Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৬

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৬

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৬
নুসাইবা আরা নুরি

তোহার কথা শুনে সকলে দরজার দিকে তাকায়।সবার মনে কৌতুহল দরজায় কে দাঁড়িয়ে।ইভান হাতে থাকা ল্যাগেজ টা ভেতরে ঠেলে দিয়ে মিষ্টি আর ফুলের বুকে টা হাতে নেয়।তোহার পা থেকে মাথা অব্দি এক বার দেখে মিষ্টির ব্যাগটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ফিশফিশ করে বলে,
-কংগ্রাচুলেশন ফ্লাওয়ার কুইন।
তোহা চমকে উঠে দূরে সরে যায়।ইভান হেসে ভেতরে ঢুকে সবাইকে সালাম দেয়।সকলেই প্রায় অবাক।তবে শ্রেয়সী কিংবা ইরু চিনতে পারছে না এটা কে।ইভান কে দেখে মেহেরাজ উঠে দাঁড়ায়।ইভান গিয়ে মেহেরাজকে জড়িয়ে ধরে।কতদিন পর।তারপর শ্রেয়সী দিকে তাকিয়ে বলে,

-ভাবি আসসালামু আলাইকুম।কেমন আছেন??
শ্রেয়সী চমকায়।সে তো চিনেই না লোক্টাকে।তাও ভদ্রতার খাতিরে সালামের উত্তর দেয়।ইভান ফুলের বুকেটা ফাহিমকে দিয়ে কুলা কুলি করে বলে,
-কংগ্রাচুলেশন উকিল সাহেব।এক ধাপ তো এগিয়ে গেলেন।মিষ্টি খাওয়ালেন না।
ইভানের বলতে দেরি কিন্তু মিলির প্লেট থেকে মিষ্টি তুলে ইভানের গালের ভিতর পুরে দিতে দেরি হয়না।ইভান মিলির দিকে তাকাতেই মিলি বলে,
-ফাহিম কি দিবে তাই আমি ই দিয়ে দিলাম বাট তুই আসবি বললি না কেন দোস্ত??
-সারপ্রাইজ দিবো তাই??
ইভান একে একে সবার সাথে পরিচিত হলো। শ্রেয়সী শোনেনি মেহেরাজের ভাই আছে শুনে অবাকে শেষ সিমায় পৌছে গেছে।তোহা এখোনো একদম চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ইভানের বলা ফ্লাওয়ার কুইন কথাটা এখোনো কানে বেজে চলেছে।এক সময় এই নামে একমাত্র তাকে ডাকতো যা আজ শুধুই অতীত।তোহা সে সব মনে করতে চাই না।

সবাই আড্ডা দিতে শুরু করলো।শ্রেয়সী ইরু আর মাহি আলাদা গল্প করছে কারন তারা বন্ধুমহলের আড্ডায় নাক গলাতে চায় না।গল্পের মাঝে হটাৎ শ্রেয়সীর ফোন বেজে উঠে।শ্রেয়সী হাসি মুখে মোবাইল টা বের করে দেখে স্ক্রীনে আব্বু বলে সেভ করা নাম্বার।সাথে শ্রেয়সীর গলা শুকিয়ে যায়।শ্রেয়সীর পানে মেহেরাজের চোখ পড়তেই ভ্রু জোড়া কুচকে যায়।মেহেরাজ তোহাকে ইশারা করতেই তোহা উঠে শ্রেয়সীর পাশে যায়।তারপর বলে,
-কি হয়েছে ননদিনী।মুখ শুক্নো শুকনো লাগছে কেন??
(আমার গল্পের দ্বিতীয় পেজ:- Nuri’s Story’Land – Nusaiba Ara Nuri সবাই ফলো দিয়ে রাখো জআন-বাচ্চারা)
তোহার কথায় শ্রেয়সী তার দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে বলে,
-আব্বু কল দিয়েছে!!
শ্রেয়সীর কথা শুনে মেহেরাজ ও উঠে আসে তারপর বলে,
-আমার কাছে দেন আমি কথা বলছি।
মেহেরাজের কথায় তোহা মেহেরাজের হাতে ছোট্ট একটা ঘুশি দিয়ে বলল,
-মাথা খারাপ তোর।সামনের সপ্তাহে তোদের বিয়ে।এখন তোরা এক সাথে শুনলে কি ভাব্বে। আমি কথা বলছি ওর চেয়ে ননদিনী কল রিসিভ করো।
শ্রেয়সী তোহার কথায় কল রিসিভ করে ফোন কানে ধরলো।মেহেরাজ আর কিছু বললো না আবার সবার কাছে চলে গেলো কথা বলতে।শ্রেয়সী ফোন কানে ধরে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে আলতাফ শেখ রাগি কন্ঠে বলে উঠল,

