Home নীলের হুরপাখি নীলের হুরপাখি পর্ব ২৭

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৭

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৭
কারিমা ইসলাম কেয়া

সময়টা যখন মানুষের কাছে শুধু এক সংখ্যর হিসেব, তার মূল্য গণনা করলে শুন্য মনে হয় তখন সারা রাত-দিন এক প্রহর , এক ধ্যানে পার করলেও সূক্ষ্য মনে হয়।
হুরের বর্তমান অবস্থা ও ঠিক এমন। নীল আর তার সম্পর্ক টা ঠিক মেঝের উপর পড়ে থাকা কাচের অংশর মতো হয়ে গেছে। আজকাল হুরের ঠিক সয্য হয় না নীলকে। বরংচ ঘৃণার জন্ম হচ্ছে মনের ভিতর পুষে রাখা বিষাক্ত বিষের মতো।

হুর এখন একটু বাচঁতে চায়, হ্যাঁ নীলের যন্ত্রনা গুলোর থেকে। সেদিনের পর কেটে গেছে মাঝে বেশ কয়েকটি মাস।
হুরের ধ্যানের মাঝেই হঠাৎ করেই কাধেঁ গরম কিছু যা তার মাংস পিণ্ডকে জ্বালিয়ে দিচ্ছিল এমন অনুভূত হলো। সঙ্গে সঙ্গে পিছনে ফিরে মেড তিশাকে দেখে আরেক দফা চমকে উঠলো, মেয়েটা হুরকে বড্ড জ্বালায়।
তিশার হাতে গরম চামচ, যার এক পাশ সে কাপড় দিয়ে ধরে আছে৷ বুঝায় যাচ্ছে সবে গরম করে এনেছে।
তিশা ঃ বান্দি সময়ের খেয়াল আছে, কতখন যাবৎ আমরা রান্না করে খেটে খেটে মরছি আর তুই এখানে হুররাম সুলতান সেজে বসে আছিস।

হুর ঃ আ,আসলে
তিশা ঃ চুপ একদম চুপ। তর আর আমাদের মাঝে পার্থক্য কতটুকু জানিস তুমি রাতে এই রুমে ঘুমাস, সরকার বাবুর রক্ষিতা। এছাড়া আমাদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
রক্ষিতা কথাটা শুনেই হুরের ঘা ঘুলিয়ে উঠলো।
হুর নিজের ব্যাথা চেপে রেখে ছোট করে বললো আসছি।
নীল হুরকে কোথায় এনে রেখেছে হুরের জানা নেই। এক বিশাল দানবীয় প্রাসাদ ন্যায়, যার বাইরের অংশ সোনালি আর ভিতরের অংশ কালো। বাইরে থেকে দেখলে যে কারও মনে হবে , সবে ডানা গজানো সোনলি পাখা ওয়া পাখির মতো শুভ্র, শান্ত, সরল এক রাজার রাজ্য আর ভিতর থেকে দেখলে এক হৃদয়হীন দানবের ভয়ানক স্বীকার এই কালো মার্বেল টাইলস গুলো। বাইরের চারিদিকে একই , চারিদিকে বিশাল বিশাল ক্রিস্নো চূড়ার গাছ। যা বাইরের সোনালি রংকে বাহবা দিচ্ছে।

রাত সাড়ে 11 টা কিছুক্ষণ হলো নীল বাড়িতে ফিরেছে তার সাথে এসেছে এলিজা আর আলিফ। এরা সবসময় নীলের সাথেই থাকে। হুর এদের কে চিনে না।
তরী, নয়না,আফরোজা, হুর, তিশা খাবার রেডি করছে। তিশা হুরকে এর মাঝে খানিকটা টিটকারি মিশিয়েই বললো,
তিশা ঃ যা হুর তর সেবা করার সময় হয়ে গেছে।
অ সাবধাণ গা থেকে থেকে কালকের মতো বাসি গন্ধ টা না বের হয় তাহলে ঠিক কাল রাতের মতো কিন্তু পানিতে ভিজিয়ে রাখবে।
নয়না ঃ কি সমস্যা তর তিশা মেয়েটাকে কেন কথার জালে বার বার তিক্ত করিস। মেয়েটাতো তহ চুপচাপই থাকে কারও পিছে লাগে না। তাহলে তর কি সমস্যা।
তিশা ঃ কি এমন বলেছি রক্ষিতা হয়ে যখন সেবার জন্য রুমে ডুকে তখন তহ গা জ্বলে না, আমি বললেই খালি ফোসকা পড়ে।
রক্ষিতা কথাটা শুনে আবার ও হুরের গায়ে কাটাঁ দিয়ে উঠলো কিন্তু হুর কিছু না বলে চলে গেলো। হুর একবারের জন্য ও বলল না সাবধানে কথা বলো উনি আমার স্বামি। আমি রক্ষিতা না। কেন বলবে হুর যখন নীল ইহ তাকে কথাটা বলেছে।

