পৌষপার্বণ পর্ব ১
Irfa Mahnaj
শুধু ব্লাউজ আর পেটিকোট পরে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দাড়িয়ে আছে পৌষ। দুই হাত আড়াআড়ি ভাবে বক্ষভাঁজের উপর দিয়ে ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে সে।
সামনেই সটান দাড়িয়ে পৌষের চাচাতো ভাই পার্বণ।
পার্বণের ভাবাবেগ স্বাভাবিক হলেও পৌষ যেনো লজ্জায় মাটিতে মিশে যাচ্ছে। পৌষকে মাথা নুইয়ে রাখতে দেখে পার্বণ বলে,
— মাথাটা আরো একটু নিচু কর তাহলে তোর বাকি ঘিলু টুকুও পড়ে যাক গর্দভ একটা।
পার্বণের কথায় এবার পৌষের রাগ উঠে গেলো। লজ্জারা ভাঙ্গা জানালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
— আহ! পার্বণ…
পৌষকে পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে পার্বণ নিজেই বলে উঠে,
— এতো আহ! উহ! করিস না পরে মানুষ ভাববে বদ্ধ ঘরে অকাজ কুকাজ করছি আমরা।
আঙুল উঁচিয়ে কিছু বলতে নিলে পৌষের উঁচু করা আঙুল নামিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে তাকায় পার্বণ।
ভালো করে উপর থেকে নিচ স্ক্যান করে নিয়ে মুখে বাকা হাসি ফুটিয়ে তুলে পার্বণ।
অতপর এক পা সামনে আগাতেই ঘাবড়ে যায় পৌষ। তোতলাতে তোতলাতে বলতে লাগে,
— দ…দেখ…
— দেখতেই তো পাচ্ছি। সব সামনে খুলে রাখলে কেউ না দেখে থাকতে পারে! বাই দ্যা ওয়ে নাইস বডিশেপ। ফিগার পারফেক্ট হলেও মাথাটা একদম ইমপারফেক্ট।
পৌষের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে কথাগুলো বলে পার্বণ।
পার্বণের এরুপ গরম আর ভারি নিঃশ্বাস নিজের উন্মুক্ত কাধ, কানে পড়তেই বিদ্যুৎ খেলে যায় পৌষের দেহে।
কেঁপে উঠে পৌষ। যা দেখে ভালোই মজা পায় পার্বণ। ওকে আরেকটু জ্বালাতে এবারে নিজের ঠান্ডা রুক্ষ হাতটা নিয়ে রাখে পৌষের কোমরে।
কোমর ধরে টেনে নিজের নিকটে নিয়ে আসে। একদম অতি নিকটে। পৌষের হাত দুটো গিয়ে ঠেকে পার্বণের বুকে।
কোমর ধরে কাছে নেয়ার কারণে পৌষ সামান্য পিছনে বাকিয়েও যায়। দুই হাত দিয়ে ঠেললেও এক ইঞ্চিও নড়াতে পারে না পার্বনকে।
উল্টো পার্বণ ওকে ধমক দিয়ে উঠে। ধমক খেয়ে ওর মুচড়ামুচরি বন্ধ হলে পার্বণ বলতে আরম্ভ করে,
— দরজা যে বন্ধ করে ড্রেস চেঞ্জ করতে হয় তা কি ভুলে গেছিস ইডিয়েট। এখন যদি আমি না এসে অন্য কেউ আসতো তখন? কি হতো?
কথাটা বলার সময় পার্বণকে সিরিয়াস আর রাগী দেখাচ্ছিল। কন্ঠ যথেষ্ট শক্তও শুনাচ্ছিল ওর।
নিজের কথা শেষ করে পৌষের কোমর ছেড়ে দেয় পার্বণ।
ড্রেসিং টেবিলের উপর দিয়ে মানিব্যাগ ও চার্জের থেকে ফোন খুলে সেগুলো পকেটে ভরে নেয়।
গট গট করে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে আরো একবার শাসানোর মতো করে আদেশ ছুঁড়ে দেয়,
— ডোর লক করে ড্রেস চেঞ্জ কর। নাহয় এভাবে মাছ সাজিয়ে রাখলে যখন তখন বিড়াল এসে মুখ দিয়ে যাবে।
পার্বণ চলে গেলে পৌষ ভাবতে লাগে কিছুক্ষণ আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা।
আজকে হেমন্ত ও বসন্তের জন্মদিন। গুষ্ঠির সবাইকে দাওয়াত করা হয়েছে।করবে না সবই তো আত্মীয়।
আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে কি বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় তিন ভাই তাদের তিন চাচাতো বোন ফাল্গুন, বর্ষা, মাঘকে বিয়ে করেছে।
বৈশাখ , জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় যেমন আপন তিন ভাই তেমনই ফাল্গুন, বর্ষা, মাঘ ও আপন তিন বোন।
অর্থাৎ চাচাতো ভাইবোনের বিয়ে হয়েছে। এখানেই থেমে থাকলেও মানা যেতো। কিন্তু থেমে নেই।
পৌষের বড়ো ভাই ভাদ্রর সাথে পার্বণের বোন চৈত্রেরও বিয়ে করিয়ে দিয়েছে পৌষের পরিবার।
মানে এখানেও কাজিন বিয়ে। ও হ্যাঁ পৌষের দাদা অক্টোবরও নিজের কাজিন জুনকে বিয়ে করে বসে ছিলো।
অক্টোবরের ভাই সেপ্টেম্বরও একই কান্ড করে। মানে সে জুনের বোন জুলাইকে বিয়ে করে বসেছিলো।
বর্তমানে এই আইটেম গুলো কেউই বেঁচে নেই। পটল তুলেছে তারা।
পৌষ মাঝে মাঝে ভাবে ওদের বাড়ির নাম “বারোমাসি নীড়” না রেখে “কাজিন বিয়ে নীড়” রাখলেই ভালো হতো।
তো যেটা বলছিলাম,
হেমন্ত ও বসন্তের জন্মদিন উপলক্ষে আজ বাড়িতে অনুষ্ঠান করা হয়েছে।
সেই উপলক্ষে মেয়েরা যারা আছেন তারা শাড়ি পড়বে বলে ডিসাইড করে।
পৌষের কোচিং গিয়ে দেরি হয়ে গেছিলো। বাসায় আসলে চৈত্র পৌষকে হাতে একটা শাড়ি ধরিয়ে দিয়ে পার্বণের ঘরে যেতে বলে।
পৌষের ঘর নাকি ইতিমধ্যেই বুকিং করে ফেলেছে আত্মীয়সগণ।
অগত্যা পৌষ আসে পার্বণের ঘরে। ফ্রেশ হয়ে ব্লাউজ, পেটিকোট পরে বের হয়ে মাত্রই শাড়ির ভাঁজটা খুলে।
তখনই দড়জা খোলার আওয়াজে পিছনে তাকাতেই দেখে ঘরের মালিক মিষ্টার পার্বণ মহাশয়।
তারাহুড়োতে দরজা লক করার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলো পৌষ।
আর ব্যাস এতো কাহিনী হয়ে গেলো।
পৌষ ভাবে এই ছেলে ওর উপর যেমন দম্ভ দেখায় বাপরে। পৌষ আর ও তো সেইম এইজেরই।
শুধু ৬ মাসের বড়ো এই বেয়া*দব শা*লা পার্বণ বেটা।
তাতেই এর যা পাওয়ার পৌষকে একদম উড়িয়ে ফেলবে এমন ভাব করে রাখে।
