নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন
আরহাম শব্দ ব্যায় না করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,
একটা নীর রাঙ্গা শাড়ি,,হালকার উপর কাঁচ করা,,সাথে মেচিং সব কিছু দেওয়া,,,চুরি,,কানের দুল,,গাজরা,,,তাও কাঁচা ফুলের,,সাথে একটা ছোট্ট চিরকুট,,যা নুবা খুলে দেখলো
মিনি হাতি(নুবু)
জানি আমার কিছু আচরণ, কিছু কথা তোমাকে কষ্ট দিয়েছে। হয়তো রাগের মুহূর্তে এমন কিছু বলে ফেলেছি, বা করে ফেলেছি,যা তোমার মনে আঘাত করেছে। কিন্তু বিশ্বাস করো, তোমাকে কষ্ট দেওয়া কখনোই আমার ইচ্ছে ছিল না।
সেদিনের ঘটনার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।
আমার ভুলগুলো ক্ষমা করে দিও নুবু। আর sorry টা গ্ৰহন করলে বিকাল ৪ টায় শাড়ি পড়ে ছাদে আসবে আমি আর আয়ার অপেক্ষা করবো,
Sorry নুবু…
আরহাম
চিরকুটা পড়ে নুবার হতভম্ব হয়ে যাওয়ার পালা,,এই বেডা এতো সুন্দর করে sorry বললো,,নুবার তো নিজেকে especiall মনে হলো,,, পরপর নুবা খেলায় করলো (মিনি হাতি) লেখা,,,নুবার মুখ কালো হয়ে গেলো,,,সব কিছু পাশে রেখে মোবাইল হাতে নিয়ে বললো
_ তোর gift এর গুষ্টি উদ্ধার করি,,মিনি হাতি,,,নিজে যে ষাঁড় সেটা চোখে পড়ে না,,, অভদ্র অভদ্রই থাকে,, যতসব,,,
আরহাম নিজের চেক দিচ্ছিলো নুবার রিয়েকশন কেমন হয় তবে তার মন টাই ভেঙ্গে গেলো,,এবারো সে হেরে গেলো,,,কেন যে মিনি হাতি লিখতে গেলো,,
দুপুর ঠিক ৩:৩০ ,,,নুবা শাড়ি পড়েছে,,, হ্যাঁ,,,সে শাড়ি পড়েছে,, কারণ শাড়িটা তার প্রচন্ড পছন্দ হয়েছে,,হাজেরা নিজেও সাহায্য করেছে পড়তে,, আজকে বিকাশ টুকু মায়ের কাছ থেকে পায়ে ধরে সময় নিয়েছে নুবা,, আজকে যাতে তাকে একটু বাঁধন ছাড়া রেখে,,,হাজেরা না করেনি,,সে বুঝে রুমে বন্দি থাকতে তার মেয়ের ভালো লাগে না,,,
নুবা শাড়ি পড়ে চুল গুলো বেনি করে নিলো অনেকটা গড়ম পড়েছে,,সাথে বরাবরের মতো হালকা সাজ,,,
আরহাম ক্লান্ত শরীরে সিরি দিয়ে নামছে,,এই নুবাকে সে হাত করতে পারবে না তার এখন ওকে উঠিয়েই নিয়ে যেতে হবে,,ভেবেই আরহাম মনে মনে প্লান করতে শুরু করলো,,,,
এদিকে দুই সিরি নিচে নামতেই চোখে পড়লো পরি আরহামের দেওয়া হালকা গোলাপি শাড়ি পড়েছে,,নুবার টায় নীল,,বাকি তিন জনেরটা খোলাপি,,
পরিকে ভীষণ সুন্দর লাগছে লম্বা চুল গুলো ছাড়া তার,মুখে হালকা মেকআপ,,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,যাকে পড়ার জন্য দিয়েছে সে পড়লো না অন্য জন পড়ে বসে আছে,,,
পরপর উপর থেকে ডাক আসলো,,
_ ভাইয়া কেমন লাগছে,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে পিছনে তাকাতেই দেখলো আরশি আর ইশিতা নেই দাঁড়িয়ে আছে তারাও শাড়ি পড়েছে,,শাড়ি এমন একটা জিনিস,, মেয়েদের এমন একটা ইমোশন যে নতুন শাড়ি না পড়লে শান্তি লাগে না,,ইশিতা বিশেষ করে পড়েছে আরাফ ৫ টার দিকে বাড়ি ফিরবে তাই,,তার উপর আরশা আর ইশিতা প্লান করেছে ছবি টবি তুলবে তাই,,
এদিকে পরি ওদের দুজনকে সেম শাড়ি পড়তে দেখে স্তব হয়ে গেলো,,সে তো ভেবেছিলো আরহাম এটা তার জন্য এনেছে,,,আমিনা তো তাই বললো,,সবার জন্য যে এনেছে এটা তো সে জানতো না,,,
