নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন
কিছু টা সময় যেতেই আরহাম নুবার পিঠে আঙ্গুল বুলিয়ে দিতে লাগলো।নুবা শুধু চোখ বন্ধ করে অনুভব করলো। এমন একটা রোমাঞ্চকর মূহুর্তে আয়রার কন্ঠ ভেসে আসলো। হয়তোবা হাসছে আয়রা।
নুবা আর আরহাম পিলে চমকে উঠলো।নুবা চোখ খুলে সামনে তাকাতেই নজরে পড়লো ফ্লোরে হামাগুড়ি দিয়ে বসে আছে আয়ার,মাথা উঁচু করে তাদের দিকে তাকিয়ে,৬ খানা দাঁত বেড় করে হাসছে।নুবা মেয়েকে দেখে অস্থির হলো। পরপর আরহামের হাতে ব্যস্ত হাতে থাপ্পর মারলো।নুবার ইশারা বুঝতে পেরে আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে উন্মুক্ত পিঠ আবারো ডেকে দিলো।
নিজের কাজ শেষ করে,নুবার কাঁধ দিয়ে উঁকি মেরে আয়রার দিকে তাকালো।আয়রা নুবার থেকে চোখ সরিয়ে আরহামের দিকে তাকালো তবে হঠাৎ করে আরহামকে দেখে আয়রা কিছু সময় ভাবলো কি করবে ।পরপর অভ্যাস অনুযায়ী ঠোঁট ফুলালো সে।
হিংসুটে আয়রা সহ্য করতে পারলো না তার মায়ের পাশে অন্য কাউকে।নাক মুখ খিচে কেঁদে উঠলো সে।নুবা টের পেলো আরহামকে দেখেই কাঁদছে। অচেনা মানুষ দেখলেই যেনো আয়রার রক্তে চুলকানি শুরু হয় তার উপর সেই মানুষটা তারি মায়ের পাশে।
হঠাৎ করেই মেয়েকে গাল ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো।নুবা এগিয়ে যেয়ে আয়রাকে কোলে তুলে নিলো । নিশ্চয় কেউ লিভিং রূমে ছেড়ে দিয়েছে তাই তুরতুর করতে করতে এখানে চলে এসেছে।
নুবা এক গাল হেসে,মেয়ের গালে চুমু খেয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_”কি হয়েছে আমার আম্মুর।”
আয়রা নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে একটু শান্তি পেলো তবে আবার আরহামের দিকে ফিরে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলালো। আরহাম এগিয়ে এসে মেয়ের এক হাত ধরে কোলে নেওয়ার চেষ্টা করলো। আয়রা আরহামের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।নুবাকে এক হাত দিয়ে চেপে ধরে কেঁদে উঠলো সে।
আরহাম মেয়ের চিৎকার শুনে হাত ছেড়ে দিলো,আয়রা দুই হাত দিয়ে নুবার গলা জরিয়ে ধরলো। কাঁধে মাথা গুঁজে একটু শান্ত হলো।
আরহাম দুঃখ প্রকাশ করে বললো
_”অন্ততপক্ষে দিনে ৩/৪ বার আমার ছবি দেখিয়ে ওকে অভ্যাস করানো উচিত ছিলো না তোমার?”
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে,মাথা নিচু করে বললো
_”আমি তো ভেবেছিলাম আপনি নেই, তাই শুধু শুধু ওকে ওর বাবার কথা মনে করিয়ে কেনো কান্না করাবো,বড় হয়ে যদি আপনাকে চায় তখন ?তাই জন্য,!”
আরহাম ক্লান্ত চোখে মেয়ের দিকে তাকালো পরপর আবারো কোলে নেওয়ার চেষ্টা করলো।আয়রা আবারো একি কাজ করলো,নুবা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_”পাপা হয় তো,যাও মা, আব্বু না। একটু যাও।”
না,আয়রা যাবেই না।আরহামের মুখে নিরাশা ফুটে উঠলো বিরবির করে বললো
_”মেরি বিল্লি মুঝিকো মেওউ? তুই আমারি DNA তো মা,নিজের বাপকে চিনতে পারছিস না।”
নুবা আরহামের নিরাশা বুঝতে পেরে শান্তনা দিয়ে সুধালো
_”কয়দিন যেতে দিন, ঠিক হয়ে যাবে। অনেক দিন ধরে দেখে না তো তাই এমন করছে। আপনার মতোই হয়েছে অচেনা মানুষ পছন্দ করে না।মনে আছে প্রথম দিন এসেই অপরিচিত ভেবে গলায় ছুরি ধরেছিলেন আমার,ঠিক তেমনি আপনার মেয়েও এমন হয়েছে ।কারো কলেই যেতে চায় না। ধৈর্য ধরুন।”
আরহামের বুকটা চিনচিন করে উঠলো।নুবা আবারো বলে উঠলো
_”আয়রা বারতি খাবারের অনেক পাগল।দুদিন দুটো চকলেট এনে ধরিয়ে দিলে দেখবেন আপনাকে ছাড়া কিছুই বুঝবে না।”
_”হ্যাঁ, হ্যাঁ,তার নমুনা তো দেখতেই পারছি। আমার বউকে ছাড়া কিছু বুঝে না।”
দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা এসেছে যারা আপাতত লিভিং রুমে বসে আছে।তারা ভাবছে বরাবরের মতো হারুন মির্জা তাদের তদন্ত কতটুকু এগিয়েছে এই সম্পর্কে জানতেন ডেকেছে।এবারো তারা ভুং ভাং বুঝিয়ে কেটে পড়বে।
অমিনা বেগম এসে তাদের সামনে হালকা খাবার রাখলেন । হারুন মির্জা তাদের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন
_”নেন, আপনাদের জন্যই তো।”
পুলিশ কর্মকর্তা হাতে এক টুকরো কেটে রাখা আপেল তুলে নিয়ে বললো
_”sir,আমরা অনেক চেষ্টা করছি। কিছু প্রমান পেয়েছি তবে তদন্ত করেও ঘটনার গোড়া খুঁজে পাচ্ছি না, আমাদের আর একটু সময় দিন।”
বলতে বলতে আপেল মুখে পুরে নিলো, পাশে বসা আর একজনো খাবার মুখে পুরে হাসলো।তখনি বাড়ির সবাই এসে তাদের আশে পাশে দাঁড়ালো। আরহাম এসে পিছনে পকেটে হাত গুজে দাঁড়ালো, হারুন মির্জা দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_”তার মানে এখনো আপনারা ধরতে পারেননি,তা কবে আপনাদের তদন্ত শেষে হবে।”
_”ইনশাআল্লাহ, অনেক তাড়াতাড়ি আমরা সব খুঁজে বেড় করবো।”
_”এই কথা তো আপনারা গত কয় এক মাস ধরে বলছেন।আবার এই গল্প ছাড়তে এসে ফ্রি ফ্রি দামি দামি নাস্তা ঝেড়ে যাচ্ছেন!”
