নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৮
রূপন্তী সরকার
পরের দিন সকাল…
আজ বিকেলেই অদ্রীতের বাড়ি থেকে লোকজন আসবে রুহিকে দেখতে। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরো বাড়িতে এক এলাহী কাণ্ড চলছে, সবাই যার যার মতো প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত। বাড়ির বাকি সবার মন-মেজাজ আজ দারুণ ফুরফুরে থাকলেও, ঋষভ কিন্তু কাল রাত থেকে একেবারে আগুন হয়ে আছে।
তিন-তিনটি বছর পর নিজের বউকে একটু মনের মতো কাছে পেয়েছিল, কিন্তু মাঝখান থেকে সব ভণ্ডুল করে দিল ওই এক পিচ্চি ব্যাটারি!
ঋষভের মনে মনে চরম ক্ষোভ বউয়ের এই ব্যাটারিটা একদম বউয়ের মতোই বেয়াদব হয়েছে! যেই না দেখে বাবা-মা একটু কাছাকাছি এসেছে, অমনি টাইমিং মিলিয়ে কেঁদে উঠবে। কাল রাতের সেই অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার কারণে ঋষভের মাথা সকাল থেকেই প্রচণ্ড গরম হয়ে আছে। ইয়াশফা সামনে দিয়ে গেলেই ও কেমন যেন চোখ গরম করে তাকাচ্ছে।
ইয়াশফা অবশ্য ঋষভের এই অদ্ভুত আচরণ দেখে মনে মনে বেশ অবাক হচ্ছে। ঋষভের এমন খিটখিটে মেজাজ ওর জন্য নতুন কিছু না হলেও, ইয়াশফার ধারণা ছিল এত কিছুর পর ঋষভ হয়তো এখন ওকে পুরোপুরি মেনে নিয়েছে, তাই অন্তত আর খারাপ ব্যবহার বা অকারণ রাগ দেখাবে না। কিন্তু কুকুরের লেজ কি আর সহজে সোজা হয়? এই খচ্চর লোকটা সকাল থেকে এখনো ওকে সমানে ধমক দিয়ে যাচ্ছে।
সকালে ইয়াশফা আলতো করে একটা কথা বলতে গিয়েছিল, তাতেই ঋষভ এমন একটা কড়া ধমক দিল যে ইয়াশফা আর কিছু না বলে চুপচাপ ওখান থেকে সরে এসেছে।
দুপুরের দিকে খাবার টেবিলে…
সবাই একসাথে এসে বসলো। শুভ্র জ্যোতির হাত ধরে ওকে সাবধানে চেয়ার টেনে বসিয়ে দিল, তারপর নিজে ওর ঠিক পাশে গিয়ে বসলো। জ্যোতির এই দুই মাসের প্রেগন্যান্সির পর থেকে শুভ্র ওকে চোখের আড়াল করতে চায় না।টেবিলের এক পাশে মিহি বসে ছিল। ইয়াশফা খেতে বসার জন্য ছোট ইয়ানকে আলতো করে মিহির কোলে তুলে দিল, তারপর নিজে একটা চেয়ার টেনে বসলো। পুরো টেবিল জুড়ে সবাই যখন কথা বলছে, তখন ঋষভ আর ইয়াশফা
দুজনেই একদম গম্ভীর হয়ে নিজেদের প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে। ঋষভ একটু পর পর চামচ দিয়ে প্লেটে শব্দ করছে আর ইয়াশফার দিকে আড়চোখে রাগী দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে।বাপের চোখ এড়ালো না এই নীরব যুদ্ধ।
রিদ টেবিলের ওপাশ থেকে একবার ঋষভের লাল হয়ে থাকা মুখের দিকে তাকালো, তারপর ইয়াশফাকে দেখে একটু হেসে চিলতে গলায় জিজ্ঞেস করলো,
“কী রে এটম বোম, কী হয়েছে তোমাদের? আজ এত আনন্দের দিনেও তোদের দুইজনের মুখ এমন ভার হয়ে আছে কেন? সকাল থেকে দেখছি কেউ কারো সাথে কথাই বলছো না!”
