নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন
উল্টা পাল্টা কিছু করে বসবে,,,
কেটে কিছু দিন,,,বিয়ের আর মাত্র সপ্তাহ খানিকের মতো বাকি,,এখন থেকেই আস্তে আস্তে সব গুছানো হচ্ছে,, যেহেতু অনেক বড় অনুষ্ঠান তাই আগে থেকেই সব গুছানো হচ্ছে,,,
আরশি: please please নুবা pleaseeee ,,
_ না না,, তুমি অনেক কামচর,,
_ আরে ধর না বাল,, আমার জরুরি কাজ আছে,,
বলেই আরশি জোর করে আয়রাকে নুবার কোলে ধরিয়ে চলে গেলো,,আরশি বেশ ধরিবাচ কোনো কাজ করতে চায় না,,, এমন কি আয়রাকে রাখলেও হাত ব্যথা পিঠ ব্যথার বাহানা দেয়,,সব কাজ এমন কি ফ্রি টাইমে আয়রাকেও রাখতে হয়
এই কিছু দিনে অনেক কিছু বদলে গেছে,,আরহাম বেশ শুধু বাংলা শিখেছে আগের মতো বাংইংলিশ কথা বলে না,,,আয়রার নুবা রা আরশির সাথে বেশ খাতির হয়েছে,,বিসেষ করে নুবার সাথে,,
সবাই যখন কাছে ব্যস্ত থাকে তখন নুবা চুপচাপ আয়রাকে নিয়ে বসে থাকে,, কারণ আরশি হলো কামচোর কোনো কাজ ঠিক মতো করতে চায় না শুধু পড়া লেখার বাহানা দেয়,,,
নুবা আয়রার গাল গুলো ছুঁয়ে দিলো বিরবরি করে বললো
_ বড্ড পাকা তুমি,,,খেতে চাও না,, শুধু কান্না,,কিভাবে সবার কাছে আমাকে বকা খাওয়াবে hmm ,,ফুপির মতো হয়েছো,, যেমন তোমার ফুপি সবসময় আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়,, হ্যাঁ,,তুমিও আন্টিকে ফাঁসিয়ে দেও,,
নুবার কথায় খিলখলি করে হাতসে লাগলো আয়রা,,,মেয়েটার সাথে গল্প করলে মেয়েটা বড্ড খুশি হয়,,,
আরশি ফিডার এনে আয়রার হাতে ধরিয়ে দিলো,,, কান্ত কন্ঠে বললো
_ এখন কার মতো ওকে একটু খাওইয়ে দে নুবা,,আমি পারের বার থেকে খাওইয়ে দিবো,,এখন আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে,,,
বলেই আরশি চলে গেলো,,নুবা বিরবরি করে বললো
_ এটা তো তোমার প্রতেকদিনের চাঁপা,,চাচিকে বলবো তোমার বদলে আমার সাথে অন্য কাউকে দিতে,, তুমি শুধু কাম চুরি করো
আরশি শুনেও না শোনার ভান ধরে চলে গেলো,,
নুবা আয়রার মুখের তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_ এই যে ফিডার দেখছে এখন উনার শুরু হবে এ্যাআআআআআ ,,, ঠোঁট ফুলালে একদম মাইর দিবো,,
আয়রা নুবার বুকে মুখ লুকায়,,সে খাবে না,,নুবা আয়রাকে ঠিক করে ধরে বললো
_ একদম পচামি করবে না ভদ্র মেয়ের মতো খেএ নিবে,, প্রতিদিন কান্না কাটি ভালো লাগে না কিন্তু আয়রা,, তোমার জন্য আমি বকা খাই,,,
কিন্তু কে শোনে কার কথা আয়রা ফিডার মুখেই তুললো না,,,আয়রা খেতেই চায় না,, সারাদিন না খেএ ক্ষুত ক্ষুত করে,,,
_ আয়রা,,,বড্ড ডিট তো তুমি,,খেতে বলছি না
নুবা আয়রার মুখে ফিবার চেপে ধরলো উল্টা কান্না করে উঠে,,নুবা ভয়ে আবার সরিয়ে নেয়,,,
নুবা এবার বহু চেষ্টা করে আয়রার মুখে ফিডার দিলো,,জোর করায় আয়রা একটু খেলো,, পরপরই গলগল করে বমি করে নুবাকে মেখে ফেললো,,এটা নতুন কিছু না,,খেতে গেলে এমনি করে
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ওরনা দিয়ে আয়রার মুখ মুছে আবরো ফিডার দিলো তবে এবারো আয়রা বমি করে দিলো,, পরপরই দুই হাত খিচে কান্না করতে শুরু করলো,,,
