প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১
বন্যা সিকদার
“৩৪ বছরের প্রফেসর উজান চৌধুরী কিনা বিয়ে করলো ১৭ বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে। পৃথিবীতে কি মেয়ের এতই অভাব পড়েছিল যে শেষে হাঁটুর বয়সী মেয়েকেই বিয়ে করতে হলো?
ভরা বিয়ের আসরে কথাগুলো ভেসে আসতেই উজানে’র চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। কটমট দৃষ্টিতে তাকালো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বড় ভাই আরিয়ান চৌধুরীর দিকে। আরিয়ান ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে দ্রুত সেখান থেকে সরে গেল। কারণ সে খুব ভালো করেই জানে এই মুহূর্তে উজানে’র রাগ ঠিক কতটা ভয়ংকর হতে পারে। উজান একবার নিজের বাবা আরিফুল চৌধুরীর দিকে তাকায়, তো আরেকবার আরিয়ানে’র চলে যাওয়ার দিকে। মাথার ভেতর যেন আগুন জ্বলছে তার। গত সাত-আট বছর ধরে মানুষটা তাকে বিয়ে করানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। কিন্তু উজান বিয়ে শব্দটাই সহ্য করতে পারতো না। এক পর্যায়ে সে দেশ ছেড়ে ইউএসএ চলে যায়।
আর তারপর? সেখানে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলে। বর্তমানে সে আমেরিকার নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রফেসর। নিজের জগৎ‚ নিজের নিয়ম‚ নিজের স্বাধীনতা নিয়েই বেশ ভালো ছিল। গতকাল হঠাৎ শুনলো তার বাবা আরিফুল চৌধুরীর অবস্থা নাকি খুবই গুরুতর। খবরটা শোনার পর আর এক মুহূর্তও দেরি করেনি উজান। দীর্ঘ ছয় বছর পর নিজের জন্মভূমিতে পা রাখে সে। কিন্তু দেশে ফিরতেই বুঝলো এখানে তার জন্য অন্য কিছু অপেক্ষা করছিল। অসুস্থ বাবাকে সামনে এনে আবেগ দেখিয়ে‚ একপ্রকার ব্ল্যাকমেইল করেই আরিফুল চৌধুরী আর আরিয়ান তাকে বিয়ের আসরে বসিয়ে দিয়েছে। উজান চায়নি বিয়ে করতে। কিন্তু বাবার হুইলচেয়ারে বসা অসহায় মুখটা দেখে “না” বলার সাহস হয়নি তার।
কে জানতো সেই অসুস্থতাও ছিল সাজানো নাটক। হঠাৎই কানের পাশে ফুল ভলিউমে বেজে উঠলো।
❝হুলা হুলা…হুলা হুলা তু হ্যায় মেরি ফ্যান্টাসি❞
উজান বিরক্ত হয়ে পেছনে ফিরতেই থমকে গেল। চোখ দুটো প্রায় কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। কারণ যে মানুষটা কিছুক্ষণ আগেও হুইলচেয়ারে আধমরা রোগীর মতো বসে ছিল‚ সেই আরিফুল চৌধুরী এখন নিজের বড় ছেলে আরিয়ানে’র সাথে কোমর দুলিয়ে হুলা হুলা গানে ওড়া ধুরা নাচছে। শুধু নাচই না মাঝে মাঝে হাত তুলে স্টেপও দিচ্ছে। আরিয়ান তো হাসতে হাসতে শেষ। উজান ভাবছে সে কি সত্যিই বাস্তবে আছে নাকি কোনো প্র্যাঙ্ক শোতে এসে পড়েছে। তার কপালের রগ ফুলে উঠলো। এতক্ষণে বুঝতে আর বাকি রইলো না এই পুরো নাটকটাই তাকে বিয়ে করানোর জন্য সাজানো হয়েছিল। উজান ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলো। গভীর একটা শ্বাস নিলো এবং দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে উঠলো,
“মিরজাফরের বংশগুলোর মনে তাহলে এই ছিলো? যে উজান চৌধুরী সবাইকে মুরগি বানিয়ে বেড়ায়‚ আজ তাকেই আস্ত মুরগি বানিয়ে ছাড়লো?
আরিফুল চৌধুরী নাচের তালে তালে হেসে হেসে উজানে’র দিকে এগিয়ে এলেন। চারপাশে বিয়ের আনন্দ, ঢাকঢোলের শব্দ, মানুষের হৈচৈ সব মিলিয়ে পরিবেশটা যেন একেবারে উৎসবের ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে। সেই ভিড়ের মাঝেও আরিফুল চৌধুরীর মুখে এক অদ্ভুত শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। তিনি উজানে’র সামনে এসে দাঁড়িয়ে একগাল হেসে বললেন,
“বাপ আয় তিন বাপ বেডা মিলে ডান্স করি।
উজান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। সে ভ্রু জোগল কুঁচকে তাকায়। “লাইক সিরিয়াসলি? ড্যাড তুমি আদৌ আমার বাপ তো?
