Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৪

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৪

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবার কষ্টে বুক ফেটে গেলো তবে কিছু বললো না,,প্লেট লবন নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,
তবে তার দুঃখের কি শেষ আছে,,রুম থেকে বেড় হতেই আরাফের রুম অতিক্রম করার সময় আরফা সামনে এসে দাড়ালো যেনো ঘাপটি মেরে বসে ছিলো,,
নুবা সরে যেতে চাইলো,,,তবে আরাফ পথ আটকে বললো
_ ওর সাথে দরজা আটকে কি করছিলি তুই,,, হ্যাঁ,, আমাকে পটাতে না পেরে এখন আমার ভাই এর পিছনে পড়েছিস,,,
নুবার রাগে শরীর ফেটে গেলো,,নুবা হাতে থাকা কাচের প্লেট শব্দ করে মাটিতে ফেললো,, পরপরই শব্দ করে তা ভেঙে গেলো,,,
নুবা হুংকার ছেড়ে বললো

_ মানুষ নাকি জীব জন্তু আমি,,যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বলে যাস,,যা ইচ্ছে তাই করতে চাস,, মানুষ আমি,,,তোর মতো জানোয়ারের থেকে ছাড়া পাবো কিনা সন্দেহ তার উপর আর একটা জুটেছে,,,সব জানোয়ার এক সাথে,,,,
বলেই নুবা আরাফকে ধাক্কা দিয়ে এক দৌড়ে সিরি বেয়ে নিচে নেমে গেলো,,,আরফ হতভম্ব হয়ে গেলো,,, এমন নয় যে নুবা কোনো সময় তাকে এভাবে বলেনি,, কিন্তু আজ গলার আওয়াজে কেমন বিষাক্ততা ছিলো,,ঘৃনা ছিলো না,, কেমন বজ্র কন্ঠ যা আরফকেও চুপ করিয়ে দিলো
দুপুর সময় লিভিং রুমে আর কলিডোরে কেউ নেই তাই কেউ নুবার চিৎকার শুনতে পেলো না,
তানিয়ে বিরক্তি নিয়ে বললো
_ এই জায়গায় লবন প্লেট আবার কে ফেললো,,
এই ঘটনার পর থেকে নুবা রুম থেকে বেড় হয়নি চুপচাপ বসে আছে,,, সবকিছু অসহ্য লাগছে,,, তার উপর বুকে যেই জায়গায় আঘাত লেখেছিলো সেই স্থান ব্যথা হয়ে লাল হয়ে গেছে,,,কিছুটা রক্ত জমাট বেঁধেছে,,,এই নিয়ে আরো অসহ্য নুবা

তখন রাত ঠিক ৯ টা,,,আমিনা বেগম সন্ধায় যেএ একটু শুয়েছেন,,এখনো ঘুমাচ্ছেন তিনি,,আমিনা বেগমের পরিপ্রেক্ষিতে তার বড় বোন,,ছোটো বন সবাই এই ছোট্ট জনসংখ্যাকে সামাল দিচ্ছেন,,
আরশি করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে,,তাও কারো চোখে চোখ রেখে,,,রিহান উপর দিকে তাকিয়ে আছে,, সারাদিন খোঁজার পর শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে পেলো,,রিহান উপরে যেতে লাগলো,,আরশি ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,, চুপচাপ এখান থেকে সরে যেএ আরফারের রুমে ঢুকে গেলো,,,রিহানের রাগে চাপা ফুলে উঠলো,,এই মেয়েটা কথা বলার সুযোগ না দিয়ে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে,, এমন কি নাম্বারটাও ব্লক করে রেখেছে __
হঠাৎ আরশিকে রুমে ডুকতে দেখে আরাফ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ হঠাৎ এখানে কি করছিস,,
_ এমনি আসলাম,,দেখতে যে তুমি কি করছো
_ কি আর করবো,,,যা আমাকে ঘুমাতে দে
_ ঘুমাচ্ছো নাকি ভাবির সাথে কথা বলছো
_ যা ইচ্ছে তাই যা তো,,