আরহাম মুখ বিকৃত করলো,,,সবাই পড়েছে তবে যার জন্য এনেছে সেই পড়েনি,,,,তবে আরহামকে আশ্চর্য করে দিয়ে লিভিং রুমে আস্তে আস্তে হাঁটতে থাকা পরির পাশ কাটিয়ে হালকা নীল রঙা শাড়ি পড়ে নুবা এগিয়ে আসলো,,,হাতে মুঠ চুরি,,,কানে দুল,,বেনিতে গাজরা,,,বড্ড লাগছে তাকে,,, আরহাম সামনে তাকাতেই স্তব হয়ে গেলো,,সে আশা করেনি নুবা পড়বে,,, এদিকে আমিনা বেগম করিডোর দিয়ে নিচে তাকিয়ে ছিলো,,পরি আর নুবাকে এক সাথে আসতে দেখে সে কেঁশে উঠলো,,,আহা কি এক সুন্দর দৃশ্য,,,
নুবা সিরি বেয়ে উপড়ে এসে একটু ভাব নিয়ে বললো
_ কেউ একজন বলেছিলো sorry gift গ্ৰহন করতে ,,
বলেই উপরে আরশি আর ইশিতার কাছে চলে গেলো,,পরির মুখটা চুপসে গেলো তার মানে সবার জন্য আনা হয়েছে,,,
নুবা শাড়ি পড়তো না,,তবে শাড়িটা পছন্দ হয়েছে তার,,তার উপর আরহামের মাথার যে ২/৩ টা তার ছিরা সে জানে তাই এই সব কিছু সে serious না নিয়ে ভুলে গেছে,,, এরকম তার ছিরা মানুষদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা উত্তম
আরহাম চোখের পলক ফেলে মুচকি হাসলো,,,
পরি এক পলক আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমি ভেবেছিলাম শুধু আমার জন্য এনেছে তবে,,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সবার জন্যই এনেছে,,এখন আমার কি করার,,,
পরি মুখ কালো করে বললো
_ নুবারটাও কি,,
_ হ্যাঁ,,
পরি একটু ভেবে বললো
_ তাহলে ওরটা আলাদ কেন,,, আমাদের তিন জনেরটা তো সেম তবে ওর নীল শাড়ি এমন কি কাঁচা গাজরা,,,শাড়িটাও বড্ড সুন্দর,,,
আমিনা বেগম সব বুঝতে পারলেও মৃদু কন্ঠে বললেন
_ এটা তো আরহামি জানে আমি আর কি বলবো,, তুমি বরং তোমার কাজে ধ্যান দেও,,,
আরশি,,ইশিতা,,আর পরি বাগানে,,৪ টা প্রায় বাজে তারা কিছু ছবি তুলছে,,নুবা বলেছে একটু পরে আসবে সে,,,
আরহাম ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে,,নুবা এসেছে মাত্র,,,তবে আয়রাকে না দেখে সে মুখ কালো করে বললো
_ আপনি বলেছিলেন আয়রাকে নিয়ে আসবেন,,
বলতে বলতে নুবা সামনে এসে দাঁড়ালো,, আরহাম নুবাকে এক পলক দেখে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ তুমি আমার মেয়েকে নিয়ে যতটা আগ্রহ দেখাও ততটা আগ্রহ যদি আমাকে নিয়ে দেখাতে তবে আমি কিন্তু mind করতাম না,,,
নুবা মুখ চোখে কালো অন্ধকার নামিয়ে এনে বললো
_ আপনি জানেন আপনার চরিত্রে যে সমস্যা আছে,,,ঘড়ে হবু বউ বসে আছে তাকে রেখে বাচ্চাদের উপর লাইন মারছেন,,বুঝি সব বুঝি,,,
আরহাম একটু এগিয়ে এসে বললো
_ কোন দিক দিয়ে তোমাকে বাচ্চা মনে হয়,,আজ বিয়ে দিলে কার বাচ্চার মা হবে,,,
নুবা মুখ উঁচু করে বললো
_ বাচ্চা না আমি,,তবে আপনার ক্ষেত্রে তো বাচ্চাই ,,কোথায় ৩৫ আর কোথায় ১৯,,, হাহাহা,,,
নুবা ব্রিটিশের মতো হাসলো,,, আরহাম পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে রইলো,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা যাই,,আসতে বলেছিলেন আসলাম এখন টাটা,,,
নুবা পিছনে ঘুরলেই আরহাম নুবার শাড়ির আঁচল টেনে ধরলো,,নুবা ভুরু কুঁচকে পিছনে ফিরলো,,আর শাড়ির আঁচলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ I am only 32 years old, not 35,,,,
নুবা ভদ্রতা বজায় রেখে বললো
_ সেই একি তো,,,১৯ /২০ এর পার্থক্য,,,
আরহাম আঁচল টা আর একটু টেনে সুধায়,,,
_ হতে পারে তবে trust me আমি এতোটা দুর্বল না,, সবকিছু সামলে নেওয়ার মতো ক্ষমা আছে,,,বুড়ো ভাববেন না,,, অন্ততপক্ষে ৬০ এর আগে,,,