পুলিশ কর্মকর্তা জোরপূর্বক হেঁসে কিছু বললো
_”আমরা চেষ্টা করছি sir,তবে,,”
তখনি পিছন থেকে আরহাম বলে উঠলো
_”তবে নতুন কোনো বাহানা খুঁজে পাচ্ছেন না? Am i right?”
হঠাৎ পিছন থেকে কে কথা বললো দেখার জন্য পিছনে ঘুরতেই মুখে পুরা গড়ম চা ফস্কে পড়লো।দুই কর্মকর্তা আরহামকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো।চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো তাদের।আমতা আমতা করতে করতে উঠে দাঁড়ালো তারা।
আরহাম এগিয়ে আসলো।একটু হেসে বললো
_”আমাকে খুঁজে পাচ্ছেন না তবে আমাকেই বলতেন আমি নিজেই আমাকে খুঁজে নিতাম। অন্যের লাশকে আমার লাশ বলা দরকার কি ছিলো?”
পুলিশ কর্মকর্তা কিছু বলতেই যাবেন তার আগেই আরহাম ঠাস করে তার গালে চড় বসিয়ে দিলো।তার মাথা ঘুরে উঠলো, সেদিন নুবার হাতে চড় খেয়েছিলো আজ আরহামের হাতে।মানে জামাই বউ দুইজন থেকেই মিষ্টি পেলো
হারুন মির্জা এগিয়ে এসে গুনে গুনে আরো ৪/৫ টা চর দুই জনকে বসিয়ে দিলেন
দুই জন দুই গাল চেপে ধরে বসে আছে। হারুন মির্জা রাগি চোখে দুই পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললেন
_”কোন সাহসে এরকম জঘন্য খেলা খেললে আমাদের সাথে।ওই লাশ কার ছিলো?”
পুলিশ কর্মকর্তা কিছুটা কেঁপে উঠলো, আরহাম রেগে কর্কশ কন্ঠে বললো
_”কি হলো চুপ করে আছিস কেন,মুখে তারা লেগেছে,কার লাশ আমার বলে চালিয়েছিস?”
পুলিশ কর্মকর্তা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_”জানি না!”
আরহাম গর্জে উঠলো। পুলিশ কর্মকর্তা ভয়ে মুখ খুললো।কারত কন্ঠে বললো
_”ওই লাশ কার ছিলো আমরা জানতাম না তবে তোমার উচ্চতার সাথে মিলে যাওয়ায়,,,,,
বরাবরই হারুন মির্জা একজন ন্যায়পরায়ণ মানুষ।যখন আরহামের কোনো খোঁজ না মিলায় পুলিশ স্টেশনে কেস ফাইল করা হয় তখন সবাই ভেবছিলো মালদার পার্টি নিশ্চয়ই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে।
তবে হারুন মির্জা যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যতিত এক টাকাও বারতি দেয়নি। এদিকে উপর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিলো যাতে আরহামের কেসটা সবার আগে তদন্ত করা হয়। কিন্তু আরহামের বিষয় নিয়ে তাদের এক আনাও লাভ হচ্ছিলো না।অন্য কেস ছিলো তবে আরহামের জন্য তা দেখতে পারছিলো না,ওই উপর মহল থেকে এই বিষয়ে চাপ দেওয়ার হচ্ছিলো।
তখনি এই অচেনা আগুনে ঝলসে যাওয়া লাশ খুঁজে পায় তারা।যার কোনো missing complain দেওয়া হয়নি,কেউ লাশ সনাক্ত করতে আসেনি তবে লাশটার উচ্চতা ছিলো আরামের মতো।তখন এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে তারা প্লান করে মিথ্যা রিপোর্ট বানিয়ে সেই লাশ আরহামের বলে চালিয়ে দেয়।সবাই রিপোর্ট দেখে বিশ্বাসো করে নেয়।
এর বিশেষ একটা কারণ ছিলো সামনে আসা ইলেকশন। তাদের অনেকে টাই হস্তান্তর করা হয় বাকি সব কেস বাদ দিয়ে বিরোধী দলের পক্ষে ষড়যন্ত্র করার। যেহেতু তারা ওখানে লাভ পাচ্ছিলৈ তাই আরহামের কেসে একটুও সময় দিতে চায়নি।
আরহামকে না পেলে উপর মলহ থেকে চাপ দেওয়া হবে তাই অন্য লাশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্ষনেকের জন্য হলেও চুপ থাকে। অতঃপর ভুং ভাং বুঝিয়ে কেস ফাইল বন্ধ করা যাবে।তবে তারা বুঝতে পারেনি এতো তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে।
কথা টুকু শেষ করে পুলিশ কর্মকর্তা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আবারো বললো
_” sir বাড়িতে বউ বাচ্চা আছে, শুধু বেতনের টাকা দিয়ে কি ঘড় চলে।তবে আপনার হাতের ফাঁক দিয়ে দু আনাও বেড় করতে পারিনি,এখন যেখানে লাভ পাবো সেখানেই তো যাবো!”
