Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২২

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২২

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২২
ইনান হাওলাদার

সারাদিন অফিসের ব্যস্ততা, হিসাব-নিকাশ, ফোনকল, মিটিংসহ অফিসিয়াল যাবতীয় কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরেছেন আসলাম চৌধুরী । আজ দুপুরের দিকে অফিস থেকে ফিরেছেন তিনি।ঘড়ির কাঁটা তখন একটা বেজে সাতাশ মিনিট।রাস্তা ঘাটে কেমন যেন ভ্যাপসা গরম।তিনি রুমে এসেই আগে এসি চালালেন।কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে গোসল সারলেন। তারপর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে হাকডাক শুরু করলেন,

” আহির মা ? কোথায় গেলে ?”
” এইতো আসি ” রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন মারুফা বেগম। রান্না প্রায় শেষ দিকে।এখন তিন জা মিলে একে একে খাবার গুলো এনে ডাইনিং টেবিলে রাখছেন।গলা উঁচু করে স্বামীর ডাকে সাড়া দিয়ে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে ঘরে প্রবেশ করলেন তিনি। স্বামীর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন,
” হ্যাঁ,বলো ”
” আকাশী রঙের পাঞ্জাবিটা পরিষ্কার করেছিলে? ”
” হ্যাঁ,করেছি ” বলে বেলকনির থেকে পাঞ্জাবিটা এনে আসলাম চৌধুরীর দিকে এগিয়ে ধরলেন মারুফা বেগম।
আসলাম চৌধুরী পাঞ্জাবিটা নিয়ে পরতে পরতে বললেন,

” এখন আসতে পারো ”
মারুফা বেগম যেতে গিয়ে আবার পা থামিয়ে পিছনে ঘুরলেন।তারপর জিজ্ঞেস করলেন,
” তুর্যের সাথে কথা হয়েছে ? ”
” হুম! ”
” কী বললো ছেলেটা ?”
” বললো, পরে বলবে! এখনো বলার সময় হয়নি নাকি ! ”
মারুফা বেগম হাসতে হাসতে বললেন,
” তাহলে মনে হয় আহি দু’ষ্টুমি করেছে।তাই ওকে ভ’য় দেখানোর জন্য বলেছে ”
” হ্যাঁ,হতে পারে! কী রান্না হচ্ছে আজ ? ”
মারুফা বেগম রান্না হওয়া বিভিন্ন আইটেমের নাম বললেন। তারপর আরো কিছুক্ষণ সাংসারিক আলাপ আলোচনা করলেন দুইজন।

পড়া কমপ্লিট করে রাত দুইটা নাগাদ বিছানায় উপুড় হয়েছে আহি।তবে ঘুমানোর উদ্দেশ্য তার মোটেও নেয়।এখন ঘড়ির কাঁটায় শোয়া তিনটা বাজে। সে ফোন ঘাটাঘাটি করছে। এমনি সময় রিইলস নিয়ে পড়ে থাকলেও আজ পড়ে আছে চ্যাটজিপিটি নিয়ে। টপিক ” হাউ টু প্রপোজ! ”
প্রথমে ইউটিউব পরে গুগলে সার্চ দিয়েছে ।কিন্তু মনের মতো কোনো ভিডিও বা লেখা পায়নি সে।তারপর চ্যাটজিপিটি এর কথা মাথায় আসে। আপাতত তার সাথেই আলোচনায় ব্যস্ত আছে। একবার লিখছে ” হাউ ক্যান আই উইন মাই কাজিন’স হা’র্ট ?” তো আরেকবার লিখছে ,” হাউ ক্যান আই অ্যা’ট্রাক্ট মাই কাজিন’স অ্যাটেনশন ?” কিন্তু চ্যাটজিপিটি যেটা বলছে সেটা কোনো ভাবেই তার মন মতো হচ্ছে না।তাই এবার বড়লোকি ভাষা ইংরেজি ছেড়ে খাঁটি বাংলা ভাষায় লেখার চিন্তা ভাবনা করলো। আসলে এসব ইংরেজি – টিংরেজি তার সাথে যায় না।এটা তো তূর্য ভাইয়ের ভাষা।তাই সে এবার বাংলাতেই টাইপ করলো,

” আসলে চ্যাটু তুমি বুঝছো না। আমার কাজিন হলো আন’রো’মান্টিক ,খি’টখিটে মে’জাজের,র’গচটা টাইপের,মু’খপোড়া।তোমার মতো এত অকেজো কথাও বলে না।সব কথা শর্টকাটে বলে ।এবার বলো এই খা’টাস লোককে কীভাবে প্রেমের জালে ফাঁ’সাবো?”
লেখাগুলো টাইপিং সেরে সেন্ড করেছে মাত্র।এর মধ্যেই শান্ত কল করেছে।অবাক হলো আহি ।এত রাতে শান্ত কেনো কল করলো? সে তড়িঘড়ি করে কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে স’ন্দিহান গলা ভেসে আসলো,
” এই আহিপু,খবর কী তোর? এখনো ঘুমোসনি কেনো?এত রাতে অনলাইনেই বা কী করিস? “একনাগাড়ে প্রশ্নগুলো করে থামলো সে।
আহি একটা হায় ছেড়ে বেসুরো গলায় গাইতে শুরু করলো,

