Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ১১

পৌষপার্বণ পর্ব ১১

পৌষপার্বণ পর্ব ১১
Irfa Mahnaj

বানরের মত লম্পজম্প করতে করতে বসন্ত গিয়ে হাজির হয় হেমন্তের ঘরে। যে কিনা ফোনের মধ্যে ডুবে কি যেনো কাজ করছিলো।
হেমন্ত মোবাইলের উপর ঝুঁকে কাজ করছিলো হঠাৎ মুখের সামনে এক ধলা থোবরা দেখতে পেয়েই হকচকিয়ে উঠে।
কেরে বলেই চিল্লিয়ে পিছনে চলে যায়। বুকে থু থু ছিটিয়ে সামনে তাকাতেই দেখতে পায় তারই জমজ বেয়াদব ভাইকে।
চোখ মুখ কুঁচকে দেয় এক রাম ধমক বসন্তকে। হেমন্তের ধমক খেয়ে বিছানায় বাবু হয়ে বসে মুখটা কাচুমাচু করে বলে,

— তুমি আমাকে ধমক দিতে পারলে ভাই ?
হেমন্তের কুচকানো কপাল আরো কুচকে গেলো। বুঝতে একটুও অসুবিধে নেই যে এখানে কোনো ঘাপলা আছে।
কারণ হেমন্ত বসন্তের ১ মিনিট আগে হওয়ার দরুন প্রায়শই হেমন্ত ওকে বলে নিজেকে বড় ভাই বলতে।
তবে বসন্ত তো বসন্তই। ও আর বলবে বড় ভাই! কস্মিনকালেও না। তবে হ্যাঁ যখন কোনো কিছুর দরকার হয় তখন বলে। কারণ ওই যে হেমন্তকে তার লাগবে। তাই তেল দেয়।
— মেইন কথা কি সেটা বল।
হেমন্তের এরুপ সরাসরি কথায় থতমত খেয়ে যায় বসন্ত। তবুও বলতে হবে। ঘুষ নিয়েছে বলে কথা।
কাজ তো সে সততার সাথে করবেই। বাতাসির কাছ থেকে দু প্লেট বিরিয়ানি খেয়েছে। উপরন্তু আম্রপালিকে নিয়ে ভরপুর হাবিজাবি জিনিসও কিনেছে।
এখন কাজ তো তাকে করতেই হবে। বসন্ত আবার সৎ লোক কিনা।
গলা খাঁকারি দিয়ে গলাটা আগে পরিষ্কার করে নেয় বসন্ত। এদিকে বসন্তের এমন অবস্থা দেখে হেমন্তও এবার সিরিয়াস হয়।
সিরিয়াস বলতে, ও এইটুকু বেশ বুঝতে পেরেছে তার গাধা ভাই নিশ্চিত এবার সিরিয়াস কোনো গণ্ডগোল করে এসেছে।
তাগাদা দিয়ে জানতে চাইলো হেমন্ত,

— এখন আবার বলিস না আম্রপালি আবারো ব্রেক আপ করেছে তোর সাথে।
ভাইয়ের এমন অলক্ষণে কথা শুনে চোখ ছোট ছোট করে তার দিকে তাকায় বসন্ত। বিরস গলায় বলে,
— তোর মুখের ভিতর গু পড়ুক এসব খারাপ কথা বলার জন্য।
— তাহলে কি আংকেলের হাতে ধরা খেয়ে পেদানি খেয়েছিস?
— আরে ধুর এসব কিছুই না।
— তো কি? হয় কিছু বল নাহয় বের হ আমার রুম থেকে।
— আহা রাগে না। বলছি শোন।
— বলেন ভাই।
— আমাদের ক্লাসমেট হাওয়াকে চিনিস না?
— হাওয়া! না কে সে?
নিজের কপাল নিজেই চাপড়ে বসন্ত বলতে লাগলো,
— সিনিয়র এর প্রেমে পড়ে তো তোর আর কোনো দিকে খেয়ালই নেই। একজনকেই তো দেখেছিস যে তোকে পাত্তাও দেয় না। কিন্তু পিছনেই পড়ে আছিস।
এবারে কিছুটা রেগে গেলো হেমন্ত। বনচাঁপাকে নিয়ে বাজে কথা একদম সহ্য হলো না হেমন্তের। ও কঠিন গলায় বলল,