-কোথায় তুমি।কয়টা বাজে এখন।কোচিং এও তো জাওনি আজ।স্যার এর কাছ থেকে আসলাম।কোথায় আছো এখন??
বাবার রাগী কন্ঠ শুনে শ্রেয়সী ভয় পেয়ে যায়।ফোন লাউড স্পীকারে থাকায় তোহা ও শুনে।তারপর শ্রেয়সীর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সালাম দেই তারপর বলে,
-বাবা শ্রেয়সী আমার কাছে আছে।বিকালে একটু বাজারে গিয়েছিলাম তখন ওর সাথে দেখা তাই নিয়ে এসেছি।একটু পর রাতে খাইয়ে বাড়িতে দিয়ে আসতো বলবো ভাইয়াকে।প্লিজ বাবা রাগ করিয়েন না।
তোহার কথায় আলতাফ শেখ নিজেকে কিছুটা দমিয়ে নিয়ে বলে,
-কল দিয়ে একটু জানিয়ে দিতে পারতে বউমা।তাহলে আর টেনশন হতো না দেখছো বাইরে এখন কি অবস্থা।আর তোমার ছোট বোন কেমন আছে।
-আলহামদুলিল্লাহ আব্বা ভালো আছে।আর আসলে সময় বুজতে পারিনি বাবা।বুজতে পারলে নিশ্চয় কল দিতাম।রাগ কইরেন না একটু পরেই দিয়ে আসবোনি ওকে।
-আচ্ছা সমস্যা নেই বউমা।তোমার শাশুড়ী চিন্তা করছিলো তাই কল দিলাম।এখন তোমাকেও কল দিতাম।আর যদি ও থাকতে চাই তোমার কাছে থাকুক সমস্যা নেই।
-আচ্ছা বাবা।কিন্তু আপনার ছেলে যদি জানতে পারে??
তোহার কথায় ওপাশে আলতাফ শেখ বোধহয় হাসলেন।তারপর বললেন,

-চিন্তা নেই বলবো না। আচ্ছা এখন রাখি বউমা।তোমার শাশুড়ীকে বলি।নয়তো চিন্তায় পাগল হয়ে যাচ্ছে।
-আচ্ছা।
তোহা কল কেটে দিতেই শ্রেয়সী তোহাকে জড়িয়ে ধরলো।তারপর বলল,
-অনেক অনেক থাংকু ভাবি।আমি আমার জান্টু মন্টু ভাবি।আমাকে এভাবে বাচানোর জন্য।
শ্রেয়সী পাগলামো দেখে তোহা হাসে তারপর বলে,
-পাগল মেয়ে।আমি কি তোমাকে ননদের চোখে দেখি।আমি তোমাকে নিজের বোনের চোখে দেখি।তাই তোমাকে বাচানো আমার কর্তব্য। যদিও তুমি আমাকে আগে বলোনি কিন্তু আমি জানতাম কারন প্লানিং টা আমারই ছিলো।
তোহার কথায় শ্রেয়সী হাসলো।শ্রেয়সী কে নিয়ে তোহা ঘরে চলে গেলো।ইরু আর মাহি আর সাহিদা খাতুন কথা বলতে লাগলো।সাহিদা খাতুন বেশ আন্তরিক।ইরু ছোট থেকে মায়ের আদর পায়নি তাই সাহিদা খাতুন মিষ্টি ভাষায় মুগ্ধ ইরু।চোখে পানি এসে পড়ছে।সাহিদা খাতুন তা দেখে শাড়ির আচল দিয়ে ইরুর চোখ মুছিয়ে নিজের পাশে বসিয়ে রেখেছেন।দূর থেকে আড়চোখে তা ফাহিম দেখেছে।তার মা সেদিন রাজি না হলেও ইরুর কষ্ট আর তার ভালোবাসার কাছে হার মেনে নিয়ে রাজি হয়েছিলো।ফাহিম জান্তো তার মা ইরুকে অনেক ভালো রাখবে।ইরু অন্তত একজন ভালো মা পাবে তাই এতো তোড়জোড়।

রফিক সাহেবের লাশ টা নিয়ে হটাৎ তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কোনো কারন ছাড়াই।মানুষ জন অবাক হলেও কেও কোনো প্রতিবাদ করেনি।
আনাম মিয়া টাকা খরচ করে বন্ধ করিয়েছেন।কারন রফিক এর বিষয় তদন্ত করতে গেলে অনেক কালো সত্য সামনে চলে আসবএ যার ফলে বিপদ বাড়বে।আনাম মিয়া চাচ্ছেন না এসব বিপদ বাড়াতে।এমপি হওয়াই অনেক চাপ এখন তার মাথায়।
বেশ কিছু মেয়ে পালিয়েছে গুদোম থেকে।কিভাবে পালালো মাথায় আসছে না।তবে পাচ জনের মধ্যে চার জনকে উপরে পাঠাতে পারলেও একজনকে এখোনো খুজে পাওয়া যায়নি।আনাম মিয়ার লোক চিরুনি তল্লাসি দিচ্ছে তল্লাটে।আনাম মিয়ার মনে এক্টাই প্রশ্ন মেয়েগুলো পালালো কিভাবে।কড়া তালা দেওয়া থাকে গুদোমে দারোয়ান থাকে তাহলে কিভাবে গেলো।সব বিপদ কি এক সাথে লেগেছে।
ডেলিভারির ডেট এগিয়ে আসছে।মেয়ে গুলোকে মেরে অনেক বড় ভুল করেছে আনাম মিয়া না মারলে অন্তত এখন মাথায় চিন্তা এসে ভিড়ত না।রাগের মাথায় মেরে দিয়ে পস্তাতে হচ্ছে।এখন আরো পাচটা মেয়ে পাবে কোথায়।এদিকে সিয়াম ও শহরের বাইরে।আনাম মিয়া নিজের ঘরে রকিং চেয়ারে বসে মাথায় এক হাত দিয়ে অন্য হাত দুয়ে সিগারেট ফুকতে ফুক্তে এই চিন্তায় করতে থাকেন।হাতে মাত্র সাতদিন।

