Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৩

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৩

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৩
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

সকাল হতে না হতেই চেঁচামেচি করছে বেলাল শিকদারের স্ত্রী রাহিমা বেগম। কালা মিঞা নাকি তাঁর কচুর বাগানে হেগে এসেছে। এই অভিযোগ উঠেছে কালা মিঞার উপর।
সকাল সকাল এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেঁধেছে রাহিমা বেগম এবং কালা মিঞার স্ত্রী জরিনা বেগম এর সাথে।
ঝগড়া করতে করতে এক পর্যায়ে তাঁরা রাস্তায় এসেছে। তাদের এমন চিৎকার চেঁচামেচি শুনে সবাই দৌড়ে এসেছে। ইসলাম, খান, তালুকদার বাড়ির সবাই এসে দাঁড়িয়েছে। শুভ্র, রাশেদ, আবির, জাহিদ, সাফওয়ান, আরিফ, মাহির, তায়েব, ইমন,ইভান তাঁরা ফজরের নামাজ পড়ে একটু হাঁটাহাঁটি করে বাসায় আসতেই এমন ঝগড়া দেখে তারা থেমে গেলো।

ফজরের নামাজ পড়ে একটু ঘুমিয়েছিলো লামিয়া। ফাটা বাঁশ গলার চিৎকার শুনে বেশ বিরক্ত হয়ে ঘুম থেকে উঠে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াতেই ভ্রু কুঁচকে এলো তাঁর। সকাল সকাল রাস্তায় সবাই গোল করে দাঁড়িয়ে আছে তাঁর মাঝেই ঝগড়া করছে জরিনা আর রাহিমা বেগম।
লামিয়া সেখানে আর না দাঁড়িয়ে বিছানা থেকে উড়না নিয়ে দৌড়ে চললো বাহিরে।
এইদিকে ছবি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সবার দিকে।
লামিয়া দৌড়ে নিচে এসে দাঁড়ালো সবার সাথে। কি নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করলো।
” তোর জামাই আমার কচুর বাগানে হেগে এসেছে এখন আমি ওই কচু কীভাবে খাবো?”
বেশ চেঁচিয়ে বললো রাহিমা বেগম।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

স্বামী কে নিয়ে এমন কথা বলায় জরিনা বেগম বেশ ক্ষেপে গিয়ে বললো ” আমাগো বাড়ি কী পায়খানা নাই নাকি যে আমার জামাই তোর কচুর বাগানে যাইয়া হাগবো। ”
তাদের এমন কথা শুনে সবাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।
কিছু মহিলা রাহিমা এবং কিছু মহিলা জরিনা বেগম কে আটকালেন কিন্তু কেউই থামছে না। কোথা থেকে কালু মিঞা একটা আইক্কা আলা বাঁশ নিয়ে এসেছে। তা দেখে বেলাল সাহেব দৌড়ে বাড়ি থেকে দা নিয়ে এসেছেন। তাদের এমন কাহিনী দেখে সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাদের দিকে।
কালু মিঞা বেশ গলা ফাটিয়ে বাঁশ হাতে নিয়ে বেলাল সাহেব এর উদ্দেশ্যে বললো ” আমি হাগি নাই তোর কচুর বাগানে তারপর ও তোর বউ আমার নামে মিছা কথা কইতাছে। তোর বউ রে কিছু কইছ নয়তো মাথায় বারি মাইরা দুই ভাগ কইরা দিমু।”

বেলাল সাহেব রেগে কালু মিঞা কে বললেন ” আমার বউ রে মারবি আর আমি কী ছাইড়া দিম নি। এই দা দেখছোস এক বারে গ*লা হালায় দিমু। তোর পায়খানা নষ্ট হওয়াতে তুই কালকে হাগার জায়গা না পাইয়া আমার কচুর বাগানে হেগে এসেছিস। ”
একদিকে বেলাল সাহেব আরেক দিকে কালু মিঞা। আরেকদিকে তাদের স্ত্রীরা ঝগড়া করছে। মানুষ কাকে রেখে কাকে ফেরাবে সেটা বুঝতে পারছে না। আর ঝগড়ার বিষয় দেখে তাঁরা হাসবে নাকি কাঁদবে তাই বুঝতে না সবাই হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। মুরব্বি আর আনিসুল সাহেব তাদের থামাতে লাগলেন।
এইদিকে সকাল সকাল এই অকারণে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এলাকা গরম করে চিৎকার চেঁচামেচি করে ঘুম নষ্ট করায় লামিয়া বেশ বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।