— থেমে যা। অনেক বলেছিস আর না। এখনই বের হ আমার রুম থেকে আমি তোর কোনো কথাই শুনতে চাই না।
ইস কি করে ফেললো এটা বসন্ত। এখন কীভাবে কথাটা বলবে। ভাই যে পরিমাণে ক্ষেপেছে তাতে এসব কথা শুনলেই শুলে চরাবে ওকে।
— আরে আমার কথাটা তো শোন…
কিন্তু কে শোনে কার কথা। বসন্তের পশ্চাদ্দেশ বরাবর এক জোরালো লাথি দিয়ে রুম থেকে বের করে দেয় হেমন্ত।

পার্বণকে যেই রুমে দেওয়া হয়েছিল সেই রুমের খাটটা একটু নড়বড়ে। তবে ঘুমানো যায়।
মধ্যবিত্ত তো এসব কিছুও অপ্রয়োজনীয় ঠেকে। তাই আর ঠিক করায়নি। তাছাড়া এই রুম এর ব্যবহার সবসময় হয়ও না।
মেহমান আসলেই থাকতে দেওয়া হয়। আজ যেমন পার্বণকে দেওয়া হয়েছে। যদিও পৌষকে নিয়েছে সাথে সে তাতেও খাট কিছুই হতো না।
তবে পার্বণ তো আর খাটের উপর স্থির রয়নি। রীতিমত যুদ্ধে নেমেছে সে। বেচারা খাট বাবাজিও আর বেশিক্ষণ পার্বণের এই যুদ্ধে সঙ্গী হতে পারেনি।
ব্যস মরমর করে খাট ভেঙ্গে নিচে পরে গেল। নিচে যে সে খাট ভেঙ্গে পড়েছে এতেও বান্দার কোনো খেয়াল নেই! হেলদোল নেই!
সে তার কাজে ব্যস্ত। পৌষের উপরেই এখনো আছে। একচুলও এদিক ওদিক হয়নি।
পার্বণের কিছু হোক বা না হোক পৌষের অবস্হা হালুয়া। একে পার্বণের মতো এক দামরার তলে ও যায়যায় অবস্থায় আছে।
তার উপর খাট ভেঙ্গে পড়েছে। ওর কোমর বোধহয় ওর শরীর থেকে আলাদা হয়েই গেছে।
রাগে গজগজ করতে করতে পার্বণের উপর চিল্লিয়ে উঠে পৌষ,

— ওরে শা*লা*র পো শা*লা উঠ তুই। আমি বেঁচে থাকলে আবার রোমান্স করিস।
নিজ কাজ কন্টিনিউ রেখেই পার্বণ হুশিয়ারি দিয়ে বলে,
— উঁহু ডোন্ট ডিস্টার্ব মি।
চূড়ান্ত ক্ষোভে ফেটে পড়লো পৌষ। তার হাত পা আগেই বেঁধে দিয়েছে নাহয় দিতো এক লাথি। হাত দিয়ে ঠেলে দূরেও সরাতে পারছে না।
বেঁধে তো দিয়েছেই তার উপর আবার হাত মুঠোয় বিছানার সাথে চেপে রেখেছে পার্বণ।
এমনিতেই পৌষ পার্বণের এই অতিরিক্ত রোমান্স সামাল দিতে হিমশিম খায়। তার উপর এরকম একটা অবস্হা।
এবারে শব্দ করেই কেঁদে উঠে পৌষ। পৌষকে কান্না করতে দেখে পার্বণ ওর ঠোঁটে অজস্র ছোট ছোট চুমু খেতে লাগে।
আর বাচ্চাদের মতো করে বুঝাতে থাকে,
— কাদে না আমার জান। প্লিজ আরেকটু। কাজটা তো ফিনিশ করতে হবে বল। খাট ভেঙ্গেছে আমি ম্যানেজ করে নিচ্ছি তো।

