প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৫
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
এদিকে রাশেদরা সবাই বসে বসে ঠিক করতে লাগলো রাতের পার্টিতে কী কী করবে। প্ল্যান অনুযায়ী লিস্ট বানিয়ে তারা বাজারে বেরিয়ে গেলো।
যেহেতু পার্টি হবে ইসলাম বাড়ির ছাদে, তাই লামিয়া বাদে বাকি সব মেয়েরা ছাদে উঠে গেলো ডেকোরেশন করতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সবাই ব্যস্ত থাকলো সাজগোজ আর লাইটিং নিয়ে।
হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে তারা খেয়াল করলো—আকাশ কালো হয়ে গেছে। কালো মেঘে ঢেকে গেছে পুরো আকাশ মানে আজ রাতেও বৃষ্টি নামবে। এই ভেবে সবার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো।
বাজার থেকে রাশেদরা ফিরে এসে দেখলো সবাই মন খারাপ করে বসে আছে। কারণ জিজ্ঞেস করতেই মেয়েরা বললো—বৃষ্টি হলে তাদের এত কষ্ট করে সাজানো জিনিস নষ্ট হয়ে যাবে।
রাশেদ দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ ভাবলো, তারপর হঠাৎ দ্রুত স্টোর রুমের দিকে হাঁটতে শুরু করলো।
স্টোর রুম থেকে একটি বড় ত্রিপল এনে টানিয়ে দিলো ছাদে। যেন বৃষ্টি হলেও কিছু নষ্ট না হয়। এক এক করে সবাই ছাদে উপস্থিত হয়ে আবার কাজে লেগে গেলো। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো। সবাই হাতে হাতে কাজ করছে, শুধু লামিয়া অনুপস্থিত। সে পড়াশোনা করছে, পড়া শেষ করেই আসবে বলে কেউ তাকে ডাকলো না।
সাফওয়ান একে একে সবাইকে তাড়া দিলো রেডি হওয়ার জন্য। মেয়েরা তখন একে একে তৈরি হতে চলে গেলো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
এদিকে আবরার ব্ল্যাকিকে খাবার দিতে এসে দেখলো ব্ল্যাকি নেই। পুরো রুম খুঁজেও কোথাও পাচ্ছে না। রুমের বাইরে বের হতেই সে দেখলো—সামনের তিন নম্বর রুমের দরজার ফাঁক দিয়ে ব্ল্যাকি ভেতরে ঢুকে গেলো। আবরার তাড়াহুড়ো করে দরজা ঠেলে ভেতরে তাকাতেই তার চোখ বিছানার উপর চলে গেলো।
গুটি শুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে লামিয়া। বুকে বই, এক হাত গালে রাখা, চুলগুলো মুখে এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। ব্ল্যাকি লাফ দিয়ে লামিয়ার পেটে উঠে বসে আদুরে ভঙ্গিতে গলায় ঘেঁষে মিউ মিউ করতে লাগলো। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় লামিয়া চোখ বন্ধ রেখেই ব্ল্যাকির গায়ে হাত রাখলো। নরম শরীর ছুঁয়ে তার ভ্রু কুঁচকে গেলো।
দরজার আড়াল থেকে সব দেখে আবরার মিটিমিটি হেসে আস্তে করে বললো – বাহ্, মেয়েটা তো দেখি মাম্মাকে চিনে ফেলেছে।
বলেই হালকা হেঁসে দেখতে লাগলো কি হয়।
লামিয়া পিটপিট করে চোখ খুলতেই চমকে উঠলো কালো কুচকুচে একটা বিড়াল তার পেটে বসে আছে।
লামিয়া লাফ দিয়ে উঠে বসলো, ভ্রু কুঁচকে ভাবতে লাগলো, এটা আবার কোথা থেকে এলো?
