প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৭
রাত্রি মনি
“আমাকে এই শার্ট কে পড়িয়েছে?”
“আমি পড়িয়েছি। এনি প্রবলেম।………”
প্রভাত এসে দাঁড়িয়েছে জানালার গ্লাসে। কিন্তু মখমলে পর্দা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না সেই আলো। বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রিম। চাঁদের আলোতে ভেজা চোখের পাতাগুলো এখন সূর্যের চুম্বনকেও অস্বীকার করে। তার ঘুমন্ত মুখের রেখায় এক নিঃশব্দ ক্লান্তি। যেন বহু শতকের বেদনা লুকিয়ে আছে কোমল ঠোঁটের কোণে। মেয়েটিকে দেখে যেন সময়ও থমকে দাঁড়িয়েছে।কী অদ্ভূত সেই সারল্য, কী মায়াবী তার অবয়ব!
একদৃষ্টে চাতক পাখির মতো তৃষ্ণার্থ চোখে তাকিয়ে আছে এজে। নিবারণ করছে চোখের তৃষ্ণা। মিটছে না কিছুতেই। হয়তো আজীবন মিটবার নয় এই তৃষ্ণা।…….
সে যতই দেখে শুধু তাকিয়ে দেখতেই মন চায়।এ এক এমন মায়াজাল, যা কাটিয়ে ওঠার সাধ্য তার নেই—বরং দিন দিন সেই মোহ আরও নিবিড় হয়ে জেঁকে বসছে মনে।
বিছানার ঠিক সামনেই ডিভানের ওপর গা এলিয়ে বসে আছে এজে। আয়েশী ভঙ্গিতে বিভানের দুইপাশে দুহাত রেখে পা দুটো ছড়িয়ে বসে আছে।পরনে একটি অফ-হোয়াইট ব্যাগি জিন্স, যা নাভির বেশ খানিকটা নিচ দিয়ে কোমরে আলগা হয়ে আটকে আছে। গায়ের সাদা শার্টের প্রতিটি বোতাম উন্মুক্ত; যেন কোনো বাঁধন মানতে সে আজ নারাজ। উন্মুক্ত শার্টের ভেতর দিয়ে দৃশ্যমান তার সুঠাম, ফর্সা এবং পৌরুষদীপ্ত শরীর—যেখানে সযত্নে খোদাই করা ‘এইট প্যাকস’ পেশিগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জানালা গলে সদ্য আসা রোদের ঝিলিক যখন সেই পেশিবহুল শরীরে পড়ছে, তখন তা এক অদ্ভুত দ্যুতিতে চিকচিক করছে। চোখ দুটো কেমন টকটকে লাল হয়ে আছে। হয়তো ঘুম হয়নি সারারাত। মাথার সিল্কি ঝাঁকড়া চুলগুলো উস্কো খুস্কো হয়ে আছে।
মখমলের পর্দা চুইয়ে আসা প্রভাতের অবাধ্য রশ্মিগুলো যখন রিমের চোখে-মুখে আছড়ে পড়ল, বিরক্তির এক চিলতে রেখা ফুটে উঠল তার ললাটে। ঘুমের শান্ত নিবিড়তাটুকু ধরে রাখতে সে একপাশ ফিরে ওম নেওয়ার চেষ্টা করল ঠিকই, কিন্তু সূর্যিমামা যেন আজ তার প্রশান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র আলোর জেদের কাছে হার মেনে অবশেষে তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখ দুটো মেলে ধরতে বাধ্য হলো সে।
মাথাটা বিশ্রীভাবে ঝিমঝিম করছে, যেন কয়েক মণের ভার চেপে বসে আছে মস্তিষ্কে। চোখের পাতা দুটো এখনো তন্দ্রার ভারে বুজে আসতে চাইছে। কিন্তু চেতনা পুরোপুরি ফেরার আগেই এক অতি পরিচিত ঘ্রাণ তার নাসারন্ধ্রে এসে হানা দিল—এক তীব্র, কড়া অথচ অদ্ভুতভাবে আকর্ষণীয় পুরুষালি পারফিউমের সুবাস।
ঘ্রাণটা রিমের খুব চেনা, যা অবলীলায় তার স্নায়ুকে অবশ করে দেয়, মনের গহীনে জাগিয়ে তোলে এক মাতাল করা টান। কিন্তু মুহূর্তেই সেই সুবাসের উৎসটি মনে পড়তেই শিউরে উঠল সে। এই মায়াবী ঘ্রাণের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক জঘন্য সত্তা—এক হৃদয়হীন ‘মনস্টার’!
