ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১১
নওরিন কবির তিশা
গোটা হাসপাতাল মুখর ক্যাপ্টেন আর্য এহসানের অস্থির-ব্যস্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পদচারনায়।জরুরি বিভাগের সম্মুখে রীতিমতো ডাক্তারদের একটা ছোটখাটো জটলা পেকেছে।হুলুস্থুল কাণ্ড।টুইংকেল বাবার কোলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে তখন থেকে।হঠাৎ একজন ডাক্তার বের হয়ে আর্য কে অভয় দিয়ে বললেন,,
—‘ ডোন্ট ওয়্যারি মিস্টার এহসান।উনার ডান হাতটা জাস্ট একটু ইনজরড।বাট টেনশনের কিছু নাই মাইনর ইনজুরি।আমরা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি।
ডাক্তার এর অভয়বাণীতেও কাটলোনা আর্যর ভয়ের রেশ, চিন্তা কাটাতে সে ফের শুধালো,,—‘ এখন কি অবস্থা ডাক্তার?
—‘স্যি ইজ্য ওয়েল নাও।
ব্যাস ‘শি ইজ ওয়েল নাও’ কথাটা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই আর্য একপ্রকার কাউকে তোয়াক্কা না করে করেই দ্রুতপদে কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করল। টুইংকেল কোল থেকে নামার জন্য ছটফট করে উঠছে।
কেবিনের ভেতরে সাদা চাদর ঢাকা বেডে আধশোয়া হয়ে বসে আছে তৃষা। তার ডান হাতটি শুভ্র ব্যান্ডেজে মোড়ানো, যা তার আকাশী রঙের কামিজের সাথে এক করুণ বৈপরীত্য তৈরি করেছে। তৃষার মুখখানা ফ্যাকাসে হয়ে গেলেও চোখদুটো যেন এখনো সেই অঘটনের রেশ বয়ে বেড়াচ্ছে।
টুইংকেল একছুটে বেডের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। তার ডাগর ডাগর চোখদুটো জলে টইটম্বুর। সে খুব সাবধানে তৃষার ভালো হাতটা ধরে কান্নাভেজা গলায় বলে উঠল,,
—’বানি! ও বানি! তোমার কি অনেক পেইন হচ্ছে? ওই পচা গাড়িটা কেন তোমাকে ধাক্কা দিল? আমি না তোমাকে অনেক মিস করছিলাম! পাপা তো অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিল!
তৃষা ম্লান হাসল। বাঁ হাতে টুইংকেলের চোখের জল মুছে দিয়ে তাকে বেডের ওপর টেনে নিল। অত্যন্ত আদুরে গলায় সান্ত্বনা দিয়ে বলল,,
—‘না সুইটহার্ট, আমার একদম ব্যথা করছে না। কিন্তু তুমি এভাবে কাঁদলে কিন্তু বানিও কেঁদে ফেলবে! এ বানির জন্য এখন একটু হাসো প্লিউউউজজ..!
ঠিক তখনই আর্য বেডের একদম শিহরে এসে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে তখনো আতঙ্কের সেই কালো ছায়া লেপ্টে আছে। শার্টের হাতা গোটানো, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।আর্যকে আজ বড় বেশি অগোছালো লাগছে। সে কয়েক সেকেন্ড স্থির চোখে তৃষার দিকে তাকিয়ে রইল। তার সেই সুগভীর চাউনিতে শাসন ছিল, নাকি অন্য কোনো অব্যক্ত আকুলতা, তা বোঝা দায়।
সে বেশ ব্যতিব্যস্ত অথচ রাশভারী কণ্ঠে শুধাল,,
—-‘আর ইউ্য ওয়েল তৃষা? নাকি কেবল এই বাচ্চাটাকে ভোলানোর জন্য মিথ্যা বলছেন? আপনার কি কোনো হিতাহিত জ্ঞান নেই? জাস্ট একটা পথ শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনটা এভাবে রিস্কে ফেলার মানে কী? আপনি কি নিজেকে সুপারওম্যান মনে করেন?
