Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০ (২)

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০ (২)
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

দেখতে দেখতে কেটে গেলো আরো দু’দিন।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সবাই ব্যাগ পত্র গোছাতে শুরু করেছে। আজ তাঁরা চলে যাবে, তবে বাড়ির উদ্দেশ্যে নয় তাঁরা যাবে আবিরা বেগমদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। অবশ্য রাশেদ প্রথমে না করেছিলো কিন্তু ইসলাম বাড়ির চার বিচ্ছুদের জোরাজুরি আর তোয়ার কান্নার কারণে এক প্রকার রাজি হয়েছে সে। তাই সেখানে আরো দু’দিন থেকে
একবারে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হবে সবাই।

সবাই তৈরি হয়ে বাগান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে সবার থেকে বিদায় নিলো। একে একে সবাই বিদায় নিয়ে বাসে উঠে বসলো। আবির লামহা কে বেশ সাবধানে বাসে উঠিয়ে একটা সিটে আরাম করে বসালে। লামিয়া বাসে উঠতেই কী মনে করে জমিদার বাড়ির ছাদের দিকে তাকালো ‌। সেদিকে তাকাতেই দেখলো আশিক তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। আশিকের দিকে পলক ফেলে হালকা হেঁসে বাসের সিটে গিয়ে বসলো। রাশেদ আদনান আলীর সাথে টুকটাক কথা বলে বিদায় নিলো। জানালার পাশে বসে তায়েবা হেঁসে হেঁসে কথা বলছে লামহার সাথে। নূর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তায়েবার দিকে। এই কয়েকদিনে নূরের মনে অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে এই মেয়েটি। তবে সেদিন যখন জাহিদের থেকে শুনলো তায়েবা কে সে ভালোবাসে এবং তাকে তায়েবার থেকে দূরে থাকতে বলেছে। সেদিন থেকে নূর তায়েবা কে নিজের মনের কথা বলতে পিছু হাটলো। কথাটা ভেবেই নূর দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। এদিকে নূর তায়েবার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে তাঁর দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জাহিদ। তায়েবার দিকে নূর তাকিয়ে আছে তা যেনো সহ্য হচ্ছে না তাঁর। তাই পিছনের সিট থেকে উঠে ধুপধাপ শব্দ করে পা ফেলে তায়েবার সিটের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললো ” তায়েবা পিছনের সিটে আয় তোর সাথে কথা আছে।”

জাহিদের কথা শুনে তায়েবা ভ্রু কুঁচকে জাহিদের দিকে তাকালো। সেদিন রাতে জাহিদ তায়েবার সাথে খারাপ ব্যবহার করায় তায়েবা জাহিদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই জাহিদের কথা পাত্তা না দিয়ে তায়েবা আবারো লামহার সাথে কথা বলায় মনোযোগ দিলো। তায়েবা তাঁকে পাত্তা দিচ্ছে না দেখে জাহিদের রাগ মনে হয় এবার আরো বেরে গেলো। কোনো কিছু না ভেবে লামহার পাশ কেটে তায়েবার হাত ধরে এক ঝটকায় তায়েবা কে বস থেকে দাঁড় করিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো
” একদম থাপ্পড়ে গাল লাল করে ফেলবো বেয়াদব মেয়ে। কথা বলছি কানে যায় না। ”
হঠাৎ করে জাহিদের চেঁচানো শুনে বাসে বসা সবাই ভরকে গেলো। সবেই আদনান আলীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসে উঠেছে শুভ্র, রাশেদ আর লাবিব। জাহিদের কথা শুনে তাঁরা ভ্রু কুঁচকে তাকালো জাহিদের দিকে। তায়েবা জাহিদের চোখে চোখ রেখে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু জাহিদ তাঁর হাত শক্ত করে ধরে রাখার কারণে মেয়েটা পারছে না তাঁর হাত ছাড়াতে।

