Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬১

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬১

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬১
সুরাইয়া জিয়াসমিন

টেনে ভিতরে নিয়ে গেলো নুবাকে,,, এদিকে আরহাম নুবাকে বেড় হতে দেখে সিরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো তবে এভাবে গড়ম চোখে নুবাকে শাসিয়ে রুমে নিয়ে যাওয়ায় আরহামের মুখটা দেখার মতো ছিলো,,
সে টের পেলো এই মহিলা তার পথে বড় একটা বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে,,, শাশুড়ি না হলে কান পট্টি ফাটিয়ে দিতে ইচ্ছা হতো তার তবে এতোটাও অভদ্র না সে যে নিয়ের মায়ের মতো মানুষের গায়ে হাত দিবে,,,ভেবেই নিজেকে নিজে ধিক্কার জানালো সে,
আরহাম আয়ারকে নিয়ে নিচে নামলো,,পরি সবার সাথে কথা বলছিলো,,, মাত্র এসেছে সে,,, জিনিস পত্র তার রুমে নিয়ে যেএ রাখছে তানিয়া,,,
আরহাম এগিয়ে আসলো,,,পরি আরহামকে দেখে মুচকি হেসে সালাম দিলো,,, আরহাম সালামের উত্তর দিলো,, পরপর পরি সুধালো
_ কেমন আছেন,,,
আরহাম উত্তর দিলো না,,পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ mom একটু সাইডে আসো তো
অমিনা বেগম পরির দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে বললো
_ বসো এখানে,,আমি আসছি,,,ইশিতা ওর সাথে বসে থাকো,,,

আমিনা বেগম ছেলের কালো মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি হয়েছে কেন ডাকলি,,,
আরহাম ডাইনিং টেবিলের উপর রাখা ফল থেকে একটা আপেল নিয়ে রাগে কামড় বসিয়ে চিবাতে চিবাতে বললো
_ নুবাকে রুম থেকে বেড় হতে দিচ্ছে না,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তো আমার কি করার,,তার মেয়ে সে সামাল দিবে না তো আমি দিবো নাকি,,,
আরহাম আপেলে আর একটা কামড় দিয়ে বললো
_ তুমি এই হাজেরাকে সামাল দিবা নাকি সেটা বলো,,,না হলে আমি কিন্তু উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলবো তখন কিন্তু কিছু বলতে পারবে না,,
অমিনা বেড় ছেলের দিকে গড়ম চোখে তাকিয়ে বললেন
_ মুখের ভাষা,,,হাজেরা কি,,,বড় না তোর,,, কিছু বলে সম্বোধন করা যায় না নাকি,,,
_ ওই মহিলা আমার সাথে কাল থেকে যা শতরামি(শত্রু) শুরু করছে এতে করে তাকে কিছু বলে সম্বোধন করার রুচি আসছে না,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন

_ ফালতু কথা কম বলে নিজের কাজ কর,,,
_ তুমি নুবাকে রুমের বাইরে আনতে পারবা কিনা সেটা বলো না হলে কিন্তু আমি রুমে ঢুকে কিছু করে বসবো,,,
আমিনা বেগম দাঁত কটমট করে বললেন
_ তুই কি আমাকে ঠেট দিচ্ছিস,,,
আরহামের মুচকি হাসলো,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ দেখ বাপ উল্টা পাল্টা কাজ করে তোর বাপের হাতে এই বয়সে এসে আমাকে উদ্যম মাধ্যম দিতে সুযোগ করে দিস না,,,
আরহাম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ সকাল থেকে ওকে একবার দেখিনি,,, তুমি বুঝতে পারছো আমার কোথায় কোথায় কষ্ট হচ্ছে,,,নাকে মুখে,চোখে,মাথায়,,হাতে পায়ে সব জায়গায়,,
আমিনা বেগম সরু চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ তোর বাপ বাড়িতে,,কথাটা মনে রাখিস,,
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,,, আরহাম মুখ গম্ভীর করে বললো,,
_ আমাকে বাপের ভয় দেখাচ্ছে,,বেশি হেরি তেরি করলে কোন ফাঁকে নুবুকে উঠিয়ে নিয়ে চলে যাবো টেরো পাবে না,,,
বলেই আপেলে কামড় বসিয়ে রাগে গজগজ করতে লাগলো,,,

