Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫২
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ mom,,,,,
আমিনা বেগম হেসে বললেন
_যা না বাপ,, আমার লক্ষী বাপনা তুই,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা,,,

নুবা লিভিং রুমে ছিলো,,,পরির কাছে কিছু পড়া আবারো বুঝে নিচ্ছিলো এমন সময় আমিনা বেগম আরহামকে নিয়ে নিচে নামলেন,,,আর বললেন
_ চলো,,আরহাম তোমাকে দিয়ে আসবে,,
পরি উঠে দাঁড়ালো,কোলে তার আয়ারা,,নুবা মাথা তুলে তাকালো ঠোঁট বাঁকিয়ে গেলো তার,,মহিলা বেশ পটু ছেলের সাথে সেটিং করার চেষ্টা করছে,,তবু নুবা কিছু বললো না,,বই এর দিকে নজর দিলো,,,
কিন্তু যখনি ভাবলো পরি আয়ারকে হয়তোবা নিয়ে যাবে,,,তখনি তার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো সে ফট করে মাথা তুলে পরির দিকে তাকালো,,তার ভাবনা সত্যি হলো
আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললো
_ ওকে আমি রাখবোনে দেও ,,
আরহাম নাচোক করে বলে উঠলো,,
_ আয়ারকে নিয়েই যাবো,,,নুবা উঠো,,,
হঠাৎ নিজের নাম মুখে শুনে নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকালো,,আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ ওকে ডাকছিস কেন,,

আরহাম শার্টের হাতা ফল্ড করতে করতে বললো
_ আসার সময় আয়ারকে কি কোলে নিয়ে ড্রাইভ করতে করতে আসবো নাকি,,,
আমিনা বেগম জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ তাই তো বলছি আয়ারকে রেখে যা,,
আরহাম মায়ের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
_ তাহলে আমি যাবোই না,,
বলেই সিরি বেয়ে উপড়ে উঠতে নিলো সে,,আমিনা বেগম ছেলের হাত টেনে বললেন
_ আচ্ছা,,বাবা ঠিক আছে,,,
পরি একটু বিরক্ত হলো কারণ সে জানে আমিনা বেগম কেন তার সাথে এতো খাতির দেয়,,তাই পরির মনেও আয়ার আর আরহামের জন্য সফ্ট একটা কর্নার তৈরি হয়েছে তবে নুবাকে নিয়ে গেলে সে 3rd পার্সোনের মতো,, কিন্তু বাস্তবটা তো পুরাই ভিন্ন
তবে নুবা উঠে দাঁড়িয়ে বই বন্ধ করে বললো
_ আমি যাবো না,,,

বলতে বলতে রুমের দিকে এগিয়ে গেলো,,, আরহাম নুবার দিকে আর চোখে তাকিয়ে শুধু ডাক দিলো
_ নুবাআআ,,দুপুরের কথা মনে আছে,,এখনো একি কাজ করছো তুমি,,,
নুবা পা থমকে গেলো,,সে শুকনো ঢোক গিলে পিছনে ঘুরে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ আমার পরিক্ষা আছে ভাইয়া,,সময় নষ্ট করতে চাই না please,,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো,,,আর রাত করে আয়ারকে বাইরে নিয়ে যাওয়া,,,
আরহাম ঘ্যাড়ত্যারার মতো বললো
_ ওকে তাহলে আমি যাবো না তুমি বরং ড্রাইভার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো,,মেয়েকে রেখে আমি যাচ্ছি না,,,
আমিনা বেগম কপাল চাপড়ালেন,,,,কি একটা অবস্থা,,,

নুবার কিছুটা বিরক্ত লাগছে,,, কারণ মাংসের ভিতরে হাড্ডিকে না পাঠালেই নয়,,,
আরহাম নুবাকে আয়রাকে নিয়ে সামনে বসতে বললো তবে ঘ্যাড়ত্যারার নুবা পরিকে বললো
_ আপনি সামনে বসুন মেম,, আমি পিছনে যাচ্ছি,,,
নুবা পিছনের গেট খুলে বসতেই পরি এসে বললো
_ আয়ারকে দেও,,,
এতোক্ষণ সব ঠিক থাকলেও নুবার মুখটা এবার কালো হয়ে গেলো,,রাগে হাসফাস করে বললো,,
_ নেন,,,(নে বেশি করে নে,,তোরি তো মেয়ে,, কয়দিন পর বউ হবি এই বাড়ির,, একদম আয়ারকে ধরে খেএ ফেল,,,খেএ ফেল রাক্ষুসে বেডি,,, সুন্দর দেখে একদম যত্তসব,, ইচ্ছা করছে গলা চেপে ধরি,,, শুধু আয়ারা আয়রা,,,আয়রার নাম নিলে তোর পাছা দিয়ে বাশ দিতে ইচ্ছা করে আমার,,,শালি ক্রিম সুন্দরী)
মনে মনে এই সব ভেবে নুবা জোরপূর্বক হেঁসে আয়ারকে পরির কাছে দিলো,,পরি মিষ্টি হেসে আয়রাকে নিয়ে যেএ সামনে বসলো,,,নুবা মুখটা কালো করে বসে রইলো,, ইচ্ছা তো করছে এই পরির ডানা কেটে ফেলতে,, কিন্তু আফসোস এই পরির ডানা নেই,,

