Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪১

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪১

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪১
বন্যা সিকদার

“ঘৃণা লাগেনি এটাও তো তুমি মুখে বললে না‚ ফুলকন্যা। তবে তুমি নিজে থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হলে আমাদের মাঝে জোর করে কিচ্ছু হবে না। এই ইফাত চৌধুরী অধৈর্য হতে পারে কিন্তু তার শখের নারীকে হার্ট করে‚ তাকে কষ্ট দিয়ে সে কিচ্ছু করবে না…প্রমিজ।
​ইফাতে’র এই নিঃশর্ত ভালোবাসার কথা শুনে মেহেরে’র চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা সুখের জল গড়িয়ে পড়ল। ​ইফাতের এই নিঃশর্ত ও পবিত্র ভালোবাসা মেহেরে’র ভেতরের সমস্ত ভয় আর জড়তাকে এক নিমেষে গলিয়ে দিল। সে আর নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারল না। মেহের নিজে থেকেই উল্টো ঘুরে ইফাত’কে দু-হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল‚ পরম আশ্রয়ে লেপ্টে রইল তার চওড়া বুকের মাঝে। এই মানুষটার সান্নিধ্যে থাকলে মেহেরে’র ভীষণ ভালো লাগে। তার বুকের ওমে নতুন করে বাঁচার আশা খুঁজে পাওয়া যায়‚ এক অদ্ভুত ভালো লাগা আর অকারণে এক বুক শান্তি এসে ভর করে পুরো সত্ত্বায়। ​মেহের যখন ইফাতে’র বুকে মুখ লুকিয়ে শান্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছিল‚ ঠিক তখনই তার কানের কাছে সেই চেনা পুরুষালি কণ্ঠস্বর ফিসফিসিয়ে ভেসে এলো।

​“ফুলকন্যা…!
​”হুম? —মেহের চোখ বন্ধ রেখেই মৃদু উত্তর দিল।
​“এখন যদি ভুলভাল কিছু করে ফেলি…তুমি কি হার্ট হবে?
ইফাতে’র কণ্ঠে আকুলতা আর গভীর মাদকতা। ​মেহের এবার সম্পূর্ণ নিশ্চুপ রইল। কোনো উত্তর না দিয়ে সে ওভাবেই ইফাতে’র বুকে মিশে রইল। বউ’য়ের এমন নীরবতা দেখে ইফাত দুষ্টুমি করে মেহেরে’র কানের লতিতে হালকা করে নিজের দাঁত ছোঁয়াল। আচমকা সেই কামড়ে খানিকটা কুঁকড়ে উঠল মেহের। ইফাত সুযোগ বুঝে মেহেরে’র সাথে নিজের ঘনিষ্ঠতা আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মনকাড়া দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে ফিসফিস করে আওড়াল‚
​“নীরবতা যে সম্মতির লক্ষণ‚ এটা কি তুমি জানো ফুলকন্যা? তার মানে কি আমার ফুলকন্যা আজ আমাতে পরিপূর্ণ হতে সম্পূর্ণ রাজি?
​মেহের এবার লজ্জার চরম সীমায় পৌঁছে গেল। সে আমতা আমতা করে আমূল লাল হয়ে বলল‚ “কিন্তু এখন তো দিন। দিনের বেলায় কি কেউ….

