প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৪১
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না
রিত্তিকা তার দুই কোমল হাতে জিয়ানের শার্ট শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছে। লজ্জা আর আড়ষ্টতায় তার পুরো মুখখানা লুকানো জিয়ানের সুপ্রশস্ত বুকের মাঝে। জিয়ানের ধুকপুক শব্দটা খুব কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছে সে, আর সেই সাথে অনুভব করছে এক গভীর আশ্রয়ের অনুভূতি। জিয়ান কাউকে পরোয়া না করে সোজা হেঁটে যাচ্ছে পার্কিং স্পেসের দিকে, আর তাদের পিছু পিছু কিছুটা হেসে, আবার কিছুটা অবাক হয়ে হেঁটে আসছে জিয়া।
রিত্তিকা ইতস্তত বোধ করে জিয়ানের দিকে মুখ তুলে ফিসফিস করে বলল,
__”প্রফেসর সাহেব! দয়া করে নিচে নামান আমাকে। পুরো ভার্সিটি হা করে তাকিয়ে আছে, সবাই দেখছে তো!”
জিয়ান রিত্তিকার দিকে একপলক গম্ভীর চোখে তাকিয়ে কড়া গলায় জবাব দিল,
__”দেখুক। চোখ আছে বলেই তো দেখছে।”
__”আহা, নামান না আমাকে! এত লোকজনের সামনে সবাই কি ভাবছে বলুন তো? আপনার তো কোনো মান-সম্মানের ভয় নেই, আমার তো আছে!” রিত্তিকা পা নাড়িয়ে নামার চেষ্টা করতেই জিয়ান তার হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে শক্ত করে ধরে ফেলল।
__”যার যা ইচ্ছা ভাবুক, আমার তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। আর আমার মান-সম্মান আমার কাছেই আছে। এই মুহূর্তে আমার কাছে তোমার চেয়ে ইম্পর্টেন্ট আর কিচ্ছু নেই, রিশা। সো, স্টপ মুভিং!”
রিত্তিকা মুখ ভার করে বলল,
__ “বাট আমার তো তেমন কিছুই হয়নি! সামান্য একটু ঘষা লেগেছে, তার জন্য হসপিটালে যাওয়ার কী দরকার?”
জিয়ান এবার গাড়ি খোলার সংকেত দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
__”কতটাখানি কেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে দেখেছ? আর তুমি বলছ সামান্য? জ্ঞান দিতে এসো না একদম।”
”সত্যিই তো বেশি না… সামান্য একটুখানি…”
__”জাস্ট শাট ইয়োর ফাকিং মাউথ, রিশা! আর একটা কথাও না।” জিয়ানের কর্কশ ধমকে রিত্তিকা গাল ফুলিয়ে চুপ মেরে গেল।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়ি পৌঁছে গেল হাসপাতালের সামনে। জরুরি বিভাগের ভিড় ঠেলে জিয়ান রিত্তিকাকে সোজা ভিআইপি কেবিনের বেডে এনে বসাল। খুব সামান্যই কেটেছিল, কিন্তু জিয়ানের উদ্বেগের শেষ নেই। সে নিজে রমনীর পাশে ধপ করে বসে পড়ল, আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল তার নরম আঙুলগুলো। কেবিনের বাইরে বেঞ্চে বসে মিষ্টি হেসে অপেক্ষা করছিল জিয়া।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ডক্টর ফাইল হাতে কেবিনে প্রবেশ করলেন। ক্ষতস্থানটা ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চশমাটা ঠিক করতে করতে বললেন,
__”ভয়ের কিছুই নেই। খুব মামুলি ছুলে যাওয়া। শুধু একটা টিটেনাসের ইনজেকশন দিয়ে দিলেই হবে।”
শুনেই জিয়ান আঁতকে উঠল,
__”ইনজেকশন না দিলে হয় না ডক্টর? সামান্য কাটাতে ইনজেকশন দেওয়ার কী দরকার? অন্য কোনো ওষুধ বা অয়েন্টমেন্টে কাজ হবে না?”
ডক্টর হেসে ফেললেন, “না , ইনফেকশনের ঝুঁকি এড়াতে ইনজেকশনটা দেওয়া খুবই জরুরি।”
রিত্তিকা জিয়ানের দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে বলল,
“ইনজেকশন তো দেওয়া হবে আমাকে, আপনাকে তো আর ডক্টর সুঁচ ফোটাচ্ছেন না! তাহলে আপনি কেন মানা করছেন, শুনি?”