নুবা আর চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_আঁচল ছাড়ুন,,,
_ যদি না ছাড়ি,,,,
নুবা নিজে শাড়ির আঁচল ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
_ বারবার আপনার বেয়াদবি গুলো আমি বুঝেও না বুঝার ভ্যান করে উপেক্ষা করি,,তবে ভাববেন না আমি ছেড়ে দিবো,,,মাঝে মাঝে আদিখ্যেতা করি তবে বাচ্চা নই আমি,,,, শুধু আয়রার জন্য,,,,
নুবার চোখে মুখে কঠোর ভাব,,তার সমস্যা আছে দেখে নুবা বারবার তাকে উপেক্ষা করে,, ভাবে বাদ দেওয়া যাক ,, মানুষ টা একটু sick ,,,তার উপর আয়রা,,এই নামটা ভেবে সে সব বুঝেও না বুঝার ভ্যান করে তবে এই চোখ দুটো যে একটা আকাঙ্ক্ষায় ভরা তা সে বুঝে,,তবে আকাঙ্ক্ষাকা কি সেটাই ধরতে পারে না,,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চলে যেতে নেয়,, কিন্তু আরহাম যেএ আটকে নেয় তাকে,,হাত ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে তার কোমড় চেপে ধরে,, হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা অনেকটা কেঁপে উঠে,, চোখ তুলে আরহামের দিকে তাকায়,,,
আরহাম ঝুঁকে এসে শান্ত কন্ঠে সুধায়,,
_ সুন্দর লাগছে,,,
নুবা চায় আরহামের শিতল চোখের দিকে পরপর মৃদু কন্ঠে বলে,,,
_ কথাটা পরি মেমকে বলা উচিত ছিলো,,
আরহাম নুবাকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে বললো
_ আপনি বাচ্চা নন,,,সব বুঝেন,,তবে আমাকে বুঝেন না,,একটু তাকান আমার দিকে,,বুঝার চেষ্টা করেন,,আমি তো সব প্রকাশ করতে পারছি না,,,
নুবা আরহামের পেশিবহুল বুকের ডান পাশে নিজের বাম হাত দাঁড়া খামচে ধরলো,,,আর বিরবির করে বললো
_ এখানকার মাংসের ভিতরে কাঠের টুকরো ঢুকে গেছিলো,,তিন টা সেলাই পড়েছিলো মনে আছে,,,
আরহাম নিজের ডান হাত নুবার গালে ছুঁইয়ে বললো
_ বুঝিস না আমাকে,,,এই দিকে তাকা,,,দেখ আমি কি চাইছি,,,
নুবা আরহামের বুকে ধাক্কা দিয়ে বিরবরি করে বললো
_ চরিত্রহীন,,,
আরহাম ছেড়ে দিলো না তাকে,,, একদম নুবার নিকটে যেএ বললো,,,
_ শুধু চরিত্রহীন,,,,নাকি অন্য কিছু,,,
নুবা প্রশ্ন বিদ্ধ চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে অস্থির কন্ঠে সুধালো,,
_ চাইছেন কি আপনি,,, ইদানিং এতো কাছে কেনো আসছেন,,,এটা কি যথার্থ,,, এগুলো আমার সাথে মানায় না,,,পরি,,,,,
আরহাম নুবার নড়তে থাকা ঠোঁট চেপে ধরে বললো,,
_ চুপ,,,বুঝে নেও ,,,বুঝে নেও নুবু,,,
আরহাম উত্তেজিত,, বিচলিত হয়ে বললো কথা টুকু,,
নুবা চেয়ে রইলো,,,তবে বিশ্বাস করতে পারলো না কারণ সে কাউকে বিশ্বাস করে না,,
নুবাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরহাম অনেকটা এগিয়ে এসে বললো
_ বুঝতে পারো নুবা,, trust me আমি তোমাকে খুব ভালো রাখবো,,i don’t know why,, কাউকে আমার এরকম ভাবে ভালো লাগনি,,,কিন্তু তোমাকে লেগেছে,, তুমি বুঝতে পারছো,,,
নুবা চোখ টিপটিপ করে উঠলো,,নুবাকে এরকম নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরহাম এগিয়ে গেলো,,, অনাকাঙ্ক্ষিত এক উদ্দেশ্যে,,তার মনে জ্বলন্ত আগুন নিভে গেছে,,মনে হচ্ছে সে বাজি মেরে ফেলেছে তবে সবকিছু কি এতোটাই সহজ,,,
আরহাম যখন নুবার কমল ঠোঁটের একদম নিকটে এগিয়ে আসলো,,,নুবা ফট করে মুখটা সরিয়ে নিলো,,,তাকে ঠেলে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলো,,, আরহাম শুকনো ঢোক গিললো ,, ইস্ একটুর জন্য মিস্ হয়ে গেলো,,এই মেয়েটা এমন সময় সরে গেলো,, উফ্,,,