তৃষা আর্যর দিকে তাকাতেই দেখল সেই পরিচিত ‘মিস্টার মুড কিলার’ইমেজের আড়ালে আজ এক অদ্ভুত অস্থিরতা। সে নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে শান্ত স্বরে বলল,,
—–‘আমি ঠিক আছি। আর শিশুটা… ও যদি রাস্তায় পড়ে থাকত তবে গাড়িটা ওকে পিষে ফেলত। আমি কেবল ওকে সরিয়ে দিয়েছি। নিজেকে সুপারওম্যান ভাবিনি, কেবল একজন মানুষ ভেবেছিলাম।
আর্যর চোয়ালটা মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল।সে এক কদম এগিয়ে এসে চিন্তিত ভাবটা অতি সন্তর্পণে লুকিয়ে রুক্ষ ভঙ্গিতে বলল,,
—’হিউম্যানিটি ইজ গুড, বাট স্টুপিডিটি ইজ নট! রেস্টুরেন্ট থেকে ফেরার পথে জাস্ট কয়েক সেকেন্ডের হিরোইজম দেখাতে গিয়ে আপনি যদি আজ কোনো বড় ডিজেস্টার ঘটিয়ে ফেলতেন, তবে এই বাচ্চাটার কী হতো? আপনি কি জানেন আপনার এই ক্ল্যামজি হিরোইজম আমাদের সবাইকে কতটা প্যানিকড করে দিয়েছিল? ইটস জাস্ট পিওর কেয়ারলেসনেস!
তৃষা বিরক্তি নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল। বিড়বিড় করে বলল,,
—‘উপদেশ শুরু হয়ে গেল! মিস্টার মুড কিলার কোথাকার!
আর্য শুনতে পেয়েও যেন না শোনার ভান করল। সে পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে একটা ইনস্ট্রাকশন দিল, তারপর পুনরায় তৃষার দিকে ফিরে বলল,,
—‘মেডিকেল রিপোর্টস ক্লিয়ার। তবে আপনার এই ইমপালসিভ ডিসিশন নেওয়ার অভ্যাসটা কিন্তু অ্যালার্মিং। নেক্সট টাইম রাস্তায় হাঁটার সময় সোশ্যাল ওয়ার্কের চিন্তাটা ব্রেইন থেকে ডিলিট করে দিয়ে কেবল নিজের সেফটির দিকে ফোকাস করবেন। আপনার গ্র্যাভিটি এমনিতেই নড়বড়ে, তার ওপর এই এক্সিডেন্টাল স্টান্টগুলো আর নিতে পারছি না।
তৃষা এবার জেদ করে বলল,,
—‘আমি তো আর ইচ্ছে করে অ্যা’ক্সি’ডে’ন্ট করিনি। পরিস্থিতিটাই এমন ছিল। আপনি কি চান আমি একটা শিশুকে ম’র’তে দেখতাম?
টুইংকেল দুজনের মাঝে দাঁড়িয়ে পাপা আর বানির এই ঠান্ডা লড়াই দেখছিল।সে আর্যর হাত ধরে বলল,,
—‘পাপা, বানিকে বকো না তো! বানি তো হিরোইন! চলো আমরা বানিকে বাড়ি নিয়ে যাই।
আর্য তৃষার দিক থেকে নজর সরিয়ে টুইংকেলকে কোলে তুলে নিল। যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েও একবার আড়চোখে তৃষার ব্যান্ডেজ করা হাতটার দিকে তাকিয়ে বলল,,
—‘রেডি তো? বিল সেটল করা হয়ে গেছে। আর হ্যাঁ, বাড়ি গিয়ে কিন্তু কোনো এক্সকিউজ চলবে না। আপনাকে প্রপার বেড রেস্টে থাকতে হবে। অ্যান্ড দ্যাট ইজ অ্যান অর্ডার, নট আ রিকোয়েস্ট।
তৃষা এক হাত দিয়ে ওড়নাটা সামলাতে সামলাতে মনে মনে গাল ফুলিয়ে ভাবল,,
—‘আস্ত একটা ডিক্টেটর! মানুষ অসুস্থ হলে একটু মিষ্টি কথা বলে, আর উনি আসছেন কমান্ড দিতে। ফকিন্নির ঘরের মডার্ন জমিদার কোথাকার!
ভারী পরিবেশ আর বিদঘুটে সব গন্ধ। হাসপাতালটা বাড়াবাড়ি অপছন্দের তৃষার। যদিও এটা স্বাস্থ্যসম্মত বিন হাসপিটাল ছিল তবুও হাসপাতালের পরিবেশে সবসময় বিরক্তি করে তৃষার জন্য। এক প্রকার সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচে সে। ঘন্টাখানেক হয়তো এসেছে তারা এর মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে আসছে তার।
কিছুক্ষণ হাসপাতালের করিডোর পেরিয়ে আর্য তৃষাকে নিয়ে পার্কিং লটের দিকে অগ্রসর হলো,তৃষা এতক্ষণে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। আর্যর এক হাতে টুইংকেল, আর অন্য হাতে সে অত্যন্ত সন্তর্পণে তৃষার সুস্থ হাতটি ধরে রেখেছে,যেন সামান্য অসতর্কতায় এই কাঁচের পুতুলটি আবার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
গাড়ির কাছে পৌঁছাতেই আর্য পকেট থেকে রিমোট টিপে লক খুলল। সে অত্যন্ত কোমলতার সাথে তৃষার জন্য পেছনের দরজাটি খুলে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।তৃষা যখন গাড়িতে উঠতে গেল, তখন চোট পাওয়া ডান হাতটির ব্যথায় তার মুখটা যন্ত্রণায় কুঁচকে উঠল। আর্যর তীক্ষ্ণ নজর তা এড়ালো না। সে দ্রুত টুইংকেলকে পাশে সরিয়ে দিয়ে নিজেই ঝুঁকে এল তৃষার দিকে।
—‘ওয়ান সেকেন্ডের জন্য যদি কখনো একটু শান্ত হয়!
