Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ২

পৌষপার্বণ পর্ব ২

পৌষপার্বণ পর্ব ২
Irfa Mahnaj

— কিরে তুই এখনো এভাবে অর্ধ*উ*ল*ঙ্গ হয়ে আছিস!
পিছ থেকে পুরুষ কন্ঠ পেতেই হাত থেকে শাড়ির গোছাটা পড়ে যায় পৌষের।
কোনো রকমে তড়িঘড়ি করে শাড়ি পেঁচিয়ে পিছনে ফিরে। দেখতে পায় পার্বণ ট্রাউজারের পকেটে হাত গুঁজে দাড়িয়ে আছে।
দৃষ্টি পৌষের দিকে স্থির। অস্বস্তিরা জেঁকে বসে পৌষের। কি একটা অবস্থা! পুরাই যা তা।
আমতা আমতা করে পার্বণকে জিজ্ঞেস করে পৌষ,

— তুই ভিতরে আসলি কিভাবে? আমি তো ডোর লক করেছিলাম।
মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিমা করে গিয়ে বেডের উপর ধুপ করে শুয়ে পড়ে পার্বণ। বলে,
— পৌষ ইয়ার বাদামটা একটু বেশি করে খাবি। ভুলে গেছিস রুমটা আমার।
— তো? তাই বলে এভাবে হুট করে রুমে চলে আসবি? জানিস না আমি শাড়ি পড়ছি।
— হ্যাঁ আমি তো সবজান্তা পটলকুমার। তুই যে এখনো এভাবে দৃশ্যপট খুলে বসে আছিস তা আমি জানবো কি করে?

— আচ্ছা হয়েছে এখন যা তো গিয়ে চৈত্র আপাকে ডেকে আন। আমার শাড়িটা পড়িয়ে দিতে বলবো তাকে।
— আপনার চৈত্র আপা বর্তমানে আপনার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ভাদ্র মহোদয়ের সাথে আছেন। যদি না চান আমি গিয়ে আপনার ভাই এবং ভাবির কোয়ালিটি টাইমে বা হাত ঢুকাই তাহলে চুপ থাকতে পারেন।
পার্বণের কথা শুনে পৌষ কিছু ভাবলো। তারপর ঝলমলিয়ে উঠলো ওর মুখ। পার্বণকে বলল,
— আচ্ছা থাক চৈত্র আপাকে আর ডাকা লাগবে না। আমিই বরং মায়ের কাছে যাই। তুই দরজা আটকিয়ে নে।
কথা সমাপ্ত করে যেইনা পৌষ যাওয়া ধরে অমনি ওর হাত চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে পার্বণ।
শক্ত গলায় বেশ জোরেই একটা ধমক দিয়ে উঠে সে। পৌষকে উদ্দেশ্য করে বলে,
— মাথামোটা গাধী এভাবে তুই ঘর থেকে বের হবি? ফি*গার হ*ট সেটা সবাইকে দেখাতে উঠে পড়ে লেগেছিস?
কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠলো পৌষের। পার্বণের শক্তমুঠো থেকে নিজের চিকন, তুলতুলে হাতটা ছাড়াতে চেষ্টা করে।
সক্ষম না হলে কিছুটা জোরেই বলে উঠে,

— হাত ছাড় পার্বণ!!
হাত তো ছাড়লোই না পার্বণ উল্টো পৌষের হাত পিছমোড়া করে চেপে ধরলো।
এতে ব্যথায় ককিয়ে উঠলে পুনরায় পার্বণ ধমক দেয়,
— চুপচাপ দাড়া আমি শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছি।
এতক্ষণ ধরে যে সাপের মতো মোচড়ামুচরি করছিলো তাও থামিয়ে দিলো। কণ্ঠে বিস্ময় ঢেলে জিজ্ঞেস করলো,
— তুই পড়াবি শাড়ি? তুই?
— হ্যাঁ কেনো?
— আমি মেয়ে হয়ে শাড়ি পড়তে পারিনা আর তুই ছেলে হয়ে কীভাবে পড়াবি!
— আমরা সমবয়সী হলেও আমি সবকাজই পারি। এই পার্বণ পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
একটু ভাব নিয়ে বলে উঠে পার্বণ। যা দেখে রাগে হিসহিসিয়ে উঠলো পৌষ।
আর পৌষের রাগকে থোরাই পরোয়া করে নাকি পার্বণ!
ও ওর নিজের মতো করে শাড়ি পড়াতে শুরু করে। আর এদিকে পৌষ দাঁতে দাঁত চেপে সব সয়ে যাচ্ছিলো।
শাড়ি পড়াতে পড়তেই পার্বণ বলে,

