নীতিহীন রাজ পর্ব ১১
আশিকা আক্তার সোহাগী
মানুষকে বানানোর সময় আল্লাহ বিভিন্ন ফেরেস্তাকে পৃথিবীতে পাঠান মাটি আনার জন্য। কিন্তু মাটি নিজেই তার থেকে মাটি দিতে রাজি হয়নি।একে একে যখন সব ফেরেস্তা বিফল হলো।তখন আল্লাহ আজরাইল (আঃ) কে নির্দেশ দিলেন। তারপর আজরাইল যখন মাটি আনতে গেলো একইভাবে মাটি নিষেধ করলো। কিন্তু আজরাইল আল্লাহ হুকুমের বাহিরে যাবে না। তাই এক প্রকার ছিনিয়ে মাটি নিয়ে গেলেন আল্লাহর কাছে। আর আল্লাহ তখন তার এই কাজের জন্য তাকেই জান কবজের নির্দেশ দিলেন।কারণ কেউ যখন মাটি আনতে পারেনি একমাত্র আজরাইল পারলো তাহলে জান কবজের মতো কঠিন কাজ একমাত্র তারই হোক।
তখন মাটি রাজি হয়নি কারণ , তার ভেতরে অসংখ্য রোগজীবাণু আছে। সেই মাটি দ্বারা মানুষ বানানো হলে রোগেশোকে জীবন চলে যাবে।
এইজন্যই মানুষের এই ছোট্ট দেহে অসংখ্য জানা অজানা রোগের বাস। সবচেয়ে জটিল রোগ হচ্ছে মস্তিষ্কের। তেমনই একটা রোগ হচ্ছে নিউরোসিস।
নিউরোসিস বা সাইকোনিউরোসিস এমন একটা রোগ যেটার বাহ্যিক কোন উপসর্গ নেই। কিংবা রোগীর পাশের ব্যাক্তিটিও কখনো বুঝতে পারে না যে সে এই রোগে আক্রান্ত। আক্রান্ত রোগীর বাস্তবিক জ্ঞান বুদ্ধি ,চাল চলন সবকিছু আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতোই থাকে। তবে এরা মনে মনে প্রচুর সন্দেহ প্রবণ হয়ে থাকে। কাউকে বিশ্বাস করতে না পারা এবং সবাই তার ক্ষতি করবে এই মনোভাব পোষণ করে। শুচিবাই সমস্যা কিংবা ফোবিয়ার মতো জটিল কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়। নিদ্রাহীন অতি কমন আরেকটি বৈশিষ্ট্য। প্রতিটা সমস্যা নিজেই সমাধান করার চেষ্টা করে। কখনো কখনো নিজের সমস্যা নিজেই অস্বীকার করবে। ডাক্তার কিংবা মেডিসিন এদের ঘোর শত্রু।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
সুখনীল নিবিড় নিউরোসিস রোগে আক্রান্ত।নারী শরীর দেখলে তার ফোবিয়া হয়। নিজের মায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত সংসারের অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান সে।সাথে মায়ের পরকীয়া ,পুরো পরিবারের খু*ন হওয়া দৃশ্য ছোটবেলায় চোখের সামনে দেখায়, মস্তিষ্ক তাকে আর স্বাভাবিক থাকতে দেয়নি।আজ পর্যন্ত কোন নারী শরীর সে ছুঁয়ে দেখেনি।যে সকল নারী তার কাছে নিজেকে মেলে দিতো ,সাথে সাথেই তার ফোবিয়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠতো। প্রতিবার বেল্ড কিংবা চিকন বাশের লাঠি দিয়ে প্রহার করতো সারারাত।যে পর্যন্ত না আহত ব্যাক্তি জ্ঞান হারাতো কিংবা অন্য কেউ এসে নিবিড়কে থামাতো। ততক্ষণ সে মেশিনের মতো প্রহার করতেই থাকতো। মক্কু বদি সজীব শুধু জানে তার এই ফোবিয়ার কথা। সমুদ্র জানে না। সমুদ্র তার আপন মামাতো ভাই প্লাস বন্ধু। কিন্তু চরিত্র লা জবাব।অনেক মেয়ে নিবিড়ের কাছে এলে সমুদ্র তাদের সাথে ফুর্তি করেছে।এমনকি মিস তামান্নাও সেইম। সে থেকে তামান্নার সাথে সমুদ্রের ঘনিষ্ঠতা।