নুবা বুকে হাত গুজে মুখ কালো করে বসে আছে,,গাড়ি নিজের মতো চলছে,,আয়রার উপর নুবার বেশ রাগ হচ্ছে কারণ একটু কান্না করা যায় না নাকি,সবসময় সবার কোলে যেতে হয়,, কিন্তু কি আর করার সে সাইড নায়কার মতো,,আর আসল নায়কা হলো পরি,,,ভেবেই মুখ ভেংচি কাটলো নুবা,,
পরি আয়রার সাথে বিরবির করে কথা বলছে আয়ার খিলখিল করে হাসছে,, এদিকে আরহাম গাড়ি চালাতে ব্যস্ত,,আবশ্য সে বারবার সামনের মিরোর দিয়ে পিছনে দেখছে,, একটু রাগো মনের ভিতরে জমে আছে আসার সময় সেই ধুলাইটা নুবার বাকি আছে কারণ তাকে সামনে বসতে বলেছিলো,,,
আরহাম কিছু সময় পর পর পিছনে তাকাচ্ছে আর মনে মনে হাসছে,, কারণ নুবা পিছনে বসে খুব বাজে ভাবে পরির বিরবির শুনে মুখ ভেংচি দিচ্ছে,,চোখ উল্টাচ্ছে,,নিজেই বিরবির করছে,,ইশারায় দুই হাত দিয়ে পরির সাথে কি যে করছে সে নিজেও জানে না,, হয়তোবা মুখ নেড়ে গালিও দিচ্ছে,,,আগচোরে জাওরামি করা যাকে বলে,,,
পরি একবার আর চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,বেশ শান্ত কন্ঠে বললো

_ আন্টির থেকে শুনলাম আপনি অনেক ছন্নছাড়া,,, like বেপরোয়া,,,
আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ হুম,,,
পরি আবারো আগ বারিয়ে বললো
_ আপনি কি জানেন আপনার আম্মু কেনো আমাকে এতো care করে,,
আরহামের ছোট্ট উত্তর “হুম”
পরি নিরাশ হয়ে বললো
_ শুধু হুম,,আর কিছু না,,,
_ হুম ব্যতিত আর কি বলা যায়,,,???
পরি মাথা নিচু করে বললো
_ আমার ব্যপারে আপনার কি খেলায়,,,
আরহাম দক্ষ হাতে ড্রাইভ করতে করতে বললো,,
_ সুন্দর আপনি,,,যেকনো পুরুষ দেখলে গলে যাবে,,,
এদিকে নুবা কান পেতে সব শুনছে,,,পারলে পরির কোলে উঠৈ সব শুনতো,,, অন্যের প্রেম পিরিতি দেখতে খুবি ভালো লাগে যখন জানা না থাকে যে পাশের মানুষটা তারি ব্যক্তিগত কেউ যে কিনা অন্য কারো সাথে প্রেম করছে,,,
আরহাম নুবাকে কান পেতে প্রায় এদিকে ঝুকে থাকতে দেখে হঠাৎ গাড়ি হালকা করে ব্রেক করে ঝাঁকি দিলো,, সাথে সাথে নুবার অর্ধ শরীর সামনে যেএ পড়লো,,,
হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা সহ পরি চমকে উঠলো,পরি ভুরু কুঁচকে বললো

_ এখানে কি করছো তুমি,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে পরির দিকে তাকিয়ে হেসে বললো
_ actually মেম আপনারা কথা বলছেন,, নিশ্চয় আয়রা ডিস্টার্ব করছে,,ওকে আমাকে দিয়ে দিন,,
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ একটুও ডিস্টার্ব করছে না,, বরং তুমি করছো যাও যেএ বসো,,,
নুবা দাঁত কেলিয়ে বললো
_ oh sorry মেম,,
বলেই মুখ বাঁকিয়ে পিছনে যেএ বসলো মান ইজ্জত কিছুই থাকলো না,, নিশ্চয় বুঝে গেছে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা শুনছিলো নুবা,,তবু নুবা কান পেতে রইলো,,ভালোই লাগছে শুনতে,,,
পরি একটু হেসে মিষ্টি কন্ঠে বলল
_ আর আপনি,,,,আপনি কি ভাবেন আমার ব্যপারে,,
আরহাম এক পলক পিছনে তাকিয়ে দেখলো নুবা কান পেতে সব শুনছে,,সে মনে মনে হেসে বললো
_ হুম,,,ভালো লাগার মতো মানুষ আপনি,,,

