নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা চোখ ঝাপটালো পরপরই তার চোখে ভেসে উঠলো কারো পৈশাচিক মুখ যা একদম শান্ত,,,নুবা ভালো মতো আন্দাজ করে ফাল দিয়ে উঠতে চাইলো তবে পারলো না,,হাতে পায়ে টান অনুভব করলো,,, মনে হচ্ছে হাত পা এক সাথে করে বেঁধে রেখেছে,, পরিস্থিতি বুঝতে নুবা সময় নিলো,,, পরপরই নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে আতংকে উঠলো,,,
কেউ খুব গম্ভীর কন্ঠে বিরবির করে বললো
_ আমার কলিজার টুকরাকে তোর বিরক্ত লাগে,,,রাতে বুকের দুধ না খাওইয়ে মারবি ওকে হুঁ,,,
নুবা সামনে ভাসমান মুখ দেখে চিৎকার করে উঠলো
_ আপনি,,,আপনি এখানে কি করছেন,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,,নুবা এবার আশে পাশে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেলো,,হাত পা বেঁধে Bathtub এ ফেলে রাখা হয়েছে,,,পানি গলা পর্যন্ত আস্তে আস্তে পানির পরিমাণ বাঁরছে,,, আরহাম হাতে একটা সরু চুরি নিয়ে বসে আছে,,নুবার জান যেনো দেহ থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার মতো নুবা ছটফট করে উঠলো,,,
_ আ,, আমাকে এখানে আনার মানে কি,,,
_ জানিস না তুই কি করেছিস,,,
নুবা পানির পরিমাণ বাড়ায় উঠে বসার চেষ্টা করলো,,তবে আরহাম হতে দিলো না,,বাম হাত দিয়ে তাকে পানির ভিতরে চেপে ধরলো,, নিঃশ্বাস না নিতে পেরে নুবা ছটফট করে উঠলো,,, আরহাম ছেড়ে দিলো,,,নুবা পানি থেকে মাথা বেড় করে জোরো জোরে নিঃশ্বাস ফেললো,,,
আরহাম নুবার ছটফটানি দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ জানিস আমার ছোট বাচ্চাটা ক্ষুধায় এভাবেই ছটফট করে,,,
আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,, অর্ধ নগ্ন আরহাম ভেজা হাত টাওজারে মুছলো,,, পরপরই হাতের সরু চাকু নড়াতে নড়াতে বললো
_ জানিস ভেবেছিলাম তোকে টানা ৩/৪ দিন না খাওইয়ে রাখবো,,দেখবো তোর কেমন লাগে,, ক্ষুধার জ্বালায় তুই কিভাবে ছটফট করিস তবে আফসোস তুই না খেলে আমার মেয়ের আবার সমস্যা হবে,,তাই তোকে মাফ করলাম,,,
নুবা ক্লান্ত চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,তখনি আরহাম হুট করে নুবার কাছে এসে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_এখনো কানে বিঁধছে আমার,, বিরক্ত লাগে তোর,,
বলেই আরহাম নুবাকে আর এক চুবানি দিলো,,এবার অনেক টা সময় চুবিয়ে রাখলো নুবাকে,,,গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করলো সে ,, নিঃশ্বাস না নিতে পেরে সে উপড়ে উঠার চেষ্টা করলো,,
আরহাম ছেড়ে দিলো,,,নুবা চুবানি খেএ উঠে হাঁপিয়ে গেলো,,,জোরো জোর নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কি,,কি ক্ষতি করেছি আপনার,,আমা,, আমার পিছনে কেন পড়ে আছেন,,,আমি তো আপনার সাহায্য করেছি কেন এমন করছেন,,,
নুবা যেনো কথাও বলতে পারছে না,,নাক মুখ দিয়ে পানি ডুকে গেছে,,সে কথা শেষ করে কাঁশতে লাগলো