জিয়ানার প্রতি নিবিড়ের দূর্বল হওয়াটাও স্বাভাবিক কারণ জিয়ানা আর দশটা মেয়ের মতো না। চালচলন কথা বার্তা ,পছন্দ অপছন্দ একেবারে গতানুগতিক কোন মেয়ের কাতারেই পড়ে না। প্রিয় ফুপুর আদলের মেয়েটা মন মস্তিষ্কের সেন্ট পার্সেন্ট জুড়ে দখল করে নিয়েছে।তাছাড়া বদি আর মক্কুর মনিচাইজিংয়ে জিয়ানার অসংখ্য জিনিস নিবিড় জেনেছে। জিয়ানা তাদের পুরাতন বাসার আশেপাশে বেশ কিছুদিন ঘুরাফেরা করেছে। টোকাইদের দিয়ে বর্তমান নূর ভিলাতেও নজর রেখেছে। তাছাড়া আজ কাক ডাকা ভোরে থানার ডাকবক্সে কিছু একটা রেখে এসেছে। নিবিড়ের কাছে জিয়ানা একটা কমপ্লিট মিসটিরি বক্স। তাকে জয় করার নেশাও একপ্রকার কাজ করে নিবিড়ের মাঝে।প্রথম দিকে আগ্রহ না থাকলেও রাফিনের জিনিস কেড়ে নেয়ার জন্য হঠাৎ যখন জিয়ানাকে নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করলো ,আস্তে আস্তে কৌতূহল ,তারপর ভালো লাগা ,ভালো লাগা ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিনত হলেও বর্তমানে সেটা আসক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে।জিয়ানার আশেপাশে কোন ছেলেকে সহ্য করতে পারে না। এমনকি আজ আরও একটা ভয়ংকর কাজ করে ফেলেছে ,জিয়ানার ফোন ট্যাক করে রেখেছে।
তিমিরের কালো বর্ণের আজ কোথাও সাদার ছিটেফোঁটা নেই। ঘোর অন্ধকারে শিহরণ জাগানো বাতায়নে খোলা বুকে সিনা টান করে ,হাতে মুঠো ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে রাফিন।আজ তার খোলাখুলি উত্তর চায়। তারপর নাহয় বাবার সম্মুখীন হবে। দুইবার কল দেয়ার পরেও পিক করেনি হলির ধুমকেতু। হ্যাঁ রাফিন জিয়ানার নাম দিয়েছে হলির ধুমকেতু। এই মেয়েকে না ধরা যায় ,না ছোঁয়া।মনে হয় শত শত আলোক বর্ষ দূরে কিংবা সর্বত্র বিরাজমান অথচ কোথাও নেই। আবার কল দিয়ে চোখের সামনে এনে রাখলো ফোনটা।
“বলেন।”
“বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে জিয়ানা তুমি এখনো আমাকে ক্লিয়ারলি কিছু বলোনি। প্লিজ আজ হেয়ালি করো না।আমার সারাজীবনের ব্যাপার জড়িয়ে আছে এতে।”
“স্যার আমি তো ক্লিয়ারলি বলেছি। আর কিভাবে বলবো। আমি আপনার সাথে রেগুলার কথা বলতে চাই না কারণ আজ কথা বলবো ,কাল দেখে করতে চাইবেন। দেখা করলে ধরাধরি ,তারপর ঝাপ্পি-পাপ্পি। ওইসব আমার দ্বারা পসিবল না স্যার। আর বিয়ে করতে তো হবেই। আজ হোক কাল।”
“আমার অন্য কাউকে বিয়ে করা পসিবল না। তাহলে সানজানাকেই বিয়ে করতে পারতাম।আ’ম অবসেস উইথ ইউ। ”
“আপনার পছন্দ যে লা জবাব সেটা আমার চেয়ে কে ভালো জানে। তানাহলে সানজানা আপুকে কেউ ডিচ করে? অবসেস ফবসেস বলতে কিছু না। তিন কবুল যার নামে বলবেন দেখবেন মন সায় না দিলেও একবছর পর অংকুরিত হয়ে কেউ আপনাকে আব্বা ডাকছে। আর সমাধান যদি চান তাহলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। আমি আফগানিস্তানের রাজধানীর নাম তিনবার বলে দিবো। ”
রাফিনের হঠাৎ মনে হলো আকাশটা হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। অতি আনন্দিত হলে মানুষ মাঝেমাঝে স্তব্ধ হয়ে যায় ,রাফিনের অবস্থাও ঠিক তেমন হলো। কোন শব্দ আসছে না দেখে জিয়ানা আবার বলে,
“এই হলো বয়স্ক মানুষ নিয়ে সমস্যা ,হ্যালো স্যার! স্টোক স্ফোক করলেন নাতো। দূর কি যুগ রে বাবা, পিতৃ সমতুল্য স্যার ছাত্রীর পেছনে ঘুরে। ”
