পৌষপার্বণ পর্ব ৩
Irfa Mahnaj
ঘন ঘন শ্বাস ফেলতে লাগলো দুজনে। একজনের গরম নিঃশ্বাস অপরজনের উপর আছড়ে পড়ছে।
এতে ব্যাকুল হয়ে যাচ্ছে বিপরীত সত্তারা। পার্বণ উতলা হয়ে উঠেছে। দুজনের কেউই এ পার্থিব দুনিয়ায় নেই।
হারিয়ে গেছে এক অন্য জগতে। কি করতে যাচ্ছে বা কি করছে কিছুতেই যেনো খেয়াল নেই দুজনের কারোরই।
ঘন শ্বাস ফেলার কারণে পৌষের বক্ষ আকর্ষণীয় কায়দায় উঠানামা করছে। যেদিকে পূর্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে পার্বণ।
ঢোক গিললে পার্বণের এডামস অ্যাপলটা উঠা নামা করে। পৌষের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে স্ক্যান করতে করতে পাগল হয়ে যায় পার্বণ।
উন্মাদ হয়ে উঠলো পার্বণ। শার্টের বোতামে হাত চালায়। খুলে শার্টটা খুলে মেঝেতে ফেলে দিলো।
পার্বণের পুরুষালি শরীরের নিচে পিষ্ট হচ্ছে পৌষের মেয়েলি নরম শরীরটা।
শার্ট খুলে ফেলায় পার্বণের গায়ের নেশাল, পুরুষ ঘ্রাণটি পৌষকে নাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে আরো ঝুঁকতেই পৌষের গায়ের গন্ধটা আফিমের নেশার মতো নাসিকারন্ধ্রে বাড়ি দেয় পার্বণের নাকে।
উন্মত্ত হওয়া পার্বণ বেপরোয়া হয়ে উঠে। মুখ নামিয়ে পৌষের গলদেশে গুঁজে। নাক ঘষতে লাগে।
ছটফটিয়ে উঠে পৌষ। ওর ছটফটানিতে গলা থেকে মুখ সরিয়ে ধীরে ধীরে ঘাড়ে নাক নিয়ে ঘষতে ঘষতে হাস্কি স্বরে পার্বণ বলে,
— এতো ছটফট করিস না। আমার কাজে আমি বাঁধা পাচ্ছি।
পৌষ শুধু ঘন শ্বাসই ফেলছে। কিছু বলার মতো খুঁজে সে পাচ্ছে না।
হঠাৎ জমে গেলো পৌষ। হাত দিয়ে খাঁমচে ধরে পার্বণের চুল আর গলা।
পার্বণ পৌষের গলা, ঘাড় ছোট ছোট চুমু দিয়ে ভিজিয়ে ফেলেছে। যা আস্তে আস্তে গভীর থেকে গভীর চুম্বনে পরিণত হয়।
শেষে কামড়ে গিয়ে ঠেকে। কামড় দিতেই অস্ফুট আওয়াজ বেরিয়ে আসলো পৌষের মুখ দিয়ে।
পার্বণের চুল আরো জোড়ে টেনে ধরলো। সেভাবেই মুখ রেখে পার্বণ নিচু কণ্ঠে বলে উঠলো,
— আই লাইক ইট। আই লাইক ইওর রেসপন্স।
গলা থেকে ধীরে ধীরে পার্বণ আরেকটু নিচে নেমে আসে। কলারবোন থেকে একটু নিচেই সফেদ, মসৃণ ত্বকটার উপর বসিয়ে দেয় দন্তপাটি।
পৌষের কন্ঠ ফুরে বেরোয়,
— আহ!