নুবা সরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আপনি নিজেও জানেন না আপনি কতটা অসভ্য,,আর আমার কথায় আসি,,আমি দ্বিতীয় বার ভুল করতে চাই না,,তাও এই বংশের মানুষদের প্রতি,, আপনার এখন পরি মেমের উপর ধ্যান দেওয়া উচিত,,সে পারফেক্ট,,,
নুবা কথা শেষ করে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে চলে যেতে নেয়,,, আরহাম নুবাকে পিছন থেকে যেএ আঁকড়ে ধরলো,,নুবার বুকটা ধুকপুক করে উঠলো,,আপনা আপনি চোখ বন্ধ হয়ে গেলো তার,, আরহাম নুবার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে বললো
_ তোমাকে ছাড়া কিছুই দেখছি না আমি,,,
নুবা কেমন দুর্বল হয়ে পড়লো,,ভয়ও লাগলো,,, কিছু করে না বসে,,সেই ভয়ে বিরবির করে বললো
_ সব আবেগ আর মোহ আপনার
_ সুন্দর মানুষের মোহ পড়া যায়,,,
_ তবে কি আমি অসুন্দর,,,
_ তোমার কথা ঠিক হলে পরিকে রেখে তোমাকে চাইতাম না, তুমি কি বুঝো না সবসময় কেনো শুধু তোমার পিছনে ঘুরি,,ইনিয়ে বিনিয়ে কেনো তোমার কাছে যাই,,,সব থেকে তোমাকে কেন প্রয়রেটি দেই,,
নুবা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো,,
_ এই জন্য সবার থেকে আলাদা কিছু উপহারে ছিলো,,,
_ হুম,,,
অতঃপর নিরবতা কাটলো,,নুবা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো আরহাম বিরক্ত হয়ে বললো
_ স্থির হয়ে একটু দাঁড়াও তো,,
নুবা ভারি কন্ঠে বললো
_ পরপুরুষ হয়ে এভাবে আচরন করছেন,, আপনার কি মনে হয় এতে আমি সাই দিবো,,,
_ সাই দিতে বলিনি দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছি,,,
_ ঘৃনা হচ্ছে please ছাড়ুন,,আর নিজের রুচি ঠিক করুন,,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ ইনডিরেক্টলি প্রপোজ করলাম,,, উত্তর দেওয়া কি উচিত না,,,
নুবা মাথা নিচু করে বললো
_ খুব বাজে ভাবে আহত হয়েছি,, দ্বিতীয় বার না,,আর আপনিও কম করেননি আমার সাথে,আমি কিছু ভুলিনি,,,আর না ভুলবো,,,
আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
_ তবে না,,,না মানে না,,,
নুবা ফিরে তাকিয়ে অবিশ্বাস কন্ঠে বললো
_ কবে থেকে এই সব,,,
আরহাম নুবার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ জানি না হঠাৎ করেই,,,
_ আপনি বিবাহিতা,,,এক বাচ্চা আছে,, এমন কি আবারো বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন,, লজ্জা হওয়া উচিত,,,
আরহামের কাছে উত্তম নেই,,, আরহাম চাপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ বিবাহিত,,আয়রা,,বয়স এগুলোই সমস্যা,,
নুবা মাথা নিচু করে বললো
_ আমি অত্যান্ত দুঃখীতো,, আমার মনে আপনার জন্য কোনো অনুভূতি নেই আর না হবে,,,আসলে আমি এমন কিছু চাই না,,,আশা করছি দ্বিতীয় বার আমাকে বিব্রত করে নিজের অনুভূতিকে ঠুনকো করবেন না,
_ ফিরিয়ে দিবে,,,
নুবা দুই কদম পিছিয়ে যেএ কাতর কন্ঠে বললো
_কারো প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত অনুভূতি আশাই স্বাভাবিক তবে সময়ের সাথে সব পরিবর্তন হয়,,, হয়তোবা আয়রাকে রেখেছি,,এতো কিছুর পড়ো সবকিছু মেনে নিয়েছি,, মনে কোনো ক্ষোপ রাখিনি তাই হয়তোবা,,এটা স্বাভাবিক,,,তবে আশা রাখছি এর পর থেকে আমার থেকে দূরে থাকবেন,,,বারবার ছুঁয়ে কুলুষিত করবেন না,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে এগিয়ে এসে বললো