নুবা হাত থেকে ফিডার রেখে নুবাকে শান্ত করার চেষ্টা করলো,,তবে আয়রা চুপ হলো না,,, পরপরই আয়রা টাক ধরে গেলো,,হা করে আছে কিন্তু শব্দ করছে না মনে হচ্ছে চাইলেও শব্দ বেড় হচ্ছে না,,,নুবা বেশ ভয় পেলো,,
না পেরে আয়রাকে হালকা ঝকনি দিয়ে বললো
_ কি কি হলো,,আয়রা,,
ঝাকনি দেওয়াতে কাজ হলো আয়রা আবারো চিৎকার শুরু করলো,,, পরপরই আবার বমি করলো,,,নুবা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লো বমি করে কিন্তু এতো না,,আয়রা কেমন জানি ছটফট করতে লাগলো,,,নুবার পেটে টকবক করে শব্দ হচ্ছে,,যা আয়রা স্পট শুনতে পরাছে
নুবা বুঝতে পারলো পেটে সমস্যা হয়েছে,,, এদিকে আয়রার কান্না থামছে না দেখে নুবা প্রচন্ড ভয় পেলো,,আয়রার সাথে নিজেও কান্না করতে লাগলো,,,
আয়রার এরকম কান্না শুনে হাজেরা বেগম রান্না ঘড় থেকে ছুটে আসলো চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ কি কি হয়েছে কান্না করছে কেন
নুবা কাতর কন্ঠে বললো
_ জানি না মা,,ফিড করাচ্ছিলাম হঠাৎ করেই কান্না করছে সাথে ঢালা বমি,,,
হাজেরা বেগম আয়রাকে কোলে নিয়ে শান্ত কররা চেষ্টা করে বললো
_ কেন যে এই সব উটকো ঝামেলা ঘাড়ে নিস,,এখন যদি কিছু হয়ে যায় সব দোষ তোর হবে,,,
মায়ের কথায় নুবা আরো ভয় পেলো,,ভয় এটা না যে সবাই তাকে বকবে দোষারোপ করবে,,ভয় এটায় হলো যে আয়রার কিছু হয়ে যাবে,,,
হাজেরাও আয়রাকে থামাতে ব্যর্থ হলো,,গলগল করে বমি করছে,, শুধু সাদা পানি বেড় হচ্ছে পেট থেকে,,আর সাথে বেশ কান্না করছে,,আয়রার কান্নায় পুরো বাড়ি এক সাথে হয়ে গেলো,,,আরহাম বাইরের কাজ ফেলে দৌড়ে আসলো,,কামচোর আরশি এসেও হাজির হলো
আমিনা চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে রে,,, কান্না করছে কেন
নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ জানি না চাচি,,,ফিড করাচ্ছিলাম,, হঠাৎ বমি করে কান্না শুরু করেছে,,,
আমিনা আয়ারকে কোলে নেওয়ার আগে আরহাম যেএ আয়রাকে কোলে তুলে নিলো,,,বিচলিত হয়ে বললো
_ কি,,কি হয়েছে ,,,,দেখি ব্যথা পেয়েছো হ্যাঁ,,,
আরহামের দুনিয়া যেনো থেমে গেলো মেয়ের এই অবস্থা দেখে,,,
নুবা কান্না রত কন্ঠে বললো
_ হঠাৎ করেই এমন হলো,,আমি তো শুধু খাওয়াচ্ছিল,,
আরহাম রাগি দৃষ্টিতে নুবার দিকে তাকিয়ে খেকিয়ে উঠে বললো
_ তোমাকে কে বলেছে ওকে খাওয়াতে,,আমি তো আরশিকে বলেছি,,ও কোথায়,,,
আরশি অপরাধির মতো সামনে হাজির হলো,,আরহাম কন্ঠে বললো
_ তুই যদি আমার মেয়েকে না দেখতে পারিস বলে দি,,কেন বাইরের মানুষের ভরসায় ছাড়বি,,,
এর ভিতরেই আয়রা গলগলিয়ে বমি করলো,,আরহাম চিৎকার করে বললো
_ যদি আমার মেয়ের কিছু হয় তাহলে আমি সবকয়টাকে টুকরো টুকরো করবো,,
বলেই আরহাম হসপিটালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো,,পিছন পিছন আরশি আমিনা গেলো,,, শুধু চেয়ে রইলো নুবা আর হাজেরা,,,
আরহাম গাড়িতে বসে মেয়েকে বুকের সাথে জরিয়ে নিলো বিরবরি করে বললো
_ কিচ্ছু হবে না মা,,পাপা আছে তো,,
আরশি গাড়িতে বসেই কান্না করতে করতে ড্রাইভ করলো,,,আমিনা রাগি কন্ঠে বললো
_ কান্না না করে গাড়ি চালা,,, সবাইকে এক সাথে মর্গে পাঠাবি নাকি
হাজেরা ইচ্ছে মতো মেয়েকে বকছে,,৩/৪ টা ঠাসঠাস করে থাপ্পরও মেরেছে,,নুবা চুপচাপ বসে কান্না করছে