পর পর উঠে পড়ে পার্বণ। এবার তার নজর পৌষের কাপা লাল খয়েরী ঠোঁট জোড়ার উপর।
মুখ নামিয়ে নেয়। মাত্র ন্যানো সেমি দূরত্ব হবে। যেই না পার্বনের পুরু ওষ্ঠ জোড়া ওই নরম ওষ্ঠের সঙ্গে মিলিত হবে।
তখনই ঠোঁট দুটোর মাঝে বাঁধা হিসেবে দাড়ায় পৌষের হাত।
ও হাত দিয়ে ঠোঁট ডেকে ফেললে চুমু টা গিয়ে লাগে পৌষের হাতের তারায়।
এরকম বাধায় বেশ বিরক্ত হয় পার্বণ। ধমক দিয়ে উঠে পৌষকে,
— ইডিয়েট হাত কেনো দিলি মাঝে? হাত সরা।
মুখে হাত রেখেই দু পাশে মাথা নাড়িয়ে না বোঝায় পৌষ। মানে সে হাত সরাবে না।
ভয়ঙ্কর রেগে গেলো পার্বণ। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
— হাত সরা পৌষ।
এতেও কাজ না হলো উঠে বসে পার্বণ। বাকা হেসে পৌষকে বলে,
— ওকে তাহলে দেখ আমি কি করি। আমাকে বাধা দেওয়া। গাধা একটা মোমেন্টও বোঝে না।
কথাটা বলেই এক হাত দিয়ে পৌষের হাত দুটো মুঠোয় পুরে বালিশের সাথে চেপে ধরে।
— এবার কি করবি তুই?
ভ্রু নাচিয়ে কথাটা বলেই আর দেরি করলো না পার্বণ।
নিজের ঠোঁট টা চেপে ধরলো পৌষের ঠোঁটের সাথে। একেকটি ঘর্ষণে পৌষের নরম ঠোটটা যেনো পিষে দিলো।
বড় আবেশের সাথে পৌষের অধরের সুধা পান করতে লাগে পার্বণ।
অনেক্ষন পেরিয়ে গেলেও অধর ছাড়ে না পার্বণ। এদিকে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম পৌষের।
অধর চুম্বনে মুহূর্তেই বাধা প্রাপ্ত হয়ে যায়। কে যেনো দরজায় করাঘাত করছে।
ব্যস রোমান্স আর মুডের দুটোরই ১২ টা বাজিয়ে দিলো।
পার্বণ মহাবিরক্ত হলো। আসার আর টাইম পেলো না।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও পার্বণ উঠে গেলো পৌষের শরীরের উপর থেকে।
মেঝে থেকে শার্টটা তুলে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বোতাম গুলো লাগাতে লাগাতে বিড়বিড় করে বলল,
— কোন শালারে রোমান্সে এভাবে বা হাত ঢুকলি!
কি মনে হতেই ত্বরিত পৌষের দিকে তাকালো পার্বণ। যা ভেবেছিলো তাই।
মেয়েটা দাঁত ভেটকাচ্ছে। পৌষকে মিটিমিটি হাসতে দেখে কাটা গায়ে নুনের ছিটা পড়লো পার্বনের।
ও ফুঁসতে ফুঁসতে পৌষকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— আমি এখন বের হচ্ছি তুই আরেকটু পর বের হবি। আর এত হাসতে হবে না। হাসার কিছুই নেই।
কথা শেষে দড়জা খুলেই দেখলো বাহিরে বত্রিশ পাটি বের করে দিয়ে বসন্ত দাড়িয়ে আছে।
পার্বণকে দেখেই বসন্ত বলে,
— ভাই এখনো এখানে কি করছো তাড়াতাড়ি চল ওদিকে।
— হুম চল।
বসন্ত হাঁটতে নিলেও কি মনে করে থেমে বলে,
— পৌষ আপাকে দেখেছো? সেই কখন থেকে দেখছি না। যাবে না নাকি?
থতমত খেয়ে গেলো পার্বণ। তবুও স্বাভাবিক ভাবে জবাব দিলো,
— তোর পৌষ আপার খোঁজ আমি কি করে জানবো? কথা না বলে চল তাড়াতাড়ি। পৌষ চলে আসবে।
তারপর দরজা থেকেই বুঝিয়ে সুঝিয়ে বসন্তকে নিয়ে চলে গেলো পার্বণ।
যেহেতু আত্মীয়ে আত্নীয়ে আত্মীয় তাই মানুষ এর সংখ্যাও একটু বেশি।
বাড়ির ছাদে এতো মানুষ খাওয়ানো যেতো না তাই বাড়ির পাশে প্যান্ডেল করা হয়েছে।
পার্বণদের বাড়িটা পাঁচতলা বিশিষ্ট। তিন তলায় সম্পূর্ণ ওরা নিয়ে থাকে। বাকিটা ভাড়া দেওয়া।
বাড়িটা পার্বনের দাদা দুই তলা পর্যন্ত করে গেলে বাকিটা পার্বনের বাবা বৈশাখ আর তার দুই ভাই জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় মিলে সম্পূর্ণ করে।
পৌষ আসে বেশ কিছুক্ষণ পর। এসেই দেখে এক সাইডে একটা চেয়ারে বসে ফোন স্ক্রল করছে পার্বণ।
মাথা ঝেড়ে কিছুক্ষণ আগের ঘটনা গুলো ঝেড়ে ফেলে দেয় পৌষ। ইশ কি করতে যাচ্ছিল সে।
পৌষকে দেখলেই সেখানে এগিয়ে আসে পার্বনের বড় বোন চৈত্র।
পৌষের কান টেনে দিয়ে বলে,
— এই তোর এতক্ষণে আসার সময় হলো বুঝি?
