প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২১
বন্যা সিকদার
দুপুর তখন দুটো। উজান নিজের ক্লাস শেষ করে ক্লান্ত পায়ে নিজের কেবিনের দিকে এগোচ্ছিল। তার চোখে-মুখে সারাদিনের ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। কপাল বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। সারাদিন প্রায় পেরিয়ে গেল অথচ মৌ’কে সে এক পলকের জন্যও দেখতে পায়নি‚ এমনকি ক্লাসের সময়ও না। মেয়েটা এতক্ষণ কোথায় ছিল‚ তা সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না। তার ওপর আজ মেহেরও কলেজে আসেনি। তা নিয়ে তার টেনশন আরও দ্বিগুণ হচ্ছে। মেহের থাকলে অন্তত মৌ’কে নিয়ে এতটা দুশ্চিন্তা করতে হতো না। সে আবারও কলেজের চারদিকে তীক্ষ্ণ নজর বুলাল কিন্তু কোথাও তার পুঁচকে বউটার দেখা মিলল না। অগত্যা এক বুক বিরক্তি ও রাগ নিয়ে সে নিজের কেবিনের দিকে চলল। মনে মনে ভাবল‚ আজ বাসায় গিয়ে মেয়েটাকে ইচ্ছেমতো পানিশমেন্ট দেবে। এত অবুঝ কেন সে? সে কি একটুও বোঝে না যে তাকে এক পলক দেখার জন্য এই উজান চৌধুরী কতটা ব্যাকুল হয়ে থাকে? মনে মনে বউ না-ই বা মানুক‚ তাই বলে এভাবে সারাদিন চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে হবে? তাছাড়া দুদিন পর ফাইনাল পরীক্ষা‚ ঠিকমতো ক্লাস না করলে পরীক্ষায় পাস করবে কীভাবে? সেটাই সে মাথায় ঢুকিয়ে পারছে না।
উজান ধীরপায়ে নিজের কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই এক নিমেষে তার চোখ দুটো জুড়িয়ে গেল। সে দেখলো‚ মৌ তার প্রফেসরের আরামদায়ক চেয়ারটায় মাথা ঠেকিয়ে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে। এতক্ষণে উজানে’র সারাদিনের অশান্ত‚ ছটফটে বুকটা এক অদ্ভুত শীতলতায় ভরে উঠল। সে এক পলক কেবিনের বাইরে চারদিকে তাকিয়ে ভেতর থেকে দরজাটা ভালো করে লক করে দিল। তারপর বিদ্যুৎ গতিতে নিজের প্রিয়তমার দিকে এগিয়ে গেল। হুট করে একটা পুরুষালি হাতের চেনা স্পর্শ পেতেই মৌ ধড়ফড় করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। সামনে উজান’কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার ভয়ার্ত বুকে যেন এতক্ষণে স্বস্তি ফিরে এলো। তার এই ভীতু ফেস দেখে উজান শব্দ করে হেসে উঠল। তারপর সে নিজে চেয়ারে বসে এক টানে মৌ’কে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে নিল এবং কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে আওড়াল‚
“কী ম্যাডাম ভয় পেয়েছেন বুঝি?
মৌ তখনও বিস্ময় ভরা চোখে উজানে’র দিকে তাকিয়ে আছে। আচমকা ঘুম ভাঙায় নিজেকে স্বাভাবিক করতে তার কিছুটা বেগ পেতে হলো। খানিকটা স্বাভাবিক হতেই সে উজানে’র দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখে বলল‚ “খাচ্চর লোক একটা! এভাবে কেউ ভয় দেখায়? আর একটুর জন্য আমার আত্মাটা খাঁচা ছাড়া হয়ে বেরিয়ে যায়নি। আমি ভাবছি আমাকে কে না কে টাচ করল!
উজান মৌ’কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে এক দৃঢ় গলায় উত্তর দিল। “শোনো মিসেস চৌধুরী‚ উজান চৌধুরীর ‘পারসোনাল প্রপার্টি’কে টাচ করার দুঃসাহস দেখাবে এমন কোনো পুরুষ আজ পর্যন্ত এই পৃথিবীতে জন্মায়নি। আর যে এই দুঃসাহস দেখানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করবে‚ তাকে ডিরেক্ট এই পৃথিবীর বুক ছেড়ে চিরকালের জন্য বিদায় নিতে হবে জাস্ট মাইন্ড ইট! বাই দ্য ওয়ে‚ সারাদিন কোথায় ছিলে হ্যাঁ? কত খুঁজলাম তোমাকে‚ কোথাও তো পেলাম না? আর আমার ক্লাসেও আসনি কাহিনি কী? দাঁড়াও‚ আজ বাসায় ফিরি তারপর তোমাকে কঠিন পানিশমেন্ট দেব।
মৌ এবার কোনো কথা না বলে হুট করে দু-হাতে উজানে’র গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। উজান কিছুটা চমকে তার দিকে তাকাল। সে খুব স্পষ্ট বুঝতে পারল‚ মৌ কোনো একটা বিষয় নিয়ে ভীষণ আপসেট হয়ে আছে। নয়তো এমন করে মুড অফ করে বুকে জড়িয়ে ধরার মেয়ে অন্তত সে নয়। উজান নরম সুরে ডাকল।
“পিচ্চি!