সাথে সাথে হারুন মির্জা ঠাস করে একটা চর বসিয়ে দিলেন, চেঁচিয়ে উঠে বললেন
_”এটা তোদের কর্তব্য,লোভে পড়ে অন্ধ হয়ে গেছিস।আজ যদি তোরা ভালো মতো তদন্ত করতি,যে কোনো বিপদ আপদে পড়েছে কিনা,সব হসপিটাল ,সব সিসি ক্যামেরা চেক করতি তবে আজ আমার হাতে চর খেয়ে অপমানিত হতে হতো না। সবগুলো নর্দমার কীট পতঙ্গ ছ্যে।”
শেষ বারের মতো আরহামো হাত ছাফ করে নিলো, হারুন মির্জা তাদের বাড়ি থেকে বেড় করতে করতে বলে উঠলেন
_”যারা যারা এর সাথে যুক্ত সবকয়টার চাকরি তো খাবোই সাথে জেলের ভাত খাওয়াবো, অপেক্ষা কর অতী শিঘ্রই নোটিশ পেয়ে যাবি। এবার দূর হ এখান থেকে।”
পুলিশ কর্মকর্তা হতাশ হলেন। সামান্য কিছু লাভের জন্য মনে হয় এবার চাকরি হারাবে সাথে জেলের ভাতো খাবে।
পরিবেশ কিছুটা শান্ত,নুবা এই সব শুনে হতভম্ব,কার না কার লাশ নিয়ে পাগলামো করলো সে ভাবলেই তার কেমন অদ্ভুত লাগছে।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলো।বড় করে আয়োজন করা হয়েছে,ছেলে বাড়ি ফিরেছে আয়জন কি নাই হবেই। এদিকে ছোট্ট আয়রা রিশিতার কাছে বসে আছে,বসে বসে বাবু বাবু উচ্চারণ করছে।বয়স অনুযায়ী অনেক তাড়াতাড়িই শব্দ উচ্চারণ করেছে আয়ার,নুবা তাকে ডাকলে সারা দেয় ।কেউ বকা দিলে বুঝে,আদর করলে বুঝে।সবি বুঝে যায় পাকা বুড়ি,তবে খুব হিংসুটে হয়েছে।
আরশি পাশেই বসে রিহানের সাথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে আলাপ করছিলো তখনি খেলায় করলো আয়রা রিশিতার মুখে খামচে ধরেছে।আর রিশিতা কান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে।আরশি চম্কে উঠলো। তাড়াতাড়ি আয়রাকে মেয়ের কাছ থেকে সরিয়ে কিছুটা ধমক দিয়ে বললো
_”কি করছিস আয়ার, আমার মেয়েটাকে মারবি নাকি।”
ফুপির ধমক শুনে আয়রা ঠোঁট ফুলালো,আরশি বুঝতে পারলো না ছোট্ট নবজাতক রিশিতাকে সামাল দিবে নাকি আয়ারকে।রিহান এগিয়ে এসে আয়রাকে কোলে তুলে নিলো,আদুরে গলায় সুধালো
_”কান্না করে না আম্মু,ফুপি মাজা করেছে মা,ধমক দেয়নি।”
রিহানের কন্ঠে আয়রা কিছুটা শান্ত হলো।আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে তার কোলে দিতে বললো।আরশি বুঝতে পারে বাচ্চা মানুষ হয়তোবা বুঝতে পারেনি।
আরশি রিশিতাকে রেখে আয়ারকে কোলে নেয়,পরপর অনেক গুলো চুমু খায় তার গালে।আদুরে কন্ঠে সুধায়
_”তোমার ছোট্ট বনু না মা, ব্যথা পাবে না। এমন করে, পঁচা হয়ে গেছো হুম।”
রিহান মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো
_”ও কী কিছু বুঝে,বললেই কি,না বললেই কি!’