আমিনা বেগম পরিকে রুম দেখিয়ে বললেন
_ পছন্দ হয়েছে মা,,
পরি আশে পাশে তাকিয়ে বললো
_ অনেক সুন্দর হয়েছে,,
আমিনা বেগম এক গাল হেসে বললেন
_ যেকনো সময়,,যেকনো রকম সমস্যা হলে আমাকে বলবে ঠিক আছে
পরি মাথা নিচু করে বললো
_ আচ্ছা,,,
আমিনা বেগম এক পলক পরির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমার সাথে কিছু জরুরী কথা ছিলো,,
পরি আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে সুধালো
_ বলুন,,,
আমিনা বেগম একটু থেমে নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,,

_ তুমি কিন্তু বুঝতেই পারছো মা,, আরহাম কিন্তু সৌন্দর্যের পূজারী না,,, সত্যি বলতে আরহাম তোমাকে এখনো একসেপ্ট করতে পারেনি বুঝলে,,
পরি একটু হেসে মাথা নিচু করে বললো
_ তা আর বলতে হবে না আন্টি,,আমি বুঝতেই পরেছি,,,
আমিনা বেগম পরির এক হাত ধরে বললেন
_ তোমার কাছে এই ২ মাস সময় আছে,, তুমি আমার ছেলের মন জয় করতে পারলে তুমিই এই ঘড়ে আসবে,, তোমাকে ওর মন মানিয়ে চলতে হবে তবেই তুমি ওর চোখে ভালো হবে বুঝলে,
পরি কথা টুকু শুনে কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ আর যদি মন জুগাতে না পারি,,,
আমিনা বেগম একটু হেসে বললেন

_ আমি সোজাসুজি কথা বলতে পছন্দ করি পরি,,আশা করি এতো দিনে টের পেয়েছো,,,
_ হুম,,
_ যদি তুমি ওর মন না জুগাতে পারো তবে আমার সাধ্য নেই তোমাকে এই ঘড়ে আনার,, আশা রাখছি তুমি পারবে,,,যদি নিতান্তই না পারো তাহলে পরের টা পরে দেখা যাবে,,,তবে ইনশাআল্লাহ তোমার ভাগ্যে ভালো কেই থাকবে,,,সেটা আরহামের থেকেও ভালো হতে পারে,,,
অতঃপর একটু থেমে বললেন
_আমি জানি আমার কথা তোমার কাছে অদ্ভুত লাগছে,,যেখানে বিয়ের দিন তারিখ দিয়ে দেওয়া হয়েছে সেখানে আমি এই সব কেনো বলছি,,আসলে আরহাম অনেক জেদি,,কোনো মতে সেদিন তোমাদের বাড়িতে নিয়ে গেছিলাম তবে এবার আর জোর করতে পারবো না,,বুঝলে,,,
পরি অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ তার মানে,,উনি রাজি না হলে বিয়ে হবে না,,
_ হুম,,
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ সত্যি বলতে আপনার ছেলেকে আমার পার্সোনালি অনেক ভালো লেগছে,,আমি কোনো নিব্বি নই যে আমাকে জোর করে কারো সাথে বেঁধে দেওয়া হবে আর অবশ্যই উনিও ছোটো না,,,তাই না,,,আর আমি জানি না আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে কিরকম রিয়েক্ট করতো তবে আমি চেষ্টা করবো,, কারণ আমি জানি আমি পারবো,,,
আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিলে বললেন
_ পারলে ভালো,, তবে শেষ মূহুর্তে যদি মন ভেঙ্গে যায় তবে আমাকে দোষ দিও না,,, কিন্তু আমার উপর এতো টুকু ভরসা রাখতে পারো এমন যদি হয় তবে আরহামের থেকেও ভালো কারো সাথে তোমাকে বেঁধে দিবো
পরি কিছু সময় নিরব থেকে বললো
_ সেই দিন আসবে না,,,তবে ব্যপারটা অদ্ভুত কিন্তু আমি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো কারণ আমার কাছে এই অপশন ব্যতিত অন্য অপশন নেই,,,
আমিনা বেগম হেসে পরির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো

