Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৬

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৬

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৬
আশিকা আক্তার সোহাগী

“যখন তুমি দূর্বল তখন তুমি শক্তিশালীর ভান ধরবে।আর যখন তুমি শক্তিশালি তখন দেখাবে দূর্বলতা।তোমার পরিকল্পনা থাকবে অন্ধকারে ঢাকা,যখন আক্রমন করবে তা যেনো বজ্রের মতো দেখায়।-চিনা যুদ্ধবিশারদ সান ঝু”
জিয়ানা এই যুদ্ধ নীতি জানে।কখন নিজেকে জাহির করতে হবে আর কখন লুকাতে হবে সেটাও বুঝতে পারে।হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সোজা নিবিড়ের ফ্ল্যাটে এসেছে।কিছু খাবার অর্ডার করে ঝটপট গোসল করে নেয়।এরমাঝে মিম আর জেনির খবর নিয়েছে।মক্কু পৌঁছে গেছে যথাস্থানে।

রুহানী হাসপাতালে ভর্তি।শ্যামল হাসান পুলিশে কাস্টারিতে সাভার থানায় আছে।খুব দ্রুতই চাউর হয়ে যায় শ্যামল হাসানের সকল দুনম্বরি ব্যবসার কথা। সোসাল সাইড ভর্তি এখন নিবিড়ের আহত হওয়ার খবর। সাথে আকাশের জন্য গভীর শোক বার্তা।মক্কুর জন্য দোয়া।বুর্জোয়া সমাজও নড়েচড়ে বসেছে এহেন খবরে।যারা এতদিন নিবিড়কে নেতা থেকে এমপি হওয়া মেনে নিতে পারছিলো না ,তারাও সরে এসেছে নিজের জায়গা থেকে।
সবকিছু ঠিক থাকলে নিবিড়ের জয় সুনিশ্চিত।দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে জিয়ানা।তবে তার জয় এখনো অনিশ্চিত। দৃশ্যমান শত্রুর সাথে মোকাবিলা করা যায়।সে যত বড় শত্রুই হোক।কিন্তু অদৃশ্য শত্রু যদি একটা ব্যাকটেরিয়া সাইজেও হয় সেটা মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। তবুও এই সম্ভাবনার দুনিয়ায় অসম্ভব বলে কোন শব্দ জিয়ানা বিশ্বাস করতে চায় না।

সাভারে প্রথম এসে জিয়ানা কোনদিন চিন্তাও করেনি এখানে তার এতগুলা আপন মানুষ থাকে।এখানের সেই সুরমা দেওয়া কাবলিওয়ার প্রেমে পড়বে।প্রতিনিয়ত সেই ভন্ডনেতার ভণ্ডামি সহ্য করবে।অচেনা অজানা কতগুলা মুখ রক্তে মিশে যাবে।আনপ্রেডিক্টেবল এই জীবনে তাই ধরাবাঁধা বলে কোন নিয়ম কিংবা প্রটোকল জিয়ানা কোনকালে মানে নাই আর না মানবে।
শরীরের রক্তকে আবার চাংজ্ঞা করতে জিয়ানা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ শুরু করে। কিন্তু শরীরের পেট্রোল শেষ। না খাওয়া পর্যন্ত কোন তাল পাচ্ছে না।খাবার আসার অপেক্ষায় না থেকে হাতের কাজ শুরু করে। ফোনের বিপবিপ শব্দে তাকিয়ে দেখে রাফিনের কল।ইচ্ছা করেই কেটে দেয়।কল লগে আরও দশ বারোটা কল। রাফিন আর মেহেদীরই বেশি।একটা আক্কাসের।সেই নাম্বারে কল দিয়ে জানতে পারে,

‘ওস্তাদ।এই দোকানে কু*ত্তা ভীড় শুরু হয়ছে।এইখানে নজর কেমনে রাখমু? বেসম্ভব কাজ।’
‘আচ্ছা বুঝলাম।তোর ফোন দিয়ে পাঁচমিনিট সেই ভীড়ের ভিডিও করে আমাকে পাঠা।’
বলে জিয়ানা অস্ত্রের কক্ষ ঢুকে যায়।টপাটপ কিছু দেশি মিনি অস্ত্র যেমন ,লোহা কাটার চার ইঞ্চি ব্লেড,ছোট্ট হ্যামার,বাটালি,রিকয়েল স্প্রিং,ছোট্ট একটা হান্টার ছুরি আর কিছু পেরেক আর চিকন তার আলাদা করে ফেললো।
লোহা কাটার ব্লেড দিয়ে পেরেকের মাথা কেটে আলাদা করলো।এবার চিকন তার দিয়ে রিকয়েল স্প্রিং এর আগায় সুন্দর করে বেঁধে দেয়।টেস্ট করার জন্য মধ্যমা আঙুলে পড়ে নেয়।তারপর ভাঁজ করে চেপে ধরে হাতের মুঠোয়। দূরের একটা নিশানা সেট করে হাত নাক বরাবর সোজা করে ধরে।একচোখ ছোট করে স্থির করে একটা ওয়ালের দাগের দিকে।মনে মনে কাউন্ট করে এক দুই তিন… রান…. “ব্রাভো বলে নিজেই নিজের কাধ চাপড়ায়।একেবারে গিয়ে গেথে গেছে।শক্তিশালি এই রিকয়েল স্প্রিংটা কাজে লাগে বন্ধুকের বুলেট ছুড়াতে।তাই এতটা পাওয়ার।যন্ত্রটা দেখতে বদখত লাগলেও বেশ কাজের।

জিয়ানা মনে মনে ভাবে এপোকেলিপ্টো মুভির জঙ্গলের সেই পয়জন ব্যাঙটা পেলে বেশ হতো।পেরেকে তার পয়জন লাগিয়ে টপাটপ সব খতম করা যেতো।
স্প্রিং ছুড়ে মারার সময় আগুলে দাগ করে গেছে পেরেকটা।সুক্ষ্ম একটা জ্বলুনি হচ্ছে।সে হোক প্রত্যেক ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া আছে।বার কয়েকবার প্র‍্যাক্টিস করে ব্যাপারটা ইজি করে নেয় জিয়ানা।জুতার নিচে হান্টার লুকিয়ে ফেলে।সেই জুতাটা যেটা নিবিড় ট্র‍্যাকার লাগিয়ে গিফট করেছিলো।এটা এই ফ্ল্যাটেই ছিলো।আর একটা হান্টার লুকায় ক্লিভেজে।
রান্নাঘর থেকে মোটা কিছু ড্রিংকিং স্ট্র নিয়ে তাতে একপাশের মুখ হোয়াইট টেপ দিয়ে আটকিয়ে দেয়।আর অপরদিক দিয়ে মরিচের গুড়া ভরে নেয়।এভাবে পাঁচটা স্ট্রতে ভরে টেপ দিয়ে আবার মুখ বন্ধ করে দেয়।যদিও এইসব কাজ নাও করতে পারে।তবুও খালি হাতে ময়দানে নামা নিশ্চয়ই কোন সুবোধের কাজ না।
পরবর্তীতে লেজার লাইট নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে।কারণ লেজার লাইটে্র রেটিনা চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।এজন্য দরকার লেজার গগলস।তাছাড়া লেজার লাইট দৃশ্য বা অদৃশ্য দুই প্রকারই হয়।

বড় একটা শ্বাস ছেড়ে জিয়ানা উঠে দাঁড়ালো। মেটালের জিনিস নিয়ে নিশ্চিত ঢোকা যাবে না।মেটাল ডিক্টেটর নিশ্চয়ই আছে সেখানে।বিকল্প আইডিয়াও আছে জিয়ানার মাথায়।
এরমাঝে খাবার আসে।ঝটপট খেয়ে বের হয়ে যায় তার মেসের এড্রেসে।সেখান থেকে তামান্নার নেইলপালিশ দিয়ে সব স্প্রিং গুলা কালার করে। তারপর সেগুলা কায়দা করে বোরকায় সেট করে। পেরেকের জায়গায় হিজাব পিন।হান্টার‍ ,পেন শুধু সাথে রাখে।

আগাগোড়া বোরকায় ঢাকা জিয়ানা একটু অন্য ভঙ্গিতে হেঁটে বাজারে আসে।দূর থেকে রাব্বি আর আক্কাসকে দেখে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ আগে রাব্বি যে ভিডিও পাঠায়েছে সেটাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ,দোকানে টু টাইপস কাস্টমার আছে।প্রথম, তারা সত্যি সত্যি কাস্টমার।দ্বিতীয় ,এরা বাইক দেখে ঘুরে ফিরে কেউ কেউ বেরিয়ে আসছে আবার কেউ কেউ শোরুমের টিভিতে বাইকের মডেল দেখছে।তবে সাত মিনিটের ভিডিওতে দুইজনকে শোরুমের ভেতরে যেতে দেখেছে।যারা অনেকক্ষণ থেকে দোকানে ছিলো।
ঘনঘন শ্বাস নেয় জিয়ানা।যা আছে কপালে।আজ এর শেষ দেখেই ছাড়বে।তাছাড়া নীলয়কে আজকের পর আর জীবিত পাওয়া যাবে না।নিবিড়ের যে কন্ডিশন তার সকল চেষ্টা নিশ্চিত পন্ড হলো।রাফিন আর মেহেদীকে জিয়ানা ভরসা করতে পারছে না।তবুও রাফিনকে একটা মেসেজ দিলো,
“স্যার আমি আপনাদের বাইকের শোরুমে আছি।গুম হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।”
এরপর নিবিড়ের ফোনে মেসেজ লেখ,