কিন্তু মৌ’য়ের মুখ থেকে কোনো রেসপন্স বা সাড়া এলো না। পরপর বেশ কয়েকবার ডাকার পরেও যখন ফলাফল শূন্য হলো‚ তখন উজান মনে মনে কিছুটা ভয় পেয়ে গেল। সে আলতো করে মৌ’য়ের মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেখতে পেল মেয়েটার চোখ বেঁয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছে। মৌ’য়ের চোখের কোণে জল দেখে উজানে’র ভেতরের মনটা এক লহমায় হাহাকারে ভরে উঠল। সে উদগ্রীব কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
“কী হয়েছে আমার পিচ্চিটার? আমার কোনো কথায় কি খুব কষ্ট পেয়েছো? সরি পিচ্চি আই অ্যাম রিয়েলি রিয়েলি সরি! তবুও এভাবে কেঁদো না প্লিজ…তোমার কান্না আমি সহ্য করতে পারি না। কেন বুঝো না?
মৌ উজানে’র বুকে মুখ লুকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল‚ “আপনার কথায় আমি একটুও কষ্ট পাইনি।
“তাহলে কি শরীর খারাপ লাগছে? মাথা ব্যথা করছে তোমার?
উজান কপালে হাত দিয়ে দেখার চেষ্টা করল। কিন্তু তেমন কিছু মনে হলো না। অতঃপর মৌ নিজেই বলে‚ ”উঁহু তাও না।
“তাহলে আমার চাঁদের মতো বউটার মুখে আজ এমন অমাবস্যার অন্ধকার দেখা যাচ্ছে কেন শুনি?
মৌ এবার চোখ তুলে করুণ দৃষ্টিতে তাকালো। “মেহের কেন ইদানীং আর কলেজে আসে না বলুন তো? আমার ওকে ছাড়া একদম ভালো লাগে না। ওকে ছাড়া আমি জীবনের একটা মুহূর্তও কখনো একা থাকিনি অথচ বিয়ের পর থেকে ওর সাথে আমার আজ কতদিন ধরে দেখাই হয় না. আপনি…আপনি মেহের’কে আপনাদের বাসায় নিয়ে আসুন না প্লিজ! ওকে আপনাদের খাবার দিতে হবে না‚ ও আমার ভাগের খাবার থেকেই আধাআধি করে খাবে। তবুও ওকে আপনাদের বাড়িতে নিয়ে আসুন না। ওর পড়াশোনার খরচও ও নিজেই চালাতে পারে‚ কারো দয়ার প্রয়োজন নেই ওর। আর কিচ্ছু চাই না আমার আপনার কাছে।
মৌ আর মেহেরের’ মধ্যকার আত্মিক বন্ডিং উজান খুব ভালো করেই জানে। মেয়ে দুটো ছোটবেলা থেকে একে অপরকে ছাড়া এক রাতও অন্য কোথাও কাটায়নি; অথচ বিয়ের পর থেকে তাদের মাঝখানের দূরত্বটা আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। উজান আসলে মেহের’কে আগেই বলেছিল তাদের চৌধুরী ভিলায় এসে থাকতে কিন্তু মেহেরে’র আত্মসম্মানবোধ বড্ড বেশি হওয়ায় সে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে রাজি হয়নি। উজান অত্যন্ত গভীর মায়ার সাথে মৌ’য়ের চোখের অশ্রুটুকু নিজের আঙুল দিয়ে মুছে দিল। তারপর তাকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে নিল। সে হেসে আওরায়‚
“ধুর পাগলি এই সামান্য কারণে কেউ এভাবে কান্না করে? আর মেহের তো আমার শালিকা‚ সে আমাদের সাথে থাকবে তাতে এখানে টাকা-পয়সা আর খরচের কথা আসছে কেন হ্যাঁ? আমার তো নিজের কোনো বোন নেই‚ মেহের তো আমার নিজের বোনের মতোই। তোমার মেহের’কে চাই তো?
