Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন

হাজেরা মাথা নিচু করে বললো
_ মেয়েটা আছে,,,কারো বাড়িতে একবারে থেকে কাজ করা সম্ভব নয়,,আর তেমন করতে চাইলে ও ওই বাড়িতেই থেকে যেতাম,,থেকে কাজ করলে যেই কদু সেই লাউ,,,
তাসনিন কিছু সময় ভেবে বললো
_ তাহলে একটা কাজ করো নুবাকে বিয়ে দিয়ে দেও,, তুমি বললে আমার কাছে ভালো সমন্ধ আছে,,,নুবা সুখে থাকবে,,,
_ না,,এখন মেয়েটাকে বিয়ে দিবো না,,, গার্মেন্টসের কাজ কেমন হবে তাসনিন,,,সেটা বলো,,,
তাসনিন কিছু সময় ভেবে বললো

_ খারাপ হয় না তবে তুমি করতে পারবে না কারণ এখান থেকে যাতায়াতের ভারা তোমার ইনকাম থেকে বেশি হবে,,তার উপর তুমি যদি মেইন ঢাকার দিকে রুম ভারা নিয়ে থেকে করো তবে ছোট্ট একটা রুমের ভারাই অন্ততপক্ষে কম হলেও ৬/৭ হাজার চাইবে,,,তার থেকে বড় কথা হচ্ছে গার্মেন্টসে গেলেই তো আর কাজ দিবে না তাই না,,, তোমার বয়সও কম না যে কোনো কাপড়ের দোকানে বা রেস্টুরেন্টে কাজ নিবে,,,
হাজেরা কপালে হাত দিয়ে চুপ রইলো,,,সে আগে ভাবেনি মাথার উপর ছায়া ব্যতিত চলা এতো কঠিন,,
তাসনিন থেমে আবারো বললো
_ আর আজকাল যা দিন,,কেউ কাউকে বিশ্বাস করে কাজ দিতে চায় না,, বিশেষ করে মহিলাদের,,এর থেকে ভালো কিছু পুঁজি নিয়ে তুমি নিজের একটা কিছু শুধু করো,,কাপড় বেঁচা বা কোনো দোকান দেও,,
আইডিয়াটা ভালো হলেও হাজেরা পারবে না,,সে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হ্যাঁ তবে নিজের একটা ব্যবসা শুরু করতে হলে অন্ততপক্ষে কম হলেও ১০ হাজার নিয়ে নামতে হবে,,,আর এখনকার সময় ১০ হাজার হাতের ময়লা জিনিস পাতির যেই দাম,,,তার থেকে বড় কথা আমাকে ১০ হাজার দিবে কে,,,

তাসনিন গলা শুকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,,সেটাই তো,,আমি না হয় দিতাম,,তবে দিন কাল বেশি ভালো যাচ্ছে না,,, তোমার ভাই অসুস্থ,, আমার বড় ছেলের কাজ কাম নেই,,,যাক গ্গে তা তুমি তোমার আত্মীয় স্বজনদের কাউকে দিতে বলো,,,
হাজেরা তাসনিনের কথায় হেসে বললো
_ আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার ভয়ে যেই আত্মীয় স্বজন নুবার বাবার মরা মুখটাও দেখতে আসেনি তারা করবে সাহায্য,, আমার স্বামীকে একবার চোখের দেখাও কেউ দেখেনি যদি ঋন চেয়ে বসি,,,যদি তাদের ঘাড়ে চেপে বসি,,কেউ আমার বাচ্চাটার কথা ভাবেনি,, তুমি তো জানো নুবার বাবার সাথে পালিয়ে এসেছিলাম,,,তাই আমার পরিবারো আমাকে দেখেনি,,, ওমন সময় মির্জা পরিবারি আমাদের হাল ধরেছিলেন,,কেউ এগিয়ে আসেনি,,,আর আজ ১০/১৫ বছর পর কে কোথায় আছে তাও জানি না,,, আমার স্বামীর খাটিয়া পর্যন্ত পারা প্রতিবেশী বহন করেছে,,,
বলতে বলতে হাজেরার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,পড়নে থাকা বোরকার উপর ওরনা দিয়ে চোখের পানি মুছে বললো,,