“কত কী যে ভাবি আমি কেমন হবে আমার স্বামী দুই চোখে ঘুম নাই রে…. আমার দুই চোখে ঘুম নাই রে…”
” পাশেই তূর্য ভাইয়ের রুম। গলাটা ছেড়ে গা। ঘুম তো এমনিতেই নেয় আর চোখ দুটোও খুলে নিয়ে যাবে।তখন না থাকলো চক্ষু আর না থাকলো ঘুমের চিন্তা ”
” সাধে তূর্য ভাইয়ের চা’মচা বলি তোকে? একটা সিরিয়াস কাজ করছিলাম । মুডটাই নষ্ট করে দিলি ” মে’জাজ দেখিয়ে কথাগুলো বলে কল কেটে দিলো আহি। কলটা কাটতেই তার খেয়াল হলো তাহলে শান্ত এতো রাতে কি করছে?ধুর! এই প্রশ্নটা তো সেও করতে পারতো।আসলে ,চো’র চলে গেলে বুদ্ধি আসে, কথাটা মি’থ্যা নয়।
শান্ত মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললো,
” সিরিয়াস আল্ট্রা প্রো ম্যাক্স ”
কাল তো বাড়িতে অনুষ্ঠান! পরশু সে আহিকে দেখে নেবে। একবার যদি জানতে পারে মোবাইলে কি করছে। আর যদি কোনো ছেলে ঘটিত ব্যাপার হয় তাহলে তাকে আর পায় কে ! ব্ল্যা’কমেইল করে করে ইচ্ছামতো কার্য হাসিল করতে পারবে।

চারটা এতিমখানায় খাবার দিবেন বলে ঠিক করেছেন আকবর চৌধুরী।আর একদিনেই হওয়ায় একেকজন একেক জায়গা যাবেন বলে সবাই মিলে আলোচনা করে ঠিক করেছেন । আকবর চৌধুরী,আসলাম চৌধুরী,আসিফ চৌধুরী আর তূর্য এই চারজন যাবে।এসব বিষয়ে যখন আলোচনা চলছিল তখন শান্ত বলে ,
” আমিও যাবো ” শান্তের দেখাদেখি প্রান্ত,আহি আর তাহির ও যাওয়ার জন্য বায়না ধরে।মূলত তারাও আগে থেকে যেতে চাইছিল।কিন্তু ভ’য়ে বলে উঠতে পারেনি।শান্ত বলায় সা’হস পেয়ে তারাও একে একে বলে উঠেছে।তখন আকবর চৌধুরী বললেন,

” আচ্ছা,ঠিক আছে।শান্ত আসলামের সাথে যেও।প্রান্ত আসিফের সাথে আর আহি আর তাহি তূর্যের সাথে যাস।”
” আর তুমি? তুমি একা যাবে ভাইজান? তুমি বরং প্রান্তকে নিয়ে যাও ।আমি দলের কিছু ছেলে – পেলে নিয়ে যাব ”
তূর্য বললো,
” আপনার একা যাওয়া ঠিকও হবে না ।”আর তাহি – আহির উদ্দেশ্যে বলল,
“ওদের যাওয়ার কি দরকার!”
” বড় আব্বু আমরা দরকার হয় আপনার সাথে যাব।তবুও যাব, প্লিজ “আহ্লাদী কন্ঠে বললো আহি।
” তোমাদের ভাই ই তোমাদের নিয়ে যাবে।আর কতদিন দায়িত্ব এড়িয়ে চলবে।দেখনা ,দায়িত্ব নেওয়ার ভয়ে বিয়েটাও করছে না ”
ভাগ্যিস বিয়েটা করেনি ! বিয়ে করলে তার কি অবস্থা হতো? মনে মনে বিড়বিড় করলো আহি।

শুক্রবার হওয়ায় জুম্মার নামাজের পর সবাই এতিমখানায় উদ্দেশ্যে রওনা হবে।তূর্য নামাজে যাওয়ার আগে বারবার করে আহিকে রেডি হয়ে থাকতে বলে গিয়েছে।দেরি হলে সে এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করবে না এটাও বলেছে।তবুও টানা দশ মিনিট ধরে গাড়ি নিয়ে গেইটের সামনে অপেক্ষা করছে সে।গাড়িতে বসে বারবার হ’র্ন বাজাচ্ছে।তার হ’র্নের শব্দে তাহি দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এসে গাড়িতে বসলো আর ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলল,
“আহি আপুরও হয়ে গিয়েছে ।আসছে ” কথাটা বলতে না বলতেই আহি হাজির হলো।তাকে দেখে কপাল গোটালো তূর্য।বি’রক্ত ভঙ্গিতে বলল,

” বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিস? শাড়ি পরেছিস!”
লাজুক হাসলো আহি।তারপর লাজুক ভঙ্গিতে আদুরে গলায় বললো,
” আপনি পাঞ্জাবি পরলেন তাই আমি শাড়ি পরলাম ”
” কাল থেকে আমি লুঙ্গি পরে ঘুরবো।তুই মেখলা পরিস ”
[মেখলা (Mekhla) হলো মূলত আসাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মহিলাদের পোশাক। যেটা দেখতে কিছুটা শাড়ির মতো, কিন্তু দুই বা তিন টুকরো কাপড়ে গঠিত।]
তূর্যের কথায় মুখ গো’মড়া করে ফেললো আহি।সে তো তূর্যের অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য শাড়ি পড়েছিল।একটা মানুষ কতটা ব’জ্জাত হলে ,শাড়ি পরলেও এমন খি’টখিট করতে পারে,ভেবে পায় না আহি।সে যে তূর্যকে পটানোর বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,তূর্য ভাই একবার পটে গেলে পরে আবার এটা নিয়ে আ’পসোস করতে হবে না তো?এরকম খা’টাস মার্কা লোকের সাথে সংসার করতে পারবে তো? নাকি অকালেই ডি’ভোর্স ঠুকতে হবে?
আহিকে অ’ন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে তূর্য ফের বলল,

“যেতে হলে চেইঞ্জ করে আয়। ”
” এখন লেইট হয়ে যাবে ভাইয়া। পরেছে থাক, তুমি চলো।আপু উঠো!” তাহির কথায়র পিছে আর কথা বাড়ালো না তূর্য।এমনিতেই অনেকটা লেইট হয়ে গিয়েছে। চেইঞ্জ করতে গেলে আরো এক ঘন্টা লাগবে এই মেয়ে সেটা তূর্য ভালো করে জানে।তার চেয়ে ভালো এভাবেই যাক।সে নাহয় একটু সহ্য করে নিবে।

দুপুরের রোদ তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। এতিমখানার বড় হলঘরটা সাজানো হয়েছে সাদা আর হালকা নীল পর্দায়। টেবিলগুলোয় সারি সারি করে বসে আছে ছোট ছোট বাচ্চারা।বাচ্চাদের খাওয়া দাওয়া প্রায় শেষের পথে।ইতোমধ্যে অনেকের খাওয়া শেষও হয়ে গিয়েছে।আবার অনেকের শেষ পর্যায়ে। তাহিও বাচ্চাগুলোর সাথে খেতে বসেছে।তূর্য আহিকেও বসতে বলেছিল। কিন্তু সে বসেনি।তবে এখন তার পেট ক্ষুধায় চুঁ’চু করছে।খেতে না বসার জন্য আ’পসোস হচ্ছে।কেন যে ফ্লার্ট করার জন্য বলেছিল,

” আমি আপনার সাথে খাবো তূর্য ভাই ”
সে নাহয় বলেছে তূর্য তো পারত তাকে ধ’মকে ধ’মকে খেতে বসাতে।তূর্য ভাই তো ভালো করেই জানেন সে ক্ষুধা সহ্য করতে পারে না।মনে হয় সাজা দেওয়ার জন্যই দ্বিতীয়বার খাওয়ার কথা বলেননি, যে লেভেলের শ’য়তান লোক,বিশ্বাস নেয় ওনাকে দিয়ে!
খাওয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তূর্য বাচ্চাদের মাঝে হাঁটছিল। মুখে হালকা হাসি, চোখে তৃপ্তির আলো। একেকটা বাচ্চাকে নিজের হাতে দেখে শুনে খাবার তুলে দিয়েছে।কখনো মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছে, কখনো পানির বোতলটা এগিয়ে দিয়েছে।এই প্রথম তূর্যের একটা সফট সাইড আহির নজরে এলো।
ঠিক সেই সময় বাইরের দিক থেকে একটা অদ্ভুত গুঞ্জন শোনা গেল। প্রথমে কেউ তেমন গুরুত্ব দিল না।ভাবল হয়তো আরও অতিথি এসেছে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই গুঞ্জন পরিণত হলো চি’ৎকারে, তারপর তীব্র হ’ট্টগোলে।
গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্বেচ্ছাসেবক একটা ছেলে দৌঁড়ে এসে বলল,

” বাইরের কিছু লোক ঢুকতে চাইছে।ঝা’মেলা পাকাচ্ছে ”
তূর্যের মুখ থ’মকে গেল। মুহূর্তেই হলঘরের কোলাহল থেমে গেল।যাদের খাওয়া কমপ্লিট হয়নি তারাও খাবার চিবানো থামিয়ে দিয়েছে।তাহি আর আহি দৌঁড়ে এসে তূর্যের পাশে দাঁড়ালো।তাহি তূর্যকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল,
” ভাইয়া বাড়ি নিয়ে চলো।আমি বাড়ি যাবো ”
তূর্য বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে সান্ত্বনা দিয়ে বলল,
” কাদে না। ভাইয়া আছি না ?কিচ্ছু হবে না। তুমি আপুর কাছে থাকো।আমি সবটা দেখে নিচ্ছি। ডোন্ট ওয়্যারি ! ওকেই ?”
কথাটা বলে আহির দিকে দৃষ্টি ঘুরালো তূর্য।তার মুখেও ভ’য়ের ছাপ স্পষ্ট।ভ’য়ার্ত দৃষ্টিতে তূর্যের দিকে তাঁকিয়ে আছে।তূর্য ধীর কন্ঠে বললো,