_ কেন যাবি তুই অন্যের পোলাপাইন কে ধরতে
নুবা ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ আমি ইচ্ছে করে ধরেছি নাকি,,আরশি আপু সবসময় আমার কাছে ধরিয়ে দেয়
_ ধরালেই নিয়ে নিবি নাকি,,বলতে পারিস না আমি পারবো না,, তুমি ওকে নেও আমি অন্য কাজ করি
_ আরশি আপুকে সবসময় বলি উনি আমার কথা বিশ্বাস দাম দেয়,,
হাজেরা মেয়েকে আর একটা ঢুয়া মেরে বললো
_আজ কিছু হোক ওর,,বলে গেলো শুনলি না টুকরো টুকরো করবে,,ভালো করলে কে করেছে আল্লাহ,, খারাপ করলে কে করেছে মানুষ,,,
_আমি ইচ্ছে করে করেছি নাকি,,
_কিছু হোক খালি,,,ব্যাগ রেডি করে রাখ বাড়িতে বেড় হতে আর বেশি সময় নেই,,,
আয়রা চুপচাপ ঘুমিয়ে আছে তাকে পেটের সমস্যার জন্য সিরাপ খাওয়ানো হয়েছে,,,তাই শান্তিতে ঘুমাচ্ছে,,
আমিনা আর আরহাম doctor এর সামনে বসে আছে,,আরশি আয়রাকে নিয়ে চুপচাপ চেয়ারে বসেছে,,,
Doctor নিজের চশমা ঠিক করে বললো
_ বাচ্চার বয়স কত
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ প্রায় দের মাস,,
_oh,, বাচ্চাকে কি বাইরের দুধ খাওয়ানো হয়
_ হ্যাঁ,,,
_ কেন,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কিছু বলতে নিলেই আমিনা বলে উঠলো
_ আয়রা হওয়ার কিছু দিন পর ওর আম্মু মারা যায়
Doctor মাথা ঝুকালো,,,আমিনা আগ বাড়িতে কথাটা বললো কারণ তার ছেলের মুখে টেকসই নেই কি কি বলে ফেলবে কে জানে,,,
Doctor কিছু সময় নিরব থেকে বললো
_ দেখুন মিসেস সব বাচ্চার সহনশক্তি বা হজম শক্তি এক হয় না,,, বাচ্চা এতো বড়োও না যে তাকে হজমের জন্য ওষুধ দেওয়া যাবে,,,তাই না,,
_ hmm__
_ বাচ্চা কি মায়ের বুকের দুধ পেয়েছিলো,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,
_ কয়দিন,,,
_ সপ্তাহ খানিক,,বেশি করে ৮/৯ দিন,,,
Doctor দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো বললো
_আয়রার health condition এতোটা ভালো না,,,টানা সপ্তাহ খানিক মায়ের বুকের দুধ খেয়েছে তাই সে বাইরের দুধটা হজম করতে পারছে না,,,আগেই বল্লাম সবার হজম শক্তি এক না,,আয়রা মায়ের বুকের দুধ সদরে গ্ৰহন করলেও বাইরের কৃত্রিম দুধটা নিতে পারছে না,,,তাই এরকম বমি,,খেতে না চাওয়ার প্রবনতা দেখা দিচ্ছে,,,এই ছোটো সমস্যা পরে বড় আকার ধারন করতে পারে,,, খাওয়ার মাধ্যমেই কিন্তু মানুষ বেঁচে থাকে পরে যদি এখাবারেই বেঘাত ঘটে তবে সমস্যা তো হবে
আরহাম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ কি করা যায়,,কোনো solution ,,
_ হ্যাঁ অবশ্যই সমাধান আছে, সমস্যা থাকলে সমাধান থাকবেই,,,
Doctor কিছু সময় লেখা লেখি করে বললো
_ দেখুন এখন আপনাদের সব থেকে বেটার হবে আয়ারকে মায়ের বুকের দুধ দেওয়া,,,এই একটাই সমাধান আছে,,ও তো আর ২/৩ বছরের বাচ্চা না যে যা ইচ্ছে তাই খাওয়ালেন,,,,আর doctor তো নাই করে দেয় ছটো বাচ্চাদের এই কৃত্রিম দুধ খাওয়াতে,,,
আমিনা বেগম নরম কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ বুঝতে পারছি তো,,এখন কি করবো বলেন,, বাচ্চার মাতো নেই