শ্বশুরের এমন সরাসরি প্রশ্নে ইয়াশফা একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। সে আড়চোখে একবার ঋষভের থমথমে মুখের দিকে তাকালো, তারপর নিজের প্লেটে ভাত নাড়তে নাড়তে আমতা আমতা করে বললো,
“না, তেমন কিছু না এমনিই।”
খাবার টেবিলে সবাই যখন চুপচাপ খাচ্ছিল, তখন রিদ পরিস্থিতিটা একটু বাজিয়ে দেখার জন্য দুষ্টুমি ভরা গলায় বলে উঠলো,
“আরে ভালো কথা, কিছুক্ষণ আগে ইউভান কল দিয়েছিল। ও ওখান থেকে বললো, ওর নাকি আমাদের ছোট ইয়ানকে খুব বেশি মনে পড়ছে।”
ইউভানের নামটা শোনা মাত্রই ইয়াশফা অব অবচেতনভাবেই বলে উঠলো, “ইউভ…।”
কিন্তু ইয়াশফার মুখ থেকে পুরো নামটা উচ্চারণ হওয়ার আগেই ঋষভ নিজের হাতের চামচটা প্লেটের ওপর সজোরে আছাড় মারলো। তারপর বাঘের মতো গর্জে উঠে কড়া ধমক দিয়ে বললো,
“একটা থাপ্পড় মারলে সাত দিন সেন্সলেস হয়ে পড়ে থাকবি স্টুপিড! তোকে আমি কতবার বারণ করেছি না, ওই নামটা যেন তোর মুখে কোনোদিন না শুনি?”
সবার সামনে ঋষভের এই আকস্মিক রূপ দেখে পুরো টেবিলের সবাই খাওয়া থামিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। ইয়াশফার এবার সত্যি সত্যি প্রচণ্ড রাগ হলো। এই লোকটার সমস্যাটা কী? পুরো কথাটা না শুনে, না বুঝে সবার সামনে এভাবে ওকে ধমক দেওয়ার কোনো মানে হয়?
ইয়াশফা নিজের ভেতরের রাগটা চেপে রেখে স্পষ্ট গলায় বললো, “আমার পুরো কথাটা না শুনেই আপনি এভাবে পাগলামি করছেন কেন?”
কিন্তু ঋষভ তখন কাল রাতের অতৃপ্তি আর সকালের খিটখিটে মেজাজে এমনিতেই অন্ধ হয়ে ছিল। সে ইয়াশফার এই পাল্টা জবাব দেওয়াটা একদম সহ্য করতে পারলো না। সবার সামনে হঠাৎ করেই আরও চড়া গলায় ইয়াশফাকে ধমকে উঠে বললো,
“একদম বেয়াদবি করিস না ইয়াশফা! চুপচাপ খা!”
ঋষভের মুখের ওপর এমন কড়া ধমক খেয়ে ইয়াশফা পুরোই আকাশ থেকে পড়লো। সে আর টু-শব্দটি না করে শুধু বড় বড় অবাক চোখে ঋষভের দিকে তাকিয়ে রইল। ঘরের বাকি সবাই তখন অস্বস্তিতে মাথা নিচু করে ফেলেছে। ইয়াশফা মনে মনে ভাবলো,
“মানুষের রূপ কত দ্রুত বদলায়! কাল মাঝরাতের বেলা যে লোকটা আমার পায়ে চুমু অব্দি খেয়ে হাউমাউ করে কাঁদলো, সে-ই এখন সবার সামনে আমাকে ধমক দিচ্ছে! ঢং কত ওনার! গিরগিটিও বোধহয় এত দ্রুত রঙ বদলাতে পারে না!”
অপমানে ইয়াশফার চোখ দুটো কান্নায় টইটম্বুর হয়ে গেল। খাবার শেষ হতেই সে আর এক মুহূর্তও ওই টেবিলটায় দাঁড়ালো না। চেয়ার ছেড়ে হনহন করে হেঁটে মিহির কোল থেকে ইয়ানকে এক ঝটকায় নিজের কোলে তুলে নিলো। তারপর গটগট করে পা ফেলে নিজের রুমে চলে এলো। রুমে এসে ধপ করে বিছানায় বসে দুটো গাল ফুলিয়ে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বসে রইল সে।
এর ঠিক কিছুক্ষণ পরেই ঋষভ চোরের মতো পা টিপে টিপে রুমে ঢুকলো। টেবিলের ওই রাফ বিহেভিয়ারের জন্য ও নিজেই এখন ভেতরে ভেতরে অনুশোচনায় ভুগছিল। ইয়াশফাকে বিছানায় ওভাবে গাল ফুলিয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বসে থাকতে দেখে ঋষভ আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল। তারপর একদম নরম, আদুরে সুরে বললো,
“সরি বাবু! অনেক বেশি রাগ করেছো আমার ওপর?”
ইয়াশফা নিজের মুখটা ঝটকা দিয়ে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে অত্যন্ত ছোট করে, চিবিয়ে চিবিয়ে বললো, “নাহ।”
ঋষভ আরেকটু এগিয়ে এসে ইয়াশফার একদম গা ঘেঁষে বসলো। তারপর ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে চোখ টিপে ফিসফিস করে বললো,
“রাগ যখন করোই নাই, তাহলে একটা ছোট্ট করে চুমু খাই?”
ইয়াশফা এবার নিজের শক্ত, কঠিন গলায় সোজা ঋষভের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“নাহ! একদম না!”
