নীতিহীন রাজ পর্ব ১২
আশিকা আক্তার সোহাগী
“আমাদের সমাজের একান্নবর্তী পরিবার গুলাতে পুরুষরা স্ত্রী সন্তানদের প্রতি খুবই বিরুপ আচরণ করে থাকেন। তারা মনে করে স্ত্রী সন্তানদের প্রতি যত্ন কিংবা গুরুত্ব দিলে , পরিবারের অন্য সদস্যরা ভালো চোখে দেখে না। এমন কি অনেকেই মনে করে থাকেন ,এতে পুরুষত্বেও প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই বাবারা নিজেদের একটা শক্ত দেয়ালে আবদ্ধ রাখতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।দেখা যাবে বেশির ভাগ সন্তানরা নিজ পিতাকে আপনি সম্মোধন করে থাকে। কারণ তারা এটাই যেনে বড় হয়েছে বাবা মানেই সম্মানের ,বাবা মানেই ভয় আর বাবা মানেই পর। নিবিড়ের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। নিবিড় বলতে সুখনীল নিবিড়। চিনেন নিশ্চয়ই? ”
বলে সিগারেট এস্ট্রেতে ঘষে নিভিয়ে রাখলেন আধাপাকা এক ভদ্রলোক। উনি নিবিড়ের বড় মামা শ্যামল হাসান। জিয়াউল হক আর জিয়ানা এসেছেন উনার কাছে। উনি মামুন ইসলামের প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র হিসেবে উনিই বেশি জনপ্রিয়তা বেশি পেয়েছেন এইবার।
“আংকেল কান্ডলি একটু খুলে বলুন প্লিজ।আমরা যে ওসিকে ভরসা করছি উনি যদি বিক্রি হয়ে যান? তবে সব থেকে বেশি বিপদে তো আমি আর আব্বুই পড়বো। আব্বু আমাকে যদিও পুরোপুরি খুলে বলেনি। তবুও আমি মন থেকে কোন আগ্রহ পাচ্ছি না। যতদূর জেনেছি মামুন ইসলাম বেশ জনদরদী এবং নিষ্ঠাবান। বরং যত প্রকার অপকর্ম সব নিবিড় করে থাকে। তাহলে শুধু শুধু উনাকে এক্সপোজ করে কি লাভ?” জিয়ানা সোফায় হালকা হেলান দিয়ে প্রশ্ন করলো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“নিবিড় কিন্তু প্রায় দশ বছর থেকে একা থাকে। আমার কাছে কেন তার মায়ের কাছেও যায় না।আমার সন্ধানে যেটা বের হয়েছে নিবিড়ের সমস্যা আছে। মানসিক সমস্যা। কাইন্ড অফ স্যাডিস্ট অ্যাপ্রোচ ” বলে কফির মগ হাতে তুলে নিলো।
“”হ্যাঁ এটা আমিও বুঝতে পেরেছিলাম যে উনার একটা কিছু ঝামেলা আছে। আমাকে কিছুদিন আগে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো উনি আর আমার আপুর ফিয়ান্সে।যদিও আমি বেহেড ছিলাম কিন্তু ওই অবস্থাতেও পারিপার্শ্বিক কথাবার্তা আমি শুনতে পাই। ” তারপর সেদিনের ঘটনাটা ভাবলো জিয়ানা,
একটা অটো ডেকে নিবিড় আর সজীব উঠে বসে জিয়ানাকে নিয়ে। প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যামের সময় হর্ণ আর বিকট শব্দ দূষণে যেমন লাগে জিয়ানার কানে তেমন শব্দ হচ্ছিলো। সাথে কাছের সবার কথাও শুনা যাচ্ছিলো।
“ভাই তুই কি মেডিসিন গুলা নিচ্ছিস?” সজীব বেশ আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করে।
“না ,তোর যদি টাকা কামড়াকামড়ি করে তাহলে ওইসব বা*ল ছালের মেডিসিন কিনতে থাক।”
বলে জিয়ানাকে আর একটু বুকে চেপে ধরলো। হাইট আর প্রোপার ডায়েটের কারণে জিয়ানার ওয়েট ৫৩ থেকে ৫৫ থাকে অলয়েজ। বলবান বাহুবলি আসলেও একটা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে কোলে নিয়ে থাকা বেশ হিমশিমের কাজ।তারপর নিবিড়ের কাছে মনে হচ্ছে এটা মেয়ে না তুলার বস্তা। যেখানে হাত রাখছে ডেবে যাচ্ছে। অসংখ্য অস্বস্তি আর নতুন অনুভূতির দাবানলে যখন নাকানিচুবানি খাচ্ছিলো নিবিড় তখন সজীব প্রশ্ন করে ,