_ তুমি খুবি বুঝদার,,,তাহলে আসি রেস্ট নেও,,
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,,পরি ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো,,আমিনা বেগমের কথা শুনে এতো সময় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও তার শরীর কাঁপছে,,,তার মানে কিছুই নির্ধারিত নেই,,সে সফল হলে তবেই বিয়েটা হবে,,,
পরির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো হাত পা একটু কেঁপে উঠলো,,,দুই হাত মুখে চেপে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে ভাবলো,,,
_ আমি,,,আমি কিছুতেই ওই নরকে আবার যেতে চাই না,,, আমার এখানে টিকতেই হবে,,,এরাই পারবে আমাকে বাঁচাতে,,,তবে আমি কি করে পারবো,,,
পরি উপর দিয়ে স্বাভাবিক থাকলেও ভিতর থেকে প্রচন্ড ভীতু হয়ে পড়েছে,,,এভাবে খোলা মেলা চলাফেরা করে সে তাই বলে এই না সে সবার মতো স্বাভাবিক,,,নাবিল যদি একবার এই বিষয়ে জানতে পারে তাকে মেরেই ফেলবে,,,নাবিলের জেল থেকে বেড় হওয়ার আগে আরহামকে হাত করতে হবে,,না হলে সে কখনোই ওই মানুষটার সাথে ঠিকে থেকে লড়তে পারবে না,,না আমি আছে পরিদের টাকার জোর,,না দাপট,,আর না শরীরের জোর,,,
পরির নিজেকে স্বার্থপর মনে হচ্ছে,,তার কারনে না আবার এই পরিবার ঝামেলায় পড়ে,,,না পারছে সব খুলে বলতে,,না গিলে ফেলতে পারছে,,,আর আজ বিয়ে হতেও পারে,,না হতেও পারে শুনে পরির আরো বয় লাগছে,,,ওই অমানুষের পাল্লায় সে আর পড়তে চায় না,,সে একটু স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে চায়,,,

নুবার একটুও ভালো লাগছে না,,,সকাল থেকে রুমে বসে আছে এখন দুপুর হতে চললো,,,হাজেরা ২ বার আয়ারাকে নিয়ে এসেছিলো,,,আবার খাওয়া শেষে নিজেই নিয়ে গেছে,,, এদিকে বাইরে পরির কাছে আয়রা এটা ভেবে তার আরো অস্থির লাগছে,, মোবাইল টাও নেই,,কি এক ঝামেলা,,,
তখন দুপুরের আযান দিচ্ছে,,, আরহাম নুবার রুমে ডুকেছে কোন ফাঁকে,,, ঢুকেই দেখতে পেলো পুরো রুম ফাঁকা,, বিরক্ত লাগলো তার কই গেলো এই মেয়ে,,
আরহাম পকেটে হাত গুটিয়ে বিছানায় বসলো,,, কিছু সময় পর নুবাদের ওয়াশ রুমের দরজা খট করে খুলে গেলো,,,

নুবা গোসল সেরে বেড় হয়েছে মাত্র,,পড়নে ওরনা পেঁচানো,,, কারণ সে ড্রেস নিতে ভুলে গেছে,,নুবা মাথা তাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে বেড় হলো,, আরহাম বিছানা থেকে উঠে এগিয়ে গেলো,,তখনো সে খেলায় করেনি নুবার এই অবস্থা,,, অতঃপর মুখ থেকে চোখ সরিয়ে পা পর্যন্ত দেখতেই সাথে সাথে আরহাম এক ঝাপটায় চোখের পলক ফেলে বিরবির করে বললো
_ ইস্,,,কিয়া লাগতিহে,,,,
আরহাম ডান হাত বাম বুকে রেখে শুকনো ঢোক গিলে বুকে ঢলে দিলো,, কেমন আগুন ধরে গেলো জানি,,,
নুবা দুই হাত দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে হঠাৎ কারো শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খেএ নাক মুখ কুঁচকে নিলো,,,নুবা ভাবুক হয়ে মাথা উঁচু করে বাম হাত দিয়ে তাওয়াল টেনে নিচের দিকে সরালো দেখতে যে ঘড়ের ভিতরে খাম্বা কোথা থেকে আসলো,,,হাজেরাও তো এতো লাম্বা না,,,