​কথাটা মুখ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই মেহের নিজের দু-হাত দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরল। ইশ। লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে তার‚ কী বলতে কী বলে ফেলল সে। ​মেহেরে’র এমন নিষ্পাপ আর অবুঝ কথা শুনে ইফাতে’র ঠোঁটের কোণে এক পরম তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। মেহের হাতের ফাঁক দিয়ে ইফাতে’র সেই ভুবনজয়ী হাসির দিকে তাকাতেই লজ্জায় দ্রুত নিজের মাথাটা আবার নিচু করে নিল। কিন্তু ইফাত আজ তাকে সহজে ছাড়বার পাত্র নয়‚ সে একটু বাঁকা হেসে মেহেরের চিবুক ধরে মুখটা ওপরে তুলল।
​“দিন হয়েছে তো কী হয়েছে? দিনের বেলায় রোমাঞ্চ করা কি বারণ নাকি‚ হুম? তাছাড়া দুনিয়ার সব মানুষ তো রাতেই প্রথম রোমাঞ্চ করে‚ আমি না হয় দিনেই করলাম। ইফাত চৌধুরী বলে কথা‘ তার ভালোবাসা তো একটু ইউনিক হবেই। আর একদম টেনশন নিও না‚ এই রুমে কেউ আমাদের ডিস্টার্ব করতে আসবে না। সো‚ জাস্ট রিল্যাক্স।
​মেহেরে’র আর কিছু বলার মতো সাহস বা ভাষা অবশিষ্ট রইল না। ততক্ষণে ইফাত তাকে নিজের শক্তিশালী বাহুবন্ধনে পুরোপুরি আবদ্ধ করে নিয়েছে। মেহেরে’র থুতনিতে নিজের ওষ্ঠাধর ছুঁইয়ে‚ এক গভীর চিবুক এঁকে দিয়ে অত্যন্ত মধুর সুরে প্রতিধ্বনিত করে।
“ভালোবাসি‚ আমার শখের নারী….!!
​ইফাতে’র সেই একটি মাত্র শব্দের জাদুতে মেহেরে’র মনের ভেতরের পাঁচ বছরের পুরনো সমস্ত কালবৈশাখী ঝড় এক নিমেষে শান্ত হয়ে গেল। আর কোনো দ্বিধা নয়‚ আর কোনো দূরত্ব নয়। অতীতের সমস্ত ক্ষত ও গ্লানি পেছনে ফেলে‚ তারা দুজনে একে অপরের মাঝে বিলীন হয়ে ডুব দিল ভালোবাসার এক অনন্ত‚ অতল সাগরে। যেখানে কেবলই রয়ে গেল তাদের দুজনের নিবিড় নিঃশ্বাসের শব্দ আর পবিত্র আলো।

​উজান বেশ হেলেদুলে‚ হাত-পা নাড়িয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করল। ভেতরে এসে দেখল মৌ বিছানায় আরাম করে বসে কার্টুন দেখায় মগ্ন আর গালে হাত দিয়ে আয়েশ করে চকলেট চিবোচ্ছে। এই চকলেট গুলো অবশ্য কিছু সময় আগেই উজান নিজে এনে দিয়েছে। প্রথমে সে মোটেও আনতে চায়নি‚ মেয়েটাকে কতবার করে বোঝাল যে এত চকোলেট খাওয়া দাঁতের জন্য ভালো নয় কিন্তু মৌ কথা শুনলে তো। শেষমেশ তার জেদের কাছে নত স্বীকার করে উজান’কে চকলেট আনতেই হয়েছে। ​তবে চকলেট আনা নিয়ে উজানে’র কোনো মাথাব্যথা নেই। আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায়।
একটু আগেই সে যখন ইফাতে’র রুমের সামনে দিয়ে আসছিল‚ তখন দরজার ওপার থেকে ভেসে আসা মিষ্টি আবহই তার মেজাজটা বিগড়ে দিয়েছে। ইফাত ব্যাটা দিনের বেলাতেই বাসর জমিয়ে ফেলেছে‚ আর সে এতদিন ধরে বিয়ে করেও এখনো শুষ্ক মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ​সেটা দেখে মুখ ভার করে উজান গজগজ করতে করতে মৌ’য়ের পাশে গিয়ে বসল। মৌ এক পলক বরের থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে চকলেটে কামড় দিল। তারপর আবার নিজের কার্টুনে মনোযোগ দিল। উজান নিজের ভেতরের ব্যাকুলতা সামলাতে না পেরে একটু মৌ’য়ের গা ঘেঁষে এগিয়ে গেল। কিন্তু মৌ তাকে পাত্তাই দিল না‚ সে উল্টো একটুখানি পিছিয়ে গেল।

​মৌ’য়ের এই এভয়ড দেখে উজান প্রচণ্ড বিরক্ত হলো। রাগে ও ক্ষোভে তার নাকের ডগা মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল। সে এক মূহুর্তের জন্য রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকাল মৌ’য়ের দিকে কিন্তু মৌ’য়ের তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ হলো না। সে আগের মতোই রিল্যাক্স মুডে বসে চকলেট খাচ্ছে। ​উজান আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না। সে নিজের এক হাত দিয়ে এক প্রকার হেঁচকা টানে মৌ’কে নিজের একদম কাছে নিয়ে এসে বসাল। আচমকা এই টানাটানিতে মৌ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল।
​”এভাবে টানাটানি করছেন কেন? আমাকে মেরে ফেলার ধান্দায় আছেন নাকি?
​“তুমিই বা বারবার আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ কেন‚ হুম? বর হই আমি তোমার। কোথায় আমার কাছে কাছে থাকবে‚ আমিতে মিশে থাকবে তা না‚ ম্যাডাম কার্টুন নিয়ে বিজি। চুপচাপ এবার আমার দিকে ফোকাস দাও আর কষে দুটো পাপ্পি দাও তো। আমার কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।
মৌ মূহুর্তেই উজানে’র দিকে নিজের দুই ভ্রু কুঁচকে তাকাল। এই গম্ভীর প্রফেসরের হঠাৎ কী হলো‚ সে সেটাই বুঝতে পারছে না। উজান’কে ওভাবে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে সে মনে মনে বেশ মজাই পাচ্ছিল। উজান আর কোনো সুযোগ না দিয়ে নিজেই মৌ’য়ের দিকে খানিকটা ঝুঁকে এলো কিন্তু ততক্ষণে মৌ চিলতের মতো সরে আবার দূরত্ব তৈরি করে ফেলল। উজান এবার এক বুক অসহায়ত্ব নিয়ে তাকাল।
​“পিচ্চি সরে গেলে কেন? তুমি নিজে তো ভালোবাসা দেবেই না‚ অন্তত আমাকে তো একটু মিষ্টি মুখ করতে দেবে নাকি?