ভাবনাটা বিদ্যুৎচমকের মতো মস্তিষ্কে আঘাত করতেই রিম ঝটকা দিয়ে চোখ মেলে তাকাল। নিজের শরীরের দিকে তাকাতেই তার রক্ত হিম হয়ে এল—তার পরনে নিজের সেই গোল ফ্রকটি নেই, বদলে জড়িয়ে আছে এক বিশালদেহী পুরুষের বড়সড় সাদা শার্ট। এই শার্টটি তার চেনা, আগেও দেখেছে মনস্টার’টার পরনে! কপালে ভাঁজ পড়লো কয়েকস্তর। ফ্রক বদলে এই শার্ট তার শরীরে এল কী করে?
ঠিক তখনই নজর গেল সামনে বসা যুবকের দিকে। মনে পড়ে গেল কালকের সেই বীভৎসক ঘটনার কথা। মুহুর্তেরই প্রচন্ড ঘৃণায় রি রি করে উঠল রিমের অন্তর। এই মানুষটা মানুষ নয়, একটা জানোয়ার! হঠাৎ নিজের অবস্থান বুঝতে পেরেই শঙ্কা জমে উঠলো মনে।আতঙ্কে শিউরে উঠে ধুকপুক করা বুক নিয়ে সে প্রশ্ন করল,
“আমাকে এই শার্ট কে পরিয়েছে?”
এজে তার জায়গায় নির্বিকার বসে রইল। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে নির্লিপ্তভাবে জবাব দিল,
“আমি পরিয়েছি। এনি প্রবলেম?”
তার বলার ভঙ্গিটা এমন যেন সে খুব মহৎ কোনো কাজ করেছে, আর রিম তাকে এই প্রশ্ন করে মারাত্মক ভুল করছে।রাগে মাথার রগগুলো টনটন করে উঠলো রিমের। ইচ্ছে করছে জানোয়ারটাকে তুলে একটা আছাড় দিয়ে শেষ করে ফেলতে! একটা ছেলে হয়ে কিভাবে একটা মেয়ের…………
নাহ্ আর ভাবতে পারছে না। নিজের সযত্নে আগলে রাখা কুমারীত্বে এতো সহজেই হাত বাড়ালো এই মনস্টারটা! সাহস পেল কোথায়? রাগ হচ্ছে, ভীষণ রাগ হচ্ছে তার। অতিরিক্ত রাগে কান্না পাচ্ছে। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে সে চিৎকার করে উঠে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“আপনার সাহস কিভাবে হলো আমাকে স্পর্শ করার? আমি বলেছিলাম না ছুঁবেন না আমাকে ভস্ম হয়ে যাবেন? তাহলে কেন ছুলেন? কোন অধিকারে? বলুন! মেরেই ফেলব আমি আপনাকে। আপনি একটা রাক্ষুস।নিকৃষ্ট জানোয়ারের চেয়েও অধম!
রিমের কথা শুনে এজে ডিভান ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। পকেটে দুহাত গুঁজে বেডের কাছে এসে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। চোখেমুখে দুষ্টুমির ঝিলিক খেলে গেল। রসাত্মক কন্ঠে বলে,
“উফ্ এখন এত রাগ! কাল রাতে মনে ছিল না এসব? যখন আমাকে ছাড়তে চাইছিলে না? কতবার করে বললাম, আমার ঊনত্রিশ বছরের আগলে রাখা সম্বল আমার ভার্জিনিটি এভাবে নষ্ট করোনা, কিন্তু তুমি তো শুনলে না।আমার মত অসহায়, অবলা, অবুঝ ছেলেকে একা পেয়ে এভাবে ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেললে! এখন এই মুখ আমি কাকে দেখাবো? দেখো কি অবস্থা করেছ তুমি আমার!