_ সমস্যা কি,,,
নুবা দুই কদম পিছিয়ে গেলো আবারো, আর বললো
_ কাছে আসবেন না,,, আপনার নিয়ত আমি কিছুটা হলেও ধরতে পেরেছিলাম,,তবে সবকিছু হাসি মজায় উড়িয়ে দিয়েছি এই ভেবে যে এটা সময়ীক,,তবে আপনি অতিরিক্ত করছেন,,, আমাকে স্পর্শ করান অধিকার আপনার নেই,,, দুই দিন ভালো মতো পরি মেমের সাথে আলাপ করুন দেখবেন আমার উপরে আশা বাতাসের মতো অনুভূতি উড়ে গেছে,,,
নুবা একটু থেমে বললো
_ এবার ভালো মতো বুঝিয়ে দিলাম তবে দ্বিতীয় বার আমি এভাবে বুঝাবো না,,আশা রাখছি আপনি বুঝবেন,,, আমার মতে আমার থেকে আপনার জ্ঞান বেশি,,, নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন,,,যে কি চান আপনি,, দেখবেন আপনা আপনি আমার কথা মাথা থেকে সরে যাবে,,,
আরহাম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ সরবে না,,,আমি বিয়ে করতে চাই তোমাকে,, তোমার মতামত কি,,,
হঠাৎ আরহামের এরকম কথায় নুবা পিলে চমকে উঠলো,,,নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে অনুভব করলো,,এই লোক বড্ড খারাপ এই জন্য এভাবে তার পিছনে পড়ে ছিলো,,,বারবার রুমে যাওয়া,, মোবাইল gift করা,,শাড়ি দেওয়া,,আয়রাকে পরির কাছ থেকে নিয়ে তার কাছে দেওয়া,, খাবার টেবিলে তাকিয়ে থাকা,,,গত কয় এক মাস ধরে সে এরকম করছে,, ইদানিং পরি আসাতে আরো বেড়েছে,,,এই প্রায় ১ মাস আরহাম জ্বালিয়ে খাচ্ছে তাকে,,,
আরহাম নুবার নিরবতা দেখে অস্থির হয়ে বললো
_ উত্তর চাইছি,,,
নুবা মনে মনে হাসলো,,তাকে কুকুর কামড় দিয়েছে নাকি যে,,সে আবারো একি ভুল করবে,,তাও এই বাড়ির ছেলের সাথে কখনোই না,,,নুবা দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_ না,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার হাত ধরার চেষ্টা করে বললো
_ সমস্যা কি ,,সুখে রাখোব,,
নুবা হাত সরিয়ে নিয়ে বললো
_ পুরো সমস্যাটাই আপনি,,
আরহাম আবারো এগিয়ে এসে বললো
_ কি করেছি আমি,,, মেরেছিলাম তাই সমস্যা,,নাকি সেদিন ভুল করে স্পর্শ করেছিলাম তাই সমস্যা,,নাকি আজকে না বলে ছুঁয়ে দিলাম তাই সমস্যা,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,, আরহামের প্রতি নুবার কোনো ক্ষোপ নেই,, কারণ মানুষ টা ওতোটা খারাপ না,,না হলে সেদিন ওয়াশরুমে সুযোগ ছিলো,,, কয়দিন আগে আরহামের বেডরুমে,,, আরহাম সুযোগ তুলেনি কখনোই,,, বরং মেরেছে দুটো কথা বলে শাসন করেছে,,,আরহামের জায়গায় আরাফ থাকলে নিশ্চিত সুযোগ নিতো,,
তবে নুবা আরহামকে নিয়ে কিছু অনুভব করে না,,আর করলেও বুঝতে চায় না,,সে আর কনো ভাবেই এই সবে জাড়াতে চায় না,,, রেজাল্ট দিলে ভালো একটা ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে নিজেকে নিজের জন্য আর নিজের মায়ের জন্য গড়ে তুলতে চায়,,,সে আর কোনো পুরুষের সঙ্গে জড়াতে চায় না,,কখনোই না,,,আরহামের মিষ্টি কথায় দুষ্টু ভাব,,,যাতে গলে যাবে না নুবা একদমি না,,তবে আবারো আহত হবে সে,,
আরহামের বুকটা ছ্যাত করে উঠতে লাগলো,,বিরবির করে বললো
_ used আমি,, পছন্দ না,,তবে সুযোগ দিলে নিরাশ করবো না,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বেশ রাগি কন্ঠে বলল