ঠাস করে কিছু ভেঙ্গে পড়ার শব্দে লাফিয়ে ওঠে ভাদ্র। হাত দিয়ে জোরে ঠেলা দিয়ে পাশে শুয়ে থাকা চৈত্রকে ডাকতে আরম্ভ করে।
ঠেললেও যখন দেখে চৈত্রের নড়ন চড়ন নেই তখন ধাক্কাতে থাকে। ভাদ্রের এভাবে ধাক্কানোতে হুড়মুড়িয়ে উঠে বসে চৈত্র।
তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করে,
— ডাকাত পড়লো নাকি? কোথায় ডাকাত? ডাকাত, ডাকাত,ডাকাত।
শেষে ডাকাত বলে চিৎকার দিতে নিলেই ওর মাথায় বারি মারে ভাদ্র। কটমটিয়ে ভাদ্রের দিকে তাকাতেই ভাদ্র বলে,
— বলদ মহিলা এতো রাতে এভাবে কেউ চেঁচায়?
— বলদ বেডা তো এতো রাতে এভাবে কেউ ঘুমন্ত মানুষ জাগায়?
— এখন মুখ বন্ধ করে আমার সাথে চল।
— কোথায়?
— গেলেই দেখতে পাবি।
কথা শেষ করে ভাদ্র হাটা লাগায়। আর চৈত্র কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি করে নিজেও স্বামীর পিছু নেয়।
পার্বণের রুমের সামনে এসে হাজির হয় ভাদ্র। স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে কিছু ভেঙ্গে পড়ার আওয়াজ এই রুম থেকেই এসেছে।

ওরা ভিতরে ঠিক আছে তো? এই ভেবেই চিন্তা হচ্ছে ভাদ্রের।
এদিকে ভাদ্র আর পার্বণদের রুম আর অন্যদিকে আবার পুঁটি আর শুঁটকি থাকে। তাই ওরা অতদূর দিয়ে না শুনলেও ভাদ্র ঠিকই শোনে।
ভাদ্রকে অনুসরণ করতে করতে এসে যা দেখে এতে চৈত্রের চোখ কোটর দিয়ে বের হয়ে আসার উপদ্রপ।
ভাদ্র পার্বণের রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। শুধু দাড়িয়েই নেই। ও এমন ভাবে ধাক্কাচ্ছে মনে হচ্ছে ভেঙে ভিতরে চলে যাবে।
হায় হায় করতে করতে এগিয়ে গেলো চৈত্র। রুমের মধ্যে থেকে আসা অসামাজিক কিছু আওয়াজ শুনতেই চৈত্রের পা দুটো থমকে গেলো।
সাথে বিরাট বড় একটি বাজ পড়লো ওর মাথায়। এই লোক কিনা শেষে ছোট ভাইয়ের ঘরের সামনে এসে দরজা ধাক্কাচ্ছে?
তাও এরকম আওয়াজ শুনে দাড়িয়ে আছে। চিবিয়ে চিবিয়ে ভাদ্রকে উদ্দেশ্য করে চৈত্র বলে,

— এই যে অভদ্র মশাই চলুন।
— আরে দাড়া ডাকতে দে। ভিতরে কি ভাঙ্গলো দেখা লাগবে না।
চোখ বড় বড় করে ভাদ্রের দিকে তাকিয়ে চৈত্র বলে,
— না লাগবে না। ছি কি অস্লীল তুই।
কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওর বুলি মাঝপথেই থেমে গেলো।ভিতর থেকে আসা কিছু নিষিদ্ধ চিৎকার আর আওয়াজ শুনে।
এতক্ষণ খেয়াল না করলেও এখন শুনতে পেয়েই অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে ভাদ্র। ধাক্কাতে থাকা হাত থেমে যায়।
নজর এদিক ওদিক করে আর কিছু না বলেই সেখান থেকে গটগট পায়ে চলে যায় ভাদ্র। চৈত্রও দাড়িয়ে না থেকে ওর পিছু পিছু দৌড়ায়।