জিয়ান চোখ ছোট ছোট করে বলল, “তুমি যদি ব্যথা পাও, বা ভয় পাও… তাই বলছি।”
__”আমি কখন বললাম যে আমি ইনজেকশনে ভয় পাই? আমি তো ছোটবাচ্চা নই!” রিত্তিকা ভাব নিয়ে বলল।
__”না, তা বলোনি, তবে…”
__”তাহলে? সব সময় এক লাইন কম বুঝবেন প্রফেসর সাহেব! আপনি না বানিয়ে বানিয়ে সব বানিয়ে ফেলেন।” রিত্তিকা ডক্টরের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল, “ডক্টর, আপনি দিন তো ইনজেকশন। উনার কথায় কান দেবেন না।”
ডক্টর মৃদু হেসে রিত্তিকাকে ইনজেকশনটি পুশ করে দিলেন এবং যাওয়ার আগে বললেন,
___”একদম পারফেক্ট! এবার কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে আপনারা বাড়ি চলে যেতে পারেন।”
ডক্টর রুম থেকে বের হতেই রিত্তিকা জিয়ানের দিকে ঝুঁকে দুষ্টুমির হাসি হেসে বলল,
__ “বাই দ্য ওয়ে প্রফেসর সাহেব… আপনি কি ইনজেকশনের সুঁচ দেখে ভয় পান? সত্যি করে বলুন তো? বলতে পারেন, ট্রাস্ট মি, আমি কাউকে কিচ্ছুটি বলব না নে! আমাদের সিক্রেট!”
জিয়ান এক মুহূর্ত নিথর হয়ে রিত্তিকার দিকে তাকাল, তারপর গভীর গলায় ডাকল, “রিশা।”
রিত্তিকার দুষ্টুমি মাখা হাসি তখনও মুখে লেগে ছিল, “কী হয়েছে প্রফেসর সাহেব?”
জিয়ানের চেহারার গম্ভীরতা আরও বেড়ে গেল, “তুমি কি চোখ পকেটে নিয়ে হাঁটো? হাঁটার সময় খেয়াল থাকে না কোথায় পা ফেলছ?”
রিত্তিকা মুখটা বাকিয়ে বলল, “ইয়ে… আমি খেয়াল করি নি তো আসলে…”
__”গল্পে মগ্ন থাকলে খেয়াল করবে কীভাবে?” জিয়ানের কণ্ঠে উথলে উঠল ক্ষোভ আর অভিমান, “যদি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেত?”
রিত্তিকা হালকা চালে মাথা নাড়িয়ে বলল, “আহা! এত কী আর হতো? বড় জোর একটু বেশিই কাটত! আর মরে তো আর যেতাম না…”
__”মরে…” বাকি কথাটি রিত্তিকার কণ্ঠনালী অতিক্রম করে আর বের হতে পারল না!
তার আগেই জিয়ান এক ঝটকায় ঝুঁকে এসে নিজের তৃষ্ণার্ত ঠোঁটজোড়া দিয়ে রিত্তিকার নরম অধর সম্পূর্ণ দখলে নিয়ে নিল। রিত্তিকা তীব্র চমকে চোখ দুটো বড় বড় করে ফেলল। হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল তার! আবেশে ও বিস্ময়ে সে জিয়ানের দুই কাঁধ শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সে কল্পনাই করতে পারেনি, জিয়ান এমন বেপরোয়া কিছু করে বসবে!