নুবা কথা টুকু শুনে মুখ ভেংচি কেটে এক হাত দিয়ে মশা তাড়ানোর মতো ভান করে বললো
_ ইস্ আজকাল লুচ্চা মশা গুলো সবাইকে কামড় দিচ্ছে,,,ছি ছি,,,নজর ভালো না,,,
নুবার কথায় পরি পিছনে ফিরে বললো
_ কিছু বললে,,,
নুবা জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ নাতো মেম,,আসলে অনেক মশা গাড়ির ভিতরে,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমি তো দেখছি না,,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ ভালো মানুষের চোখে পড়ে না আপনি খুব ভালো তো ভাইয়া তাই আরকি,,,
পরি আবার সামনের দিকে তাকালো কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ 2nd marriage এর ব্যপারে কি opinion আপনার,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সবাইকে তো আর সবকিছু বলা যায় না,,সময় হলে জানতেই পারবেন,,,
নুবা কথার নাক ঢুকিয়ে বললো

_ জানেন তো মেম, আজকাল কিছু মশা আছে ১২ ঘাটের পানি খায়,,এদের এক ঘাটের পানিতে পোষায় বলুন তো,,, মানুষের সঙ্গ দোষে মশারাও বদমাইশ হয়ে যাচ্ছে,,,
পরি ভুরু কুঁচকে পিছনে ঘুরে বললো
_ কি আবল তাবল বলছো তুমি,,
নুবা চোখ বড়বড় করে বললো,,,
_ আমি তো মশার কথা বলছিলাম আরকি,,
_oh নুবা চুপ থাকো,,বড়দের কথার মাঝখানে কথা বলিও না,,, এরজন্য দুপুরে মারো তো খেলে তবু মুখ চালাচ্ছো,,
কথা টুকু শুনে নুবার বেশ খারাপ লাগলো,,, নুবা মাথা নিচু করে বললো
_ sorry মেম,, ডিস্টার্ব করতে চাইনি,,,
_ it’s ok,,,
নুবা চুপটি করে বসে রইলো,,,তার মনে হচ্ছে না আসলেই ভালো হতো তবে আমিনা জোর করে পাঠালো,,,,এবার থেকে আর কখনোই আসবে না,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,পরপর জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো,,,

পরি এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_ একজন পুরুষ হিসাবে আপনার ব্যক্তিত্ব পারফেক্ট,,,
আরহাম কিছু বললো না,,পরি একটু কেশে বললো
_ আয়রার সাথে আমাকে নাকি অনেক মানায় আপনার আম্মু বলে আপনার কি মনে হয়,,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ যাকে মানায় তাকে অলরেডি বউ বানিয়ে ফেলেছি,,,তাই কিছু বলতে চাইছি না,,,
পরি ভাবলো হয়তোবা তার কথা বলছে তাই একটু লজ্জা পেলো,,,আর বললো
_ আপনার কথা আম্মু আব্বুকে বলেছি সেদিন আন্টি বলতে বলেছিলো,,, আব্বু আম্মু তেমন কোনো বারতি কথা বলেনি,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ আমার মা একটু বেশি বুঝে,, তবে আপনি চুপ থাকলে আমি খুশি হবো ড্রাইভ করতে পারছি না,,,
পরি লজ্জা পেয়ে আরহামের কথরা উল্টো দিক ধরে বললো
_ আমার কন্ঠ আপনাকে এতোটাই উক্ত্যক্ত করছে যে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে,,,
_ মেয়ে মানুষ একটু বেশি বুঝে,,,,
_ যেমন আমি,,,আগে থেকে সব বুঝে যায়,,,
আরহাম বিরক্ত হলো উত্তর দিলো না,,এতো সময় শুধু কথা বলছিলো নুবা শুনছিলো দেখে তবে নুবা এবার আর কান পেতে শুনছে না তাই সে কোনো রকম intrastd পাচ্ছে না,,,
অনেকটা সময় পর পরির বাড়ির সমানে এসে আরহাম গাড়ি থামালো,,পরি গাড়ি থেকে নামার আগে আরহাম মেয়েকে হাতের ইশারায় তাকে দিতে বললো
পরি আয়ারকে দিয়ে বললো