” জাহিদ হচ্ছে কী? ওকে এভাবে বকছিস কেনো? আর ছাড় তায়েবার হাত।” পিছনের সিট থেকে বলে উঠলো সাফওয়ান।
রাশেদ এগিয়ে আসতে আসতে জাহিদের উদ্দেশ্যে বললো ” জাহিদ ছাড় আমার বোন কে। ওর হাতে ব্যাথা পাচ্ছে দেখতে পাচ্ছিস না তুই?”
রাশেদের কথা শুনে জাহিদের যেনো রাগ আকাশে ছুঁয়ে গেলো। রাগে জ্ঞান হারিয়ে রেগে বললো ” পাক ব্যাথা। সবাই ওর ব্যাথা টাই দেখতে পেলে আর আমি যে ব্যাথা পাচ্ছি ওইটা দেখতে পাচ্ছো না তোমরা??”
” কী জাহিদ ভাই ক*ষা হয়েছে নাকি আপনার, যে আমরা আপনার ক*ষার কষ্ট দেখতে পাচ্ছি না??” শান্ত গলায় বলে উঠলো লামিয়া ।
লামিয়ার কথা শুনে মাহির, তায়েব আর তোয়া হেঁসে উঠলো। এইরকম একটা সিরিয়াস মোমেন্টে লামিয়ার থেকে মশকরা আশা করে নি কেউ। তাই শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” মুখ টা অফ করে রাখা কিছুক্ষণের জন্য।”
লামিয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো

” আপনার কানটা কী বন্ধ করা যাবে কিছুক্ষণের জন্য?”
লামিয়ার কথা শুনে লাবিব বিরক্ত হয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো
” তুই ভাই এর সাথে কথা না বলে কলা গাছের সাথে কথা বল তাও ভালো হবে।”
” উফফফ তোরা আবার কী শুরু করলি?? এই এই জাহিদ সর তো। আমার বউয়ের উপর থেকে।” বলতে বলতে জাহিদ কে সরিয়ে দিয়ে আবির হামিদার পাশে এসে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রেখে আবারো বিরক্ত হয়ে বললো ” এই তায়েবা তুই এখান থেকে বের হ। আমার বউ জানালার সিটে বসবে আর আমি তাঁর পাশে। তোরা হাত টানা টানি অন্য জায়গায় গিয়ে কর।”
আবিরের কথা শুনে তায়েবা ভ্রু উঁচিয়ে বললো ” আমি এখানে মেজো আপার সাথে বসেছি তাই আমি এখানেই বসবো। আপনি অন্য কোথাও গিয়ে বসুন।”
” দেখছিস,দেখছিস লামহা তোর বোন কত্ত বড় বেয়াদব আমার থেকে তোকে আলাদা করতে চাইছে। এই শোন আমি এখানে আমার বউয়ের সাথেই বসবো।” বলেই আবির জাহিদের হাত থেকে তায়েবার হাত ছাড়িয়ে তায়েবার হাত ধরে সিট থেকে বের করে লামহা কে জানালার পাশে বসিয়ে দিয়ে বিশ্ব জয়ের হাঁসি দিলো তায়েবার দিকে তাকিয়ে।
আবিরের এই হাঁসি দেখে তায়েবা যেনো জ্বলে উঠলো। তায়েবা কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই লামিয়া আবারো শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো

” এখন যতো পারেন শান্তি মতো বসে নিন আবির ভাই। পরে
আপনি সিটে আপনার বাম – ডান বসাতে পারবেন কি না তা সন্দেহ।”
লামিয়ার কথায় আবির ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো। তারপর মুখ বাঁকিয়ে লামহার পাশে বসতে বসতে বলল ” কোথায় কীভাবে আমার বাম – ডান বসাতে হবে সেটা আমি দেখে নিবো। তোকে আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না।”
আবিরের কথা শুনে লামিয়া ঠোঁট ফাঁক হাসলো। এতোক্ষণ বেশ ধৈর্য্য ধরে তাদের ঝগড়া দেখছিলো আবিরা বেগম, আজমেরী বেগম এবং শফিকুল খান। তবে এখন তাদের ধৈর্য বাঁধ ভেঙে যেতেই আজমেরী বেগম চেঁচিয়ে উঠলো
” তোগো পিরিতের ঝগড়া মিটছে, নাকি আরো করবি তোরা??”
আজমেরী বেগম এর কথা শুনে তায়েবা বিরক্ত হয়ে বললো ” উফফ দাদী এতো ক্যাঁচ ক্যাঁচ করো না তো। চুপচাপ বসে থাকো।” বলেই লামিয়ার পাশের সিটে ধপ করে বসে পড়লো তায়েবা।
” দেখছো বুবু কেমন তেজ তোমার নাতনীর??”
” হ দেখছি তুই ও দেখ।”