” বাচ্চাগুলো আর তাহিকে নিয়ে এখানে থাকবি।যা কিছু হয়ে যাক বাইরে বেরোবি না।গট ইট?”
আহি মাথা কাত করে সাই জানালো।পরক্ষণে চিন্তিত কন্ঠে বলল,
” কিন্তু আপনি ! আপনিও যেয়েন না ,তূর্য ভাই ”
তূর্য কথাটা শুনল তবে মানলো না। বড় বড় পা ফেলে বাইরে চলে গেল।আর দরজাটা বাইরে থেকে লক করে গিয়েছে।কারণ, আহিকে দিয়ে বিশ্বাস নেই তার। হুট করেই বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
তাহিসহ বাকি বাচ্চাদের মধ্যেও কেউ কেউ কান্না করছে।আহি নিজে ভয় পেলেও সেটা তাদের বুঝতে না দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।তবে তার বিশ্বাস তূর্য ভাই যেহেতু বলেছে কিচ্ছু হবে না।তাহলে কিচ্ছু হবে না।কিন্তু ওনার যদি কিচ্ছু হয়?
বাইরে এখন চেঁ’চামেচি বাড়ছে। জানালার ওপাশে কিছু ছায়া ঘুরছে, কেউ লা’ঠি হাতে,কেউবা হ’কস্টিক , আরো নানান প্রকার জিনিস যেগুলোর নাম আহি জানে না।

পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক তূর্যের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাইরে থেকে ধাক্কার শব্দ আসছে।শুধু ধাক্কা নয়,দল বেধে বাড়িধুড়ি দেওয়া হচ্ছে। ঢি’ল ছুঁড়ছে । ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে গেইটের ধাতব গর্জন।
তূর্য শুধু দরজায় দাঁড়িয়ে তাঁকিয়ে আছে সেই অশান্ত দৃশ্যের দিকে। রোদটা এখন লালচে হয়ে গেছে।বাইরে থেকে ইতিমধ্যেই গেট ভে’ঙে ঢুকে পড়েছে কিছু লোক। হাতে লা’ঠি, মুখে বাঁধা গামছা। এটা যে রাজ’নৈতিক সমস্যা সেটা বুঝতে বাকি রইলো না তূর্যের ।একা একা এই স’মস্যার সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।সে মোবাইল বের করে পুলিশকে ফোন করল, যদিও জানে এই শহরে পুলিশ আসতে সময় নেয়, বিশেষত যখন বিষয়টা রাজ’নৈতিক হয়।

কিছুক্ষণ পর একদল পুলিশের গাড়ি এসে থামল এতিমখানার সামনে। পুলিশ এসেই এলোপাতাড়ি ভাবে লা’ঠি চালাতে আরম্ভ করেছে ।এতে গেটের বাইরে থাকা লোকগুলো একে একে পিছু হটতে লাগলো,কেউ দৌঁড়ে পালাল, কেউ গা’লা’গা’ল দিয়ে দূরে চলে গেল। কিছুক্ষণ যেতেই ভেতরের আতঙ্কে জড়ানো পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হলো। তূর্যের সাথে বিভিন্ন কথা বার্তা সেরে পুলিশেররা চলে গেল।শ’ত্রু পক্ষের লোকগুলো ভেবেছিল আসিফ চৌধুরী এই এতিমখানায় আসবে।তাই এত কাহিনী করেছে।যদিও আসিফ চৌধুরীর এখানেই আসার কথা ছিল।শেষ মুহূর্তে ডিসিশন চেইঞ্জ করা হয়েছে।সেটাও তূর্যের কথায়।পুলিশ যাওয়ার পরপরই তূর্য হল রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে।সে ভিতরে যেতেই তাহি ছুটে আসে তার কাছে।তার পিছু পিছু আহিও আসে। মুখ কা্’চুমাচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেখে তূর্য আহির উদ্দেশ্যে শান্ত কন্ঠে বললো,

” ভ’য় পেয়েছিস? ”
” একটু! ”
” বাড়িতে আগ বাড়িয়ে এসব কথা বলতে যাবি না ” আহি মাথা কাত করে সাই জানালো।
তূর্য ফের বলল,
” যদিও এতক্ষণে সব চ্যানেলের হেডলাইন হয়ে গিয়েছে। ”