শার্টের কলারটা একটু সরিয়ে কথাটা বলে উঠলো এজে। সেখানে ফর্সা গলদেশের একপাশে স্পষ্ট একটি লালচে-গোলাপি দাগ। দাগটি দেখে রিমের হৃৎপিণ্ড যেন একটা মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।পানির তৃষ্ণায় শুকিয়ে এলো গলা।শুষ্ক ঢোক গিলে ফেলল।তবে কি সত্যিই কাল রাতে……? না না, এ অসম্ভব! সে তো এমন নয়। এই লোককে বিশ্বাস নেই। নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছে।
নিজের মনকে শক্ত করে সে তীব্র স্বরে বলে উঠল,
“আমি বিশ্বাস করিনা। আপনি মিথ্যা বলছেন। নিশ্চয়ই আপনিই কিছু করেছেন আমার সাথে। আমার অসুস্থতার সুযোগ নিয়েছেন। আপনি একটা বদ লোক! জানোয়ার একটা!
রাগে রিমের হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত হয়েছে। মাথার ভেতরটা যেন দাউদাউ করে জ্বলছে। সে কোনো কিছু না ভেবেই জানোয়ারটার সুঠাম বুকে এলোপাথাড়ি ঘুসি মারতে শুরু করল। দুই হাতে টেনে ধরল এজের সিল্কি চুলগুলো। মন চাচ্ছে একদম কুপিয়ে ফেলতে। বিরক্ত হয়ে ওঠে এজে,
“আরেহ্ কি করছো? টাকলা হয়ে যাব তো! টাকলার সাথে থাকতে পারবে তো সারাজীবন?
রিম যেন আরও অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল।
“চুপ কর কুত্তা। জানোয়ার, রাক্ষস, অসভ্য একটা! মেরে ফেলবো তোকে আজ। এ্যা এ্যা এ্যা…………”
বলতে বলতেই অতিরিক্ত ক্রোধে ভ্যা ভ্যা করে শিশুর মতো কেঁদে ফেলে রিম।দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল।বুকটা অভিমানে ফুলে ফুলে উঠছে।রিমের এই রুদ্রমূর্তি আর কান্নার দৃশ্য দেখে ভীষণ হাসি পাচ্ছে এজের। তবে সে নিজের হাসি নিয়ন্ত্রণ করে চেপে রাখলো। কেমন পাগলীর মতো লাগছে মেয়েটাকে। মুখটা টকটকে লাল হয়ে উঠেছে।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে। তবুও ভীষণ কিউট লাগছে দেখতে। মেয়েটাকে রাগাতে ভীষণ ভালো লাগে তার। কেমন লাল লাল হয়ে যায়। অনেক কিউট লাগে। ইচ্ছে করে সারাক্ষণ কোলে বসিয়ে শুধু চুমু খেতে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই কক্ষের দরজায় করাঘাত পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে এজের মুখের সমস্ত দুষ্টুমি উবে গিয়ে সেখানে জেঁকে বসল এক কঠিন গাম্ভীর্য। গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“কামিং।”
ভেতরে প্রবেশ করল একজন মহিলা সার্ভেন্ট।হাতে ছোট্ট একটা ট্রলি। তাতে রয়েছে কিছু খাবার আর মেডিসিন।এজেই আনতে বলেছিল। মহিলাটির এক হাতে নতুন সাদা ব্যান্ডেজ—বোঝা যাচ্ছে আঘাতটা সাম্প্রতিক। কাঁপাকাঁপা হাতে সে স্যুপের বাটিটা আর ডক্টর ড্রেভেনের পাঠানো ওষুধগুলো টি-টেবিলে রাখল। এজে সংক্ষিপ্ত করে বলল,
“You can go now.”