কিন্তু ঋষভ কি আর অত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র? যেই না সে ইয়াশফাকে জোর করে নিজের শক্ত বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে আদর করতে যাবে, অমনি একদম টাইমিং মিলিয়ে বিছানার অন্যপাশ থেকে ভ্যা ভ্যা শব্দে কেঁদে উঠলো তার চিরশত্রু থুড়ি, কলিজার টুকরো ছেলে ইয়ান!
চলতি রোমান্টিক মুডের একদম বারোটা বাজতে দেখে ঋষভ নিজের কপালে হাত দিয়ে ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো। তারপর ছাদের দিকে মুখ করে চরম হাহাকার আর আকুলতা নিয়ে উন্মাদের মতো চেঁচিয়ে উঠলো,
“আরে ভাই! এই বউয়ের ব্যাটারিটা আমাকে এত জ্বালায় কেন? এবার একটু চুপ কর না বাবা! কাল রাতেও তোর এই কান্নার টাইমিংয়ের চক্করে আমি ঠোঁট ছাড়া আর কিচ্ছু স্পর্শ করতে পারি নাই। আজকে একটু সুযোগ পেয়েছিলাম, তা-ও তুই এসে মাঝখান থেকে ভেস্তে দিলি! তোর বাপের দিকে একটু তো রহম কর বাবা? তোর জন্য আরেকটা বোন আনার ব্যবস্থা করতে দে? প্লিজজজ”
বিছানায় ছটফট করতে করতে ছোট ইয়ান একসময় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। ছেলে ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথেই ঋষভ আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করলো না। সে বাঘের মতো চটজলদি গতিতে এগিয়ে এসে ইয়াশফাকে নিজের শক্ত বুকের মাঝে টেনে নিলো। দীর্ঘ তিন বছরের জমানো তীব্র তৃষ্ণা আর আকুলতা নিয়ে সে মুখ ডুবিয়ে দিল ইয়াশফার গলার খাঁজে, ঠোঁটের কোণে। প্রতিটি স্পর্শে মিশে রইল এতদিনের একাকীত্বের হাহাকার। ইয়াশফাও আর নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারলো না, সেও আস্তে আস্তে ঋষভের সেই ভালোবাসার অতল সাগরে নিজেকে সঁপে দিল।
দীর্ঘ তিন বছর পর স্বামীকে এভাবে নিজের করে পেয়ে পুরো ঘরটা এক তৃপ্তির নিস্তব্ধতায় ভরে উঠলো।
সবকিছু শান্ত হওয়ার পর ইয়াশফা তীব্র লজ্জায় লাল হয়ে বিছানার চাদরটা নিজের গায়ের ওপর টেনে নিলো। ঋষভ ওর এই লাজুক রূপ দেখে একটু মুচকি হাসলো। তারপর ইচ্ছে করেই ইয়াশফাকে ক্ষ্যাপানোর জন্য বেশ গম্ভীর মুখে বলে উঠলো, “কী হয়েছে? এভাবে লজ্জা পাচ্ছো কেন? আমি তো তোমাকে আমার বউ হিসেবে মানি না!”
ঋষভের মুখে এই কথা শুনতেই ইয়াশফার সারা মাথায় যেন এক নিমেষে আগুন চড়ে গেল! এই খচ্চর লোকটা দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে নিজের মনের মতো যুদ্ধ জয় করার পর, একটা ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দিয়ে ফেলার পরও এখন বুক ফুলিয়ে বলছে ও নাকি বউ বলে মানে না? জাওড়া পাডা একটা! ইয়াশফা আর সহ্য করতে পারলো না। সে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে বিছানার পাশের টেবিল থেকে ফল কাটার ধারালো ছুরিটা হাতে তুলে নিলো। তারপর সোজা ঋষভের গলার ওপরে ওটা চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“শুধু রাতটা আসতে দিন, আপনার এই সমস্ত চুদুর বুদুর আমি এক কোপে বের করবো! মনে রাখবেন!”
ঋষভ ওর এই রুদ্রমূর্তি দেখে একটুও ভয় পেলো না। সে বরং হালকা একটু হেসে, ইয়াশফার ধারালো চোখের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় বললো, “আর একটু…?”