ছাদের এক কোণে তূর্য দাঁড়িয়ে, মোবাইল হাতে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা আলো-আঁধারি, আকাশে আধখানা চাঁদ ঝুলে আছে মেঘের আড়ালে। তার আলো ছাদে পড়ে তৈরি করেছে রুপালি ছোপ। বাতাসে হালকা ঠান্ডা ভাব বইছে।
হাতে ধরে রাখা ফোনটা কয়েকবার ভাইব্রেট হয়ে থেমে গেল।তূর্য এতক্ষণ অন্য ভাবনায় মগ্ন ছিল।চেতনা ফিরতেই কল লিস্ট চেইক করলো সে।একবার ,দুইবার নয় অনেকবার কল এসেছে।অথচ সে টের পায়নি।এই একটা ভাবনা তার মাথায় আসলে জগতের কোনো কিছুই আর খেয়াল থাকে না।যেটা তাকে ভিতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে।যখনই ভাবছে এখন উপযুক্ত সময় সবটা বুঝে নেওয়ার ,তখনই কোনো অজানা কারণে সবটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আবার ফোনের শব্দে ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটলো তার।এবার কলটা রিসিভ করলো সে।
ওপাশে তাসিনের গলা।প্রথমেই এমন কিছু বললো যেটা শুনে ভ্রু কুঁচকে গেল তার।বি’রক্তও হলো বটে।তাসিন ফের বলল,

” শুনতে পাচ্ছিস না, ভাই ?”এবার আর দু’ষ্টুমি না করে সিরিয়াস হয়ে কথাটা বলল।
তূর্যের কা’টকাট জবাব,
” বল ”
” তুই বন্ধু নামের ক’লঙ্ক তূর্য ! তোদের বাড়িতে অনুষ্ঠান আর একটা বার মুখফুটে দাওয়াত দিতে পারলি না ,ভাই ” ক’পট রা’গ দেখিয়ে অ’ভিমানী হয়ে বলল তাসিন।
” হ্যাঁ,তোদের বলতাম আর তোরা এসে মিলাদের অনুষ্ঠানকে বিয়ের অনুষ্ঠান বানিয়ে চলে যেতি । ”
” চাপ নিওনা বন্ধু! আন্টি আমাদের ইনভাইট করেছেন। উই আর কামিং ”
” হোয়াট ? কখন আসছিস?” ভ্রু কুঁচকে কপালে কয়েকটা ভাঁজ ফেলে বলল তূর্য।
” এটা সারপ্রাইজ থাক ! জানার দরকার নেয় ” গা ছাড়া ভঙ্গিতে বলল তাসিন।
” বল। ইট’স ইম্পর্ট্যান্ট ”
” কেন?”
তূর্য ভারী এবং গ’ম্ভীর কণ্ঠে বললো,

“সেদিন বাড়িতে থাকবো না।এবার বল! ”
হাসির ঝংকার তুললো তাসিন।তারপর হু’মকির মতো মজা মেশানো ভঙ্গিতে বলল,
“বাড়িতে তো আলবৎ থাকবি।আর সেইদিন তোর অবস্থা এমন করব রে..দেখে নিস। কিভাবে নিজেকে কন্ট্রোল করিস সেটাও দেখে নিবো ”
তূর্য হালকা চেপে রাখা রা’গে বললো,
” আসবি আয়! বাট একদম বাড়াবাড়ি করবি না ,তাসিন । আ’ম ওয়্যা’র্নিং ইউ ”
” তুই কবে কী করবি ভাই? ” চি’ন্তিত শোনালো তাসিনের কন্ঠস্বর।
তূর্য আর কোনো কথা না বলে রূ’ঢ় ভঙ্গিতে বললো,
” কল রাখ! ”

না ,তাসিন কল রাখলো না তূর্যকে রাখতে দিলো । আরো খানিকক্ষণ বকবক করে এরপর কল কাটলো তাসিন।তাসিন কল কাটতেই তূর্য পাশ ফিরে দেখতে পেলো কেউ একজন তড়িঘড়ি করে ছাদে উঠছে।লাইটের হালকা আলোয় মানবীর চেহারা স্পষ্ট হলো।হঠাৎ মৃদু চিৎ’কার দিলো সে।তূর্য দাঁতে দাঁত পি’ষে বলল,
” ভেড়ার মতো চি’ল্লাস কেনো,ই’ডিয়েট? ”
আহি জামা উঁচু করে বুকে থু থু দিয়ে আ’র্তনাদ করে বলল,
“ওওও তূর্য ভাই আপনি ?সেটা আগে বলবেন না? খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছেন,আমি ভ’য় পেয়ে গিয়েছি। একটুর জন্যে হা’র্ট অ্যা’টাক করিনি ”
” এত রাতে ছাদে কী তোর?”
” জুতা নিতে এসেছি।ভুলে গেছিলাম।আপনি কী করছেন?”
” গরুর ঘাস কাটছি ”