_ বলে না অভাগী যেখানে যায় নদীও শুকিয়ে যায় কিছুটা এমন,,, আচ্ছা আজ উঠি যেএ দেখি কোথাও ঘড় পাই কিনা,,,
বলেই হাজেরা উঠে দাঁড়ালো,,,তাসনিন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,
_ থাক,,যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছে ধৈর্য ধরো,,,
_ হ্যাঁ,,তা তো জানিই,,,যাক তুমি যে আমাকে এতো বছর পর মনে রেখেছো এটাই অনেক,,,
_ ভুলে কি করে এক সময় এক সাথে কত গল্প করেছি,,, আচ্ছা যাই হোক আজ থাকতে বল্লাম না যেহেতু মেয়েকে রেখে আসছো পরের বার নুবাকে নিয়ে এসো,, কয়দিন বেড়িয়ে যেও,,,
_ ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকলে,,, আল্লাহ হাফেজ
হাজেরা গেট পার করতেই তাসনিন বলে উঠলো
_ নুবার বিয়া টিয়া দিলে আমাকে বলিও ভালো পাত্র আছে,,,
হাজেরা শুধু হাসলো,,, অতঃপর চলে গেলো,,,সে যেতেই তাসনিন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ বাপরে বাপ বাঁচলাম,,, আমার বাড়িতেই উঠতে হয়েছিলো,,
বলতে বলতে তাসনিন ভিতরে প্রবেশ করে লিভিং রুম পর্যন্ত পৌঁছাতেই তাসনিনেন ছোট ছেলে তৌসিফ রুম থেকে বেড় হয়ে বললো

_ ওটা কি হাজেরা আন্টি ছিলো
_ হ্যাঁ,,,
_ অনেক বছর পর যে,,
তাসনিন বিরক্তি নিয়ে বললো
_ আর বলিস না,,আসছিলো কাজ আর ঘড় খুঁজতে,,১০/১৫ বছর মির্জা বাড়িতে থাকলো এখন নিশ্চয়ই কোনো আকাম কুকাম করছে তাই বাড়ি থেকে বেড় করে দিছে,,এখন এখানে ওখানে ঠোকর খাচ্ছে,,
তৌসিফ বিরক্ত হয়ে বললো
_ উফ্ মা তুমিও না,,না জেনে কথা বলো,,,হয়েছে হয়তোবা কোনো সমস্যা,,,
_ হ্যাঁ তুই তো বেশিই জানিস,,,যা রুমে যা যতসব ফালতু ঝামেলা,,,
তৌসিফ আস্তে করে রুমে চলে গেলো,,পরপর তার অতীতের কিছু কথা মনে পড়লো,,,নুবার কথা,, পাশাপাশি বাড়ি ছিলো তাদের,,,পাশের বাড়ির টিন সেট(উপরে দিন চারপাশে পাশে দেওয়াল) থাকতো,,,তখন তৌসিফ high school এ পড়ে,,নুবার সাথে তার আলাপ ছিলো বেশ ভালো,,, কারণ নুবা ছোটো হলেও খেলা ধুলায় পটু ছিলো,,তারা যখন সামনের মাঠে খেলতো তখন তৌসিফ চিটিং করে নুবাকে নিজের দলে নিতো,, কারণ এটাই নুবা ইতর আর পটু ছিলো,,,এক নাম্বারে ধান্দা বাচ,,সবার থেকে ছোটো থাকায় কেউ কিছু বললেই কেঁদে উঠতো আর চিটিং করে খেলায় জিতে যেতো,,,তাই তৌসিফ নুবাকে সবসময় নিজের দলে নিতো,,,
পুরানো কথা মনে পড়তেই তৌসিফ মুচকি হাসলো,,,কত বছর হলে মেয়েটাকে দেখে না,,, অবশ্য মাঝে মাঝে আগে দেখতো তবে ইদানিং তাও বন্ধ হয়ে গেছে,,কাজের ব্যস্ততায় ছোট বেলার দুষ্টু নুবাকে ভুলেই গেছে,,,সে জানতো না হাজেরা এসেছে না হলে নিশ্চয়ই দেখা করতো,,,

