Home নীলের হুরপাখি নীলের হুরপাখি পর্ব ২১+২২

নীলের হুরপাখি পর্ব ২১+২২

নীলের হুরপাখি পর্ব ২১+২২
কারিমা ইসলাম কেয়া

হুর ফুলে সজ্জিত বেডে বউ সেজে বসে আছে। তখনই দরজা খোলার শব্দ হয়।
হুর সেদিকে তাকাতেই আতঁকে উঠলো। নীলকে আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছে বিয়ের পাঞ্জাবিতে।
ঠোঁটে ও দুষ্টো – মিষ্টি হাসিঁ খেলা করছে। নীলের হাতে একটা কাঠের বক্স। বক্সটা খাটের একপাশে রাখঁলো।
নীল ঃ বাহ আমার বউটাকে তহ খুব মিষ্টি লাগছে।
হুর ঃ সত্যি নীল ভাই।
নীল ঃ হুমমম তোহ। আমি আমার মিষ্টি আমের মতো বউটার জন্য একটা উপহার এনেছি। আই swear এটাঁ তুই কখনো ভুলবি না।
বোকা পিচ্চি হুর খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।

হুর ঃ সত্যি নীল ভাই, আমি তহ ভেবেছিলাম তুমি রেগে আছো, হয়তবা রাগের বসেই আমায় খুব মারবে।
নীল ঃ না সোনা বউকে কিহ কেউ কখনো মারে, বউকে তহ আদর করতে হয়।
হুর ঃ আমি খুলে দেখি ওই বক্সে কিহ আছে।
নীল ঃ নাহ। আমি নিজে খুলে দেখাচ্ছি।
নীল বক্স খুলতেই একটি সাপ ফনা তুললো বক্সের ভিতরে।
হুর এক লাফে বিছানায় উঠে ভয়ে চিৎকার দেয়া শুরু করলো । সাপটিকে এবার নীল হাতে তুলে নিল।
নীল ঃ দূরে কেনো বেইবি” উফ” কাছে আসো না। ভালোবেসে গিফ্ট দিচ্ছি নেবে না।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

হুরের চিৎকার থামছে না, হুর জোরে জোরে চিৎকার করছে। “ও মাগো বাচাঁও ”
নীল হুরের একটু কাছাকাছি এগোঁতে লাগলো।
হুর ঃ দূরে থাকো নীল ভাই।
নীল ঃ কেনো এখনি তর বিয়ের শখ মিটে গেলো।
অন্যদিকে
হুরের চিৎকার সকলে শুনতে পাচ্ছে, সকলে বিষয়টা অন্য কিছু ভেবেছে তাই আর এইদিকে আসে নি।
হুর অতিরিক্ত ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো।

সকালের উত্তপ্ত রোদের কড়া ঝিলিক চোঁখে এসে পড়তেই হুর চোঁখ মেলে তাকালো
আশেপাশে নীলকে দেখতে পেল না, তবে কাল রাতের কথা স্পষ্ট মনে হতেই হুর এক দৌঁড়ে নীলের রুম থেকে চলে গেলো মায়ের রুমে।
হুর লামহা কে জড়িয়ে ধরলো
হুর ঃ মা মা আমি নীল ভাইয়ের কাছে যাব না। নীল ভাই ভীষণ বাজে। যানো নীল ভাই আমায় কাল রাতে কিহ দেখিয়েছে,
লামহা মেয়ের মুখ চেপেঁ ধরলো তাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে

নীল কলেজ শেষে বাড়িতে ফিরেছে ক্লান্ত হয়ে। কিন্তু ড্রয়িং রুমে পা রাখতেই সে অবাক হলো বাড়ির সবাইকে একসাথে দেখে।
কমল ঃ নীল আমরা বড়রা মিলে একটা সিধান্ত নিয়েছি।
নীল বাকাঁ চোঁখে তাকালো
নাহিদ ঃ হুর প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত তোরা দুজন আলাদা থাকবি।
নীল বিপরীতে কিহ বলবে এর জন্য কেউ অপেক্ষা করলো না। যে যার মতো নিজের কাজে চলে গেলো।
নীল মুচকি হাসঁলো।
নীল ঃ বিনা পরিশ্রমে পাওয়াফুল পুরুষের পদবি অর্জনটা ঠিক হজম হচ্ছে না।

নীল হুরকে নিজের চাচাতো বোন এর চেয়ে কখনো কিছু ভাবতো না। কিন্তু তার অনুভূতিরা বদলাতে থাকে বিয়ে নামক একটা শব্দের জোরে। নীল না চাইতেও হুরের প্রতি তীব্র অধিকার বোধ করে। যা তাকে সব সময় মনে করায় হুর শুধু নীলের। নীলের হুরপাখি।
নীল হুরকে নিয়ে এতটাই পজেটিভ হয়ে যায়, নিজের আপন ভাই রক্তিমের সাথে কথা বললেও সেটা নিলের সজ্জ হয় না।
কিন্তু 2 বছর পর সব পাল্টে যায়।