এইদিকে তায়েব মাহির এর কাঁধে হাত রেখে বললো ” এই পরিস্থিতির মধ্যে আমার না একটা গান মনে পড়ছে।”
তায়েবের কথা শুনে লামিয়া, মাহির, তায়েবা ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাঁর দিকে। তা দেখে তায়েব দাঁত কেলিয়ে হেঁসে খেক খেক করে কেশে গলা পরিষ্কার করলো। তায়েব কে গলা পরিষ্কার করতেই রাশেদ, আরিফ, লাবিব, হামিদা, লামহা, সাফওয়ান, আবির, শুভ্র, ফারিয়া, ছবি, হাফসা, শারমিন, জাহিদ , ইভান, ইমন সবাই তাকালো তায়েব এর দিকে। এই ছেলে যে অসময়ে একটা কিছু করতে যাচ্ছে তা তাঁরা তায়েব কে দেখেই বুঝতে পারছে।
তায়েব গলা পরিষ্কার করে বেশ ভাব নিয়ে চোখ বুজে এক হাত উপরে তুলে জোরে গেয়ে উঠলো

~ কচু বনে হেগে গেলো
কালু মিঞা রেএএএএ
হেই কচু বনে হেগে গেলো
কালু মিঞা রেএএএএএ

বলেই চোখ খুললো সামনে তাকাতেই দেখলো ঝগড়া থামিয়ে সবাই তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। মুরব্বি রা এতোক্ষণ যে ঝগড়া থামিয়ে দিয়েছে তা তায়েব বুঝতে পারে নি। এই চিল্লাচিল্লি তে তাঁর গান কেউ শুনবে না দেখে সে একটু গান গেয়েছিলো কিন্তু ঝগড়া যে থেমে যাব গানের মধ্যে কে জানতো।
তায়েব পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো তাঁর মা তাহমিনা বেগম অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তায়েব ভয়ে গিলে অসহায় চোখে পিছনে তাকিয়ে দেখলো তাঁর সব ভাই বোন পিছনে দাঁড়িয়ে মুখ চেপে হাসছে।
তায়েব এর এমন অসহায় চেহারা দেখে লামিয়া মাহির এর কাঁধে হাত রেখে হতাশ গলায় বললো ” ছােট বেলায় কত কষ্ট করে মাতৃভাষার সব ধরনের গালি শিখছিলাম। কিন্ত চর্চা করার অভাবে অধিকাংশ গালি ই ভুলে যেতে বসেছি। মাঝে মাঝে এই তায়েব হারামজাদার কিছু কাহিনী দেখলে মন চায় গালি গুলা পুনরায় চর্চা করি। শালা সবসময় ভুল কোনা কোনো ভুল করবেই।”

লামিয়ার কথা শুনে তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন হেঁসে উঠলো।
এইদিকে কালু মিঞা তায়েব এর গান শুনে চিৎকার করে বললো ” ওই পোলা ওই তুই গেছিলি আমার লগে হাগতে? না জাইন্না হুইন্না উল্টা পাল্টা কথা কছ কেন?”
তায়েব কাচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। পাশ থেকে বেলাল সাহেব হেঁসে বললো ” দেখছিস সবাই জানে তুই করছোস এসব। ”

কালু মিঞা রেগে কিছু বলতে যাবে তাঁর আগে সবাই তাকে আটকালো।
তাহমিনা বেগম ক্ষেপে পায়ের জুতো খুলে এগিয়ে আসতেই তায়েব দৌড়ে শুভ্রর পিছনে পালালো।
এইদিকে বেশ কিছুক্ষণ বেলাল সাহেব আর কালু মিঞা কে বুঝিয়ে শুনিয়ে ঝগড়া থামিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে তাঁরা নিজেরা নিজেদের বাড়িতে চলে গেলো।
ছবি বুকে হাত ভাঁজ করে এতোক্ষণ দাঁড়িয়ে লাবিব কে দেখছে। লামিয়া আড়চোখে ছবি কে দেখে বিরক্ত হয়ে সামনে তাকাতেই দেখলো মনিকা তাদের দিকে আসছে। তবে চোখ তার তাদের পিছনে। লামিয়া এক ভ্রু উঁচিয়ে পিছন ঘুরতেই দেখলো লাবিব রাশেদ রা সবাই সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। মনিকা হেঁসে লাবিব এর কাছেই যে যাচ্ছে তা সে ভালো বুঝতে পেরেছে। লামিয়া সয়তানি হাঁসি দিয়ে মাহির, তায়েব, তায়েবা, ইমন, ইভানের দিকে তাকিয়ে কিছু ইশারা করতেই তাঁরা একটু সরে দাঁড়ালো।