নুবা এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে তার গালে নক ছুঁইয়ে বললো
_ আপনার পাপা আসলেই পাগল নাকি পাগল হওয়ার অভিনয় করে সেটাই বুঝতে পারছি না আরু,, আজকে কি করেছে জানো,, আজকে ____
বলতে বলতে থামলো নুবা,,একটু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ থাক তোমার শুনতে হবে না,,এই সব পঁচা কথা বলা ঠিক না,,, তোমার পাপার মতো আমি মুখ কাটা না,,বা পাগল না যে বলবো বুঝলে,, কিন্তু তোমার পাপাকে তুমি সাবধান করে দিবা যাতে সে আন্টিকে ডিস্টার্ব না করে,,,বুঝলা,,,
আরয়া উত্তর দেয় না,,তবে মুখ দিয়ে চকচক শব্দ করে,,,আয়ারকে তার কথা শুনে তার দিকে তাকাতে না দেখে নুবা আয়ারার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে বললো

_ পঁচা মেয়ে কথা বলছো না কেন
আসলে ফিড করানোর সময় নুবা যখনি কথা বলে তখন আয়রা খেতে খেতে হাসে বা,,মাথা উল্টে,,চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে,,এতেই যেনো নুবা বুঝতে পারে আয়ারা তার সাথে রেসপন্স করছে,,তবে এখন একটুও নড়চড় করলো না,,যেনো কথা গুলো উপেক্ষা করলো সে,,
নুবা আয়ারার কাছ থেকে সরে যেতেই আয়ারা ঠোঁট ফুলালো,,,নুবা ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো আর বললো
_ এবার লাইনে আসছেন আরু,,এবার বলেন পাপাকে শাসন করবেন কিনা,,, আপনার পাপা বড্ড দুষ্টু,, কিন্তু কেমন জানি আপনার মতো নিষ্পাপ,,,আপনি একটু বড় হলে তাকে সব বুঝিয়ে দিবেন ঠিক আছে,, আপনার দাদুর মতো তাকে আগলে রাখবেন
বলতে বলতে নুবা আয়রার দুই পা এক সাথে করে তাতে হাপ্পা(চুমু) দিলো,,,আয়রা কাঁদতে কাঁদতে হাসলো,,নুবার দুষ্টামি তার ভীষণ প্রিয়,,,

এদিকে নুবা আর আয়রার কথাপোকথন বাইরে থেকে আরহাম মনযোগ সহকারে শুনলো,,সে এখানে ছিলো,,এটা তার জন্মগত অভ্যাস মনে হয়,, লুকিয়ে লুকিয়ে কারো কথা শুনা,,
সত্যি কথা বলতে তার মেয়েকে রেখে মন টিকছিলো না তাই চলে এসেছে,,তবে রুমে ডুকরা দুঃসাহস করেনি,,, আরহাম এতটুকু ভেবেই হাসলো তার মেয়ের কাছে তার নামেই বিচার দিচ্ছে,,শাসন করতে বলছে,,,আরহামের কাছে বিষয়টা অনেকটা uncommon লাগলো সাথে খুবি মাজাদার,,, আরহাম না চাইতেও হাসলো,,