মৌ মাথা নেড়ে সায় দিল‚ “হুম।
“ওকে ডান তুমি আজ বাসায় পৌঁছানোর আগেই দেখবে মেহের তোমার বাসায় তোমার সামনে হাজির হয়ে গেছে।
মৌ একটু ইতস্তত করে বলে‚ “আমার তো বাড়ি নেই। তবে মেহের কোথায় যাবে? ওকে আপনি আপনাদের বাড়িতে আসতে বলুন।
মৌ’য়ের মুখে ‘আমার বাড়ি নেই’ শব্দটা শোনা মাত্রই উজান নিজের পকেট থেকে এক চিলতে মুচকি হাসি সহকারে একটা চকচকে চাবির গুচ্ছ বের করে মৌ’য়ের ছোট্ট হাতের মুঠোয় গুঁজে দিল। তারপর মৃদু স্বরে আওড়াল‚
“কে বলল আপনার নিজের কোনো বাড়ি নেই‚ মিসেস চৌধুরী? আজ থেকে আপনার নিজেরও একটা বিশাল সাম্রাজ্য আছে। উজান চৌধুরী তার আলিশান বাংলো বাড়িটা আজ প্রীতি উপহার হিসেবে তার এই পিচ্চি ওয়াইফিকে গিফট করল!
মৌ’য়ের চোখ তো এবার কপালে ওঠার উপক্রম! মানুষটা এমন কেন? সামান্য একটা কথার কথা শুনেই কত কী ভেবে বসে থাকে! তার থেকেও বড় কথা সে তো জাস্ট কথার কথা বলেছে তাই বলে তাকে আস্ত একটা বাংলো বাড়ি গিফট করে দিতে হবে? কেমন পুরুষ মানুষ এই উজান চৌধুরী। মৌ নিজেও মাঝে মাঝে উজান’কে ঠিকঠাক বুঝতে পারে না যে এই লোকটা আসলে কোন ধাতুতে তৈরি। মৌ’কে ওভাবে নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে উজান মুচকি হেসে মৌ’য়ের মুখে আলতো করে একটা ফুঁ দিল। তারপর খানিকটা ঝুঁকে তার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে আওড়াল‚
“শুনুন মিসেস চৌধুরী। আপনি যেটাকে ‘আপনাদের বাড়ি’ বলছেন‚ সেটা মোটেও শুধু আমাদের বাড়ি নয়। আপনি যেহেতু আমার কিউট সুইট ওয়াইফি‚ সেহেতু চৌধুরী ভিলাটাও আপনার নিজেরই বাড়ি। আপনার নিজের বাড়িতে আপনার যখন যা ইচ্ছে‚ যাকে ইচ্ছে এনে রাখতে পারেন; এতে কেউ আপনাকে কোনো প্রশ্ন করার সাহস পাবে না। সমাজ নয়‚ উজান চৌধুরী নিজের ওয়াইফির জন্য রুলস নিজে তৈরি করে।
উজানে’র কথা শুনে মৌ এবার খিলখিল করে হেসে উঠল। মানুষটা তাকে যে কেন এত ভালো বোঝে‚ সে নিজেও তা ভেবে পায় না। তবে হঠাৎই সে আবার নিজের মুড অফ করে মুখটা গোমড়া করে নিল। এবার আর উজানে’র বুঝতে বাকি রইল না যে কেন তার পিচ্চি বউটার মন খারাপ হয়েছে। এখন দুপুর অনেকটা গড়িয়ে গেছে‚ সেই হিসেবে তার পেটে এতক্ষণে নিশ্চিতভাবেই খিদে চনমন করে উঠেছে। উজান মৌ’কে কোলে তুলে নিয়ে সামনের টেবিলের ওপর বসাল। তারপর নিজের টিফিন ক্যারিয়ার থেকে একটা প্লেটে খাবার বেড়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে মৌ’কে মুখে তুলে খাইয়ে দিতে লাগল। মৌ কোনো টুঁ শব্দ না করে নিশ্চুপভাবে খেয়ে নিল। প্রচণ্ড খিদে পেয়েছিল তার‚ তার ওপর উজান এভাবে পরম মায়ায় খাইয়ে দেওয়ায় সে বেশ তৃপ্তি ভরেই খেল। খাওয়া শেষ হলে উজান প্লেটটি রেখে আবারও মৌ’য়ের মুখোমুখি হয়ে বসল। জিজ্ঞেস করল‚ “এখন কি বাকি ক্লাসগুলো করবে নাকি একেবারে বাসায় চলে যাবে?
মৌ ঘাড় উঁচিয়ে বলল‚ “সামনে তো পরীক্ষা, তাহলে ক্লাসগুলো করেই যাই কেমন?
“হ্যাঁ ভালো করে করো। পরীক্ষায় রেজাল্ট যদি কোনো কারণে খারাপ আসে‚ তখন কিন্তু একটা মাইরও মাটিতে পড়বে না। একদম পিঠের ওপর পড়বে‚ দেখে নিয়ো!