ইয়াশফা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ওর দিকে শেষবারের মতো তাকালো। ঋষভ তখন নিজের কায়দায় শব্দ করে হাসতে লাগলো। দুই জনের ভেতরের এই চিরচেনা টক-মিষ্টি লড়াইটা যেন আবার তাদের সেই পুরোনো দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনলো।
দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে এলো…
অদ্রীতের বাড়ি থেকে লোকজন চলে এসেছে রুহিকে দেখতে। পাত্রের বাবা আহসান শেখ এবং মা আয়েশা শেখ
দুজনেই সোফায় বেশ জাঁকজমকভাবে বসে আছেন। পুরো ড্রয়িংরুমের পরিবেশটা এখন বেশ গম্ভীর।
বাড়ির সবাই মেহমানদের আপ্যায়নে ব্যস্ত। রুহি একটি লাল শাড়ি পরে আয়েশা শেখের ঠিক পাশে মাথা নিচু করে বসে আছে। অদ্রীত বার বার রুহির দিকে তাকিয়ে চোখ মারছে, চুমু দিচ্ছে, রুহি বেশ লজ্জা পাচ্ছে। অসভ্য ছেলে।
ঘরের অন্য এক কোণায় সোফায় রিদ, ঋষভ, শুভ্র, মুগ্ধ এবং অভ্র, সবাই গম্ভীর মুখে একসাথে বসে মেহমানদের সাথে কথা বলছে।
নাস্তা খাওয়া শেষে যখন বিয়ের মূল কথাবার্তা আগাতে যাবে, ঠিক তখনই রিদ হাত তুলে আহসান শেখকে থামিয়ে দিল। সে বেশ স্পষ্ট গলায় বলে উঠলো,
” একটু দাঁড়ান। আগে আমার এটম বোম আসুক, তারপর মূল কথা শুরু হবে।”
আহসান শেখ কিছুটা অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, “সেটা আবার কে?”
রিদ মুখে এক চিলতে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বললো, “আমার বউমা!”
রিদের কথা শেষ হতে না হতেই সিঁড়ি দিয়ে ধীর পায়ে নীল রঙের একটা জমকালো শাড়ি পরে নিচে নেমে এলো ইয়াশফা। ওর কোলে ছোট ইয়ান। কতদিন পর ও আজ শাড়ি পরেছে! নীল শাড়িতে ওকে আজ এক অন্যরকম সুন্দর লাগছিল। ইয়াশফাকে এই রূপে দেখা মাত্রই সোফায় বসা ঋষভের চোখ দুটো যেন এক জায়গায় থমকে গেল। সে নিজের চোখের পলক ফেলতে ভুলে গিয়ে একদৃষ্টিতে নিজের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রইলো।
তবে ড্রয়িংরুমের অন্য প্রান্তে বসা আহসান শেখ ইয়াশফাকে দেখা মাত্রই ওনার চোখের চাউনি একদম অদ্ভুত হয়ে উঠলো। ওনার চোয়ালটা কেমন যেন শক্ত হয়ে গেল। ইয়াশফা নিচে নেমে কোনো ইতস্তত না করে সোজা গিয়ে আহসান শেখের ঠিক মুখোমুখি চেয়ারটায় বসলো। বসার পর থেকেই ইয়াশফার চোখ দুটো অন্যরকম ধারালো হয়ে উঠলো। সে এক অকাট্য, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সোজা আহসান শেখের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল
যেন সে ওনার ভেতরের কোনো গোপন সত্যি টেনে বের করতে চাইছে।
আহসান শেখ নিজের ভেতরের অস্বস্তিটা আড়াল করার জন্য ঠোঁটে একটা মুচকি হাসি ফুটিয়ে নরম গলায় বললেন, “কেমন আছো মা?”
ইয়াশফা ওনার সেই মেকি হাসির জবাবে নিজের ঠোঁটের কোণে একটা ধারালো হাসির রেখা টেনে স্পষ্ট, চিবানো গলায় উত্তর দিল, ” শত্রুদের বদদোয়া আর আল্লাহর অশেষ রহমতে… আছি আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভালোই আছি। আপনারা কেমন আছেন?”
ইয়াশফার এই অদ্ভুত এবং কিছুটা ত্যাচ্ছিল্যভরা উত্তর শুনে আয়েশা শেখ বেশ অবাক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন। ওনার মনে হলো মেয়েটার চোখে এক অদ্ভুত মায়া আছে, আবার একই সাথে কেমন যেন খুব চেনা চেনা লাগছে ওকে!
আহসান শেখ ইয়াশফার কথার ভেতরের খোঁচাটা বুঝতে পেরেও নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, “হুম, আছি ভালোই।”
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৭
পরিবেশের এই সূক্ষ্ম থমথমে ভাবটা কাটানোর জন্য পাশে বসা অদ্রীত হঠাৎ করেই সোজা হয়ে বসে ইয়াশফার কোলে থাকা ছোট ইয়ানকে দেখিয়ে আনন্দের চিলতে গলায় বলে উঠলো, “বাবা, দেখো! এটা হলো আমার লাড্ডু!”
অদ্রীতের কথা শুনে ড্রয়িংরুমের জমে থাকা সমস্ত থমথমে ভাব এক নিমেষে কেটে গেল এবং সবাই একসাথে হেসে উঠলো।
