Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১০

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১০

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১০
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_”না সুধরাক,আমি মেনে নিবো, আল্লাহ উনাকে উনার প্রাপ্তটা বুঝিয়ে দিবেন,সময় হলে তার জীবন কেড়ে নিবেন তবে আমি কাউকে মারছি না।”
নাবিল কঠিন চোখে পরির দিকে তাকালো।পরি ভাত মেখে নাবিলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_”খেয়ে নিন,তার পর মেডিসিন নিবেন।”
নাবিল ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে পরির দিকে চেয়ে রইলো তবে “হা” করলো না।পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বুঝতে পেরে প্রথম লোকমা নিজের গালে পুরে দিলো। পরপর দ্বিতীয় লোকমা নিয়ে নাবিলের মুখের কাছে ধরে বললো

_”বিষ নেই, আর আপনাকে মারার আমার কোনো রুচি বা ইচ্ছাও নেই। চুপচাপ খেয়ে নিন।”
নাবিল খাবার মুখে তুলে নিলো,জীবনের প্রথম বার পরির হাতে খেলো সে।পরির ফর্সা পুতুলের মতো আঙ্গুল গুলো ঠোঁট দিয়ে ছুঁয়ে দিতে লাগলো নাবিল।পরির শরীর কেমন ঝিমঝিম করে উঠলো।নাবিলের চাহনি আর ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে পরি বদনখানা কিছুটা শিরশির করতে লাগলো।
নাবিল খাবার মুখে পুরে চিবাতে চিবাতে বললো
_”তোর লোগে কতোই না অন্যায় করছি আমি,আর তুই আমারে না মাইরা খাওয়াইতাছোস।এর কারন কি?”
পরি খাবার মাখাতে মাখাতে বিরবির করে সুধালো
_”জানি না,তবে এটাই জানি আমি আপনার মতো অমানুষ না। আল্লাহ আমাকে সুন্দর একটা মন দিয়ে।আর হয়তোবা আপনার নজরে পড়ার জন্য এই সুন্দর দেহটাও দিয়ে দিয়েছে।”
_”ও,তা তুই কি জানোস না,হেন থাইকা আমি ছাড়া পাইলেই তোরে কুপামু,কয় কোপ পড়বো তোর শরিলে ,হিসাব আছে?আর তুই আমারেই খাওয়াইয়া সুস্থ করতে চাইতাছোস?’
পরি কেমন করে নিঃশ্বাস ফেললো,পরপর নাবিলের মুখে খাবার তুলে দিতে দিতে বললো
_”জানি না,তবে যদি মারার হয় তবে একবারেই মেরে ফেলবেন, কারণ জীবন্ত রেখে আস্তে আস্তে মারলে খুব কষ্ট হবে আমার। হয়তোবা আমার ব্যথাতুর মুখ দেখে আপনার শান্তি মিলবে তবু সেইসময় একটু দয়া দেখিয়েন।”

_”দুধ কলা দিয়া কাল সাপ পুষতাছোস, এমন ভাবে ছোবল মারবো,কোন দিকে যাবি হুস পাবি না।”
পরি মৃদু হেসে বললো
_”আপনি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছahh।”
হঠাৎ পরিকে চোখ মুখ খিচে গুঙ্গিয়ে উঠতে দেখে নাবিল ভুরু কুঁচকে নিলো।পরি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে পেটের ভিতর এক হাত রাখলো। এমন ভাবে পেটের ভিতরে লাথি দিচ্ছে যেনো বাপের রাজ তার।পরি চোখ মুখ খিচে এঁটো হাত বুকে চেপে ধরলো। লাত্থি দিয়েছে যেনো একজন কলিজার গোড়ে যেয়ে, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে প্রায়।
পরি খাবারের প্লেট রেখে আগে পানি খেয়ে নিলো।নাবিল প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,পরি পানি খেয়ে ব্যথাতুর মুখশ্রী নিয়ে নাবিলের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_”পেটের ভিতরে রক্ত মাংস ক্ষয় করে আপনার মতোই একটা জানোয়ার গড়ে তুলছি।কলিজাটা ধরিয়ে ফেললো আমার।”