এইবার রাফিন ভারি গলায় বলে উঠলো ,
“একবার তোমাকে কাছে পাই জিয়ানা বিশ্বাস করো এইভাবে জ্বালানোর বদলা ভয়ংকর আদরে আদরে উসুল করবো।”
“ছিঃ কি অশ্লীল এই ব্যাটা। আল্লাহ হাফেজ ” বলে গট করে কেটে দিলো জিয়ানা।
আর রাফিন ছাদের ফ্লোরে শুয়ে পড়ে হোঁ হোঁ করে আট্টহাসিতে ভেঙে পড়লো। ছাদের গরম ফ্লোর আজ মনে হচ্ছে গরম নরম রসগোল্লা। আহ জীবন সুন্দর।
সাইক্লিং এর জন্য জিয়ানার অলিগলির রাস্তা সব মুখস্ত ঠোঁটস্ত। বস্তির একটা দুধের বাচ্চা রেখে মা মারা গেছে ,বাপটা হেভি খেকর। সে সাতদিনেই আরেকটা বউ জুটিয়ে ফেলেছে। এখন এই বাচ্চার দ্বায় দ্বায়িত্ব নিচ্ছে না।রাব্বির কাছে শুনে আজ বাচ্চাটাকে একটা অরফানে রেখে আসলো।জিয়ানার হিসেব মিলে না ঠিক এই জায়গায়। এই গরীব গুলার বছরের ছাগলের মতো চার পাঁচটা করে বাচ্চা পয়দা করার ক্ষমতাটা ঐশ্বরিক নাকি।এদিকে শালা বড়লোকেরা একটা বাচ্চার জন্য খেদিয়ে মরে। কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালে কামের কাম কিচ্ছু হয় না। ভালো খেয়ে পড়ে কি এদের মেশিনারিজ সব নষ্ট হয়ে যায় নাকি।হঠাৎ সাইকেলে পা চালানু বন্ধ করলো একটা ভাবনায়। রাফিনের তো ত্রিশ আপ এই ব্যাটার সব ঠিকঠাক আছে? নাকি জং ধরে গেছে? ফিক করে হেঁসে দিলো দিয়ে মনে মনে আওড়ালো
“ন্যাস্টি মাইন্ড ”
হঠাৎ একটা কাকিয়ে উঠার শব্দ শুনে কান খাড়া করলো জিয়ানা। ডানের বাকে সাইকেল হাটিয়ে নিয়ে নিশ্চুপ পায়ে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে শব্দের উৎসের হদিস করতেই চমকে গেলো।
মিস তামান্নাকে কয়েকজন মিলে জোরজবরদস্তি করে একটা কালো হাইস গাড়িতে উঠাচ্ছে। জায়গাটা পুরাতন জিনিসের গোডাউন বলে মনে হচ্ছে। একেবারেই নিরিবিলি। কিডন্যাপার পাঁচজন,এতজন পুরুষের সাথে সে পারবে না। চট করেই নিবিড়ের মুখটা চোখে ভেসে উঠলো। যেনো ঘাড় বাকিয়ে সুরমা পড়া এক চোখ সহ ভ্রু কপালে উঠিয়ে জিজ্ঞেস করলো ,
“কি?হুম?”
আনমনে হেঁসে দিলো জিয়ানা। মস্তিস্কের খেলা বড্ড গোলমেলে।তানাহলে ঝামেলায় পড়লেই এই ভণ্ড নেতার কথা মাথায় আগে আসতে হবে কেনো? ফটাফট ফোন বের করে কল দিয়ে এগিয়ে গেলো সেদিকে
“কাবলিওয়ালা চাপাতলি বস্তির পাশের কাশেমের লন্ডির গলির ডান চিপায় আপনার এক্স নায়িকা তামান্নাকে কিডন্যাপের চেষ্টা করা হচ্ছে। চার পাঁচজন মিশা সওদাগর আছে তাই আমি একা পারবো না। সাহায্য পাঠান। আল্লাহ হাফেজ। ”
ফোনটা ব্যাগে ভরে ,চেইন আটকিয়ে ,দুই হাতে শক্ত করে ব্যাগের হাতল ধরে “ওই” বলে শিষ দিলো।
গুন্ডাদের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় হাত থেমে জিয়ানার দিকে তাকালো সবাই। তামান্নার হাত আর মুখ বাঁধা।জিয়ানা কালক্ষেপণ না করে ব্যাগ দিয়ে সামনের জনের মুখে দিলো এক বাড়ি।পাশেরটার পেটে একটা লাত্থি দিলো ,কক করে একটা শব্দ হলো। কাকিয়ে উঠে বসে পড়লো লোকটা।
তামান্না অবাক চোখে চেয়ে দেখছে জিয়ানার কৌশলের মারপিট। তামান্নাকে ছেড়ে দুইজন এগিয়ে এলো। একজন পকেট থেকে একটা ছুড়ি বের করে মুখে খুব বাজে ভঙ্গি করে জিয়ানাকে বলে,