নুবা শুয়ে আছে,, দুপুর থেকে কিছু খায়নি,,না ওষুধ খেয়েছে,, একবার মন বলছে খেএ ওষুধ নিয়ে নিতে আবার মস্তিষ্ক বলছে প্রয়জন নেই,,
নুবা চোখ বন্ধ করে বিরবির করে বললো
_ আপনি আমারো হতে পারতেন,,,কেনো হলেন না,,দেহটাই চেয়ে গেলেন আমাকে চাইলেন না,,,আমি আপনাকে ঘৃনা করি আরাফ শাহারিয়ার মির্জা,,,I hate you. ,,
বলতে বলতে নুবা বালিশে মুখ গুজলো,,,এখন আরহামকে দেখলেও নুবার ঘৃনা হয়,, কারণ দুই জনের চেহারা প্রায় এক,, হয়তোবা মুখে দাগ দেখে চিনা যায়,,তবু নুবার সাথে আজ যা করেছে এর পরে তাকে ভালো মানুষ মনে করে নুবার ভুল হবে,,

আরহাম মেয়েকে নিয়ে নিচে নামলো,,,সবাই আরহাম দিকে হাসি মুখে চাইলো,, আরহাম বিরক্ত হলো,,আমিনা বেগম বড় বোন জোরপূর্বক হেঁসে সবাইকে নিজের দিকে ধ্যান মগ্ন করলো,,,
আরহাম নুবাদের রুমে সামনে যেএ দাঁড়ালো,,,তবে ভিতরে যেতে চেয়েও যেতে পারলো না,,কেন জানি কেমন একটা লাগছে তার কাছে,,যেটা কখনোই লাগেনি,,সে কি অনুতপ্ত,,না কখনোই না,,
তবে আয়রা কাঁদছে,, হয়তোবা ক্ষুধা লেগেছে,,, আরহাম কি করবে ভেবে পেলো না,,এর ভিতরে হাজেরা উপস্থিত হলো,,
উনি রুমেই যাচ্ছিলেন,,আরহামকে এভাবে কান্না রত আয়রাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠলো
_ দাঁড়িয়ে আছো যে বাবা,,
আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ মা ঘুমাচ্ছে,,আয়ারাকে নিয়ে আসছিলাম,,
হাজেরা বেগম এক গাল হেসে বললো
_ দেও আমারে কাছে দেও,,, তুমি বরং রুমে যাও,,,
আরহাম প্রথম বারের মতো মা ব্যতিত কারো কথা শুনে বাচ্চাদের মতো মাথা ঝুকালো,,,

নুবা এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ কেন নিয়ে আসছো, আমার এখন ভালো লাগছে না,,
হাজেরা বেগম ভুরু কুঁচকে বললেন
_ ছেলেটা বাচ্চাটাকে নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো আমি তো ভাবলাম তুই আয়রার কান্না শুনিসনি তাই নিয়ে আসলাম,,এখন বলছিস কেন নিয়ে আসছো
নুবা বালিশে মুখ গুজে হিসফিস করে বললো
_ ওকে নিয়ে যাও
আমিনা বেগম হতভম্ব হলো মেয়ের আচরন দেখে,,উনি আস্তে করে এসে মেয়ের পাশে বসলো,, শান্ত কন্ঠে সুধালো
_ কি হয়েছে রে,,,
_ কিছু না,,,
আমিনা বেগম নুবার গায়ে হাত দিয়ে বললো
_ কিছু হয়নি মানে,,আমি আমার মেয়েকে চিনি না ও কেমন,,,
নুবা ঝাড়া মেরে উঠে বসলো,,রাগে চেঁচিয়ে বলে উঠলো
_ উফ্ অসহ্য লাগছে,,,এটাকে সামনে থেকে সরাও,,বলছি কান্না কাটি ভালো লাগছে না,,,বুঝতে পারছো না , বিরক্ত লাগে আমার,, সারাদিন কান্না করতে থাকে ভালো লাগে না আমার,,,
আয়রা নুবা চিৎকার শুনে ভয়ে আছো কেঁদে উঠলো,,
আমিনা বেগম মেয়ের ব্যবহার দেখে নিজেও বেশ অবাক হলেন,,,