উজান হালকা ধমকের সুরে ভয় দেখাল। ”হুহ্! দেখা যাবে!
মৌ একগাল হেসে জবাব দিল। এই বলেই টেবিল থেকে নেমে গটগট করে কেবিন থেকে চলে গেল মৌ। উজান তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। মৌ গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এমন সময় আচমকা ললিতা কোথা থেকে এসে শক্ত করে তার হাত টেনে ধরল এবং টেনে-হিঁচড়ে কলেজের দালান থেকে কিছুটা দূরত্বে নিয়ে গেল। হুট করে এমনটা হওয়ায় মৌ খানিকটা ঘাবড়ে গিয়েছিল; কিন্তু পরক্ষণেই ললিতা’কে নিজের সামনে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার মেজাজটা এক্কেবারে চটে গেল। সে কর্কশ কণ্ঠে গর্জে উঠে বলল‚ ”এই ছেমড়ি তুই কোন সাহসে আমার হাত ধরে টেনে এখানে নিয়ে এলি হ্যাঁ?
মৌ’য়ের এইটুকু কথায় ললিতা’র নিজের মেজাজও চড়ে গেল। সে চোখ রাঙিয়ে রাগান্বিত গলায় বলে‚ “তার আগে তুই বল‚ তুই উজান স্যারের কেবিনে এতক্ষণ ধরে কী করছিলি? তাও আবার ভেতর থেকে দরজায় লক করে?
তার কথায় মৌ খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। এমন আচমকা প্রশ্নে সে কিছুটা চমকে উঠলেও নিজেকে দ্রুত সামলে নিল। সে আসার সময় চারপাশে ভালো করে দেখেই কেবিনে ঢুকেছিল‚ তবুও এই ডাইনির চোখে কীভাবে পড়ল? তবে মৌ এবার আর ভয় পেল না, বরং উল্টো রাগী দৃষ্টিতে ললিতার দিকে তাকালো। ”আমি স্যারের রুমে যা ইচ্ছে করি তাতে তোর কী?
“আমার কী মানে? তুই সামান্য একজন স্টুডেন্ট হয়ে স্যারের সাথে দরজার ওপাশে লক করে ভেতরে এতক্ষণ…
ললিতা’র মুখের বাকি নোংরা কথা শেষ হওয়ার সুযোগ পেল না; তার আগেই মৌ নিজের ডান হাতটা ঘুরিয়ে ‘ঠাস ঠাস’ করে ললিতা’র গালে পরপর দুটো জোরালো থাপ্পড় বসিয়ে দিল। ”জাস্ট মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ ললিতা। নিজের লিমিট ক্রস করিস না একদম!
মৌ দাঁত কিড়মিড় করে বলল। ললিতা নিজের জ্বলতে থাকা গালে হাত দিয়ে চরম রাগী ও অপমানিত গলায় বলল‚ “তুই আমাকে থাপ্পড় দিলি? আর আমি মিথ্যাটা কী বলেছি হ্যাঁ? স্যারের তো তুই কেউ হোস না তাহলে এতক্ষণ কেবিনে একা কেন ছিলি? নিজের নোংরা শরীর দেখিয়ে পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করতে চাস তাই তো?
ললিতা’র এমন জঘন্য কথা শুনে মৌ’য়ের ভেতরের বাঘিনী রূপ যেন এবার জেগে উঠল। সে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে আবারও সজোরে ললিতার অন্য গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল। ”তোকে আমি আগেই বলেছি নিজের লিমিটে থাকতে! আর তুই নিজে নোংরা বলে আমাকেও নিজের মতো নোংরা ভাবছিস? আমার স্যারের সাথে কিছু পারসোনাল দরকারি কথা ছিল তাই গিয়েছিলাম। এই তাসফিয়া মৌ সামান্য পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট পাওয়ার জন্য তোর মতো এমন নিচু ও সস্তা কাজ কোনোদিন করে না বুঝলি? আগে নিজের নোংরা চরিত্র ঠিক কর‚ তারপর অন্যকে জ্ঞান দিতে আসবি জাস্ট মাইন্ড ইট!
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২০
কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে ছুড়ে দিয়ে মৌ বড় বড় পা ফেলে সেখান থেকে চলে গেল। ললিতা গালে হাত দিয়ে চরম ক্ষোভ আর প্রতিহিংসা নিয়ে মৌ’য়ের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। নিজের দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড় করে। “তোকে আমি দেখে নেব মৌ। স্যারের সাথে তোর কিসের এত মাখামাখি আর কাছাকাছি আসা সেটা আমি সবার সামনে এনেই ছাড়ব। এটাই এই ললিতার প্রমিজ।