সূর্য মামা পূব আকাশে উঁকি দিয়েছে। চারদিকে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ। পানির স্রোতের শব্দও ভেসে আসছে।
জানালার ফাঁক গলে রুমের মধ্যে আলোর ছটা এসে পড়ছে। সবাই যেখানে ভোর হতেই উঠছে সেখানে ব্যতিক্রম পার্বণের রুমের দৃশ্যপট।
ক্লান্ত হয়ে শুয়ে আছে পার্বণ আর ওর উপর এক পাশ হয়ে শুয়ে আছে পৌষ। সারারাত পার্বণ পৌষের উপর থাকলেও এখন পৌষ পার্বণের উপর। ওর বুকের উপর।
পৌষকে দুই হাত দিয়ে ঝাপটে নিজের উন্মু*ক্ত বক্ষে আগলে চিত হয়ে সেই ভাঙ্গা খাটের উপরেই শুয়ে আছে পার্বণ।
হ্যাঁ কাল সারারাত পার্বণের কার্যক্রম চলেছে। এক চুল পরিমাণ ছাড়ও সে দেয় নি পৌষকে।
গতকাল সারারাত একটা ঝড়ের মধ্যে ছিলো পৌষ। আর সেই ঝড়ের নাম পার্বণ।
ওর মাত্রাতিরিক্ত রোমান্সের ঠেলায় পৌষ এখন আধমরা। নড়তে চড়তেও ভীষন কষ্ট হচ্ছে তার।
পার্বণও বুঝলো বিষয়টা তবে হুট করে কেনো জানি পৌষকে রাগিয়ে দিতে ইচ্ছে করলো। করলো ও তাই।

— বুঝলি পৌষ আগেই বলে দিলে হতো তুই আমার বউ তাহলে আর বাস ও বাসায় কাজ গুলো এভাবে অসমাপ্ত করে রাখতাম না।
পার্বণের বুকে দুটো থাপ্পড় দিলো পৌষ। ওর দুর্বল শরীরের এই নাজুক থাপ্পড়ে পার্বণের কিছু তো হয়ই না উল্টে পার্বণ হাসতে থাকে।
পৌষ চাইলেও কিছু বলতে পারছে না। সে দুর্বল, ক্লান্ত। সারারাত তার শরীরের উপর অত্যাচার করেছে এই বজ্জাতটা।
নড়াতেও পারছে না। ব্যথায় টন টন করছে। হাত দুটো বাঁধার কারণে হাতও ব্যথা হয়ে আছে। বিশেষ করে তলপেট থেকে শুরু করে তলপেটের নিচ অবধি অবশ হয়ে আছে।
পৌষ ঠিক করে রিভেঞ্জ ও নিয়েই ছাড়বে। ওর সময়ও আসবে। পৌষের সময় কবে আসবে তাতো জানিনা তবে পার্বণের যে এখন সময় চলছে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।
একটু নড়তেই ব্যথায় কান্না করে ফেলে পৌষ। কাদতে কাদতেই পার্বণকে ঝাড়ি দিতে থাকে।
পার্বণও এবার অসহায় হয়ে তাকিয়ে রয় পৌষের কান্নারত মুখটার দিকে। কাল থেকে এই মেয়ে যে কতবার কাদলো।
পার্বণই এবার আরেকটু ভালো করে পৌষকি জড়িয়ে ধরে। ওর মুখে আসা চুল গুলো কানের পিছে গুঁজে দিতে দিতে বলে,
— চেষ্টায় তো কমতি রাখিনি। আর কাদিস না। জীবনে প্রথম বার বাসর করেছি তো তাই। পরের বার আর এরকম হবে না। তখন তো এক্সপেরিয়েন্সড থাকবো।