_ আমি অবিবাহিত,,, আপনার মতো বিবাহিত এক বাচ্চার বাপকে কেন বিয়ে করতে যাবো,,, আমার এমন দিন চলে আসেনি যে আপনাকে বিয়ে করবো,,তার উপর আপনার বয়সও বেশি,,,যখন আপনার ৪০ তখন আমার ২৬/২৭ চলবে,,,আমি কেন আপনার মতো মানুষ কে বিয়ে করতে যাবো,,
নুবা একটু থেমে বললো
_ আয়রাকে আমার ভালো লাগে তাই বলে এই না যে আপনাকে বিয়ে করে পারমানেন্ট ওর মা হয়ে যাবো,,, বাচ্চা কার না ভালো লাগে,,সবার মতো আমারো লাগে,,তবে ও আমার বুকের দুধ খায় তাই অন্যের কোলে দিলে একটু ঈর্ষা হয়,, কারণ ও তো আমার না,,আর না আমার থাকবে,, কয়দিন পর পরি মেম নিয়ে নিবে তা চিন্তা করে আমার খারাপ লাগে,,,এর থেকে বেশি কিছু না,,,আমি চাই না বাড়ির মানুষ এই সব জানুক এখানেই থেমে যান,,
নুবার কথা শুনে আরহামের বুকটা ফেটে উঠলো,,, কেমন জানি কষ্ট গুলো গলার কাছে এসে আঁটকে গেলো,,,তবু অনেক কষ্ট করে বললো
_ তার মানে আয়রাকেও তুমি ভালোবাসো না,,,
নুবা সবকিছু থেকে বাঁচার জন্য বললো
_ না,,ও বাচ্চা আমার ভালো লাগে,,তবে নিজের মেয়ে তো ভাবি না,,ওর জায়গায় অন্য কেউ হলেও আমি এরকম করতাম,,,,
আরহাম ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ রিজেক্ট করলে,,,
বিরক্ত নিয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ একসেপ্ট করার কি আছে আপনার ভিতরে,,আপনি বা আপনার মেয়ে কখনোই আমার কাছে বিশেষ কিছু ছিলেন না,,আপনি অতিরিক্ত ভেবে ফেলেছেন তাই হয়তোবা মনে ভুল ধারনা সৃষ্টি হয়েছে,, আমার কোনো ইচ্ছা নেই আপনার বউ হওয়ার,,,আশা করছি আমার কথা বুঝতে পারবেন,,আসি,,
কথা টুকু শেষ করে নুবা চলে যেতে চাইলো,,,তবে আরহাম যেতে দিলো না,,,নুবার এক হাত চেপে ধরে কাতর কন্ঠে বললো
_ আমার তোমাকেই লাগবে নুবু,,
নুবা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ হাত ছাড়ুন,,,,
_ আমার অনুভূতিটাকে উপেক্ষা করো না,,আমি মজা করছি না প্রথম বার কারো জন্য আমার এরকম ফিল হচ্ছে,,,বোঝার চেষ্টা করো,,,
নুবা হাত ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে বললো
_ সমস্যা কি আপনার,, বাংলা কথা বুঝেন না নাকি,,,
আরহাম মানলো না,,নুবার কমড় চেপে ধরে নিজের সাথে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করলো,,,নুবা প্রচন্ড রেগে তাকে ধাক্কা দিলো,,,,এতো বুঝানোর পড়েও বুঝতে চাইছে না,,
আরহাম মিনতি করে বললো
_ একবার সুযোগ দেও,,,
_ হাত ছাড়ুন,,,,
আরহাম পরপর নুবাক নুবাকে জরিয়ে ধরতে চাইলো,,আরহামের এরকম খাপছাড়া আচরণে নুবা অতিষ্ঠ হয়ে গেলো,,রাগে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো আরহামের গালে,,,পরপর রাগে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ আপনাকে আমার ভালো লাগে না বুঝেন না নাকি আপনি,,, আপনার মতো বিবাহিত মানুষ দের কথা ভাবলেও আমার গা ঘৃণ ঘৃন করে উঠে,,, বিয়ে করেছেন নিশ্চয় ভালোবেসে,,,যখনি প্রথম বউ চলে গেছে বা মরে গেছে এখন আসছেন অন্য মেয়ের পিছনে,, লজ্জা হওয়া উচিত,,,। ধোঁকা বাজ,, পরকিয়াকারী,,, দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়া সব মানুষরা একি কাতারে পড়ে,, চরিত্রহীন,,, বুঝলেন,,, চরিত্রহীন,,,
আরহাম চোখ বুজে আছে থাপ্পড় টা খাওয়ার পর সে শুধু চুপ করে আছে,,নুবার একটু থেমে বললো
_ আর কখনো আমার আশে পাশে আসবেন না,,নিজের রুচি ঠিক করুন,,কোথায় আপনার বয়স কোথায় আমার,,নিজের হবু বউ এর দিকে ধ্যান দিন,,,আর যদি কখনো আমায় বিরক্ত করেন তবে,,তবে আমি আপনার মেয়েকে ফিড করাতে পারবো না,,, দূরে থাকবেন আমার থেকে,,,নিজের বয়েসের খেয়াল রেখে কারো প্রতি অনুভূতি আনা উচিত ছিলো আপনার,,,