_ ভিতরে চলুন,, আম্মু আব্বু দেখলে খুশি হবে
_ no thanks,,,
_ আল্লাহ হাফেজ,,
পরি গাড়ি থেকে নেমে চলে গেলো তবে বারবার পিছন ফিরে তাকালো,,,
আরহাম গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালো,,, এদিকে নুবা চুপচাপ বসে আছে কোনো ধ্যান নেই তার,, হঠাৎ এসে আরহাম গাড়ির ব্রেক ডোর খুলতে নুবা পরতে পরতে বেঁচে গেলো কারণ সে জানালার সাথে হেলান দিয়ে ছিলো,,,
নুবার ভুরু কুঁচকে আসলো,,,পরপর রাগ দেখিয়ে বললো
_ সমস্যা কি,, মাথার তার ছিরা নাকি,,,
_ আয়ারকে নিয়ে সামনে যেএ বসো,,,
নুবা মুখ ঘুরিয়ে বললো
_ না,,,সামনে যাবো না,,,
আরহাম জিভ দিয়ে গাল ঠেলে বললো
_ আপনি হয়তোবা ভুলে যাচ্ছেন এখন আপনাকে বাঁচানোর জন্য আশে পাশে আমার মা অথবা আপনার মা নেই,,,,
নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো,, আরহাম ব্যস্ত কন্ঠে বললো

_ তাড়াতাড়ি করো,,
নুবা না চাইতেও বিরক্তি নিয়ে সামনে যেএ বসলো,, অতঃপর আরহাম আয়ারকে তার কোলে ধরিয়ে দিলো,,তবে নুবা আয়রার দিকে ফিরেও তাকালো না,,কেন তাকাবে একদমি না,,এবার থেকে আয়রাকে শুধু ফিড করাবে এর থেকে একটা শব্দও মুখ দিয়ে উচ্চারণ করবে না সে,,,
আরহাম গাড়িতে এসে বসলো,,পরপর কিছু একটা খেলায় করে নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,,নুবা অন্যমনষ্ক থাকায় খেয়াল করলো না,,,তবে আরহমা যখন ঠিক তার থুতনি বরাবর তখন সে খেলায় করলো,, চম্কে উঠলো সে,,,বড় বড় চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,,
এবার আর সময় নিলো না সে সাথে সাথে আরহামকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে বললো

_ কি,,কি করছেন আপনি,,,ও এই অকাজ কাজ করার জন্য নিয়ে আসছেন,, আমার তো মনেই ছিলো না আপনার চরিত্র ঠিক না,,,
আরহাম নুবাকে পাত্তা না দিয়ে বিরক্তি নিয়ে আবারো এগিয়ে গেলো,,নুবা সিটের সাথে চিপকে গেলো,,আরহামের মুখে থাবা মেরে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো,,, আরহাম এরকম আক্রমনে হতভম্ব হয়ে গেলো,,,
নুবা এক হাত দিয়ে গাড়ির গেট খুলার চেষ্টা করলো,,, আরহাম টেনে ধরলো নুবাকে মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ উচ্চারণ করে বললো
_ সিট বেল্ট লাগিয়ে দিচ্ছি,, overthinking করা বন্ধ করো,,
নুবা তাও থেমে গেলো না,,আরহামকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললো
_ আ,,আমি আমি লাগাচ্ছি সরুন,,,

কিন্তু আরহাম কি সরে যাবে সে এগিয়ে এসে বেল্ট টেনে লাগিয়ে দিলো,,নুবা চোখ বড় বড় তাকিয়ে রইলো দেখার জন্য যে কোনো অসভ্যতার করার সুযোগ আছে কিনা,,
আরহাম সরে যেতে যেতে নুবার দিকে ফিরে তাকালো,,যে কিনা বিষ্ময় চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে,, আরহাম নিঃশ্বাস ফেলে সরে গেলো,,,নুবা বুকে হাত দিয়ে নিঃশ্বাস নিলো ,, উল্টা পাল্টা কিছু করলে নিশ্চয় ছেড়ে দিবে না তাকে,, একদম উচিত শিক্ষা দিয়ে দিবে,,সেটা আরহাম হোক আর আরাফ,,এবার থেকে চুপ থাকবে না সে,,চুপ থাকলে মানুষ আরো জেকে ধরার সুযোগ পায়,,,
আরহাম গাড়ি Started করলো,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে নিজেকে সামলে নিলো,,সে তো অন্য কিছুই ভেবেছিলো,,,

