নীলের হুরপাখি পর্ব ২৬
কারিমা ইসলাম কেয়া
বিকেল 6 টা প্রকৃতিতে হালকা শীত। আজ আকাশ যেন বিষাদ অন্ধকারে ছেয়ে আছে। প্রবাহিত বাতাস যেন ঝড়ের পূর্বাবাসের আগামী সাবধানী বার্তাকে জানান দিচ্ছে। সাবধান।
কাকের কা কা আওয়াজ যেন কোনো অশনী বার্তারই আহ্বায়ক।
কালো মার্সিডিজ একটা গাড়ি প্রবল বেগে শহরের বুক কাপিঁয়ে চলেছে। যেন শীকারি তার শীকার পেয়ে গেছে এখন শুধু থাবা বসানোর পালা। তার গাড়িকে অনুসরণ করে 8 টা গাড়ি চলছে পিছু পিছু যেন তারা হিপনোটাইজ । গাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে যেন নিকাশ অন্ধকার আকাশকে রাজত্ব কিছু চিল ওহ চলছে। গাড়ির ভিতর থেকে একটা হাত বের হয়ে সিগেরেটে শেষ টান দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে সিগেরেটটা ফেলে দিল। গাড়িটা সামনে এগিয়ে গেল কিন্তু ধোঁয়া যেন এখনো মেশে।
সরকার বাড়িটা যেন আজ অদ্ভুত এক শংকায় ভীত।
হুর এভাবে বাড়ি থেকে চলে যাবে সেটা যেন সকলের ভাবনার বাইরে ছিল।
নাহিদ সরকার, হায়দার সরকার, কমল সরকার।
তিন ভাই হুরকে নিয়ে চিন্তিত।আজ 2 দিন হলো হুর বাড়ি থেকে চলে গেছে । হুরকে তারা খুজার চেষ্টা ও করছে। এই 2 দিন নীলাদ্র বাড়িতে পা রাখেনি। তার খবর ওহ কেউ জানে না।
নাহিদ সরকার ও হায়দার সরকার একটা কথাই ভেবে পাচ্ছে না। হুর নিখোঁজ কিন্তু রানবির রনবের কানে এই কথা পৌঁছায়নি এটাঁ হতেই পারে না কিন্তু সে কেনো চুপ।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রুহানির দৃষ্টি হাতে রাখা এলবামে। তার চোঁখ যেন এক রহস্যের প্রাচিরে ঘেরা।
কারও পায়ের শব্দ পেয়ে সে লুকিয়ে ফেললো এলবামটা।
পিছনে তাকিয়ে দেখল নাহিদ সরকার দাঁড়িয়ে।
লামীম এই মাত্র বাসায় ফিরল। নিজের রুমে এসে মেঝেতেই বসে পড়লো খাটের সাথে হেলান দিয়ে। তার ছোট্ট বোন হুরজানকে সে পাগলের মতো খুজছে। সে জানে চিঠিটা মিথ্যে নিশ্চয়ই এমন কিছু ঘটেছে তাই হুর বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তার ভাবনার মাঝেই ফ্যাসফ্যাস কান্নার আওয়াজে চোঁখ তুলে তাকালো। নীলাসা কাদঁছে।
লামীম জানে তার কান্নার কারণ তবুও বললো, সমস্যা কী?