আরো কয় একটা কড়া কথা বলে নুবা শাড়ির আঁচল ধরে প্রায় ছুটে চলে গেলো,, আরহাম চোখ বন্ধ করে নিলো,,তবে রাগে শরীর ফাটছে তার,, রিজেক্ট করে দিয়ে গেলো,, রিজেক্ট করে দিলো,,,আরহামের রাগে শরীর কাঁপতে লাগলো,,,
নুবার বুকটা কাঁপছে,,,সে ভাবতে পারেনি সত্যি সত্যি আরহাম এরকম কিছু বলবে,,সে তো ভাবতো হয়তোবা এমন কিছু তবে আজ সে সত্যি সত্যি বলে ফেলবে ধারনার বাইরে ছিলো তার,,,
নুবা করিডোর পার করার সময় বহুদিন পর আরাফের সাথে দেখা হলো,,তাকে দেখে নুবার আরো রুহ উঠে গেলো এই পরিবার থেকে,,, বিশেষ করে এই বাড়ির ছেলের উপর থেকে,,,
নুবা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলেই আরাফ শয়তানের মতো বললো
_ বাআ,,কতদিন পর দেখা তাও এই রুপে দারুন লাগছে,,,চল আজকেই বাস,,,,,,,
ঠাস করে আরফের গালে আর একটা থাপ্পর পড়লো,নুবার এমনিতেই কেমন রাগে শরীর ফাটছিলো তার উপর আরাফের কথা,,আরফ হতভম্ব হয়ে গেলো,,নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ মুখের জবানে লাগাম টান জানোয়ার,,তোর ভাগ্য ভালো আমি এখনো মুখ খুলিনি,,,তাই এবার থেকে সাবধানে থাক,, কারণ তোকে জুতা পেটা করতে আমার ২ মিনিট ও লাগবে না,,,
আরফ নুভার দিকে রাগি চোখে তাকালো,,পরপর থাপ্পর মারার প্রতিশোধ নিতে রাগে নুবার গলা চেপে ধরলো,,, ছোট্ট দেহের নুবা ছটফট করে উঠলো,,
আরফ রাগি কন্ঠে বললো
_মা,,,, gi বেশি সাহস হয়েছে,,
নুবা রাগে হাত লাম্বা করে আরাফেকে খামছে ধরলো,, হঠাৎ এমন হওয়ায় আরফ নুবাকে ছাড়তে বাধ্য হলো,,
নুবা ফ্লোরে পড়ে কাঁশতে শুরু করলো,,,আরাফ রাগে আবারো এগিয়ে এসে নুবার চুলের মুঠি ধরে বললো
_ বিয়ে করিনি তাই বিগার উঠেছে তাই না,,,তোর যোগ্যতা আছে আমার বউ হওয়ার ,,তোর মতো মেয়ের সাথে যে প্রেম করেছি এটাই তো অনেক,,,,আবার বিয়ে করার স্বপ্ন দেখিস,, যোগ্যতা আছে তোর,,,
নুবা নাক মুখ কুঁচকে নিলো,, চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,রাগে হাসফাস করে বললো
_ তোর মতো জানোয়ারকে বিয়ে করবো আমি,,কক্ষনো না,,,
এর ভিতরে কারো পায়ের শব্দ হলো,,,যেনো রুম থেকে বেড় হচ্ছে কেউ,,,আরাফ নুবাকে ছেড়ে দিলো,,আরাফ ছাড়তেই নুবা কোনো মতে উঠে ছুটে চলে গেলো,,,
আরশি রুম থেকে বেড় হয়ে বাকানো করিডোর পার করে আরাফকে দেখে স্বাভাবিক কন্ঠে বললো
_ আজ এতো তাড়াতাড়ি আসলে যে ভাইয়া
আরাফ কোনো মতে বললো
_ ইশিতা কোথায়,,
_ ভাবি তো বাগানে,,
_ যেএ বল আমি আসছি,,
আরশি মাথা নেড়ে সরে গেলো,,মুখে ঘৃনার ভাব ফুটিয়ে বললো
_ ছি,,,
আরশি সবি শুনেছে,, করিডোরের অন্য পাশে দাঁড়িয়ে কান পেতে শুনছিলো সে,,তবে না জানার মতোই থাকবে সে,কোনো রকম ঝামেলা চায় না আরশি,,, তবে আরাফের প্রতি একটা ঘৃণা কাজ করলো আরশির,,
অতঃপর,, অতঃপর কি হলো,,,নুবা সেই রে রুমে ঢুকে শাড়িটাকে খুলে ছুরলো আর তা ছুঁয়ে দেখলো না,,,আরহামের দেওয়া মোবাইলটা অফ করে এক কোনায় রেখে দিলো,,
আরহাম শাওয়ার নিতে ঢুকেছে অবশ্য ঘন্টা খানিক আগে গোসল করেছে তবে নুবার কথা শুনে তার মাথা গড়ম হয়ে গেছে সাথে সে অনুভব করেছে এই মেয়ে তার জন্য না,,,