গাড়ি আপন গতিতে চলছে,,নুবা বাইরের দিকে মুখ করে বসে আছে এদিকে আয়রা বারবার নুবার ওরনা জামা ধরে টানাটানি করছে কারণ নুবা চুপ করে কেন আছে,,নুবা সব বুঝতে পেরেও চুপ,,
এক পর্যায়ে আয়রা মুখ দিয়ে আ উ শব্দ উচ্চারণ করলো নুবা বিরবির করে বললো
_ আমাকে দিয়ে এবার থেকে ফিডিং ব্যতিত বেশি আশা করবে না,, চুপচাপ শুয়ে থাকো,,,
আয়রার হয়তোবা কথা পছন্দ হলো না তাই কান্না করার প্রস্তুতি নিলো,,নুবা মুখ ফিরিয়ে নিলো,,,আয়রা ফুঁপিয়ে উঠলো,,, ঠোঁট ফুলে গেলো তার,,এতো পাকা মেয়েটা সব বুঝে যায়,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে বুকে জরিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে মুখ দিয়ে hsss শব্দ করলে যে চুপ থাকো,,,আয়রা নুবার কাঁধের কাপড় মুখে পুড়ে চুষতে লাগলো ,,নুবা অনুভব করলো আয়রার ক্ষুদা লেগেছে তবে সে চুপ করে রইলো,,বাড়িতে যেএ দিবে এখানে ফিড করানো সম্ভব না,,,
তবে কিছু দূর এগিয়ে যেতেই আরহাম বলে উঠলো

_ আয়রার ক্ষুধা লেগছে তুমি বুঝতে পারছো না
নুবা শান্ত কন্ঠে বললো
_ তো কি করবো আমি,,,
_ ফিড করাও,,
_ এখানে না বাসায় যেএ,,
_ এতো সময় না খাওইয়ে রাখবে,,
_ পারবো না আমি,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে গাড়ির স্পিড বাড়াতে লাগলো নুবা বুঝে গেলো লোকটার তেজ উঠে গেছে,,নুবা নাক ফুলিয়ে বললো
_ কথায় কথায় গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে আমাকে ভয় দেখাবেন না,,, আপনার সামনে ফিড করাবো আমি,,
_ আমার বয়েই গেছে তোমার দিকে তাকাতে,,,
নুবা মুখ ঘুরিয়ে বললো
_ হ্যাঁ এটা সবসময় মনে রাখলে আমি খুশি হবো,,
বলতে বলতে নুবা আয়ারকে ওরনা দিয়ে ডেকে বুকের দুধ দিলো,,,আয়রা কান্না থামিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে ব্যস্ত হলো,,,

নুবা গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলো তখনি নজরে পড়লো ফুচকার দোকানে যেখানে ভিড় লেগে আছে ,,,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,আশ পাশ থেকে আসা খাবারের ঘ্রাণে নুবার পেটেও চুহা লাফালাফি করতে লাগলো,,,মুখে লালা চলে আসলো তার,,সেটা গিলে নুবা সামনের দিকে তাকালো,,,,
পরপর গাড়ি থেমে গেলো,,নুবা পাশ ফিরে দেখলো আরহাম গাড়ি থেকে নামছে,,,নুবা কিছু বলার আগেই আরহাম চলে গেলো,,,
নুবা জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো আরহাম ওই দোকানের দিকে যাচ্ছে,,নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,,এই বেডা আবার ওখানে কেন যাচ্ছে,,, কিছু খেতে খুতে ইচ্ছা করলো নাকি,,তাও এই দোকান থেকে,,,
কিছু সময় পর আরহাম হাতে পেকেট নিয়ে ফিরে আসলো নুবা চোখ ঘুরিয়ে সেদিকে তাকালো,,, আরহাম ভিতরে ঢুকে গাড়ির দরজার আটকে নুবার দিকে পেকেট এগিয়ে দিয়ে বললো
_ কম করে খাবেন,, আপনার খাওয়া দাওয়ার উপর আমার মেয়ের সুস্থতা ডিপেন্ড করে ,,
নুবা প্রথমেই পেকেটটা নিতে নিলো,, কিন্তু আবার হাত সরিয়ে নিলো,,আর বললো

_ আমি খাবো না,,,
_ ও আচ্ছা,,,তাহলে ফেলে দেই,,,
নুবা চোখ টিপটিপ করে বললো
_ অপচয় করবেন,, আচ্ছা দেন খেয়েই নেই,,,
বলেই নুবা জোরপূর্বক হেঁসে পেকেট হাতে নিলো আর বিরবরি করে বললো
_ কোনো অসভ্য লোকের হাতের খাবার আমার খাওয়ার ইচ্ছা নেই তবু খাবার অপচয় হবে দেখে,, বুঝলেন,,না হলে আপনার মতো মানুষের থেকে আমি কখনোই কিছু খেতাম না,,,
আরহাম গাড়ি started দিয়ে বললো
_ তৌসিফের মতো মানুষের হাতে খেতে ভালোই লাগে,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এখানে উনি কোথা থেকে আসলো আর হ্যাঁ ভালো লাগে কারন সে আপনার মতো না,,সে অনেক ভালো,,,
আরহাম কিছু বললো না,, চুপচাপ আস্তে আস্তে গাড়ি চালাতে লাগলো,,,
নুবা আর চোখে এক বার আরহামের দিকে তাকিয়ে ভেলপুরি মুখে পুরলো, আরহাম সামনের দিকে নজর রেখে বললো

