প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২২
বন্যা সিকদার
বিকেল তখন পাঁচটা। চারদিকটা আজ হালকা নিঝুম হয়ে আছে‚ পুরো আকাশ কালো মেঘে আচ্ছন্ন। আকাশ দেখে খুব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে‚ কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমুল বৃষ্টি নামবে। রাস্তায় দু-একটা গাড়ি ছাড়া তেমন কোনো মানুষজন দেখা যাচ্ছে না। এর মাঝেই হুট করে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামতে শুরু করল। উজান মৌ’কে নিয়ে বাইকে করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিল আর মাঝরাস্তায় এমন আচমকা বৃষ্টি নামায় সে বেশ বিপাকে পড়ে গেল। সে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বাইক থামিয়ে দিল। তার এমন কাণ্ডে মৌ বেশ অবাক হলো। উজানে’র কথা মতো মৌ বাধ্য হয়ে বাইক থেকে নেমে গেল। বৃষ্টি আরেকটু জোরে আসার আগেই উজান মৌ’য়ের হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাস্তার ধারের একটা চায়ের দোকানে গিয়ে দাঁড়াল। সে মৌ’কে নিয়ে কোনো রকম রিস্ক নিতে চায় না। তার ওপর দুদিন পরেই ফাইনাল পরীক্ষা। এমনিতেই পড়াশোনা নিয়ে তার দুশ্চিন্তার শেষ নেই‚ এখন যদি বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধিয়ে বসে‚ তবে তো মস্ত বড় কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। চায়ের দোকানদার তাদের অবস্থা দেখে ভেতরের একটা কাঠের বেঞ্চে বসতে বলল। উজান আলতো করে মৌ’কে সেখানে বসিয়ে দিল এবং এক হাত দিয়ে তাকে আগলে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে রাখল।
তখন চারদিকের মানুষ বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য একটু আশ্রয়ের খোঁজে ভীষণ ব্যস্ত। বসে থাকতে থাকতে মৌ’য়ের নজর হঠাৎ গেল একজোড়া শালিক পাখির দিকে। তারা পরম নিশ্চিন্তে একে অপরকে ছুঁয়ে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজছে। দৃশ্যটা দেখামাত্রই মৌ’য়ের নিজেরও বৃষ্টিতে ভেজার তীব্র ইচ্ছে জাগল; কিন্তু পাশে বসা উজান’কে বলার সাহস সে পাচ্ছে না। যদি লোকটা সবার সামনে তাকে কড়া বকা দেয়‚ সেই ভয়ে সে গুটিয়ে রইল। কিন্তু মনের ভেতর বৃষ্টিতে ভেজার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কিছুতেই দমাতে পারছিল না সে। অবশেষে মনের ভেতর একরাশ ভয় চেপে রেখেই সে ফিসফিস করে বলে উঠল।
”প্রফেসর সাহেব!
উজান ঘাড় বাঁকিয়ে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। তারপর মৃদু স্বরে আওড়াল‚ “কিছু চাই?
”আ আ আ আমি একটু বৃষ্টিতে ভিজতে চাই।
“এখন নয়‚ বাসায় গিয়ে ভিজো। —উজান শান্ত গলায় উওর দিল।
”না আমি এখনই ভিজতে চাই! বাসায় যেতে যেতে যদি বৃষ্টি চলে যায়‚ তখন তো আর ভিজতে পারব না।
“বললাম না এখন নয়!