ছবি এখনো মনিকা কে খেয়াল করে নি তাঁর চোখ আটকে আছে লাবিব এর দিকে।
মনিকা হেঁসে লাবিব এর কাছে আসতেই লামিয়া মনিকার সামনে পা বাড়াতেই মনিকা লামিয়ার পায়ে উষ্টা সোজা লাবিব এর উপর যেয়ে পড়লো। হঠাৎ এমন হওয়াতে লাবিব মনিকার ভার সামলাতে না পেরে মাটিতে বসে পড়েছে আর মনিকা লাবিব এর উপরে।
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। হঠাৎ এমন হওয়ায় ছবি প্রথমে বুঝতে না পেড়ে পড়ে ঠিক বুঝতে পেরে দাঁতে দাঁত চেপে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লাবিব এর দিকে।

এইদিকে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা, ইভান, ইমন মুখ চেপে হাসছে। শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে উঠলো। ল্যাং মেরে মনিকা কে যে লাবিব এর উপর লামিয়া ফেলে দিয়েছে তা শুভ্র তখনই দেখেছে।
এইদিকে লাবিব মনিকা কে নিয়ে বসে ছবির দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সেদিন বেশ কষ্ট করে রাগ ভাঙিয়ে ছিলো তাঁর। কিন্তু আজকে কিভাবে কী করবে সেই ভয়ে লাবিব ঢোঁক গিললো। লাবিব এর কোলে বসে মনিকা এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে লাবিব এর দিকে এসব দেখে ছবি আরো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে। লাবিব তা দেখে দ্রুত মনিকা কে সরাতে চাইলে মনিকা লাবিব এর গলা পেঁচিয়ে ধরে আহ্লাদী সুরে বললো ” বেব প্লিজ আমাকে কেলে তুলে নিয়ে চলো কতোদিন কোলে চরি না তোমার।”

মনিকার কথা শুনে ছবি পারছে না ওই মনিকার চুল ছিঁড়তে।
এইদিকে মনিকার কথা শুনে আর ছবির অবস্থা দেখে লামিয়া হা হা করে হেঁসে উঠতেই তাঁর সাথে তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন ও হেঁসে উঠলো।
ছবি লামিয়ার হাঁসি শুনে আরো রেগে গিয়ে কটমট দৃষ্টিতে লাবিব এর দিকে তাকিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরতেই পিছন থেকে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা, ইভান, ইমন এক সাথে গেয়ে উঠল

~ বুকটা ফাইট্টা যায়
ওও বুকটা ফাইট্টা যায়।
হাঁটা থামিয়ে ছবি রাগি দৃষ্টিতে লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া তা দেখে বমি করার মতো ভান করে অন্যদিকে দিকে ঘুরলো। লাবিব মনিকা কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উঠে ছবির কাছে দৌড়ে হাত ধরতেই ছবি লাবিব এর হাত ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে চলে গেলো বাড়ির মধ্যে।
লাবিব অসহায় চোখে সবার দিকে তাকালো। মনিকা ছবির পিছনে লাবিব কে যেতে রাগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চলে গেলো খান বাড়ির দিকে।
লামিয়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত কেলাছে দেখে লাবিব রেগে লামিয়ার কাছে এসে বললো ” তুই ইচ্ছে করে করেছিস তাই না..?”