— আপা ছাড় লাগছে তো।
— লাগুক। এখন তাড়াতাড়ি চল ওদিকে কেক কাটবে তো। সবাই তোর জন্য বসে আছে।
তারপর চৈত্র পৌষকে নিয়ে যায়। আস্তে আস্তে সবাই চলে আসলে হেমন্ত, বসন্তকে মাঝে দাড় করিয়ে ওর পাশে দাঁড়ায় ফ্যামেলি মেম্বাররা।
আজ হেমন্ত ও বসন্ত ১৫ তে পা দিয়েছে। দুই ভাই চাকুর উপর হাত রাখে।
ফু দিয়ে ক্যান্ডেল নিভালে সবাই করোতালি দেয়। এরপর কেক কাটা হয়। সবাই ওদের উইশ করে।
সকলে সমস্বরে গেয়ে উঠে “হ্যাপি বার্থডে” গান। কেক কাটা শেষে দুই ছেলে প্রথম কেক গিয়ে খাওয়ায় ওদের মা মাঘকে।
তারপর বাবা আষাঢ়কে, বড় চাচা বৈশাখ, বড় চাচি ফাল্গুন, মেজো চাচা জৈষ্ঠ্য, মেজো চাচি বর্ষাকে।
শেষে সব ভাই বোনদের খাইয়ে দেয়। গিন্নিরা চলে যায় খাবারের তদারকী করতে। বড়রা সবাইই চলে যায়।
কারণ এখন সব ছোটরা মজা করবে। এখানে বড়রা থেকে কি করবে তাই।
গান বাজনা করা হয়, কেক নিয়েও দৌড়াদৌড়ি হয়, ফটোসেশনও হয়। এসবের মাঝে থেকে যেনো পৌষ ভুলেই গেছে আজকের করা ভূল।
মজা আনন্দে মেতে উঠেছে। শাড়ি পড়েছে ছবি তুলবে না তা হয় নাকি!
ও, চৈত্র, পূর্ণা, বনচাঁপা সহ কয়েকজন মেয়ে মিলে বিভিন্ন পোজে ছবি তুলে, ক্যান্ডিট তুলে। হাসি ঠাট্টা করে।
অন্যদিকে ছেলে রাও নিজেদের মতো আনন্দ করতে থাকে।
পা টিপে টিপে সবাইর চোখ ফাঁকি দিয়ে এই শান্ত জায়গায় এসেছে বসন্ত।
এক অপেক্ষা রত রমণীর সামনে গিয়ে তাকে মানানোর চেষ্টায় আছে।
— জানু দেখো আমি কেক নিয়ে এসেছি। ফ্যামেলি ছাড়া আর কাউকে এখনো কেক খাওয়াই নাই।
মেয়েটি বোধহয় রেগে আছে। খেঁকিয়ে উঠে জবাবে মেয়েটা বলে,
— রাখ তোর কেক আগে বল “নীল রং গায়ে মেখে আমি নীল নীল গান গাই তাই নাম আমার নীল নীল নীলাঞ্জনা” এই আইডিটা কার।
বসন্ত কিছু বলবে তার আগেই একজন ফোড়ন কাটে। আগন্তুক জানায়,
— ওটা বসন্তের ১৬ নম্বর ডার্লিং।
ব্যস রাগের পারদ এবার ফেটে পড়ে আম্রপালির। সে চেঁচিয়ে উঠলো।
— ওই বেয়াদব তুই না কইছিলি আমিই তোর প্রথম আর শেষ প্রেম। তাইলে ১৬ নম্বর কোথা থেকে আসলো?