_ মেয়ের উপর যাতে না পরে,,, সাবধানে,,
নুবা মুখ ভেংচি কাটলো,, আরহাম তা খেয়াল করে গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ কথায় কথায় বান্দরের মতো মুখ বাকানো একদম ঠিক করে দিবো,,,, ঠোঁট টেনে ছিঁড়তে দুই মিনিটও লাগবে না,,,,এই সব অভ্যাস আমার পছন্দ না,,,
(তবে সত্যি বলতে তার ক্ষেত্রে পছন্দ না হলেও অন্যদের ভেংচি কাটলে ভালোই লাগে যেমন পরিকে)
আরহামের মুখ এরকম তিতা কথা শুনে নুবা ভেলপুরির পেকেট পাশে রেখে টিস্যু দিয়ে হাত মুছে নিলো,,, আরহাম বুঝতে পারলো ধমক দেওয়ায় তেজের ঠেলায় খাচ্ছে না,,,তবে সে কিছু বললো না,,, ইদানিং আরহামকে ভয় কম পায় একটু ভয় পাওয়াতে হবে এতো মাথায় উঠালে হবে না,,,

ভেলপুরি খাওয়ার পর নুবার ঘুমে চোখ ভেঙ্গে আসলো,,,চার পাশের সবকিছু সে ৪ টা দেখতে লাগলো,, মস্তিষ্ক স্তব হয়ে গেলো তার,,,সে না পেরে আয়ারকে নিয়ে গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়লো,,,যেটা একদম অস্বাভাবিক,, কারণ এই সন্ধা বেলায় কিসের ঘুম,,

গাড়ি বাড়ির পথে যাওয়ার বদলে একটা নির্জন রাস্তায় থেমেছে,,,নুবা মরার মতো গাড়িতে পড়ে আছে,,আয়রা এখনো একটু পরপর ফিড করছে,, আরহাম গাড়ি থেকে নেমে নুবার পাশের দরজা খুলে নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে মুচকি হাসলো,,,
পরপর ওরনা সরিয়ে আরহাম মেয়ের দিকে তাকালো,,,কেউ মুখের উপর থেকে ওরনা সরিয়ে দিয়েছে দেখে আয়ারা খেতে খেতে চোখ উল্টে তাকালো,,
মেয়ের চাহনি দেখে আরহাম ঝুঁকে মেয়ের দুই চোখে চুমু খেএ বললো,,
_ don’t cry ok ,,,পাপা এখন আপনাকে মাম্মার থেকে আলাদ করে দিবে,,,
বলতে বলতে আরহাম আয়ারকে নুবার থেকে ছাড়িয়ে নিলো,,,আয়ার সাথে সাথে ঠোঁট ফুলালো,,মুখে হাত দিয়ে নিজের হাত নিজে কামড়ে ধরলো,,যেনো এখনি গগন ফাটিয়ে কেঁদে উঠবে সে,,
আরহাম মেয়ের গালে দুটো চুমু খেএ বললো
_please understand মামুনি,,, কান্না করে না,,,আয়রা,,,
আরহাম আয়ারকে দোল দিলো আয়রা মুখে আঙ্গুল দিয়ে চকচক শব্দ তুললো,, কিছু সময় পর আয়রা শান্ত হলো,,,

আরহাম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারাকে ডাইভিং সিটে সুইয়ে দিলো,, অতঃপর সিট বেল্ট দিয়ে আয়ারকে জরিয়ে দিলো যাতে না পরে যায়,,,আয়রা চোখ উল্টে বাবাকে দেখার চেষ্টা করলো,,, যে সে কি করছে,,,
আরহাম তাড়াতাড়ি করে অন্য পাশে যেএ নুবার ড্রেস টেনে ঠিক করে তাকে পাজা কোলে তুলে নিলো,,
কিছু সময় ভাবলো কি করবে,,,ভাবনাটা কি এমন ছিলো যে নুবাকে এখানে ফেলে রেখে যাবে,,একদমি না সে নুবাকে আঁকড়ে ধরে একটু শান্ত হতে চাইছে,,,
আরহাম কোনো মতে জ্ঞান শূন্য নুবাকে নিয়ে নিজেও নুবার সিটে বসে পড়লো,,টানা ৩ মিনিট চেষ্টা করার পর নুবা আর নিজেকে এই ছোট্ট স্থানে ফিট করতে পারলো সে,,,
আরহাম হাঁপিয়ে উঠলো,,নুবার ওজন কমাতে হবে না হলে ছোটো খাটো যায়গায় বসা যাবে না তাকে নিয়ে,, কিন্তু নিজের দেহটা আর দেখলো না যে তার দেহটা ষাঁড়ের মতো,,,
আরহাম সিটে বসা নুবা তার কোলে,,,তার দিকে মুখ ফিরিয়ে অর্থাৎ নুবার মুখ মন্ডল এখন আরহামের শক্ত পুক্ত বুকে পরে আছে,,,আরহাম নুবার পিঠে হাত বুলিয়ে শান্তি অনুভব করলো,,,
কিছু সময় সিটের চেপে বসে রইলো আরহাম,, অতঃপর বুকে পরে থাকা নুবার দুই গাল ধরে মুখের সামনে ধরলো,,যে কিনা জ্ঞান শূন্য থাকায় বারবার আরহামের বুকে লুটিয়ে পড়তে চাইছে,,,