আরহাম নুবার ভেজা মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি করিসনি তুই,,,জানিস আমার এই দুনিয়ায় সব থেকে প্রিয় জিনিস টা কি,,,সেটা হলো আমার মেয়ে,,আর তুই ওর উপড়েই বিরক্তি প্রকাশ করিস,,,কি বলেছিলি রাতে আসতে পারবি না কেউ দেখলে তোর সম্মানে লাগবে,,,তো ভাবছি কি তোর সম্মানি যদি না থাকে,,,
আরহামের কথায় নুবা ফট করে আরহামের দিকে বড়বড় চোখ করে তাকালো,,,বুকটা কেঁপে উঠলো তার,,নুবা কিছু সময়ের জন্য মনে হলো এরা দুই ভাই দেখতে শুধু এক নায় এদের চরিত্রও এক,, ভাগ্য ক্রমে মুখে কাটা দাগ থাকায় চিনা যায় কোনটা কে,,নুবার এরপর চাহনি দেখে আরহাম শব্দ করে হেসে উঠলো,,ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ ভয় পেয়েছিস নাকি,,, but নিশ্চিন্তে থাক তোর উপর আমার কোনো intrastd নেই,,,
নুবার রাগে শরীর জ্বলে উঠলো,,,নুবা চেঁচিয়ে বললো
_ পাগল নাকি আপনি,,তখন রাগের মাথায় আমি এই সব বলেছিলাম,,পড়ে কি আপনার মেয়েকে কোলে নেয়নি নাকি,,, আপনার মাথার কি একটা দুটো তার ছিরা আছে,,,নাকি চরিত্রে সমস্যা আছে,,,যখন তখন তুলে নিয়ে আসা শুরু করেন,,আর আমার হাত পা খুলুন,,ভুলে যাবেন না আমার কিছু হলে আপনার মেয়ে না খেএ __ বাকি কথা বললো না নুবা,,,থেমে আবারো বলে উঠলো
_ সবার শরীরে এই প্রক্রিয়া কাজ নাও করতে পারে mr আরহাম শাহারিয়ার মির্জা,,, আপনার ভাগ্য ভালো আমি পেরেছি,,, আপনার তো আমাকে সম্মান করা উচিত উল্টো আপনি আমাকে অর্থ রাতে হাত পা বেঁধে সামান্য কথার জন্য পানিতে চুবাচ্ছেন,,,জানেন না যে ভালোবাসে সে একটু বকতেও পারে এতো কথা গায়ে লাগলে সমাজে চলবেন কি করে,,,
হঠাৎ করেই আরহাম এসে নুবার ঠিক কন্ঠনালি বরাবর সেই সরু চাকু দিয়ে দক্ষ হাতে কাট লাগালো,,,
নুবার গলা বেয়ে এক দু ফোটা রক্ত গড়িয়ে পড়লো,,যা পানিতে যেএ মিলে গেলো,,পানি মূহুর্তেই লাল বর্ন ধারান করলো,,,
নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,, মুখটা কিছুটা হা হয়ে গেলো,,বিরবির করে বললো
_আ,,আমি মরতে চ,,চাই না,,
নুবা ওখানেই লুটিয়ে পড়লো,,,পানির ভিতরে যেএ তার শরীর টা দুই বার দোলা খেএ থেমে গেলো,,, আরহাম সেদিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,,
সকালের আলো ফুটেছে, আকাশ জুড়ে নরম সোনালি রঙ ছড়িয়ে পড়েছে। বাতাসে ভেসে আসছে ভেজা মাটির গন্ধ, যেন নতুন দিনের ডাক। গাছের পাতায় শিশিরবিন্দু ঝিলমিল করছে হালকা রোদে। দূরে পাখিরা ডানা মেলে ডেকে উঠছে একে একে।
আজ গায়েও যেন এক অদ্ভুত হলুদ আভা লেগে আছে, যেন সূর্যেরই ছোঁয়া শরীরে এসে পড়েছে। এই সকালটা নতুন কোনো গল্প শুরু করার মতো শান্ত আর সুন্দর লাগছে,,গায়ে হলুদের আমেজো বেশ মেতে উঠেছে,,,
আয়ারা আপন মনে বুকের দুধ আহরন করছে,,, আরহাম সামনে চেয়ার টেনে বসে আছে,,,আর ঘুমন্ত নুবার পাশে আমিনা বেগম,,,
হাজেরা রুম থেকে বেড় হয়েছে ভোরে ,কারণ আজ কাজ বেশি,,বাড়িতে হৈ হুল্লোড়,, হলুদ মেহেদী সব কাচা বেটে রাখার জন্য ভোরে সবকিছু সংগ্রহ করতে যাওয়া হয়েছে
নুবা আয়রার মুখে চকচ শব্দে শুনে টিপটিপ করে আশে পাশে তাকালো,,, পরপরই চোখ খুলে কিছু সময় চেয়ে থাকার পর নুবার রাতের সকল কথা মনে পড়ে গেলো,,,নুবা কোনো দিকে না তাকিয়ে ফাল দিয়ে উঠে বসলো,,