আর্যর তীক্ষ্ণ স্বরে স্বামীর উক্তিতে মুখ কুঁচকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আর্য তৃষার কোমরে এক হাত দিয়ে এবং অন্য হাতে তার কাঁধ আগলে ধরে অতি সাবধানে তাকে পেছনের সিটে বসিয়ে দিল। তৃষা আরজোর এমন আকর্ষিক কাণ্ডে বিস্ফোরিত নয়নে তাকালো।অনুভব করল আর্যর গায়ের সেই পরিচিত কাষ্ঠল সৌরভ আর তার হাতের উষ্ণতা। কয়েক সেকেন্ডের জন্য দুজনের নিঃশ্বাস যেন একীভূত হয়ে গেল। তৃষার হৃৎপিণ্ডটা অবাধ্য হয়ে ধুকপুক করছে, অথচ আর্যর চোখে তখন কেবল এক নিবিড় সুরক্ষার আবেশ।
তৃষাকে বসিয়ে দিয়ে আর্য যখন সিটবেল্টটা টেনে দিচ্ছিল, তখন তৃষা আমতা আমতা করে বলল,
—‘আমি নিজেই পারতাম… আপনি কেন শুধু শুধু…
আর্য ওর চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বেল্টটা ক্লিপে আটকে দিয়ে বলল,
—‘আপনার পারা’র দৌড় তো আজ হাসপাতাল পর্যন্ত দেখাই গেল। সো, এখন থেকে পরবর্তী ইনস্ট্রাকশন না দেওয়া পর্যন্ত আপনি জাস্ট একটা প্যাসিভ অবজেক্ট হয়ে থাকবেন। কথা বলবেন কম, আর নিজের এই ইনজরড বডিটাকে নাড়াচাড়া করবেন আরও কম। ইজ দ্যাট ক্লিয়ার?
তৃষা জানালা দিয়ে বাইরের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। বিড়বিড় করে বলল,,
—‘মিস্টার ডিক্টেটর! সাহায্যের নামেও জাস্ট হুকুমজারি করছেন।
আর্য ড্রাইভিং সিটে বসে আয়নায় তৃষার প্রতিবিম্বের দিকে একবার তাকাল। তারপর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
—‘শুনেছি মিস তৃষা। আপনার ওই ভোকাবুলারি ব্যাংক থেকে আমাকে দেওয়া বিশেষণগুলো কিন্তু আমি সব সেভ করে রাখছি। সময়মতো সুদ-আসলে ফেরত পাবেন।
টুইংকেল এতক্ষণ পাপা আর বানির এই গাম্ভীর্যের দ্বৈরথ দেখছিল। সে পেছনের সিটে তৃষার কোল ঘেঁষে বসে তার ছোট্ট হাতটি তৃষার সুস্থ হাতের ওপর রাখল। গাড়ি স্টার্ট দিতেই টুইংকেল বড় বড় চোখ করে আর্যর দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞের মতো বলে উঠল,,,
—’পাপা! তুমি মিছামিছি বানিকে বকছো কেন? তুমি তো সারারাস্তা কোলে করে আমাকে নিয়ে আসো, বানিকে কেন কোলে তুললে না? তুমি কি জানো না, হিরোইনদের ব্যথা পেলে হিরোরা কোলে তুলে নেয়? তুমি বানিকে শুধু সিটবেল্ট বেঁধে দিলে, ও কি পুতুল নাকি?