”প্লিজ প্রফেসর সাহেব। বেশি না জাস্ট দশটা মিনিট…প্লিজ প্লিজ প্লিজ।
উজান এবার চোখ রাঙিয়ে তার দিকে তাকাল। উজানে’র ওমন কড়া চাউনি দেখে মৌ সঙ্গে সঙ্গে মাথা নিচু করে নিল। মনে মনে ভীষণ অভিমান হলো তার। সামান্য একটু বৃষ্টিতে ভিজতে চেয়েছে বলে মানুষটা এভাবে চোখ রাঙিয়ে তাকাবে? সে তো সচরাচর উজানে’র কাছে কিছু চায় না‚ তাহলে আজ কেন এমন করল? উজান গভীর দৃষ্টিতে মৌ’য়ের বিষণ্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার ছোট থেকে বড় সব ইচ্ছে‚ সব স্বপ্ন সে নিজের হাতে পূরণ করবে; কিন্তু এই মুহূর্তে কোনোভাবেই নয়। মেয়েটাকে সে কেন বারণ করল‚ তা হয়তো মৌ বুঝতে পারছে না; কিন্তু উজান খুব ভালো করেই জানে। চারপাশে অনেক অচেনা মানুষ‚ তাদের নোংরা নজর এড়িয়ে একা একটা মেয়ে এভাবে রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজবে ব্যাপারটা ভাবতেই উজানে’র পুরুষালি অহংকারে বাধছে। এর মাঝেই বৃষ্টির বেগ আরও বাড়তে শুরু করল। উজান আকাশের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে বুঝতে পারল যে‚ আজ সহজে বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই। মৌ’কে ওভাবে মুখ গোমড়া করে বসে থাকতে দেখে উজান মনে মনে একটু হাসল। তারপর মৌ’য়ের হাতটা শক্ত করে টেনে ধরে আবার বাইকে বসতে বলল। মৌ আর কোনো কথা না বাড়িয়ে মুখ ফুলিয়ে বাইকে গিয়ে বসল। সঙ্গে সঙ্গে উজান বাইক স্টার্ট দিল। বাইক চলতেই মৌ বৃষ্টিতে ঠিকই ভিজতে লাগল‚ তবে তার মনটা বড্ড ভারী হয়ে রইল। সে তো এভাবে ভিজতে চায়নি; সে চেয়েছিল কোনো এক খোলা আকাশের নিচে পাখির মতো ডানা মেলে‚ চারদিকে ঘুরে ঘুরে মনের আনন্দে ভিজতে।
চৌধুরী ভিলা থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে একটা বিশাল খালি মাঠ ছিল। বাচ্চাদের খেলার এই সুন্দর জায়গাটা এখন বৃষ্টির কারণে একদম ফাঁকা‚ চারপাশটা ভীষণ মনোরম দেখাচ্ছে। উজান হঠাৎ বাইকটা সেখানে এনে থামাল এবং মৌ’কে নামিয়ে দিল। মৌ তখনও অভিমান করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক তখনই উজানে’র ভারী কণ্ঠস্বর তার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে উঠল‚ “মিসেস চৌধুরী এখন আপনার যতটুকু ইচ্ছে‚ যেভাবে ইচ্ছে বৃষ্টিতে ভিজতে পারেন। এই উজান চৌধুরী আর আপনাকে বারণ করবে না।
কথাটা শোনামাত্রই মৌ’য়ের চোখের কোণে এক অদ্ভুত আনন্দের ঝিলিক দেখা গেল! সে খুশিতে আত্মহারা হয়ে সঙ্গে সঙ্গে উজান’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে না থেকে দুই হাত মেলে চারদিকে ঘুরে ঘুরে বৃষ্টি উপভোগ করতে লাগল। তাকে ওভাবে আনন্দ করতে দেখে আশেপাশের দু-তিনটে বাচ্চাও এসে মৌ’য়ের সঙ্গী হলো। আর এদিকে উজান নিজের বাইকটার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে তার প্রিয়তমার এই নিষ্পাপ পাগলামি দেখতে ব্যস্ত রইল। খানিকক্ষণ পর উজান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মৌ’য়ের উদ্দেশ্যে ডেকে উঠল‚ “পিচ্চি এবার বাসায় চলো‚ আর নয়। বেশি ভিজলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
মৌ এক পলক উজানে’র দিকে তাকাল। তার নিজের আরও ভিজতে ইচ্ছে করলেও সে আর জেদ করল না; বরং লক্ষ্মী মেয়ের মতো উজানে’র কথায় রাজি হয়ে বাইকে উঠে বাসায় চলে এলো। বাসায় ঢুকেই মৌ চটজলদি দৌড়ে নিজের ভেজা জামাকাপড় নিয়েই সোজা কিচেন রুমে ঢুকল; কিন্তু সেখানে মেহের’কে না দেখে মুহূর্তেই তার মুখটা আবার কালো হয়ে গেল। তাকে ওভাবে শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শাশুড়ি মৌসুমি চৌধুরী আদুরে স্বরে বললেন‚ “এসেছিস মা?
মৌ কাঁদো কাঁদো গলায় উওর দিল। “শাশুড়ি আম্মা মেহের কি এখনও আসেনি? তোমার ছেলে যে বলল আমি বাসায় আসার আগেই নাকি মেহের এখানে চলে আসবে?
মৌসুমি চৌধুরী মুচকি হেসে বললেন‚ “একবার ছাদে গিয়ে দেখ‚ মেয়েটা কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছে।
মৌসুমি চৌধুরীর কথা শুনে মৌ‘য়ের মনটা খুশিতে নেচে উঠল। সে আবারও উল্টো ঘুরে দৌড় লাগাতে লাগাতে বলল‚ “আবারও বৃষ্টিতে ভিজব। জানু‚ মৌ কামিং!
সে যখন মাঝপথে‚ ঠিক তখনই পেছন থেকে উজানে’র গম্ভীর ও কড়া কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হলো। “মিসেস চৌধুরী ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমি আপনাকে রুমে দেখতে চাই। নয়তো আজ আপনাকে কঠিন পানিশমেন্ট পেতে হবে‚ জাস্ট মাইন্ড ইট!