আদেশে পেয়ে মাথা নত করে দ্রুত ডোর লক করে কক্ষ ত্যাগ করল মহিলাটি।এজে টি-টেবিলটি টেনে রিমের বিছানার সামনে আনল। শক্ত হাতে রিমকে বসিয়ে দিয়ে নিজেও ডিভানে বসল। তারপর এক চামচ স্যুপ রিমের ঠোঁটের সামনে ধরতেই ঘটল বিপত্তি। রিম এক ঝটকায় পুরো বাটিসহ টি-টেবিলের সবকিছু ফ্লোরে আছাড় মারল। ঘূর্ণি খেয়ে কাঁচের বাটি আর সিরামিকের ঝনঝন শব্দে পুরো ঘর যেন কেঁপে উঠল।
এজে ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক বাঁকা হাসি। সে জানত এমনটাই হবে। মেয়েটা বড্ড জেদি। সেই ছোট্ট থেকেই! রাগলে যা লাগেনা, ইশশ্!! একদম ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলতে। কিন্তু পরক্ষণেই নিজের ভাবনায় নিজেই বড় করে একটা ঢোক গিলল সে; তার মনের কথা যদি এই মেয়ে জানতে পারে, তবে তাকে আর আস্ত রাখবে না!নিজেকে সামলে নিয়ে এজে শান্ত গলায় বলল,
“রিলাক্স বার্বি ডল। এত হাইপার হচ্ছো কেন? তোমার ড্রেস আমি নয়, একটু আগে যে মহিলা সার্ভেন্ট এসেছিল সেই চেঞ্জ করেছে। আর তুমি যা ভাবছো রাতে তেমন কিছুই হয়নি। তবে এটা ঠিক, তুমি আমাকে ছাড়তে চাইছিলে না। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছিলে। গলার এই চিহ্নটাও তোমার দেয়া। নিজেকে কোনমতে বাঁচিয়েছি তোমার থেকে। নিহাতই আমি ভদ্র সভ্য মানুষ তাই কিছু করিনি। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে অঘটন একটা ঘটে যেত নিশ্চিত।”
নিজের কথায় নিজেই রেগে গেল এজে। শক্ত হয়ে এলো চোয়াল। অন্য কারো কথা ভাবতেই তার ভেতরে এক হিংস্র ঈর্ষা জ্বলে উঠল। তার জায়গায় অন্য কেউ? না, কোনোদিন নয়, কোনোভাবেই নয়। তার ফায়ারফ্লাইয়ের ওপর অধিকার শুধু তার, আর কারো নয়।
কথা গুলো শেষ হতেই রিমের রাগ যেন দ্বিগুন বেড়ে গেল। গত কয়েক মুহূর্ত সে যে কী ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে গেছে, তা কেবল তার দ্রুত স্পন্দিত হৃদপিণ্ডই জানে। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সে এজের শার্টের কলারটা খামচে ধরল। তার ধারালো নখগুলো এজের সুঠাম বুকের ভাঁজে গভীর আঁচড় বসাতে লাগল। সেখানেই ক্ষান্ত হলো না সে; শরীরের সমস্ত আক্রোশ আর শক্তি দিয়ে এজের শক্তপোক্ত বুকে বসিয়ে দিল নিজের ছোট ছোট ধারালো দাঁতগুলো।
এজে এক বিন্দু নড়ল না, একটা টু শব্দ পর্যন্ত করলো না । চোখ মুখ খিঁচে সে হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে, দাঁতে দাঁত চেপে পাথরের মতো বসে রইল। ধীরে ধীরে তার মুখে ফুটে উঠল তৃপ্তির ঝিলিক। রিমের এই উন্মত্ত আক্রমণ সে সাইলেন্টলি উপভোগ করছে। এক সময় কামড়াতে কামড়াতে হাঁপিয়ে ওঠে রিম, ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দেয় মনস্টারটাকে। এজের ফর্সা বুকের সেই অংশটি এখন টকটকে লাল হয়ে উঠেছে, যেখানে রিমের দাঁতের প্রতিটি রেখা স্পষ্ট হয়ে ফুটে আছে।এজে একবার নিজের বুকের সেই রক্তিম ক্ষতের দিকে তাকাল, তারপর ঠোঁট কামড়ে এক ক্রুর হেসে ফিসফিসিয়ে বলল,
“উফ্! আগে বলবে তো তুমি কামড়াকামড়ি খেলতে চাইছো। আমি যদি একবার কামড়ে ধরি সামলাতে পারবে তো? ফায়ারফ্লাই…….”
