Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৬

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৬

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৬
রূপন্তী সরকার

ইয়াশফা বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে নিলো। মিহি অনেকক্ষণ ইয়াশফার কপালে জল দিয়ে দেওয়ার পরেও জ্বর কমলো না। মিহি কিছুটা ভয় পেয়ে রিদকে কল করলো। রিদ একটা মিটিং এ ছিলো। মিহির কল পেতেই দৌড়ে বাড়িতে চলে আসলো৷ মিহি সহজে কল দেয় না। সিরিয়াস কোনো কারণ থাকলে তবেই কল দেয়। রিদ ইয়াশফার রুমে প্রবেশ করলো। মিহি ইয়াশফার পায়ের কাছে বসে আছে৷ রিদ বুঝলো ইয়াশফার কিছু হয়েছে। ঋষভ বা রুহির শরীর খারাপ হলেও মিহি এমন অসহায়ের মতো ওদের পায়ের কাছে বসে থাকে। রিদ গিয়ে মিহিকে দাঁড় করিয়ে দিলো। শান্ত কন্ঠে বললো “কি হয়েছে প্রিন্সেস?”
মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে বললো “ওর খুব জ্বর এসেছে।”
রিদ ইয়াশফার কাছে গেলো। ওর কপালে হাত দিয়ে দেখলো বেশ ভালোই গরম। রিদ দেড়ি না করে ডক্টর কে কল করলো।

এইদিকে তিথি রুহি রাহা ও ইয়াশফার রুমে আসলো। তিথি ছলছল চোখে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে আছে। ইয়াশফা মেয়েটাকে তিথির কাছে খুব ভালো লাগে। চঞ্চল মেয়েটা হুট করে চুপ হয়ে গেলে কি ভালো লাগে? অন্য দিন স্কুল থেকে এসেই লাফালাফি শুরু করে দেয়। রাহা গিয়ে ইয়াশফার পাশে বসলো। রুহি ও একপাশে বসলো। তিথি মিহির কাছে এসে বসলো। বাড়িতে মুগ্ধ আর শুভ্র নেই। ঋষভ ও বাহিরে গেছে। রিদ একবার ঋষভকে কল করে জানাতে চাইলো কিন্তু পর মুহূর্তে ওর মনে পড়লো ঋষভ ইয়াশফাকে থাপ্পড় মারার কারনেই হয়তো ইয়াশফার জ্বর এসেছে। রাগে রিদের মাথা গরম হয়ে গেলো। ও ঠিক করলো ঋশকে ইয়াশফার ধারে কাছে আসতে দিবে না। একটা অমানুষ তৈরি করেছে। যেই পুরুষ বউকে মারে সেই পুরুষ একটা কাপুরষ। রিদ এমন পুরুষ পছন্দ করে না। কিন্তু ওর ছেলেই এমন তৈরি হয়েছে। রিদ কোনোদিন মিহির গায়ে একটা ফুলের টোকা দেয় নি। কখনো থাপ্পড় দেয় নি কখনো “তুই” করে কথা বলে নি অথচ ওর ছেলে হয়েছে ১ নাম্বার অসভ্য। এরমধ্যেই ডক্টর চলে আসে। ডক্টর ইয়াশফাকে চেক করে কিছু মেডিসিন লিখে দিলো এবং বললো

“অনেকক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজার কারনে এবং শরীর দুর্বলের কারনে জ্বর এসেছে। আমি কিছু মেডিসিন লিখে দিলাম এগুলো সময় করে খাইয়ে দিবেন। যদি এরপরেও জ্বর না কমে তাহলে আমাকে জানাবেন”
রিদ ডক্টরকে এগিয়ে দিয়ে আসলো। রিদ গিয়ে ইয়াশফার মাথায় হাত বুলিয়ে সবার উদ্দেশ্য বললো
“তোমরা এখন যে যার ঘরে যাও এইখানে ভিড় করে লাভ নেই। ও রেস্ট নিক”
রিদের কথায় সবাই চলে গেলো। মিহি বাদে। রিদ মিহিকেও যেতে বললো কিন্তু মিহি কিছুতেই গেলো না। রুহি বা ঋশের জ্বর আসলেও মিহিকে ওদের কাছ থেকে সরানো যায় না। রিদ বুঝতে পারলো মিহি ওকে যতোই শক্ত দেখাক ও আসলে ইয়াশফাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে। এরমধ্যেই ইয়াশফা পিটপিট করে চোখ খুললো। মিহি তাড়াহুড়ো করে ইয়াশফার কাছে গেলো। ওর হাত ধরে বললো “মা কি খাবে তুমি? কি খেতে ইচ্ছে করছে?”
ইয়াশফা একটু থতমত খেয়ে গেলো। ও আস্তে করে বললো “কিছু খাবো না আন্টি”
রিদ এসে ইয়াশফাকে বললো “কিছু না খেলে মেডিসিন খাবে কেমন করে এটাম বোম? আর মেডিসিন না খেলে জ্বর সারবে কি করে? একটু খেয়ে নাও?”