আয়রা ফুপির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে নিলো,আরশি আয়রার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বুকে জরিয়ে নিয়ে বললো
_”আচ্ছা আর বকবো না, sorry নাআ,আর ধমক দিবো না।এতো কান্না করতে হয়।”
দীর্ঘ একটি অপেক্ষার পর সেই রাতটা চলেই আসলো।রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে সবাই হাসি মুখে ঘুমাতে গিয়েছে।নুবা আর কোনোরকম হতাশা ছাড়াই রুমে এসেছে।আজ এই রুমটা পূর্নতা লাভ করেছে।ঘড়ের মালিক ঘড়ে ফিরে এসেছে।
রাত ১১ টা নাগাত,আয়রা ঘুমে বেভুর তবে কখন উঠে যায় ঠিক নেই।আয়ারকে এক পাশে রেখে আরহাম আর নুবা শুয়ে শুয়ে শুভ দৃষ্টি করছে, কতদিন পর দেখা তাদের। হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরে পেয়ে নুবা নিজেই আরহামের সাথে চিপকে আছে।
আরহাম নুবাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে,কাত হয়ে দুইজন দুইজনের দিকে মুখোমুখি হয়ে শুয়ে আছে।নুবা মুচকি হেসে আরহামের এক গালে হাত রেখে আঙ্গুল বুলিয়ে কাতর কন্ঠে সুধালো
_”কেনো চলে গিয়েছিলেন সেদিন? আমার কতটা কষ্ট হয়েছে জানেন?”
আরহাম দুষ্টু হেসে বললো
_”কষ্ট টুকু ঘুচিয়ে দি জান। অনেক অপেক্ষা করেছিলেন তাই না?”
নুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে আরহামের গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_”হ্যাঁ অনেক অপেক্ষা করেছিলাম। আপনি ভাবতেও পারবেন না আমার কতটা অস্থির লাগছিলো। আপনাকে হারিয়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো।”
আরহাম ক্লান্ত নিঃশ্বাস ফেলে নুবার বুকে মুখ গুজে দিলো,শীতল কন্ঠে বলে উঠলো
_” আমি অনেক ক্লান্ত,শরীরে এক বিন্দু এনার্জি অবশিষ্ট নেই।কাল যদি বাসরটা সারি তবে কি তুমি অধৈর্য হয়ে যাবে?”
নুবা চোখের পলক ফেলে ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো।আরহামের কথায় রাগ হলো না, লজ্জা লাগলো না বরং নুবা শান্ত হয়ে আরহামের মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে এক হাত দিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো
_”আপনার এই সব মনে হচ্ছে। আসলেই আপনি বুঝতে পারবেন না,আপনি ব্যতিত আমার দিন গুলো কতটা শোচনীয় কেটেছে,প্রতিটা মূহুর্ত আমি আপনাকে মনে করেছি।”
আরহাম নুবার দৃশ্যমান বুকের ভাঁজে অধর ঠেকিয়ে রাখলো।নুবা আরহামের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে চুমু খেলো। আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে সুধালো,
_”জিমি আমার অনেক ভালো বন্ধু,যখন আমি একাকিত্বে ভুগছিলাম তখন ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব হয় ,রোজি ওর wife,এই প্রথম দেখলাম ওকে,জানতামো না বিয়ে করেছে।দুই জন ভিন্ন হলেও ভালোবেসে বিয়ে করেছে।”
নুবা আরহামের কথা মনযোগ দিয়ে শুনে কিছু সময় চুপ রইলো ভারি নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”সেদিন কে কল করেছিলো?”
আরহাম নুবার বক্ষ স্থলে চুমু খেলো।ভারি কন্ঠে বলে উঠলো
_”জানতেই হবে,এখন না জানলে হয় না। আমার আর কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। তুমি আন্দাজ করতে পারবে না,যে আমার বোডির ভিতরে এখন কি চলছে। আমার একটু রেস্টের দরকার, কালকে সব খুলে বলবো।”
নুবা মাথা ঝুকালো,সে বুঝতে পারছে আরহাম খুবি ক্লান্ত।তাই আর জোর করলো না। আরহাম ঘুমাতে যেয়েও ঘুমাতে পারলো না।নুবার তুলতুলে শরীর তাকে স্বস্তি দিচ্ছে না বরং অস্থির করছে।বউটা তার শুকিয়ে একাকার হয়ে গেছে।এই চিন্তায় সে আরো চিন্তিত হচ্ছে।
নুবা চোখ বুঝে নিলো,খুশিতে চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি পড়লো। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে আরহাম এখন তার কাছেই আছে,এতোটা কাছে,তার বাহুডোরে আবদ্ধ সে।
নুবা বারবার আরহামের মাথায় চুমু খেতে লাগলো যেনো তৃষ্ণা মিটাছেই না বরং খনে খনে বাড়ছে। স্বপ্ন সত্যি হয়েছে এই খুশিতে মনের আনন্দে নেচে যাচ্ছে নুবা।সব সবকিছু ফিরে পেয়েছে সে।
আরহাম শান্তিতে চোখ বন্ধ করতে পারলো না,জিমি বলেছিলো doctor কিছু মেডিসিন দিয়েছে তবে আরহাম হেয়ালি করে নেয়নি।তাই হয়তোবা এমন অস্থির লাগছে অথবা নুবাকে কাছে পেয়ে। কারণ টা বিশ্লেষন করতে পারছে না আরহাম।
কিছুটা সময় পার হলো আরহাম নুবার বুক থেকে মুখ তুলে তার মুখের দিকে তাকালো।নুবা চোখ বুজে মিটিমিটি হাসছিলো সাথে চোখ বেয়ে পানি পড়ছিলো তখনি আরহামকে সরে যেতে দেখে সে ভেজা চোখে তাকালো। আরহাম নুবাকে কাঁদতে দেখে ভুরু কুঁচকে নিলো।নরম কন্ঠে বললো
_”কাঁদছো কেনো?”