_ বুঝতে পারছি,,মায়ের দুধের সাথে সাথে একটু আদর যত্নও প্রয়জন,,,বুকে দুধ দিলে যেই উষ্ণা পায় তা বাচ্চাকে মানুসিক ভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে,,আয়রার এখন সব দিক দিয়ে খেয়ার রাখতে হবে,,,এখ আমি এতো টুকুই বললো যে আপনারা ওর জন্য মা খুঁজুন,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,, আমিনা মৃদু কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ,, কিছু মা খুঁজলেই তো হবে না বুকে দুধ ও তো থাকবে হবে,,,
_আপনারা একটা কাজ করতে পারেন এটার ব্যতিত ভালো কোনো উপায় আমি দেখছি না ,,আপনারা কৃত্রিম ভাবে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের শরীর দুধ তৈরি করতে পারেন,,এতে করে আয়রা দুধো পেলো আর মানুসিক ভাবে সুস্থও থাকলো,,,
_ এটা কি সম্ভব,,
_ মিসেস এটা আধুনিক যুগ সবি সম্ভব,,,কত মানুষ এরকম করছে,,,
_ কিন্তু এই দুধ খেলে বাচ্চার সমস্যা হবে না তো
_ আরে না,,,সঠিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শে করলে সাধারণত ক্ষতিকর না। অনেক ক্ষেত্রে এই দুধ শিশুর জন্য উপকারীও হয়, কারণ এতে কিছু পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে।
আরহামা ভুরু কুঁচকে বললো,,
_বুঝতে পারলাম না,,,পুরো প্রসেস খুলে বলুন,,,
Doctor সোজা হয়ে বসে শান্ত কন্ঠে বললো
_ দেখুন mr আরহাম,,এটা আধুনিক যুখ কিছুই অসম্ভব নয়,,,এখনকার সময়ে কোনো মেয়ে সন্তান জন্ম না দিয়েও বিশেষ পদ্ধতিতে বুকে দুধ আনতে পারে। এটাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Induced Lactation বা Relactation বলা হয়। অনেক পালক মা, দত্তক নেওয়া শিশুর মা, কিংবা সারোগেসির ক্ষেত্রে এটা করা হয়,,,
এমন কিছু হরমোনাল ওষুধ দেওয়া হয় যেগুলো শরীরকে “গর্ভাবস্থার মতো” সংকেত দেয়। এতে স্তনের দুধ তৈরির গ্রন্থি সক্রিয় হতে শুরু করে।
নিয়মিত Breast Pump ব্যবহার করে দিনে কয়েকবার পাম্প দিয়ে দুধ টানার মতো উদ্দীপনা দিলে, এতে শরীরে prolactin আর oxytocin নামের হরমোন বাড়ে, যেগুলো দুধ তৈরি ও বের হতে সাহায্য করে।
Doctor একটু থেমে বললো
_কিছু দেশে এমন ওষুধ ব্যবহার হয় যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দুধ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এগুলো ডাক্তার ছাড়া খাওয়া নিরাপদ না ,,,এগুলোর ব্যাপারে পরে আসি,,আগে আপনার ব্যপারটা ক্লিয়ার করি,,তো যা বলছিলাম,,, প্রতিদিন যদি শিশুকে বুক ধরানো হয়,,মানে নবজাতক বারবার বুক চুষলে শরীর আরো বেশি দুধ তৈরি করতে শুরু করে।এটা সবার ক্ষেত্রে এক হয় না, সব মায়ের শরীরে সমান পরিমাণ দুধ আসে না
কখনো কখনো অতিরিক্ত ফর্মুলা দুধও লাগতে পারে,, বিসেষ করে খাওয়া দাওয়া দিকে খেয়াল রাখতে হবে,, অবশ্যই কিছু করার আগে আমার বা কোনো doctor এর পরামর্শ নিতে হবে,,
Doctor কথা গুলো বলে থেকে আবরো বললো
_ এতো টুকু এখন জানেন,,,যদি আপনারা চান তবে এই পুরো প্রসেসে আমি আপনাদের বিষয়ে ভাবে সাহায্য করবো,,,
আরহামা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ওকে,,, but বুকে দুধ আসতে কয়দিন সময় লাগতে পারে