তবুও হুর কিছু বললো না৷ কফির মগ টা নিয়ে চলে গেল উপরে৷
নীল ট্রি টেবিলের উপর দুই পা তুলে মাথাটা সোফায় হেলান দিয়ে ট্রাই খুলছে।
হুরের দিকে এক পলক তাকালো, হুরের চোখেঁ জ্বল জ্বল করছে পানি। নীল সেই দিকে একপলক তাকালো। তারপর চোখঁ সরিয়ে বিরক্তি সূচক আওয়াজ তুলে ট্রি টেবিলের উপর রাখা গ্লাস ওয়ার টা শব্দ করে ভেঙ্গে ফেললো। হুর নিজের পা গুটিয়ে পিছিয়ে গেল।
হুর ঃ আমার এই মানুষটার কাছে যেতে এক অন্য রকম ভয় কাজ করত, যেটায় মিশ্রণ ছিল ভালোবাসা। আর আজ এই মানুষ টার দিকে তাকালে যেন নিজ জীবন বাজি রাখার মতো ভয় লাগে। (মনে মনে)
কাচের টুকরা ভেঙ্গে রিন রিন শব্দ উঠলো, অথচ নীল স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় আছে যেন কিছুই হয় নি।

নীল ঃ দেরি হওয়ার কারণ?
হুর ঃ,,,,,,,,,,, (নিশ্চুপ)
নীল ঃ উত্তর চাই।
হুর ঃ আ,,আসলে রান্না
নীল হাত উচাঁলো
নীল ঃ তর গলার আওয়াজ ভিষণ বাজে, শুনতে ইচ্ছে করছে না থাম।
হুর ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে হাটু গেড়ে বসলো নীলের সামনে। তারপর কফির মগটা এগিয়ে দিল।
নীল কফিতে চুমুক দিয়ে শান্তির নিশ্বাস নিল যেন। এরমাঝে নীল হুরের দিকে আর এক পলক তাকিয়ে স্পষ্ট দেখতে পেল কাধেঁ পোড়ার দাগ। কিন্তু তবুও নীলের মুখা আবৃত্তি সোজায় রইল।
নীল ঃ যা,,,,

হুরের সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেল ওয়াস রুমের দিকে, যাওয়ার সময় ওড়নাটা মেঝেতে পড়ে গেল৷ তবুও সে থামলো না নীলের গোসলের জন্য যা যা প্রয়োজন তা প্রস্তুত করতে।
হুর আজকাল সেলোয়ার কামিজ পড়ে, যদিও তার ভালো লাগে না, কারণ সে সার্ট এর সাথে শার্ট এ অবস্ত। কিন্তু তার কোনো ইচ্ছে অন ইচ্ছে নেই। সব ত নীলের ইহ ইচ্ছে।
নীল গোসলের জন্য গেল। তার পরনে কালো টাওয়াল। লাইটের আলোয় ফর্সা পিঠটা চকচক করে উঠলো, লোভনীয় সৌন্দর্য্য।

নীল বাথ টপে গিয়ে গাঁ এলিয়ে দিল। ঠাণ্ডা পানির প্রতিটা স্পর্শ সে অনুভব করছে। গরম পানি তার পোষায় না।
হুর তার শরীর পরিষ্কার করে দিতে লাগলো। পিঠ পরিক্ষার করতে গিয়ে তার হাত যেন বার বার থেমে যাচ্ছিল।
নীল ঃ পিঠ ঢলছিস, নাকী মেহেদি লাগাচ্ছিস
হুর তবুও চুপ তার হাত থেমে আবার শুরু হলো
হঠাৎ করেই নীল হুরকে সামনে টেনে আনলো, এতে হুর ও বাথটপে নীলের উপর পড়ে গেল। এতে আকস্মিক দুজনের ঠোঁট এক হয়ে গেল।
দুজন একদম কাছাকাছি, নীল হুরকে তবুও ছাড়ছে না। বেশ একটু সময় পর থামলো। হুরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৬

নীল ঃ তর ঠোঁট কেটে দিব।
হুর চমকে উঠলো
হুর ঃ ওই,,,, আ,স,,লে,, আ,,মি স,রি।
নীল আচমকা বাথটপ থেকে উঠে পড়লো। তারপর শরীরে পোশাক পড়তে পড়তে বললো, রুমে আয় ফ্রেস হয়ে
হুর কিছুটা জুড়েই বললো, কিন্তু আমি জামা তহ আনি নি, কি পড়ে রুমে যাব।
নীল ঃ তুই জানিস তর ইচ্ছে যেভাবে খুশি।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৮