” আমি তো আহার পর থেকাই দেখতাছি তোমার সব নাতি নাতনির কাহিনী। আমি কইতাছি ওগো রে বিয়া দিয়া দাও। বিয়া দিয়া দিলে সব ঠিক হইয়া যাইবো। লগে এই তেজ ও।”
আবিরা বেগম এর কথায় আজমেরী বেগম পাত্তা না দিয়ে চুপচাপ বসে কোমড় থেকে নিজের ফোন বের করে টিপতে লাগলো। আবিরা বেগম তা দেখে মনে মনে ভেংচি কেটে বসে রইল সিটে।
রাশেদ বলতেই ড্রাইভার বাস চালাতে শুরু করলো। কুয়াশার রাস্তায় বাস চলছে নিজ গতিতে।
লাবিব এগিয়ে গিয়ে ছবির পাশের সিটে বসতেই ছবি লাবিব এর কাঁধে মাথা রেখে চোখ বুজলো। লাবিব ছবির কাঁধে হাত রেখে বললো ” কি হয়েছে তোর?”
ছবি চোখ বুজে আস্তে করে বললো

” কিছু না একটু ঘুমাতে দিন, কেন জানি অনেক ক্লান্ত লাগছে।”
লাবিব আর কিছু না বলে ছবির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।
আজ কেউ হৈ হুল্লোড় করে নি। যে যার মতো বসে আছে বাসে।
আবিরা বেগমদের বাড়িতে আসতে আসতে রাত দশটা বেজে গিয়েছে। বাস বাড়ির সামনে এসে থামতেই সবাই একে একে বেরিয়ে এলো বাস থেকে।
বাস থেকে সবাই নামতেই দেখলো আবিরা বেগম এর ছেলে তুষার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না দাঁড়িয়ে আছে তাদের জন্য। তাদের দেখে তোয়া মাহিরের কোল থেকে লাফ দিয়ে নেমে দৌড়ে গিয়ে স্বপ্না বেগম এর কোলে উঠে গেলো। এতো দিন পর মেয়ে কে পেয়ে স্বপ্না বেগম ও মেয়ে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন। তুষার এগিয়ে গিয়ে আজমেরী এবং শফিকুল খান কে সালাম দিয়ে বললো ” কেমন আছেন আপনারা?? আসতে কোনো অসুবিধে হয় নি তো??”
শফিকুল খান হেঁসে বলল ” আরে না কোনো অসুবিধা হয় নি।” শফিকুল খান এর কথা শুনে তুষার হেঁসে সবার সাথে কৌশল বিনিময় করলো। স্বপ্না বেগম ও এগিয়ে এসে হাঁসি মুখে সবার সাথে কৌশল বিনিময় করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেলো।
স্বপ্না বেগম সবাইকে যে যার রুম বুঝিয়ে দিয়ে খাবার পরিবেশন করতে চলে গেলেন দ্রুত। সবাই ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার খেতে খেতে টুকটাক কথা বলে চলে গেলো নিজেদের রুমে। সারাদিন জার্নি করায় সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। খেয়ে একটা ঘুম দিলে হয়তো এই শরীরের ক্লান্ত ভাব টা কমবে তাই আজ কেউ করলো সাথে কথা না বলে চলে গেলো ঘুমাতে।

” এই প্ল্যান ও সাকসেস হয় নি শুধু মাত্র তোমার জন্য।”
” আমার উপর দোষ দেওয়া বন্ধ করো। ওই জমিদার বাড়ির পুত্র আমার কাজে বাঁধা না দিলে আমি ওকে তোমার হাতে তুলে দিতে পারতাম।”
” আমার যেভাবেই হোক ওই মেয়েকে আমার চাই।”
” ওও কী হাতের মোয়া যে চাইলেই আর পেয়ে গেলে।”