তূর্যের ত্যাড়া উত্তরে মুখ ভেং’চালো আহি।জুতা নিয়ে যাওয়ার পথে আরেকবার ‘ আই লাভ ইউ ‘ বলতেও ভুললো না।এরকম এক কথা বারবার বলার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না।ভেবেছিল এইবার একটু ভিন্ন কায়দায় বলবে।কিন্তু
তূর্য ত্যাঁ’ড়া কথা বলায় তাকে বি’রক্ত করতেই কথাটা বলেছে।ভেবেছিল বলেই পালাবে।পালিয়েছেও বটে ! তবে ছাদের দরজায় এসে দাঁড়িয়ে পড়েছে।টানাটানি করেও খুলতে পারছে না।কেউ মনে হয় ভুল করে লাগিয়ে দিয়েছে।তাহলে এই ছিল তার কপালে? বারবার কেনো সেই ক’ট খাবে? খেয়েছে ভালো কথা ,তাহলে ক’ট ম্যারেজ হলেও ভালো হতো।তাছাড়া তূর্য ভাইয়ের যে ভাবগতি কট ম্যারেজ ছাড়া উপায়ও নেই। ততক্ষণে তূর্য আহির নিকট চলে এসেছে। মধ্যে বেশ খানিকটা দূরত্ব।রাত হলেও রাস্তাঘাট আর দোকানপাটে থাকা লাইটের আলোয় সবটাই দৃশ্যমান।দিনের মতো অতটা আলোকিত না হলেও বেশ খানিকটাই পরিষ্কার।পকেটে হাত গুজে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তূর্য।আহি ভ’য়ে একটা শুকনো ঢোক গিলে বলল,

” তূর্য ভাই বিশ্বাস করুন এইবার আমি সত্যি সত্যি ‘ আই লাভ ইউ ‘ বলিনি।আপনাকে বি’রক্ত করার জন্য বলেছি। ”
” আর আগে যে দুইবার বললি,সেটা ?”কথায় না আছে ক’ঠোরতা, না আছে গা’ম্ভীর্য ।খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো তূর্য।সা’হস পেলো আহি।মনে মনে কথা গুছিয়ে মিনমিন করতে করতে বলল,
” ওইসব ভুলে যান ”
” গেলাম! তুইও ভুলে যাবি?”
আহি উপর নিচ ঘনঘন মাথা নাড়তে নাড়তে বলল,
” হ্যাঁ ”

যদিও এটা তার মনের কথা নয়।এই মুহূর্তে নিজেকে বাঁচাতে হলে দুই একটা মি’থ্যা কথা না বললে নয়। আহির উত্তর শুনে ভ্রু কুঁচকালো তূর্য ! সেটা স্পষ্ট ভাবে দৃশ্যমান হলেও মাথা নিচু রাখার দরুন আহি দেখতে পেলো না।হুট করে কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে এলো সে। মাঝে কোনো দূরত্ব নেয় বললেই চলে।যেটুকু আছে খুব সামান্য!
আহি এমনিতেই দরজার সাথে সিটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।তূর্য এভাবে এগিয়ে আসায় ভ’য়ের তোপে হাতে ধরে রাখা জুতা জোড়া পড়ে গেল।অবলীলায় পড়ে থাকা জুতা জোড়াকে পায়ের দাঁড়া ঠেলে একপাশে দিলো তূর্য।পকেটে গুঁজে রাখা হাত দুটো বের করে একটা আহির কান বরাবর দরজায় রাখলো।ফলস্বরূপ,কিছুটা ঝুঁকে পড়লো সে।
আরেকটা হাতের প্রথম তিন আঙ্গুল দ্বারা তার দুই গাল চেপে ধরলো।ডান গালে বৃদ্ধা আঙ্গুল আর বাম গালে তর্জনি ও মধ্যমা আঙ্গুল ঠাঁয় পেল। অনেক বেশি না তবে ভালোই জো’রে চেপে ধরেছে।
তারপর শ’ক্ত কন্ঠে বলল,

” ডু ইউ নো হোয়াট লাভ মিন’স?বল,বুঝিস ভালোবাসা মানে?আবার, ভালোবাসি বলতে এসেছিস !”
শেষ কথাটা তাচ্ছিল্যের সহিত বললো সে।
আহি ছলছল নয়নে তাঁকিয়ে আছে।ওর নোনাজলে টলমল করা চোখের দিকে নজর গেল তূর্যের।তারপর নিজের অবস্থান ঠাওর করে গাল ছেড়ে দ্রুত সরে দাঁড়ালো ।
দরজার কাছ থেকে আহিকে সরিয়ে নিজে গিয়ে কয়েকবার খোলার চেষ্টা চালালো।সত্যিই বাইরে থেকে কেউ লক করে দিয়েছে।একটা দী’র্ঘশ্বাস ছেড়ে দরজার কাছ থেকে সরে আসলো সে।
তূর্য আহিকে সরিয়ে যেখানে রেখেছিলো আহি এখনো সেখানেই সেই ভাবে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাবাগো!মানুষের হাত এত শক্ত কীভাবে হয়?মনে হচ্ছে এখনো গাল চেপে ধরে আছে।দুই গাল ভারী হয়ে আছে এখনো।ল’জ্জা থাকলে আর জীবনেও ভালোবাসি বলবে না।লাগবে না তার সুদর্শন স্বামী! কপালে যে আছে তার সাথেই বিয়ে হবে। টা’কলা,ম’দন যা আছে তাই!
এভাবে অনেকক্ষণ পার হলো।রাতটাও গভীর হয়েছে।ঘুমে চোখের পাতা লেগে আসছে আহির।তূর্যের সাথে কথা বলতেও ভ’য় পাচ্ছে।এদিকে ঘুমে বারবার ঝিম আসছে তার।আরো কিছুক্ষণ এভাবে পার করে শেষে অ’সহায় কন্ঠে তূর্যকে বলল,