নাবিল পরির মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো,পুরানো ক্ষতো গুলো মুছে গেছে।তবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই পরির সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।চিকোন পরি কেমন আগের চেয়ে স্বাস্থ্যবান হয়ে গেছে।যার ফল স্বরুপ তাকে আরো আকর্ষণীয় লাগে।নাবিল কিছু সময় পরির দিকে তাকিয়ে রইলো। পরপর নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো”এই মেয়েটা তার বউ,তার অনাগত সন্তানের মা”
পরি নিজেকে কিছুটা শান্ত করে আবারো নাবিলের মুখে খাবার পুরে দিলো।নাবিল তা সদরে গিলে নিলো।পরি যখন মনোযোগ সহকারে খাবার মাখতে ব্যস্ত তখনি নাবিল বলে উঠলো
_”একটু আমার দিকে আগায় আয় তো।”
পরি মাথা তুলে নাবিলের দিকে তাকালো।নাবিল চোখের ইশারায় কাছে আসতে বললো।পরি ক্লান্ত চোখ তাকিয়ে রইলো।নাবিল মুখে বিরক্তির ভাঁজ ফুঁটিয়ে বললো

_”কি হইলো,কি কইলাম তোরে?”
_”কেনো?”
নাবিল বেশ শান্ত কন্ঠে বললো
_”একটা চুমু খামু, কেন জানি ইচ্ছা হইতাছে।”
পরি তাকে পাত্তা দিলো না,ভাত মেখে নাবিলের মুখে তুলে দিতে দিতে বললো
_”একটু আগে বললেন আমাকে কুপিয়ে মেরে ফেলবেন,এখন বলছেন চুমু খাবেন।আসলে আপনার মতলবটা কি?আগে নিজের মনকে স্থির করে নেন,যে আমার সাথে কি করবেন।”
নাবিল কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”আপাতত চুমু খামু,তার পর আমার হাত পা খুইলা দিলে তোরে কুপাইয়া মাইরা ফালামু।”
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,পরপর অনেকটা সময় নিয়ে নাবিলকে নিজ হাতে খাওইয়ে দিলো, doctor এর দেওয়া মেডিসিনি খাওইয়ে দিলো।নাবিল টু শব্দ করলো না। কারণ যদি এই সবের ভিতরে কিছু মিসিয়ে তাকে মারতে চায় তবে মেরে ফেলুক। অবশ্য নাবিল পরির চোখের ভাষা পড়ে ফেলেছে।পরি তাকে মারতে পারবে না।
নাবিলকে মেডিসিন দেওয়ার অনেকটা সময় পর পরি এসে নাবিলের সামনে বসলো,তখনো নাবিল সজাগ,পরির দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে।পরি এসে নাবিলের সামনে বসে ক্লান্ত কন্ঠে বললো

_”জানেন পেট শান্তি তো দুনিয়া শান্তি।পেট যদি খালি থাকে,শরীরে যদি অশান্তি থাকে তবে কারো ভালো কথাও বিষের মতো লাগে।”
নাবিল পরির দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”তোরে ছুইয়া দিতে ইচ্ছা করতাছে।সামনে আয়,একটা চুমু খাই।না হইলে আমার হাত পা খুইলা দে।তোরে একটু ছুইয়া দিমু।”
পরি ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,বিরবির করে বললো
_”হাত পা খুলে দি,আর আপনি আমি সহ আমার পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার সুযোগ পান,এটাই তো?এটা সোজাসুজি বললেই পরাবেন,এতো নরম কন্ঠে বলার কি আছে।”
নাবিল চেহারা নিয়ে নড়েচড়ে উঠে, হাঁসফাঁস করে সুধালো
_”নডির ঘড়ে নডি, তুই খালি আমরে খুল।তার পর দেখ আমি কি করি।”
_”তাই তো আপনাকে খুলবো না আমি।”
নাবিল শান্ত চোখে পরির দিকে তাকালো। পরি নাবিলের বড় বেঁধে রাখা হাতটা ছুয়ে দিলো।পরপর তার ঘাম,আর রক্তে ভেজা শার্টের দুটো বোতাম গুলো খুলে দিলো।নাবিল নড়েচড়ে উঠলো,পরিল ধান্দা সে বুঝতে পারছে না।
পরি তার ফর্সা হাত নাবিলের হালকা লোমস শ্যামলা বুকে বুলিয়ে দিলো,পরপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তার দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো

_”আপনি যদি চাইতেন তবে আমাদের একটা সুন্দর সংসার হতো নাবিল। এরকম পরিস্থিতি তৈরি হতো না, তবে আফসোস আল্লাহ আপনাকে সেই মন মানসিকতা দেয়নি।আপনি সংসার করার জন্যে জন্ম নেননি,আপনি বরং সবাইকে ধংস করতে এই জন্ম নিয়েছেন। আপনার মতো একজন মানুষ আমার জীবনে আসা আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগতো।আমি শুধু বইয়ের লাইনে পড়ে গিয়েছিলাম রাজকুমারীকে নিতে রাজকুমার আসে। ছোট্ট বেলা থেকে অনীক সৌন্দর্য নিয়ে বেশ অহংকার ছিলো,বলা বাহুল্য, একবার স্কুলে থাকতে আমার এক শ্যামলা friend কে কটাক্ষ করে বলেছিলাম”তুই তো কালো,তোকে কে বিয়ে করবে,কোনো রাজকুমার আসবে না তোকে নিতে। আমাকে দেখ আমাকে নিশ্চয় কোনো রাজকুমার নিতে আসবে।” তবে আফসোস আজ সেই মেয়েটাকেই একজন রাজকুমার এসে নিয়ে গেলো। তাদের সুখের সংসার হলো তবে আমার হলো না। আমার জীবনে এই সুন্দর কাল বয়ে আনলো।”
সবটুকু বলে পরি থামলো পররপ নাবিলের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
_”যতটুকু সৌন্দর্য নিয়ে জন্মেছিলাম,তা সব আপনাকে বিলিয়ে দিলাম তবু কিছুই পেলাম না। শুধু বিচ্ছিরি গালি পেলাম, শারীরিক অত্যাচার পেলাম , একজন অমানুষ জীবন সঙ্গী পেলাম। কি আশ্চর্য তাই না?”
_”তুই এই সব আমারে বইলা কি লাভ পাবি।তোর কথায় কি আমি বোইদলা যামু?”
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কাতর কন্ঠে সুধালো

_”আপনি আমার জীবনে এসেছিলেন নাবিল,তবে এভাবে কেনো এলেন? আপনার মতো এ ঘেও মানুষ আমার পছন্দ,তবে সেটা হবে আমার জন্য। আচ্ছা আপনি অমানুষ ছিলেন ঠিক আছে তবে আমাকে ভালোবাসেন না কেনো ‌। আমাকে আগলে নিলেন না কেনো? যদি আপনি আমার প্রতি একটুও সদয় হতেন তবে আজ আমাদের সুন্দর একটা সংসার হতো।এই অনাগত সন্তান, সবকিছু স্বপ্নের মতো আনন্দদায়ক হতো। তাই না?”
নাবিল যেনো পরির কথায় বিরক্ত হলো,তা বুঝতে পারলো পরি,তবু থামলো না,অনুনয় করে বললো
_”যেদিন প্রথম আমাদের দেখা হয়েছিলো সেদিন কু প্রস্তাব না দিয়ে যদি আমার জন্য একটু মিথ্যে ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতেন।যদি বাড়িতে এসে আমাকে চাইতেন, অবশ্য আপনার মতো মানুষের সাথে দিতে আমার পরিবার বা আমি কখনোই রাজি হতাম না তবু একটু ভালো মানুসিকতা দেখিয়ে যদি কথা বলতেন,তবে কি ক্ষতি হয়ে যেতো।নিজের মিথ্যা সাইডটাই না হয় আমাদের দেখাতেন!”
নাবিল ঠোঁট বাঁকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠলো

_”তুই কি কইতে চাস?তোর লাইগা আমি তোর বাপ,মায়ের পায়ে পড়তাম? কক্ষনোই না,এই নাবিল যা চায় তা ছিনিয়ে নেয়।আমি মিথ্যা অভিনয় কেন করমু, যখন আমি চাইলেই কাইড়া নিতে পারমু?”
পরি রেগে কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”এটাই তো আপনার ভুল ধারনা, সবকিছু ছিনিয়ে নিলেই হয় না নাবিল। কিছু জিনিস আপোসে,আনুনয় করে পেতে হয়। আচ্ছা ঠিক আছে ওই সব বাদ দিন। ধর্ষণ করার পর বিয়ে তো ঠিকি করলেন,এই বিয়েটা আগে জোর করে করলে কি হতো?”
নাবিল হেলামি করে সুধালো
_”তুই নাটক কম চুদাইছিলি? তুই যদি রাজি হইতি এমন কিছুই করতে হইতো না।আর এতো দিন পরে তোরে দেখার পর ধৈর্য ধারার অবস্থায় ছিলাম না।যা করছি ভালো করছি।”
পরি কপালে এক হাত চেপে দুঃখে হেসে উঠলো,কাকে বুঝাচ্ছে সে? উল্টো তাকেই ভুল প্রমাণিত করে বুঝিয়ে বসিয়ে রাখছে।পরি কিছু সময় চুপ থেকে বললো

_”আচ্ছা ঠিক আছে,তা না হয় আমি রাজি না হওয়ার কারনে এই সব হয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর যখন বাড়িতে নিয়ে যেয়ে ফেললেন তখন কি একটু ভালো ব্যবহার করা যেতো না।এই যে কথায় কথায় গায়ে হাত তুলেন, কুকুরের মতো ব্যবহার করেন , আপনার কি একটু আমার প্রতি মায়া হয় না, একটু কি ভালো ব্যবহার করা যায় না? আচ্ছা আমি মনলাম সবটা আমাকে এই দেহের জন্য তবু কি একটু ভালো ব্যবহার আমি ডিজার্ভ করি না? আপনাকে রাতের পর রাত সুখ দিয়ে এসেছি,যখন চেয়েছেন তখনি হাতের কাছে পেয়েছেন,কখনো কি আমি মানা করেনি।আর করলেও কি আপনি শুনতেন?সেই হিসাবে কি আমি একটু সুখ আশা করতে পারি না। আমার পুরো জীবনটাই তো আপনি লস করে দিলেন। আমার ভিতরে আর কিছুই বাকি নেই।না কোনো আশা না কোনো স্বপ্ন। আমাকে আপনি খুব খারাপ ভাবে নিঃস্ব করে দিলেন। আমার স্বপ্ন আমার আশা সবকিছু ভেঙ্গে দিলেন,আমি এখন রা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবো না।সারাটা জীবন আপনার পায়ের তলে পড়া থাকার জন্য হলেও একটু শান্তি দিন আমাকে, আমাকে একটু সুখে থাকতে দিন।আমি আপনার কাছে একটু সুখ ভিক্ষা চাইছি।”

বলতে বলতে পরি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো,নাবিলের দুই হাটুর উপর হাত রেখে নুইয়ে পড়লো সে,,তার ভিতরে আর কি আছে, কিছুই নেই। নতুন করে সবকিছু শুরু করার মতো পরিস্থিতি বা মন মানুসিকতা কিছুই অবশিষ্ট নেই।তাই তো সে নাবিল কাছে হাত জোর করে সুখের আশা করছে,তবে নাবিল তার আশায় আবারো এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে বললো
_”আমি কি তোরে ভালোবাসি যে তোর জন্য দুনিয়া উলোট পালোট কইরা ফালামু,আমি কোনো হিরো না রে পরি,আমি ভিলেন ,তোরে মারতেও আমার হাত কাঁপবো না,সেখানে তুই তোর জন্য পাগল হইতে বলতাছোস? হাস্যকর!”
হাসতে লাগলো নাবিল,পরি বেশ রেগে উঠলো,নাবিলের দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো

_”কেনো ভালোবাসেন না আমাকে? আর যদি ভালো নাই বাসেন তাহলে আমাকে কেন বিয়ে করলেন, রক্ষিত হিসাবে রেখে দিতেন। কেন আপনার সন্তান আমার গর্ভে ধারন করতে দিলেন ? কেন, কেন?
পরির চেচানি শুনে নাবিল মুখ বিকৃত করলো,পরি চেয়ারে উঠে বসলো পরপর নাবিলের কলার চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আমাকে ভালো না হয় বাসেন না,তাই বলে একটু ভালো ব্যবহার করবেন না।ঠিকি তো নিজের পাইল মতো ব্যবহার করছেন,তাহলে কেনো একটু আমাকে সুখে থাকতে দিচ্ছেন না। আমার কি সখ ,আহ্লাদ নেই,আপনি এভাবেই আমার জীবনটা শেষ করতে পারেন না।এই পৃথিবীতে আমার জীবন একটাই,তাহলে আমি সবার মতো সুন্দর একটা সংসার কেনো পেলাম না,কেনো একজন স্বামী পেলাম, অন্ততপক্ষে মিথ্যা ভালোবাসা পেলেও আমার আফসোস থাকতো না ‌।আমি বিরক্ত হয়ে গেছি এই জীবনের প্রতি, সবসময় মার ধর, গালাগালি আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।আমি মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি, আমাকে আপনি কেনো একটু শান্তি দিচ্ছেন না?”

নাবিল শুধু শুনে গেলো, উত্তর না পেয়ে পরি ফুঁপিয়ে উঠলো,পরপর ব্যস্ত হাতে নাবিলের দড়ি গুলো খুলতে লাগলো।কোনো মতে চেয়ার সরিয়ে এক হাত পেটে চেপে নিচে বসে নাবিলের পা গুলো খুলে দিলো,তার পর বুকে বাঁধা দড়ি,তার পর দুই হাত খুলতে খুলতে বললো
_”এই বিষাক্ত জীবন বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। আমার এই জীবনে আর কোনো আশা নেই।মেরে ফেলুন আমাকে আমার পরিবারকে। তবু মরে যেয়ে শান্তিতে থাকবো। আপনাকে হাজার বুঝালেও আপনি বুঝবে না আমার ভিতরে কি চলছে, একজন মেয়ে হলে ঠিকি বুঝতেন,আসলে আপনার ভিতরে সেই অনুভূতিই নেই, হৃদয়হীন মানুষ হয়েছেন আপনি। আপনাকে বুঝিয়ে লাভ নেই, বরং আমারি মুখ ব্যাথা হয়ে যাবে।”
পরি নাবিলকে ছেঁড়ে দিলো,পরপর হাঁপিয়ে উঠলো সে।নাবিল ছাড়া পেয়েও হেলদোল করলো না।পরি উঠে দাঁড়ালো, ক্লান্ত কন্ঠে বললো

_”নেন,ছেড়ে দিলাম,এবার কুপিয়ে মেরে ফেলেন আমাকে, আমার পরিবারকে।”
নাবিল উঠে দাঁড়ালো,সাথে সাথে ব্যথায় তার পিঠ আর মাথা টনটন করে উঠলো।নাবিল মাথার পিছনে হাত দিয়ে দাঁতে দাঁত চাপলো, ইচ্ছা হলো বালের শশুরকে তুলে এক আছর মারতে তবে সে তা করতে চাইলো না।
জীবনে প্রথম বারের মতো সে তার ক্ষতি করতে চাওয়া মানুষকে হয়তোবা ছাড় দিলো।যেটা সে কখনোই কেরেনি,নাবিল পরির দিকে তাকাতেই পরি ভয়ে কিছুটা কেঁপে উঠলো, মৃত্যুর ভয় কার না নেই।পরি কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে শুকনো ঢোক গিলে চোখ মুখ খিচে নিলো।সাথে সাথে এক খানা চড় এসে তার গালে পড়লো।পরি কিছুটা ঝুকে গেলো।তার বদন খানা কেঁপে উঠলো।নাবিল চড়টা মেরে বিরবির করে বললো
_”মাগির মাইয়ারে মারার জন্য হাতটা সেই কহন ধইয়া চুলকাইতাছিলো।নডির মাইয়া কানডা পাকায় ফালাইলো।”
পরি কাঁপতে লাগলো,বুকের ভিতরে ধুকপুক শব্দ শোনা গেলো।মনে হলো পেটের বাচ্চাটাও অস্বাভাবিক ভাবে হাত পা নাড়ছে।পরি শুকনো ঢোক গিললো।নাবিল এসে পরির চুলের মুঠি ধরে নিজের দিকে ঘুরালো,পরি আর তাকালো না।সে চোখ বন্ধ করে রইলো,নাবিল তেতে উঠে দাঁতে দাঁত চেপে বললো