আরহাম মুচকি হাসলো প্রথম বারের মতো আরহাম তার ঠোঁট জুরা নিয়ে নুবার ফুলো ফুলো গালে ঠেকালো,,,পরপর ওধর দাঁড়া নিজের সুপ্ত অনুভূতি গুলো প্রকাশ করলো,,
তার জানা নেই এটাকে কি বলে ভালোবাসা বলতে সে কিছু বুঝে না তবে এই মূহুর্তে নুবাকে এতোটা কাছে পেয়ে তার মনের সকল অশান্তি দূর হয়ে গেছে,, একদম শান্ত দেখাচ্ছে তাকে,,,
আরহাম তার সরু নাক দিয়ে,, নুবার পুরো মুখ ছুঁয়ে দিলো,,পরপর খোঁচা খোঁচা দাড়ি যুক্ত গাল দিয়ে নুবার গালের সাথে চেপে ধরে বিরবির করে সুধালো,,
_ আপনি এভাবে একজন খারাপ মানুষের নজরে না পড়লেও পারতেন,,, অনেক বড় ভুল করেছেন,,এতোটা ভালো না হলেও পারতেন তাই না,,তবে আজ এই সব হতো না,,,
তবে নুবা কিছুই শুনলো না,,আপাতত তার মস্তিষ্ক অফ হয়ে আছে,,,
আরহাম নিজেকে যথার্থ শান্ত রাখার চেষ্টা করলো তবে সে যেই কাজটা সেদিন করতে পারিনি আজ করার জন্য তার মন আর মস্তিষ্ক উতলা হয়ে পড়েছে ,,
আরহাম আর না পেরে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো

_ sorry,,I didn’t want to do all this but you forced me, ,,,আমি চেয়েছিলাম তুমি সব জানো তবে তোমার সামনে বলার সাহস নেই আমার,,,আর বললেও হয়তোবা তুমি রিয়েক্ট করবে কখনোই আমার মতো মানুষকে একসেপ্ট করবে না,,
আরহাম একটু থেকে কাতর কন্ঠে বললো
_ তুমি কারো এটো খাবার তাই খেতে চাও না,,নাক সিঁটকায় আর আমার মতো মানুষকে কিভাবে একসেপ্ট করবে,,,এটাই স্বাভাবিক,,,তবে আমি ভুল করেছি যা সুধরানোর মতো না,,i think তুমি আয়ারর জন্য হলেও আমাকে মাফ করে দিবে,, ভালোবাসা চেয়ে তোমার অনুভূতিকে ঠুনকো করবো না কারণ আমিই জানি না এটা কেমন অনুভূতি তবে আমি চাই তুমি সব একসেপ্ট করে নেও,,আমি তোমাকে নিশ্চয়ই সময় দিবো,, কিন্তু ছেড়ে দেওয়া বারন তুমি আমার সুখে থাকার কারণ,,,

কথা টুকু বলে থামলো সে লোভনীয় দৃষ্টি নুবার হালকা গোলাপি অধরের দিকে তাকালো,,,সে এগিয়ে যেতে যেএ আয়রার গলার শব্দে আবার থেমে গেলো,,,
ভুরু কুঁচকে পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখলো আয়রা মাথা উল্টে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে,,মুখে দুই হাত ভরে হাসছে,,মুখ দিয়ে উম আ শব্দ করছে,,
আরহাম মুচকি হাসলো,,,ডান হাত লাম্বা করে মেয়ের চোখে ধরে বললো
_ no ,,,পাপা মাম্মার রোমান্স দেখা এটা bad Manners ,,Don’t look here,,,
আয়ার হাত পা নেড়ে মাথা আরো উল্টে তাকালো,,কত বড় সাহস চোখ ডেকে রেখেছে,, আরহাম আয়রার শরীরে বেবি ফ্রক টেনে তার চোখের উপর দিয়ে বললো
_ Wait 2 minutes then look here ok honey,,,
আয়ারা ফ্রকের তলেই শব্দ করে হাসলো,,
আরহাম মেয়ের থেকে মনযোগ সরিয়ে নুবার মাথার পিছনে এক হাত দিয়ে অন্য হাত কামড়ে পিছনে দিয়ে নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,,,