ইয়াশফা নাক মুখ কুঁচকিয়ে বললো “এখন খাবো না”
মিহি ঠান্ডা গলায় বললো “কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না?”
ইয়াশফা কিছুক্ষণ ভেবে বললো “আমি চালতার আচার খেতে চাই”
মিহি অবাক হয়ে বললো “চালতার আচার?”
ইয়াশফা মিনমিন করে বললো “হু”
রিদ একটু চিন্তায় পড়ে গেলো। এতো রাতে চালতার আচার কই পাওয়া যাবে? এখন প্রায় রাত ১২ টা বাজে। রিদ মিহি কে বললো “তোমার ঘুম পেলে ওর পাশে ঘুমিয়ে পড়ো আমি চালতার আচার আনার ব্যবস্থা করছি।”
রিদ ইয়াশফার কাছে এসে বললো “মা আজকে রাতে যদি আচার না পাই তাহলে সকালে এনে দিলে কি তুমি রাগ করবা? গড প্রমিস একদম ভোর বেলাই এনে দিবো”
ইয়াশফা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো। রিদ চলতার আচারের খোঁজে বেরিয়ে পড়লো। রিদ বাহিরে যেতে নিবে এমন সময় ঋশের গাড়ি এসে রিদের সামনে থামলো। ঋশ গাড়ি থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে রিদ কটমট করে ওর দিকে তাকিয়ে বললো “এখন তোমাকে দুটো থাপ্পড় দেই?”

ঋশ গম্ভীর গলায় বললো “হুয়াই?”
রিদ রেগে বললো “মেয়েটাকে মেরেছো এখন ওর জ্বর চলে এসেছে। তুমি কি দিনদিন অমানুষ হয়ে যাচ্ছো ঋশ? তুমি তো টমন ছিলে না? তুমি কি করে ওইরকম বাচ্চা মেয়েটাকে মারলে? ও না হয় একটু দুষ্টমি করেছিলো তাই বলে মারতে হবে?”
ঋষভ চুপ করে রইলো। রিদ ঋশকে পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে বললো “এখন এতো রাতে চালতার আচার কই পাবো আল্লাহ। মেয়েটা জ্বরের মুখে খেতে চাইলো”
কথাটা বলেই রিদ গাড়ি স্টার্ট দিলো। ঋষভ রিদের কথা শুনে বুঝতে পারলো ইয়াশফা হয়তো চালতার আচার খেতে চেয়েছে তবে এখন তো রাত হয়ে গেছে। আচার কই পাবে? ঋষভ বাড়ির ভেতরে চলে গেলো। সিড়ি দিয়ে উঠে ইয়াশফার রুমের পাশ দিয়ে নিজের রুমেই ডুকছিলো কিন্তু কিছু একটা মনে হতেই ইয়াশফার রুমে উঁকি দিলো। দেখলো মিহি ইয়াশফার পায়ের কাছে শুয়ে আছে ঋষভ আস্তে করে রুমে ডুকলো। ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটার মুখ মলিন হয়ে আছে। অজান্তেই নিজের হাত ইয়াশফার মাথায় রাখলো। ইয়াশফা নড়ে উঠতেই হাত নামিয়ে নিলো। কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে গেলো।