কথাটা উজান নিচের দিকে তাকিয়েই বলল। মৌ’য়ের দিকে একবার চোখ তুলে তাকালও না। মৌ কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে উজানে’র দিকে তাকাল‚ তারপর গটগট করে ছাদের দিকে চলে গেল। আর উজান নিজেও নিজের রুমে ঢুকে পড়ল। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর উজান ওয়াশরুম থেকে শাওয়ার শেষ করে‚ কোমরে টাওয়াল পেঁচিয়ে বেরিয়ে এলো। রুমে ঢুকেই সে একদম স্তব্ধ হয়ে গেল। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখল মৌ এখনও রুমে আসেনি! এতক্ষণ ধরে মেয়েটা ভেজা কাপড়ে ছাদেই রয়ে গেছে? এত সময় বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর তো নিশ্চিত আসবে‚ কিন্তু অবুঝ মেয়েটা যেন কিছুতেই তা বুঝতে চাইছে না।
উজান কোনো রকমে একটা ট্রাউজার আর টি-শার্ট গায়ে জড়িয়ে রাগ নিয়ে রুম থেকে বের হতে যাবে‚ ঠিক তখনই মৌ দরজা দিয়ে রুমে এসে তার সামনে হাজির হলো। মৌ’য়ের উপস্থিতি টের পেয়ে উজান মাথা নিচু করেই অত্যন্ত গম্ভীর ও ঠান্ডা স্বরে আওড়াল‚ “টাইম কতটুকু দিয়েছিলাম, মিসেস চৌধুরী?
মৌ আর কোনো কথা না শুনে এক পা এগিয়ে গিয়ে খপ করে উজানে’র টি-শার্ট টেনে ধরল। তারপর নিজের ডাগর ডাগর চোখ দুটো বড় বড় করে রাগী গলায় বলল‚ “তার আগে আপনি আমাকে একটা কথা বলুন। আপনি কোন সাহসে এই মিসেস চৌধুরীর দিকে না তাকিয়ে‚ ওভাবে নিচের দিকে চোখ নামিয়ে কথা বলছেন হ্যাঁ? আপনি কি জানেন আমি কার ওয়াইফি? আপনি আমাকে এভাবে এভয়েড করছেন? আপনি জানেন আমার বর কে?
উজানে’র ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা ফুটে উঠল। মেয়েটার দিন দিন সাহস বড্ড বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে এই অবুঝ মেয়েটাকে কীভাবে বোঝাবে যে‚ এই মুহূর্তে তার দিকে তাকালে উল্টো উজানে’র নিজেরই সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে? সে নিজের ভেতরের প্রবল আকর্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে নিচু গলায় আওরায়‚ “পিচ্চি টি-শার্টটা ছাড়ো।
”ছাড়ব না‚ তার আগে বলুন আমার দিকে তাকাচ্ছেন না কেন? কী ভেবেছেন আপনি‚ আমি কিচ্ছু বুঝতে পারি না?
“এমন কিছুই নয় পিচ্চি‚ জাস্ট রিল্যাক্স! এবার হাতটা ছাড়ো।
মৌ এবার উজানে’র কোনো কথা না শুনে তার পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে খানিকটা উঁচু হলো। উজানে’র মুখের একদম কাছাকাছি গিয়ে চোখ রাঙিয়ে বলে‚ “আগে তাকান আমার দিকে! আমি কি খুব পঁচা দেখতে হয়ে গেছি যে আমার দিকে তাকানোই যাচ্ছে না? তাকান বলছি আমার দিকে।
মৌ’য়ের এমন আকস্মিক অবাধ্যতা আর জেদের সামনে উজান আর নিজের ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না। সে মুহূর্তের মধ্যে এক হাত দিয়ে মৌ’য়ের সরু কোমর শক্ত করে আঁকড়ে ধরে তাকে নিজের শরীরের সাথে একদম মুখোমুখি টেনে নিল। দুজনের উত্তপ্ত ও ঘন নিঃশ্বাস তখন একে অপরকে স্পর্শ করছে। উজান নিজের তীব্র ও ব্যাকুল দৃষ্টি মৌ’য়ের চোখের ওপর নিবদ্ধ করে এক নেশাক্ত গলায় প্রতিধ্বনিত করলো।
“উজান চৌধুরী যদি এই মুহূর্তে আপনার ওপর ঠিকঠাক দৃষ্টি দেয় মিসেস চৌধুরী‚ তাহলে তার সেই দৃষ্টির তীব্রতা সহ্য করতে পারবেন তো? একবার নিজের দিকে ভালো করে তাকিয়েছেন? বৃষ্টির পানিতে ভিজে আপনার পরনের জামাটা শরীরের সাথে এমনভাবে লেপ্টে আছে যে‚ প্রতিটা ভাঁজ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। উজান চৌধুরী কিন্তু এতটাও ধৈর্যশীল নয়। মাঝে মাঝে এই পুরুষটার থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখবেন‚ নয়তো আপনারই বড় বিপদ হয়ে যাবে।