— কিরে ননদিনী আমার জামাইর কি খবর?
— জামাইর খবর টা জামাইর কাছ থেকে নিলেই ভালো হয় বউ। ননদকে আর কত জ্বালাবেন।
পিছন থেকে রাশভারী পুরুষালি গলার স্বর পেতেই চমকে উঠল পূর্ণা। কে বলেছে দেখতেই পিছনে ঘুরলে কারো বুকের সাথে বারি খায় সে।
পূর্ণার সাথে ধাক্কা লাগলেও ব্যক্তিটির কোনো ভাবান্তর দেখা গেলো না। বরং দুই হাত ট্রাউজারের পকেটে গুঁজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরখ করছে সামনের রমণীকে।
পূর্ণা যখন বুঝতে পারলো ব্যাক্তিটি আর কেউ না তারই তথাকথিত জামাই মহোদয় কালমেঘ।
তখন বোকা বোকা হেসে জিজ্ঞেস করে,
— ইয়ে মানে আসসালামু আলাইকুম মেঘ ভাই। ভালো আছেন।
দুই হাত আড়াআড়ি ভাবে বুকে গুঁজে পূর্ণার পা থেকে মাথা অবধি এক বার চোখ বুলিয়ে নিয়ে কালমেঘ বলে,

— বউ ছাড়া আর কতকাল থাকবো বল। এবার তো পার্মানেন্টলি চলে আসার পালা এখানে। কি বলিস? আসছিস কবে তাহলে।
কি জবাব দিবে। ও তো এমনিতেই মজায় মজায় বলেছিল। ছোট বেলায় একবার কালমেঘকে দেখে পূর্ণা বলেছিল
— আমি বড় হয়ে মেঘ ভাইকে বিয়ে করব। তার লাল টুকটুকে বউ হবো।
ব্যস সেই থেকে এই নিয়ে পূর্ণাকে পচানো হয়। তবে শেষে যে কালমেঘ ও এ কথা বলতে পারে তা পূর্নার ভাবনায় আসেনি।
আজকেও কলেজে যাবে না ঠিক করে পূর্ণা আর বনচাঁপা। দলের দুজন লোক নেই সেখানে কলেজে যেতে ভালো লাগে না।
তাই আজ সকালে যেই না বনচাঁপা ওকে বাড়ি ডাকে অমনি নাচতে নাচতে এসে হাজির হয়। ছাদে বসে মূলত গল্প করছিল দুজনে।
কথা বলার এক পর্যায়ে মজা করেই বনচাঁপাকে ননদিনী ডাকে। আর সম্পূর্ণ মজা করেই কথাটা বলে।
তবে পূর্ণা কি আর জানত তার জামাই বাড়িতেই। তার তো এখন ভার্সিটি থাকার কথা।
সাহায্যের জন্য পাশে তাকাতেই কোথাও তার প্রিয় বান্ধবী বনচাঁপার দেখা না পেয়ে শুষ্ক ঢোক গিলে পূর্ণা।
পূর্ণাকে চারিদিক তাকাতে দেখে কালমেঘ ঘোর লাগা গলায় বলে,

পৌষপার্বণ পর্ব ১০

— বিবি আপনার স্বামী সামনে দাড়িয়ে। তার দিকে তাকান। আপনি আশেপাশে কি দেখেন।
এ কথা বলেই কালমেঘ পূর্ণার দিকে এগিয়ে যেতে লাগে। আর পূর্ণাও ভয়ে ভয়ে পিছাতে থাকে।
কারণ এর পরে কলমেঘ যে কি করবে তা তার ভালো মতো জানা আছে। সে কোনোরকমে তুতলে বলে,
— একদম না মেঘ ভাই।

পৌষপার্বণ পর্ব ১২