চোখ কটমট করে দাঁত কিড়মিড়িয়ে তাকালো রিম।লোকটার অসভ্যতা আর নির্লজ্জতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তার অগ্নিদৃষ্টির তোয়াক্কা না করে এজে আরও কাছে এগিয়ে এল। রিমের কানের কাছে মুখ নিয়ে গাঢ় হুইস্কির কন্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“চিন্তা নেই। আমি যেদিন ছোঁব, সেদিন তোমাকে সম্পূর্ণ নিজের নামে করে, পূর্ণ অধিকার নিয়ে তবেই ছোঁব। তার আগে নয়। সেই দিনটির জন্য প্রস্তুত হও, মেরি জান।”
ইতালির ঝকঝকে রোদেলা দুপুরে এয়ারপোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিশাব। মাত্রই প্লেন ল্যান্ড করেছে, চেকআউটের দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা এখন বাইরে। ঋষাভের পরনে ব্লু জিন্স আর সাদা স্নিকার্স, ছাই রঙের (অ্যাশ) টি-শার্টের ওপর চাপানো লেদার জ্যাকেট। চোখে ডার্ক সানগ্লাস। পকেটে এক হাত গুঁজে গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে।
তার ঠিক পাশেই সুটকেস হাতে দাঁড়িয়ে মাহিন। আকাশি শার্টের ভেতর সাদা টি-শার্ট, পরনে অফ-হোয়াইট জিন্সে তাকে বেশ ঝকঝকে লাগছে, যদিও রোদের তাপে তার ফর্সা গাল দুটো এখনই আপেলের মতো লাল হয়ে উঠেছে। মাহিনের চোখেমুখে ইতালি ভ্রমণের এক চিলতে আনন্দ থাকলেও রিশাবের মনোভাব বোঝার উপায় নেই। তার চোয়াল শক্ত।মাহিনের এমন হিরোসুলভ ভাব দেখে রিশাব কিছুটা বিরক্ত হয়েই শীতল গলায় প্রশ্ন করল,
“আর কতক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকব? গাড়ি কোথায়?”
“কল করেছি। এখনই চলে আসবে।”
মাহিনের কথা শেষ হতে না হতেই তাদের সামনে এসে থামল কাঙ্ক্ষিত গাড়িটি। মাহিন বেশ উৎসাহের সাথে সুটকেসগুলো ডিকিতে তুলে রাখল। ইতালি আসার ইচ্ছা তার বহুদিনের,তাই এখানে আসতে পেরে মেজাজ বেশ ফুরফুরে।দুজনে গাড়ির দুই পাশের দরজা খুলে সিটে গা এলিয়ে দিল। গাড়ি স্টার্ট দিতেই ঋষাভ জানালার বাইরে চোখ রাখল। চোখের সানগ্লাসটা খুলতে খুলতে আনমনে বিড়বিড় করে উঠল,
প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৬
“আমি আসছি ব্লুফেইরি। খুব শীঘ্রই তোমার সাথে দেখা হবে আমার। যেভাবেই হোক তোমাকে খুঁজে বের করবো আমি। এরপর আর কোনো ভুল নয়। সোজা বিয়ের পিঁড়িতে!”
পিচঢালা পথ চিরে, ধোঁয়া উড়িয়ে, দু-ধারের বিশাল সব দালান পেছনে ফেলে সামনের দিকে ছুটে চলল গাড়ি। এক অনিশ্চিত কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের পানে……..