তার ভাবনার মাঝে ব্ল্যাকি গা ঘেঁষে বসল। লামিয়া আলতো হাতে কোলে তুলে নিয়ে বললো – এই কাল্লু, কোথা থেকে এসেছিস? আর আমার ঘরে কী করছিস? আমার আম্মাজান যদি দেখে, তোকে একদম ছুঁড়ে ফেলে দেবে!
ব্ল্যাকি ড্যাবড্যাব করে তার দিকে তাকিয়ে মিউ মিউ করলো। লামিয়া বাঁকা হাসলো।
হঠাৎ পিছন থেকে গম্ভীর কণ্ঠ শোনা গেলো –
– ওর নাম কাল্লু না, আমার মেয়ে ব্ল্যাকবেরি। আদর করে ব্ল্যাকি বলে ডাকি।
লামিয়া চমকে পিছন ফিরে তাকালো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। আবরার ব্ল্যাকিকে চু-চু করে ডাকতেই বিড়ালটা লাফিয়ে তার কাছে চলে গেলো। কোলে উঠতেই ব্ল্যাকি আবরারের গলা জড়িয়ে মাথা ঘেঁষে আদর করতে লাগলো।
অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে লামিয়া বললো – এ… এটা আপনার মেয়ে?
আবরার মাথা নাড়লো।
লামিয়া বাঁকা হেসে সামনে এগিয়ে ব্ল্যাকির গায়ে হাত বুলিয়ে বললো
– মানে আপনি বিবাহিত! আর আপনার স্ত্রী একজন বিড়াল? তাহলে তো ওর অর্ধেক মাথা আপনার মতো আর নিচের অর্ধেক শরীর বিড়ালের মতো হওয়ার কথা, তাই না? তাহলে ও আপনার চেহারা কেনো পাইনি?
বলেই সাহস করে আবরারের চোখে চোখ রাখলো।
আবরার শীতল দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
লামিয়া থমকে গেলো। কোনো ছেলের হাঁসি এত সুন্দর হতে পারে তা সে জানতো না। লামিয়ার ঠোঁট আপনাআপনি ফাঁক হয়ে গেলো, হা করে তাকিয়ে রইলো আবরারের দিকে।
আবরার নিচের ঠোঁট কামড়ে হালকা হেসে বললো –
– আপনি যা ভাবেন, মিস।
বলেই ব্ল্যাকিকে কোলে নিয়ে চলে গেলো।
লামিয়া স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো আবরারের পেছনে।
আবরার আবার রুমে ঢুকে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে বললো –
– মিস, মুখটা বন্ধ করুন, না হলে মশা-মাছি ঢুকে যাবে।
বলেই দরজা বন্ধ করে দিলো।
চমকে উঠে লামিয়া তাড়াতাড়ি নিজের রুমে চলে এলো। বড় নিঃশ্বাস নিলো।
উফ্, এই ছেলেটার হাসি এত সুন্দর কেনো!
ভেবেই লামিয়া হালকা করে মাথায় থাপ্পড় মেরে দিলো।
লামহা রেডি হয়ে ছাদের দিকে পা বাড়াতেই দেখলো আবির ফোনে কথা বলতে বলতে ছাদের থেকে নামছে। আবির লামহাকে প্রথমে খেয়াল করে নি। অর্ধেক সিঁড়ি বেয়ে নামতেই লামহার দিকে চোখ পড়তেই সিঁড়িতে উল্টে পড়ে গেলো। লামহা দৌড়ে আবিরকে ধরলো। তারপর ব্যাস্ত কন্ঠে বললো – আপনার লাগে নি তো খুব কী ব্যাথা পেয়েছেন?