হাজেরা বারবার নিরাশ হচ্ছে,,আজ সে অনুভব করছে এই সমাজে একা বেঁচে থাকা কতটা কঠিন,,,আর টাকা এই জিনিসটা কতটা মূল্যবান,,
_ হ্যাঁ,,না মানে জন্মদিন বন্ধন আছে কিন্তু ভোটার আইডি তো নেই,,
বাড়ি ওয়ালা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ দেখুন আপা আমারা যাকে তাকে ভারা দিতে পারবো না,,, আপনার পরিচয় দরকার আপনি কে কোথা থেকে আসছেন,,আর সবকিছু ঠিক থাকলে অন্ততপক্ষে ২/৩ মাসের ঘব ভারা এডভান্স দিতে হবে,,
হাজেরা নিরাশ হয়ে বললো
_ থাক আপা,, কষ্ট করারর জন্য ধন্যবাদ,,,আসি,,
হাজেরা বাড়ি থেকে বেড় হতেই মহিলা মেইন গেট লাগিয়ে দিয়ে বিরবির করে বললো
_ আজকাল কোথা থেকে ঘড় ভারা চাইছে আসে আল্লাহই জানে,,পরে বাড়িতে ডুকে ডাকাতি করার ধান্দা,,,
হাজেরা অন্য দিকে এগিয়ে গেলো,,বাড়ির বাইরে ঘড় ভারা দিবে ট্রুলেট লাগালো,,,তবে সেই নাম্বারে যে কল দিবে সেই টাকাও মোবাইলে নেই,,
হাজেরা এক বাড়ি রেখে আর এক বাড়ি ঘুরতে লাগলো,,, কিন্তু কোথাও মিললো না,,

কোথাও সব ঠিক হলেও ঘড় ভাড়া বেশি,কোথাও আবার পরিচয় পত্র ব্যতিত ভাড়া দিবে না,,,আবার বাড়িতে ডুকার আগেই ৪/৫ হাজার এডভান্স চায়,,
অনেক খোঁজার পর হাজেরা একটা বাড়ির উঠে যেএ দাঁড়ালো,,পরপর ঘড় ভারার কথা বললো
মহিলাটা হাজেরা পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বললো
_ কে কে থাবেন
হাজেরা হাঁপিয়ে উঠা কন্ঠে বললো
_ আপা এক গ্লাস পানি হবে,,,তার পর না হয় বলি
মহিলা এক গ্লাস পানি এনে দিলো,,হাজেরা পানি টুকু খেএ নিঃশ্বাস ছাড়ার আগেই মহিলা বললো
_ কে কে থাকবেন,,আসলে আমাদের গেদারিং পছন্দ না,,,তাই ২/৩ বাচ্চা ওয়ালা পরিবার ভাড়া দিবো না,,
হাজেরা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমার ছোট্ট একটা পরিবার আপা,,আমি আর আমার মেয়ে,,,,
মহিলা একটু খুশি হয়ে বললেন
_ ও মাত্র তিন জন,,

_ না না দুই জন,, আমি আর আমার বড় একটা মেয়ে আছে,, আমার স্বামী মারা গেছে
কথাটা শুনে মহিলার মুখ কালো হয়ে আসলো,,, শুধু মহিলা ভারা দিবে,,কোন আকাম কুকাম করে বসে,,আজকাল তো এভাবে রোজকার করে মানুষ,,,বলা তো যায় না কার মনে কি,,,
মহিলা মুখ কালো করে পাংশুটে মুখে বললো
_ না না,,,ঘড় ভারা দিবো না,,,
হাজেরা মলিন কন্ঠে বললো
_ মাসে মাসে ঘব ভারা দিয়ে দিবো আপা
_ না গো,,ময়নার বাপে বলছে যেমন তেমন পরিবার না দিতে,,আর আপনার তো জামাই নাই অন্য দিকে যান,,,
হাজেরা আর কথা বাড়ালো না,, চুপচাপ সরে গেলো,,, মানুষ আর মানুষ নেই,,বলে না এক জনের জন্য ১০ জনের নাম হয় তেমনি
হাজেরা যেতেই মহিলা পাশের ঘড়ের ভারাটিয়াকে বললো

