Home মেঘের ওপারে আলো মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৫

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৫

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৫
Tahmina Akhter

রিনিদের চমৎকার বাড়ির ভেতরে আজ বাতাসের সঙ্গে ভেসে বেড়াচ্ছে হালকা সঙ্গীত। থেকে থেকে ফুলের সুবাস ভেসে বেড়াচ্ছে।
ড্রইংরুমের ছিমছাম সাজানো টেবিল, সাদা ফুলের গুচ্ছ, আর সূক্ষ্ম লাইটিং সবই ছোট এই বিয়ের আয়োজনকে ভরিয়ে দিয়েছে আনন্দে।
বিয়েতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা অল্প। কিন্তু প্রত্যেকের হাসি, চেহারার উজ্জ্বলতা এবং আনন্দ মিশ্রিত দৃষ্টি পুরো পরিবেশটাকে উদ্দীপনাময় করে তুলেছে।
ড্রইংরুমের একটি কোণে রিনি সোফায় বসে আছে বেনারসির রঙিন শাড়িতে। তার চোখ ভেজা, হালকা লালচে। নিঃশব্দে সে বারবার তাকাচ্ছে অদূরের দিকে। যেখানটায় মেঘালয় দাঁড়িয়ে আছে।
মেঘালয়ের হাতে মোবাইল, কানে ঠেকিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলছে। রোজকার ন্যায় আজও তার মুখের অভিব্যক্তি জটিল ভালোবাসা আর দুশ্চিন্তার মিশ্রণ।

আজকের এমন আনন্দঘন মুহুর্তে রিনির ভেজা চোখে মেঘালয়ের প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা, তা স্পষ্ট প্রকাশ পাচ্ছে।
আজকের এই বিশেষ মুহূর্তে, রিনির পাশে বসে আছে আরাফাত কাইয়ুম। যে কিনা আজ থেকে রিনির স্বামী। রিনিকে দেনমোহরের ১৫ লাখ টাকার মূল্যে রিনিকে আজ ‘স্ত্রী’ রূপে গ্রহণ করেছে আরাফাত।
রিনি আরাফাতের নামে কবুল বলার পর থেকে আরাফাতের চোখে সন্তুষ্টি ফুটে উঠেছে। এই যে তার পাশে বসে থাকা রিনি তার দিকে না তাকিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। এই দৃশ্য দেখার পরও সে খুবই শান্ত হয়ে বসে আছে। সে জানে না রিনির মন অন্যত্র। যদি জানত, তবে কি এমন শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারত সে?
রিনি চুপচাপ বসে আছে। মাঝে মাঝে তার চাহনি মেঘালয়-এর দিকে নিবদ্ধ করে।
মেঘালয় ঠিক তখনও ফোনে কথা বলছে। হয়ত কোনো জরুরি কাজের আলাপ চলছে। রিনির চোখের ভিজা স্পর্শ যেন তাকে কাছে টেনে নেয়ার বদলে দূরে সরিয়ে রাখছে। কারণ, মেয়েদের সব কান্নায় মন নরম করতে নেই। কিছু কিছু কান্না কেবল পুরুষদের বশ করতে ব্যবহৃত হয়।
এমন সময়ে মেঘালয়ের ভাবতে বাধ্য হলো,

রিনির পাশে বসে থাকা আরাফাত বুঝতে পারছে না তার স্ত্রী আজ কতটা অস্থির। সে অনুভব করছে কিছু। এমন কিছু যা সে এখনও ধরতে পারছে না।
ড্রইংরুমের উজ্জ্বল আলোয়, রিনির চোখের জল যেন ছোট ছোট রূপকথার আলোককণা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির বাইরে একটা ক্যাব এসে থামল। গাড়ির দরজা ধীরে খুলল। প্রথমে নামল আরহাম। তারপর তার পেছনে ধীরে ধীরে নেমে এলো আলো।
আরহাম পেছনে ফিরে আলোর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
— “আসুন।”