আবির মাথা নেড়ে না বললো।
লামহা হাত বাড়িয়ে আবিরকে উঠাতেই দেখলো হাতের কণু দিয়ে লাল রক্তের পড়ছে। ভ্রু কুঁচকে আবিরের হাত ঘুরিয়ে দেখলো অনেকটুকু কেটে গেছে। আবির কে টেনে ছাদে নিয়ে বসালো। রাশেদ সাফওয়ান আরিফ লাবিব ফাহিম জাহিদ ওদের দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। লামহা পাত্তা না দিয়ে নিচে চলে গেলো। ওষুধ আনতে।
আবির পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। তাই সে গলা খাঁকারিয়ে বললো – আমাকে কী আজকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে যে এইভাবে তাকিয়ে আছিস সবাই?
আরে সিঁড়ি থেকে পড়ে গেয়ে হাত কেটে গেছে এইভাবে তাকানোর কী আছে?
– তুই সিঁড়ি থেকে পড়লি কীভাবে? রাশেদ বললো।
– আরে চাঁদ দেখতে গিয়ে। আবির বললো।
সবাই তা বুঝতে পেরে ওওওও বলে উঠলো। আবির লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো।
পাশ থেকে আরিফ বলে উঠলো – দেখো সবাই আবির ভাইয়া কেমন মেয়েদের মতো লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।তা শুনে সবাই হেঁসে উঠলো।
কিছুক্ষণ পর লামহা ওষুধ নিয়ে এসে আবিরের হাতে দিতে লাগলো। আবির ব্যাথা চোখ বুজে ফেললো। তা দেখে লামহা হালকা ফুঁ দিতে লাগলো। আবির চোখ খুলে লামহাকে মুগ্ধ নয়নে দেখতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর আবরার ব্ল্যাকি কে নি ছাদে এসে লামহা আর আবির কে দেখে মুচকি হাসলো তারপর ব্ল্যাকি কে চেয়ারের এক কোণায় বসিয়ে
সবার সাথে হাতে হাতে কাজ করতে লাগলো।
আস্তে আস্তে সবাই আসলো কিন্তু ডাকাতের দলের কাউকে না দেখতে পেলো না। তাই রাশেদ মাহির কে কল করলে মাহির বললো লামিয়া কে রেডি করিয়ে আসছে। রাশেদ ওকে বলে ফোন কেটে দিলো।
পাশ থেকে আরিফ বললো – ভাইয়া সস আনো নি?
রাশেদ ভ্রু কুঁচকে বললো – এনেছিলাম নিচে রেখে এসেছি আমি নিয়ে আসছি বলেই নিচে চলে গেলো।
শারমিন তাড়াহুড়ো করে ছাদে যেতেই কারোর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতেই চোখ বুজে ফেললো। যখন তার মনে হলো সে পড়ে যায়নি
পিট পিট করে চোখ খুলতে রাশেদ কে দেখতে পেয়ে চোখ বড় বড় করে ফেললো। রাশেদ তার দিকে ঝুঁকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তা দেখে শারমিন তাড়াতাড়ি করে দূরে সরতে চাইলে রাশেদ আরো জোরে শারমিনের কোমড় আঁকড়ে ধরে।
শারমিন ভয় পেয়ে ঢোক গিলে বললো – ছা.. ছাড়ুন রা.. শেদ ভাই।
শারমিনের মুখে ভাই ডাক শুনে রাশেদ ভ্রু কুঁচকে বললো – কী বললেন?
– ছা..ছাড়তে ব…লেছি। ভয়ে ভয়ে বললো।
– উহু তারপর কী বলেছেন?
– রাশেদ ভা..ভাই। ভয়ে ভয়ে বললো।
– আমার বাড়িতে চারটা বোন আছে, তাই আর কাউকে বোন বানানোর ইচ্ছে নেই। দ্বিতীয়বার বোন হতে আসলে থাপ্পড়ে আপনার গাল ফাটিয়ে ফেলবো অসভ্য মেয়ে। বলেই শারমিনকে ছেড়ে চলে গেলো।
শারমিন হা করে তাকিয়ে রইল রাশেদের দিকে।
লামিয়া মাহির তায়েব তায়েবা ছাদে পা রাখলো তাদের পিছনেই জ্যাকি লেজ নেড়ে নেড়ে এগিয়ে খাবারের
কাছে যেতেই
লাবিব ভ্রু কুঁচকে বললো – এই এইটাকে কে এনেছে এখানে?