নুবা নড়েচড়ে উঠে বললো
_”আপনি বুঝবেন না,মৃত মানুষকে ফিরে পেলে কতটা আনন্দ হয়।যেখানে ভেবে নিয়েছে সে মারা গেছে,সেখানে সে ফিরে এসেছে উফ্,আমি সত্যিই ভাষা হারিয়ে ফেলেছি,আপনি,আপনি বুঝবেন না আয়রার পাপা।”
আরহাম হাত বাড়িয়ে নুবার চোখের পানি মুছে তাকে কাছে টেনে নিলো,নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো দুই হাত দিয়ে আরসামের মুখ আলতো করে আঁকড়ে ধরে শত শত চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিলো।নুবা কি করবে সে নিজেই ভাবতে পারছে না। সময় যেতেই নুবার কান্নার গতি বাড়লো। আরহাম অধৈর্য হলো মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ উচ্চারণ করে বললো
_”কান্না অফ কর, অনেক হয়েছে,তোর কান্না সহ্য করার মতো না অফ যা জান।”
নুবা নাক টানলো, আরহাম নুবাকে টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।নুবা দুই হাত দিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরলো, পরপর এক পা আরহামের শরীরে উপর তুলে দিলো, আরহাম মুচকি হাসলো।নুবার জামা ঠেলে উন্মুক্ত পিঠে হাত গলিয়ে দিলো।
নুবা অভিযোগের সুরে অনেক কথাই বলতে লাগলো,ফাকের গনে আরহাম নুবার পিঠে লাগানো অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটি আস্তে করে খুলে দিয়ে বললো
_”এতো টাইট ফিটিং জিনিস পড়েন আপনি। খারাপ লাগে না। ব্যথা পান”না।”
নুবা ভুরু কুঁচকে নাক টেনে বললো
_”উফ্,আমি কি বলছি আর আপনি কোথায় হাতাহাতি করছেন।”
_”আচ্ছা বলুন শুনছি।”
নুবা আবারো নিজের বকবক শুরু করলো,সে ব্যতিত কতোটা সাফার করেছে নুবা,তাকে কতোটা মিস্ করেছে সবি বলতে লাগলো। আরহাম শুধু মনোযোগ দিয়ে শুনলো আর নুবার পিঠে আঙ্গুল ছুঁইয়ে দিতে লাগলো।
সময়ের পরিবর্তনে আবারো তাদের স্থান পরিবর্তন হলো। আরহাম চলে আসলো নুবার বক্ষ স্থলে,নুবা আরহামের মাথায় হাত বুলিয়ে বিরবির করতে লাগলো, আরহাম ঘুমঘুম কন্ঠে”হুম, হ্যাঁ” বলে চালিয়ে দিতে লাগলো।
এদিকে তাদের ফিসফিসের ঠেলায় আয়রা নড়েচড়ে উঠলো।ঘুমালে কান খুবি পাতলা তার ।একটু শব্দ শুনলেই ঘুম ভেঙ্গে যায়, হলোও তাই।আয়রা পিটপিট করে তাকালো ,ঘুম ভেঙ্গে যেতেই গলুমলু আয়রা উঠে বসলো । লম্বা হালকা চুল গুলো এলোমেলো হয়ে পাগলের মতো দেখা যাচ্ছে।নুবা মাঝে মাঝে চুলে ঝুঁটি পাকিয়ে দেয় তবে দুষ্টু আয়রা টেনে খুলে ফেলে।
আয়রা উঠে বসে এক হাত দিয়ে মুখ কচলে নিলো।আশে পাশে তাকিয়ে আগে বোঝার চেষ্টা করলো পরিস্থিতি কেমন।তার মা কোথায়?আয়রা হাম তুলে পাশে তাকাতেই নুবার চেহারা ভেসে উঠলো। তবে পরপরই সে খেলায় করলো তার মাকে জরিয়ে ধরে অন্য কেউ শুয়ে আছে।
আয়রা কিছু সময় স্তব হয়ে বসে রইলো। হয়তোবা ভাবলো “কিরে এই লোক কোথা থেকে আসলো।আগে তো দেখিনি। আমার মায়ের বুকের ভিতরে কি করছে?হায় হায় এই বেডা তো আমার সম্পদে হাত মেরেছে 🫨 আম্মওওওও ”
ব্যাস সব বুঝে গেলো পাকা বুড়ি, ঠোঁট ফুলিয়ে কান্নার প্রস্তুতি নিলো, হামাগুড়ি দিয়ে আরহামের পিঠের কাছে যেয়ে থামলো।পরপর এ্যাঁ করে কেঁদে উঠলো।
মেয়ের কান্নায় নুবার বিরবির করতে থাকা মুখ চুপসে গেলো,ফট করে চোখ খুলে তাকালো সে।নুবাকে তাকাতেই দেখে আয়রা আরো কেঁদে উঠলো।নুবা আরহামকে টপকে যেয়ে মাঝখানে বে কায়দায় শুয়ে পড়লো।আসলে সে মায়ের কাছে যেতে যেয়ে পরে গেছে।
আরহামের চোখ দুটো লেগে এসেছিলো তবে আয়রার অত্যাচারে ধরপরিয়ে উঠলো। হঠাৎ করেই আরহাম অর্ধ ঝুঁকে উঠায় আয়রা ভয়ে আরো কেঁদে উঠলো।নুবা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি আরহামকে ছেড়ে আয়ারকে কোলে তুলে নিলো, আরহাম মেয়ের কান্না শুনে ঝাঁপসা চোখে তার দিকে তাকালো।
নুবা উঠে বসে আয়রাকে বুকে জরিয়ে নিলো,তাকে ঠান্ডা করতে করতে বললো
_”কি হয়েছে মা? খারাপ স্বপ্ন দেখেছো,হুম,কি হয়েছে?”