হঠাৎ নীলাসা লামীমকে জড়িয়ে ধরলো,
নীলাসা ঃ লামীম ভাইয়া, তুমি প্লিজ খুজে এনে দাও হুরকে আর নীল ভাইয়াকে।
আমি আর এই বাড়িতে থাকতে চাই না, আমার আব্বু, চাচ্চুরা শুধু নিজেদের স্বার্থকে খুজে আমাদের মনকে কখনো খুজে না।
সেই রহস্যময় গাড়ীটি অবশেষে যেন নিজের গন্তব্য পৌঁছালো।
লোকটির শরীর কালো পোশাকে আবৃত। চুলগুলো সামনে পড়ে যেন এক চোঁখ ঢেকে গেল।হাতের ব্যাচটা নীল পাথরের উপর খোদাই করা T। এক রহস্যময় এক হিংস্র মানব লাগছে ব্যক্তিটিকে।
কিছুক্ষণ পর কয়েকজন মেয়ে গার্ডরা তার গাড়ির বেক সিটে এক অচেতন মেয়েকে তুলে দিল। এবার গাড়িটি আবার ছুটতে লাগলো তার নিজস্ব গতিতে।
হুরের মাথা ভারি যেন কেউ তীব্র গতিতে বারংবার তার মাথায় আঘাত করেছে। সে তার ভারি চোঁখকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। হাল্কা চোঁখের পাতা মেলে তাকাতেই নিভু নিভু আলোর ঝলকানিতে চোঁখ বন্ধ করলো। পরক্ষণেই আবার চোঁখ মেলে তাকালো৷।
হুর উঠে বসলো, আমি কোথায়
হঠাৎ মেঝেতে কিছু পড়লো যা টুংটাং আওয়াজ তুলছে। হুরের বুকে যেন এই টুংটাং আওয়াজ আঘাত করছে। হুর ভয়ে ভয়ে বললো, কে,,,,ক,,কে এখানে
তখনই একটা ছায়া তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো, হুর ভয়ে পেয়ে পিছনোর আগেই সে হুরের বাকাঁনো কমোর চেপে ধরলো এমনভাবে যেন নখ ঢেবে যাচ্ছে।
লোকটি এবার হুরের থুতনি ধরে উপরে তুললো,
আবসা আলোয় হুর ব্যক্তিটিকে দেখে আতকে উঠলো।
হুর ঃ তু,,,তুমি কীভাবে হতে পারো, আমার পিছু কেনো নিয়েছো। ভালোবাসিনা আমি তোমায়। ছেড়ে দাও আমায়, দূরে চলে যাব আমি।
ব্যক্তিটি এবার এতো জুড়ে হুরের গাল চেপে ধরলো যেন হাড়গুড় ভেঙে তা বের করে আনতে চাইছে।
নীল ঃ ঘৃণা করি আমি তকে বেইমান, আমার হৃদয়ে তর কোনো জায়গা নেই।
আমাকে জ্বালিয়ে নিজের সুখ কিনে নিবি ভাবলি কী করে। এত সোজা আমার থেকে পালাানোর।
হুরের চোঁখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো, ঘৃণায় যখন করো তখন আমার কেন খুজে বের করলে।
নীল এবার হিংস্রভাবে হাসঁলো ” যন্ত্রনা শব্দটার সাথে আপস করাতে।
হুর আর নীল খুবই কাছাকাছি এতটা কাছাকাছি দুজনের শরীর ঘর্ষণ হচ্ছে, লেগে যাচ্ছে একটু পর পর। নীলকে আজ পুরো পুরি অচেনা লাগছে। এই চোঁখ আর তার নীল ভাইয়ের চোঁখের সাথে মিলছে না।
নীল হুরের ঠোঁটজোড়ার দিকে এগোনোর আগেই হুর নিজের মুখটা ফিরিয়ে নিয়ে ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিল নীলের হাত।
হুর ঃ ছুবেনা আমায়, মনকে স্পর্শ করার আগে শরীরকে স্পর্শ করা মানে ভোগ করা।
নীল ঃ তুই ভোগের ই পণ্য, ভালোবাসার যোগ্য নোস।
নীলের উক্ত কথায়, হুর অবিশ্বাস্য ঘৃণ্য চোঁখে তাকালো তার দিকে। না এটাঁ তার নীল ভাই হতে পারে না। তার নীল ভাই তো তাকে বলেছিল,
“সে পৃথীবির শ্রেষ্ঠ পবিত্র ফুল “। নীলের উক্ত কথা হুরের হৃদয় ছিরে যাওয়ার মতো যন্ত্রনা হলো।
নীলের হুরপাখি পর্ব ২৫
হুর ঘৃণায় চোঁখ ফিরিয়ে নিল। হুরের মুখটা আবার নিজের দিকে ঘুরিয়ে হুরের ঠোঁটের দিকে এগিয়ে গেল। সেকেন্ডের ব্যবধানে তার ঠোঁট দখল করে নিল। নীলের স্পর্শে আজ ভালোবাসা না অধিকার বিরাজ করছে।
হুর নীলকে বাধাঁ দেওয়ার চেষ্টা করছে ব্যথায় কুকিয়ে উঠছে। কিন্তু নীল আজ থামছে না। হুরের শরীর তার শরীরের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ধাক্কা লাগছে যেন সাগরের ঢেউ এসে অঙ্গে খেলা করছে নীলের। প্রতি ক্ষণে ক্ষণে তার হিংস্রতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে হুরের শরীরে।
