব? ”
“ রাস্তায়? কেন? ”
“ কিসের জন্য যেন পাঠানো হয়েছিল ওকে। ”
কথা শুনল। বলল,
“ আচ্ছা আমি গিয়ে দেখছি। ”
কথা গিয়ে দাঁড়াল রাস্তায়। অপেক্ষা করল সাম্য কখন ফিরবে। অতঃপর তার একটু পরই দেখা গেল সাম্য ফিরল। কিন্তু সমস্যা হলো, যখন ফিরল রাস্তার একধারে একদল ছেলেকে দেখল কথার দিকেই তাকিয়ে থাকতে। তাও বিশ্রী চাহনিতে। সাম্যর মেজাজ খারাপ হলো বোধহয়। কয়েক পা বাড়িয়েই কথাকে বলল রূড় ভাবে,

“ব্যবলার মতো দাঁড়াই আছিস কেন এখানে? চোখ নাই তোর? ”
“ মানে? ”
“ তোর মাথা। যা ভেতরে যা। ”
“ তোমাকে আম্মু ডাকে সাম্য ভাই। ”
সাম্য মেজাজ দেখিয়েই বলল,
“ ভালো। ভেতরে যা এবার। খালি খেয়ে খেয়ে হাতি হলেই হয়না কথা। মাথায় বুদ্ধিসুদ্ধিও থাকতে হয়। তুই নাকি মেডিকেল স্টুডেন্ট। অথচ তোর মতো গর্দভ আমি দুটো দেখিনি। ”
কথা আকস্মিক মেজাজ দেখানোর মানে বুঝল না। সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞেস করল,

“ কি করেছি আমি? ”
“ শাড়িটা চেঞ্জ করিসনি কেন? বিশ্রী দেখাচ্ছে তোকে শাড়িটায়। ”
“ জানি। কিন্তু আমার যেহেতু পছন্দ হয়েছে আমি শাড়িটা কেন পরব না সাম্য ভাই? কারো মনোরঞ্জন করতে তো শাড়ি পরিনি আমি। ”
“বাহ! আব্বুর ভদ্রভোলা মেয়ে এখন ফটরফটর করে কথাও বলে। আর আব্বুর সামনে তো এমন মুখ করিস যেন কথা বলতেই জানিস না তুই। ”
“ জানি না তো। আমার কষ্ট হয়, কান্না পায়। কলিজা এপোড় ওপোড় হয়ে যায়। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় জানো? আর কত? এসব বুলিংয়ে আমি ক্লান্ত সাম্য। ”
এইটুকু বলেই কথা ভেতরে গেল। দঁড়াল না। সাম্য ততক্ষনে পা এগিয়ে ছেলেগুলোর সামনে গেল। হাতটা ঝেড়েঝুড়ে ফু দিয়ে পরপরই তিন তিনটা ছেলের গালে থাপ্পড় বসাল। দাোত কেলিয়ে বলল,

দুইজনাতেই পর্ব ৩০

“ মেয়ে দেখিসনি শালা? নাকি কখনো মেয়েমানুষের বুক কেমন হয় জানতিস না? জুতা চিনিস? আমার বাড়ির মেয়ের দিকে চোখ দিস কোন সাহসে জানোয়ার? ”
পরমুহূর্তেই নিজের ডান পায়ের জুতোটা খুলে সমান তালে জুতা দিয়ে আঘাত করল। করতে করতেই বলল,
“ দিবি চোখ? আরো কখনো কারোর দিকে বিশ্রী নজরে চাইবি? ”
সাম্য থামল না। একের পর এক জুতোর আঘাত দিতে দিতেই পেছন থেকে সাম্যর বন্ধুরা এসে ছাড়িয়ে নিতে চাইল ভীষণ করে। অথচ সাম্য থামবার পাত্রই নয়। রাগে যেন কাঁপছে ছেলেটা।

দুইজনাতেই পর্ব ৩১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here