_ কান্না করছে,,একটু খাওইয়ে দে ক্ষুধা লাগছে হয়তোবা,,
নুবা রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ পারবো না আমি,,,কারো চাকর না আমি,, নিজেকে বেঁচে দেয়নি যে যখন যে যা বলবে,,যেভাবে বলবে তা করতে হবে,,পারবো না আমি এই সব করতে,,চাচিকে বলে দিও।যদি বাড়ি থেকে বেড় করে দেয় দিক,,, তাদের ছায়া ব্যতিত বাঁচতে পারবো না এমন তো কোনো কথা নেই,,,
আমিনা বেগম স্থির হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,নুবা পরপরই দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ বাদ দেও এই সব,,আজ থেকে কারো পায়ের তলে থাকবো না,, তোমার যদি যেতে ইচ্ছে করে আমার সাথে যাবে,,আর যদি মনে হয় কুকুরের মতো এখানে পড়ে থাকবে তাদের পা চাটবে তাহলে থাকতে পারো,, কিন্তু আমি আর থাকছি না,,নিজের ব্যবস্থা নিজে করবো,,,,
আমিনা বেগম সাথে সাথে ঠাস করে মেয়ের গালে একটা চড় লাগিয়ে দিলো,,নুবা গালে হাত দিয়ে ছলছল চোখে মায়ের দিকে তাকালো,,,
আমিনা বেগম কাতর কন্ঠে বলে উঠলো

_ বড় হয়ে গেছিস,,তারা যাই করুক না কেন ছোটো বেলা থেকে বড় করেছে তো তোকে,,,আমি পারতাম তোকে এতো টাকা দিয়ে ভালো স্কুল কলেজে পড়াতে,,ভালো মন্দ খাওয়াতে,,এখন বড় হয়ে গেছিস তাই না,, হ্যাঁ,,খুব বড় হয়েছিস,,,একা চলতে শিখেছিস,,,
নুবা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো,, চোখের পানি মুছে বললো,,,
_ হ্যাঁ তাই বলে সারাজীবন তাদের পায়ের নিচে পড়ে থাকো,,,
বলেই নুবা আয়রার দিকে তাকালো,,মাথা কাত করে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,মাঝে মাঝে হিচকি তুলে কাঁদছে,,, কেঁপে কেঁপে উঠছে,,,,আয়রার চাহনি নুবার কাছে এতোটা মহোমহী লাগলো তা বলার মতো না,,নুবা চলে যেতে চাইলো তবে আবারো ফিরে আসলো,,,নিজের উপর রাগ হতে লাগতো এতো মায়া লাগছে কেন,,,না লাগলেও পারতো,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে কোলে নিয়ে ফিড করাতে লাগলো,,না পারছে এদিকে যেতে,,না পারছে ওদিকে,, বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকালে এতো মায়া লাগে কিছু করার নেই,,,
তবে আয়রা পর্যাপ্ত পরিমাণ মন মতো দুধ পেলো না,, কারণ আজ নুবা দুপুর থেকে না কিছু খেয়েছে,,আর না ওষুধ নিয়েছে,,,তাই হয়তোবা,,,
নুবা নিজেকে বেশ শান্ত করলো,,মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ চাচির থেকে ওষুধ গুলো নিয়ে আসো খেএ নি
_ রাতে তো কিছু খাসনি,,
_ ইচ্ছে হলে কয়টা ভাত নিয়ে এসে গালে তুলে দেও,,,