​মৌ এবার মুখ বাঁকিয়ে জবাব দিল। “সারাক্ষণ তো আমাকে অশ্লীল মেয়ে‚ বেয়াদব মেয়ে বলে বকা দিতেন। এখন নিজের ওপর একটুও লজ্জা হচ্ছে না বুঝি? নষ্ট পুরুষ একটা‚ এসেছে এখন ঢং করতে হু।
​“পিচ্চি এদিকে এসো না প্লিজ। বেশি কিছু করব না‚ জাস্ট দুটো চুমু খাবো ব্যস।
উজান একপ্রকার মিনতি করল। ​কিন্তু কে শোনে কার কথা। মৌ ওল্টো মুখ ঝামটা দিয়ে আরও দূরে সরে গেল। উজান অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিন্তু কোনো কাজ হলো না। এই ত্যাঁড়া মেয়েটাকে কোনো ভাবেই আজ বাগে আনা যাচ্ছে না। অতঃপর উজান আকুতির স্বরে আওড়াল‚
​“পিচ্চি বউ কাছে আসো জাস্ট দুটো চুমু খাবো‚ প্রমিজ।
​মৌ এবার বিছানার উপর দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে তেজ দেখিয়ে বলল‚ “আমি আপনার বা*লের বউ। যখন আমি আপনার পিছু ঘুরেছি তখন পাত্তা দেননি। এখন আমার কাছে আইসেন লাথি দিয়ে উগাণ্ডায় পাঠাবো।

​মৌ’য়ের মুখে এমন মারাত্মক কথা শুনে উজান বিষম খেয়ে খকখক করে কেশে উঠল। মেয়েটার মাথার তার ঠিক আছে কিনা‚ সে মনে মনে সেটাই ভাবছে। সে দ্রুত নিজেকে একটু স্বাভাবিক করে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল‚ ​“ছিঃ এসব কী ধরনের অশ্লীল ভাষা‚ পিচ্চি? দেখি এদিকে এসো তো। এখন কিন্তু আমার এই ফাজলামো একদম পছন্দ হচ্ছে না।
​”আমি মোটেও ফাজলামো করছি না‚ মশাই। আপনার এই দু-দিনের ভালোবাসা দেখে আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে এক সময় আপনি আমার সাথে কী কী করেছিলেন। অসভ্য পুরুষ একটা‚ তখন আমাকে কী বকাই না দিতেন। দূরে যান এবার। বউ ছাড়াও তো আপনি দিব্যি থাকতে পারেন। তাহলে এখন বউ ছাড়া থাকুন‚ আর একদম আমার ধারে কাছে আসবেন না।
​মৌ’য়ের এই কড়া জবাব শুনে উজান বুঝল। চমচম সে পেলেও‚ সহজে যে মুখে তুলতে পারবে না‚ তা একদম নিশ্চিত। পিচ্চি বউ তার পুরোনো অপমানের শোধ বেশ ভালো ভাবেই তুলছে।
​তবুও উজান হাল ছাড়ল না। সে বিছানার ওপর এক প্রকার ধপাস করে বসে অত্যন্ত অসহায় দৃষ্টিতে মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে ডেকে উঠল।