” এতো কথা তো শুনতে চাই নি। আমি শুধু এইটুকু জানি ওই মেয়েকে আমার চাই মানে চাই যে কোনো মূল্যে। ওই মেয়ের সাথে আমার এখনো অনেক লেনদেন বাকি আছে। আমি ছাড়বো না ওই মেয়েকে যার জন্য আমার হাতের এই অবস্থা হয়েছে তাকে আমি দেখে নিবো।” বলেই নিজের হাতের দিকে তাকালো মার্কাস। উল্টেপাল্টে দেখলো নিজের হাত। হাত দেখতে দেখতে সেদিন রাতের কথা মনে পড়তেই প্রতিশোধের আগুনে চোখ গুলো জ্বলে উঠলো। ওই মেয়ের জন্য ফ্যালকন তার হাত ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিলো। এর প্রতিশোধ তো সে নিয়েই ছাড়বে। তবে সেদিন মার্কাস এইটুকু বুঝেছে যে, ফ্যালকনের দূর্বল পয়েন্ট ইসলাম বাড়ির কন্যা লামিয়া। আর ফ্যালকন কে জব্দ করতে হলে আগে ফ্যালকনের দূর্বল পয়েন্ট আঘাত করতে হবে। দূর্বল পয়েন্ট আঘাত করলেই ফ্যালকন নিজে থেকেই বেরিয়ে আসবে। অবশ্য সেদিন রাতে ফ্যালকন কে দেখে নি সে। কিন্তু কে এই ফ্যালকন তা তো জানতেই হবে।
মার্কাস এর রাগ দেখে পাশে বসে থাকা হুডি পড়া অবয়ব টি হাসলো। তারপর বলল ” আমি যতোদূর জানি তুমি ছবি কে চাও। কিন্তু মাঝে এসে তুমি ছবি কে ভুলে লামিয়া কে চাইছো। সেটা কী প্রতিশোধের জন্য নাকি..!”
কথা টা শুনে মার্কাস পাশ ফিরে তাকালো অবয়বটির দিকে তারপর বাঁকা হেঁসে আর কিছু বললো না। তাঁর তুষার রানী কে সে কীভাবে ভুলতে পারে। তাঁর তুষার রানী কে নিতে এসেই তো এতো কিছু তা না হলে সে এইসব তুচ্ছ ঘটনায় নিজে কীভাবে জড়িয়ে গেলো তা মার্কাস এখনো বুঝে উঠতে পারছে না। তবে সে চায় খুব শীঘ্রই তাঁর তুষার রানী কে নিয়ে লন্ডনে চলে যেতে। সেখানে গিয়ে তাঁর রানী কে নিয়ে একটা জগৎ তৈরি করবে। মার্কাস কিছু ভাবতে ভাবতে মুচকি হাসলো।
সামনের সিটে বসে মার্কাস কে হাসতে দেখে মনা ভ্রু কুঁচকে বললো

” তুমি একা একা হাসছো কেনো মার্কাস??”
মনার কথা শুনে পাশ থেকে রিস্ক বলে উঠলো ” মার্কাস জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছে তাই হাসছে।”
রিস্ক এর কথা শুনে বেশ বিরক্ত হলো মার্কাস। তাই সে বিরক্ত হয়ে বললো ” বদ্দ বেশি কথা বলছো তোমরা। মুখ বন্ধ রেখে চুপচাপ গাড়ি চালাও।” বলেই আবার আগের মতো চুপচাপ বসে থাকলো।
শুনশান নিরিবিলি রাস্তায় ফুল স্পীডে গাড়ি চালাচ্ছে রিস্ক। ঠিক তখনই রাস্তার মাঝ বরাবর একটা বিশাল বড় গাছ পড়ে থাকতে দেখে রিস্ক ব্রেক কষলো। ফোনের মধ্যে পুরো মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলো মনা। রিস্ক ব্রেক কষতে বেশ রেগে গেলো। রাগ নিয়ে বেশ তিক্ত গলায় বললো ” কী সমস্যা রিস্ক গাড়ি থামালে কেনো?? আমাদের তাড়াতাড়ি বাড়িতে পৌঁছাতে হবে ভুলে গিয়েছো??”
” আরে গাড়ি আমি থামাতে চাই নি সামনে তাকিয়ে দেখো রাস্তার মাঝে গাছ পড়ে আছে।”
রিস্ক এর কথা শুনে মনা এবার সামনে তাকাতেই দেখলো সত্যি রাস্তার মাঝে গাছ পড়ে আছে। এই শীতের রাতে তো ঝড় বৃষ্টি হওয়ার ও কথা না তাহলে??

মার্কাস, হুডি পড়া অবয়ব, মনা আর রিস্ক কিছু একটা ভাবতেই চমকে উঠলো। হুডি পড়া অবয়ব টি ফটাফট হুডির পকেট থেকে গান বের করতে করতে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো ” নিজের জান বাঁচাতে এখন ই গাড়ি থেকে বের হও নয়তো মারা যাবে।” বলেই গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো।
অবয়বটির কথা শুনে মার্কাস,মনা আর রিস্ক আর কিছু না ভেবে গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে যেতেই ধপ করে গাড়িতে আগুন জ্বলে উঠলো। মার্কাস, মনা, রিস্ক আর অবয়ব টি সরে যেতেই দূর থেকে একটা তীর এসে তাদের পায়ের সামনে পড়লো। মার্কাস, মনা, রিস্ক কোমড় থেকে নিজেদের গান বের করে সতর্ক ভাবে কান খাড়া করে আশেপাশে তাকাতেই শুনতে পেলো অনেক গুলো ঘোড়ার পায়ের শব্দ। যা টগবগ টগবগ করে তাদের কাছেই আসছে মনে হচ্ছে।