“মুরগী হাটি হাটি পা পা করে নিজেই শেয়ালের কাছে চলে আসছে দেখি। তা মামুনি মাস্কটা সরাও অ্যাকশন হিরোইনকে একটু দেখি। ”
ততক্ষণে মার খাওয়া দুইজন উঠে দাঁড়িয়েছে। জিয়ানা নিজেকে তামিল হিরো ভাবতে শুরু করলো। পদার্থ বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হিসেব করছে ,বুলেট গতিতে কিভাবে এদের কুপকাত করা যাবে।আস্তে করে চেইন অল্প খুলে হাত ঢুকালো ব্যাগে। কাঙ্ক্ষিত বোতলটা ধরে বলে উঠলো ,
“এই হিরোইনকে ছাড়। ওই ম্যাডামকে দিয়ে কি কাজ? উনার সাথে জবরদস্তির কি আছে? একে একে গেলেই তো পাবি সব। উনি অনেক উদার কাউকে ফেরান না।তাই না মিস তামান্না উপস সরি মিসেস কাঞ্চন? ”
তামান্না সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে জিয়ানার দিকে বেচারি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।এরমাঝে একজন ভিলেন ফট করে এগিয়ে এসে জিয়ানাকে ধরবে ,এমন সময় ব্যাগ থেকে হাত বের করে পেপার স্প্রে করলো চোখে। ছিটকে আর্তনাদ করে পড়ে গেলো সে।পাশের জনকেও স্প্রে মারলো কিন্তু সে আগে থেকেই সাবধান হওয়াই কাজ হলো না। ডান সাইডের একটু পেছন থেকে এসে এক জন খুড় দিয়ে হাতে একটা টান দিলো। জিয়ানা বুঝে উঠে সড়ে যাওয়ার আগেই খুড়ের আঁচড় ডান হাতের বাহুতে লেগে গেছে।দুইপা পিছিয়ে হাতের দিকে না তাকিয়েই এক পা দিয়ে লোকটার গোপন অঙ্গে একটা কিক করলো। লোকটার চোখ মনে হয় ট্যারা হয়ে গেলো জায়গা মত মার খেয়ে।
হাতের জ্বলুনিতে টের পেলো রক্তে ভিজে উঠছে শার্টটা। জিয়াউল বলেছে ,
“যুদ্ধে কখনো আঘাত প্রাপ্ত হলে সেদিকে মনোযোগ দিতে নেই ,তাহলে সফল হওয়ার চান্স ফিফটি পার্সেন্ট কমে যায়। আঘাতটাকে যদি শক্তিতে রুপান্তর করতে পারো তবে তুমি নিশ্চিত জয়ী।”
কিন্তু জিয়ানার এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে স্বস্তা ডায়লগ সেটা। আঘাত আবার শক্তি হয় কিভাবে?হাতটা ব্যাথায় ছিড়ে যাচ্ছে ,এখন যদি সে মনে করে এটা ব্যাথা না কেউ বরফ ঘষে আরাম দিচ্ছে সেটা কি ফ্যান্টাসিতে ভোগা হয়ে যাবে না। আব্বু ওয়াজ রং। আঘাত ইজ আঘাত। এটা কখনো শক্তি হতে পারে না।আজ যদি বেঁচে ফিরে তবে আব্বুর ফিলোসোফির একটা ভুল তা প্রমাণ করতে পারবে।
একজন এসে জিয়ানার পেছন থেকে শক্ত করে ধরে ফেললো। জিয়ানা হায় হায় করে উঠে বলে,
“আরেহ হারামজাদা শুকরিয়া তোকে এইভাবে ধরে আমার সাহায্য হলো এতে। ”
ততক্ষণে দুইজন সামনে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো
“এত তেজ আর শক্তি কোথায় পেয়েছো মামুনি? আমরা এক্ষনি কমিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করছি। আর কি সাহায্য লাগবে মামুনি?” ।
একজনের সাপোর্ট পেয়ে জিয়ানা নিজের দুই পা শূন্যে তুলে কাছের জনের বুক বরাবর লাত্থি দিলো। পাশেরটাকে দুই পায়ের মাঝখানে বাজিয়ে একটা মোচড় দিলো। ফলে পেছনের হাত ধরা ছিটকে পড়লো সাথে জিয়ানাও মাটিতে পড়ে ডিগবাজি দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।
তখন তিনিটা বাইকের শব্দে ফিরে তাকিয়ে দেখে, নিবিড় ,মক্কু ,বদি ,সজীব,সমুদ্র আর একজন অচেনা ছেলে তিনটা বাইকে করে এসে দাঁড়ালো।