লামিয়া হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো – ওর বাড়ি ওর ঘর তাহলে ও আসবে না তো কে আসবে?
লাবিব বিরক্ত হয়ে বললো – তাহলে তো কুকুরের বাড়িঘর আর আমরা সবাই ভাড়া থাকি তাই না।
লামিয়ার লেয়ারকার্ট চুল গুলো মুখের কাছে এসে পড়েছে সন্ধ্যার হালকা বাতাসে। সেই চুল গুলো ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে বললো – তাহলে যাবার আগে ভাড়া মিটিয়ে বাড়িতে যাবেন ভাড়াটিয়া।
লাবিব কিছু বলার আগেই সাফওয়ান বলে উঠলো – উফ আজকের দিনে অন্তত তোদের ঝগড়া অফ কর।
লামিয়া লাবিব কে ভ্যাংচি কেটে চলে গেলো। সামনে যেতেই দেখলো সবাই বসে পড়েছে তার জায়গা না রেখেই। রাশেদ লামিয়াকে ধরে আবরারের পাশে বসিয়ে দিলো।
আবরার ব্ল্যাকি কে কোলে নিয়ে বসে আছে। লামিয়া তা দেখে ভ্রু কুঁচকালো। জ্যাকি লেজ নেড়ে উউ উউ করতে করতে লামিয়ার সামনে এসে দাড়াতেই লামিয়া তার পাশে বসার জন্য হাত দিয়ে ইশারা করতেই জ্যাকি বসে পড়লো। এ কয়েকদিনে কুকুরটা বেশ শিকারি হয়েছে লামিয়ার।
তা দেখে তায়েবা বললো – দেখো সবাই আবরার ভাইয়ের বিড়ালের নামের সাথে আর লামিয়ার কুকুরের নামের সাথে অনেক মিল তাই না জ্যাকি, ব্ল্যাকি।
সবাই একসাথে সম্মতি জানালো । লামিয়া আবরারের দিকে তাকাতেই আবরার ও লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে অন্য দিকে ঘুরলো।
ব্ল্যাকি আবরারের কোল থেকে নেমে লামিয়ার কোলে উঠে বসলো। লামিয়া ব্ল্যাকির গাঁয়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে জ্যাকির সামনে ধরতেই হামিদা আঁতকে বললো – লামু কি করছিস জ্যাকি কামড় দিয়ে দিবে সরা ব্ল্যাকি কে।
লামিয়া হামিদার কথা পাত্তা না দিয়ে জ্যাকির সামনে ব্ল্যাকি কে ধরতেই ব্ল্যাকি জ্যাকির নাকে খামচি মেরে দিলো। আবরার হেঁসে উঠলো।লামিয়া পাশ ফিরে তাকিয়ে আবার ব্ল্যাকিকে জ্যাকির সামনে দিলো।
জ্যাকি ভয়ে মাথা নিচু করে তাকালো ব্ল্যাকির দিকে, সবাই ভেবেছিলো এইবার ও মনে হয় খামচে দিবে কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ব্ল্যাকি জ্যাকির সাথে মাথা দিয়ে ঘেঁষাঘেঁষি করে জ্যাকির সাথে বসলো।
আবরার হালকা হাসলো। লামিয়া ঠোঁটে বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে সবার দিকে তাকালো।
সবাই তা দেখে কড় তালি দিলো। লামিয়া এইবার দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে ভাব নিলো তা দেখে সবাই হেঁসে উঠলো। আবরার মুচকি হাসলো তা লামিয়ার চোখ এড়ালো না।
পিছন থেকে লাবিব লামিয়ার মাথায় গাট্টা মেরে বললো – নেত্রী চুপচাপ বস এখানে।
লামিয়া চোখ গরম করে বসে পড়লো। লামিয়ার ওপর পাশে লাবিব ও বসলো। আবরার আড়চোখে তা দেখে চোখ সড়িয়ে নিলো।
পাশ থেকে তায়েব হালকা সাউন্ডে গান বাজাচ্ছিলো
Bhula dena mujhe, hai alvida tujhe
Tujhe jeena hai mere bina
Safar ye hai tera, yeh rasta tera
Tujhe jeena hai mere bina
মাহির অনেক্ষণ যাবত দেখছে তায়েব চুপচাপ বসে আছে।
ফারিয়া বিরক্ত হয়ে বললো – তায়েব এসব কি গান লাগিয়েছো এই আনন্দের সময়, Disgusting ।
তারপর ও তায়েবের কোনো হেলদোল নেই। সবাই তায়েবের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
মাহির তায়েবের কাঁধে হাত রেখে বললো – কি হয়েছে এমন মজার দিনে তুই মুখ লটকে আছিস কেনো?