জিয়ানের স্পর্শ মুহূর্তের মধ্যে অগভীর থেকে তীব্র ও গভীর হতে লাগল। রিত্তিকা নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য জিয়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরানোর চেষ্টা করল বারংবার, কিন্তু জিয়ানের সুদৃঢ় চেতনার কাছে তার সমস্ত শক্তি যেন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। রিত্তিকার অধরের সমস্ত মিষ্টতা নিজের মাঝে শুষে নিতে লাগল জিয়ান। টানা মিনিট পাঁচেক পর, যখন অনুভুত হলো রিত্তিকার শরীর নিঃশ্বাসের অভাবে নিস্তেজ হয়ে আসছে, তখন খুব অনিচ্ছা সত্ত্বেও জিয়ান তাকে ছেড়ে দিল।
আচমকা ছাড়া পেয়ে রিত্তিকা যেন খাঁচা থেকে মুক্ত হওয়া পাখির মতো হাঁপাতে লাগল, বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে তার। জিয়ান অপলক চোখে তাকিয়ে রইল রিত্তিকার ভেজা ঠোঁটের দিকে—ফুসে লাল হয়ে উঠেছে, আর এক কোণে সামান্য কেটে গিয়ে রক্ত ফুটে উঠেছে।
জিয়ান ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে রিত্তিকার ঠোঁটের কোণের রক্তটুকু আলতো করে মুছে দিল। তারপর রিত্তিকার চোখের দিকে তাকিয়ে চরম গম্ভীর কিন্তু গভীর আবেগে বলল,
__”নেক্সট টাইম যদি ওই মরার কথা আর কোনোদিন মুখে আনো, তবে তোমার পরিণতি কিন্তু খুব খারাপ হবে, রিশা! যা তুমি কোনোদিন স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবে না।”
জিয়ান হালকা ঝুঁকে আরও বলল,
__”বড্ড বেপরোয়া হয়ে উঠছি আমি তোমার ভালোবাসায়। যদি এই পৃথিবীতে তোমার অস্তিত্ব না থাকে, তবে আমার মৃত্যুও অনিবার্য রিশা! তাই বেঁচে থাকার কথা বলো, মরণের কথা নয়।”
জিয়ানের চোখের কোণে ভয়ের ছায়া দেখে রিত্তিকার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। সে নিজের কোমল হাতটি এনে জিয়ানের শক্ত গালে রাখল। চোখে জল এনে পরম মমতায় বলল,
___”আমি আপনাকে ছেড়ে কোনোদিন যাব না প্রফেসর সাহেব। আপনাকে ছাড়া একটা মুহূর্তও এখন আর আমি কল্পনা করতে পারি না! যেখানে আপনি নেই, সেখানে আমি মরে গিয়ে একা কীভাবে থাকব বলুন তো? আপনাকে যে আমি বড্ড ভালোবাসি, প্রফেসর জিয়ান কায়সার!”
রিত্তিকার নিষ্পাপ স্বীকারোক্তি আর চোখে জমে থাকা নিখাদ ভালোবাসা দেখে জিয়ানের বুকের ভেতর যেন ঝড়ের মেঘ কেঁপে উঠল। কথা শেষ হতে না হতেই সে আবার রিত্তিকার অধর জোড়া নিজের ভালোবাসার শিকলে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল।
ঠিক তখনই দরজার হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে ধুম করে কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করল জিয়া। বাইরে একা একা বসে থাকতে থাকতে তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল, ভাবল ভেতরে এসে একটু গল্প করি। কিন্তু ভেতরে পা রেখেই যে এমন এক রোমান্টিক দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হবে, তা সে ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি!
জিয়া সঙ্গে সঙ্গে চোখের ওপর দুই হাত চাপা দিয়ে উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বলল, “ওরে বাবারে! আমি কিচ্ছু দেখিনি! সত্যি বলছি, আমি একদম অন্ধ, আমি কিচ্ছু দেখিনি!”
জিয়ার -চিৎকারে জিয়ান চট করে রিত্তিকাকে ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়াল। রিত্তিকা লজ্জায় একদম লাল হয়ে বালিশে মুখ গুঁজল।
জিয়া আড়চোখে পেছনে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল,
____”সত্যি বলছি ভাইয়া, আমি ভেতরে ঢোকার আগেই চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম!
জিয়ান গম্ভীর মুখে কোনো কথা না বলে কেবিন থেকে সোজা বাইরে বের হয়ে গেল।
জিয়ান চলে যেতেই জিয়া খিলখিল করে হেসে এগিয়ে এসে রিত্তিকার বেডের পাশে বসল, “বলি হসপিটালে এসেও এই সব করা লাগে নাকি রে তোর? পেশেন্ট না তুই?”
রিত্তিকা বালিশ থেকে মুখ তুলে চোখ পাকিয়ে বলল, “আমি আবার কী করলাম! আমি তো ভালো মেয়ের মতো শুয়েই ছিলাম!”