তোহা ঘরে বিছানায় বসে সব কিছু খুলে বলেছে শ্রেয়সী কে।তার বন্ধু মহল তার পরিবার।তার সব কিছু তবে চাকরি আর মিশন টা গোপন করে গিয়েছে।এমনকি আজকের প্লানিং টার কথাও।তোহার কাদো কাদো কন্ঠ শুনে শ্রেয়সীর ও খারাপ লাগে তখন তোহা শ্রেয়সীর হাত শক্ত করে ধরে বলে,
-তোমাদের বাড়িতে বউ হয়ে যাওয়ার পর আমি সবার ভালোবাসা পেয়েছি।খুব ভালোবাসা লোভি ছিলাম আমি।এখন তুমি যদি কাওকে বলে দাও হয়তো আমার আর কারোর ভালোবাসা পাওয়া হবে না।ছোট বেলায় আব্বু আম্মু এক্সিডেন্ট এ মারা যাওয়ার পর তোমাদের বাড়িতেই প্রথম হাস্তে পেরেছি।কখোনো চোখে পানি আসেনি।তোমাকে নিজের বোন মনে করেই সব সত্যি টা বললাম।
কথাটা বলে তোহা উড়না দিয়ে চোখ মুছে নেয়।শ্রেয়সী তোহার হাত শক্ত করে ধরে বলে,
-আমাকে তুমি চিনতে পারোনি ভাবি।আমি তোমাকে সব সময় বিশ্বাস করি।আর তোমার বিশ্বাস এর মর্যাদাও রাখবো।কাওকে কখোনো বলবো না এসব।যেমন ছিলাম তেমন ই থাকবো।তুমি চোখ মুছো চলো বাইরে চলো।
শ্রেয়সীর কথায় তোহা খুশি হয়।মনে মনে বলে,

-কিন্তু তুমি আমাকেও চিনলে না ননদিনী।তুমার পরিবার এ গিয়ে আমি বেশি কেদেছি।দ্বিতীয়বার ভালোবাসার মানুষ হারানোর কষ্টে। আমি তোমার ভাইকে ভালোবেসে ফেলেছি ননদিনী।কিন্তু এটা জঘন্য অপরাধ।আর আমি অপরাধ কে বুকে চেপেই তোমার ভাইকে শাস্তি দিবো।সে একটা খুনি।খুনি সে।
তোহার বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠে।শ্রেয়সী কিছু বলার আগেই তোহা আবারো বলে,
-ফ্রেশ হয়ে নাও।রাতে এখানে থাইকো সবাই আছে।আমি রান্না ঘরে যায় অনেক রাত হয়ে যাচ্ছে।তুমি ফ্রেশ হয়ে সবার মাঝে গিয়ে বসো।
-আচ্ছা।

তোহা চলে যেতেই শ্রেয়সী ও উঠে দাঁড়ায়।ওয়াশরুমের দিকে যেতেই আয়নায় নিজের দিকে চোখ পড়তেই শ্রেয়সী লজ্জা পেয়ে যায়।আজ তার বান্ধুবীর বাসর।হায় হায় কি লজ্জা।বাসর কথাটা মাথায় আসতেই শ্রেয়সীর মনে পড়ে তোহা বলে আজ সবাই থাকবে এখানে।তার মানে ওই লোক ও কি থাকবে।
কোথায় থাকবে?নিজের মিনের প্রশ্নে নিজেই বোকা বনে যায়।আবার লজ্জাও পাও।লোক্টা তো তার স্বামি যদি তার সাথে থাকতে চায়।সে কি বাধা দিবে।ইশ।শ্রেয়সী লজ্জায় মুখ ঢেকে ওয়াশরুমে চলে যায়।চোখ বুজতেই লোকটার হাসি মুখটা ভেসে উঠে।এতো লজ্জা কেন পাচ্ছে সে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৫

শ্রেয়সী হাত দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ওয়াশরুমের ঢুকে বেসিনের কল চালু করে দিলো।এতো লজ্জা। গাল দুটো ব্লাশ করছে তখনই শ্রেয়সীর কানে ভেসে এলো একটা মেহেরাজের গম্ভীর পুরুষালি কন্ঠ।নেশা মিশ্রিত কন্ঠে মেহেরাজ ফিশফিশিয়ে বলে,
-আজ আপনার নিস্তার নেই লিটল বার্ড। প্রনয়ের দহনে পুড়িয়ে উন্মাদনার সমুদ্রে ডুবিয়ে দিবো আপনাকে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৭