তায়েব ছলছল চোখে তাকালো সবার দিকে তা দেখে সবাই অবাক হলো। এই ছেলের চোখে পানি কেনো।
তায়েব ভাঙা গলায় বললো – সে চলে গেছে আমাকে ছেড়ে।
তায়েবের কথা শুনে সবাই বুঝলো লাভ সাভ নিয়ে কিছু হয়েছে।
মাহির বিরক্ত হয়ে বললো – কয় নম্বর ব্রেকআপ ?
তায়েব তা শুনে ভাঙা কন্ঠে রেগে বললো – মজা সবসময় ভালো লাগে না তোরা ভালো করে জানিস আমি এই নিয়ে দশটা প্রেম করেছি। তারপর ও কেনো বলছিস কয় নম্বর?
তায়েবা বললো – আহা রে তুই অনেক লয়াল রে ভাই। তাই তোরে সব মেয়েরা বাঁশ ভরে দেয় পিছন দিয়ে।
লামিয়া নাটকীয় ভাবে সুর তুলে বললো – সন্ধ্যা বেলা বেগুন খেতে করতে গেলাম চুরি।
সামনে থেকে মাহির তায়েবা এক সাথে হাতে তালি দিয়ে বলে উঠলো আহা।
লামিয়া আবার গেয়ে উঠলো – বেগুন আলায় ওমনি আমার হাতটা নিলো ধরি
মাহির তায়েবা আবার একসঙ্গে বলে উঠলো – আহা
লামিয়া আবার গেয়ে উঠলো – ধইরা নিয়া ভইরা দিলো, তার সাথে এইবার মাহির আর তায়েবাও গেয়ে উঠলো, ধইরা নিয়া ভইরা দিলো বেগুন আমার থলিতে আর যাবো না বেগুন তুলিতে ও গলিতে, আর যাবো না বেগুন তুলিতে।
বলেই তিনজন হেঁসে উঠলো।
তায়েব রেগে মাহিরকে হাতের সামনে পেয়ে দু এক ঘা বসিয়ে দিলো পিঠে। তারপর তায়েবা আর লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো – তোদের তো পড়ে দেখবো।
তায়েবা লামিয়া ভেংচি কেটে অন্য দিকে ফিরলো।
লাবিব পাশ থেকে বললো – ছিঃ কী বিশ্রী গান কোথায় পাস এইগুলো।
হামিদা পাশ থেকে বললো – তোরা থাম এখন তারপর তায়েবের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো – ভাই মেয়েটির নাম কী ছিলো?