_ আর বইলেন না ভাবি,, এরকম বেডি মানুষ বাড়িতে ডুকালেই পাপ,,এদের স্বভাব ভালো না,,,
বলতে বলতে আঙ্গুলে লেগে থাকা চুন মুখে দিলো,,
হাজেরা খুঁজতে খুঁজতে আর এক বাড়িতে যেএ উঠলো সেখানেও একি কাহিনি এডভান্স দেও,, পরিচয় পত্র,,আর গ্ৰামের বাড়ি কই কত প্রশ্ন,,,
এক পর্যায়ে হাজেরা ক্লান্ত হয়ে রাস্তার পাশে বসে পড়লো। চোখের পাতা ভিজে উঠেছে তার, বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টগুলো যেন আর ধরে রাখতে পারছে না। চারপাশে মানুষ আছে, অথচ তার দুঃখ দেখার মতো কেউ নেই,,,
অসহায় মানুষের পাশে কেউ থাকে না. আজকাল সবকিছুই টাকার কাছে হেরে যায়,,,তার কাঁপা চোখ দুটো দূরের আকাশে স্থির হয়ে রইলো,, মনে হলো, পৃথিবীতে ভালোবাসার চেয়েও টাকার মূল্য বেশি হয়ে গেছে,,যাদের হাতে অর্থ আছে,বাড়ি আছে,,তাদের চারপাশে মানুষ ভিড় করে,,আর গরিবের কান্না বাতাসে মিলিয়ে যায়,,বুকভরা হতাশা নিয়ে হাজেরা চোখের জল মুছে আবার উঠে দাঁড়ালো, কারণ ভেঙে পড়ার সুযোগও তার নেই,

হাজেরা হাঁটতে হাঁটতে ভাবলো আজ যদি তার মাথা গুজার একটা ঠাই থাকতো তার আত্মীয় স্বজন তার পাশে থাকতো তবে আজ কেউ তার আর তার মেয়ের উপর আঙ্গুল তুলতো না
অন্ততপক্ষে একটু জাগা সম্পত্তি থাকলেও বলতে পারলো
হ্যাঁ ওখানে আমার বাড়ি,,,বলতে পারতো তারা স্থানী লোক,,যে কেউ ঘড় ভারা দিতো,,তবে আজ নিজের স্থানীয় পরিচয় নেই দেখে এই অবস্থা,,,আর টাকা এই দুটো জিনিস খুবি প্রয়জন,,, একজন স্বামী ছাড়া স্ত্রী,,আর বাপ ছাড়া মেয়েই জানে এই সমাজ কেমন,,
ঠিক বিকাল দিকে হাজেরা বাড়ি ফিরলো,,একদম ক্লান্ত সে,,না আছে টাকা,,না আএ মাথা গুজার ঠাই,,