তাওয়াল নিচে টান আস্তে আস্তে সরাতেই আরহামের চোখে পড়লো নুবার গোলগোল চোখ গুলো,,ভেজা পাঁপড়ি আর ভুরু,,,সামনের ছোট্ট ছোটো চুল গুলো তাওয়ালের সাথে এলোমেলো হয়ে কপালে,,আর চোখের উপর হালকা এলোমেলো হয়ে পড়লো,,,আরহামের কাছে তখন মনে হলো কোনো ছোটো নিষ্পাপ বাচ্চা,,,বড়বড় চোখ গুলো যেনো আরহামকে দেখে আরো বড়ো হয়ে গেলো,,,
হাতের তাওয়ালটা টুপ করে নুবার হাত থেকে নিচে পড়ে গেলো,,,নুবা চোখের সামনে এই খাম্বা কে দেখে কিছু সময়ের জন্য স্তব হয়ে গেলো,,পরপর নিজের অবস্থা বুঝতে পেরে “হা” করলো,,এখনি চিৎকার করবে সে,,,
কিন্তু গলা থেকে কোনো শব্দ বেড় হওয়ার আগেই আরহাম নুবার মুখ চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,,নুবার চোখ গুলো যেনো ভিতর থেকে বেড় হয়ে আসবে এরকম,,,নুবা আরহামকে দুই হাতে ধাক্কা দিয়ে হাতে কামড় বসিয়ে সরে আসলো,,,
চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে,,পটপট করার জন্য মুখটা খুলতেই যাবে,,,তার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_ Don’t talk.,,, stop,,,

নুবার হা মুকটা বন্ধ হয়ে আসলো,,তবে খেলায় করলো আরহাম মুখের দিকে তাকালেও আর চোখে বারবরা তার চেখ এদিকে ওদিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে,,
কি করবে ভেবে না পেয়ে এক ছুটে যেএ আরামের সামনে,, একদম নিকটে যেএ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বললো
_ এদিকে ভুলেও তাকাবেন না,,,উপরে তাকান,,উপরে,,,,
আরহাম উপরে তাকানোর বদলে তার সাথে লেগে থাকা নুবার পিঠের দিকে তাকিয়ে রইলো,,পরপর খেলায় করলো পিঠের বাম পাশে,, কাঁধের এক হাত সমান পাঞ্জা নিচে একটা বড় তিল,,, আরহামের ভেজা তিলটার দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো,,,
নুবা সুযোগ বুঝে নিচু হয়ে তাওয়াল আরহামের পায়ের কাছ থেকে তুলে নিয়ে বিচ্ছিরি একটা গালি দিয়ে ছুটে যেতে লাগলো ওয়াশরুমে,,,,