তায়েব ভোঁতা মুখ করে এক বুক কষ্ট নিয়ে বললো – নাম ছিলো অন্তরা দিয়া গেলো যন্ত্রণা।
সবাই একজন আরেকজনের দিকে তাকালো।
তায়েবের মুখে অন্তরা নাম শুনে
মাহির লামিয়া তায়েবা হেঁসে সাউন্ড বক্সে ফুল সাউন্ড বাড়িয়ে দিয়ে গান চেন্জ করে অন্য গান লাগিয়ে দিতেই বেজে উঠলো
বুকে আগুন জ্বালাইয়া আমার
এই মন ভাংগ্গিয়া
বলো না হারালে কোথায় ও
অন্তরা আমার এই
অন্তর পুইড়া যায়
গানের তালে তালে মাহির তায়েবা লামিয়া ও গলা ফাটিয়ে গান গাওয়া শুরু করলো। এমনেই তায়েবের কথা শুনে সবার পেট ফেটে হাসি আসছিলো অনেক কষ্টে হাসি চেপে রেখেছিলো। কিন্তু এখন গান শুনে আর হাঁসি ধরে রাখতে পারলো না। সবাই হেঁসে উঠলো। তায়েব তা দেখে মুখ ফুলিয়ে বসে রইলো।
হাঁসি মজায় কেটে গেলো বেশ কিছুক্ষণ খাবার খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ সবাই যে যার মতো বিশ্রাম নিচ্ছে। হঠাৎ কারেন্ট চলে গেলো তার মধ্যেই ঝরঝর করে বৃষ্টি নামতে শুরু করলো। সবাই মুগ্ধ হয়ে বসে বসে বৃষ্টি দেখলো। লামিয়া হালকা হেঁসে উঠে গিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। আবরার তা খেয়াল করলো। কিছুক্ষণ পর লামিয়া ছাদে উঠে এলো গিটার হাতে। আবরার আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো। যে যার মতো বসে আছে গল্প করছে। ব্ল্যাকি আর জ্যাকি আবরারের পাশ ঘেঁষে শুয়ে আছে।
লামিয়া নিজের জায়গায় বসে গিটার তুলে টুং টাং আওয়াজ তুলতেই সবার চোখ পড়লো লামিয়ার দিকে।
শারমিন তা দেখে খুশি হয়ে বললো – উফ এখন জমে যাবে পুরো আসরটা।
লামিয়া হালকা হাসলো। তারপর গিটারের টুংটাং শব্দ করে সুর তুলে গেয়ে উঠে–
Tujhe Millke laga hai yeh
Tujhe dhundha raha tha main
Tujhme hai kuch aisi subah sa
Jiski khaatir main tha jaga sa
Aa tu mere khwaab sajaa ja re
Dill roye ya ilaahi tu
Aaja mere mahi
Mere mahi mere mahi maahi tu aaja
Mere maahi
O..hoo..hoo..hoo..hoo
Maahi maahi maahi, maahi maahi maahi
Dhadhkano mein maahi
Saaanson mein hai maahi
Tu hi hai mere dil ki tamanna,
Teri hi yaadein har lamha
De mujhe de apna anchal
Dhoop Mein jalta main harpal tujhme hai kuch aisi ghata sa
Jiske liye hoon main pyaasa sa
Aa tu meri pyaas bujha ja re…..
Dill roye ya ilaahi tu
Aaja mere mahi.
প্রিয় রাগিনী পর্ব ১৪
সবাই এক ধ্যানে মগ্ন হয়ে লামিয়ার গান শুনলো। লামিয়ার চোখে পানি চিকচিক করছে সেটা আর কেউ না দেখলেও একজনের নজরে ঠিকই পড়লো, কিন্তু কিছু বললো না। লামিয়ার গান শেষ হতেই সবাই হাতে তালি দিলো।
শারমিন যে হাত বাড়িয়ে অন্ধকারে রাশেদের হাত জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা দিয়ে গান শুনছে। শারমিন তা বুঝতে পারলো না সে দিব্যি আনন্দে গান শুনছে। রাশেদ শারমিনের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসলো। ইচ্ছে করলো শারমিনের কপালে ছোট্ট আদর দিতে কিন্তু দিলো না। মুখ ফিরিয়ে নিলো।