ড্রাইভিং সিটে বসা আর্যর হাতটা গিয়ারে থাকা অবস্থায় হঠাৎ একটু কেঁপে উঠল। আয়নায় সে দেখল টুইংকেল বেশ আয়েশ করে তৃষার ওপর হেলান দিয়ে বসে আছে। মেয়ের এমন অকাট্য যুক্তিতে আর্যর মতো দুঁদে অফিসারেরও যেন বাক্যস্ফূর্তি হলো না। সে শুকনো একটা ঢোক গিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে বলল,
—‘মাম্মাম, বানি এখন অসুস্থ। আর আমি তো ড্রাইভার, ড্রাইভার কি গাড়ি ফেলে রেখে কাউকে কোলে নিতে পারে? তুমি বরং বানিকে ধরো যাতে ও আর না পড়ে যায়।
টুইংকেল ছাড়বার পাত্রী নয়। সে তৃষার চিবুক ছুঁয়ে আদুরে গলায় বলল,,
—‘বানি, পাপা একদম পচা! শুধু বড় বড় কথা বলে। তুমি ভেবো না তো, আমি তোমাকে একদম শক্ত করে ধরে রাখব। আচ্ছা বানি, তুমি তো হিরোইন হয়ে বাবুটাকে বাঁচালে, এখন পাপা কি তোমাকে পুরস্কার হিসেবে বড় চকোলেট বক্স কিনে দেবে? পাপা কিন্তু আমাকে বলেছিল তুমি অনেক ব্রেভ!
তৃষা চট করে আর্যর দিকে তাকাতেই দেখল, আর্য দ্রুত চোখ সরিয়ে রাস্তার দিকে নিবদ্ধ করল। তৃষা মৃদু হেসে টুইংকেলকে নিজের কাছে টেনে নিল। মনে মনে ভাবল,,,
—‘এই গম্ভীর খাম্বোটা তবে আড়ালে আমার প্রশংসা করে? বাইরে তো শুধু ডিক্টেটরগিরি!
তৃষা টুইংকেলের কপালে একটা চুমু খেয়ে বলল,,
—‘চকোলেট লাগবে না সোনা। পাপা যে বকা দিচ্ছে না, এটাই বড় প্রাইজ। তুমি বরং পাপাকে বলো এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি নিয়ে যেতে, বানিকে তো আবার অর্ডার মেনে রেস্ট নিতে হবে!
টুইংকেল এবার আর্যর সিটের পেছন থেকে তার শার্ট টেনে ধরে বলল,,
—‘পাপা! শোনো, বাড়ি গিয়ে তুমি বানিকে একলা ফেলে রাখবে না কিন্তু। বানি একা থাকতে ভয় পায়। তুমি বানির ঘরে ল্যাপটপ নিয়ে বসবে আর বানিকে কার্টুন দেখাবে। আর হ্যাঁ, বানিকে নিজ হাতে ওষুধ খাইয়ে দেবে, বানি তো ওষুধ খেতে গেলেই মুখটা তিতকুটে করে ফেলে!
আর্যর কপালে এবার দুশ্চিন্তার বদলে ঈষৎ লজ্জার রেখা ফুটে উঠল। সে ধরা গলায় বলল,,
—‘মাম্মা, বানি বড় হয়েছে। সে নিজেই খেতে পারে। তুমি কি কথা বলা বন্ধ করবে?
তৃষা নিজেই খানিকটা চুপসে গেল টুইংকেলের বাচ্চামি সুলভ এমন কথায়। সে টুইংকেল টেনে তার মুখে আদুরে স্পর্শ লেপে বলল,,
—‘ড্রাইভিং এর সময় বেশি কথা বলতে হয় না কিউটি পাই। নইলে পাপার কনসেন্ট্রেট নষ্ট হবে। তুমি বরং আমার সাথে গল্প করো।
রাস্তায় জ্যামের কারণে গাড়ি বারবার থামছিল। আর্যর ড্রাইভিং অত্যন্ত স্মুথ,তবুও প্রতিটি ব্রেক করার সময় সে আয়নায় নজর রাখছিল তৃষার দিকে। হঠাৎ করেই একটা গর্তে চাকা পড়তেই গাড়িটা একটু ঝাকুনি খেল। আর্যর হাতটা যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে গিয়ার ছেড়ে পেছনের সিটের দিকে চলে গেল তৃষাকে আগলাতে।
‘ব্যথা লেগেছে?’— আর্যর কণ্ঠস্বরে চিন্তার রেশ স্পষ্ট।
তৃষা মাথা নেড়ে জানাল সে ঠিক আছে। কিন্তু সে লক্ষ্য করল, আর্যর কপালে এখনো চিন্তার রেখাগুলো মেলায়নি।
বাড়ি ফেরার পথে তৃষা লক্ষ্য করল আর্য একটি ওষুধের দোকানের সামনে গাড়ি থামাল। গাড়ি থেকে নেমে সে নিজেই ভেতরে গেল এবং কিছুক্ষণ পর একটা ছোট ব্যাগ হাতে ফিরে এল।
—‘আপনার পেনকিলার আর কিছু মাল্টি-ভিটামিন। আর হ্যাঁ, এই লজেন্সগুলো টুইংকেলের জন্য নয়, আপনার জন্য। তেতো ওষুধের পর যদি মুখটা করলার মতো তেতো হয়ে থাকে, তবে এগুলো কাজে দেবে।
আর্য প্যাকেটটা তৃষার কোলে রাখল। তৃষা অবাক হয়ে লজেন্সের প্যাকেটটার দিকে তাকিয়ে রইল। আর্যর এই সূক্ষ্ম কেয়ারগুলো যেন এক অদ্ভুত রসায়ন তৈরি করছে। সে মনে মনে ভাবল,,
—‘লোকটা কি মানুষ নাকি কোনো রিডল? এক মুহূর্ত বকছে, পরক্ষণেই আবার লজেন্স কিনে দিচ্ছে!