আলো আরহামের পথ অনুসরণ করে ধীরে ধীরে বাড়ির ভিতরে অগ্রসর হল। ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে চোখ ধাঁধিয়ে গেল—ছিমছাম, চোখে লাগার মতো সাজসজ্জা, লাইটের উজ্জ্বল আলো, সুবাসিত ফুল, আর ছোট ছোট আলো-বিন্দু যা পুরো ড্রইংরুমকে আলোকিত করেছে।
এসবে আলো মোটেও বিস্মিত হলো না।
কিন্তু আলোকে বিস্মিত হতে হলো ভিন্ন কারণে।
ড্রইংরুমের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে লম্বা গড়নের, ফর্সা গায়ের, কালো শেরোয়ানী পরা তার ডাক্তার সাহেব।
আলোর চোখে যেন হিমস্ফীত জোয়ার বইছে। মুহূর্তেই হৃৎস্পন্দন থেমে গেল। কিন্তু, তারপর… হৃৎস্পন্দন আবার ধ্বনিতে পরিণত হলো, এত দ্রুত যে সে বুকের বা পাশে ডানহাত রেখে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। মুহূর্তটা স্থির হয়ে গেছে। আলো এবং ডাক্তার সাহেবের চোখের মধ্যে নীরব যোগাযোগ, শব্দহীন উত্তেজনা।
আলো অজান্তেই চেয়েছে বলার, চাহার, ছুঁয়ে নেওয়ার। কিন্তু আলো শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে আছে, নিজের ভিতরের ঝড় সামলানোর চেষ্টা করছে।
আরহাম পাশে থেকে আলোর অস্থির মুখ খানা দেখে বলল,

— “আপনি ঠিক আছেন তো? ”
আরহামের কথা যেন শুনতে পাচ্ছে না আলো। আলোর চোখ ডাক্তার সাহেবের দিকে তাক করা। আলোর মনে হচ্ছে সময় যেন থেমে গেছে।
প্রতি শ্বাসে, প্রতি দৃষ্টিতে পুরো বিশ্ব শুধু এই দুইজনের মধ্যে আটকে আছে।
এমন সময় লাল বেনারসি গায়ে জড়িয়ে আপাদমস্তক সৌন্দর্যেমন্ডিত এক সুশ্রী সুদর্শনা এসে মেঘালয়ের পাশে এসে দাঁড়ায়। বিদুৎ এর ঝিলিকের ন্যায় আলোর মস্তিষ্কে কিছু একটা আছড়ে পড়েছে। পুরো বাড়ির সাজসজ্জা, লোকের সমাগম, তার ডাক্তার সাহেব এর পরনের কালো শেরওয়ানি, ডাক্তার সাহেব এর পাশে দাঁড়িয়ে বধুকে দেখে আলো যা বোঝার তা বুঝে ফেলল।

ঠিক সেই মুহুর্তে আলোর ভেতরে কি যেন দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। হাড়গুলো ভেঙে গুড়িয়ে যাচ্ছে? নাকি হৃদয় পাঁজর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে? মস্তিষ্কের প্রত্যেকটা স্নায়ুকোষ যেন আলোকে বিভ্রান্ত করে ফেলল৷ আলো আকস্মিক শক নিতে পারল না। লুটিয়ে পড়ল মেঝেতে।
মেঘালয় এখনও শকে আছে। তার বিশ্বাই হচ্ছে না তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার আলো, তার বাবুর আম্মু। সেই অষ্টাদশী আলো যে কবে পরিপূর্ণ নারীতে পরিণত হলো টের পায়নি। টের পাবে কি করে? মাঝখান দিয়ে আটটি বছর যে ক্ষয়ে গেছে। শেষমেশ আলো তাকে খুঁজে বের করেছে। গত আটবছর আগে যেই আলো তাকে একলা ফেলে চলে গিয়েছিল সেই আলো আজ ফিরে এসেছে তাকে খুঁজে পেতে!
আলোর কথা ভাবতে ভাবতেই যখন মেঘালয় দিকবিদিকশুন্য ঠিক তখনি আলোকে মেঝেতে ওভাবে পড়ে যেতে দেখে মেঘালয় চিৎকার করে ডেকে উঠলো,

—“আলো???”
আলোর জ্ঞান নেই। সে জ্ঞান হারিয়েছে সেই কখন! যদি একটিবার শুনতে পেত তার ডাক্তার সাহেব কি গাঢ় স্বরে তার নাম সম্বোধন করে ডাকছে! তবে কি সে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারত? মোটেই না। ডাক্তার সাহেব এর বুকে সোজা গিয়ে আছড়ে পড়ত। কিন্তু, আলো সেই ডাক শোনার আগেই….
মেঘালয় আজ কোনোদিকে তাকানোর মতো সময় খরচ করল না। এক ছুটে মেঝেতে পরে থাকা আলোর সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। অচেতন আলোর অর্ধেকটা শরীর টেনে শক্ত করে বুকের মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরল। মেঘালয়ের হৃদয়ের ভেতরে তখন সেকি তুমুল লড়াই চলছে।
রিনির বাবা, রিনি, আরাফাত, আরহামসহ উপস্থিত অনেকেই হতভম্ব হয়ে যায়৷ ধীরে ধীরে যখন সবার হতভম্বের রেশ কেটে যায় ঠিক তখন রিনি মূদু স্বরে তার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