— সবাই ব্যস্ত যার যার কাজে। এখন ডাকলেও পাওয়া যেতো না।
হ্যাঁ বা না কোনো উত্তরই দেয় না পৌষ। ও তো খিচ দিয়ে দাড়িয়ে আছে।
শরীর বেয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে পৌষের। পার্বণের পুরুষালী ছোঁয়া এলোমেলো করে দিচ্ছে পৌষকে।
কিন্তু ও পার্বণকে কিছু বুঝতে দিতে চাইছে না। নয়তো এই বান্দা ওকে পঁচাতে পঁচাতে না পচিয়েই ফেলে।
শুধু কি পৌষেরই অদ্ভুদ অনুভূতি হচ্ছে? নাতো। এই যে একটু আগের রাগ দেখানো, ভাব দেখানো ছেলেটা এখন একদম শান্ত।

বার বার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে পার্বণের। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজাচ্ছে, ঢোক গিলছে কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
সামনে এরকম আকর্ষণীয় মেয়েলি কায়া উন্মুক্ত থাকলে কোনো পুরুষ নিজের মাঝে থাকতে পারে!
তখন সাধু পুরুষ ও তার সাধুগিরি ভুলে যায়। মজে যায় মেয়েলি দেহের ভাঁজে।
সেসময় এতো কিছু ভাবলে কখনোই পার্বণ বলতো না পৌষকে যে ও শাড়ি পড়িয়ে দিবে।
এতসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে কুচি গোঁজার টাইমে চলে এসেছে খেয়ালই করেনি পার্বণ।
মৃদু কাপতে থাকা হাত টা কুচি সমেত নিয়ে রাখে পৌষের পেটে।
জিভ দিয়ে বার বার ওষ্ঠ ভিজায়। কোনো রকমে কুচি গুঁজতেই মৃগী রোগীর মতো কেঁপে উঠে পৌষ।
খামচে ধরে পার্বণের কাধ। যে বর্তমানে এক হাঁটু ভাঁজ করে পৌষের পেটের একদম নিকটে বসে আছে।
একে পৌষের আকর্ষণীয় পেট পার্বণের এতো কাছে। ফর্সা পেট চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে ওর। তার উপর পৌষের খামচে ধরায় এবার খেই হারিয়ে বসে পার্বণ।

কোনো কিছু না ভেবে মুখ ডুবিয়ে দেয় পৌষের পেটে। নাক দিয়ে ঘষতে লাগে সেথায় । শুকতে লাগলো পৌষের সত্তার ঘ্রাণ।
গুঙিয়ে উঠে পৌষ। এ যেনো আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে।
ঠোঁট দাবিয়ে গভীর চুমু আকে পৌষের নাভি বরাবর। আরো কিছুক্ষন মুখ গুঁজে রেখে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে পার্বণ।
ফট করে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নেয় পৌষের ছোটো খাটো শরীরটা। এগিয়ে যেতে লাগে বেডের নিকট।
একটা মেয়ে আর একটা ছেলে যখন একসাথে থাকে, পরস্পরের নিকট আসে তখন আপনাতেই এখানে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।

পৌষপার্বণ পর্ব ১

পুরুষ কখনোই মেয়ে দেহ দূরে সরাতে পারেনা। আর নাতো নারী। দুজন তখন এক আবেগীয় অস্থিরতায় পড়ে।
ছটফট করে বিপরীত লিঙ্গের নিকট হতে। মন, মস্তিষ্ক, দেহ একটি কথাই আওরায়,
— চাই। তাকে আমার চাই।

পৌষপার্বণ পর্ব ৩