_”আমারে মারার লাইগা এহানে নিয়ে আইছসো তাই না?”
পরি উত্তর দিলো না তবে তার ঠোঁট দুটো ভয়ে তিরতির করে কেঁপে উঠলো,চোখ গুলো টিপটিপ করে উঠলো। চোখের পাতা ভিজে উঠলো,সরু নাটকা লাল হয়ে গেলো।
নাবিল পরির চুলের মুঠি ধরে কিছুটা উঁচু করে পরির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো।আবেসে সব সুষে নিতে শুরু করলো ।পরি তিরতির করে কেঁপে উঠলো,আপনা আপনি তার হাত দুটো নাবিলের বুকে চলে গেলো।নাবিল খুবি গভীর ভাবে পরির ঠোঁট দুটো ছিরে নিতে শুরু করলো।পরির মনে হলো তার মিষ্টি রাঙ্গা ঠোঁট দুটো এখনি ছিরে খেয়ে ফেলবে। কিছুটা সময় নিয়ে অতঃপর পরির ঠোঁট ছেড়ে দিলো সে,পরপর পরির গলায় মুখ গুঁজে দিলো,পরি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো

_”মারার আগেও আমাকে ব্যবহার করতে চাইছেন?”
নাবিল উত্তর দিলো না বরং পরির পড়ের জামা কাঁধ থেকে কিছুটা সরিয়ে দিয়ে তাতে মেতে উঠলো।পরি এক হাত দিয়ে নাবিলের উন্মুক্ত বুক ছুঁয়ে সুধালো
_”আমাকে এভাবে শেষ করে দিলেন নাবিল,এতো কিছু পড়েও আমি আপনার কাছেই সুখ চেয়ে গেলাম, আপনার মতো একজন খারাপ মানুষের কাছে কি সুখ চাওয়া অপরাধ।আমি যে নিরুপায়,আপনি আমার কোনো কুল রাখেননি যে আমি দ্বিতীয় বার উঠে দাড়াবো।তাই তো আপনাকেই চাইলাম,তবে আপনি কেনো আমাকে বুঝলেন না?”

নাবিল নিঃশ্বাস ভারি হলো,পরির পেট একটু উঁচু হওয়ার উপর থেকে নাবিল নিজের সবটুকু বুঝে পায় না।পরির কাছে গেলেও সে আগের মতো তৃপ্তি পায় না।পাবে কি করে,সে যে আগের মতো মন মর্জি করতে পারে না।একটু ছুঁয়ে দিলেই কুকিয়ে উঠে পরি।ওখানে ব্যথা হচ্ছে,ওখানে সমস্যা হচ্ছে,পেটে চাপ লাগছে কত কি, অবশ্য এই সব নাবিলের কাছে বাহানা ছাড়া কিছু নয়।
নাবিল পরিকে কোলে তুলে নিলো, আস্তে আস্তে নিয়ে যেয়ে তাকে বিছানায় বসিয়ে দিলো,পরি বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।যেনো সে ভয়ে কেঁদেই যাচ্ছে।নাবিল পরির গলায় চুমু খেলো আবার কাঁধে,পরপর পরির কান্নারতো মুখের দিকে তাকিয়ে বললো