আরহাম বিছানার অর্ধ নগ্ন হয়ে উল্টো ভাবে শুয়ে আছে,,,চোখ দুটো বন্ধ কিন্তু তার হাত চলছে অনাবরত,,,বিছানা খামছে মনে হচ্ছে ছিরে ফেলবে,,,মাথা যন্ত্রনা করছে প্রচন্ড,,,বাড়িতে এতো কেউ কেউ ভেউ ভেউ তার ধৈর্য ভেঙ্গে দিচ্ছে,, পরপরই নুবার কথা গুলোও শুনেছে সে,, অসহ্য লাগছে আরহামের,,,একটা কথাই তার কানে বাজছে
_ উফ্ অসহ্য লাগছে,,,এটাকে সামনে থেকে সরাও,,বলছি কান্না কাটি ভালো লাগছে না,,,বুঝতে পারছো না , বিরক্ত লাগে আমার,, সারাদিন কান্না করতে থাকে ভালো লাগে না আমার,,,
এই কথা টুকু তার কানে বাঁধছে,,,তার উপর নুবার বলা বারতি কথা গুলো,,,
বিরক্ত লাগছে তার মেয়েকে,,,আরহামের ইচ্ছে হচ্ছিলো নুবাকে ওখানেই গেঁথে রেখে মেয়েকে নিয়ে আসতে,, কিন্তু সে পারলো না,,,আয়রার কান্না করতে করতে লাল হয়ে যাওয়া মুখ তার সামনে ভসে উঠলো,,, ক্ষুধার জ্বলায় ছটফট করতে থাকা আয়ারকে নুবার কাছ থেকে চাইলেও সরাতে পারলো না,,,
আরহাম উঠে বসলো,,আয়রা হওয়ার পর থেকে সে কোনো রকম নেশা করিনি শুধু মেয়ের খেলায় রাখার জন্য,,,তার মেয়ে তার সবকিছু,,,,
আরহাম এর দাঁতে দাঁত চেপে আছে,,,কপালের রগ ফুলেছে,,,

১০ টার দিকে আমিনা বেগম আয়ারকে রুমে নিয়ে আসলো সাথে অর্ধ ফিটার দুধ,, কারণ নুবা মরে যাবে তাও এখানে আসবে না বলে দিয়েছে
কিছু সময় আগের কথা নুবা আয়ারকে নিয়ে শুয়ে ছিলো এমন সময় আমিনা বেগম ঘুম থেকে উঠেই নুবার রুমে আসেন জানতে পারেন গত এক ঘন্টা ধরে আয়রা এখানেই তাই নাতনিকে নিয়ে আসতে চান,,,তখনি নুবা বলে উঠে
_ ফিডারে করে দুধ নিয়ে যাও চাচি,,আমি কিন্তু কোথাও যেতে পারবো না,,,
আমিনা বেগম দাঁড়িয়ে গেলেন,,,হাম তুলে বললেন
_ফিডার তো খেতে চায় না
_ তাহলে যদি রাতে ক্ষুধা লাগে তবে নিয়ে এসো,,,আমি কারো রুমে যেতে পারবো না
_ আচ্ছা,,,ফিডারে ভরে দে,,, আরহাম মনে হয় না এতো রাত করে বারবার আসা যাওয়া করবে,,,
আমিনা বেগম মনে মনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,,,তার ছেলে যে আয়ারকে এই রুমে রাখবে না তা তার জানা একবার যেহেতু না বলেছে তার মানে না,,,
নুবা সময় নিয়ে বুকে আঘাত প্রাপ্ত স্থানে যখম থাকলে অর্ধ ফিডার ভরে দিলো,,