এই কথায় আশেপাশের কয়েকজন হালকা হেসে উঠলেও আরিফুল চৌধুরী একদম নির্লিপ্ত। তিনি যেন কথাটাকে একেবারেই সিরিয়াসলি নিলেন না। উল্টো আরও মজা পেয়ে গেলেন। হেসে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন‚
“যদি তুই এক মাসের মধ্যে আমাকে নাতি-নাতনি হওয়ার সুখবর দিতে পারিস তাহলে আমি তোর বাপ। নয়তো চাচা ডাকবি।
উজানে’র চোখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। সে দাঁতে দাঁত চেপে কটাক্ষ স্বরে আওরায়„
“আজ থেকে তোমায় আমি চাচাই ডাকবো তবুও এই বিয়ে মানবো না।
আরিফুল চৌধুরী এবার নাচ থামিয়ে উজানে’র দিকে একটু ঝুঁকে এসে শান্ত গলায় বললেন„
“যার সাথে বিয়ে দিয়েছি সেই তোকে বুঝিয়ে দেবে তুই বিয়ে মানবি নাকি মানবি না।
এই কথা বলেই তিনি আবার গানের তালে তালে নাচতে নাচতে ভিড়ের মাঝে মিশে গেলেন। যেন উজানে’র প্রতিক্রিয়ায় তাঁর কিছুই যায়-আসে না। উজান এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে সরে গিয়ে এক পাশে থাকা একটা চেয়ারে বসে পড়ল। চোখে মুখে বিরক্তিকর ছাপ। মনের ভেতর অস্থির ঝড়। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না নিজের বাবাই তার সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে দাঁড়াতে পারে। বিয়ের এই আয়োজনটা তার কাছে এখন উৎসব না‚ বরং এক ধরনের বন্দিত্ব মনে হচ্ছে। যাকে সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না‚ তাকেই তার জীবনে জোর করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছে করছিল একা একা চলে যেতে কিন্তু সেটাও সম্ভব নয়। তাই গাল ফুলিয়ে সেখানেই বসে রইলো।
প্রায় চার ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর‚ অবশেষে সবাই বউ’কে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। গাড়ির কনভয় ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল আর উজানও নীরব‚ অস্থির মন নিয়ে সেই যাত্রার অংশ হয়ে গেল। একটা নতুন‚ অনিশ্চিত অধ্যায়ের দিকে।
বা’সর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান‚ তার স্ত্রী তুবা‚ উজানে’র ছোট চাচার ছেলে ইফাত‚ যে আবার তার বেষ্ট ফ্রেন্ড আর মেহের‚ সে হচ্ছে উজানের শালিকা যাকে স্পষ্টই জোর করে এখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ শার্ট খুলতে খুলতে এগিয়ে আসছে উজান। তাকে দেখা মাএ সকলের চোখে মুখে বিষ্ময়কর ছাপ। সবাই তার কান্ড দেখে মুখ চেপে হাসতে লাগলো। যে ছেলে বিয়ে মানবে না বলে এখনো পর্যন্ত নতুন বউ’য়ের মুখ দেখেনি। এমনি আসার সময় মুরুব্বিদের বকবক শুনতে শুনতে এসেছে তবুও নতুন বউ’য়ের সাথে আসেনি। আর সেই ছেলে এখন রুমে ঢুকার আগেই গায়ে জরানো শার্ট খুলতেছে।
হঠাৎ উজান এসে থমকে দাঁড়াল তাদের সামনে। চারপাশে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো„
“হোয়াই আর ইউ হিয়ার নাউ?
তার কণ্ঠে বিরক্তি আর অবাক হওয়া দুটোই মিশে ছিল। ঠিক তখনই ইফাত এগিয়ে এসে তার কাঁধে হাত রাখল। মুখে ব্যঙ্গাত্মক হাসি ফুটিয়ে বলল„
“ইসস কি কপাল নিয়ে জন্মেছিস তুই। তুই বিয়ে করবি না জেনেও তোকে সেই আমেরিকা থেকে টেনে এনে বিয়ে করিয়ে দিলো‚ অথচ আমি বিয়ে করতে চাইতেছি ল্যাংটা কাল থেকে তবুও আমার কথা কেউ কানে নিচ্ছে না। তা দোস্ত‚ ভাবি দেখতে কেমন? প্রথম দেখায় নিশ্চয়ই ভালোবেসে ফেলেছিস?