“ভাই তুই মনে হয় সুস্থ হয়ে গেছিস। তুই মাইয়া মানুষ কোলে নিয়ে আছিস। এই জিনিসও বেঁচে থাকতে দেখতে পারবো ইহ জিন্দাগিতে কল্পনা করি নাই।আমার মনে হয় তুই জিয়ানার প্রেমে পড়ছিস। ”
“বা*লের ঘ্যানঘ্যান যদি বাদ না দেস সজীব ,কসম এক্ষনি এই মেয়েকে কোল প্লাস গাড়ি দুটো থেকেই ফেলে দিবো।মুখ বন্ধ রেখে হাতটা চেইক কর। মনে হচ্ছে ব্লিডিং বন্ধ হয়নি।”
“হালা মচকাবে তবু ভাঙ্গবে না” বলে জিয়ানার হাতের রুমাল আর একটু টাইট করে বেধে দিলো সজীব।
সবকিছু না বলে শুধু মেয়েলি সমস্যা আছে এইটুকু উল্লেখ করে জিয়ানা।
শ্যামল হাসান কফিটা পুরোটা শেষ করে বলে ,
” শুধু মাত্র মেয়েদের যন্ত্রণা দেখেই সে সুখ অনুভব করে। বেশিরভাগ সময় নিজের মাঝে থাকে না।এইসবের কারণ তার মায়ের প্রতি একরাশ ঘৃণা।তোমাকে পুরোটা বলছি শুনো
স্বপ্না মানে নিবিড়ের আম্মার বয়স তখন সতেরো। ক্লাস নাইনে পড়ে স্থানীয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।হাস্যোজ্জ্বল সিগ্ধ কিশোরী নজর কারে মামুন ইসলামের। রাস্তায় উত্যক্ত করা ,টিজ করা তখন ইয়াং মামুনের নিত্যদিনের অকাজ।বাবা স্থানীয় চেয়ারম্যান ,সে ছিলো সর্বে সেরা । বাংলায় যেটাকে বলে এক মাল ,শাহা মাল টাইপ।
চিঠি দেয়া ,ফুল দেয়া নানা রকম উত্যক্ত করতে থাকে স্বপ্নাকে। এইদিকে এলাকায় রটে যায় এইসব। আমাদের আব্বা ছিলেন বেশ কনজার্ভেটিভ মানুষ। দুই একটা কথা শুনেই স্বপ্নার বিয়ে ঠিক করে ফেললেন। স্বপ্নার সাথে তার হবু বরের বেশ সখ্যতাও গড়ে উঠে অল্প দিনেই।এইদিকে বিয়ের দুইদিন আগে মামুন খবর পায়। বিয়ের খবর পাওয়ার দিন রাতেই গুন্ডা মাস্তান সহ কিছু দেশি অস্র নিয়ে আমাদের বাসায় এসে সবার সামনে স্বপ্নাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এবং শুনি সেরাতেই বিয়ে করে স্বপ্নাকে নিজ বাড়িতে উঠায়।
কিন্তু কয়েকমাস পর কোন এক ফাঁক ফোকড় পেয়ে স্বপ্না পালিয়ে আসে সেখান থেকে। সেদিন আমরা জানতে পারি নূর ম্যানসনের ভয়ংকর দিক।
মামুনের স্ত্রী সন্তান ছিলো। তারপরও মেয়েবাজি করে বেড়াতো। চেয়ারম্যান পুত্র হওয়াই কোন মেয়েকে একবারের বেশি দুইবার ডাকতে হয়নি। কিন্তু স্বপ্না যখন বারবার রিজেক্ট করে ,সেটা তার ইগোতে লাগে। পরিপ্রেক্ষিতে স্বপ্নাকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু বিয়ে করেনি। বিয়ে ছাড়ায় দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন করে গেছে স্বপ্নাকে।আমাদের বাড়িতে পালিয়ে আসার কিছুদিন পর আম্মা বুঝতে পারে স্বপ্না অন্তর্সত্তা। আব্বা এই খবর নিতে পারেনি।স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে যান। আর আম্মা উঠতে বসতে স্বপ্নাকে গালমন্দ শুরু করে। স্বপ্নার তখন মানসিক অবস্থা ভয়াবহ। প্রায় সুইসাইড করতে যায় কিন্তু অনাগত সন্তানের চিন্তায় করতে পারেনি। কোনভাবে মুজাম্মেল চেয়ারম্যানের বদনাম হয় মামুনের সাথে স্বপ্নার ঘটনার জের ধরে। তারপর উনি আমাদের বাসায় এসে স্বপ্নাকে বউ স্বীকৃতি দিয়ে নিয়ে যায় নূর ম্যানসনে।