” তূর্য ভাই ,ঘুম পাচ্ছে খুব। ”
” তো কি করবো আমি? সেই খুশিতে ড্যান্স করবো?”
” আমি ওই দোলনার উপর ঘুমোচ্ছি।আপনি নিচে গেলে আমাকে একা রেখে চলে যাবেন না প্লিজ। ডেকে দিয়েন একটু ”
বলেই ছাদে থাকা দোলনায় গিয়ে বসলো আহি। তূর্য সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে দেখে মায়া লাগলো তার।দোলনাটা বেশ খানিকটা বড় হওয়ায় সে বলল,
” আপনিও আসুন ! আমি এখন আর বি’রক্ত করবো না! ”
” ঘুমো তুই।আমার ঘুম আসলে যাবো ”
আহি আর কথা বাড়ালো না।কয়েক মিনিট যেতেই ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো সে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আহি ওড়া মোড়া করে এদিক ওদিক তাকালো। তূর্যকে না দেখে নিজেকে প্রশ্ন ছুড়লো,”তূর্য ভাই ঘুম থেকে উঠে গিয়েছেন?”পরক্ষনেই আবিষ্কার করলো সে নিজের রুমে।ছাদের দরজা কে খুলে দিলো? যে দিয়েছে, দিয়েছে! তাকে রুমে পৌঁছে দিলো কে? তূর্য ভাই?চাইলে তো ডেকে ঘুম থেকে তুলে দিতে পারতেন।কিন্তু তিনি সেটা করেননি! তাহলে তূর্য তাকে কোলে করে এনেছে? ভেবেই খুশিতে এক লাফ দিয়ে খাট থেকে লামলো সে।তারপর খুশি মনে ফ্রেশ হতে চলে গেল।
আসলে কাল রাতে সত্যি সত্যিই তূর্য তাকে রুমে দিয়ে গিয়েছে।
কিছুক্ষণপর বেরোলো আহি।খুব খুশি খুশি লাগছে তার।নিজের অজান্তেই বারবার ঠোঁট প্রসারিত হচ্ছে। লাজুক হাসছে।কাল রাতে ওভাবে গাল চেপে ধরার সে সত্যিই ভেবেছিল আর এমন দু’ষ্টুমি করবে না।তাহলে কি সে এখন গ্রিন সিগন্যাল পেলো?

এখনই একবার তূর্য ভাইয়ের রুমে যেতে হবে।
বিনুনি করা চুলগুলো প্রতিদিনের তুলনায় আজ একটু বেশি এলো-মেলো লাগছে।ছাদে ছিল তো, অনেক বাতাসও ছিল,এই কারণে হয়তো।সে চুলে চিরুনি চালিয়ে সেগুলোকে হাত খোপা করে নিলো। ড্রেসিং টেবিল থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সে তড়িঘড়ি করে পুনরায় দৃষ্টি ফেললো।গলায় এটা কিসের দাগ? চ’মকে উঠেলো।সেখানে নিজের হাত দ্বারা খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে ব্য’থা অনুভূত হলো।

শরীরের রক্ত নষ্ট হয়ে গেল না তো? নাহলে এখানে এমন জমাট বেঁধে আছে কেন? সে নিজের হাত,গলার অন্য সাইড খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো।নাহ! অন্য কোথাও এমন দাগ নেই। এটা মারুফা বেগমকে দেখালেও ব’কবেন। সব দো’ষ তাকে দিবে। ছাদ থেকে আবার কিছুতে কামড়-টামড় দিলো না তো? তূর্য ভাই তো ডাক্তার ওনার কাছে জিজ্ঞেস করে নিবে।তূর্যের রুমের সামনে গিয়ে কয়েকবার দরজায় টোকা দিলো। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজাটা ধাক্কা দিলো।খোলা আছে।ভেতরে গিয়ে দেখলো তূর্য উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে আছে।ডাকা ঠিক হবে কিনা কয়েকবার ভেবে তারপর ডাক দিলো।দুইবার ডাক দিতেই তূর্যের ঘুমে জড়ানো ভারী কন্ঠস্বর ভেসে আসলো,

” হুমমম! বল ”
” তূর্য ভাই ,আমার গলায় কি হয়েছে দেখুন তো? আম্মুকে বলবেন না প্লিজ! তাহলে ব’কবে ।আপনি তো ডাক্তার একটু দেখে ওষুধ এনে দিয়েন ”
” ওষুধ লাগবে না! ওখানে কয়েকদিন আলো বাতাস লাগাবি না। ঢেকে – ঘিরে রাখবি! ধীরে ধীরে সেরে যাবে।আর না সারা পর্যন্ত হাইড করে রাখবি ”
তূর্যের ঘুম জড়ানো মোটা কন্ঠে আহির বুকটা ধ’ক করে উঠলো।এর আগেও এমন গলা কত শুনেছে তখন তো এমন লাগেনি।তাহলে এখন কেন এমন হচ্ছে?
” আপনি তো না দেখেই বলছেন।এভাবে দায় সারা ট্রি’টমেন্ট দিয়েন না প্লিজ । পরে যদি ইন’ফেকশন হয় ”
” কিছু হবে না ।যা এখন ! ঘুমাতে দে”
” সত্যি কিচ্ছু হবে না ?”
” এখনি রুম ত্যাগ না করলে আরো অনেক কিছু হবে। ”