​“পুঁচকে বিড়ালের বাচ্চার মতো বউ।
​মৌ কার্টুন থেকে চোখ সরিয়ে সাথে সাথে ফুঁসে উঠল‘ “মুখ ভেঙে দেবো আপনার‚ যদি আরেকবার আমাকে বিড়ালের বাচ্চা বলেন।
​“সেটাই দাও। মেরে মুখ ভেঙে দাও সত্যি সত্যি‚ তবুও ওমন শুকনো মুখে আমায় রেখে দিও না। জীবনটা কেমন জানি একদম ‘দেবদাস’-এর মতো হয়ে গেল। শালার ইফাত কাল মাত্র বিয়ে করেও আজ ঘরের ভেতর বউকে ‘স্বরবর্ণ’ শেখাচ্ছে আর আমার বিয়ের এতগুলো মাস কেটে গেল অথচ আমি আজ পর্যন্ত বউকে স্বরবর্ণের ‘স’-টাও শেখাতে পারলাম না। ছিঃ ছিঃ উজান। এই জন্য তোকে সবাই ‘থার্ড জেন্ডার’ বলে। তুই কবে পুরুষ হবি বল তো? যাহ্ শালা। আমি তো পুরুষই। এই পিচ্চি বউয়ের চক্করে পড়ে আমি নিজের পুরুষত্ব নিয়েই কিসব আবুল-তাবুল বকছি।

​উজান নিজের চুল নিজেই খামচে ধরল। আর সহ্য হচ্ছে না তার এসব। কেন যে সেই বিয়ের সময় সে নিজে ‘বউ মানি না‚ বউ মানি না’ বলে এত ভাব নিয়েছিল। এখন তার জন্য নিজেরই আড়ং ধুয়ে আফসোস হচ্ছে। অবশ্য এতে এই ত্যাঁদড় মেয়েটারই বা কী দোষ‘ সব তো সে নিজেই গড়বড় করেছে। তবে উজান চৌধুরীও এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। সে মুহূর্তের মাঝেই মনে মনে একটা মোক্ষম বুদ্ধি ফেঁদে মুখে এক বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল। অতঃপর নিভু নিভু দৃষ্টিতে মৌ‚য়ের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল‚ ​“পিচ্চি শ্বশুরবাড়ি যাবে? আই মিন‚ আমার শ্বশুরবাড়ি আর তোমার নিজের বাপের বাড়ি?
​কথাটা শোনা মাত্রই মৌ চমকে তাকাল। অবিকল কার্টুনের মতোই তার চোখ দুটো কপালে ওঠার উপক্রম হলো। এই বিগত কয়েক মাসে সে কম করে হলেও হাজার বার নিজের বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বলেছে। আর প্রতিবার এই গম্ভীর প্রফেসরের একটাই মুখস্থ উত্তর এসেছে “শ্বশুর আব্বা আর শাশুড়ি আম্মাকে এখানেই ডেকে নাও‚ তবুও বাপের বাড়ি যাওয়ার নাম মুখেও আনবে না!
​অথচ সেই একই খিটখিটে লোকটা আজ নিজে থেকে বাপের বাড়ি যাওয়ার অফার দিচ্ছে। উজানে’র এই আকস্মিক রূপবদল মৌ’য়ের ঠিক বোধগম্য হলো না। সে কিছু সময় ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে অবিশ্বাসের সুরে জিজ্ঞেস করল‚

​”আ আ আ আপনি সত্যিই আমায় আব্বুর কাছে নিয়ে যাবেন?
ততক্ষনে ​মৌ হাতের মোবাইলটা বিছানায় রেখে এবার বেশ খানিকটা এগিয়ে এলো উজানে’র দিকে। আর মৌ’কে বাগে পাওয়ার এই সুবর্ণ সুযোগটাই খুঁজছিল উজান। সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে এক ঝটকায় মৌ’কে টেনে নিজের শক্ত বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে নিল। মৌ‘য়ের কপালে লেপ্টে থাকা এলোমেলো চুল গুলো আলতো করে উঁচিয়ে ধরে নিজের আঙুল দিয়ে একটা খোঁপা বেঁধে দিতে দিতে উজান বলল‚
​“নেবো না কেন? অবভিয়াসলি নিয়ে যাবো। কিন্তু…
​”কিন্তু কী প্রফেসর সাহেব?
মৌ এক নিঃশ্বাসে ব্যাকুল হয়ে বলতে লাগল‚ “আবার চকলেট খেতে বারণ করবেন তো? ওকে‚ ডান। আজ থেকে চকলেট‚ আইসক্রিম‚ চিপস সব খাওয়া একদম কমিয়ে দেবো। আপনার সব কথা শুনবো‚ এমনকি আপনার জামাকাপড় কাচা থেকে শুরু করে প্রতিদিন ইস্ত্রিও করে দেবো। তবুও প্লিজ বলুন‚ নিয়ে যাবেন তো আমায়?
​মৌ এক দমে কথা গুলো বলে থামল। সে উজানে’র চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার চোখে এখন বাপের বাড়ি যাওয়ার এক আকাশ সমান প্রত্যাশা ও আকুতি। ঠিক তখনই প্রফেসরের ভারি কণ্ঠস্বর তার কানের কাছে প্রতিধ্বনিত হলো।