তবে নির্লজ্জ ভাগ্য তার,,,,এভাবে দৌড়ে দেওয়ায় ওরনার গিঁট খুলে পড়বে,,মান পুরা ডিলা হয়ে গেছে,, আরহাম খুব দুর্বল অনুমান করলো ওয়াশরুম পর্যন্ত যাওয়ার আগেই এই ওরনা খুলে পড়বে আর বিব্রত কর একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে,,, আরহাম এক হাতে বিছানার চাদর জোরে টেনে উঠে আনলো,,দুই কদমে ভিজা বেড়ালের মতো ছুটতে থাকা নুবার ওরনা ঠিক খুলে যাওয়ার আগ মূহুর্তে বিছানার চাদর দিয়ে তাঁকে পিছন থেকে মুড়িয়ে ধরলো,,,
নুবা যেনো স্তব,,,আর দুই কদম দিলে ওয়াশ রুম তবে সে দৌড়াতে যেএ অনুভব করেনি ওরনা খুলে যাবে,,,নুবার থরথর করে কেঁপে উঠলো,,, লজ্জায় মরে যাওয়ার আগেই তাকে কেউ নেনো সেকেন্ডের ভিতরে আবারো মুড়িয়ে দিলো,,,,হাতে থাকা তাওয়াল শক্ত করে চেপে ধরলো নুবা,,,গায়ে চাদর মুড়ার এক সেকেন্ড মূহুর্তে নুবার ওরনার এক পাশ ঝুঁলে পড়লো,,,খোলার আগেই অন্য কিছু দিয়ে জরিয়ে ধরায় খুলে যেতে পারলো না,,,
নুবা ইজ্জতের ভয়ে কিছুটা কেঁপে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,তবে পাঠের লম্বা মেরুদন্ড অনুভব করলো কেউ একজন মুড়িয়ে রেখছে তাকে,,,,
নুবা নেতিয়ে যাওয়া ফুলের মতো নেতিয়ে পড়লো,, লজ্জায় গাল দুটো লাল বর্ন ধারন করলো তার,,,চোকের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,
আরহাম নুবার থরথর করে কাঁপতে থাকা অস্তিত্ব অনুভব করে,,, মৃদু কন্ঠে বললো

_ trust me নুবু,, I didn’t see anything. ,,,চোখ দুটো বন্ধ বিশ্বাস করো,,,,
নুবা দুই হাত দিয়ে বিছানার চাদর চেপে ধরে নিচে বসে পড়লো,,,,বুক কাঁপছে তার,, ইচ্ছা করছে মাটি ভেদ করে ডুকে যেতে,,এতোটা লজ্জাজনক পরিস্থিতি ছি,,,ভেবেই নুবার সর্বাঙ্গ ঝিমঝিম করে উঠলো,,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে নুবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বললো
_ আমি চলে যাচ্ছি,,,You wear a dress ok,, relax,,,ভুলে যাও এই ব্যপারটাকে,,,আমি যাচ্ছি,,,
আরহাম আস্তে করে উঠে দাঁড়ালো,,,পরপর আরহাম আস্তে করে উঠে দাঁড়ালো,, আরহাম উঠে দাঁড়াতেই নুবা কম্পিত শরীরে উঠে দাঁড়িয়ে অন্যমনষ্ক হয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে লাগলো,,,
আরহাম দরজার সামনে এসে দাঁড়াতেই দেখলো হেজেরা হাতে কিছু কাপড় নিয়ে এগিয়ে আসছে,,মাথা নিচু করে সেগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখছে,,,
আরহামের বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,,,এখনি এই মহিলা ঝামেলা করবে,,,আরহামকে রুম থেকে বেড় হতে দেখলেই নিশ্চিত হারুন মির্জা কে যেএ নালিশ করবে,,,
আরহাম হাঁসফাঁস করে উঠলো,,,বিরবির করে বললো

_ What should I do? ,, ahhhhhhhhhhh এখনি আসার ছিলো,,,
হাজেরা বেগম কাপড় থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকানো আগ মুহূর্তে আরহাম স্লিপ কেটে সরে গেলো,,,নুবা ওয়াশ রুমে ডুকে দরজা লাগাচ্ছিলো,,, কারণ শরীর গড়ম হয়ে গেছে তার আর একটু শাওয়ার নিবে,,
তবে দরজা আটকানোর আগেই আরহাম এসে হঠাৎ করে ঠেলে ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো,,,নুবা পরিস্থিতি বুঝে “আআআআ” করতেই যাবে,,তার আগেই আরহাম নুবার মুখ চেপে ধরে নুবাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো,,,
নুবা অবিশ্বাস্য চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,, আরহাম অনুনয় করে ফিসফিস করে বললো
_ তোমার আম্মু আসছে,, আমাকে রুমে দেখলে নিশ্চিয় উল্টা পাল্টা ভাববে,,, please try to understand,,,
নুবার যেনো মাথা ঘুরে উঠলো,,কোন বিপদে পড়লো সে,,হাজেরা বেগম রুমে এসে কাপড় বিছানায় রেখে আশে পাশে তাকিয়ে বললো,,