আমিনা বেগম বিচলিত হয়ে নুবরা ড্রেস ঠিক করে দিলো,,,নুবা দুই হাত গলায় হাতাতে লাগলো,, পরপরই ফাল দিয়ে নেমে রুমে লাগানো আয়নার সামনে যেএ গলা চেক করলো,,, অনেক খন পর গলা হাতিয়ে দেখলো তার কিছু হয়নি,,নুবা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো,, দৌড় যেএ আমিনা বেগম করে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,,,গদগদ করে বললো
_ চাচি আমি মিরিন বেঁচে আছি,,,আমি বেঁচে আছি ইয়া হু,,আমি বেঁচে থাকতে আছি,,আমি বেচে আছি,,
নুবা বেঁচে আছে এই নিয়ে মন্ত্র পড়তে লাগলো মনে হয়,,,
পরপরই নুবা আমিনা বেগমকে ছেড়ে তার দুই বাহু চেপে ধরে ঝাকুনি দিয়ে বললো
_ জানো চাচি কালকে আমি অনেক ভয়ংকর একটা স্বপ্ন দেখছি,,দেখি তোমার ছেলে আমার গলা কেটে ফেলেছে,,আমি মরে গেছি,,,
বলেই নুবা হাত দিয়ে একটিং করে দেখালো কিভাবে মেরেছিলো,,হাত পা কিভাবে বেধেছিলো,, অতঃপর ডান হাত সোজা করে গলা কাটার মতো করে দেখালো,, পরপরই মুখ দিয়ে জিভ বেড় করে কিছু সময় ওভাবেই থাকলো,,
আমিনা বেগম চোখের পলক ফেলে পাশ থেকে ওরনা নুবার গলায় ঝুলিয়ে দিলো,,,নুবা বিরবির করে বললো
_ জানো আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম,, ভেবেছিলাম সত্যি,,,আমি মরে গেছি আমার এতো কষ্ট হচ্ছিলো,,,
আমিনা বেগম জোরপূর্বক হেঁসে নুবার ওরনা মাথায় দিতে দিতে বললো
_ স্বপ্ন না সত্যিই ছিলো,,,
নুবার হাসি মুখটা সঙ্গে সঙ্গে চুপসে গেলো আমিনা বেগম নুবাকে ইশারা করে ড্রেসের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ভিজে গেছিলো পাল্টে দিয়েছি,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,দুটো ফাল দিয়ে আমিনা বেগম থেমে দূরে সরতেই দেখলো আরহাম চেয়ারের উপর পায়ে পা তুলে ঘাড় কাত করে তার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
নুবা চোখ মুখ কাচলে পড়ে গেলো,,সে আবারো দুই হাত গলায় রাখলো,,তবে কিছুই পেলো না,,,নুবা একবার আরহামের দিকে তো একবার আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_তো,,, তোমার,,, তুমি তুমি কি বলছো সত্যি মানে,,, তু,,তুমিও কি ছেলের সাথে যুক্ত নাকি,,, আমাকে মারার চেষ্টা করেছো,,,,
নুবা অনেক ভয় পেলো আস্তে আস্তে পিছাতে লাগলো,,,তার কাছে মনে হচ্ছে এরা দুটো মিলে তাকে বগার পরা পাঠানোর চেষ্টা করেছিলো,,,
আমিনা বেগম নুবাকে হাত টেনে এনে বিছানায় বসালেন,,নুবা বড়বড় চোখ করে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,
আমিনা বেগম আয়রাকে নুবার কোলে দিতে দিতে বললো
_ বস,,সকালের নাস্তা আর ওষুধ নিয়ে আসি,,,
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,,,নুবার আড় চোখে এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো,,,আবারো এক হাত গলায় রাখলো,,,এখনো তার মাথায় কিছু ডুকছে না,,
আরহাম উঠে দাড়িয়ে পড়নের শার্ট ঝাড়া দিলো নুবা চম্কে উঠলো,,, আরহাম নুবার দিকে এগিয়ে আসলো,,,নুবা চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে রইলো,,, আরহাম এসেই নুবার দিকে ঝুঁকে গেলো নুবা ভয়ে পিছিয়ে গেলো,,,