শেষ পর্যন্ত সে নুবার ওধর জুড়া দখল করে নিলো,, অনেকটা সময় ধরে সে এতোদিনে বিচলিত থাকা মনকে শান্ত করতে ব্যস্ত হলো,,যেই কাজটা সে সেদিন করতে পারেনি আজ করে নিলো,,,সে খুবি অধৈর্য মানুষ,,,এতোটা অপেক্ষা তার দাঁড়া সম্ভব নয়,,,
গাড়ির ভেতর নীরব এক মায়াবী মুহূর্ত, বাইরে হাওয়া ছুটে চলছে আপন মনে।আরহাম জ্ঞান শূন্য নুবার মায়ায় ডুবে আছে, যেন পৃথিবীর সবকিছু থেমে গেছে।নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে তার চোখে শুধু অদ্ভুত এক ভালোলাগা আর অনুভূতির ছোঁয়া।
মৃদু বাতাস জানালা দিয়ে এসে নুবার চুলগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে।আরহাম সেই দৃশ্য দেখে কিছুক্ষণের জন্য কথাই হারিয়ে ফেলেছে।চারপাশের কোলাহল দূরে সরে গিয়ে শুধু দুজনের নীরব অনুভূতি রয়ে গেছে।সেই মুহূর্তটা যেন তাদের ভালোবাসার এক ছোট্ট সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকলো। যা শুধু আরহাম জানে,,,
অনেকটা সময় পর আরহাম নুবাকে ছেঁড়ে হাঁপিয়ে উঠলো,,নুবা ঢলে পড়লো তার বক্ষ স্থলে,,, আরহাম শান্তির নিশ্বাস ফেললো,,,নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,,,পরপর পাশে তাকিয়ে দেখলো,, দুষ্টু আয়রা মুখ থেকে ফ্রক সরিয়ে সব দেখছে,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো

_ bad grill ,, বলেছিলাম না তাকাবে না,,
আরয়া বাবার কথায় আ উ শব্দ করে হাসলো,,, আরহাম ঘন্টা খানিক নুবাকে ওভাবে নিয়েই বসে রইলো,,,
আরহাম সিটের সাথে লেগে বসে আছে নুবার তার খুব নিকটে তার বুকে,,, আরহাম মাঝে মাঝে নুবার মাথায় পিঠে,,,গালে হাত বুলাচ্ছে,,,
এক পর্যায়ে আরহাম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রায় ৯ টা বেজে গেছে তারা বাড়ি থেকে বেড় হয়েছিলো ৬ টার দিকে আর এখন ৯ টা বাজে,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, ২০/৩০ মিনিট খানিকের মধ্যে নুবার জ্ঞান ফিরবে এখন তার দূরে সরে যাওয়া উচিত,,,

আরহাম নুবাকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে গেলো অতঃপর তাকে আগের ন্যায় বসিয়ে দিয়ে আয়রাকে এনে তাল কোলে ঠিক ঠাক মতো রেখে দিলো যাতে পড়ে না যায়,,,
এদিকে এতো সময় পর নুবাকে পেয়ে আয়ারা বুকে মুখ বিচরন করলো,,, আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে নুবার বক্ষ স্থল থেকে ড্রেস সরিয়ে আয়ারকে তার নির্দিষ্ট স্থান টুকু মুখে ধরিয়ে দিলো,,,আয়রা প্রচন্ড খুশি হলো,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে নিজের বৈধ স্ত্রীর দিকে তাকালো,মনে হলো নারম মাংশ পিন্ডে ওধর ছুঁইয়ে দিতে,,তবে না এতোটা গভীরে সে যাবে না,,না হলে নিজেকে সামলানো দায়,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫১

আর আরহাম এখন এরকম কিছু চায় না,,,আমিনা বেগম থেকে শুনেছে যেহেতু তারা মুসলিম তাই কবুলের অনেক পাওয়ার,, ইসলামিক ভাবে আগে সবকিছু হোক,,,,
আরামের কাছে এই বিয়ে কোনো মেটারি করে না তবে নুবার ক্ষেত্রে করে,,, অনেক নরম মেয়েটা,,,ভিতর থেকে শেষ হয়ে যাবে,,সে চাইলে এখনি তার অধিকার টুকু নিয়ে নিতে পারে তবে সে এরকম অনৈতিক কাজ করবে না,,,এই বিষয়ে নুবার পুরোপুরি মতামত নিবে সে,, অবশ্য ইলোরা_

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here