নিবিড়ের জন্ম নিয়ে মামুনের বাবা মার তীব্র আপত্তি ছিলো। তাকে কখনোই তারা মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। এমনকি স্বপ্না নিজেও। কখনো নিজের মাতৃদুগ্ধ পানের সৌভাগ্য হয়নি নিবিড়ের। জন্মের পর ফেলে রাখা হয়েছিলো অনাদরে যেনো মারা যায়। কিন্তু সেই সদ্য জন্মানো বাচ্চাকে বুকে তুলে নেয় মামুনের ছোট বোন নীলুফা। নিবিড় একটা সার্টেন পিরিয়ড পর্যন্ত জানতোই না যে তার আসল বাবা মা কে। শুধু জানতো নীলুফাই তার সব।
আর একজন তার অতি প্রিয় মানুষ ছিলো সে বাড়িতে তার দাদার কর্মচারী রুপক মন্ডল। যদিও রুপকের ধর্ম নিয়ে অনেকের প্রশ্ন ছিলো। কারণ সে এতিমখানায় বড় হয়েছে।কোন এক হিন্দু মহিলা যার সার নাম মন্ডল ছিলো ,তিনি রেখে যান দেখে রুপকের নাম রাখা হয় মন্ডল দিয়ে। মোজাম্মেল ইসলামের বড় স্নেহের ছিলো ছেলেটা। বিয়েও করান নিজের পছন্দ মতো।কিন্তু ছোট্ট ছেলে বাচ্চা রেখে বউটা গ্যাসের আগুনে পুড়ে মারা যায়। তখন সেই বাচ্চা সহ রুপকের পার্মানেন্ট জায়গা হয় নূর ম্যানসনে।
রুপক আমার কলেজের ব্যাচমেট ছিলো।চমৎকার একজন মানুষ ছিলো।মানুষকে তার দিকে টানার একটা ঐশ্বরিক ক্ষমতা ছিলো।দুইমিনিট কেউ তার কথা শুনলেই ফ্যান হয়ে যেতো।আর একটা গুন ছিলো ,সমাজ সেবা।
ওর এই গুনের কারণ মোজাম্মেল সাহেবের পার্টিতে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যায় রুপক।একজন সাধারণ কর্মি থেকে সরাসরি চেয়ারম্যানের এসিস্ট্যান্টও হয়ে যায়।পার্টিতে যখন রুপকের কথা সংবিধানের মত ঢালাও ভাবে সবাই মানা শুরু করলো ,তখন মামুনের জ্ঞান ফিরলো। শুরু হলো জেলাসি। রুপকের জোরে চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন মোজাম্মেল ইসলাম। আর বিপুল ভোটে জয়ীও হলেন।মোজাম্মেল ইসলামের চোখের মনি হয়ে উঠেন রুপক।
এতদিন বাহিরের রাজ্যে জয়জয়কার কোনভাবে হজম করতে পারলেও ,নূর ম্যানসনেও যখন সবার মুখেমুখে রুপক আর রুপক। মামুনের ঈর্ষা সীমা ছাড়িয়ে গেলো। স্বপ্না নিজেও রুপকের মোহে পড়লো এক সময়। বাচ্চা আর নারীদের প্রতি ছিলো প্রচন্ড দ্বায়িত্ববান। নিবিড় রুপক বলতে অজ্ঞান ছিলো।ছোট ছোট উপহার দেয়া ছিলো তার স্বভাব।চেহারার দিক থেকে শ্রীহীন এক পুরুষ নিজের ব্যাবহার আর বিনয়ী আচরণে হয়ে গেলো সবার মধ্যমণি।কিন্তু কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকায়ে যায়।
পৌরানিক কাহিনীতে দেবতারাও ভুল করেছে। সেখানে রুপক একজন রক্তে মাংসে গড়া মানুষ ছিলো। রুপকের ছেলের প্রতি আদর যত্ন আর মেয়ে হিসেবে নীলুফার অতি সরল প্রতীমা সরুপ আচরণে প্রেমে পড়ে রুপক মন্ডল। আর সেটা ক্রমশ বাড়তেই থাকে।যত বিয়ের প্রস্তাব আসতো গোপনে সব রুপক ভেঙে দিতো।কোনদিন সেটা মুখে প্রকাশ না করলেও স্বপ্না যখন রুপকের দিকে বেশি ধাবিত হচ্ছিলো ,তখন স্বপ্নার কাছে নিজের অনুভূতির কথা স্বীকার করে। আর সেটা মামুন শুনে ফেলে।