আর্যর গাড়িটা সুখনীড়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়েছে। আর্য দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে তৃষার পাশের দরজা টা খুলে দিল। টুইংকেলকে কোলে নিয়ে তৃষারকে পাশাপাশি নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল,,
—“আজকের জন্য আপনার অ্যাডভেঞ্চার কোটা শেষ। এখন থেকে ডিনারের আগ পর্যন্ত আপনি প্রপার বেড রেস্টে থাকবেন।
তৃষা আর্যর চোখে চোখ রাখল। দেখল সেই শাসনের আড়ালে শ্রান্তির এক ছাপ। মানুষটা তার জন্য আজ কতটা অস্থির ছিল, তা তার এই লালচে চোখ দুটোই বলে দিচ্ছে। তৃষা কিছু না বলে কেবল মৃদু মাথা নাড়ল।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় তৃষা লক্ষ্য করল আর্যর হাতে তার সেই আকাশী রঙের ওড়নার এক প্রান্ত, যা সে অতি সাবধানে ধরে রেখেছে যাতে মেঝেতে না লুটিয়ে পড়ে। আর্যর সূক্ষ্ম খেয়ালগুলোতে অলক্ষ্যে মুচকি হাসলো তৃষা।
রুমের সামনে আসতেই আর্য তৃষার উদ্দেশ্যে ফের বলল,,
—‘রেস্ট নিবেন এখন টোটালি রুম থেকে বের হবেন না কিন্তু।টুইংকেলের লিস্টের সবটা না হলেও, ওষুধ আর রেস্টের পার্টটা কিন্তু আমি স্ট্রিক্টলি মনিটর করব। আপনি বড় হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনার জ্ঞানবুদ্ধি যে টুইংকেলের চেয়েও কম, তা আজ প্রমাণিত। সো, নো মোর আর্গুমেন্টস।
তৃষা মুখখানা বাংলার পাঁচের মত করে ভেতরে প্রবেশ করল মনে মনে বিড়বিড়ালো,,
—‘স্বাভাবিক কথাও যদি একটু ঠিকভাবে বলে!
রাতের নিস্তব্ধতা সুখনীড়কে এক মায়াবী চাদরে ঢেকে দিয়েছে। তৃষার ঘরে মৃদু নীল আলো জ্বলছিল। ওষুধের ঝিমুনি আর ক্লান্তিতে সে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল, নিজেও জানে না। যখন ঘুম ভাঙল, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত নয়টার ঘর ছুঁইছুঁই। ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল তৃষা। ব্যান্ডেজ করা ডান হাতটা অবশ হয়ে আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি অস্থিরতা কাজ করছে তার মনে। বাড়ির রাতের ডিনারের দায়িত্বটা তো তার ছিল। এ বাড়িতে আসার পর থেকে তো সে দায়িত্ব সে নিজেই গ্রহণ করেছে।
তৃষা দ্রুত বিছানা ছাড়ল। ওড়নাটা কোনোমতে বাম হাতে টেনে নিয়ে সে পা টিপে টিপে রুম থেকে বের হলো। তার মনে একরাশ অপরাধবোধ।নিশ্চয়ই আর্য আর টুইংকেল না খেয়ে বসে আছে, কিংবা হয়তো টুইংকেল খিদেয় কান্না করছে। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামতে নামতে নিচের হলঘরের নিস্তব্ধতা দেখে সে অবাক হলো। কিন্তু রান্নাঘরের কাছাকাছি আসতেই তার কানে ভেসে এল খুন্তি নাড়ার শব্দ আর টুইংকেলের খিলখিল হাসি।
তৃষা রান্নাঘরের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে যা দেখল, তাতে তার হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।রান্নাঘরের সেই অতি পরিচিত পরিবেশে আজ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।যাকে সবসময় ইস্ত্রি করা শার্ট আর দামি স্যুটে দেখা যায়, সেই আর্য এহসানই আজ নিজের ধবধবে সাদা শার্টের হাতাগুলো কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে, কোমরে একটা গাঢ় রঙের অ্যাপ্রন জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে চপার, আর অত্যন্ত দক্ষ হাতে সে সবজি কুচি করছে। আগুনের তাপে আর্যর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে, কিন্তু তার মনোযোগ পুরোপুরি কড়াইয়ের দিকে।রান্নাঘরের চুলার পাশের কাউন্টারটপের ওপর আয়েশ করে বসে আছে টুইংকেল। সে দুই পা দোলাচ্ছে আর অনর্গল বকবক করে চলেছে।
—‘পাপা! তুমি তো বানিকেও ছাড়িয়ে গেছ! তুমি কি জানো, বানি যখন আলু কাটে তখন মাঝে মাঝে আঙুল কেটে ফেলে? তুমি তো একদম প্রো! আচ্ছা পাপা, তুমি কি ইউটিউবের শেফদের মতো কড়াইটা ওভাবে ওপরে ছুঁড়ে মারতে পারো?