উজান চোখ ছোট করে তাকাল। বিরক্তির সুরে আওরায়‚
“আই হেট লাভ! ভালোবাসা বলে আমার লাইফে কোনো ওয়ার্ড নেই। আর সবাই এখানে দাঁড়িয়ে থাকার মানে কি? সরো ফ্রম দ্য ডোর। আমি রুমে যাবো।
তখনই তুবা মুচকি হেসে একটু এগিয়ে এসে বলল‚
“ভাই মানলাম তোমার লাইফে লাভ বলে কোনো ওয়ার্ড নেই কিন্তু বাসরঘরে ঢোকার আগে শার্ট খুলতেছো কেন হুম?
সাথে সাথে পুরো জায়গাটায় হো হো করে হাসির রোল পড়ে গেল।
আরিয়ান হেসে হেসে বলতে লাগলো।
“কেন আবার? যাতে বেশি টাইম ওয়েস্ট না হয়‚ তাই না ভাই? তবে যাই হোক‚ তুই এখন আমাদের ৭০ হাজার টাকা দে।
উজান ভ্রু উঁচু করে তাকাল।
“হোয়াই?
“ঢং বাদ দে। বাসরঘরে যাওয়ার ‘এন্ট্রি ফি’ হিসেবে ৭০ হাজার টাকা। না দিলে ঢুকতে দিবো না।
উজান অবাক হয়ে গেল।
“সিরিয়াসলি? যে বিয়েই আমি মানি না‚ তার আবার টাকা কিসের? উল্টো তোমরা আমাকে টাকা দাও।
ইফাত সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল‚
“দেখছো ভাই? দেখছো তোমার প্রফেসর ভাই কোন লেভেলের কিপটা। বাসরঘরে যেতে চায়‚ অথচ টাকা দিতে চায় না। ভাবি তুমি তো কিছু বলো?
তারপর সে নাক সিঁটকে বলল‚
“মোটে ৭০ হাজার চেয়েছি, সেটাও ভাগ করলে ১০ হাজার করে পড়বে কিনা সন্দেহ। সামনে ঈদও আছে‚ গার্লফ্রেন্ডদের শপিং করাতে হবে। মোটে সাতটা গার্লফ্রেন্ড আমার।
ইফাতে’র কথা শুনে মেহের চোখ বড় বড় করে তাকাল। সাতটা গার্লফ্রেন্ডের কথা যেন তার মাথার ওপর দিয়ে গেল। সে অবাক দৃষ্টিতে একবার তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিল।
ইফাত আবার তাকে ধমকে দিলো।
“এই মেয়ে কি ভাবতেছো? টাকা চাও তোমার পেয়ার দুলাভাইয়ের কাছে।
মেহের চুপচাপ রইল। সে স্বভাবতই খুব কম কথা বলে‚ বিশেষ করে পুরুষ মানুষের সাথে। তার ভেতরে একধরনের অস্বস্তি কাজ করে। তাই সে আবারও মাথা নিচু করে নিল।
ইফাত আবার চেঁচিয়ে উঠল‚
“এই দোস্ত টাকা দে না।
উজান ধীরে ধীরে প্যান্টের পকেট থেকে ওয়ালেট বের করল। সবাই খুশিতে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল এই বুঝি টাকা বের হলো। কিন্তু পরক্ষণেই সে একটা পাঁচ টাকার কয়েন বের করে ইফাতের হাতে দিল।
“আমার মনটা বিশাল। আমি দান-খয়রাত খুব ভালোবাসি। তোকে পাঁচ টাকা দান করলাম। এটা দিয়ে গিয়ে সামনের দোকান থেকে একটা চকলেট কিনে খা‚ তবুও শরীরের এনার্জি ওয়েস্ট করিস না। আর তোমরা ইমিডিয়েট আমাকে ৭০ হাজার টাকা দাও‚ না হলে আমি বাসরঘরে যাবো না।
ইফাত থমকে গেল।
“কি বললি তুই?
উজান এক পলক ইফাতে’র দিকে তাকিয়ে আবার আরিয়ানে’র দিকে তাকালো।
“ভাই টাকা দাও না হলে আমি ছাদে চলে যাবো।
আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে কাশতে কাশতে প্রায় মেঝেতে বসে পড়ল। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে তার মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো অবস্থা।
“ভাই এসব তুই কি বলছিস? বাসর করবি তুই‚ টাকা তো তোর দেওয়ার কথা আর তুই আমার কাছ থেকে চাইছিস?