পাঁচ পান্ডার এবার কাচুমাচু শুরু হলো।জিয়ানার আঘাতে তারা কুপকাত। এখান থেকে পালানোরও জায়গা নেই। জিয়ানা বুঝে গেছে তার আর এখানে কাজ নেই। তাই মাটি থেকে ব্যাগ আর বোতল ,ক্যাপ তুলে ঝেড়ে নিলো। ব্যাগে সব ভরে সাইকেলের কাছে চলে গেলো। এখন তার শরীর টলছে। হঠাৎ মনে হলো ক্যাম্পাস থেকে তাড়াহুড়োই বের হয়ে যাওয়াই দুপুরের মিল মিস করেছে। এখন আবার ব্লাড লসে শরীরে হইতো সুগার ফল করছে।
সমুদ্র দৌঁড়ে তামান্নার কাছে গেলো। মক্কু আর বদী গুন্ডা গুলোকে কয়েক ঘা দিয়ে মাটিতে বসিয়ে রেখেছে। নিবিড় বাইকের কাছেই হাত বুকে বেধে দাঁড়িয়ে জিয়ানাকে দেখছে। সজীব এগিয়ে এসে জিয়ানার কাছে দাঁড়াতেই আর্তনাদ করে উঠলো,
“জিয়ানা তোমার তো পুরা শার্ট ভিজে গেছে ব্লাডে। বাইকে উঠো এখনই হাসপালে যেতে হবে।”
জিয়ানা হাত উঠিয়ে বলে
“ইটস ওকে ব্রো। নাথিং সিরিয়াস। বাড়ি গিয়ে ড্রেসিং করলেই কেল্লা ফতে। ইটস নট আ বিগ ডিল।”
বলে সাইকেলে হাত দিয়েছে। তখন হঠাৎ ভুলে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে
“ওহ নো সিট।” বলে ঢলে পড়ে গেলো মাটিতে। সজীব হাত বাড়িয়েছে জিয়ানাকে ধরবে তখনই পেছন থেকে তার শার্টের কলারে টান দিয়ে কেউ পেছনে সরিয়ে দিলো। সজীব ব্যালেন্স হারিয়ে মাটিতে বসে পড়লো। নিবিড় এগিয়ে গিয়ে পকেট থেকে রুমাল বের করে জিয়ানার হাত বেধে দিলো। তারপর কাপা হাতে গালে এক আঙুল দিয়ে টেপ করে ডাক দিলো
“এ্যাই গুন্ডি মেয়ে। এ্যাই যে। চাঁদ? ”
কয়েকবার হাত বাড়িয়ে আবার হাত গুটিয়ে নিচ্ছিলো দেখে সজীব বলে,
“ভাই সর তোর অপেক্ষায় বসে থাকা ঠিক হচ্ছে না। এইটুকু শরীরে আর কত টুকু রক্ত থাকে? সব পড়ে যাচ্ছে। আমার শ্বশুড়ের ট্রেনিং প্রাপ্ত সোলজার এইভাবে আমার সামনে মরে গেলে ,তার বড় মেয়ে আমাকে ফাঁসি দিবে। আমাকে নিতে দে। সর ভাই। ”
নিবিড় খপ করে জিয়ানার হাত ধরে একটানে পাজকোলে তুলে নিয়ে হনহনিয়ে হাটা ধরলো। সজীব বদী আর মক্কু স্তব্ধ হয়ে চেয়ে দেখে পরক্ষনেই বদী সজীবকে ইশারা দিলো তার সাথে যেতে। তারা এই দিক সামলাবে।
নিবিড় হাঁটছে ঠিকই কিন্তু হঠাৎ তার অন্তর্গত কোন্দল শুরু হলো। যে চোখ আর বজ্র কঠিন হৃদয় নারী শরীর দেখলেই ঘৃণায় রিরি করে উঠতো।সে বলবান হৃদয় ছোট্ট নরম নারী শরীরের স্পর্শে কেমন অসার আর অবশ অনুভূত হলো।
টেনে টেনে পা ফেলতে হচ্ছে।পা দুটো কয়েক মণ ভারী মনে হচ্ছে।
একবার ভাবলো ফেলে দেবে রাস্তায়। এইসব আদিখ্যেতা সুখনীল নিবিড়ের ডিকশনারিতে নাই। পরক্ষণে ভাবলো থাক। প্রাণখোলে অনেকবার হাঁসানোর জন্য এইটুকু করায় যায়।
রাফিন মামুন ইসলামের রুমের কাউচে বসে আছে মাথা নিচু করে। মামুন ইসলাম রাফিনকে কিছু কথা বলবে ,তাই ডেকে পাঠিয়েছেন।
“আমি তোমাকে আমার মন মতো মানুষ করেছি।পিতা হিসেবে যত রকম ফ্যাসিলিটি দরকার সব দিয়েছি।এবং তুমি একজন চমৎকার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠেছো। আমি অবশ্যই অনেক গর্ববোধ করি তোমাকে নিয়ে। সেই গর্বের জায়গা থেকে একটা জিনিস চাইবো তোমার কাছে বাবা।বিনিময়ে চাচ্ছি না কিন্তু! পিতা তার পুত্রের কাছে একটা আর্জি জানাচ্ছে শুধু তুমি কি সেট পূরণ করবে রাফিন?”