“সুখ,
জানি আপনি এই মেসেজ দেখলে রাগে ফেটে পড়বেন।তবুও জানানো কর্তব্য মনে হলো।
আপনি মনে করেন ,আপনার কেউ নেই।কিন্তু বস্তুত আপনি ছাড়া আপনার স্ত্রীর আর কেউ নেই।র*ক্তে যখন আপনার লোমশ বুকে গলগল করে স্রোত বয়েছিলো। তখন কাধের কাছে বুলেটের বিশাল ছিদ্রটা আমার কাছে মনে হয়েছে পৃথিবীর কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রকে ঘিরে পড়ে থাকা নিথর দেহ দেখে আমার রুমানদের একটা চমৎকার কথা মনে পড়েছে,

“যদি কাউকে বিভ্রান্ত করতে চাও ,তবে তাকে শুধু রুটি আর বিনোদন দাও।কারণ খাবার আর আনন্দ পেলে মানুষ আর কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করবে না। এমনকি প্রশ্নও করবে না।”
আমি প্রায় একমাস ডুবে ছিলাম আপনাতে। দিনদুনিয়া প্রায় ভুলেই বসেছিলাম।কারণ আমি খাবার পেয়েছি আনন্দে থেকেছি।প্রায় মনে হয়েছে আমার মা আমার কাছে। উনার নিশ্বাস আমার মুখে পড়ছে।রাতের সেই শূন্যতা আমাকে বেশিক্ষণ কাবু রাখতে পারতো না।কারণ সকালে উঠে আবার আপনার মুখ দেখে সব ভুলে গিয়েছি।কিন্তু কাল আপনার এই কিছুক্ষণের জন্য নিষ্ক্রিয় শরীর ,বোবা জবান আমাকে শিখিয়েছে ,সব ভ্রম।যেকোন মুহূর্তে যেকোন কিছু হতে পারে। এমন কি প্রচন্ড বুদ্ধিমান কিংবা আইকিউ সম্পন্ন মানুষেরও ভুল হয়। তারাও ভাগ্যের হাতে কট খায়।তাই ভাগ্যের উপর বড় কিছু নাই।সেই ভাগ্যের উপর ভরসা করে আমি আগালাম।
আমি আপনাকে ছাড়াই আগালাম কারণ আমার মাঝে লোভ জেগেছে।আমার মাকে পাওয়ার লোভ হচ্ছে।মায়ের মুখটা একবার দেখার তীব্র বাসনা হচ্ছে।মা মা গন্ধটা জানার বাসনাকে দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না।বাবার চোখের নরম চাহনি আবিস্কারের ইচ্ছা হচ্ছে।ভাইয়ের সাথে খুনসুটি করতে ইচ্ছা হচ্ছে।আমি আপনার বলা কথা মাথায় রেখেই আগাচ্ছি।আগাচ্ছি এটা ভেবেই, যে তারা কেউ হইতো নেই।তবুও তাদের সাথে কি হয়েছে বা হচ্ছে আমাকে জানতে হবে।

চন্দ্রগ্রহণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ,আমার ভাইয়ের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও তত ক্ষীণ হয়ে আসছে।তালহা আমাকে একটা লেখাসহ রুমাল দিয়ে গেছে ক্লো হিসেবে ।হতে পারে ট্র‍্যাপ কিংবা শুধুই কৃতজ্ঞতা।
সেসব থাক,একটা লাষ্ট অনুরোধ করবো।যেহেতু আপনার পলিটিকাল ক্যারিয়ারে আর কোন বাঁধা রইলো না।আকাশ সব বাঁধা নিজের সাথে নিয়ে গেছে।আপনি যখন একজন জনপ্রতিনিধি হবেন,সেহেতু অনুরোধ রইলো সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের দিকে একটু তাকাবেন।সরকারি অনুদানের টাকা পুরোটাই সমাজ সংস্কারের কাজে লাগাবেন।পারলে আপনার সৌভিক ভাইয়ের মতো লেলিনবাদ চিন্তা করবেন।
আর পারলে অরফানেজটা চালু করবেন।নাম দিবেন ‘নভ’।

আর শুনোন স্বার্থপর লোক! কেউ ভালোবাসে না ভালোবাসে দেখে যে খেমতা নেচে কান্না করতেন ,পারলে হাসপাতালে উপস্থিত মানুষ গুলার চেহারা গুলা সিসি ক্যামেরায় দেইখেন।ভালোবাসা আছে না নাই প্রমাণ পাবেন।
লাষ্ট বাট নট দ্যা লিষ্ট,
যদি হারিয়ে যাই,তবে আমাকে পাবেন একটা অবুঝ বাচ্চার পেট ভরে খাবারের পর তৃপ্তির হাঁসিতে।
যদি নাই মিলি কবু,তবে আকাশে ডানা মেলা পাখিতে না। মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া হাত পা হীন লোকটাকে রাস্তা পাড় করে দেয়ার মাঝে পাবেন আমাকে।
আমি হাপিশ হলে কোন জংলাফুলে আমাকে পাবেন না ,
পাবেন কোন হাড্ডিসার কৃষকের ঘোলাচোখের চাহনিতে।
দেখুন আপনি মনে হয় রিলেট করতে পারলেন।তাই না?হ্যাঁ আপনার কবিতা শুনতে শুনতে এখন আমারও কবিতা ভালো লাগে।তবে শুধু আপনার কন্ঠেই।
আমি মোটেও আশাবাদী মানুষ না।তবুও অল্প একটু আশায় লিখলাম ,একটা সম্ভাবনাময় দুনিয়ায় দেখা হবে আবার আপনার সাথে।
ইতি ,
আপনি যাকে ভালোবাসেন না

‘তালহা?
আমি তোকে ঠিক ততটাই বিশ্বাস করি যতটা নিজেকে করি।তোকে ততটাই ভরসা করি যতটা নিজেকে করি।আমার জীবনের বিশ্বাস আর ভরসার মানুষ তুই সহ মোটে চারজন।একজন চলে গেছে।আমি তোকেও হারাতে চাই না। তোর সবকিছু লোক দেখানো হলেও আমার প্রতি ভালোবাসাটা পিওর ছিলো।আকাশের শেষ কথা ছিলো”ভাই তালহা এমন করতে পারে না।ওরে আপনে আগলায়ে রাইখেন।”
আমি তোকে আগলিয়ে রাখতে চাই আমার ভাই হিসেবে।পাহাড়সম গুনাহ যদি আমার আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন ,তবে তোর এই একটা অন্যায় আমি সুখনীল নিবিড় আল্লাহর ওয়াস্তে ভুলে গেলাম।”

সাদা ছাদ ,মাথার উপরে একটা ব্লাড ট্রান্সফিউশনের তার ঝুলছে।বাপাশে মনিটর। শরীর ঝুরে অবসাদ। কাধের কাছে তীক্ষ্ণ একটা ব্যাথা।মস্তিস্ক খুলতে শুরু করার সাথে সাথেই নিবিড় চড়াক করে উঠে বসে।সময় ঠিক কত? কতক্ষণ কেটে গেছে তার ইমিডিয়েটলি জানা দরকার।এতক্ষণ সব স্বপ্ন ছিলো?হাতের ক্যানুলা টান দিয়ে খুলে পা ফেলে ফ্লোরে।দাঁড়ানোর সাথে সাথেই মাথায় একটা ঝিমঝিমানি এলো।ফাঁকা ক্যাবিনকে নিবিড়ের কাছে মনে হচ্ছে রাক্ষসপুরী। দুই কদম হাটার পর মনে হলো প্রথম হাটা শিখছে নিবিড়। টেনে টেনে পা মেলে হাটার চেষ্টা করতেই দরজা খুলে গেলো।নার্স মৃদু চিৎকার করে এগিয়ে এসে যেই ধরবে নিবিড় গমগমে গলায় বলে,

‘স্টপ দেয়ার।ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু টাচ মি।’
নার্স হা করে অবাক হয়ে একবার নিবিড়ের দিকে আরেকবার রক্তঝরা হাতের দিকে তাকায়।নিবিড় আবার বলে,
‘কয়টা বাজে?আমার ওয়াইফকে ডাকুন। কুইক।’
নার্স নিজের হাতের ঘড়ি দেখে সারে চারটা বাজে বলে দরজা খুলে বের হয়ে যায়।মিনিটেই ফিরে আসে।পেছনে মেহেদী আর রেবেকা। নার্স এসেই বলে,
‘স্যার কসটেপ লাগিয়ে দেই? হাত থেকে র*ক্ত ঝরছে।’
নিবিড় হাতের দিকে তাকিয়ে ডানহাত দিয়ে একটা চাপ দেয়।মেহেদীর দিকে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বলে,
‘আকাশ আর মক্কু?’