” আচ্ছা! যাচ্ছি ..যাচ্ছি ! ” বলে একটা মুখ ভেং’চি কেটে চলে গেল আহি।পায়ের শব্দ কানে আসতেই তূর্য ফের সাব’ধান করলো তাকে।স্বভাবসুলভ গ’ম্ভীর গলায় বলল,
” জায়গাটা ঢেকে রাখিস !”
আহি পুরোপুরি চলে গেছে বোধগম্য হতেই ফিচলে হাসলো তূর্য। শোয়া থেকে উঠে বসলো তারপর নিজের মনে বিরবির করে আওড়ালো,
“গোটা রাত একটা ক’ন্ট্রোললেস পুরুষের সাথে কাটিয়ে দিলি। অথচ কোনো চিহ্ন রাখবি না? হাউ ইজ
ইট পসিবল? ” কথাটা ভেবেই পরক্ষণে নিজেই বি’রোধিতা করল সে, ফের বিরবির করে বললো,
” লাইক সিরিয়াসলি ? ক’ন্ট্রোললেস? অ্যাব’সলিউটলি নট ! ক’ন্ট্রোললেস হলে এত বছরে আরো অনেক কিছু ঘটতে পারতো। ”

তারপর বেশ অনেকক্ষণ ধরে বাকা হাসলো তূর্য।কালকের ঘটনাটা আরেকবার কল্পনা করলো।কাল রাতে রাতে আহি ঘুমের ঘোরে বারবার দোলনা থেকে পড়ে যেতে নিচ্ছিলো।তখন তূর্য সেটা খেয়াল করে এগিয়ে গিয়ে আহির পাশে বসে ।তার মাথা নিজের কাঁধের উপর রাখে। তাতেও যেন শান্তি পাচ্ছিলো না আহি।তাই যাতে ঘুমে কোনরূপ ব্যাঘাত না ঘটে এইজন্য সে আলগোছে নিজের ঊরুর উপর শুইয়ে দেয় আহিকে। ঘুমন্ত প্রেয়সীর সুযোগ নেয় সে। অপলক দৃষ্টিতে মুখ পানে চেয়ে থাকে। চাঁদের আলোয় মুখটা আরো বেশি আদুরে লাগে। ফুরফুর করে বাতাস বইছে।সেই বাতাসে আহির ছোট ছোট চুলগুলো মুখের উপরে খেলা করছে। তূর্য আলতো হাতে সেগুলো সরিয়ে দিচ্ছে আর অবাধ্য বাতাস আবার সেগুলোকে এলোমেলো করছে।তারা হয়তো বুঝছে না তাদের এই দু’ষ্টুমি কোনো একজনের নিঁখুদ কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।কেউ একজন বি’ রক্ত হচ্ছে।হিং’সাও হচ্ছে বটে!

আজকের আবহাওয়াটা প্রতিদিনের তুলনায় অনেকটাই শীতল।তার সাথে ঠান্ডা হাওয়াও বইছে। আহির হয়তো শীত শীত অনুভূত হচ্ছে।নাহলে অ’ধর যুগল এভাবে কাপছে কেন? তূর্যের নজর গেল সেইদিকে।মুহুর্তেই সারা শরীরে অদ্ভুত শিহরণ ছড়িয়ে গেল।ধীরে ধীরে হৃদস্পন্দন বাড়তে শুরু করেছে।কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে।সে হা’সফাস করতে করতে সেকেন্ডের ব্যবধানে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
চোখ বন্ধ করে নিজের পুরুষালি মনের কামনাকে সংযত করার চেষ্টা চালায়। নিজের পুরনো অনুভূতি গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার তাগিদে লম্বা করে নিশ্বাস নিচ্ছে বারবার।কেমন একটা দম ব’ন্ধকর পরিস্থিতি ! বারবার শুধু জ্বিভ দিয়ে ঠোঁ’ট ভেজাচ্ছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে।

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২১ (২)

এমন অ’স্বস্তিকর পরিবেশে সে আগে কখনো পড়েনি।পূর্বে যখনই নিজেকে এমন অস্বাভাবিক লেগেছে তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করেছে। এখন না পারছে জায়গা ত্যাগ করতে আর না পারছে নিজেকে স্থির রাখতে।
তবে সে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে।
তারপর হঠাৎ করে কি হয়েছিল জানা নেই তার। যার ফলস্বরূপ আহির গলায় ক্ষ’ত চিহ্ন।
তূর্যের ভাবনা শেষ হতে না হতেই রুমে প্রবেশ করলো এক আগন্তুক।মুহুর্তেই চেহারায় গা’ম্ভীর্যভাব টানলো সে। আগন্তুক এসেই তার দিকে প্রশ্ন ছুড়লো,
” এই কথা দিয়েছিলে?তোমার থেকে এটা আমি মোটেও আশা করিনি ”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ২৩