নুবা শুয়ে ছিলো তবে তার মায়ের ক্লান্ত মুখ দেখে উঠে বসলো,, সারাদিনে খাওয়া দাওয়া নেই কি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে,,,
হাজেরা এসে বোরকা খুলে আগে পানি খেলো,,নুবা উঠে বসে বললো
_ কি হলো মা,,কোনো ঘড় পেয়েছো
হাজেরা বিছানায় বসে ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ,,,তাও অনেক কষ্টে,,বেশি ভালো না ,,ভারা ১৭ শো,,, কারেন্ট বিল সহ ২৫০০ পড়ে যাবে,, বস্তির মতো মানে কিছুই ঠিক নেই,,,,থাকতে পারবি তো,,,
নুবা মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ তুমি থাকতে পারলে আমি কেন পারবো না,,,
হাজেরা বিছানায় আসাম করে বসে কাতর কন্ঠে বললো
_ কেউ ঘড় ভারা দিতে চায় না রে মা,, জিগ্গেস করে আগে কোথায় থাকতাম,,গ্ৰামের বাড়ি কই,,এডভান্স ৪/৫ হাজার চায়,,,পরিচয় পত্র চায়,,আরো কত কি,,,বুঝলি মা আজকাল মানুষকে মানুষ না চোর ডাকাত ভাবা হয়,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হেসে বললো
_ ভাববেই তো মা,,, কয়দিন পরপর খবরে যা দেখায়,,আসলে উনারা ঠিকি করেন,,তাদেরও তো জীবন,,,ভালো মানুসিকতা দেখাতে যেএ কত বাড়িওয়ালা প্রান হারায়,, কয়দিন আগে খবরে দেখলে না ঢাকার ওই দিকে ভারাটিয়া সেজে বাড়িওয়ালার ঘড় লুটে পুটে মেরে রেখে গেছে,,,তাই সবাই ভয় পায়,,আবশ্য এটাই স্বাভাবিক,,সবার প্রানের মায়া আছে,,,
হাজেরা মেয়ের কথায় ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ তার উপর মাথার উপর আমাদের ছাঁয়া নেই,,সব ঠিকঠাক যখনি বলি তোর বাপ নেই তখনি বাড়ি থেকে বিদায় করে দেয়,, একা চলতে গেলে জীবনটা বড়োই কঠিনরে মা,,,আজ যদি টাকা থাকতো শিক্ষিত হতাম তাহলে বড় কোনো বিল্ডিংএ যেএ কড়া নেড়ে ১০/২০ হাজার এডভান্স দিয়ে ঘড় নিতাম কিন্তু সেই সামর্থ্য বা যোগ্যতা আমাদের কি আছে,,,
মায়ের কথায় নুবার বুক ফেটে আসলো,,নুবা বিরবির করে বললো
_ আমি একটু সুস্থ হয়ে নি,,কলেজের পাশে একটা রেস্টুরেন্টে আছে ওখানে যেএ দেখবোনে,,, তুমি আর আমি একটু হাতে হাতে কাজ করলে দিব্ধি আমাদের জীবন চলে যাবে,,,
হাজেরা মেয়ের কথায় হেসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
_ আজ কাজো খুজেছিলাম তবে পাইনি,,, অন্ততপক্ষে টেনে টুনে,,ঘড় ভারা খাওয়া দাওয়া সহ জীবন চালতে ২০ টা হাজার প্রতি মাসে কম হলেও লাগবে,, কালকে কাজ খুঁজতে যাবো,,,হাতে কয়টা টাকা থাকলে নিজের হাতে কিছু শুরু করতাম কিন্তু নেই তো,,,ইনশাআল্লাহ আল্লাহ উপর ভরসা রাখি,,,
নুবা মায়ের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো

_ এই বাড়ির কারো থেকে নেও সুধিয়ে দিও,,
মেয়ের কথায় হাজেরা হেসে ফেলে বললো
_ আরে পাগলি,,তাদের ছেড়ে যাচ্ছি,,তাদের টাকা দিয়েই যদি বাইরের জীবনের শুরুটা করি তবে এই যাওয়ার ফাইদা কি,, সারাজীবন ভেবে যাবে আমাদের টাকা দিয়েই তারা বাইরে পা রেখেছে,,যাকে বলে যেই কদু সেই লাউ,,,যদি তাদের টা দিয়েই নিজের ব্যবসা শুরু করি তবে লাভ কি,,বল,,,আরো তাদের হাসির পাত্র হতে হবে,,,
নুবা মনযোগ দিয়ে ভেবে দেখলো আসলেই তো,,,তার মা ঠিকি বলেছে,,,
হাজেরা অতঃপর উত্তেজিত কন্ঠে বললো
_ জানিস না তো রে মা,আমরা যেখানে ভাড়া থাকতাম সেখানে কত বিল্ডিং উঠে গেছে,,তোর তাসনিন,,সাইফা,, ওদের কথা মনে____
পরপর হাজেরা মেয়ের সাথে গল্প জুরে দিলেন,,নুবা শুধু নিজের নিষ্পাপ মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো,,কি সুন্দর করে অন্যের উন্নতি দেখে খুশি হয়েছে,,পাড়া প্রতিবেশী বিল্ডিং তুলেছে এই নিয়ে সে অনেক আনন্দিত,,,তাকে সবাই মনে রেখছে এই নিয়ে সে কতটা সুখি,,,