লামিয়া হাম তুলে লাবিব এর দিকে তাকিয়ে এক ভ্রু উঁচিয়ে বললো ” কি ইচ্ছে করে করেছি?”
” মনিকা কে আমার উপর তুই ফেলেছিস তাই না।” দাঁতে দাঁত চেপে বললো লাবিব।
লামিয়া তা শুনে কান চুলকাতে চুলকাতে বললো
” খেয়ে কাজ নেই নাকি যে এসব করতে যাবো। আর প্রমাণ আছে যে আমি করেছি? প্রমাণ দেখিয়ে কথা বলবেন।”
বলেই মুখ বাঁকিয়ে চলে যেতেই লাবিব রেগে লামিয়ার হাত ধরতে যাবে তখনই লাবিব এর পিঠে ভীষণ শব্দ করে থাপ্পড় পড়লো। লাবিব থাপ্পড় খেয়ে শুভ্রর দিকে তাকালো মুখ ফুলিয়ে। লামিয়া কে রাগ দেখিয়ে কথা বলেছে দেখে শুভ্র যে ভীষণ রেগে গিয়েছে তা সে বুঝতে পেরেছে। তাই কিছু না বলে চলে গেলো বাড়িতে।
লাবিব চলে যেতেই যে যার মতো চলে গেলো বাড়িতে।

” আমি যতোটুকু জেনেছি লামিয়া কে মারার জন্য সেদিন রাতে অ্যাটাক করেছিলো তোমার বাড়িতে। ”
বলেই ঘুরে তাকালো ছবি। শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ছবির দিকে।
তা দেখে ছবি হেঁসে বললো ” আমি সেদিন বেশি প্রমাণ যোগাড় করতে পারি নি। সেখান থেকে বেঁচে ফিরেছি এইটাই আমার সাত কপালের ভাগ্য। ”

বলেই ব্যাগ থেকে একটা ক্যামেরা বের করে শুভ্রর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো ” তোমার সন্দেহ সত্যি। এইখানে সব প্রমাণ আছে। আর হ্যাঁ লামিয়া কে আমাদের দেখে শুনে রাখতে হবে নয়তো যখন তখন লামিয়ার উপর অ্যাটাক করতে পারে আর যে অ্যাটাক করবে সে কিন্তু তোমার কাছের মানুষ।”
শুভ্র “হুম” বলে ক্যামেরা টা হাত বাড়িয়ে নিয়ে ছলে গেলো নিজের রুমে। তাঁর ভয় টাই সত্যি হলো। তাঁর দূর্বলতা হিসেবে লামিয়া কে টার্গেট করেছে এখন তাঁর শত্রু পক্ষ। ভাবতে ভাবতে শুভ্র রুমে এসে ক্যামেরা চেক করতে লাগলো। হঠাৎ একটা হুডি পড়া অবয়ব টি কে দেখছ শুভ্র বেশ চমকে উঠলো। সে কি ভুল দেখছে নাকি । ভেবেই আরো কিছু ছবি দেখতেই শুভ্রর চোখ ভয়ানক লাল হয়ে উঠলো। তাঁর জন্যই ছবি বলেছে তাঁর কাছের কেউ লামিয়ার ক্ষতি করতে চায়।
শুভ্র আর কিছু না ভেবে ক্যামেরা টা রেখে ফোন নিয়ে চলে গেলো বেলকনিতে।

রাত প্রায় আড়াইটা বাহিরে ঝুম বৃষ্টি।
ইসলাম বাড়ির হল রুম চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার করে ফ্লোরে পাটি বিছিয়ে কম্বল, বালিশ আর বেশ কিছু খাবার নিয়ে বসে আছে ইসলাম বাড়ির সব ছেলে মেয়েরা। টিভিতে চলছে হরর মুভি । এক একজন ভয়ে কম্বল মুড়িয়ে মুভি দেখছে।

লামিয়া বেশ আরাম করে চিপস খেতে খেতে মুভি এনজয় করছে। তাঁর পাশেই বসে আছে শুভ্র।
বেশ নীরবতা পালন করে টিভি দেখছিলো সবাই। হঠাৎ ভুতের ভয়ংকর সিন আসতেই সবাই ভয়ে ভয়ে টিভির স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে, ভুত কখন আসবে সেই অপেক্ষায়। ভুত আসার আগেই আচমকা হল রুম কাঁপিয়ে তায়েব ঠাস করে বায়ু দূষণ করতেই হামিদা , লামহা, তায়েবা চিৎকার করে উঠলো। লামিয়া তাদের চিৎকার শুনে লাফিয়ে শুভ্রর হাত ঘামছে ধরলো।