_ নুবারে,,,নুবাইরা,,,
নুবা মায়ের ডাক শুনে শুকনো ঢোক গিললো,,,,এখন যদি কোনো মতে হাজেরা জানতে পারে নুবা আর আরহাম ওয়াশ রুমে তাও এই অবস্থায় নিশ্চিয় খারাপ ভাববে,,এটাই স্বাভাবিক,,,তার উপর তার মা এমনিতেও আরহামকে নিয়ে তাকে সন্দেহ করে,,,,
আরহাম চোখের ইশারায় মিনতি করে আস্তে করে নুবার মুখ ছেড়ে দিলো,,,নুবা কম্পিত ঠোঁট নাড়িয়ে বললো
_আ,,আমি ওয়াশ রুমে মা,,,
হাজেরা এসে ওয়াশরুমে ধাক্কা দিলো,,,দুই জনেই কেঁপে উঠলো,,,নুবা একটু বেশি ভয় পেলো,, হাজেরা রেগে বললো
_ কখন ডুকেছিস তুই,, এখনো বেড় হসনি নাকি,,
নুবা ভেজা কন্ঠে বললো
_ হয়ে,, হয়ে গেছে,,,,
হাজেরা বেগম ক্লান্ত কন্ঠে বললো

_ দেখি মা দরজাটা খুল একটু ডুকতে দে,,আগে আমাকে দুই মগ পানি ডালতে দে,,ঘেমে একাকার হয়ে গেছি আমি,,শরীরে পানি না ডাললে শান্তি লাগবে না,,মাথাটাও ঘুরছে রে মা,,,
সাথে সাথে নুবার কপাল পেয়ে পানির সাথে ঘাম গড়িয়ে পড়লো,,দুই জনেই দিশেহারা হলো কি করবে,,
হাজেরা আর এক বারি মেরে বললো
_ আরে বান্দির বাচ্চা বেড় হ,,মরলে বেড় হবি,,,আগে মাকে একটু ২ মগ ডালতে দেখ,,,
নুবা ভয়ে অজ্ঞাত হয়ে যাবে এখন,,কি করবে সে,,, আরহামের রাগে মাথার রগ ফুলে উঠলো ইচ্ছা করলো দরজাটা খুলে বলতে
_ আসুন ভিতরে আসুন,, দেখে যান আপনার মেয়ে আর মেয়ের জামাই যে romance করছে,, আসুন আসুন,,,
আরহাম চোখের ইশারায় নুবাকে কিছু একটা বলতে বললো,,নুবা কি বলবে ভেবে পেলো না,,,আগে এক হাত দিয়ে আরহামকে দূরে সরলে বললো,,
আরহাম ধীরো পায়ে দূরে সরে যেএ অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়ালো,,নুবা বুকে হাত চেপে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হ,,হয়ে গেছে মা,,ড্রেস,, ড্রেস চেঞ্জ করছি,,,,
হাজেরা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ তাহলে তাড়াতাড়ি বেড় হ ,,,

বলেই আমিনা বেগম যেএ ফ্যান ছেঁড়ে বিছানা বসলো,,হালকা শব্দে তা নুবা টের পেলো যে তার মা বিছানায় বসেছে,,,নুবার কলিজা কেঁপে উঠলো এখন এভাবে রুমে বসে থাকলে কি করবে সে,,,
আরহাম নুবার দিকে ফিরে তাকালো,,নুবা ভয়ে ওখানেই লেতুর মেরে বসে পড়লো,,, আজকে তার শেষ দিন,,,নুবাকে এভাবে ভয়ে নেতিয়ে পড়তে দেখে আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ফিসফিস করে বললো
_ আসন পেতে বসেছে তোমার মা,,বেড় হবো কি করে আমি,,,
নুবা চাদর দিয়ে নিজেকে পেঁচিয়ে দুই হাত মাথায় চেপে ধরলো,,, লজ্জায় তার মাথা কাঁটা যাচ্ছে,,,এতোটা জঘন্য পরিস্থিতি কখনোই হয়নি তার সাথে,,,নুবা রাগ হচ্ছে চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,,যেনো চোখ দিয়ে আরহামকে ধুয়ে দিচ্ছে,,,
আরহাম নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমার মাকে রুম থেকে বড় করো,,,
নুবা রাগে ফেটে পড়ে পাশে পানির কল ছেড়ে দিলো যাতে আওয়াজ বাইরে না যায়,,পরপর ফিসফিস করে বললো,,