মোজাম্মেলকে মসলা মিশিয়ে নানান কানপড়া দেয় মামুন।স্বপ্না আর নীলুফাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে এমন অনেক কিছু। মোজাম্মেল ইসলাম ছেলের কথায় রাগান্বিত হয়ে রুপমকে বহিষ্কার করে পার্টি থেকে।এমন কি বাড়ি থেকে বের করে দেন।শুধু ছেলের কথাতেও না ঠিক।পার্টির অনেকেই মোজাম্মেলকে ভুল বুঝাতো ,রুপক বেশি জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে।এমনকি মোজাম্মেলের চেয়েও। একবার এক জনসভায় রুপকের একটা কথা মোজাম্মেল ভালোভাবে নেয়নি।কথাটা ছিলো,
“মাননীয় সাংসদ যদি হোন সমুদ্র তবে আমি সেই সমুদ্রের পানি।উনি যদি হোন বাতাস তবে আমি সেই বাতাসের অক্সিজেন। উনি যদি হোক মাটি তবে আমি ধূলো।তাই উনার দিকে আঙুল উঠানোর আগে রুপক কে পাড় হয়ে যেতে হবে।”
সেদিন মোজাম্মেল ইসলামের মনে হয়েছে রুপকের মাঝে অহংকার চলে এসেছে।সাথে উনার ইগোতেও লেগেছিলো।তাই নিজের ক্ষমতা যে রুপক ছাড়াও অনেক শক্ত জায়গায় আছে বুঝাতে উনি বহিষ্কার করেন।
এদিকে রুপক পার্টি থেকে বহিষ্কার হওয়াই অনেকেই রুপকের সাথে পদত্যাগ করে। আর বিরোধী দল এই সুযোগটাই লুফে নেয়।পার্টির সুবিধাবাদীরা নানা অপকর্ম সহজেই করা শুরু করে রুপকের অনুপস্থিতিতে। আস্তে আস্তে কেন্দ্রীয় পার্টিতে ফেস লস হয় মোজাম্মেল ইসলামের। দলীয় উচাটন ছেলের একের পর এক ভুল ডিসিশনে উনি যখন দিশাহারা তখন হঠাৎ খুন হোন সহ পরিবারে।
“তবে ভেতরে আরও কিছু ঘটনা আছে যা আমরা জানি না।এগুলা সবাই কম বেশি জানে। সবচেয়ে বেশি যে রহস্য সেটা হলো পুরাতন নূর ম্যানসন। ওই এক্সিডেন্টের পর নিবিড় অনেক দিন কোমায় ছিলো। স্বাভাবিক হয়েও কথা বলতো না একেবারে। তারপর আস্তেধীরে স্বাভাবিক হতে সময় লাগে প্রায় বছর তিনেক।এইজন্য ওর পড়াশোনাও বেশ পেছানো। ছোটবেলায় বেশ ভালো ছাত্র ছিলো কিন্তু সেই ঘটনার পর কোন রকম টেনেটুনে পাস করে গেছে। আমি প্রায় আমার কাছে ডেকে আনি কিন্তু ওই বিষয়ে একটা টু শব্দ সে করে না।ওর বাবা মার রিলেটেড কোন আত্মীয়কে সে স্বীকারও করে না। নিজেকে পরিচয়হীন বলে পরিচয় দেয়।মামুনের মেজো ছেলে মেহেদী ইসলাম যখন দেশে আসে নিবিড়ের জিনা হারাম করে দেয়।যদিও নিবিড়ের সৎ ভাই। কিন্তু সম্পর্ক সাপে নেউল। মেহেদী একবার জনসভায় মাইকেই বলে ফেলেছিলো আমার বাপের ডান হাত তো বেজন্মা। নিবিড় সেই স্টেজেই আধমরা করে ফেলেছিলো মেহেদী কে।”
দীর্ঘ কথার শেষে থামলেন ভদ্রলোক।জিয়ানা আর জিয়াউল খুব সচেতন ভাবে মনোযোগ দিয়ে শুনলেন পুরোটা।তারপর জিয়াউল বললেন,
“নিবিড়ের ব্যাপারটা বাদ দিলাম।কারণ সেতো এখানে মাস্টার মাইন্ড না।আসল হচ্ছে মামুন ইসলাম।আপনার কাছে সবটা শুনে মনে হচ্ছে রাতারাতি স্বভাব চরিত্রের বদল ঘটেছে উনার। এখন উনার যে হাবভাবে কোনটাই আগের সাথে যাচ্ছে না।”
শ্যামল হাসান একহাতের তুড়ি বাজিয়ে বলে,
“ইউ গট দ্যা রিয়েল পয়েন্ট। মালেশিয়া থেকে এসেই সে জনদরদী অবতার হয়ে গেছে। এটাই আসল টুইস্ট। ”
এই পর্যায়ে জিয়ানা বলে উঠলো ,
“রাজনীতিতে নামতে হলে এমন রদ বদল স্বাভাবিক না?”
তখনই প্রবেশ করলো ওসি হাবিব।
আজ সাতদিন থেকে সমুদ্র ক্যাম্পাসে আসে না। মক্কু কিছু হকিস্টিক পরিস্কার করতে করতে নিবিড়ের উদ্দেশ্যে বলে,
“ভাই আপনারই কপাল। যে পক্ষই জিতুক ,আপনার নিজের লোকই ক্ষমতায় থাকবে।কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কাকে ভোট দিবেন?”