আমিনা বেগম আয়রাকে শুয়াতে শুয়াতে বললেন
_ খেয়েছিস,,,
_ না,,,
_ এখনো খাসনি,,,আরশিকে বললেই তো রুমে ভাত এনে দেয়, তুই ও না,,, আচ্ছা শুন নুবা ফিডার দিয়ে দিয়েছে,,আয়রার ক্ষুধা লাগলে রাতে খাওইয়ে দিস,,
আরহাম এক রাশ রাগ নিয়ে বললো
_ ও যে ফিডার মুখে নিতে চায় না এটা কি তোমার জানা না
আমিনা বেগম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ নুবা এখানে আসবে না,,,আর আমিও ওকে এখানে আনতে চাইছি না,,,তোর মেয়ের যদি সমস্যা হয় তবে তুই যেএ ___
বাকি কথা বলার আগেই আরহাম থামিয়ে দিলো,,, দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ ও আসবে না ওর বাপ আসবে,,
আমিনা বেগম কিছুটা রেগে গেলেন আর বললেন
_ নাটক করবি না,,,গায়ের জোর কম দেখা,,,রাত বিরাত তো ওকে নিয়ে তোর রুমে বসে থাকতে পারবো না,,,মেয়েকে ওর কাছে রাত টুকু দিলে কি হয়,,, সবসময় তোর কথাই চলবে নাকি,,,না ও তোর মেয়েকে খেএ ফেলবে
আরহাম রাগে ক্ষোভে ফুঁসছে শুরু করলো,,,আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো

_ আমি আবারো বলছি আরহাম,, ও তোর রেজিস্ট্রি করা বউ না যে তুই যা বলবি ওর তা করতে হবে,,,ও এখানে আসতে চায় না,,আমি বুঝি ওর uncomfortable,ফিল হয়,,হবেই বানা কেন,,,একটা মেয়ে মানুষ তো,,,আয়রার বেশি সমস্যা হলে আমাকে ডাকবি আমি দিয়ে আসো আবার নিয়ে আসবো তাও দয়া করে তোর যাওয়ার দরকার নেই,,, তুই আমাকে বললেও হবে,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে বুঝিয়ে রেখে গেলেন,,,আজ নুবার চোখ মুখ দেখেই আমিনা টের পেয়েছে দুপুরে রুমে আসার পর কিছু হয়েছে,,না হলে নুবা কখনোই এরকম কাঠ কাঠ গলায় কথা বলে না,,,নুবা অভিযোগ করার আগেই আমিনা বেগম সব সামলে নিতে চান,,,

তখন প্রায় অর্ধ রাত,,নুবার শরীর শিরশির শিরশির করছে,,,,, অনেক টা শীত লাগছে যেনো,,তার উপর ঘুমের ভিতরে কেউ পানি ডালছে,,তা উপর পানিল কলকল শব্দ শুনতে পারছে,,,
এবার শীত প্রচন্ড বাড়লো,,পানির কল কল শব্দ বাড়লো,,, সারাদিন ক্লান্ত না খেএ থাকার পর রাতে খেএ নুবা এমন ঘুম দিয়েছিলো যে তা বলার মতো না,,তার ঘুম ভালো না একবার গভীর ঘুমে গেলে কেউ মেরে ফেললেও মনে হয় না টের পাবে
তবে নুবার গলার সেই ক্ষত স্থানে কেমন করে উঠলো,,,নুবা টিপটিপ করে তাকালো,,আশে পাশের সব কিছু ধোঁয়াশা লাগলো তার কাছে,,,নুবা এবার উঠার চেষ্টা করে ভালো মতো তাকালো,, পরপরই দেখতে পেলো আলো ঝকঝক করছে,, শরীর শীতল হয়ে আসছে,,নুবা আশে পাশে তাকিয়ে অনুভব করলো যে সে অন্য কোথাও অবস্থান করছে,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৩

নুবা চোখ ঝাপটালো পরপরই তার চোখে ভেসে উঠলো কারো পৈশাচিক মুখ যা একদম শান্ত,,,নুবা ভালো মতো আন্দাজ করে ফাল দিয়ে উঠতে চাইলো তবে পারলো না,,হাতে পায়ে টান অনুভব করলো,,, মনে হচ্ছে হাত পা এক সাথে করে বেঁধে রাখা হয়েছে,, পরিস্থিতি বুঝতে নুবা সময় নিলো,,, অতঃপর নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে আতংকে উঠলো সে,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here