নুবার বলা কথা গুলো আরহামের কানে এখনো বিঁধছে,,, কেমন সুচের মতো তার বুকে আঘাত করছে,,জীবনের প্রথম কাউকে এভাবে চাইলো সে তবে সে এতো খারাপ ভাবে তাকে অপমান করলো,,,
কতটা আক্ষেপ নিয়ে আরহাম বলেছিলো,,নুবার এতো বলার পড়েও হাতটা ধরে বুঝানোর চেষ্টা করেছিলো তবে খুবি বাজে ভাবে তাকে অপমান করা হলো,, বয়সের পার্থক্য দেখা হলো,,সে বিবাহিত দেখা হলো,,আর ভাবতে পারলো না আরহাম,, এতোটা বুঝানোর চেষ্টা করলো,,,তবে বুঝলো না নুবা,,
আরহাম অনেকটা সময় নিয়ে শাওয়ার নিলো অতঃপর তাওয়াল পেঁচিয়ে,ওয়াশরুম থেকে বেড় হলো,,
তখন আমিনা বেগম রুমে,,ছেলেকে সেই সময় শুকনো মুখ নিয়ে ছাদ থেকে নামতে দেখে বুঝতে পেরেছিলো কিছু একটা হয়েছে তাই তো এখানে এসে বসে আছে,,কি হয়েছে তার,,,
আরহাম বেড় হয়ে মায়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে আলমারির কাছে যেএ ড্রেস বেড় করতে লাগলো,,,
আমিনা বেগম ছেলের নীরব মুখ দেখে মৃদু কন্ঠে সুধালো,,
_ কি হয়েছে,,,,একটু আগে না শাওয়া নিলো আবার,,আর তখন ওরকম কালো মুখ করে রুমে ফিরছিলি কেন,,,
আরহাম ড্রেস বেড় করতে করতে বললো
_ আমি পরিকেই বিয়ে করবো mom,,
ছেলের কথায় আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে বললেন
_ কি হলো আবার,,,মাস খানিক যেতে না যেতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন,,,
আরহাম মাথায় ঝিঝির বিন্দুর মতো পানি গুলো ঝেড়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ নুবা কখনোই আমাকে পছন্দ করবে না,,, আমার জন্য পরিই ঠিক আছে,,,বাদ দেও ডিভোর্স পেপার বানিয়ে সাইন করিয়ে নিবো,,,ও আমার জন্য তৈরি হয়নি,,,
আমিনা বেগম ছেলের ভাঙ্গা কন্ঠে হতভম্ব হয়ে গেলো,,, এগিয়ে যেএ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি হয়েছে,,, এমন দেখাচ্ছে কেন,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ বয়স বেশি আমার,,, বিবাহিত এক বাচ্চার বাপ, চরিত্রহীন,,আরো কত কি,,আমি ওকে সাহস করে বিয়ের কথা বলেছিলাম,,ও মুখের উপর না করে দিয়েছে,,এর পরে কোনো কথাই আসে না ওকে জোর করার,,,
আরহামের কন্ঠ ভেঙ্গে অসলো,,আমিনা বেগম ছেলের কন্ঠ শুনেই বুঝতে পাড়লো নিশ্চয় বেশ কড়া কথাই বলেছে নুবা,,আমিনা বেগম চিন্তিত হয়ে বললো
_ নুবা অপমান করেছে,,
আরহাম কাতর কন্ঠে সুধালো,,
_ না,,, সুন্দর মতো বুঝিয়েছে,,এখন তুমি একটু যাও,, আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে,,,
_ একটু পর সন্ধ্যার আযান দিবে,,
_ দিক,,, তুমি আয়রার খেলায় করে,,ঘুম থেকে উঠে অনেক কথা আছে তোমার সাথে,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,আর জোর করলো না ছেলেকে,,,পরপর পা উঁচু করে ছেলের কপালে চুমু খেএ দুই গালে হাত রেখে ছেলেকে শান্ত করার জন্য বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৪
_ যে আমার এমন সোনার টুকরোকে অপমান করেছে সে আর যাই হো ভালো মানুষ না,,,পরি অনেক ভালো,,ওর সাথে সুখে থাকবি,,,এই সব ফালতু চিন্তা বাদ দে,,পরি তোকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে,, তুই বরং ওর দিকেই ধ্যান দে,,মেয়েটা বড্ড লক্ষী,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো
নুবা এই ভরা সন্ধ্যায় শুয়ে আছে,,বিকালের ওই কাহিনির পর থেকে তার কিছুই ভালো লাগছে না,,এভাবে মানুষ টাকে বয়স নিয়ে অপমান করে,,, বিবাহিত বলে _