বর্তমান
হুর আয়নায় চুল আচ্ছড়াচ্ছে আচ্ছড়াতে অতিত সৃতিচারণ করছিল। তখন নীলের ধাক্কায় নিজের জ্ঞানে ফিরে।
নীল ঃ ম্যাম কিহ আমায় সিডিউস করার প্ল্যান আটঁছেন মনে মনে। বাট আমি তহ অলরেডি সিডিউস।
নীলের চোঁখে মূহুর্তে অস্থিরতা খেলা করে
নীলের এমন কথায় হুরের প্রতিত্রিয়া নিমিষেই চেঞ্জ হয়ে গেলো। হুরের মুখটা লাজে রঙ্গিন বর্ণের প্রজাপতির মতো রুপ ধারণ করতে শুরু করলো।
হুর ঃ উফ তুমি সবসময় এমন কথা বলে আমায় লজ্জা দাও কেন নীল ভাইইই।
নীল ঃ কারণ তুই আমার আশেপাশে থাকলেও আমি মোডে চলে যায়। আমি তকে ভিষণভাবে চাইছি পাখি।

হুর ঃ উফ তুমি সবসময় এমন কথা বলে আমায় লজ্জা দাও কেনো নীল ভাই।
নীল ঃ কারণ তুই আমার আশেপাশে থাকলেও আমি মুডে চলে যায়। আমি তকে ভিষণভাবে চাইছি পাখি।
নীল একটানে হুরের কমোর ধরে নিজের কাছাকাছি নিয়ে আসে। হুরের কমোরে স্লাইড করতে লাগলো।
নীল ঃ মাই সিল্লি গ্রার্ল । উফফফ তোমাতে এতো নেশা কেন, এই মাতাল তহ তাল সামলাতে পারছে না।
নীল সোফায় বসলো, হুরকেও কোলে বসালো। নীল হুরের গলায় স্লাইড করতে লাগলো।
হুর হৃদয়ে উথাল পাতাল শুরু হয়ে গেছে। অনুভূতিরা বড্ড জ্বালাচ্ছে।
নীল হুরের ঠোঁটের কাছাকাছি পৌঁছাতে লাগলো, নীল আর হুরের ঠোঁটের কাছাকাছি 2 ইঞ্চি ফাঁক।নীল আর হুর দুজনের নিশ্বাসই খানিকটা ভারি হয়ে উঠছে ক্রমাগত।
নীল দুজনের মাঝের দূরত্ব মিটানোর আগেই হুরের হাত বাধাঁ হয়ে দাঁড়ালো। নীল হুরের মুখ চেপে ধরলো।
নীল হুরের হাতটা সরিয়ে দিয়ে বিরক্তিতে জিজ্ঞেস করলো।

নীল ঃ কিহ?
হুর ঃ ওয়াস রুম।
হুর ইচ্ছে করে মিথ্যা বলে পালিয়ে গেলো
নীল ঃ বা*ল ফালানোর আর টাইম পাইলো না। আমার রুমান্টিক মোডরে চুলকানি করে ছাড়লো।
নীল ঃ বড্ড অবাধ্য হচ্ছিস পাখি, ইগনোরেন্স আমার একদম পছন্দ না। আর সেটা যদি তুই হস, তাহলে সেটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

কলি, নিলাসা আর লামীম মিলে লুড্ডু খেলছে
কলি ঃ নিলাসা আপু তুমার সাথে খেলে জিতলেও লামীম ভাইয়ার সাথে পারবে না।
নিলাসা ঃ বিড়ালের বাচ্ছা তুই না একদম চুপ থাক জিতব তহ আমিই।
খেলার এক পর্যায়ে আবারও নিলাসার গুটি খেয়ে দেয় লামীম।
নিলাসা ঃ লামীম ভাই, তুমি কচ্ছপ আর খরগোশের স্টোরি টা শুনেছো। কচ্ছপ ধীরে ধীরে এগোলেও কিন্তু সেই ফ্রাস্ট হই।

নিলাসা গুটি বসাতে বসাতে বলছিল। লামীম নিলাসার হাত ধরে ফেলল,
লামীম ঃ কচ্ছপটা তাহলে এভাবে চুন্নিগিরি করে জিতবে। কচ্ছপ চুন্নি,,,,,
কতটা অটিস্টিক চুন্নি 5 উঠেছে, অথচ পণ্ডিতি করে 10 ঘরে গুটি রাখতেছে। এটাঁ লুড্ডু খেলা না হয়ে যদি পাবলেকলি পকেট মারা টাইপ চুরি হত তাহলে কানফাম গণপিটানো।
নিলাসা ঃ তুমি আমায় অপমাণ করতেছো। তুমি আমায় যতোটা বোকা ভাবছো না আমি তার চেয়ে ও বেশি শেয়ানা।
লামীম ভাব নিয়ে বললো,