রাফিনের কাছে এই মানুষটা অতি শ্রদ্ধার। মানুষ্যতের প্রতীক। নিজের পিতৃবিয়োগের পরও আপন ছায়ায় আগলে রেখেছেন দুই ডানার নিচে।যেমনটি করে একটা মা পাখি তার সন্তানদের আগলিয়ে রাখে ঠিক তেমন করেই। উনি একটা কিছু চাইবে আর রাফিন সেটা দিবে না তা কখনোই হবে না। মাথা অল্প উঁচু করে বলল,
“বাবা আপনার আর্জি হবে কেনো?আমাকে আদেশ করুন। আমি সবসময় চেষ্টা করবো আপনার গর্বের কারণ হতে। ”
“মারহাবা। এই না হলে আমার পুত্র।” বলে একটা A4 সাইজের ফটো বেড সাইট টেবিলের ড্রয়ার থেকে বের করে রাফিনের হাতে দিয়ে আবার বললেন,
“এই মেয়েটা খুব অসহায়। কয়েকমাস আগে তার বাবা মারা গেছে।আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন উনি। এখন দুইটা মেয়ে নিয়ে তার মা খুবই বিপদে আছে। আমি বড় মেয়ে সাফাকে তোমার বউ হিসেবে সিলেক্ট করেছি।”
ধক করে উঠলো রাফিনের পাজরের ভেতরের ব্লাড সার্কুলেশনের মেশিনটা। হাত উপরে উঠালে যেমন চারটা চেম্বারের ব্লাড সার্কুলেশন শুরু করে ,ঠিক তেমনই রাফিনের মনে হচ্ছে। ভেতরবাড়ির প্রচন্ড অস্থিরতা বাহিরে প্রকাশ না করে ফটো টা নিজের দিকে টেনে নিয়ে এক পলক দেখলো। কিন্তু হায় এখানে তো জিয়ানার মুখ দেখা যাচ্ছে।মনে হচ্ছে চোখ মেলে রাফিনকে বলছে “কি স্যার বিয়ের দাওয়াত দিবেন না?”
ফট করে মাথা তুলে রাফিন বলে বসলো
“বাবা এই মেয়েটাকে খুব অল্প বয়সী মনে হচ্ছে। ”
“আঠারো হয়েছে। আর মেয়েদের বয়স অল্প হলেই ভালো। এরা সংসারী হয়। সাথে লক্ষ্মীমন্ত হবে। বয়স বেশি মেয়েদের মাঝে একটা পুরুষসত্ত্বা চলে আসে। তখন এরা আর পার্টনারের কথা দাম দেয় না। অল্প বয়সী মেয়েরা হচ্ছে নরম কাদার মতো। যেমন ইচ্ছা গড়ে নেয়া যায়। ”
“বাবা আমার একটু সময় লাগবে। ভেবে জানাবো আপনাকে।”
“সে তুমি নিতেই পারো। কিন্তু আমি যে একটা অপরাধ করে ফেলেছি রাফিন।”
রাফিন চুপচাপ মামুন ইসলামের মুখের দিকে চেয়ে বুঝার চেষ্টা করলো ,পরবর্তিতে কি বলতে পারেন।হিয়া বড্ড আনচান শুরু করলো তার। এক আর ভাবলো এখনই জিয়ানার কথা বলে দিবে। আবার ভাবলো সময় নিয়ে আস্তেধীরে বলাই ভালো হবে।
গলা খাকড়ি দিয়ে মামুন ইসলাম বললেন,
“কাল আমি শফিকুলের মেয়ে মানে সাফাকে দেখতে গিয়ে কথা দিয়ে এসেছি। এমন কি তাদের অসহায়ত্ব দেখে আমার হাতের আংটি দিয়ে চিনিপান করে আসছি।আমি কি ভুল করে ফেলেছি বাবা?”
রাফিনের হঠাৎ মনে হলো পায়ের নিচের মাটিতা নড়ে উঠলো। ভূমিকম্পের ন্যায় শরীরে একটা ঝাকুনি অনুভূত হলো যেনো। সকল কিছু সাইডে রেখে আস্তে করে মাথা দিয়ে না করে বুঝালো কোন ভুল হয়নি।
মামুন ইসলাম সন্তুষ্টি চিত্তে বলে উঠলেন,
“তাহলে সামনের শুক্রবার আকদটা করে ফেলবো। ”
রাফিন আস্তে করে উঠে রুমের বাহিরে বের হলো। একজীবনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ যে এই ভাবে আসবে সেটা কালক্রমেও কি চিন্তা করেছিলো। সত্যি জীবন আনপ্রেডিক্টেবল।
“তোমাকে নুয়ান্স শিখতে হবে জিয়ানা। সব জায়গায় বেকুবের মতো ঝাপিয়ে পড়লেই হবে না।ইউ স্যুড প্র্যাক্টিস মোর। ”
বলে কঠিন মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে জিয়াউল হক। জিয়ানা বুঝলো বাপের মাথা গরম আছে। কারণ উনার মেজাজ কেবল হাই থাকলেই তাদেরকে তুমি করে বলে ডাকে।হাসপাতালে বেডে শুয়ে দেয়ার পর জিয়ানার সেন্স আসছে। অবশ্য তার এই বেহেড হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা অদ্ভুত। কান আর মস্তিষ্ক সচল থাকে। মানে সে সব শুনতে আর বুঝতে পারে কিন্তু শরীরের কোন সার থাকে না প্লাস তাকাতে পারে না। হিমোগ্লোবিন কম থাকায় ছোটবেলায় একবেলা মিল মিস দিলেই টপাটপ ফিট খেতো। অবশ্য স্কুলের এসেম্বলিতে ফাঁকি মারার জন্য মাঝেমধ্যে ভং যে করতো না ,তানা। তাতে বেশ ফায়দামান হতো। কিন্তু জিয়াউলের রিটায়ারের পর তার জীবন ত্যানা পোড়া করে ছেড়েছে বাপ রুপি এই ক্যাপ্টেন হাংক। জেনি জিয়ানার কাছে এসে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বাবার উদ্দেশ্য বলে,
“আহা আব্বু এখন বকো নাতো। কতটুকু রক্ত পড়েছে দেখো মুখটা কেমন ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে।”
জিয়ানা একটা ফাষ্টক্লাস হাঁসি দিলো। তারপর উঠে বসে চারপাশ দেখতে লাগলো। সরকারি হাসপাতাল মনে হচ্ছে। কারণ হাসপাতালের অবস্থা হচ্ছে ঠিক
“কোম্পানিকা মাল দরিয়া মে ডাল “টাইপ। বিশাল বড় রুম কিন্তু বেড কয়েকটা। আবার মোজাইক করা ফ্লোর। জিয়ানা আশেপাশে তাকিতুকি করছে দেখে জেনি জিজ্ঞেস করলো
“কিছু লাগবে?ওয়াশরুমে যাবি?”