আরহাম নুবার চুলের খোঁপা আতলো করে ধরে নিজের মুখ বরাবর নিয়ে আসলো,,,নুবা ভয়ে কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না,, আরহাম আস্তে করে নুবার কানের কাছে যেএ ফিসফিস করে বললো
_ এবারের মতো ছেড়ে দিয়েছি next time চেঁচিয়ে কথা বললে বা আমার মেয়ের প্রতি কোনো রকম অনিহা করলে পরের দিনের সূর্য দেখার মতো কপাল আর হবে না মিস নুবাইরা রহমান,,,
বলেই আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিলো,,সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো
_ নেন,,,কাল থেকে আয়রা কিছু মুখে নেয়,,একটু তার খেলায় রাখেন,,,যাতে কান্না না করে,,,
বলেই আরহাম সোজা হাঁটা দিলো,,নুবা আরহামের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো,,তখনি খেয়াল করলো আরহামের এক হাতে ব্যান্ডেজ,,তবে নুবা খেয়াল করলো না তার মাথা ঘুরছে এটা ভেবে যে রাতের সব ঘটনা সত্য ছিলো,,,
নুবার চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে পানি পড়ছে,,,আমিনা বেগম নুবাকে গালে ভাত তুলে দিচ্ছে,, আয়রা বুকের দুধ টানছে,,,তবে বেচারি এতোটাই ভয় পেয়েছে যে খেতে খেতে কাঁদছে,,,
আমিনা বেগম এই দেখে বললো
_ তাড়াতাড়ি খা কাজ আছে আমার,,,
নুবা বাম হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে বললো
_ তুমি সব জানতে তোমার ছেলে যে আমাকে মারতে চাইছিলো
_ আগে খা পরে বলবো
_ না আগে বলো,, আমার কিছুই মাথায় ডুকছে না,, তোমার ছেলের কি মাথার তার ছিরা,,,
_ যখন অজ্ঞান হয়ে গেছিলি তখন অর্ধ রাতে আমাকে ডেকে তার পর __
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ কি,, তুমি সব জানো,, তোমার ছেলেকে কিছু বলবে না তুমি,,
_ আগে আমার কথা টা শুন,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আগে থেকে কিছুই জানতাম না,,যখন তুই অজ্ঞান হয়ে গেছিলি তখন আমাকে যেএ ডেকে আনলো,,আমি তো প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না,,
আরহাম মাথা চুলকে নাক ঘষে বললো
_ আমার রুমে চলো,,,নুবা সেন্স হারিয়ে ফেলেছে,,
অর্ধ রাতে ছেলের মুখে এমন কথা শুনে আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,,চোখ বড়বড় করে বললো
_ কি,,এই অর্ধ রাতে ও তোর রুমে কি করছে,,আর জ্ঞান হারালো কি করে,,,
আরহাম ক্লান্ত চোখে মায়ের দিকে তাকালো,,, আরহামের চোখ দেখে আমিনা বেগম ঠাস ঠাস করে ছেলের গালে দুটো চর মারলো,,,রুমের দরজা চাপিয়ে দিলো,,যাতে হারুন মির্জা টের না পায়,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে মেরে রাগি কন্ঠে বললো
_ এই জানোয়ার,, নেশা করেছিস,,,
আরহাম বাচ্চাদের মতো মাথা ঝুকালো,,,আমিনা বেগম কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না,,, পরপরই ছেলের সাথে আরো দুটো থাপ্পর মেরে বললো
_ নুবার সাথে কি করেছিস,,, হ্যাঁ,,, সত্যি সত্যি বল
আরহাম রুমের দিকে যেতে যেতে বললো
_ just হাত পা বেঁধে পানিতে ফেলে রেখেছি,,