_ দেখুন সবার ক্ষেত্রে এক নয়,,কারো দেরিতে হয় করো আবার ৩/৪ দিনে হয়ে যায়,,,আসলে নিয়মিত Breast Pump ব্যবহার ,,শিশুকে বুক ধরানো,নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করা ,,এই সবের উপর নির্ভর করে,,আর অবশ্যই মেয়েটার খাওয়া দাওয়ার দিয়ে ধ্যান রাখতে হবে,,বেশি বেশি আয়রাকে দিয়ে breast ফিড করাতে হবে যাতে তাড়াতাড়ি দুধ আসে,,,
আমিনা চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ সব ঠিক আছে কিন্তু এতে কোনো ক্ষতি আছে,,মানে যাকে দিয়ে করাবো,,
_ হ্যাঁ একটু আছে,,, কিছু ভালো পেতে হলে খারাপ দিকটা তো সহ্য করতেই হবে,,তবে চিন্তার বিষয় নেই এই পুরটা প্রসেস মেয়েটার বডির উপর ডিফেন্ড করে,,মেয়েটা যত সুস্থ থাকবে তত ভালো,, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হবে,হবে না বললেই চলে,,,
আরহাম কিছু একটা ভেবে বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,আমরা কালকে আপনার সাথে দেখা করবো,, কিন্তু আর একটা কথা যতদিন বুকে দুধ আসবে ততদিন আয়ারকে কি খাওয়াবো,,ওকে তো আর না খাওইয়ে রাখতে পারবো না
_ এটারো সমাধান আছে,, হসপিটালে প্রতিদিন অহরহ বেবি হচ্ছে,,,আপনারা যদি টাকার দিকটা ঠিক রাখেন তবে আমি প্রতিদিন নিজ দায়িত্বে আমার কর্মকর্তা দিয়ে দুই বেলা আপনাদের বাড়িতে ৩থেকে ৪ ফিবার দুধ পাফিয়ে দিবো,,,
_ টাকার টেনশন করবেন না,, আপনার খুশি হয়ে যত নিবেন,,,
এই বলে আরহাম আর আমিনা উঠে দাঁড়ালো,, doctor ও উঠে দাঁড়ালো,, পরপরই বলে উঠলো
_ আর একটা কথা mr আরহাম,,, দেখুন এখানে অনেক জাতের নারী আসে,,এখন যার থেকে পারবো তার থেকেই কিন্তু দুধ দিবো এতে কি কোনো সমস্যা হবে
_ না,, আমার মেয়ের পেট ভরা দিয়ে কথা,,
আরশি ড্রাইভ করছে,,আরহাম মেয়েকে বুকের সাথে লাগিয়ে রেখেছে,,,আমিনা এক পলক ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি করবি আরহাম,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ দেখি,,,
_ তুই যদি চাস তবে ভালো একটা মেয়ে দেখবো,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ No, I won’t get married, I’ve lost trust in women, don’t force me. (না,,আমি বিয়ে করবো না,, আমার মেয়েদের উপর থেকে ভরসা উঠে গেছে,,, আমাকে জোর করো না)
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ তাহলে কি করবি তুই,,তোর মেয়েকে কে দেখবে,,
_ টাকা থাকলে সব হয়,, একটু খোঁজ নিলেই হবে
আমিনা বেশ রাগি কন্ঠে বললো
_ কোনো ভালো পরিবারের সন্তান রাজি হবে না এই সব করতে,,,কোনো সম্পর্ক ব্যতিত শুধু টাকার জন্য কেউ এরকম করবে না,,আর টাকার জন্য করলে তোর মেয়েকে সেই যত্ন টুকু দিতে পারবে না,,,এখন যাকে তাকে এনে আয়রাকে ধরিয়ে দিলে তো হবে না,, বিশ্বাস যোগ্য মানুষ তো লাগবে যে আয়রার পর্যাপ্ত পরিমাণ খেয়াল রাখবে
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮
আরহাম সিটে মাথা হেলিয়ে দিয়ে ভাবতে লাগলো কি করবে ,, কিন্তু সে বিয়ে করবে না এটা সে sure,,
আরশি বিরবির করে বললো
_এমন মেয়ে কোথায় পাবে তুমি যে বিনা স্বার্থে তোমার মেয়ের খেলায় রাখবে,,,
সবাই বাড়িতে ফিরতেই নুবা এগিয়ে আসলো,,,বুকটা তার চিনচিন হলো না হলো জানার জন্য,,