“ভন্ড গুলা কই আপি? ভণ্ড নেতা আমাকে রাস্তায় ফেলে দিতে চেয়েছিলো। বেটা তোর প্রেমিকাকে বাঁচালামা কই কৃতজ্ঞ হবি তানা , নিমকহারাম কাবলিওয়ালা কোথাকার। ”
“ওই কি বিড়বিড় করিস?তুই কি মাথায় আঘাত পেয়ে পাগল হয়ে গেলি?”
“তোমার ওন্দা বিলাই ওরফে তব্দা প্রেমিক কই? ”
“জিয়ু। এইসব কি নাম? ”
তখনই আঞ্জুমান আর সজীব ভেতরে এলো। সজিবের হাতে পলিথিন ভর্তি ওষুধ। অঞ্জুমান এসেই জিয়ানাকে চুমু খেলো। উনার চোখ চিকচিক করছে জলে। জিয়ানা হেঁসে বলে,
“বাস কার পাগলি রোলায়েগা কেয়া?”
আঞ্জুমান কাদার বদলে হেঁসে ফেললেন। তারপর পিঠে একটা চড় বসালেন।
“অনেক হয়েছে এইসব। আমার মেয়েকে তুমি এইসব ভুংভাং শিক্ষা দিয়ে পুরা বদলিয়ে দিয়েছো জিয়া। আজ যদি ভয়ংকর কিছু ঘটতো তবে কি হতো ভেবেছো?” জিয়াউলের দিকে তাকিয়ে রাগিরাগি কন্ঠে বললেন আঞ্জুমান।
“অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। ওকে আমি কি গলিতে মারামারি করতে শিখিয়েছি এইসব? ”
“ইটস কল সোসিয়াল এওয়ার্নেস আব্বু। একটা মেয়েকে কিডন্যাপ করছে আর আমি দি গ্রেট জিয়াউলের মেয়ে হয়ে লুকিয়ে দেখবো শুধু? উমহু কাবি নেহি! আর ফিকার নট এইবার ছোট্ট একটা ভুল করেছি কিন্তু নেক্সট সেটা আমার জন্য শিক্ষা সরুপ। আমার মিলটা মিস না হলে এইটুকু ইঞ্জুরিতে জিয়ানার কিচ্চু হয় না।”
সজীব গলা খাকড়ি দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল,
“আংকেল নিবিড় জিয়ানার সাথে একটু কথা বলবে। আসলে কিডন্যাপের ব্যাপার তো থানা পুলিশের ঝামেলা আছে। তাই। ”
“আচ্ছা ঠিক আছে বলুক আমরাও থাকি সমস্যা কি? ”
জিয়াউল জিয়ানার বেডে বসতে বসতে বলে।
তখন নিবিড় এলো।অফহোয়াইট পলো শার্ট পড়া। বুকের একপাশে রক্তের ছাপ স্পট জিয়ানা মাথা ঘুরিয়ে দেখলো।আজ জেল দেয়নি মনে হয়। চুল গুলো বেশ এলোমেলো। জিয়ানার উইগ আর নিবিড়ের চুলের সাইজ সমানই। এই চুলে সুন্দর একটা ঝুটি হবে।কোন দিন সুযোগ এলে এই ভন্ড নেতাকে একটা তালগাছের মতো ঝুটি করে নজর ফোটা দেয়ার শখ জাগলো জিয়ানার। তার শখ কাচের মতো চুরমার হয়ে গেলো নিবিড়ের গমগমে আওয়াজে ,
“এই মেয়ের সাথে আমার একা একটু কথা বলা দরকার। আর্জেন্ট। ”
জেনি ফট করে উঠে দাঁড়ালো ,আঞ্জুমান আগে থেকেই দাঁড়ানো কিন্তু জিয়াউল অনড়। উনার কি মাথা খারাপ উনার মেয়েকে একা রুমে একটা গুন্ডার কাছে রেখে যাবেন। উমহু কদাপি নেহি। আরও চেপে বসলেন। জিয়ানা তার বাপের ভেতরের খবর বুঝতে পেরে ঠোঁট টিপে রাখলো।
“আপনাকে কি আলাদা নোটিশ দিতে হবে মশাই?”