আয়রা ঘাড় কাত করে আরহামের দিকে তাকিয়ে আরো কেঁদে উঠলো,নুবা টের পেলো কেনো কাঁদছে তাই তাড়াতাড়ি করে আরহামের থেকে দুরে সরে গেলো। আরহাম কান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো,কি একটা জ্বলায় পড়েছে সে আল্লাহই জানে।
নুবা আয়ারকে ফিড করাতে লাগলো,মেয়ের পিঠে হাত বুলিয়ে বললো
_”আচ্ছা ঠিক আছে বাবা,এবার তো চুপ কর”
আরহাম আয়রার কান্নায় ধৈর্য হারা হয়ে উঠে বসে নুবার দিকে তাকিয়ে ঘুমঘুম কন্ঠে বললো
_”এই ডিজিটাল যন্ত্র কি আমাকে দেখে কাঁদছে।”
নুবা মিটমিট করে হাসলো,মেয়েকে শান্ত করতে করতে বললো
_”মরা বাপ ফিরে এসেছে তো,তাই ভূত ভেবে তার চেহারা দেখেই কাঁদছে।”
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_”Are you kidding me?”
নুবা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_”ঘুমান,এই ডিজিটাল যন্ত্র টাকে ঘুম পাড়িয়ে নি।”
আরহাম বিছানায় শরীর হেলিয়ে দিতে দিতে বললো
_”এটা আমারি DNA তো? বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, আমার কাছ থেকে আমার বউকে কেড়ে নিচ্ছে, উফ্।”
ক্লান্ত আরহাম শুতেই তার ঘুম পেয়ে গেলো। ঘন্টা খানিক পর আয়ারকে ঘুম পাড়িয়ে শুইয়ে দিলো নুবা, পরপর আরহামের বুকের ভাঁজে যেয়ে শুয়ে পড়লো। আরহাম ঘুমের ভিতরে নুবাকে জরিয়ে ধরলো।এর ভিতরে আবার একটু নড়াচড়া করে উঠলো আয়রা।নুবা মাথা উঁচু করে দেখে নিলো আবার উঠে গেলো কিনা,না উঠেনি।তাই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো।
মির্জা বাড়িতে আবারো আগের মতো আনন্দ ফিরে এসেছে,সবাই আরহামকে নিয়ে ব্যস্ত সাথে জিমি আর রোজিকে নিয়ে। আপ্যায়নে কোনো কমতি নেই । নুবা শুধু সবকিছু নীরবে দেখছে আর হাসছে।আয়রা আজকে নুবার কোল থেকে নামার নামি নিচ্ছে না ।নামিয়ে দিলেই কাঁদছে,কারো কোলেও যাচ্ছে না আর নিচে নেমে খেলছেও না।
দের বছরের আয়রা আরহামকে দেখলেই নুবার শরীরের সাথে চিপকে যাচ্ছে।যেনো হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে সে। আরহাম শুধু মেয়ের কাহিনি দেখছে,তার বউকে তার কাছ থেকেই কেঁদে কেঁদে দূরে রাখা হচ্ছে, কি একটা অবস্থা।
সকালের নাস্তা শেষ হতেই সবাই এক সাথে বসলো, কিছু সময় গল্প হলো তার পর যে যার রুমে।এই মাত্র আয়রা খেলছিলো তবে আরহামকে ওয়াশরুম থেকে বেড় হতে দেখেই তাড়াতাড়ি হামাগুড়ি দিয়ে নুবার কাছে চলে গেলো।নুবা বিছানায় বসে আয়রার কাপড় ভাঁজ করছিলো তবে আয়ার তাড়াতাড়ি এসে সব ভেস্তে দিলো।নুবা ভুরু কুঁচকে তাকাতেই দেখলো আরহাম এদিকেই আসছে তাই তো আয়ার তুফানের গতিতে নুবার কাছে এসেছে।
নুবার প্রচন্ড হাসি পেলো ,আয়রা এসেই নুবার গলা জরিয়ে ধরে ঝুঁলে রইলো। আরহাম এগিয়ে এসে ভুরু কুঁচকে বললো
_”কি হলো, আমাকে দেখে এভাবে ছুটলো কেনো?”