আমিনা বেগমের মাথা ঘুরে উঠলো,,নেশার ঘড়ে উল্টা পাল্টা কিছু যদি করে ফেলে সে নিজেকে কি করে মাফ করবে,,
আরহামের আগে আমিনা বেগম দৌড়ে রুমে গেলো,,,রুমে নুবাকে না পেয়ে আরহাম রুমে আসতেই বিচলিত হয়ে বললো
_ নুবা কই,,
_ওয়াশরুমে,,,
আমিনা বেগম ছুটে ওয়াশ রুমে গেলেন,,,যেএ দেখলেন নুবার নরম দেহটা পানি পানি হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছে,,হাত পা বাঁধা,,
আমিনা মুখ হাত চেপে ধরলো,,,পাশ থেকে গোসলের মগ উঠিয়ে ছেলের উন্মুক্ত পিঠে দুটো বারি দিয়ে বললেন
_ কিছু করেছিস ওর সাথে হ্যাঁ,,,
আরহাম ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো
_ উফ্ আগেই তো বলেছি ওর উপর আমার কোনো intrastd নেই তুমি বুঝো না নাকি,,
_ জানোয়ারের বাচ্চা তাইলে এই অবস্থা কেন,,
পরপরই রেগে বলে উঠলো
_ আমার মেয়েকে নিয়ে উল্টা পাল্টা বলছে তাই এই অবস্থা,,,(অতঃপর আরহাম নুবা তার মেয়েকে বিরক্তিকর বলেছে এই সব সকল কথা খুলে বললো)
আমিনা বেগম নিজের চুল টেনে ধরলেন হিসফিস করে বললেন
_কখন নিয়ে আছিস ওকে
_ দেরটার দিকে,,,
_ কেউ দেখেনিতো,,ওর মা কোথায় ছিলো,,
_ ঘুমিয়ে ছিলো,,দরজা ভেটকাইয়া শুয়ে ছিলো তাই সুযোগ পেয়েছি আমি ছেড়ে দিবো নাকি,,,
আমিনা বেগম ইচ্ছে হলো ছেলেকে আরো দুটো দিতে তবে দিয়ে লাভ হবে না বরং উল্টো রিয়াকশন করবে,,
_ সামান্য কথার জন্য মেয়েকে এভাবে বেঁধে পানিতে চুবাবি হায় আল্লাহ,, জ্ঞান বুদ্ধি মাথায় আছে নাকি ইচ্ছে করে এমন করিস,, আল্লাহ আমাকে উঠিয়ে নেও,,,আর সহ্য হচ্ছে না,,বাড়িরে আসার পরে একটা রাতো আমাকে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়নি,, আল্লাহ,,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ ওকে উঠাও না হলে সত্যিই পরপারে চলে যাবে,,ভয় পেয়েছে,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে তের এসে বললো
_ খা,,,নির পোলা,(বেশ টেনে বললো),ভয় পাবে না,,, অর্ধ রাতে এনে এভাবে ভয় দেখালে ভয় পাবে না,,,
আরহাম এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বিছানায় যেএ শুয়ে পড়লো নেশা কথায় প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে,,,তার,,,
আমিনা বেগম কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না,, তাড়াতাড়ি নুবার হাত পা খুলে দিলো,,,নাকের কাছে হাত নিয়ে দেখলো নিঃশ্বাস চলছে,,, দৌড়ে যেএ নিজের রুম থেকে একটা থ্রিপিস নিয়ে আসলো,,নুবার গায়ে দু মগ পানি ডেলে ড্রেস চেঞ্জ করে দিলো,,, পরপরই আরহামকে ডাক দিলো,,,তবে আরহাম শুয়ে আছে,,,
আমিনা বেগম নুবাকে টেনে ওয়াশ রুম থেকে বেড় করতে করতে বললো
_ শু য়ো রের বাচ্চা,,গু গবর খেএ কেলিয়ে পড়েছে,,উঠবি নাকি,,আমি ওকে একা পারি,,,
আরহাম মুখ দিয়ে চ উচ্চারণ করে উঠে বসলো,,,মায়ের কাছে এগিয়ে গেলো,,নুবাকে বাচ্চাদের মতো কোলে করে বিছানায় শুয়ালো,,,
আমিনা বেগম ব্যস্ত কন্ঠে বললেন
_ হেয়ার ড্রায়ার নিয়ে আয়,, তাড়াতাড়ি চুল শুকাতে হবে না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে,,,