নিবিড় ঘাড় কাত করে মক্কুর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে
“তুই কাকে দিবি?”
“আপ্নে যারে দিবেন।”
“নিজেকে”
মক্কু ফট করে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো ,
“কবে আমিও আপনাকে ভোট দিতে পারবো ভাই?”
“আগে মামুর চামচামি বাদ দিবি তারপর। ”
ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেলো মক্কু।
“শ্যামল মামা একমাত্র মানুষ যে রোজ খোঁজ নেয় আপনার। আপনে তো পাত্তায় দেন না তারে। কিন্তু এইবার একটা ফাটাফাটি হইবো আমার সমুদ্র ভাইয়ের লগে। বদি নিজেও রাইগা আছে খালি একটা সুযোগ পাক।বিয়ের আগেও বদি বারবার বলছিলো ,মৌসুমী সহজ সরল মেয়ে।যেনো না ঠকাই। কিন্তু হেয় তো শুধরানোর মানুষ না।তবে তামান্না যে একটা ভালো ঢপ দিছে এতে আমি বহুত খুশি। সমুদ্র ভাইরে চার নাম্বার জামাই বানাইতে চাইছিলো মনে হয়। একেই বলে আসল বারো বা*তারি।”
নিবিড় চেয়ার থেকে উঠে একটা হকিষ্টিক হাতে নিয়ে খেলার ভান করে বলে উঠলো
“বলের জায়গায় নিজের মাথাটা কল্পনা কর। আর আমার হাতের এই হকিষ্টিক খেয়াল কর। কেমন লাগছে?”
“সরি ভাই আর বেশি কথা বলবো না। তবে একটা লাষ্ট প্রশ্ন? প্লিজ?”
নিবিড় ইশারায় অনুমতি দিলো ,
“জিয়ানা মেয়েটাকে আপনি সেদিন কোলে নিলেন শুধু কি দ্বায়িতের খাতিরেই নাকি আপনার মনে ওর জন্য জায়গা তৈরি হয়েছে?”
“কারণ সে আমার থেকেও বেশি অসহায় আর অদূর ভবিষ্যতের প্রচন্ড দুঃখী মানবী তাই।”
মক্কু নিবিড়ের পায়ের কাছে মাটিতে বসে বলে,
“ভাই আপনে কি জ্যোতিষী? আমার কপালডা একটু পড়ে দেন।আর কত দিন সিঙ্গেল থাকা লাগবে?”
“তোর কপালে ময়লার স্তর জমে লেখা মুছে গেছে। চামচামি বাদ দিয়ে যেদিন পুরুষ হবি সেদিন আবার কপাল খুলবে।”হকিস্টিক দিয়ে কপালে ঢেলা দিয়ে বলে নিবিড়।
“ভাই আপনার আর আমার না একসাথে মুসলমানি হইয়ছে।তারপর বলতাছেন পুরুষ হই নাই। প্রমাণ দেয়ার জন্য এইবার বিয়ে করায়ে দেন। দেখবেন এক বছরেই মামা বানিয়ে দিবো। ” বোকা হেঁসে মক্কু বলে।
“নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আগে বাচ্চার দৌঁড় দেখতে চায়। বলদ কোথাকার। সর। ” বলে হকিস্টিক রেখে দিলো।
“সঠিক পা দাঁড়ালেই বাচ্চার দৌঁড় দেখা যায় ভাই। ” লাজুক হেঁসে বলে মক্কু।
নিবিড় তেড়ে গেলো মারতে।
“নালায়েক আমার সাথে ফালতু জোকস তোকে করাচ্ছি। দুই পা আর সঠিক পা আজ তোর সব নোলা যদি না করেছি দাড়া। ”
মক্কু ছুটে ক্লাব থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে যেতে যেতে বলে,
“তাহলে আমাকে মামা বানিয়ে দেন ভাই। আপনি তো সব পায়েই দাঁড়িয়ে। ভাবিও রেডি। আজ থেকে কিন্তু আমি চলতে ফিরতে ভাবি বলে ডাকবো ভাই। আমার ভাতিজাটা গুলা দুনিয়াতে আসার জন্য কান্নাকাটি করছে। আর আমাকে ডেকে বলছে ‘মামু আমার আব্বা আর আম্মা নিষ্ঠুর। তারা আমাদের আনতে দেরি করছে। ”
নিবিড় ক্লাবের দরজা ঠাস করে লাগিয়ে দিলো।
ওসি হাবিব এসে যোগ দিলো শ্যামল হাসানের গোপন অফিসে। হাবিব জিয়াউলের বাল্যবন্ধু। সাথে সাগর হকের শুভাকাঙ্ক্ষী। এতদিন শুধু অপেক্ষায় ছিলো সাভার থানায় পোষ্টিংয়ের জন্য।
জিয়ানার দিকে তাকিয়ে হাই ফাইভ করে বললেন,
“কি শেষপাতার সিক্রেট ইনফরমার? এক্সাইটেড? কাল তোর আর্টিকেলটা যদি ঠিকঠাক ভাবে প্রকাশ হয় সারাদেশে হইচই পড়ে যাবে। ”