মেহেদী নিবিড়ের কাছে এসে বা হাত নিজের হাতে নেয়।নার্সকে ইশারা করে টেপ দিতে। নার্স দ্রুত হাত চালায়।মেহেদী টেপ লাগাতে লাগাতে বলে,
‘মক্কুকে ঢাকায় মেইন ব্রাঞ্চে ট্রান্সফার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর আকাশের কথা তুই জানিস। ‘
নিবিড় চোখ বন্ধ করে ফেলে।সে জানে তার বুকের উপরেই শেষ নিশ্বাস ছেড়েছে ‘আরিফা ‘বলে।আহ! একটা ছেলের সাথে পুরো পরিবার শেষ। পাথরের মতো শক্ত পাহাড়ের মতো বিশাল কষ্টটা গিলে বলে,
‘জিয়ানা কোথায়?’
মেহেদী একবার রেবেকার দিকে তাকিয়ে বলে,

‘রাফিন গেছে আনতে।এই মেয়ের মাথায় কখন কি চলে বুঝা মুশকিল।আমাদের বাইকের শোরুমে গেছে দুপুরের পর।কিন্তু আমি ফোন দিয়ে শুনলাম যায় নাই।রাফিন গেছে ওইদিকে।’
নিবিড় উঠে পড়ে নার্সের দিকে জিজ্ঞেস করে ,’আমার ওয়ালেট ফোন কই?’
নার্সটা দ্রুত ক্যাবিনের একপাশের ক্যাবিনেট থেকে ফোন আর ওয়ালেট এনে দেয় নিবিড়ের হাতে।ফোন অন করেই নিবিড় জিয়ানার টেক্সট দেখতে পায়।শরীর দূর্বলতায় নাকি রাগে নিবিড়ের শরীর কাপা শুরু করে। মেহেদী রেবেকাকে ইশারা করে বের হয়ে যেতে।নার্স বলে,
‘স্যার উত্তেজিত হবেন না।আপনার শরীর ঠিক নেই।’
নিবিড় কড়া চোখে একবার তাকায়। ব্যাস নার্সটাও সুড়সুড় করে বেড়িয়ে যায়।মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বলে,
‘একটা জিপিআর(গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার) কালেক্ট কর যত দ্রুত পারিস। সময় নেই।চন্দ্রগ্রহনের সময় কয়টা থেকে শুরু? ‘

‘সব কালেক্ট করা আছে।তোকে ব্যাস্ত হতে হবে না।আমি আর রাফিদা সামলে নিবো।তুই এখাানে রেষ্ট কর।তোর টিম কি রেডি?’
‘আমাকেও যেতে হবে।রেষ্ট নেয়ার কিছু নেই।জিপিআর নিয়ে আগে পুরাতন নূর ম্যানসনে যেতে হবে।আমার মাথায় এক নতুন চিন্তা ঘুরছে।’
‘কি?’
‘আমাকে হইতো ভুল পথে রাখা হয়েছে।মানে আমি এতদিন যা খোঁজে পেয়েছি সব সাজানো।’
‘মানে? খুলে বল?’
‘দেখ এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল চক্র।এদের এজেন্ট কোথায় কিভাবে আছে আমরা বুঝতে পারবো না।তাই আমরা যা কিছু জেনে এসেছি সেগুলা এরা জানাতে চেয়েছে বলেই জেনেছি।এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। রুপক মন্ডলের মতো এলার্ট মানুষ তার নিজের চাদরে ওক গাছে পাতা বাজিয়ে বাড়ি ফিরবে বলে কি তোর বিশ্বাস হয়? কিংবা পোড়া সেন্ডেল অফিসের সামনের বিনেই ফেলা ব্যাপারটা? চাদরে কার্বনিক এসিড লাগিয়ে ঘুরা?’
‘তুই বলতে চাচ্ছি এসব ইচ্ছাকৃত দৃশ্যমান উপসর্গ দেখিয়ে তারা অন্য জায়গায় আস্তানা ঘেরেছে?যদি এটা হয়ইও তবে আমরা এত অল্প সময়ে খুঁজবো কিভাবে? স্যাটানিজমের সেই চিরকোটটাও কি মিথ্যা?’

‘না ওইটা আমার এলেম দ্বারাই অর্জিত।আকাশের কল্যানে পাওয়া।’
নিবিড়ের গলা ধরে আসে।তার জীবন এখন আকাশের জীবনের বিনিময়ে চলছে ভাবতেই নিবিড়ের ভেতরে ঝড় বয়ে যায়।এই ঋণ যে শোধ করবে কিভাবে জানে না।
কয়েকবার জোরে লম্বা করে শ্বাস নিয়ে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে নার্ভ সচল করে। চোখ মুদে জিয়ানার করা দুষ্টুমি গুলা মনে করার চেষ্টা করে। এই মুহূর্তে তার সর্বোচ্চ শান্ত থাকতে হবে। একটা কিছু এদিক থেকে সেদিক হলে সব হারাতে হবে।সব।ফোনে ভয়েসে কমান্ড করে রাজিব নামের কাউকে কল করতে।কয়েক সেকেন্ড পর,
‘পেয়েছেন সব?’
‘জ্বি স্যার।হাতের কাছে মানুষ রেখে আমরা সমুদ্রতলে সাতার কেটেছি।’
‘খুলে বলুন?’
‘তালহা এতিম খানায় মানুষ হয়।আসল নাম অ্যারন হেনরি।ওদের একটা চক্র আছে যারা লেবাসধারী মুসলিম সেজে ফেতনা সৃষ্টি করে বেড়ায়।ইসলামের সকল নিয়ম কানুন লোক দেখানো ভাবে পালন করে।এমন কি কঠিন সব হাদিস আর আয়াত মুখস্থ থাকে। তালহা নামের যার পরিচয় দিয়েছে সাতক্ষীরার সেই ছেলেটা আট বছর বয়সে মারা যায়। সেই ছেলের আইডেন্টিটি ব্যবহার করে এখানে আছে চার বছর ধরে। ‘
‘আর কিছু?’

‘বাজারের পাশের মাদ্রাসায় বেশ যাওয়া আসা করতো।আমার সেখানকার এক হুজুরকে সন্দেহ হয়। নাম ফজলুল রহমান।চেহারার মাঝে একটা চোরচোর ভাব আছে।’
‘ঠিক আছে রাজিব।ধন্যবাদ আপনাকে।আর আমরা লোকেশন বদলিয়েছি।কোথায় সেটা ঘন্টাখানেক পর আপনাকে জানাবো।আপনার ফুল টিম রেডি থাকুন।’
‘রজার দ্যাট স্যার।’
মেহেদী এতক্ষণ তাকিয়ে ছিলো নিবিড়ের দিকে। সে কিছুই বুঝেনি।নিবিড় মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বলে,
“জিপিআর টা আনতে বল।আমার টিম সেটা দিয়ে আগে দেখুক সিগনাল কোথায় পাওয়া যায়।?’
‘তোর কি নতুন কোন জায়গা মাথায় এসেছে?’
নিবিড় বাঁকা হেঁসে বলে, ‘মোমের নিচে অন্ধকার’

জিয়ানা বেলা পড়ার অপেক্ষায় আছে।সূর্যের তেজ কমে এলে ঢুকে যাবে। আশেপাশে আগে একটু কাস্টমার সেজে দোকানে দোকানে ঘুরে।এরমাঝে রাফিনকে দেখে হন্তদন্ত হয়ে জাহান মটরসে ঢুকে গেলো।আবার বের হয়ে আশেপাশে তাকিতুকি করে চলেও গেলো।উদ্ভট মানুষের মন।সিজনাল অনুভূতি সব।কাছের মসজিদে মাগরিবের আযান পড়ে।চোখ মুদে জিয়ানা সম্পুর্ন আযানটা শুনে মনে মনে জবাব দেয়।চোখের কোনা বেয়ে তরল গড়িয়ে পড়ে।অকারণেই আজ তার নেত্রজন বিসর্জন হচ্ছে।এর আগে কখন জিয়ানা এতটা ভয়,আশা,আকাঙ্খা ,শংকা মিলে মিশ্র অনুভূতির সম্মুখীন হয়নি।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এগিয়ে যায় সোজা।সটান দোকানে ঢুকে বাইকের গায়ের ট্যাগ গুলা দেখতে থাকে।মিনিট দশেক পর একজন সেলসম্যান এগিয়ে এসে বলে,
‘কোন হেল্প করতে পারি ম্যাম?’