নুবা খিলখিল করে হেসে উঠলো। মৃদু কন্ঠে বললো
_”হিংসুটে মেয়ে বানিয়েছেন একটা, যতদিন আপনাকে না চিনতে পারছে ততদিন এভাবেই দৌড়াদৌড়ি চলবে।”
আরহাম বুঝতে পারলো,তাকে দেখেই তাড়াতাড়ি মায়ের কাছে গেছে যাতে আরহাম কাছে না আসতে পারে।
আরহাম ঘ্যাড়ত্যারামো করে এসেই নুবার সামনে দাঁড়ালো,আয়রাকে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিলো পরপর নুবাকে জরিয়ে ধরে চুমু খেলো। এদিকে আয়ারকে নুবার কোল থেকে নামাতেই আয়রা শব্দ করে কাদলো,তবে চোখে পানির ছিটেফোঁটাও নেই।
নুবা আরহামকে ঠেলে সরিয়ে মিটমিট করে হেসে বললো
_”আপনি কি বাচ্চা হয়ে গেলেন নাকি। আমার মেয়েটাকে এভাবে কাঁদাচ্ছেন,আসো আম্মু।”
বলেই আয়ারকে কোলে তুলে নিলো।আয়রা একটু ঠান্ডা হলো তবে আরহামের দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ খিচে কাঁদলো।নুবা আরহামের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠলো
_”সরুন তো বাচ্চাটাকে কাঁদাচ্ছেন।”
আরহাম আয়রার ফুলো গাল চেপে চুমু খেয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_” আমার DNA তুই,আর আমাকে দেখেই পেপু শুরু করেছিস। আমার অর্ধ কলিজা হয়ে আমাকেই নাকে মুখে চুবানি দিচ্ছিস মা।এটা কি ঠিক।একটু পাপার কাছে আসলে কি হয়, কতদিন তোকে দেখি না জানিস তুই। অসুস্থ পাপাকে দুটো চুমু খেয়ে সুস্থ করবি কি তা না আমাকে দেখেই কাদছিস।”
আরসামের আদুরে কন্ঠে আয়রা চোখ মুখ খুলে তাকালো।তবে নুবার সাথে চিপকে রইলো সে,আয়রাকে আর চোখে তাকাতে দেখে আরামের ভিশন খারাপ লাগলো।আয়রা তার জন্য কি এটা একমাত্র আরহামি জানে।আর এই মেয়েকে তার কোলেও আসতে চাইছে না।তাকে দেখেই কান্না কাটি শুরু করছে।এটা একজন অসহায় বাপের জন্য কতটা কষ্টদায়ক এটা আরহামি বুঝতে পারছে।
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে কোলে নিতে চাইলো তবে আয়ার চিপকে রইলো নুবার সাথে। আরহাম অসহায় কন্ঠে বললো
_”পাপার কষ্ট হচ্ছে তো মা, তুই আমার সাথে এমন করতে পারছিস।পাপা অনেক কষ্ট পাচ্ছে আম্মু, একটু আব্বুর কাছে আসো ,একটু কোলে আসো মা।”
নুবা বুঝতে পারলো আয়ারর আচরণে আরহাম সত্যিই কষ্ট পাচ্ছ পাবেই না কেনো?আয়রা যে তার কলিজা এখন তাকেই দেখে এমন করছে।নুবা নিরাশা নিয়ে সুধালো
_”আব্বুর কোলে একটু যাও,পাপা হয় না তোমার,একটু যাও।পাপা কষ্ট পাচ্ছে তো আম্মু।”
আয়রা ফুঁপিয়ে উঠলো। আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,নুবা আয়ারকে বুকে জরিয়ে নিয়ে দোল দিতে দিতে বললো।
_”আপনি এভাবে নিরাশ হবেন না। ২ টা দিন সময় দিন,দেখবেন আগের মতো আপনাকে ছাড়া কিছুই বুঝবে না।”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে,ভাঙ্গা মনে বিছানায় বসলো। নুবার দিকে তাকিয়ে ছলছল চোখে বললো
_”সত্যিই সব ঠিক হবে তো নুবু,ও কি বাবা বলে ডাকবে আমাকে?”
নুবা এগিয়ে এসে আরহামের শরীর ঘেঁষে বসে বললো
_”সব ঠিক হয়ে যাবে । ইনশাআল্লাহ।”
আরহাম নুবার কাঁধে মাথা রেখে কমড় জরিয়ে ধরলো, এদিকে আরহামকে নুবার কাঁধে মাথা রাখতে দেখে আয়রা আবারো ফুঁপিয়ে উঠলো। আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো।নুবা ভাঙ্গা দৃষ্টিতে আরহামের দিকে তাকিয়ে শান্তনা দিলো।
নুবা মাত্র গোসল সেরে বেড় হলো। আরহাম সোফায় বসে ছিলো, কারণ আয়রা বেচারাকে বিছানায় শুতেই দিচ্ছে না,কাছে আসলেই সেই কি কান্না,আবার দূরে সরে গেলেই সব ঠান্ডা।
নুবা এক পলক বাপ মেয়ের দিকে তাকিয়ে শান্তির নিশ্বাস ফেললো,আরহামকে দেখলেই নুবার প্রান জুড়িয়ে আছে, ইচ্ছা করে সবসময় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখতে যাবে আবার দূরে না চলে যায়।
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়নার সামনে যেয়ে চুল মুছতে শুরু করলো। আরহাম তা খেয়াল করে এগিয়ে গেলো। এদিকে আয়রা মুখে ৩ টা আঙ্গুল পুরে ঘাড় ঘুরিয়ে আরহামের দিকে তাকালো। আরহাম যেয়ে নুবার পিছন থেকে আলতো করে জরিয়ে ধরলো ।নুবা মুচকি হাসলো।অতীত আবার ফিরে এসেছে,সে অনুভব করছে, সেও বেশ সুখী। আরহাম ফিরেছে এবার বিশ্বাস হচ্ছে তার।