“তা পড়বে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নিবিড় আমাকে দেখে ফেলেছে থানার ডাকবক্সে কিছু ফেলতে। ওইটা একটা রিস্কি আছে বলে মনে হচ্ছে আংকেল।” জিয়ানার কন্ঠে উৎকন্ঠা।
“রিলাক্স নিবিড়ের সাথে তার বাবার কোন একটা সিক্রেট ক্ল্যাশ আছে। মাননীয় হুইপ নিজে আমাকে বলেছেন।যদিও আমি স্বতন্ত্র কিন্তু উনার স্নেহের হাত আমার মাথার উপর আছে।আর নিবিড় উনার নিজ হাতে গড়া। এই বিষয়ে নিবিড় জড়াবে না।”
হাবিব বললেন,
“যতই ক্ল্যাশ থাকুন বাপ ছেলে বলে কথা ,রক্তের টান আছে না?একটা কিন্তু থেকেই যায়।”
জিয়াউল সবাইকে থামিয়ে বলে উঠলো ,
“আমি এটা নিয়ে কয়েকদিন থেকে ভেবে একটা স্বীদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা ফলস স্ট্রেইট মেন্ট বানিয়ে হাবিবের কাছে রাখলেই হবে।কেউ সন্দেহ করলে জিয়ানা বলতে পারবে ,পথশিশুদের সাহায্যের জন্য সরকারের কাছে একটা আবেদন করেছিলো। সেটা দ্রুত কার্যক্রম হওয়ার জন্য ওসির কাছে তদারকির জন্য সাহায্য চেয়েছে।”
“ওয়াও গ্রেট আব্বু ” জিয়ানা হাতের তালি দিলো।
“তাহলে ওসি সাহেব কি রেডি? কালকের জন্য?”
“ইনশা-আল্লাহ ”
শেষের পাতা
“”বেশ বড় সাইজের মামুন ইসলামের ফটো””
**
সাভার ১নং ইউপি চেয়ারম্যান মামুন ইসলাম। পিতা মৃত্যু মোজাম্মেল ইসলাম।পর পর টানা তিনবার জয়ী চেয়ারম্যান। মানবতার ফেরিওয়ালা। জনদরদী ,গরিবের বন্ধু। অসহায় মানুষের সহায়। এমন নানা টাইটেল জয়ী এই ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ংকর একদিকের হদিস পেয়েছে আমাদের এক ইনফরমার।
জীবনবৃত্তান্ত
১৯৬২সালের সেপ্টেম্বরে নিজ বাসভবনে জন্মগ্রহণ করেন।পিতার হাত ধরেই রাজনীতির পথযাত্রা শুরু। তবে পিতার আদর্শের বহির্ভূত আচরণ করে এসেছে পুরো যৌবন কাল।কিন্তু ঘোল বদল হয় তখন ,যেদিন অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনে খুন হতে দেখেন। নিজের ডান হাত সহ চেহারার অধিকাংশ এসিডে ঝলসে যায়।কিন্তু আধুনিক ডার্মাটলজিষ্টের কামালে চেহারা আবার রিপেয়ার করতে সক্ষম হোন।সাথে চরিত্রেরও বেশ পরিবর্তন আনেন।পরিবর্তন কি সত্যি এনেছিলেন নাকি সম্পুর্নটাই একটা মুখোশ?
আমাদের ইনফরমারের তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক নানা তথ্য।ভোলাভালা চেহারার পেছনে কদাচিত সাক্ষাৎ এক নরখাদক। উনার তিনজন নিগ্রো গার্ড সাধারণ কোন মানুষ না।ক্যানিবাল তিনজনই। নিষিদ্ধ এই তিনজনের খোরাক মিটান স্বয়ং চেয়ারম্যান মামুন ইসলাম। এই নরখাদকদের নারী এবং শিশুর মাংস বেশি পছন্দ। এমন ভয়ংকর পাপীকে কোন সাধারণ মানুষ পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারে না।এবং মামুন ইসলাম নিজেও অকারণে করেন নি।
সাম্প্রতিক চিত্রনায়িকা রুমঝুম নিখোঁজ এর সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত মামুন ইসলাম। উনার পুরাতন বাড়ির ময়লার আশেপাশে মিলেছে রিমঝিমের রক্তমাখা হাতের চুড়ি। এবং ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী সেই রক্ত রিমঝিমের।
নিচে ফরেনসিক রিপোর্টের ছবি।
নিরাপত্তার স্বার্থে মামলা করার সাহস পাইনি রিপোর্টার। এমন ভয়ানক খুনি আর নরখাদক আমাদের সমাজেই মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ানো সবার জন্য প্রাণঘাতী সম।
ইনফরমার
ঝিঙ্গা লালা
শেষের পাতা।
পুরা পত্রিকাটা ধুমরে মুচড়ে দলা পাকিয়ে ছুড়ে মারলো মামুন। আশরাফ সেটা উঠিয়ে নিজে পড়া শুরু করলো।
“কে করতে পারে এমন?আশরাফ? রেজাউল সরকারের কাজ কি?”