‘না। আসলে দামগুলা দেখতাছিলাম। আমার ভাই কিনবার চাইছে তো।’
বলে ব্যাগ থেকে তালহার দেয়া রুমালটা দিয়ে বের হয়ে থাকা চোখ মুছে। সেলসম্যান মুখ উজ্জ্বল করে বলে,
‘ওও আপনি আমাদের সাথে আসুন।ভেতরে আরও কালেকশন আছে।’
জিয়ানা বয়স্কদের মতো হেটে পেছন পেছন যায় ছেলেটার।চারপাশ অতি স্বাভাবিক। লটারি চালু করায় উপচে পড়া ভীড় দোকানে।পেছনে যাওয়ার সাথে সাথে ছেলেটা ঘুরে বলে,
‘তালহা পাঠাইছে?’
জিয়ানা তাকিয়ে থাকে।সে কি বলবে ভেবে পায় না।তাই অল্প মাথা নাড়ে।ছেলেটা মুচকি হেঁসে হাতের ইশারায় একটা দরজা দেখিয়ে বলে,
‘ভেতরে ঢুকে রুমালটা প্রতিটা দরজায় স্ক্যানারের সামনে ধরবেন। আর নাম জিজ্ঞেস করলে বলবেন,’872’একটা ড্রিংস দিবে সেটা খাবেন না।বেষ্ট অফ লাক।’

জিয়ানা হতভম্ব ভাব সাথে নিয়েই হাটা শুরু করলো। নরমাল একটা টিনের এর রংচটা দরজা ধাক্কা দেয়ার সাথে সাথে কঠিন আর্তনাদ করে উঠলো।অন্য সময় হলে জিয়ানা ফিক করে হেঁসে দিতো।কিন্তু আজ তার উপর লাফিং গ্যাসের বো*ম পড়লেও হাঁসি বের হবে না।
পর পর সোজা তিনটা দরজা টিনের পাড় হওয়ার পর এবার দরজার চেহারা পাল্টে গেলো।কালো থাই গ্লাস টাইপ।ধাক্কায় কাজ না হওয়াই রুমাল মেলে ধরে সামনে । কিন্তু দরজা খোলার নাম গন্ধ নেই।কোন স্ক্যানারও চোখে পড়ছে না।মিনিট পাঁচেক পর হাটার শব্দে জিয়ানা ঘুরে দাঁড়ায়।গটগট পায়ে হেঁটে এদিকেই আসছে লুনা পোয়েটস। জিয়ানা বোরকার নিচেই অবাক হয়।লুনা এসেই নিজের একটা সেইম রুমাল বের করে থাইয়ে মেলে চেপে ধরে।সাথে সাথেই দরজা হাট হয়ে খুলে যায়।দরজা পাড় হয়ে জিয়ানার দিকে আগাগোড়া তাকিয়ে বলে,’নিউ?’
জিয়ানা মাথা নাড়ায়।পুরা থাই সেন্সর লাগানো মানে হচ্ছে।

‘ওকে ফলো মি।’
জিয়ানাও পেছন পেছন যায়।আর একটা দরজা পাড় হওয়ার পর লুনা চুইঙ্গাম চিবিয়ে বলে,’নাও ইউ ক্যান চেঞ্জ ইউর ড্রেস।দ্যার ইজ নো আউট সাইডার হেয়ার।উই আর সেইফ ডার্লিং। ‘
এটা একটা অন্ধকার করিডোর। যেটাকে কৃত্রিম আলোয় আলোকিত করা হয়েছে।খসখসে দেয়াল দুইপাশ পাশাপাশি নিচে নেমে গেছে। প্রথম থেকেই জিয়ানার মনে হচ্ছে ঢালু জায়গা হবে নিশ্চিত। কারণ এক কদম আগালে দুই কদম আটো চলে।লুনা অনেকটা এগিয়ে গেছে দেখে জিয়ানা দ্রুত পা চালায়।আর প্রতিজ্ঞা করে আর অবাক হওয়া যাবে না। সে যেই সামনে আসুক।করিডোর শেষ হওয়ার নাম নেই।সোজা ঢালু চলছে তো চলছেই।দশ মিনিট পর এসে থামে বিশাল কালো এক ছাগলের মাথা ওয়ালা দরজার সামনে। দেখেই জিয়ানার গা ঘুলিয়ে আসে।খুব বেশি যে দূরে নেই বুঝতে পারে।এখানেও রুমান মেলে স্ক্যান করতে হয়।

চারজন আফ্রিকান সটান দাঁড়িয়ে দরজায়। হাতে মেটাল স্কেনার নিয়ে দাঁড়িয়ে। লুনা গটগট করে এগিয়ে গেলো।পেছনে একবারও ফিরে তাকায়নি।জিয়ানাকে স্ক্যানের সামনে আনতেই মেশিনে সিগনাল দেয়।চারজনই চোখাচোখি শুরু করে। জিয়ানা বোরকার নেকাব উঠিয়ে দেখায় আবায়া বোরকার দুইটা পার্ট একটা স্প্রিং দিয়ে আটকানো। এটা একটা ডিজাইন। সামনের দুইজন হাতের ইশারা করে ভেতরে ঢুকতে।এখানে অনেকেই ছদ্মবেশে যে আসে সেটা নিশ্চিত। কারণ এরা বোরকা দেখে কোন রিয়েক্টই করছে না।
ভেতরে ঢুকে জিয়ানা ধাক্কা খায়।একটা বিশাল জায়গা জুড়ে রুম। যার পুরো ফ্লোরেই ছোট ছোট পেন্টাগন আঁকানো।সামনের একপাশে অল্প উঁচু তার পেছনে বিশাল লাল কার্টেইনস ঝুলছে। মনে হচ্ছে সেখানে কিছু রাখা আছে।জিয়ানা ঢুকার সাথে সাথে একজন আলখেল্লা পড়া বিশাল দেহী লোক এসে কাটকাট ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করে ,’নেইম?’
‘872’
জিয়ানার হাত থেকে রুমালটা নিয়ে একটা কালো বক্স ধরিয়ে দিয়ে আঙুলের ইশারায় বাপাশের দিক দেখিয়ে বলে,’গো ওভার দেয়ার এন্ড চেইঞ্জ ইউর ক্লোথ।’

জিয়ানা মন্ত্রপুতের মতো এগিয়ে যায়।কিন্তু বোরকা খুললেই তো কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।লুনা তো চিনে ফেলবে।এদিকটাই এসে একটা পিলার নজরে পড়ায় জিয়ানা খুব হতবাক হয়।চারপাশে আবার তাকায়।খুব চেনা লাগছে কিন্তু এমন অচেনা জায়গায় আগে কখনো এসেছে বলে মনে পড়ে না।জায়গাটা একটু সার্ভে করতে পারলে ভালো হতো।কিন্তু সেটা করা এত জলো হবে না নিশ্চিত? সকল দ্বিধা কাটিয়ে জিয়ানা সময় নিয়ে বোরকা খুলে তার আগে বক্স খুলে সেটার ভেতর থেকে আলখাল্লা বের করে আনে।সাথে আছে একটা ক্যান্ডেল আর লাইটার।কালো লম্বা আলখাল্লাটা দেখতেই হরিবোল। সেটায় আবার খোদাই করা ৮৭২ নাম্বার।ছোট ছোট বোর্ডের ডিভাইডার দিয়ে রুম করা।৮৭২ নাম্বার লেখা মানে এটা একজনের জন্য সুনির্দিষ্ট। আলখাল্লা পড়ে স্প্রিংটা বোরকা থেকে খুলে আঙুলে পড়ে নেয়।পিন গুলা আলখালার নিচে গেথে রাখে।লুনাকে নিয়ে একটা রিস্ক নিতেই হচ্ছে।কারণ জলে নামবে অথচ চুল ভিজাবে না সেটা কি করে হয়?

আধাঘন্টা পর একটা শিঙা বেজে উঠে। জিয়ানা উঁকি মেরে দেখে রুম অন্ধকার হয়ে গেছে।প্রায় জনা পঞ্চাশজন আলখাল্লা পড়া মানুষ মোম হাতে এগিয়ে আসছে। সামনে অনেকেই পেন্টাগন চিহ্নিত জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে।যাক অন্ধকার হওয়াই সুবিধা। জিয়ানাও মোম জ্বালিয়ে হেটে বাহিরে আসে।জায়গাটা এবার একেবারেই ভূতুতের রুপ ধারণ করেছে।চেহারা পাল্টে গেছে পুরো।বেছে বেছে একেবারে পেছনে দাঁড়িয়ে যায়।
চারজন প্রৌঢ় একই রকম আলখাল্লা পড়ে উপস্থিত হয় নির্দিষ্ট মঞ্চে।জিয়ানা অবাক নেত্রে দেখে সেখানের দুইজন তার অতি পরিচিত। একজন রুপক মন্ডল আরেকজন নূর ম্যানসনের ম্যাক্সিকান সেই শেফ। তাদের হাতে পিতলের ক্যান্ডেল স্ট্যান্ডের উপর মোটা মোম জ্বলছে।
সবচেয়ে বেশি বয়স্ক লোকটা এগিয়ে এসে বলে,
‘টু ডে ইজ দ্যা ডে ফর অল আওয়ার ডেজিয়ার টু বি ফুলফিল।লুসিফার উইল শো আপ টুডে।আর ইউ রেডি?’
উপস্থিত সবাই সমসুরে চিল্লিয়ে উঠে ,’ইয়েস।ইয়েস।’
জিয়ানা মনে মনে বলে,’তোদের মনোবাসনা পূরনের ক্ষমতা সেই শ*য়তানের নেই পাপির দল। নরকের কীট তোরা আর তোদের লুসফার।’

এরমাঝে দুইজন মাঝবয়েসী মহিলা স্টেজের পেছন থেকে কার্টেইনস ওপেন করে দেয়ার জন্য এগিয়ে যায়।জিয়ানা নিজের মুখ চেপে ধরে কারণ এরা নূর ম্যানসনের গভর্নেন্সদের মাঝে দুইজন।জিয়ানার মাথা দুলে উঠে।কোন দুনিয়ায় সে নিশ্চিন্তে খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলো এতদিন?এখন তো মনে হচ্ছে সব সাজানো গুছানো। এরা অক্সিজেন হয়ে বাতাসের সর্বত্র মিশে আছে।কার্টেইনস সরানোর সাথে সাথেই ভয়ংকর এক উলঙ্গ কালো স্তম্ভ উন্মুক্ত হয়।যার সারাশরীর বুঝা না গেলেও মাথাটা ছাগলের মতো বড় বড় শিং ওয়ালা।এবং চারপাশে হঠ্যাৎ বিশ্রী উদ্ভট একটা গন্ধ বাড়তে থাকে।