লামীম ঃ আচ্ছা যেমন।
নিলাসা ঃ আমি সেদিন তোমার পকেট থেকেই 2 হাজার টাকা মেরে দিয়েছি।
নিলাসা কথাটা বলার সময় এতটা ভেবে বলেনি, কিন্তু এখন সে ভালো ভাবেই বুজতে পারছে সে কিহ বলে ফেলেছে।
নীলাসা দৌঁড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু তার আগেই লামীম তার চুলের মুঠি ধরে ফেললো,
লামীম ঃ শালী চুন্নি, তাইতো বলি আমার বউ নাই তাহলে টাকা পাচার হয় কিভাবে? 😡😡😡
নীলাসা ঃ ও লামীম ভাই গো, মাফ করে দাও গো। আর চুরি করবো না গো। 🥹🥹🥹
লামীম ঃ এতো সোজা, তুই আমার বউয়ের ভাগ মেরে খাইছিস, এখন তুই আমার অবলা বউয়ের থেকে পাওনা সকল ভাগ মিটাবি।

নীলাসা ঃ মানে,,,,,,,
লামীম ঃ তুই আজ থেকে আমার সকল কাজ করবি। এমনকি আমি টয়লেটে যাওয়ার আগে আমার বন্ধ্যার পানি টাও তুই ভরে দিবি।
ওভাবে কিহ দেখো, শুধু তাই না আমার প্যান্টের নিচের জাইঙ্গাটাও আপনাকেই ধুতে হবে মাননীয় চুন্নিবতি।
নীলাসা ঃ অসম্ভব।
লামীম ঃ ওকে কাকি,,,,,
নীলাসা ঃ আমি রাজি, আমি রাজি।
কলি ওদের কাণ্ডে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।

রক্তিম ওয়াস রুমের দরজা আলতো করে খুলে তুবাকে ডাকতে লাগলো
রক্তিম ঃ ভাবি ও ভাবি আছেন নাকি টাওয়াল টা দিবেন নাকী আনতে ভুলে গেছি।
তুবা ঃ অপদার্থ, একটা মানুষ কতটা অপদার্থ হলে টাওয়াল নিতে ভুলে।
রক্তিম ঃ কিহ আমি অপদার্থ, লাগবে না আপনার টাওয়াল আমি এমনিই বেরিয়ে আসছি।
তুবা ঃ আআআআআআ
তুবা চিৎকার দিয়ে উঠলো
রক্তিম ঃ বাহহহ দেখার আগেই চিৎকার ভারি উত্তেজনা।
তুবা ঃ কিহ দেখাচ্ছি মজা
এই বলে তুবা দরজা খুলে ভিতরে গেলো। তারপর
দুজনেই চিৎকার।

হুরের শরীরটা একটু খারাপ। হালকা জ্বর জ্বর।
নীল তাকে অনেক বকেছে খাওয়া নিয়ে।এমনকি এটাঁও বলেছে হুর এইজন্য কম খায় যেন তার বাবার টাকা বাচেঁ।
একজন মেড এসে হুরকে এক গ্লাস দুধ দিয়ে গেলো। হুর ওহ সেটাঁ খাওয়ার জন্য চুমুক দিতে যাবে তখনই নীল এসে গ্লাসটা ফেলে দিল।
গ্লাসটা কাচের নয় তবুও কাচের কিছু বিন্দু বিন্দু টুকরা দুধের সাথে জ্বলজ্বল করছে মেঝেতে।
নীল তুবা বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো।
তুবা সহ সকলে হাজির হলো নীলের রুমে।
নীল ঃ ইউ bitch, Nasty, Dissolute তর সাহস কীভাবে হয় আমার পাখিকে আঘাত করার চেষ্টা করছিস তুই।
নীল তুবার গালে চর মেরে দিল।

তুবা ঃ আমি এমনটা করি নি।
এটাঁ বলার সাথে সাথে রক্তিম তুবার গালে থাপ্প্র দিল।
রক্তিম ঃ তর সাহস কীভাবে হয় হুরপরির সাথে এমন করার। তকে তহ আজ আমি মেরেই ফেলবো।
রক্তিম তুবার চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে ঘরে নিয়ে গেল।
এতদিন হয়ে গেল লামহা মেয়ের সাথে কথা বলেন না কিন্তু আজ এমন ঘটনায় সে দূরে সরে থাকতে পারলেন না হুহু করে কেদেঁ মেয়েকে বুকে টেনে নিলেন।
তুবার কাণ্ডে সকলে অবাক। আজ তুবার উদ্দেশ্য সকলের কাছে পরিষ্কার হলো সাথে তুবা যে একটা সাইকো সেটাও কারও বুজতে বাকি রইলো না।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২০

রাত গভীর নীল হুরকে কোলে তুলে নিয়ে কিচেনে যাচ্ছে। নীল হুরকে কিচেন কাউন্টারে বসালো,
নীল ঃ পাখি খিদে কিহ আর ও একটু বেড়ছে।
হুর ঃ হুম একটু।
নীল ঃ প্রথমে এক কাপ কফি বানিয়ে দিচ্ছি। ফ্রেস হও খেয়ে। তারপর পাস্তা বানিয়ে দিচ্ছি।
হুর ঃ ওকে।
নীল কফি বানিয়ে হুরের হাতে দেওয়ার আগেই কফির কিছুটা অংশ হুরের বুকে গিয়ে পড়লো।
নীল ঃ উফফফ পাখি জ্বলছে।
নীল হুরের শার্টের বোতাম খুলতে লাগলো।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৩