নিবিড় আরও কড়া গলায় বলল।জিয়াউল অতি আশ্চর্য হয়ে দেখলো এই ভদ্র চেহারার অভদ্র ছেলেকে। কাছেকোলের কেউ হলে চাপকে পাছার ছাল তুলে দিতেন। কিন্তু উনার মেয়েকে এই ছেলে হাসপাতালে এনেছে ,সেই কৃতজ্ঞতা থেকে আস্তে করে বাহিরে বের হয়ে গেলো। কিন্তু এই যাওয়া মানে সেই যাওয়া না উনি একদম দরজা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। জেনি আর আঞ্জুমান মুচকি মুচকি হাঁসছিলো। কিন্তু সজীব অতি বিরক্ত। মেয়েদের প্রতি এই সুউচ্চ ভদ্রলোকের বারাবাড়ি রকমের খেয়াল তার ভালো লাগছে না।
নিবিড় জিয়ানার কাছে এগিয়ে গিয়ে অল্প ঝুকে প্রশ্ন করবে তখন খেয়াল হলো জিয়ানার চোখ বাদামী। আমাদের মতো কালো না। এমন কি মনিটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বড়। চশমা পড়ে থাকায় বুঝা যায় না। একটা শুকনো কাশি দিলো। এবং আর একটা কাশি দিলো। প্রশ্ন গুলিয়ে ফেলেছে দেখে জিয়ানা গায়লো,
“তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে
ফুল নিতে আসতে ,
ফুল নিতে নিতে
বারে বারে কাশতে ”
“হোপ” বলে ধমকে উঠলো নিবিড়।
হঠাৎ ধমকে চমকে গান বন্ধ হয়ে গেছে তার। টুকু টুকু করে চেয়ে বলে ,
“আরেহ আপনাকে স্বাভাবিক করতেই গেয়েছি।এই জন্যই বলে ভালোর কাল নাই ,পেন্দের ওষুধ নাই।”
“বাকুওয়াজ বন্ধ। যা যা প্রশ্ন করবো ঠিক ঠিক উত্তর দিবা। ”
জিয়ানা বাধ্য মেয়ের মতো ঘাড় কাত করলো ,দিবে উত্তর।
” তামান্নার পেছনে গত তিনদিন ফলো করেছো কেনো?”
“মৌসুমীর সংসার টিকানোর জন্য। ”
“মানে?”
“আপনি সবই জানেন।তামান্নাকে সবাই যার মেয়ে জানে সে আসলে তামান্নার সুগার ডেডি। আর এইটা তামান্নার থার্ড বিয়ে। আপনি ওকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে অনেকদিন প্রেমের অভিনয় করেছেন। এখন তামান্না সত্যি সত্যি সমুদ্র ভাইয়ের প্রেমে পিছলে পড়েছে। যদিও সমুদ্র ভাই নিজেও সব জানে। কিন্তু তামান্নাকে কিডন্যাপ করলে তো করার কথা আমার। অন্য কে করলো?”
তোতাপাখির মত একটা প্রশ্নের একঝুড়ি উওর দেয়া দেখে নিবিড় হা হয়ে গেলো।
“মৌসুমী সব জেনে গেছে?”
“জ্বি! আপনারা যে সাধু সন্নাসীদের পা ধোঁয়া পবিত্র জল খান। সেটা জলের এমন ধার পেটে গেলে সেখানে আবার কথা জমা থাকে না। তাই গড়গড় করে সব সত্যি উগলে দিয়েছে বউয়ের কাছে।আপনার বন্ধু একপ্রকার কাপুরষ বউও সামলাইতে পারে না। গার্লফ্রেন্ডও না। ”
“সাট আপ। বড্ড বাজে বক তুমি।যা প্রশ্ন করবো শুধু সেটার উত্তর দিবে। নাহলে কানের পিঠে একটা থাপ্পড় দিবো। আমাদের পুরাতন বাড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করো কেন?”
“আপনার চ্যালাদের গোল খাওয়ানোর জন্য। তারা চব্বিশ ঘণ্টা আমার পেছনে আঠার মতো লেগে থাকে।”
“বিশ্বাস করলাম। থানার সামনে পোস্ট বক্সে কাল ভোরে কি রেখেছো?”
জিয়ানার মুখ এইবার টানটান হয়ে গেলো।
তখনই হুড়মুড় করে জিয়াউল ঢুকে পড়ে বলল,
নীতিহীন রাজ পর্ব ১০
“শেষ কথা বলা? জিয়ানাকে সিট ছেড়ে দিতে হবে। আরেক পেসেন্ট এসেছে। নেমে আই আম্মু।আসতে পারবি?”
জিয়ানা ফটাফট উঠে গুনগুন করে গেয়ে উঠলো,
“ভুলাবালা থা ,সিধাসাধা থা
মে তো নাদান থা ,
দুনিয়া দারিছে ,হুশিয়ারিছে ছে
মে তো আনজান থা ”