নুবা হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছে,,আর একটি রাত পাড় হয়েছে,,তবে এমন কিছু হবে তার ধারনায় ছিলো না,,,হাজেরা বেগম পাশে বসে জামা কাপড় আস্তে আস্তে গুছাচ্ছে,,কারন ভালো একটা কাজ পেলেই চলে যাবে তাই আগে থেকে সব গুছিয়ে রাখছে,, আবার এই রুমে তার সংসারের কিছু জিনিস আছে সেগুলো নিয়ে যাবে,,যা তার তাই নিয়ে যাবে,,,
বাড়ির পাশের বড় বাগানে অবস্থান করছে হারুন মির্জা,,আমিনা বেগম,,ইশিতা,আরফ,,,আরশি, তানিয়া,আরহাম,,বাড়ির সকলে এখানে উপস্থিত দুই ব্যক্তি ব্যতিত,,নুবা,,হাজেরা,, অবশ্য তাদেরো ডাকা হয়েছিলো তবে তারা আসেনি
আরাফ আর ইশিতা চুপচাপ তাকিয়ে আছে,,আরফের কোনো অনূভুতি কাজ করছে না তবে ইশিতা বারবার কেঁপে উঠছে,,,আরফ স্ত্রীর এর অবস্থা দেখে বললো
_ রুমে যাও,,এখানে বসে এই সব নাটক দেখতে কে বলেছে
ইশিতা হতভম্ব হয়ে বললো
_ তোমার ভাইকে অমানুষের মতো মারা হচ্ছে আর তুমি,,,
_oh just shut up,,ও আমার কিসের ভাই,,কত জনম পর ওর সাথে দেখা,,বাদ দেও তুমি রুমে যাও,,,

আরহামকে বাগানের আম গাছের শক্ত মগ ডালে অর্ধ নগ্ন করে দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে,,, হারুন মির্জা একজন ন্যায়পরায়ণ সে কখনোই অবিচার করবে না,,তাও নুবার মতো অসহায় মেয়ের প্রতি,,অবশ্য এতে আরহাম নারাজ হয়নি,,না হলে হুরুন মির্জার মতো শ খানিক মানুষ আসলেই আরহাকে এখানে কেউ ঝুলাতে পারতো না
এদিকে আমিনা বেগম মুখে আঁচল গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন,,,,না কিছু বলতে পারছেন না সহ্য করতে,,আজ হারুন মির্জাকে থামাতে গেলে নির্ঘাত তাকেও ছেলের সাথে ঝুলিয়ে রাখবেন,,,
শাস্তি এমন হবে যেই অপরাধ দ্বিতীয় বার করার আগে কলিজা কেঁপে উঠলো তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে নয়,,
আরহামের পেশিবহুল শরীর রক্তাক্ত,, ঠোঁটের কোনা বেঁয়ে রক্ত পড়ছে,,মুখে গুরুতর ভাবে আঘাত করা হয়েছে,,,যার ফলে মুখের অবস্থাও ১২ টা বেজে গেছে,,,
চলা (কাঠ)‌ দিয়ে মারার ফলে বুক পেটে মাংশ ভেদ করে কাঠের টুকরো ডুকে গলগল করে রক্ত খনন হচ্ছে,,,আরহামের বড় বড় চুল গুলো ঘামে নুইয়ে পড়েছে,,তবে এমন বান্দা সে মুখ দিয়ে একটাও টু শব্দ বেড় করছে না,,যদি করতো এতো সময় হয়তোবা আমিনা বেগম কান্না করতে করতে জ্ঞান হারাতেন,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৮

আরায়াকে কোলে নিয়ে কান্নারত আরশি নুবাদের দুয়ারে প্রবেশ করলো,,,দেখা গেলো নুবা বিছানায় বসে আছে,, হাজেরা হয়তোবা ওয়াশরুমে,,
আরশি এসেই নুবার সামনে যেএ হু হু করে কেঁদে উঠলো কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ বাবা ভাইয়াকে অনেক মারছে নুবা,,,,আর কিছু সময় এরকম চললে ভাইয়া মরেই যাবে,, তুই একটু চল,,
নুবা হাঁটুতে মুখ গুঁজে অনুভূতি শূন্য হয়ে বললো
_ এতে আমার কি করার আপু,,
আরশি ডুকরে কেঁদে উঠলো,, হয়তোবা_

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here