___”তা তো নিজের চোখেই দেখতে পারলাম রে বোন! ভাইয়ার যে এমন রূপও আছে, তা আমার ধারণার বাইরে ছিল।” জিয়া রিত্তিকার থুতনি নেড়ে দিয়ে বলল, “তা, ম্যাডাম, তোর পায়ের ব্যথা এখন কেমন? নাকি জিয়ান ভাইয়ার ওষুধে একবারে গায়েব?”
রিত্তিকা লজ্জা লুকিয়ে হেসে বলল, “ধুর! একদম ঠিক আছে এখন।”
কিছুক্ষণ পর জিয়ান রিত্তিকাকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে বাড়ির সামনে এসে থামল। গাড়ি থেকে নেমে জিয়ান আর কোনো কথা না বাড়িয়ে রিত্তিকাকে এক টানে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল।
রিত্তিকা জিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,
___”আহা! বাড়ির ভেতরে তো অন্তত ছাড়ুন! আম্মা দেখলে কী ভাববেন?”
জিয়ান সোজা হেঁটে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,
__”হাঁটলে যদি আবার ব্যথা পাও? চুপচাপ বসে থাকো।”
ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমে বসে থাকা রেনিয়া কায়সারের নজরে পড়ল দৃশ্যটি। ছেলে তার বউকে কোলে করে বাড়িতে ঢুকছে দেখে তিনি চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন। উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
__”কী হয়েছে রে জিয়ান? রিত্তিকাকে এভাবে কোলে নিয়ে আসলি যে? কোনো বিপদ হলো নাকি?”
মায়ের চকিত প্রশ্ন শুনে জিয়ান রিত্তিকাকে কোলে রেখেই শান্ত গলায় জবাব দিল,
__”মা, রিশা হাঁটার সময় বেখেয়ালি হয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছে। তাই কোলে করে আনলাম।”
রেনিয়া কায়সার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে এগিয়ে এলেন,
__”দেখে হাঁটার নাম নেই একটুও! ডাক্তার দেখিয়েছিস তো? কোনো হাড়-টাড় মচকে যায়নি তো আবার?”
জিয়ান মাকে আশ্বস্ত করে বলল,
__”হ্যাঁ মা, হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখেছেন, সিরিয়াস কিছু নয়।”
রেনিয়া কায়সার এবার রিত্তিকার দিকে তাকিয়ে কৃত্রিম রাগের ভান করে বললেন,
__”বড্ড বেশি বেখেয়ালি হয়েছিস তুই রিত্তিকা! একদম ছোট বাচ্ছার মতো আচরণ করিস। দেখে শুনে এক পা ফেলতে পারিস না?”
রিত্তিকা জিয়ানের কোল থেকে নামার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে লজ্জিত মুখে বলল,
__”আম্মা, বিশ্বাস করুন তেমন কিছুই হয়নি! একদম সামান্য একটু লেগেছে, ডাক্তারবাবুও তাই বললেন।”
রেনিয়া কায়সার চোখ ছোট করে বললেন,
___”হয়েছে, আর আম্মার কাছে মিছে নাটক করতে হবে না! আমি তোদের মা, আমি চিনি তোদের। কার কতটুকু কষ্ট হচ্ছে আর কে কতটা ভান করছে, সব আমার জানা আছে। যা, জিয়ান ওকে ঘরে নিয়ে যা। তোরা ফ্রেশ হ, আমি তোদের জন্য খাবার পাঠাচ্ছি।”
প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৪০
মায়ের সম্মতির কথা শুনে জিয়ান আর এক মুহূর্ত দেরি না করে রিত্তিকাকে নিয়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।
রেনিয়া কায়সার তাদের দুজনের যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। জিয়ানের বুকে রিত্তিকার ওই মিষ্টি আড়ষ্টতা আর জিয়ানের চোখে-মুখে রিত্তিকার প্রতি অগাধ ভালোবাসার ছায়া দেখে মায়ের মুখে এক চিলতে তৃপ্তির মুচকি হাসি ফুটে উঠল। তিনি মনে মনে ওদের জন্য দোয়া করে রেনিয়া কায়সার আনন্দের সাথে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন ওদের খাবারগুলোর ব্যবস্থা করতে।