​“তুমি উজান চৌধুরীর একমাত্র প্রিয় ওয়াইফি। আর তোমাকে দিয়ে আমি ঘরের কাজ করাবো‚ এটা তুমি ভাবলে কী করে হুম? তুমি অলওয়েজ আমার মাথার মুকুট হয়ে থাকবে‚ বুঝলে?
​”বুঝছি বুঝছি। কিন্তু তখন ‘কিন্তু’ বলে থেমে গেলেন কেন? তাড়াতাড়ি বলুন না প্লিজ‚ আমার আর তর সইছে না।
মৌ ছটফট করে উঠল। ​মৌ’কে এতটা উৎফুল্ল হতে দেখে উজান মনে মনে নিঃশব্দে হাসল। এই সামান্য বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা শুনে মেয়েটা এতটা খুশি হতে পারে‚ তা তার জানা ছিল না। অবশ্য তার কাছে বাপের বাড়ি যাওয়াটা একটা সাধারণ ভ্রমণ মনে হলেও‚ এই চার দেয়ালের মাঝে বেঁচে থাকা মৌ’য়ের কাছে এটাই পৃথিবীর বেস্ট একটা দিন। ​উজান এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করল না। সে মৌ’য়ের মুখের একদম কাছাকাছি নিজের মুখটা ঝুঁকিয়ে এনে চোখ টিপে বলল‚ ​“উজান চৌধুরী শুধু শুধু কোনো কাজ করে না, বউজান। তুমি যদি এখন নিজে থেকে আমাকে ভালোবেসে কিস করতে পারো‚ তবেই কেবল বাপের বাড়ি নিয়ে যাবো। অন্যথায় নয়।

​”কীহহহহহহ? —মৌ’য়ের চিৎকার যেন পুরো রুম কাঁপিয়ে দিল।
​“ইসসস এত জোরে কেউ চিৎকার করে? শরীরে শক্তির ‘শ’-টুকুও নেই কিন্তু গলার জোর মাশাল্লাহ ভালোই আছে। এবার বলো‚ কিস করবে নাকি যাবে না? ​শুকনো কথায় চিঁড়ে ভিজে না বুঝছো জান।
​মৌ এবার একটা নিদারুণ ইনোসেন্ট ফেস করে করুণ চোখে তাকাল। কিন্তু উজান চৌধুরী আজ এসব মায়াবী কান্নায় ভুলবার পাত্র নয়‚ সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল। মৌ মুখটা একদম ছোট করে নিচু স্বরে আওড়াল‚ “কিস না করলে হয় না? অন্য কোনো শর্ত দিন না প্লিজ।
​“উঁহু উজান চৌধুরী এক কথার মানুষ। —উজান নাক নাড়ল।
​”প্লিজ দোলহা জান…একটু দয়া করুন।
মৌ এবার তেল দেওয়ার ভঙ্গিতে আহ্লাদী সুরে ডাকল। তবুও উজান তেমন করেই তাকিয়ে আছে।
​“উঁহু‚ ওসব শুকনো কথায় আজ চিঁড়ে ভিজবে না‚ ম্যাডাম। ফার্স্ট কিস করো আর তারপর সোজা বাপের বাড়ি চলো।

​মৌ মনের ভেতর অনেক ভাবল। অনেক ফন্দি আঁটল কিন্তু কোনো উপায় খুঁজে পেল না। সে এখন মনে মনে চরম আফসোস করছে‚ এর থেকে একটু আগে যখন লোকটা নিজে থেকে দুটো চুমু খেতে চেয়েছিল‚ তখনই রাজি হয়ে যাওয়া অনেক ভালো ছিল। এখন তো নিজের ওপরই তার ভীষণ রাগ হচ্ছে। ​অবশেষে কোনো পথ না পেয়ে‚ বাপের বাড়ি যাওয়ার লোভে সে মুখ গোমড়া করে চরম অসহায়ত্ব নিয়ে উত্তর দিল।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪০

“আচ্ছা কয়টা দিতে হবে?
​বউয়ের মুখ থেকে অবশেষে শিকারোক্তি শুনে উজানে’র ঠোঁটের কোণে এক চরম তৃপ্তির ও বিজয়ের বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে মৌ’য়ের কোমরটা নিজের দিকে আরেকটু টেনে নিয়ে বেশ আয়েশ করে বলল‚ ​“বেশি না বউজান‚ জাস্ট দশটা কিস করলেই তোমাকে তোমার বাপের বাড়ি নিয়ে যাবো প্রমিজ।
মূহুর্তেই মৌ…..

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৪২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here