_”কি চাস তুই?”
নাবিলের একটা প্রশ্ন পরির দুনিয়ার উল্টাপাল্টা করে দিলো, স্তব হয়ে গেলো তার ছোট্ট পৃথিবী , হঠাৎ করেই কান্না থেমে গেলো তার। অদ্ভুত দৃষ্টিতে নাবিলের দিকে তাকালো,যেনো বিষ্ময় কথা বলে ফেলেছে নাবিল,যা অষ্টম আশ্চর্যের মতো। পরি বরবর চোখ করে নাবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো,নাবিল আবারো প্রশ্ন করলো
_”কি হইলো,কি চাস তুই।”
পরি জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_”যা চাইবো তাই দিবেন?”
_”হো দিমু,তবে আমার কথা হুনতে হইবো,আমি উঠতে কইলে উঠবি,বসতে কইলে বইবি,হুইতে কইলে হইয়া পড়বি।”

পরির লাল বর্ন মুখে কেমন হাসি জ্বলজ্বল করে উঠলো,দুই হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে,মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_”আমার একটা সংসার লাগবে নাবিল,সবার মতো একটা সুন্দর সংসার।”
নাবিল পরির গাল চেপে ধরলো, দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”নাম ধইরা ডাকলে মুখ ভাইংগা ফালামু।”
পরি ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”ডাকবো না আর, আপনার সব কথা শুনে চলবো। তবু একটু আমার প্রতি সদয় হোন।মারার অব্দি একটা মিথ্যা সংসার, একজন ভালো স্বামী,সে শক্ত করে জরিয়ে ধরে কপালে চুমু খাবে, আমাকে বোঝার চেষ্টা করবে,দুটো ভালো মন্দ কথা বলবে,যার সাথে রাগ অভিমান করা যাবে। আমার সন্তান একজন ভালো বাবা পাবে। আমার একটা নিজের সংসার হবে, এমন একজন স্বামী যাকে দেখলে আমার পরিবার খুশি হবে। আমার বোন তাকে দেখে ভয় পাবে না।সব মিথ্যা হোক,তবু হোক,একটা মিথ্যার জাল বোনা হোক তবু একটা ভালো স্বামী সংসার হোক।আমি এর থেকে বেশি কিছু চাই না।”

_”ব্যস এতটুকুই, শুধু মিথ্যার উপর বসবাস করতে চাস?”
_”হ্যাঁ মারার আগ পর্যন্ত।”
_”আচ্ছা ঠিক আছে,যা পুরো একটা মিথ্যার বাগিজা তোর কইরা দিলাম।”
_”ওয়াদা করুন।”
নাবিল উঠে দাঁড়ালো পরপর বলে উঠলো
_”এই নাবিল একবার যা মুখ দিয়া বলে তাই জবান হইয়া যায়,ওয়াদা করার প্রশ্নই উঠে না।”
পরি চোখ তুলে নাবিলের দিকে তাকিয়ে অশান্ত কন্ঠে বললো
_”দয়া করে আমার মা বাবার ক্ষতি করবেন না ,আমি আপনার পায়ে পড়ছি,বাবা রাগের বসে আপনাকে আঘাত করে ফেলেছে।”

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৯

নাবিল শব্দ করে হেসে উঠলো,পরির দিকে তাকিয়ে মাথার পিছনে হাত দেখে বিরবির করে বললো
_”এই যে,এই যে,এর লাইগা আমার মাগি মানুষ একদম পছন্দ না।হালিরা এতো লোভি,একটা দিলে আর একটা চায়,ওদের চাওয়া পাওয়ার শেষ নাই।”
পরি দুই হাত জোর করে বললো
_”এটা আমার শেষ চাওয়া,আর কক্ষনোই কিছু চাইবো না,যদি দরকার পড়ে তাহলে আমি কক্ষনোই আমার পরিবারের সাথে দেখা করবো না, দরকার পড়লে তাদের সাথে সম্পর্ক শেষ করে দিবো তাও উনাদের ক্ষতি করবেন না।”

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১১