— বাবা, আলো ফিরে এসেছে। মেঘের জীবনের কালো মেঘ সরে গিয়ে আলোর দেখা মিলেছে; বাবা।
কথাগুলো বলতে বলতে রিনি কেঁদে ফেলল। আরাফাত সকলের দৃষ্টির অগোচরে রিনির বামহাত মুঠোয় ভরে নিলো। রিনির কান্না ভেজা চোখে তাকালো। আরাফাত সেই মুহুর্তে চোখের ভাষায় রিনিকে বোঝালো,
__“কান্না করো না।”
কারো চোখের ভাষা কি এতটা স্পষ্ট হতে পারে! হয়তো হতে পারে! আরাফাতের এক ইশারায় রিনির কান্না বন্ধ হয়ে গেছে। রিনি নিজেকে সামলে নিয়ে মেঘালয়ের দিকে এগিয়ে যায়। মেঘালয়ের কাঁধে হাত রেখে বলল,

— ভাবিকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাও। আই থিংক সে আচমকা তার অনুভূতিকে কন্ট্রোল করতে পারেনি।
মেঘালয়ের টনক নড়ে। সে আলগোছে অচেতন আলোকে কোলে তুলে নিলো। সবাইকে পাশ কাটিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলার উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলো। আরহাম এর পরিচিত একজন বাঙালী ডাক্তার আছে। আপাতত তাকেই কল করে ডেকে নিলো আরহাম৷ রিনির বাবার কাছ থেকে মেহমানরা বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে। আরাফাত এবং তার পরিবারের কিছু সদস্য রয়ে গেছে। রিনি এসে আরাফাতের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে বলল,
— আপনি যদি অনুমতি দিতেন তবে আরও কিছুক্ষণ আমি এই বাড়িতে থাকতে চাই।
রিনির কথা শুনে আরাফাত মুচকি হেসে বলল,

— তোমার বাড়িতে তুমি থাকবে রিনি। আমি পারমিশন দেয়ার কে? যদি চাও তো আজকের রাতটা এখানে থাকতে পারো।
আরাফাতের প্রতি রিনির মনে অগাধ কৃতজ্ঞতা এসে জমা হলো। প্রকাশ করল না। রিনি আরাফাতের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দোতলার দিকে ছুটল। আরাফাত রিনির ছুটে যাওয়ার দৃশ্য দেখে মুচকি হেসে তার পরিবারের উদ্দেশ্য বলল,
— তোমরা সবাই বাড়িতে ফিরে যাও। আমি রিনিকে নিয়ে ফিরব।
ব্যস আরাফাত এর এই একটা বাক্য শুনে তার পরিবার আর অপেক্ষা করে না৷ চলে যায়। ততক্ষণে ডাক্তার চলে আসে। ডাক্তারকে সঙ্গে নিয়ে আরহাম দোতলায় চলল।

মেঘালয় আজ নিজের পরিচিত বিছানায় আলোকে পরম যত্নে শুয়ে রাখল। এরই মাঝে দরজা খুলে প্রথমে প্রবেশ করলো রিনি। তার কিছুক্ষণ পর আরহাম এবং ডাক্তার। মেঘালয় সবার উপস্থিতি টের পেলেও কারো দিকে মুখ তুলে তাকায়নি। মেঘালয়ের দৃষ্টিজোড়ার কেন্দ্রবিন্দু কেবল আলো।
ডাক্তার আলোর ব্লাড প্রেশার এবং পালস চেক করার পর আরাহামের দিকে ফিরে বলল,
— কিছুক্ষণের মধ্যে উনার জ্ঞান ফিরে আসবে। আচমকা পাওয়া কোনো শকের কারনে এই অবস্থা হয়েছে উনার। আশা করছি উনি ঠিক হয়ে যাবে। আমি চললাম।
ডাক্তার এবং আরহাম একসঙ্গে বেরিয়ে গেছে। রিনি মেঘালয়কে কিছু না বলেই চলে যাচ্ছে। এখন তো সময় ওদের৷ দু’জন দু’জনকে বোঝাপড়ার সময়ই এখন।