কানে হাত দিয়ে বসন্তের কানে ফিসফিস করে পার্বণ বলে,
— এই মাইক পটাইলি কেন? কানের ভিতরে গিয়ে কানের পর্দায় টোকা দিয়ে আসছে এর চেচানো।
পার্বনের কথা পাত্তা না দিয়ে দুই কদম সামনে এগিয়ে প্রেমিকা আম্রপালিকে বুঝাতে গেলেই আরো ছেৎ করে উঠে সে।
পাশ থেকে পার্বণ সমানে আম্রপালিকে খুঁচিয়ে যাচ্ছে আর চিয়ার করছে।
— আরে দেখছ কি তোমার সাথে চিটিং করেছে এই ছেলে। দেও দুটো লাগিয়ে।
বলতে দেরি আম্রপালির বসন্তকে ধরে কেলাতে দেরি হয়না।
মার খেয়ে মেরুদণ্ড বেঁকিয়ে গেলো মনে হয়। কাদো কাদো গলায় বলল,
— জান, কলিজা, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ছেড়ে দেও আমায়। আমার কথা শোন দাদাভাই যা বলছে সব মিথ্যে। তুমিই আমার প্রথম আর শেষ।
কিন্তু কে শোনে কার কথা।আম্রপালির ছাড়ার কোনো নামই নেই। পার্বণ আরো তাকে উৎসাহ দিচ্ছে।
কখনো বলছে চুল টানতে, কখনো কিল দিতে।
আর বসন্ত ভাবছে এ কেমন জল্লাদ ভাই তার। মার খাচ্ছে কোথায় বাঁচাবে তা না করে উস্কাচ্ছে!
শেষে পার্বণের একটা কথায় আতকে উঠে বসন্ত।
— আম্রপালি তুমি বরং এক কাজ করো ওর সাথে ব্রেক আপ করে নেও।
আম্রপালি ও সায় দিলে চিৎকার দিয়ে মানা করে বসন্ত।
অথচ ওকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আম্রপালি ব্রেক আপ করে চলে যায়।
সেদিক পানে অসহায় হয়ে তাকায় একবার আরেকবার পার্বণের পানে।
পার্বনের পানে তাকালেই সে তার চকচকে বত্রিশ পাটি বের করে দেখায়।
ওসব কিছুর পরোয়া না করে শিস বাজাতে বাজাতে স্থান ত্যাগ করে পার্বণ।
এদিকে বসন্তের মাথায় হাত। কি হলো এটা!
আম্রপালি বসন্তদের প্রতিবেশী। ওদের বাড়ি আর আম্রপালিদের বাড়ি সামনা সামনি।
মানে মাঝখানে রাস্তা এবং তার দুইপাশে ওদের দুইটা বাড়ি।
আম্রপালি তার বাবা হিমসাগরের সাথে থাকে। আর কেউ নেই। বাবা মেয়ের ছোট সংসার।
আম্রপালির মা মারা যান যখন আম্রপালি ক্লাস সেভেনে। মা গর্ভবতী ছিলেন। বাচ্চা আর মা দুজনেই মারা গিয়েছিল।
তারপর থেকেই তারা দুজনে।আম্রপালির বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা।
তাদের বাড়িটা কিছুটা অদ্ভুদ তেমনি অদ্ভুদ ওদের বাড়ির নামটি।
পৌষপার্বণ পর্ব ২
এক তলা বিশিষ্ট ওদের বাড়িটি। দৈর্ঘ্যে বেশ। বাড়ির আশপাশ বাউন্ডারি করা।
যেখানে সবাই বাড়ির চারপাশে ফুল গাছ লাগায় সেখানে ওরা লাগিয়েছে আম গাছ। বিভিন্ন প্রজাতির, মৌসুমের আম গাছ।
বাড়িটির রং টাও পাকা আমের রংয়ের। নাম আগে ছিলো ” রকমারি আম” পরে পরিবর্তন করে হিমসাগর বাড়ির নাম রাখেন “রকমারি আম নিবাস”