আর্য রান্না করতে করতেই আলতো হাসল। চুলার আঁচ কমিয়ে সে টুইংকেলের গাল টিপে দিয়ে বলল,,
—‘ওটা শেফরা করে । আমি তো জাস্ট তোমার আর তোমার অসুস্থ বানির জন্য কোনোমতে কাজ চালাচ্ছি। বানি যদি কাল সকালে উঠে দেখে আমি তার কিচেন দখল করেছি, তবে তো সে আমাকে মিস্টার ডিক্টেটর থেকে মিস্টার ইন্টারফেয়ার বানিয়ে দেবে!
টুইংকেল হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল,,
—‘না পাপা! বানি তো আজ তোমাকে দেখে ফিদা হয়ে যাবে। পাপা, বানি কিন্তু অনেক চিজ পছন্দ করে, তুমি কি পাস্তায় এক্সট্রা চিজ দেবে?
তৃষা দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে রইল। যে মানুষটা এক ঘণ্টা আগে হাসপাতালে তাকে ধমকাচ্ছিল, সে-ই এখন নিজের হাতে তার জন্য রাতের খাবার রাঁধছে! আর্যর হাতের সেই সাবলীল মুভমেন্ট আর টুইংকেলের সাথে তার এই নিবিড় সখ্যতা তৃষার মনের সবটুকু অভিমান এক নিমেষে জল করে দিল।
সে আর স্থির থাকতে পারল না। দ্রুত রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে বিড়বিড় করে বলল,,
—‘আপনি… আপনি এখানে কেন? আর এসব কী করছেন? আমি তো নেমে আসছিলাম রান্না করতে!
আর্য চমকে পেছন ফিরল। তৃষাকে দেখেই তার কপালে আবার সেই বিরক্তির ভাঁজ পড়ল। সে চপারটা পাশে রেখে গম্ভীর গলায় বলল,,
—‘আপনাকে কি আমি বেড রেস্টে থাকার অর্ডার দেইনি? নাকি আপনি বাংলা বুঝতে পারেন না?
তৃষা আমতা আমতা করে বলল,,
—‘না মানে… রাত হয়ে গেছে, আপনারা না খেয়ে থাকবেন তাই—
—‘এই বাড়িতে আপনি ছাড়াও একজন সক্ষম মানুষ আছে, সেটা কি ভুলে গিয়েছিলেন?
—-‘তাহলে আপনি রান্না করবেন?