“হতে পারে স্যার। দুইদিন সময় দেন বের করে দিচ্ছি এই গোপন ইনফরমারকে।”
“অনেক টাকা খসড়া যাবে আশরাফ।প্রকাশক ৫০লাখ চেয়েছে। নাহলে কাল সকালের নিউজে চলে যেতো। ” বেশ চিন্তিত হয়ে বললেন মামুন ইসলাম।
“আপনি কাকে সন্দেহ করছেন স্যার?”
“রেজাউওল সরকার ,শ্যামল হাসান,নিবিড়,জিয়াউল।এরমধ্যে রেজাউল বাদ। শ্যামলের এত সাহস কিংবা ম্যান পাওয়ার নেই। সো সেও বাদ। নিবিড় আর জিয়াউরের উপর নজর রাখা চাই চব্বিশ ঘণ্টা। ”
“হয়ে যাবে স্যার।”
“কাল সমাবেশ। তাই কোন ঝামেলা চাই না।”
“ওকে স্যার।”
ভোরের পাখির আগে ঘুম থেকে উঠতে হয় জিয়ানার। নাহলে ২কিলো এক্সট্রা দৌঁড়াতে হয়।মাঝেমধ্যে মনে হয় এরচেয়ে মিলিটাতে গেলে ভালো হতো। আজ তার একেবারেই উঠতে ইচ্ছা হচ্ছে না।কাল প্রায় সারারাত জেগে ছিলো।সেই এক্সিডেন্টের পর থেকে কেটে গেছে সাতদিন।এরমাঝে রাফিন একটা কল কিংবা সিঙ্গেল মেসেজ করেনি।এই প্রথম জিয়ানার মন বড্ড উচাটন করছে।মনের আনচান শরীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে যেনো। কেমন ম্যাচম্যাচ একটা ভাব।জিয়ানেকে কি ডিচ করলো রাফিন।ছ্যাকা খেয়ে এমন ভাব?
ফট করে উঠে দাঁড়িয়ে জট জাম্প করা শুরু করলো।নিজেই নিজেকে বলতে শুরু করে,
“কাম অন জিয়না। আব্বু বারবার বলেছে কখনই কারো উপর কোন আশা ভরসা রাখবি না।মানুষের উপর তো একেবারেই না।”
জাম্প সুট পড়ে বের হয়ে গেলো রুম থেকে।কাল রাতে মর্জিনা বেওয়া মানে জিয়ানার নানু এসেছেন।বৃদ্ধার সাথে জিয়ানার সাপে নেউলে সম্পর্ক। জিয়ানা ড্রয়িং রুমে এসে দেখে ,উনি বসে তসবিহ হাতে নিয়ে জিকির করছে।জিয়ানার একটা বদ অভ্যাস তাকে যারা পছন্দ করে না তাদেরকে উত্ত্যক্ত করতে ভালো লাগে। জুতা পড়া ব্রেক দিয়ে গিয়ে মর্জিনা বেওয়াকে জড়িয়ে ধরলে বলে,
“উফফ ডার্লিং কত দিন পর দেখলাম তোমাকে। কি সে*এক্সি লাগছে মাইরি। আমি যদি ছেলে হতাম একটা অসম প্রেম রচিত হতো নিশ্চিত। ”
“ওই ছাড় ,ছাড়। অসভ্য মেয়ে ছেলে মানুষ কোথাকার। ধীঙ্গি মাইয়া হয়ে এখনো বাচ্চাদের মতো আচরণ করিস। লজ্জা শরম তো কবেই ধোঁয়ে খাওয়া শেষ। আমার মেয়ে আর মেয়ের জামাইয়ের কামাই বসে বসে খেয়ে হাতির মতো শরীর বানাচ্ছিস শুধু। মাথায় তো গোবর ঠাসা।” বৃদ্ধার কথায় একরাশ রাগ আর বিরক্ত।
জিয়ানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
“আমি তো ভালো কামাই খাই ,তোমার মতো ছেলে আর বউদের মাথা খাই না।শয়তানের নানী ঝিঙ্গা লালা ,তুমি যতই আমাকে গালমন্দ করো কিন্তু আই লাভ ইউ। ” বলে ঠোঁট পাউট করে উড়ন্ত চুমু দিয়ে বের হয়ে গেলো বাসা থেকে। ভেতর থেকে দরজা খোলা মানে জিয়াউ্ল অপেক্ষা করছে বাহিরে।কিন্তু কোথাও পেলো না জিয়াউলকে। অনেক দূর চলে গেছে ভেবে জিয়ানাও দ্রুত পা চালালো।