আমিনা বেগম নুবার চুল শুকাতে লাগলো,,, এদিকে আয়রা দুই তিন বার মুতু করার ফলে তার ক্ষুধা লেগে গেলো,,সে ক্ষুত ক্ষুত করে উঠলো,,,
আমিনা বেগম নুবাকে কাত করে আয়রাকে বুকের দুধ দিলো,, এদিকে আরহাম অনেক আগেই উল্টো হয়ে শুয়ে পড়েছে,,,
আমিনা বেগম কপাল চাপড়ালো,,মা হয়ে ছেলের এরকম অপরাধের অংশ হচ্ছে ছি ছি,,
অতঃপর ৩০ ঘন্টার ভিতরে আয়রা আবারো ঘুমিয়ে পড়লো,,,আমিনা বেগম নুবাকে টেনে উঠাতে উঠাতে বললো
_ আরহাম,,উঠবি না তুই,,ওকে রুমে রেখে আসতে সাহায্য কর,,, আরহাম,,,
আরহাম নড়েচড়ে উঠলো,,,আমিনা বেগমের ইচ্ছে করলো আরহামকে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দিতে,,,
আরহাম উঠে বসলো,,,নুবাকে এক হাত দিয়ে কাঁধে তুলে হাঁটা দিলো,, এদিকে আমিনা বেগমের ভয়ই করছে,,ছেলে তার নেশা গ্রস্থ যদি নুবাকে নিয়ে উল্টে পড়ে গেলো,,,তবে এমন কিছুই হলো না,,,
শেষ পর্যন্ত দুই মা পোলা সফল ভাবে নুবাকে রুমে রেখে আসতে পারলো,,,
নুবাদের রুম থেকে বেড় হয়েই আমিনা বেগম পা থেকে স্লিপার খুলে আরহামকে দুখ ঘা দিয়ে বললো
_ নেশা করেছিস কোন সাহসে,,, বাচ্চাটার কথাও ভাবলি না,,নেশা করেছিস কেন,,,রুমে চল,,কোথায় কোথায় এই গু গবর ভরে রেখেছিস দেখাবি,,,
আমিনা বেগমের মাঝে মাঝে লজ্জা হয় ৩০/৩২ বছরের ছেলের গায়ে হাত তুলতে,,তবে কি আর করবে অমানুষ হয়ে গেছে,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে টেনে রুমে নিয়ে গেলো,,, আরহাম মায়ের কথা বাচ্চাদের মতো পালন করলো,,,যা যা সে সাথে করে এনেছিলো সব মায়ের হাতে ধরিয়ে দিলো,,
আমিনা বেগম এই সব দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,,, আরহাম বিছান যেতে যেতে বললো
_ মাথা যন্ত্রনা করলে একটু দিও mom না হলে বাঁচবো না,,,
আমিনা বেগম জুতা খুলে ছেলের দিকে ছুরে মেরে বললো
_ আগে ঘুমা তুই,,,
নুবা টিপটিপ করে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে আঙ্গুল নাড়িয়ে বললো
_ oh ho,,দুই জন মিলিত,,, আল্লাহ,,,সবি ঠিক আছে কিন্তু আমি স্পস্ট রক্ত দেখছিলাম,, আমার গলা থেকে পড়ছে ওটার কি,,, হ্যাঁ মিথ্যা বলছো না তো
আমিনা নুবার কান টেনে বললো
_ তোর চেচানিতে হয়তোবা প্রচন্ড রাগ হয়েছিলো ওর,,জেদ চেপে রাখতে না পেরে নিজের হাতের তালু কেটেছিলো,,আর ওই রক্তাক্ত চাকু দিয়েই তোর গালায় ছুইয়েছিলো,,, তুই এতোটাই ভয় পেয়েছিলি যে ভেবেছিলি তোর গলা কেটে গেছে,,,তার পর কি হয়েছে জানিসিতো
নুবা এক হাত দিয়ে নিজের গলা ধরে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৪
_ তুমি এমন ভাবে বলছো যেনো এটা কোনো সামান্য ব্যপার,,, তোমার ছেলে আমাকে মারার চেষ্টা করেছিলো,,,চাচিইইইইই,,,বুঝার চেষ্টা করো তুমি বিষয় টাকে এতো স্বাভাবিক নিতে পারো না,,,তুমিও উনার সাথে সায় দিয়েছো,, আল্লাহ,,কেন কেন,,
আমিনা বেগম হুট করে কেদে উঠলেন,,চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,বিরবির করে বললেন
_ আরহাম আমার অনেক সাধনার,,,জানিস ওর মতো আমি আমার ছোটো দুই সন্তানে আগলে রাখতে পারিনি,,ওকে আমি যতটুকু ভালোবাসি তা হিসাব দেওয়া যাবে না,,,