—‘এই যে শুনুন? শুধু এখানে না শীপে আমার জন্য আমার নিজেকেই করতে হয়। সো আই হ্যাভ আ নলেজ কিভাবে রান্না করতে হয়। তাই আপনার এমন ফালতু টেনশন না করলেও চলবে জান গিয়ে রেস্ট নিন।
তৃষা দোনামোনা করে বলল,,
—‘না মানে, আপনি কতটুকুই বা পারবেন? রান্নাবান্না তো অভ্যাসের ব্যাপার। তাছাড়া টুইংকেল চিজ পাস্তা খেতে চেয়েছে, ওটা বেশ ট্রিকি। আমাকে দিন, আমি বাঁ হাতেই ম্যানেজ করে নেব।
আর্য হাতের খুন্তিটা এক পাশে রেখে আড়চোখে তৃষার দিকে তাকাল।তৃষার ব্যান্ডেজ করা হাতটার দিকে একবার ইশারা করে বলল,
—‘আপনার এই বাঁ হাতের খেল দেখার শখ আপাতত আমার নেই। নিজের ওপর হিরোইজমের যে ওভারডোজ আপনি হাসপাতালে নিয়েছেন, সেটা কি এখনো কাটেনি? আর রান্নার কথা বলছেন? জাহাজে যখন মাঝসমুদ্রে ডিউটি থাকে, তখন নিজের খাবার নিজেকেই ম্যানেজ করতে হয়। আমি আপনার মতো কেবল রেসিপি ভিডিও দেখে রান্না শিখিনি মিস তৃষা, আই হ্যাভ প্র্যাকটিক্যাল নলেজ। সো, অনধিকার প্রবেশ বন্ধ করে ডাইনিংয়ে গিয়ে বসুন।
তৃষা আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই কাউন্টারটপ থেকে লাফ দিয়ে নিচে নামল টুইংকেল। সে দুই কোমরে হাত দিয়ে, কপালে হালকা ভাঁজ ফেলে একদম বড়দের মতো ভঙ্গিতে তৃষার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার ডাগর ডাগর চোখে তখন শাসনের ছোঁয়া,,
—‘বানি! তুমি কেন কথা শোনো না বলো তো? পাপা তোমাকে বলেছে না রেস্ট নিতে? তুমি কি জানো না, যারা কথা শোনে না তাদের পুলিশে ধরে নিয়ে যায়? আর এখন তো পাপা নিজেই পুলিশ… আই মিন, পাপা তো এখন শেফ! তুমি যাও তো বানি, ডাইনিংয়ে গিয়ে লক্ষ্মী মেয়ের মতো বসো। পাপা আর আমি মিলে আজ তোমাকে সারপ্রাইজ ডিনার খাওয়াব।
টুইংকেলের এই মিনি ডিক্টেটর রূপে তৃষার হাসি পেয়ে গেল,,
—‘ওকে ওকে, বাবা! আমি হার মেনে নিলাম। তোমাদের বাবা-মেয়ের সাথে জেতা আমার সাধ্যের বাইরে। আমি চললাম ডাইনিংয়ে।
তৃষা ডাইনিং টেবিলের একটি চেয়ার টেনে বসল। আজ সুখনীড়ের এই নিস্তব্ধ রাতটা তার কাছে বড় বেশি চেনা অথচ অচেনা মনে হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই সুগন্ধি পাস্তার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল পুরো ঘরে। আর্য ধীরস্থির পায়ে ট্রে হাতে নিয়ে ডাইনিংয়ে এল। ডিশগুলো টেবিলের মাঝখানে সাজিয়ে রাখতে রাখতে সে একবার তৃষার দিকে তাকাল। আর্যর অ্যাপ্রনটা এখন খোলা,শার্টের হাতাগুলো আগের মতোই গোটানো। আগুনের তাপে তার ফর্সা মুখটা ঈষৎ লাল হয়ে আছে।
আর্য শান্ত স্বরে বলল,,
—‘ডিনার ইজ্ রেডি। টুইংকেল, যাও হাত ধুয়ে এসো।
খাওয়া শুরু হতেই তৃষা একটু বিপাকে পড়ল। তার ডান হাতটি ভারী ব্যান্ডেজে মোড়ানো, নড়াচড়া করলেই ব্যথায় টনটন করে উঠছে। সে বাম হাত দিয়ে চামচ ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু বাম হাতের আঙুলগুলো যেন তার অবাধ্য। চামচটা বারবার থালা থেকে ছিটকে যেতে চাইছে। তৃষার এই অসহায়ত্ব টুইংকেলের নজর এড়ালো না। সে নিজের মুখে এক চামচ পাস্তা পুরে দিয়ে চিবোতে চিবোতে বলল,,
—‘বানি! তুমি বাম হাত দিয়ে খাওয়ার ট্রাই করছো কেন? তুমি কি জানো না বাম হাত দিয়ে শয়তান খায়? আর তুমি তো আমাদের হিরোইন বানি!