ক্লাসে আজ মনোযোগ নেই জিয়ানার। কোথায় মন কেমন জানি।সকাল সকাল মর্জিনা বেওয়ার সেই চিরচেনা আচরণে অভস্ত্য সে। তবুও মানব মন তো ,রোবট না। ছোট থেকে উনি জিয়ানাকে বুঝাতো সে একটা বোঝা।একটু বড় হওয়ার পর থেকে ডেকেছে জেনি আপির নানু।এখন ডাকে বুড়ি।
আঞ্জুমানের সাথে এই নিয়ে মর্জিনা বেওয়ার অনেকবার তর্ক বেজেছে।তারপর আস্তে আস্তে জিয়ানাই সরে এসেছে। নিজের চিন্তা হাটিয়ে বইয়ে মুখ গুজলো। তখন হঠ্যাৎ মক্কু বদি সোহেল সহ আরও কিন্তু রাজনৈতিক কর্মী ক্লাসে ঢুকে ক্লাস বাদ দিতে বলল প্রফেসরকে। কারণ সবাইকে সামনের জনসমাবেশে যেতে হবে বাধ্যতামূলক। জিয়ানার ব্রু কুচকে গেলো। এটা কি মগের মুল্লুক। কিন্তু সবাই সুর সুর করে বলার সাথে সাথেই বের হয়ে গেলো।একা জিয়ানা আর মৌসুমী বসে রইলো।মক্কুর ডাকে ধ্যান কাটলো।মক্কু ইশারা করছে বের হতে। বই ব্যাগে ঢুকিয়ে মক্কুর পেছন পেছন হাটা ধরলো।
ভার্সিটির পাশের ফাঁকা মাঠে হচ্ছে জনসমাবেশ।কি একটা প্রতিবাদ মূলক আলোচনা হবে।কয়েকটা ছোট ছোট মিছিল এসে যোগ দিলো।সব দেখা যাচ্ছে স্টুডেন্ট। হঠাৎ জিয়ানার খেয়াল হলো দশটা বেজে অনেকক্ষন এতক্ষণে তো হইচই পড়ে যাওয়ার কথা। মাইকে অনবরত হ্যালো হ্যালো ভেসে আসছে।
মৌসুমীকে বলে ,একটু সাইডে এসে ফোন বের করে জিয়াউলকে কল দিলো। সকালের নাস্তাতেও পায়নি তাকে।কোন আপডেট আছে কিনা।এই দেশে কাউকে বিশ্বাস ভরসা কোনটাই করা যায় না।কখন কে বিক্রি হয়ে যাবে টাকার কাছে ঘুনাক্ষরেও টের পাওয়া যাবে না।ফোন সুইচড অফ বলছে।কপালে ভাজ পড়লো সুক্ষ্ম চিন্তায়। তখন একটা মেয়ে জিয়ানার কাধে হাত দিয়ে বলে,
নীতিহীন রাজ পর্ব ১১
“তোমাকে ভাই ডাকে। ওই যে কালো হাইস গাড়িতে আছেন।”
“কোন ভাই? “জিজ্ঞেস করতেই ঘুরে দেখে মেয়েটা ভিড়ে মিশে গেছে। অগ্যতা সে দিকে হাটা ধরলো।
এদিকে নিবিড় স্ক্রিপ্ট বারবার আওড়াচ্ছিলো।তার আজ বিশাল ভাষণ দিতে হবে।চেয়ারম্যানের আমলনামা পাঠ করতে হবে।সবার কানে ঠুসে ঠুসে ভরতে হবে,প্রতিটা কথা।একজন সুবক্তা হিসেবে সবাই নিবিড়ের ভাষণ পর্যন্ত জনসভায় উপস্থিত থাকে। তারপর আস্তে আস্তে ভীড় গলতে থাকে। নিবিড় হঠাৎ মাঠে একবার নজর ঘোরালো। এত মানুষের মাঝে কাঙ্খিত মুখের খুঁজে। নিজেই নিজের কাজে বিরক্ত হয়ে আবার স্ক্রিপ্টে মনোনিবেশ করলো।
জিয়ানা গাড়ির খোলা দরজায় উঁকি দেয়ার পর সোজা হয়ে দাঁড়ালো। তারপর একটা হাত বাড়িয়ে দিলো তার দিকে রোবটের মতো সেই হাতের টানে গাড়িতে উঠে বসলো। গাড়ির দরজা একটানে বন্ধ হয়ে ,সজোরে স্টার্ট হয়ে প্রস্থান করলো গাড়িটা।