“দেবে না তো? ঠিক আছে‚ আমি যাচ্ছি তাহলে।
সে পা বাড়াল। সাথে সাথে ইফাত আর আরিয়ান দুজনেই তার হাত ধরে ফেলল।
“ভাই এমনভাবে আমাদের সর্বনাশ করিস না! আমি ফকির‚ আমি মিসকিন‚ আমার ঘর বাড়ি নেই আর তুই আমার কাছ থেকে টাকা চাইছিস?
“উজান চৌধুরী বারবার কথা রিপিট করে না। টাকা দাও‚ নাহলে আমি যাচ্ছি।
এইবার ইফাত প্রায় কেঁদে ফেলার মতো অবস্থা।
“ভাই দ্রুত এই কিপটেকে টাকা দাও‚ না হলে কাল আমাদের ফাঁসি হবে।
অবশেষে আরিয়ান বাধ্য হয়ে টাকা বের করল। উজান টাকাটা হাতে নিয়ে বাঁকা এক হাসি দিল। চোখে বিজয়ের ঝিলিক। তারপর ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে রুমে ঢুকে গেল। রুমের ভেতরে ঢুকতেই উজান থমকে গেল। পুরো রুমটা সাজানো রজনীগন্ধা‚ লাল গোলাপ আর বেলি ফুলে। হালকা সুগন্ধে চারপাশ মোহময় হয়ে আছে। বিছানার চারপাশে ফুলের ঝালর ঝুলছে‚ মোমবাতির নরম আলোয় পুরো পরিবেশটা আরও স্বপ্নময় লাগছে। কিন্তু উজানে’র চোখ গিয়ে আটকে রইলো বিছানার মাঝখানে। ফুলে সজ্জিত খাটে লাল বেনারসি পরে ছোট্ট করে ঘোমটা টেনে বসে আছে একটা পিচ্চি মেয়ে। তাসফিয়া মৌ। উজানে’র সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী। মেয়েটাকে দেখেই তার বিরক্তি আরও বেড়ে গেল। এখন তার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে তার ছিল না। তার উপর এই পুঁচকে মেয়েটাকে। মাস কয়েক আগেই স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে মেয়েটা। অবশ্য পড়াশোনার প্রতি মৌ’য়ের খুব একটা আগ্রহ নেই। মেহের না থাকলে হয়তো কলেজেও যেত না।
উজান গভীর শ্বাস ফেললো। তারপর গম্ভীর মুখে সামনে এগিয়ে এলো। হঠাৎ পুরুষ কণ্ঠের শব্দে মৌ কেঁপে উঠলো। ঠিক তখনই উজান বজ্র কন্ঠে প্রতিধ্বনিত করে।
“এই পুঁচকে মেয়ে বয়স তো এখনো আঠারোর নিচে। তাহলে কোন দুঃখে নাচতে নাচতে বিয়ে করে বসলে শুনি? আর শোনো তোমাকে এই উজান চৌধুরী নিজের ওয়াইফ হিসেবে মানে না। সো আমার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। আর এটা আমার রুম। একটা জিনিসও যদি এদিক-সেদিক হয় তাহলে কিন্তু মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবো। মাইন্ড ইট।
মৌ’য়ের ভেতরে সঙ্গে সঙ্গে আগুন জ্বলে উঠলো। ইচ্ছে করছিল এখনই ঘোমটা ফেলে উঠে দুই কথা শুনিয়ে দেয়। কিন্তু আজ বাসর রাত বলে দাদি‚ চাচিরা হাজারবার বুঝিয়েছে প্রথম দিন শান্ত থাকতে হয়। তাই অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করলো সে। তবে “উজান চৌধুরী” নামটা শুনে তার কেমন যেন চেনা চেনা লাগলো। মনে হচ্ছে কোথাও শুনেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছুতেই মনে করতে পারছে না।
ঠিক তখনই দরজার কাছে শব্দ হলো। উজান ক্যাবিনেট থেকে একটা বালিশ বের করে হাতে নিল। তারপর দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলে উঠলো„
“পুঁচকে মেয়ে পুঁচকে মেয়ের মতোই থাকবে। কখনো বউ’য়ের অধিকার ফলাতে আসবে না। কারণ আমি তোমাকে বউ হিসেবে মানি না আর না এই বিয়েটাকে।
কথাটা বলেই গটগট করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সে। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ হতেই মৌ এক টানে ঘোমটা ফেলে দিল। তারপর বিছানা থেকে ধপ করে নেমে কোমড়ে হাত রেখে ফুঁসতে ফুঁসতে লাগলো।
“এহ্ আমি যেন বিয়ে মানার জন্য বসে আছি। বুড়া বয়সে এত সুন্দর‚ কিউট একটা বউ পেয়ে নিজেকে গর্ভবতী ওহ্ সরি সরি গর্বিত মনে করবে তা না উল্টা…..