চারজনই কিছু কথা বলে। সবই ভংচং টাইপ।এরপর ওয়াইন গ্লাসে লাল একপ্রকার তরল পরিবেশন করে।সবাই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।পৌঢ়া এসে হাতের ইশারায় সবাইকে পান করতে বলে।জিয়ানা মুখের কাছে নেয়।কিন্তু শ্বাস বন্ধ করে পান করার ভান করে। সবাই যখন চুমুকে ব্যাস্ত জিয়ানা সম্পুর্ণ দেয়ালে ঢেলে দেয়।
ড্রিংক্সের পরেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সবাই টলতে থাকে।সেই টলার মাঝেই স্টেজের মাঝখান থেকে একটা কাফিন বের হয়।জিয়ানার কলিজা কেপে উঠে সেই রাজকীয় কাফিন দেখে।কাফিনটা নরমাল কাফিনের মতো না।এটা ডেপথ অনেক বেশি।যারা ড্রিংক্স সার্ভ করেছে তারা এবার একটা মোটা বইয়ের পাতা বাচ্চাদের মতো ছিড়ে চারপাশে ছিটিয়ে দেয়।ঘন্টাখানেক মন্ত্রপাঠের পর উপস্থিত সবাই অপ্রতিভ আচরণ শুরু করে। মন্ত্রপাঠ বাড়ছে আর উন্মাদনাও বাড়ছে।জিয়ানার তৃতীয় অনুভূতি বলছে এখানে আননোন অবজেক্টের উপস্থিতি অনেক বেশি।চারপাশে থেকে হঠাৎ হঠাৎ গরম বাতাস লাগে শরীরে।আবার সব স্বাভাবিক। এরমাঝে কাফিনের ঢাকনা খুলে যায়।জিয়ানা পেছনে হওয়াই তেমন কিছু দেখতে পারছে না।তবে একজন মহিলা শুয়ে আছে।জিয়ানার পেটে একটা ব্যাথা মুচড়ে উঠে।প্রার্থনা করতে থাকে যেটা ভাবছে সেটা যেনো না হয়।

রুপক মন্ডল এগিয়ে এসে কাফিনের কাছ থেকে একটা দোমাথা সোর্ড বের করে নিজের হাত কেটে ফেলে।সেই কাটা হাতে রক্ত সমেত কাফিনে রাখা মহিলার মুখে মাখতে থাকে।পাশ থেকে শেফ গুনগুনিয়ে মন্ত্র পড়তেই আছে।
হঠাৎ চারপাশ থেকে কুন্ডলী কুন্ডলী ধোয়া আর বাতাস আসা শুরু করে। উপস্থিত সবার হাতের মোম নিভে নিকষ কালো অন্ধকারে ঘিরে ধরে। মৃদু গোঙানির আওয়াজ ভেসে আসে। জিয়ানার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায় ভয়ে।তবুও অনড় হয়ে চোখ কুচকে ফেলে। আস্তেধীরে চোখ মেলে।অন্ধকার কিছুটা সয়ে এলে জিয়ানা সামনের দৃশ্য দেখে পেটের নাড়িভুঁড়ি উল্টে বমি আসতে চায় ঘৃণায়।এরমাঝে তারহাতে টান পড়ে।

ডাক্তারকে একপ্রকার হুমকি দিয়েই নিবিড় ফেন্টানাইল পেইন কিলার ইঞ্জেকশন দেয়।যেটা আসলে সবচেয়ে হাই ডোজের পেইন কিলার।এটি হিরোইনের চেয়ে ৩০-৪০গুন বেশি শক্তিশালি।
ইঞ্জেকশন টা নিয়ে পরিস্কার পোশাক পড়ে সটান বের হয় হাসপাতাল থেকে।ডাক্তার আর নার্সরা খুবই ভীত।কারণ বেশি নাড়াচাড়া করলে র*ক্তক্ষরণ শুধু হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। তবুও নতুন করে ব্যান্ডেজ করে শক্ত করে টেপ মেরে দিয়েছে পুরা সোল্ডার জুড়ে।

মেহেদী পেছন পেছন বের হলো।সে ভাবছে নিবিড়কে দেখে কে বলবে কয়েক ঘন্টা আগেও এই লোক সেন্সলেস হয়ে নেতিয়ে পড়ে ছিলো হাসপাতালে।এখন একদম কড়কড়ে দেখাচ্ছে।যদিও মুখের রং ফ্যাকাশে।আরও এক ব্যাগ র*ক্তের দরকার ছিলো বলে ডাক্তার জানালো।কিন্তু তার স্বীদ্ধান্তে সে অনড়।
মেহেদী ড্রাইভারের সিটে বসে যেই গাড়ি স্টার্ট দিবে তখনই রাফিনের গাড়ি সামনে এসে দাঁড়ায়।গাড়ি থেকে নেমে আসেহাতে ধরে আনে আক্কাসকে।চোর ধরা খাওয়ার মতো আল্কাস মুখ কাচুমাচু করে রেখেছে।
নিবিড় গাড়ির উইন্ডোজ খুলে দিয়ে মাথা বের করে দেয়।রাফিন নিবিড়কে দেখে ভূত দেখার মতো আৎকে উঠে জিজ্ঞেস করে ,’তোর কি সত্যি গুলি লেগেছে?’
‘কাজের কথা বল।একে ধরে রেখেছিস কেন?’
‘এটা জানে জিয়ানা কোথায়?’

নিবিড় আল্কাসের দিকে তাকালে আক্কাস মাথা ঝুকিয়ে ফেলে বলে,’আমি জানি না ওস্তাদ কই। সত্যি তিন সত্যি।’
‘তোর ওস্তাদ বিপদে আছে।কুইক বল যদি তার ভালো চাস তো? ‘
আক্কাস মাথা চড়াক করে উঠিয়ে বলে,’আপনার আব্বার বাইকের দোকানে ঢুকছে বিকেলে।আর বের হয় নাই।’
নিবিড় সোজা তাকিয়ে মেহেদীর উদ্দেশ্যে বলে,
‘আমার ফ্ল্যাটে চল।কিছু অস্ত্র সস্ত্র নিতে হবে।’
রাফিন ততক্ষণে উঠে বসেছে গাড়ির ব্যাক সিটে।নিবিড় সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে মেহেদী আর রাফিনকে ইন্সট্রাকশন দেয়।এরমাঝে রাফিনকে বলে,
‘ম্যানসনের সবাইকে বের হয়ে ক্লিনিকে যেতে বল।একটা মশাও যেনো বাসায় না থাকে। কুইক।”
ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে এরপর সময় দেখে সাতটা বেজে গেছে।হাতে আছে চারঘন্টা।রাফিন আর মেহেদী দুইজনই মুখ চাওয়া চাওয়ি করে একসাথে জিজ্ঞেস করে ,

‘এনি হাউ তুই কি বর্তমান নূর ম্যানসনের কথা ভাবছিস?’
‘হ্যাঁ। যদি ইউপি অফিস আর পুরাতন ম্যানসনে কোন সিগনাল না পাওয়া যায় তবে সেন্ট পার্সেন্ট নিশ্চিত এখানেই পাবো।’
‘কিহ?’
‘আমেরিকার একটা ঘটনা শুনেছিলি? টাকার বিনিময়ে খু*ন করা এক সিরিয়াল কিলার বহুবছর থেকে একজনকে খুঁজতে থাকে।কিন্তু কয়েকবছর পরেও সে তাকে খুঁজে পেতে ব্যার্থ হয়।কিছুদিন পর কিলার এরেষ্ট হয়। আর থানায় তার সাথে দেখা করতে যায় সেই নিখোঁজ ব্যাক্তিটি।তখন কিলার জিজ্ঞেস করে ,’তোমাকে এত খোঁজলাম কিন্তু পেলাম না।তুমি আসলে কোথায় ছিলে?’
তখন সেই ব্যাক্তিটি মুচকি হেঁসে বলেছিলো,’আমি তোমার ঠিক পাশের ফ্ল্যাটেই থাকতাম।তুমি সারা দুনিয়া খুঁজলেও নিজের বিল্ডিংয়ে কখনোই দেখোনি।’

সো এককথায় এটাকে বলে ‘মোমের তলায় অন্ধকার।’
তাছাড়া সেদিন রাতে বেজমেন্টে যখন আমি চাকাটা উঠায় কাগজটা বের করার জন্য হাত ফসকে যখন নিচে পড়লো। ঢ্যাপ করে একটা শব্দ হয়েছে।শুনেছিস? ভেতরে ফাঁপা থাকলেই কেবল এমন শব্দের সৃষ্টি হয়। ‘
‘তাহলে এখন শোরুমে যেয়ে কি হবে?’
‘বাজার থেকে বাসার দুরত্ব হাটলে দশ মিনিট।মানে এককিলোমিটার দুরত্ব।সেখান থেকে বাসা সিক্রেট পাস অসম্ভব কিছু না। আর বাসার ডিজাইন রুপক মন্ডলের সিলেক্টেড আর্কিটেক্ট করেছে।এনিথিং ইজ পসিবল। ‘
নিবিড়রা বাজারে পৌঁছে দেখে শোরুম বন্ধ হয়ে গেছে।তার ভেতরের ছটফট ছিটকে বাহিরে আসতে চাচ্ছে।জিয়ানার ফোন অফ।লাষ্ট লোকেশন এখানেই।তবে জুতার লোকেশন দেখাচ্ছে না। সেটা ডিজেবল হয়ে আছে।কোথাও যদি সিগনাল না পায় তবে? নাহ সে আপাতত নেতিবাচক চিন্তা করতে চাচ্ছে না।এরমাঝেই রাজিবের ফোন আসে।
‘ভাই জিপিআর দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ রেডিও তরঙ্গ তৈরি করে যেটা বুঝলাম পুরাতন নূর ম্যানসনে কোন কিচ্ছু নাই।’
‘তবে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ইউপি অফিসে যান।সময় বিশ মিনিটের বেশি লাগাবেন না।’
‘রজার দ্যাট স্যার। ‘