কথাটা শেষ করেই উজান এক ঝটকায় মৌ’য়ের কোমর থেকে নিজের হাত সরিয়ে তাকে ছেড়ে দিল। ছাড়া পেয়ে মৌ লজ্জায় আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না; এক দৌড়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা লক করে দিল। তার এমন ভয়ার্ত ও লজ্জাবনত চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে উজান বিছানার ওপর বসে শব্দ করে হেসে উঠল। মনে মনে ভাবল‚ সামান্য দুটো কথা শুনেই যে মেয়ে ভয়ে এভাবে কুঁকড়ে যায়। ভবিষ্যতে তাকে পুরোপুরি সামলাবে কীভাবে সে।
এর বেশ কিছু সময় পর মৌ শাওয়ার শেষ করে কালো রঙের একটা থ্রি-পিস পরে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। তার ভেতরের লজ্জাটা তখনও কাটেনি‚ তাই সে আর ডানে-বামে কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা উজানে’র সামনে গিয়ে দাঁড়াল। উজান তখন বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে একমনে নিজের ফোন স্ক্রল করছিল। মৌ এবার আর এক মুহূর্তও দেরি না করে‚ একরাশ অধিকার নিয়ে সোজা উজানে’র সেই চওড়া ও উন্মুক্ত বুকের ওপর গিয়ে পরম শান্তিতে আশ্রয় নিল। এতে উজান কিছু বলল না‚ মৌও তার বুকে মুখ গুঁজে স্তব্ধ হয়ে রইল। হঠাৎ মৌ মুখ তুলে উজানে’র কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে।
”প্রফেসর সাহেব‚ তখন যেন কী বলেছিলেন আপনি?
উজান ফোন স্ক্রল করতে করতেই উদাসীন গলায় উত্তর দিল‚ “কখন?
”ওই যে…যখন আমি ভেজা জামা পরে আপনার সামনে এসেছিলাম‚ তখন।
মৌ সাথে সাথে আবার মাথা নিচু করে নিল। উজান বুঝতে পারল মেয়েটার মধ্যে কেমন এক অন্যরকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। মৌ উজানে’র আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু উজান শরীর সরিয়ে দূরে সরে গেল। মৌ এতে বিরক্ত হলো। তাকে তো তার শাশুড়ি আম্মাই বলেছে উজানে’র কাছাকাছি থাকতে; তার ওপর চারপাশে যে পরিমাণ ডাইনিরা তার প্রফেসর সাহেবের দিকে কু-দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে থাকে। তাতে মৌ কোনোভাবেই এই মানুষটিকে হারাতে চায় না। কিন্তু উজান গম্ভীর স্বরে ঝেঁঝে উঠল‚ “কিছু বলিনি। ওদিকে যাও। মেয়েদের এই অহেতুক ঘেঁষাঘেষি আমার একদম পছন্দ নয়।
উজানে’র এমন নিস্পৃহ কথায় মৌ ভীষণ কষ্ট পেল। মানুষটা কি সত্যি তাকে নিজের করে চায় না? নাকি কেবল সম্পর্কের দায়বদ্ধতা থেকে এত যত্ন করে? অভিমানে মৌ বিছানার অন্য পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ল কিন্তু তার দৃষ্টি উজানে’র ওপর থেকে সরছিল না। এই মানুষটা ছাড়া তার পৃথিবীটা বড় অসহায়; বেঁচে থাকাটা কঠিন। উজান মৌ’য়ের নীরবতা দেখে পাশ ফিরে তাকাল। ধীর গলায় জিজ্ঞেস করলো‚ “কী ম্যাডাম‚ এমন করে তাকিয়ে আছেন কেন?
“আমি প্রেগন্যান্ট….
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই মৌ নিজের মুখ নিজে চেপে ধরল। সে কি বলতে কী বলে ফেলল! ভাবতেই নিজের ওপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে তার। কিন্তু ওদিকে উজান কথাটি শোনা মাত্রই বিদ্যুৎ গতিতে বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠল। আতঙ্ক আর বিস্ময়ে চেঁচিয়ে উঠল সে।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২১
“আস্তাগফিরুল্লাহ‚ নাউজুবিল্লাহ! শাশুড়ি মেয়ে বলে কি? বাসরের ব ও করতে পারলাম না আর এই মেয়ে বলে সে প্রেগন্যান্ট। দয়াল‚ এ কেমন খেলা দেখাইলা? পরিশ্রম করার আগেই ফসল উৎপাদন শেষ। উজান কী কপাল নিয়ে জন্মেছিস তুই।