সবাই রেগে তায়েব কে কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হতেই ঝুম ঝুম ঝুম নূপুরের শব্দ পিছন থেকে বেজে উঠলো।
তা শুনে সবাই এইবার বেশ ভয় পেলো। কেউ আর পিছনে ঘুরে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না। তখনই কারেন্ট চলে যেতেই টিভি অফ হয়ে যেতেই হালকা মোমবাতি আলোয় হল রুম আবছা আলোকিত হলো। সবাই ভয়ে ঢোক গিললো। ছবি বেশ বিরক্ত হয়ে পিছন ফিরতেই বড় বড় চোখ করে ভয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললো ” ভু ভু ভু ভু ভু”

লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” কি ভু ভু করছিস?” বলেই পিছনে ঘুরতেই শুভ্রর গলা জড়িয়ে চিৎকার করে উঠলো” আআআআআআআআআ মাআআআআআআ ভুততততততত”
সবাই লামিয়ার চিৎকার শুনে ঘুরে পিছনে তাকাতেই একসাথে চিৎকার করে উঠলো “আআআআআআআআআ”
এদিকে তায়েব পিছনের ব্যাক্তিকে দেখে চোখ উল্টিয়ে ঘুরে ফ্লোরে পড়ে গেছে। সেদিন কারোর খেয়াল নেই।
সবাই বসা থেকে উঠে অন্ধকারে যে যেখানে পারছে দৌড়াচ্ছে।

এদিকে নাতি নাতনি দের এমন চিৎকার আর দৌড়া দৌড়ি দেখে আজমেরী বেগম নিজেও মোমবাতি হাতে নিয়ে সবার পিছু দৌড়াচ্ছে। কী হচ্ছে তাঁর নাতি নাতনি এইভাবে কেনো দৌড়াচ্ছে ব্যাপারটা তাঁর দেখতে হবে।
এইদিকে চিৎকার শুনে বাড়ির কর্তিরা কর্তারা দৌড়ে আসলো। আনিসুল সাহেব লাইট হাতে সবার আগে দৌড়ে আসতেই দেখলো তাকে ক্রস করে সব ছেলে মেয়েরা সামনে দৌড়ে চলে গিয়েছে। আনিসুল সাহেব তাদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে লাইট হাতে নিয়ে সামনের দিক তাকাতেই একদম মুখের সামনে কাউকে দেখতেই ভয়ে চিৎকার করে বুকে হাত চেপে ট্যারা চোখে ঠোঁট বাঁকিয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলো।
হঠাৎ পায়ের নিচে গরম পানি অনুভব করতেই আজমেরী বেগম ভ্রু কুঁচকে নিচের দিকে তাকাতেই দেখলো আনিসুল সাহেব ভয়ে লুঙ্গি ভিজিয়ে দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।

তা দেখে আজমেরী বেগম বেশ বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে উঠলো ” বড় বউ তাড়াতাড়ি কইরা একটা ত্যানা নিয়া আহো তো। হারামজাদা বুইড়া বয়সে আইয়া লুঙ্গি তে মুইত্তা দিছে।”
হঠাৎ আজমেরী বেগম এর কন্ঠ শুনে রাশেদ রা সবাই দৌড় থামিয়ে পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখলো নিচে আনিসুল সাহেব চিত হয়ে শুয়ে আছে তাঁর পাশেই আজমেরী বেগম হাই হুতাশ করছে। রাশেদা বেগম দৌড়ে এসে স্বামী কে এই অবস্থায় দেখে কান্না জড়িত কন্ঠে ডাকতে লাগলেন।
আজমেরী বেগম বিরক্ত হয়ে বললো ” বড় বউ মুতের ভিতরে বইয়া কানবার লাগছো কেন? তাড়াতাড়ি ত্যানা নিয়া আহো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩২ (২)

রাশেদা বেগম মুখ তুলে আজমেরী বেগম এর দিকে তাকাতেই স্তব্ধ হয়ে গেলো।
আজমেরী বেগম রাশেদা বেগম এর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো ” কি হইলো কথা কী কানে যায় না? ”
বলেই রাশেদা বেগম কে হালকা ধাক্কা দিতেই রাশেদা বেগম ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৩ (২)