_আপনাকে এখানে আসতে কে বলেছে,,নিজে ফাসলেন সাথে আমাকে নিয়ে,,,মা দেখলে কোনো একটা বাহানা বানিয়ে দিতেন,,আর আপনি রুমে আসছিলেন কেন,,,আজ আপনার জন্য দ্বিতীয় দফা যদি আমার চরিত্রে দাগ পড়ে তবে আমি শুধু ঘৃনার পত্র হবেন,,,রুমে কেন আসছিলেন,,, অমানুষ কোথাকার,, অসভ্য,,, ahhhhhh,
নুবা চিৎকারো করতে পারলো না,,বুক ভেঙ্গে কান্না আসছে তার,,কি একটা অবস্থা,,,নুবার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো কি করবে,,
এরকম একটা পরিস্থিতির ভিতরেও আরহাম শয়তানি হাসি দিয়ে বিরবির করে বললো
_ হেই নুবু এখন যদি আমি দরজাটা খুলে দেই,, তোমার মা আমাদের এভাবে দেখে নেয়,,আর যদি আমাদের কট Marriage হয়ে যায়,,তবে কেমন হবে,,,আমি যদি শার্টের দু একটা বোতাম খুলে নি তবে আরো ভালো হবে,,সবার বুঝতে সুবিধা হবে,,,

এমন একটা মূহুর্তে আরহামের মুখে এরকম জঘন্য একটা কথা শুনে নুবার গা গুলিয়ে আসলো,,,দুই হাত দিয়ে চাদর কাঁধের থেকে টানটান করে বুকের সাথে চেপে ধরে বললো
_ জঘন্য হবে,, এরকম কিছু করলে আপনাকে কখনোই আমি মাফ করবো না,, আমার চরিত্রে দাগ লাগলে আপনি শুধু আমার কাছে ঘৃনার পত্রই থাকবেন,,,, জঘন্য মানুষ,, জঘন্য মনমানুসিকতা,,মা ঠিকি বলে আপনার ব্যপারে,,আপনি আসলেই একটা অভদ্র তাই সবসময় আপনার থেকে দূরে থাকতে বলে,,,কেন যে মায়ের কথা শুনলাম না,,,
নুবার চোখে মুখে রাগ আর ধিক্কার প্রকাশ পেলো যা আরহাম চায় না,,,একদমি চায় না,,সে তো fun করে কথাটা বলেছিলো তবে হয়তোবা নুবা মজার মুডে নেই,,আর এরকম পরিস্থিতিতে কোনো ভদ্র মেয়ে কি মজার মুডে থাকবে,,,

নুবা মাথা নিচু করে বিরবির করে বললো
_ এতো কট খাওয়ার সখ,,এখন যদি বাইরে বেড় হয়ে আমি বলি যে,,আপনি আমার রুমে এসে,আমারি ওয়াশরুমে ডুকে আমার সাথে উল্টা পাল্টা কিছু করার চেষ্টা করছেন তখন কেমন হবে,,,হুম,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ খারাপ হবে না,,তবু বিয়ে তো পাক্কা,,, এরকম কিছু বললে তোমাকে কে বিয়ে করতে চাইবে শেষ পর্যন্ত আমাকেই করতে হবে,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬০

নুবা রাগি চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ছি,, ইদানিং আপনি অতিরিক্ত করছেন,,আমি আপনার বাবার,,,,
তখনি হাজেরা গেট ধাক্কা দিয়ে বললো
_ হয়নি তোর,,,আর কত খন,,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here