নিবিড় ঘেমে যাচ্ছে দেখে মেহেদী গাড়ির টেম্প্যারেচার কমিয়ে দেয়।রাফিন পেছন থেকে বলে,’রিলাক্স নিবিড়।আমাদের চেষ্টা বিফল হবে না।’
নিবিড় রিলাক্স হতে পারছে না।তার ভেতরে জ্বালাও পোড়াও। সর্বস্ব হারানোর ভয় নিয়েই বলে,’
‘কুইক বাসায় চল।’
এরপর ক্লাবের কিছু ছেলেদের বলে কয়েকজন রাজমিস্ত্রী ধরে আনতে নূর ম্যানসনে।সময় দেয় আধাঘন্টা।

একসাইডে দাঁড়িয়ে জিয়ানা বমি করে যাচ্ছে ঘৃণায়।মানুষ এতটা ব্রুটাল আর হরিবোল হতে পারে এখানে না এলে জানতো না।অন্ধকারে উপস্থিত সবাই হঠাৎ অদ্ভুত ভাবে প্যারেট শুরু করে। এরপর সবাই একসাথে কেপে কেপে উঠে গায়ের আলখাল্লা খুলে ফেলে।পরক্ষণেই যে যাকে পাচ্ছে সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছে একে অপরের সাথে।
মৃদু চিৎকার আর অশ্লীল শব্দে জিয়ানার বমির ভাব বাড়ে।এখন কেউ একজন তার হাত ধরে রেখেছে।তাকে টেনে পিলারের আড়ালে এনে দাঁড় করায়।হাতের উল্টা পিষ্ঠ দিয়ে মুখ মুছে সোজা হয় জিয়ানা।এক হাত দূরে তালহা দাঁড়িয়ে। জিয়ানা টান দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয়।তালহা মুচকি হেঁসে বলে,
‘লেটস ডু দ্যাট?’

জিয়ানা একটা ঘুষি মারে তালহার নাক বরাবর। নাক ফেটে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ে।সেই গড়ানো র*ক্ত নিয়েই জিয়ানার একেবারে কাছে গিয়ে বলে,
‘উপকারের এই প্রতিদান?’
‘তোর কি উদ্দেশ্য বল?’
রাগে চাপাস্বরে জিয়ানা জিজ্ঞেস করে।
‘প্রত্যেকেরই একটা উদ্দেশ্যে থাকে।আমারও আছে।দুনিয়াতে ভালোর জয়জয়কার কিন্তু খারাপের দাম নেই।খারাপটা কি আপনা আপনি সৃষ্টি হয়েছে?আমি ড্যাব( ডিমন আর ব্রাইট) এ বিশ্বাসী।নরক আর স্বর্গ যদি পাশাপাশিই হয় তবে কেনো এত বায়াসাড? দুইটাই তো ঈশ্বরের সৃষ্টি? ড্যাবে আমি প্রচারণায় আছি সাত বছর।আমি কে কেনো তোমাকে সাহায্য করছি সেসবে যাচ্ছি না।তবে একটা সত্য কথা বলি,’ কাফিনে শুয়ানো মহিলাটা তোমার মা। আর উনি বেঁচে নেই।বিশ বছর আগেই উনার ব্রেইন ডেথ হয়েছে।শরীরকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে কাফিনের নিচে হাইপ্রযুক্তির কিছু প্যারামিটার দিয়ে।উনাকে জাষ্ট দাবার গুটি রাজা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।আর এই খেলার সবচেয়ে দামী গুটি মন্ত্রী হচ্ছে রুপক মন্ডল। উনার উপর নির্ভর করে টিকে আছে পুরো খেলাটা।তবে এই মন্ত্রী নিজেই জানে না ,রাজা বহুদিন আগেই ডেথ।’

জিয়ানা দুই কদম পিছিয়ে যায়।চোখে অবিশ্বাস আর বিশ্বাসের প্রশ্ন।তালহা এগিয়ে এসে ফিসফিসিয়ে আরও বলে,
‘একদিন এখানের দেয়া ড্রিংক্স আমার হাত থেকে পড়ে যায় নিচে।অন্ধকারে কেউ খেয়ালই করে না।এখানে অবশ্য সবাই বিশ্বস্ত। কারণ কঠিন পরিক্ষা দিয়ে তবেই একটা নাম পাওয়া যায়।আমি যেমন নিবিড়দের বিপদে ফেলে দিয়ে এই পজিশনে এসেছি ঠিক তেমন।’
জিয়ানার ঠোঁট কেপে উঠতে চায়।গলায় চিৎকার ছিটকে বেড়িয়ে এসে তালহাকে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছা হয়। তবুও মাথা গরম না করে শান্ত গলায় প্রশ্ন করে ,
‘তবে আমাকে এখানে আনার কি উদ্দেশ্য তোর? তুই নিজেও তো হেল স্যাটানিজমের লোক।পাপিষ্ঠ নরকের কিট।কি উদ্দেশ্যে বল?’
‘আমি তোমার এই রুপটাকেই বেশি পছন্দ করি জিয়ু।আই লাইক ইট মোষ্ট।চলো আমরা এখান থেকে পালিয়ে বহুদূর চলে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন শুরু করি।নিবিড়ের থেকেও অনেক বেশি সুখ দিতে পারবো।প্রমিস।’
জিয়ানা এগিয়ে গিয়ে কিক করতে চায় তালহাকে। তালহা পেছনে সরে উল্টো ঘুরে জিয়ানার পেছনে চলে যায়।আর জিয়ানাকে পেছন থেকে আটকিয়ে ফেলে।জিয়ানার শরীর রাগে তিরতির করে কাপছে।জিয়ানার কানের কাছে মুখ এনে বলে,

‘আমার শরীরটা যদি অল্পও পবিত্র হতো তবে আমার এই ইচ্ছাকে আমি বাস্তব রুপ দেয়ার জন্য ওই রুপকের চেয়েও কঠিন তপস্যা করতাম।কিন্তু এই পর্যায়ে আসতে সমকামী হতে হয়েছে।কিন্তু তোমাকে দেখার পর আর রুচি হয় না সেসবে।’
জিয়ানা বুঝতে পারে তালহা ওকে নিয়ে খেলতে চাচ্ছে।এখন মাথা গরম করলে নিজেরই লস ভেবে আবার জিজ্ঞেস করে ,
‘কথা না ঘুরিয়ে উত্তর দিন।আমি আপনাদের কাজে বাঁধা দিবো যেনেও কেনো সাহায্য করলেন?’
‘একটু জাগ্রত অবস্থায় এই মিথ্যা প্রহসন দেখে আমার বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে গেছে তাই।তাছাড়া একজন মানুষকে ব্যবহার করে বছরের পর বছর যে নাটক সাজানো হয়েছে এতে কোন লাভ হচ্ছে না।বোহেমিয়ান ক্লাব থেকে কোটি কোটি ডলার অনুদান আসে আর এরা এসব সাজানো নাটক করে যায়।আমার করুনা হয়েছে তোমার আর তোমার পরিবারের উপর।আর একজন যাকে আমি আজ দুই বছর ধরে চিনি।ইয়াসির নীলয়।আজ তাকে বলি দেয়া হবে প্রতি বছরের মতো।তবুও প্রিন্সেস লী জেগে উঠবে না।আর রুপক মন্ডল আবার আরেক বছরের জন্য অপেক্ষা করবে।’
বলে হি হি করে অল্প শব্দে হেঁসে উঠে তালহা।জিয়ানার কাছে লাগে এরা বদ্ধ উন্মাদ। সাইকোপ্যাথ না হলে কেউ এসব চিন্তা করতে পারে?
তালহা হঠাৎ হাঁসি থামিয়ে বলে,

‘তোমাকে অল্প একটু সুযোগ দিলাম। যদি পারো এসব বন্ধ করো। নাহলে আমার প্রস্তাবে রাজি হও।আমি সাহায্য করবো।অন্তত তোমার ভাই বেঁচে যাবে।আর হ্যাঁ তোমার সুউখ? সে কেমন আছে? খুব চালাক ভাবে নিজেকে।অবশ্য আমাকে এককথায় বিশ্বাস করেনি।চারবছর লেগেছে তাকে বিশ্বাস করাতে।ফা*কিং আই ওয়েষ্ট মাই ফোর ইয়ার্স অফ টাইম আননেসেসারিলি।তোমার সুউখ নিশ্চয়ই হাসপাতালে বেডে শুয়ে তার গুড ফর নাথিং টিম কে পুরাতন নূর ম্যানসন বা ইউপি অফিসে পাঠিয়েছে হাডুডু খেলার জন্য?’
জিয়ানা মুচকি হেঁসে বলে,’সুখ কাউকে বিশ্বাস করে না।তবে যাদের ভালোবাসে তাদের উপর ভরসা করে।আপনার উপরও করেছিলো।আর তার প্রতিদানে আকাশের জীবন দিয়ে দাম মেটালো।আর কান খুলে শুনোন,আমি জিয়ানা হক নিজের নিশ্বাস আটকে মারা যাবো তবুও আপনার মতো পাপিষ্ঠের দ্বারস্থ হবো না।সাহায্য করেছেন মনে রাখবো। তবে আমি আমার মা বাবা ভাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো এখান থেকে।’
‘বাবা?’