রিনি চলে যাওয়ার পর মেঘালয় আলোর কপাল জুড়ে লেপ্টে থাকা ছোট অবাধ্য চুলগুলোকে গুছিয়ে রাখলে কানের পেছনে। তারপর, চোখ রাখল কপালে। কপালটায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে। ব্যতিব্যস্ত হয়ে শেরওয়ানির পকেট থেকে ট্যিসু বের করে আলোর কপালের ঘাম মুছে ফেলল মেঘালয়৷ তারপর, আবার তাকায় আলোর নাকের ডগায়। তার দেয়া নাকফুলটা আজও জ্বলজ্বল করছে। মেঘালয়ের যে কি হলো? আচমকা সে নিরবে কাঁদতে শুরু করল! কাঁদতে কাঁদতে ঝাপসা নয়নে আলোর নয়নজোড়ায় চোখ রাখল৷ না চোখজোড়া সেই আগের মতই আছে। ঘন কালো পাপড়ি জোড়ার নীচে ডাগরআঁখি লুকিয়ে আছে। মেঘালয় সামান্য ঝুঁকে নীচু হলো আলোর মুখের ওপর। আলোর বন্ধ পাতার চোখ জোড়ায় বেশ খানিকটা সময় ব্যয় করে চুমু খেলো।

মেঘালয় যখন আলোর চোখের পাতায় আদর ডোবানোয় ব্যস্ত ছিল ঠিক সে-সময় তার ভেজা চোখ থেকে নির্গত অশ্রু বিন্দু গড়িয়ে পরে আলোর গালের ওপর৷ অচেতন আলো টের পায়নি তার ডাক্তার সাহেব আজ কতটা বেসামাল হয়ে কাঁদছে তাকে ফিরে পাবার পর।
কিছুসময় অতিবাহিত হওয়ার পর মেঘালয় স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সোজা হয়ে বসে। তারপর, তার চোখ যায় আলোর কোমল অধরের ওপর। মেঘালয় শুকনো দুটো ঢোক গিলে আলোর হাতের দিকে তাকায়। হাত জোড়ায় দুটো চিকন সোনার চুড়ি। তারপর, কি যেন মনে পড়ে তার? উঠে দাঁড়ায়। আলোর পায়ের কাছে গিয়ে বসে। আলোর পরনের গোলাপি রঙা জামদানি শাড়িটা সামান্য সরিয়ে আলোর পায়ের পাতায় কিছু একটা খুঁজে বেড়ায়৷ বাম পায়ের পাতায় ঘন কুচকুচে তিলটা খুঁজে পাওয়ার পর মেঘালয় আলোর বাম পায়ের পাতা তুলে তিলের ওপর নরম চুমু দিয়ে পা’টা বিছানার ওপরে রেখে সরে বসলো। আলোর অচেতন মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর, খেয়াল করল আলোর বন্ধ চোখজোড়া অনবরত নড়াচড়া করছে। তারমানে আলোর জ্ঞান ফিরে আসছে। মেঘালয় আলোর পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে
আসার অপেক্ষা না করেই ঘর থেকে বের হয়ে গেল। মেঘালয় করিডর ধরে হাঁটছে আর ভেজা চোখ মুছতে মুছতে মনে মনে আলোকে উদ্দেশ্য করে বলল,

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৪

— তোমাকে ভালোবেসে আমি যতটা কেঁদেছি, যতটা অপেক্ষায় থেকে নিজেকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছি তুমিও ঠিক ততটুকুই ফেরত পাবে, মিসেস মেঘালয়। তোমাকে আমি আমি ফুলের টোকা দেব না কিন্তু আমার দেয়া অদৃশ্য আঘাতের জন্যই তুমি কাঁদবে।
কথাগুলো বলতে মেঘালয়ের চোখের সামনে ভেসে উঠলো আলোর চেহারা। আচমকা ইচ্ছে করল, আলোকে আবারও শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু, এখনই আলোকে ভালোবাসা দেখানো যাবে না। কিন্তু সে যে আলোকে ভালো না বেসে থাকতেই পারবে না। আলোকে লুকিয়ে চুরিয়ে ভালোবাসতে গেলেই তো আলোকে বারবার অচেতন হতে হবে। নয়তো, আলো যে আবারও মেঘালয়ের প্রখর ভালোবাসার একমাত্র সাক্ষী হবে।

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৫৬