এইদিকে প্রায় ২ ঘন্টা পর রিদের গাড়ির শব্দ কানে আসে। ঋশ বেলকুনিতে সিগারেট খাচ্ছিলো। রিদের গাড়ির শব্দ শুনে রুম থেকে বের হলো। রিদের হাত খালি। ঋষভ বুঝতে পারলো হয়তো রিদ আচার পায় নি। রিদ ইয়াশফার রুমে ডুকলো। রিদের পায়ের শব্দ পেয়ে মিহি উঠে গেলো। রিদ মিহির দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে বললো
“পেলাম না তো। অনেক জায়গায় খুঁজলাম কোথাও পেলাম না। সুপারশপ গুলো অফ হয়ে গেছে”
মিহি বললো “আচ্ছা কালকে এনে দিও এখন একটু খেয়ে নাও আমি খাইয়ে দিচ্ছি যাও ফ্রেশ হয়ে আসো”
রিদ বললো “খাবো না রে ইচ্ছে করছে না। মেয়েটা না খেয়ে শুয়ে আছে আর আমি কি করে খেয়ে নিবো? ওকে আগে কাল চালতার আচার এনে দিবো তারপর আমি খাবো”
মিহি ঠান্ডা গলায় বললো “আরে বাবা কালকে সকালে এনে দিও এখন তুমি একটু খেয়ে নাও। পেটে তো কিছুই পড়ে নি।”

মিহি জোড় করে রিদকে কয়েক লোকমা খাইয়ে দিলো। ঋশ এতোক্ষণ দরজার বাহিরে থেকে সবই দেখলো। ও ভেবেছিলো হয়তো রিদ নিয়ে আসবে বাট পায় নি৷ ঋশের কিছু একটা মনে হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো। রাতে একটু হালকা হালকা ঠান্ডা পড়েছে। গায়ে একটা পাতলা ফিনফিনে টি-শার্ট আর ট্রাউজার পড়ে আছে। তাড়াহুরো করে বাইক স্টার্ট দিয়ে আলে গেলো। রাত বাজে ২ টা পুরো শহর প্রায় ফাঁকা। মাঝে মাঝে কিছু বড়ো বড়ো ট্রাক আর বাইক যাওয়া আসা করছে।
ঋশ দেখলো কোনো দোকান খোলা নেই যেগুলো খোলা রয়েছে সেখানে আচার পাওয়া যায় না। ঋশ একটা সুপার শপের কাছে গেলো। শপ বন্ধ হয়ে গেছে বাহিরে দারোয়ান বসে বসে ঝিমাচ্ছে। ঋশ সোজা গিয়ে দারোয়ান কে বললো “শপের চাবি দিন”
দারোয়ান হকচকিয়ে ঋশের দিকে তাকালো। উনি ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখলো ২:৩০ বাজে। উনি অবাক হয়ে ঋশকে বললো “মানে?”
ঋশ গম্ভীর গলায় বললো “চাবি দিন”
দারোয়ান কিছুটা ভয় পেলো উনি ভাবলো এটা মনে হয় কোনো ডাকাত। দারোয়ান ভয়ে কিছুটা সরে গেলো। ঋশ বিরক্ত হয়ে দারোয়ানের কাছে গিয়ে নিজেই উনার পকেট থেকে চাবি নিয়ে শপ খুললো। দারোয়ান তাড়াতাড়ি করে পুলিশকে কল দিয়ে বললো

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৫

“আপনারা তাড়াতাড়ি আসুন ডাকান এসেছে শপে”
এইদিকে আরো একটি দারোয়ান এসে ঋষভের কন্ড দেখতে থাকে।।
এইদিকে ঋশ শপ খুলে এক সাথে অনেক গুলো চলতার আচার নিলো। সব গুলো একটা ব্যাগে ভরে নিলো। দারোয়ান রা হা করে ঋশের কাজ দেখছে। ঋশ আচার গুলো নিয়ে দারোয়ানের হাতে অনেক গুলো নোট ধরিয়ে দিয়ে বের হয়ে গেলো। সাথে দারোয়ানের পকেটে চাবি ডুকিয়ে শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললো “থ্যাংকস”
এরপর বাইক নিয়ে চলে গেলো। দারোয়ান গুলো হা করে ঋশের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। এটা কি হলো কিছুই বুঝলো না।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১৭