বলে আমার চাপা হাঁসে তালহা।তারপর জিয়ানার হাত আবার টেনে নিয়ে সিকিউরিটিজ রুমে নিয়ে যায়।তালহা সিকিউরিটি টিমে আছে।সেই রুমের অনেক গুলা স্কিনে চারপাশের সব দৃশ্য শো করছে। একটা স্কিনে দেখা যাচ্ছে নূর ম্যানসনের সবাই মেইন দরজা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।তালহা কপালে ভাজ করে জুম ইন করে। উম্মে কুলসুম কেঁদে কেঁদে বলছে,’হঠ্যাৎ ক্লিনিং থেকে জরুরি তলব মানে হচ্ছে নিবিড়ের কিছু একটা হয়ে গেছে। আমার দাদু ভাই?’
জিয়ানা বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।এটা নতুন নূর ম্যানসনের নিচের জায়গা।অপরদিকে তালহা চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বলে,
‘যাচ্চলে।নিবিড় মনে হয় টপকে গেছে।যাক তোমার আর আমার রাস্তা ক্লিয়ার।এখন তাহলে কি করবে?ওও ওয়েট তোমার বাবাতে ছিলাম না?’
তারপর একটা মনিটরে কিছু টাইপ করে একটা ভিডিও বের করে দেয়।জিয়ানা ঝুকে দেখতে থাকে সেটা।সেই ভিডিওতে রুপক মন্ডল একটা স্কেলেটনকে ধারালো সোর্ড দিয়ে টুকরো টুকরো করছে।তালহা হাত দিয়ে ইশারা করে বলে,

‘এই যে তোমার বাবা।তাকে জ্যান্ত হাজার টুকরো করেছে রুপক মন্ডল। সেই টুকরোকে আবার জোরা লাগানো হয়।্প্রতিবার যখন প্রিন্সেস নী জেগে উঠে না,তখন সে এসে এই স্কেলেটনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।যতদূর জানি তোমার বাবাকে হত্যা করতে দেখে ফেলে তোমার মা। আর সাথে সাথেই উনার ব্রেইন স্টোক হয়। আর বেঁচে থাকতে চাননি বলেই ব্রেইন ডেথ হয়ে পড়ে আছেন।
তালহা চেয়ার সহ এগিয়ে এসে ফিসফিসিয়ে বলে,
‘কেউ কেউ বলে তোমার মৃত মা নাকি হেবি সুন্দর আর তার সাথে রুপক মন্ডল ইন্টিমেট হয় নিয়মিত।’
বলে হো হো করে হেঁসে উঠে তালহা।ব্যাস জিয়ানার বোধ বিলুপ্ত হয়।টেবিলের উপর থেকে ঝড়ের গতিতে একটা মনিটর টান দিয়ে নিয়ে স্বজোরে মাথায় মা*রে তালহার।মনিটর ভেঙে মাথা ঢুকে পড়ে ভেতরে। কারেন্টের শর্ট সার্কিটে জিয়ানা দূরে ছিটকে পড়ে। পিঠে আর মাথায় আঘাত পায়।আর বৈদ্যুতিক শকডে তালিহা চেয়ারে বসে কাপতে থাকে অনবরত। মিনিট পাঁচেক পর থেমে যায় সেই কাপাকাপি।জিয়ানা উঠে দাঁড়ালো। ঘাড় বেয়ে র*ক্তের স্রোত।মাথা ফেঁটেছে তার।তোয়াক্কা করে না।ভাগ্যই যার ফাটা তার মাথা ফাঁটা আর এমন কি।

খুড়িয়ে খুড়িয়ে রুমের বাহিরে আসার সাথে সাথেই পায়ের শব্দ শুনতে পায় অনেক গুলা।দ্রুত পিলারের পেছনে দাঁড়িয়ে যায়।অনেক গুলা গার্ড সিকিউরিটি রুমে ঢুকে যায়।জিয়ানা পিলারের পেছন থেকে বের হয়ে সেই রুমের দরজা বাহির থেকে লক করে দেয়।মিনিট খানেক পরেই দরজায় ধুপধাপ পায়ের আঘাত পড়তে থাকে।জিয়ানা হাতের স্প্রিংটা খুলে আনে।দুইটা পিন খুলে একটা দাঁতের সাহায্যে আটকে রাখে মুখে। আরেকটা স্প্রিংয়ে আটকিয়ে প্রথমস্থানে যায়।সবাই উলঙ্গ হয়ে ফ্লোরে বসে কাপছে।স্টেজে দুইজন বিশাল কালো শিং ফুকে শব্দ করছে।রুপক নীল ডাউন করে বসা কাফিনের সামনে। আর লাল ভেলভেটের আলখাল্লা পড়া এক যুবকের মাথা একটা পাথরে শুয়ানো।উপরে খর্ব হাতে এক প্রৌঢ় দাঁড়িয়ে।

জিয়ানার দুনিয়া ধমকে যায়।এটাই তার ভাই।এই ভাইকে আজকে প্রথমবার দেখলো। যে ভাই আর সে একই উদরে নয়মাস একসাথে কাটিয়েছে।অথচ দুনিয়ায় তাদের দেখা হয়নি।আর না দুনিয়ার বাহিরে কখনো দেখা হবে।ভাই বোনের সম্পর্ক এমন একটা সম্পর্ক যখন তারা একে অপরের সাথে কথা বলে ফেরেস্তারা সময়কে থেমে যেতে বলে।তবে জিয়ানার সময় থেমে যাচ্ছে না কেন?
আচম্ভিতে এলার্ম বেজে উঠে। প্রৌঢ় গন হকচকিয়ে উঠে নিজেরা কথা বলা শুরু করে একজন ইশারা করে দ্রুত কাজ সারতে।আরেকজন বলছে আরও দুইমিনিট বাকি চন্দগ্রহনের।আগে দিলে কাজ হবে না।
গার্ডরা যখন নেমে আসে জিয়ানা নিচু হয়ে বসে ্যায়।সমস্যা হলো সবাই উলঙ্গ আর সে আলখাল্লা পড়া।আলো জ্বালালে সবার আগে ধরা খাবে।কিন্তু আলো জ্বালায়নি যেহেতু এটা হইতো নিয়ম বহির্ভূত। জিয়ানা নিচু হয়েই লক্ষ্যবস্তু স্থির করে। স্টেজে বড় বড় দুইটা মোমের আলো জ্বললেও এতটা দুর থেকে ফোকাস করা যাচ্ছে না।
একমিনিট আছে সেটা কাউন্ট করা শুরু করে। জিয়ানা তৎপর হয়। ত্রিশ সেকেন্ড থাকা কালিন ছুড়ে দেয় পিনটা। আর সেটা গিয়ে গেথে যায় প্রৌঢ়ার বা চোখে। কালক্ষেপ না করে আরেকটা পিন আটকে মুহুর্তেই ছুড়ে দেয়।সেটা গিয়ে গাথে ডানচোখে। বিকট চিৎকার করে খর্ব ফেলে দেয়।

আলো জ্বলে উঠে সেখানে।আর গার্ডরা এসে জিয়ানাকে ধরে ফেলে পেছন থেকে। রুপক মন্ডল উঠে দাঁড়িয়েছে।নীলয়ও সোজা এখন।জিয়ানা ধরা অবস্থায় চিল্লিয়ে বলতে থাকে,
‘রুপমামু আম্মু বেঁচে নেয়।তোমার নীলুর বিশ বছর আগেই ব্রেইন ডেথ হয়েছে।লাইফ সাপোর্ট দিয়ে শরীর বাঁচিয়ে রেখে বছরের পর বছর তোমাকে ধোকা দেয়া হচ্ছে।কাফিনের নিচে প্যারামিটার আছে সব।আমাকে বিশ্বাস করো।এই শয়তানদের বিশ্বাস করো না আর।প্লিজ রুপমামু? আমার ভাইটাকে মেরো না।ওর বদলে আমাকে বলি দাও।আমিও নীলুফার মেয়ে।আমার ভাইটাকে ছেড়ে দাও প্লিজ।”
রুপক মন্ডল চাকিতে ঘুরে তাকায় ম্যাক্সিকান শেফের দিকে।সে আমতা আমতা করে বলে,
‘শী ইজ লাইয়িং।আওয়ার প্রিসিয়াস প্রিন্সেস উইল ওয়েকাপ টুডে।’