নুবা আয়না দিয়ে আরহামের দিকে তাকালো।দুই হাত তার হাতের উপর রেখে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_”সবসময় এভাবেই আগলে রাখবেন, আপনাকে দেখলেও শান্তি লাগে।মনে হয় দুনিয়া জিতে নিয়েছি আমি।”
আরহামের প্রেম প্রেম পেলো। হয়তোবা বাসর করার ধান্দা খুঁজলো সে।নুবার সতেজ বদনখানা আস্টেপিস্টে নিলো।পিঠ থেকে ভেজা চুল সরিয়ে বাম পাশের গলায় মুখ গুজলো।নুবা শুধু চোখ বুঝে অনুভব করলো। আরহাম বারবার চুমু খেলো একি স্থানে। অনুভূতির শিহরণে নুবা তিরতির করে কেঁপে উঠলো,বাম পাশের গলা টানটান করে দিলো । আরহামের খোঁচা খোঁচা দাড়ি নুবার টানটন চামড়া আঁচড় খেলো।নুবা ফ্যালফ্যাল করে আয়নার দিকে তাকালো পরপর মৃদু কন্ঠে বললো
_”শাওয়ার নিয়ে আসেন,চাচি মা নিচে খেতে ডাকছে।”
আরহাম ভারি নিঃশ্বাস ফেলে হেলামি কন্ঠ সুধালো
_”ফরজ কাজটা সেরেই কি গোসলে যাবো নাকি পরে সারবো, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি।”
নুবা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো, কম্পিত কন্ঠে বললো
_”আগে আপনি সুস্থ হোন”
আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো,গলায় সুচালো দাঁত চেপে ধরে অস্পষ্ট সুরে বলে উঠলো
_”আমার পারফরমেন্সে সন্দেহ আছে নাকি।চলো এখনি বুঝিয়ে দিচ্ছি সুস্থ নাকি অসুস্থ।”
এমন একটা লজ্জায় ছুঁই ছুঁই মূহুর্তে আয়ার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।এতো সময় সে পরিস্থিতি মেপে নিচ্ছো যে কখন কাদবে। আয়রার কান্না শুনে নুবা ফিরে তাকালো সেই দিকে,নজরে পড়লো আয়ার উবুত হয়ে বিছানার কিনারে বসে আছে যেনো নামার চেষ্টা করছে, হয়তোবা আরহামকে নুবার কাছে আসতে দেখেই পাকা বুড়ি নেমে আসার চেষ্টা চালাচ্ছিলো।
নুবা আলতো করে আরহামকে ছাড়িয়ে, তাড়াতাড়ি করে এগিয়ে গেলো,যদি বিছানা থেকে পড়ে যায় তবে খবর আছে।নুবা তাড়াতাড়ি যেয়ে আয়রাকে কোলে তুলে নিলো। আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,এতো দেখি জাত শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে তার।
নুবা আয়ারকে বুকে জরিয়ে দোল দিয়ে বললো
_”হয়েছে তো,সরে এসেছি।এবার শান্ত হোন।আর যাবো না পাপার কাছে।পাপা পঁচা তাই তো।”
আয়রা নাক টেনে চুপ হয়ে গেলো।নুবা আরহামের চুপসে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_”অন্ততপক্ষে আপনাদের বোর্ডিং ভালো মতো ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমার থেকে দূরেই থাকুন।না হলে, এবার আপনার মেয়ের কান্নার ঠেলায়,আমিই কোমায় চলে যাবো।”
আরহামের কান্না পেলো,এটা কেমন জ্বালা যন্ত্রণা। এমন সময় কেউ ডিস্টার্ব করে ইস্।
সময় কিছুটা কেটে গেলো,দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ হতেই সবাই একটু রেস্ট নিতে রুমে আসলো। আরহাম এসেই একটু ঘুমাতে চাইলো তবে আরহাম এসে নুবার পাশে শুতে দেখেই আয়রা তাড়াতাড়ি এসে আরহামকে ঠেলে মাঝখানে শুয়ে পড়লো, এখন আপাতত সে ফিড করছে আর আর চোখে আরহামের দিকে বারবার তাকাচ্ছে।মেয়ের কান্ড দেখে আরহাম উঠে বসে মুচকি মুচকি হাসলো।
নুবা ক্লান্ত চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_”পারলে মেয়ের জন্য হাতে করে কিছু নিয়ে,ওর সামনে আসবেন।খুব ছুচো আপনার মেয়ে।খাবার দিলে তার পিছু ছাড়তে চায় না।”
আরহাম শুধু নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো। নিশ্চয় সে না থাকা কালিন,নুবা তার মেয়েকে আগলে নিয়েছে তাই তো এখন নুবাকে ছাড়া কিছু বুঝে না,আরহামের মাঝে মাঝে আফসোস হয় আয়রা কেনো নুবার পেটে হলো না।আরহামের জীবনে নুবা কেনো প্রথমে আসলো না,তবে এটাই সত্য যে আয়রা না থাকলে আরহাম আর নুবার সম্পর্ক কখনোই হতো না।তাই যা হয় ভালোর জন্যই হয়।
নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৩
এদিকে আসার পর থেকেই নুবা আর আরহাম সুযোগ পলেই রুমে ডুকে যাচ্ছে এতে অবশ্য কেউ কিছু বলছে না কারণ তাদের এখন একা সময় কাটানো দরকার,কাল রাতে আমিনা বলেছিলো আয়ারকে তার কাছে রাখবে তবে নুবা নিতে দেয়নি,যতো যাই হোক মেয়ে তার কাছেই থাকবে।
নুবা আরহামকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”সেদিন আমাকে ওই অবস্থায় রেখে কেনো চলে গিয়েছিলেন?বললেন না যে!”
আরহাম মুচকি হাসলো, চোখের পলক ফেলে শান্ত কন্ঠে সুধালো