তৃষা একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাসল,,
—‘না সোনা, আমার ডান হাতে তো ব্যথা। তাই ভাবলাম একটু বাম হাত দিয়ে ট্রাই করি। চামচ দিয়ে তো পারবোই।
টুইংকেল এবার তার থালা সরিয়ে দিয়ে আর্যর দিকে তাকাল। তার চোখে তখন এক দুষ্টু বুদ্ধি। সে আর্যর হাত টেনে ধরে বলল,,
—‘পাপা! দেখো বানি খেতে পারছে না। তুমি কি দেখছো না ওর কত কষ্ট হচ্ছে? বানি তো কালকে আমাদের শপিংয়ে সাহায্য করেছিল, আজ ও অসুস্থ। তুমি বানিকে খাইয়ে দাও না পাপা! তুমি তো আমাকে কত সুন্দর করে খাইয়ে দাও।
তৃষা চমকে উঠে প্রায় আঁতকে উঠল,
—‘না না! তার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি… আমি চামচ দিয়েই ম্যানেজ করে নেব। উনি অনেক কাজ করেছেন, উনার এখন খাইয়ে দেওয়ার দরকার নেই।
আর্য তখনো নিশ্চুপ। তার গম্ভীর মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই মনে কী চলছে।তবে টুইংকেল ছাড়ার পাত্রী নয়। সে জেদ ধরে বলল,
—‘না পাপা! তুমি যদি বানিকে না খাইয়ে দাও, তবে আমিও খাব না! বানি আমাদের অসুস্থ, আর অসুস্থদের যত্ন করতে হয় তুমিই শিখিয়েছো। তুমি খাইয়ে দাও!
তৃষা অস্বস্তিতে কুঁকড়ে যাচ্ছিল। সে আর্যর দিকে তাকাতেই দেখল, আর্য ধীরলয়ে নিজের চেয়ারটা তৃষার একটু কাছে টেনে আনল। আর্যর প্রতিটি মুভমেন্টে এক অদ্ভুত স্থিরতা। সে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে চামচটা হাতে তুলে নিল এবং পাস্তার একটি লোকমা তুলে অতি সাবধানে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করল। তৃষা বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।
আর্য চামচটা তৃষার ঠোঁটের কাছে ধরল। তৃষাকে বিষ্ময়ে বিমূঢ় দেখে সে বলল,,
—‘মুখটা একটু হাঁ করবেন, নাকি আমি চামচটা আপনার কপালে ঠেকাব? আপনার জেদটা কি পেটের খিদের চেয়েও বড়?
তৃষা আর না বলতে পারল না। সে আড়ষ্ট ভঙ্গিতে মুখটা একটু হাঁ করল। আর্যর হাতের সেই লোকমাটি মুখে দিতেই এক অদ্ভুত স্বাদ তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। আর্যর হাতের সেই স্পর্শে যেন কোনো জাদুর ছোঁয়া ছিল। পুরো ডাইনিং রুমটা এক নিমিষেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেবল টুইংকেলের খুশিময় চাউনি আর চামচ-কাঁটার মৃদু শব্দ সেখানে প্রাণ পাচ্ছিল।
আর্য একটার পর একটা লোকমা তৃষার মুখে তুলে দিচ্ছিল। সে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খেয়াল রাখছিল যাতে তৃষার ঠোঁটের কোণে সস না লেগে যায়। তৃষার মনে হচ্ছিল সে যেন কোনো স্বপ্নের ভেতরে আছে। এই সেই মানুষ, যে তাকে সারাক্ষণ ব্যালেন্স আর ডিসিপ্লিন শেখায়, আর আজ সে-ই পরম মমতায় তাকে খাইয়ে দিচ্ছে।
খাওয়ানোর মাঝে আর্য নিচু স্বরে বলল,
—‘পাস্তাটা কি বেশি স্পাইসি হয়েছে? টুইংকেলের চয়েস অনুযায়ী চিজ একটু বেশিই পড়ে গেছে মনে হয়।
তৃষা মাথা নেড়ে অস্ফুট স্বরে বলল, —“না, একদম ঠিক আছে। অনেকদিন পর এত ভালো পাস্তা খেলাম।
টুইংকেল দুই হাততালি দিয়ে উঠল। —“ইয়েএএ! বানি আর পাপার ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গেছে! পাপা, তুমি বানিকে কালকেও খাইয়ে দেবে তো?
আর্য-তৃষা টুইংকেল এর এমন কান্ডে একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখ সরালো সঙ্গে সঙ্গে। খানিকক্ষণ পর আর্য হঠাৎ বলল,,
—‘ আপনার মেডিসিনগুলা কই রাখছেন?খাওয়ার পরপরই আছে একটা।
তৃষা কিছু বলার আগেই ওর মনে পড়ল মেডিসিনগুলা তো ও নিজেই গুছিয়ে রেখেছে। ও জলদি পায়ে উপর তলায় যেতে যেতে বলল,,
ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১০
—‘ ওয়েট ফর টু মিনিটস।আমি এক্ষুনি মেডিসিন নিয়ে আসছি।একদম নড়চড় যেনো না দেখি।
আর্য চলে যেতেই তৃষা খানিক বিরক্তিতে মুখ কুঁচকালো। পর মূহুর্তেই আনমনে বিড়বিড়িয়ে বলল,,,
—‘না, একদম আনরোম্যান্টিক না।খাম্বোটা মাঝে মাঝে একটু কিউটও হয়ে যায়!