রুপক মন্ডল কাফিনের ডাকনা সম্পুর্ন খুলে নীলুফার বডির নিচের ব্লেংকেট সরিয়ে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকায়। এটা কাফিন না আধুনিক লাইফ সাপোর্টে মিনিবক্স।উপরের কাফিন ডিজাইন করা।এত বড় ধোকা?
রাগে চোখ লাল হয়ে চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু করে তার।নিচ থেকে খর্ব তুলে বা হাতে এককোপ বসিয়ে দেয় শেফের ঘাড়ে।এমনটা করবে কেউ বিশ্বাসই করতে পারেনি।গার্ড দুইজন জিয়ানাকে ধরে স্টেজের দিকে নিয়ে যায়।আর বাকিরা এগিয়ে এসে রুপকের সামনে যেতে যেতে রুপল বাকি অন্য প্রৌঢ়কে কাতিল করে দেয়।রুপকের গর্জনে পুরা জায়গা কেপে কেপে উঠছে।মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ছে।লাল দাঁড়িতে লালা আটকে সেটাকে জটা ধরিয়ে দিচ্ছে। কেমন ভয়াবহ রুপ এখন রুপক মন্ডলের।গগন বিধায়ী চিৎকারে কেপে উঠছে পুরো জায়গা।
এতকিছুর মাঝেও পেন্টাগনের বসা মানুষ গুলার কোন হুশ নেই।সবাই আগের মতোই উলঙ্গ হয়ে বসে কাপছে অনবরত। সবারই চোখ বন্ধ করা।

এরমাঝে রুপকের পিঠে এককোপ পড়ায় ছিটকে পরে যায় ফ্লোরে।নীলয় এখনো সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে। তার কোন বোধ আদৌ কাজ করছে কিনা?
গার্ডরা জিয়ানা ,নীলয় আর রুপকে ধরে আবার স্টেজে এনে দাঁড় করায়।এখানে আর কোন প্রৌঢ় উপস্থিত নেই।পরক্ষণেই শ*য়তানের স্তম্ভের পেছন থেকে একজন দানব আকৃতির নিগ্রো বেড়িয়ে এসে খর্ব হাতে নেয়।সাথে সাথেই আবার আলো নিভে যায়।দুইটা মোম জ্বলে উঠে।
উপস্থিত মানুষ গুলো কি যেনো যপতে থাকে অনবরত।
জিয়ানা চিৎকার করতে থাকে।তাকে পাথরে শুয়ানো হয়েছে।রুপক চিৎকার করে বলে,
‘ব্লা*ডি বাষ্টার্ড লিভ হার।আই ইউল কিল ইউ। ‘
এরমাঝে জিয়ানার চিৎকার থেমে যায়।কারণ তার চোখের সামনে ঘুমন্ত একটা মুখ। স্নিগ্ধ সুন্দর টলটলে একটা চেহারা গভীর নিদ্রায়। মোমের আলোয় যে চেহারা অপার্থিব কোন সৌন্দর্যের চেয়ে কম কিছু না।ঠোঁটে যেনো অল্প হাঁসি।জিয়ানা ফুপিয়ে উঠে আম্মু বলে।

এত কাছে তবুও ছুতে পারছে না।জিয়ানার একমুহূর্তে মনে হলো তালহা মিথ্যা কথা বলেছে,তার মা বেঁচে আছে।এত জীবন্ত চেহারা বয়সের ছাপ নেই একেবারেই।ভেলভেট কাপড়ে রাজকীয় রুপ যেনো ঠিকরে বের হচ্ছে শরীর থেকে।
এরপর প্যাচ করে একটা শব্দ হলো। জিয়ানার মুখের উপর গলগল করে গরম তরল ঝরে পড়তে শুরু করে। পর পর কয়েকটা ধাতব শব্দ।তারপর জিয়ানার সামনে চেনা চেহারা এসে আগলিয়ে নেয় দুইহাতে।
অদূরে রাফিন মেহেদি সহ অনেক গুলা মানুষ লড়ে যাচ্ছে উলঙ্গ শ*য়তান পূজারীদের সাথে।রাফিনের বাহুতে একটা আঘাত পেলে রুপক আবার চিল্লিয়ে উঠে পড়ে। আহত বাঘের মতো আবার খর্ব দাটা হাতে নেয়।সামনে যাকে পায় কচু কাটা করে এগিয়ে যায় নীলুফার দিকে।

রুপমের চিৎকারে ভেতরে বাতাসে উত্তপ্ত ছড়ায়।এই পাপিষ্ঠ পুরুষের আহাজারির চেয়ে কষ্টের আরও কিছু দেখেছে বলে জিয়ানার মনে পড়ে না।রুপক নীলুফাকে একহাতে টেনে বুকে নিয়ে বসে পড়ে ফ্লোরে।দৃশ্যমান হয় শরীরের পেছনের দিকে লাগানো যন্তাংশ। ভেন্টিলেটর ,ইনফিউশন পাম্প,কার্ডিয়াক পেসমেকার,ইসিএম সহ নানা যন্ত্র। যেগুলা কাফিনের নিচে সুবিন্যস্ত করে বসানো।এরমাঝে রুপমের বিলাপে বাতাস ভারি হয়ে উঠে,
‘নীলু আমার নীলুর কিচ্ছু হয়নি।আমার আগে ওও কখনোই যেতে পারে না।আমার জন্যই হয়েছে সব।আমি দ্বায়ী।আমাকে কেউ মেরে ফেলো।আমি স্বীকার করছি আমি পাপী।হ্যা হ্যা আমি পাপি।আমি খু*নী।আমি মহাপাপী।নিজের দোষ স্বীকার করলে না পাপ ক্ষয় হয়? আমার পাপ ক্ষয় হওয়া লাগবে না। আমাকে শুধু নীলু ফেরত দাও।নইতো স্বর্গ বা নরকে একসাথে থাকতে দাও।আমার নীলু। আমার নীলু।’
বলে হাতের দা দিয়ে নিজের গলায় একটা টান দেয়।রাফিন বাবা বলে দৌঁড়ানো শুরু করে রুপকের দিকে।ততক্ষণে ঢলে পড়েছে ফ্লোরে।জিয়ানাকে ধরে নিবিড় দাঁড়িয়ে যায়।

র*ক্তাক্ত রুপক মন্ডল বিড়বিড় করে বলেই যাচ্ছে ‘আমার নীলু। আমার নীলু……
জিয়ানা হামাগুড়ি দিয়ে নীলুফার কাছে গিয়ে বুকে উপর হয়ে শুয়ে বুকে কান পাতে।টিমটিম করে জ্বলে থাকা অল্প আশার আলোয় জিয়ানা ভাবে এখানে ধুকপুক শব্দ শোনা যাবে।কিন্তু না ,কোন শব্দ বা বুকের উঠা নামা নেই।জিয়ানার চোখ ছাপিয়ে পানিতে ঘুমন্ত নীলুফার গায়ের জামা ভিজে উঠে।জিয়ানা ভাঙা গলায় ডাকে,
‘এ্যাই আম্মু? তুমি কত সুন্দর। আমিও নাকি কিছুটা তোমার মতো।আচ্ছা আম্মু! তোমার কি আমাকে দেখতে ইচ্ছা হয় না? একবার তাকিয়ে দেখে বলো তো আমি কার মতো? জানো আম্মু? তোমার সুখ এখন আমারও সুখ।ওকে তুমি ঠিকঠাক মানুষ করেছো।কিন্তু সে একজন স্যাডিস্ট। আমাকে কাতরাতে দেখে খুব খুশি হয় সব সময়।ওকে একটু বলে দাও তো। ওও একমাত্র তোমার কথায় মানে।একটু বকে দাও সবসময় জেনো গোমড়া মুখে না থাকে।আর হ্যাঁ আমাকে একটু দোয়া করে দাও।মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য আলোর গতিতে কাজ হয়।শুনছো? আম্মু? এ্যাই আম্মু?কথা বলো? আব্বুর স্কেলেটন দেখেছি।তোমরা যদি চলেই যাবা তবে আমাদের কেনো একলা রেখে গেছো এই দুনিয়ায়? কথা বলো আম্মু? আমার সুন্দর আম্মু? ‘

নিবিড় হাটু গেরে বসে। তার শার্ট ভিজে যাচ্ছে র*ক্তে।বেসমেন্ট থেকে ড্রিল করে ফোটা করে জাম্প করে নামার সময়ই স্টিজ ছুটে গেছে যে সেটা বুঝেছে।ব্যাথাটা গুরুত্ব পেলো না নীলুফাকে দেখে। হাত বাড়িয়ে মুখিটা ছুঁয়ে দেয়।এইতো সেই চোখ মুখ নাক। এইতো তার ফু-আম্মু।
নিবিড়ও ডেকে উঠে নরম সুরে,’আম্মু? আমার এখন পরিপূর্ণ অধিকার আছে তোমাকে শুধু আম্মু বলার।দেখেছো তোমার চাঁদ এখন আমার আকাশে আলো ছড়ায়? কত্ত স্বার্থপর তুমি আম্মু? একেবারেই কাছে ছিলে এতদিন।অথচ কোথায় না খুঁজেছি আমি।একবার তো সাড়াও দিতে পারতে? ‘

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭৫

নিবিড়ের শক্ত চেহারা আজ ভেঙে গেছে।একটা মানুষ নেই।বা হারিয়ে গেছে।কিংবা মারা গেছে এটা কষ্টের হলেও স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া যায়।কিন্তু একটা মানুষ বিশ বছর থেকে নিখোঁজ ছিলো।ছিলো তো ছিলোই একেবারে একহাত কাছে।মানুষ নাকি মনের টানে অনেক কিছু বুঝতে পারে? কই তবে তারা কেনো কিচ্ছু বুঝলো না?
তবে সত্যিই মনের টান ,ভালোবাসা বলতে কিচ্ছু নেই?

নীতিহীন রাজ শেষ পর্ব