” এতো রাতে ঘোড়া আসছে কোথা থেকে?”
” আমার মনেও সেই এক প্রশ্ন।”
” এরা কে বা এতো গুলো ঘোড়া কোথা থেকে আসছে আমি জানি না। তবে মার্কাস আমার যতোদূর মনে হয় এখানে থাকা ঠিক হবে না। দ্রুত পালাতে হবে আমাদের।”
অবয়বটির কথা শুনে মনা মাথা নাড়িয়ে বললো ” হ্যাঁ হ্যাঁ তোমার সাথে আমি একমত। মার্কাস প্লিজ চলো এখান থেকে।”
বলেই রিস্ক টেনে নিয়ে যেতে লাগলো মার্কাস কে। কে তাদের গাড়িতে আগুন লাগালো, কারা তাদের পিছু নিলো তা তারা কেউ জানে না। তবে শুধু এইটুকু জানে এখানে যদি তাঁরা আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে তাদের মধ্যে কেউই বেঁচে ফিরতে পারবে না। তবে হঠাৎ করে তাদের উপর এভাবে কেউ আক্রমণ করে বসবে তা ভাবতে পারে নি তাঁরা। কে এভাবে হুট করে আক্রমণ করে বসলো তা নিয়ে বেশ চিন্তিত মার্কাসরা। তবে নিজেদের জান আগে বাঁচাতে হবে এই মূহুর্তে, তাই জান বাঁচাতে দৌড় লাগালো চারজন।
মার্কাস রা চোখের আড়াল হতেই
কয়েকটা ঘোড়া এসে থামলো সেখানে।

” হাহহ পালিয়ে গেলো।”
” পালিয়ে যাবে কোথায়?? সময় হলে পাখি ঠিক ফাঁদেই পা দিবে।”
বলেই সাদা ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে এলো কালো শাড়ি পড়া এক রমনী। তাঁকে ঘোড়ার থেকে নামতে দেখে তাঁর দলের লোকেরাও ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে কাঁধের ব্যাগ থেকে একটা হারিকেন আর লাইটার বের করে তা জ্বালিয়ে দিলো। হারিকেনের মৃদু আলো চারদিকে ছাড়িয়ে পড়তেই সামনে থাকা তেজি এক রমনীকে দেখা গেলো। জ্বল জ্বল করে উঠলো এক জোড়া কাজল কালো চোখ। মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে রাখার কারণে মুখ দেখা যাচ্ছে না তাঁর। তবে হারিকেনের মৃদু আলোতে চোখ গুলো বেশ দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট ভাবে।
অগ্নি দৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষণ আশেপাশে চোখ বুলিয়ে দলের লোকদের দিকে তাকিয়ে রমনী টি বলে উঠলো
” আজকের মতো এইটুকুই, এবার গন্তব্য যাওয়া যাক।”
কথাটা শুনে আর কেউ কোনো কথা না বলে সবাই আবার ঘোড়ার পিঠে উঠে গেলো।

” সর্দারানী।”
” হুমম।”
” যেতে দিলেন যে ওদের।”
” ওই যে বললাম না সময় হলে পাখি নিজে এসে ধরা দিবে। তাই মাথায় এতো প্যারা না নিয়ে দ্রুত চলো।”
বলেই সাদা ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘোড়া নিয়ে ছুটতে লাগলো। তাঁর পিছন পিছন দলের লোকেরা।
শীতের কুয়াশামাখা শেষ রাত। নির্জন পথে টগবগ টগবগ শব্দ করে ঘোড়া ছুটে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে। ঠিক তখনই সাদা ঘোড়ার পিঠে বসে থাকা রমনী ঠোঁট গোল কে শিস বাজিয়ে উঠলো।
“সারাটাদিন
ঘিরে আছো তুমি এত রঙিন
হয়নি কখনও মন
সারাটা রাত
আসছে না ঘুম ধরেছি হাত
থাকবো সারাজীবন”

শরীর উপর ভারি কিছু অনুভব করতে চোখ খুললো শুভ্র। নিজের বুকের উপর লাবিব কে শুয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে লাবিব কে জোরে এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। বাহিরের লাইটের আবছা আলো এসে পড়ছে রুমে। শুভ্র ভালোমতো চোখ কচলে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো রাশেদ, লাবিব, জাহিদ মরার মতো পরে ঘুমাচ্ছে। শুভ্র তাদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাশে থাকা টেবিল থেকে পানির গ্লাস তুলে তা পান করে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখ মুছে বালিশের নিচ থেকে ফোন বের করে সময় দেখে নিলো। তারপর আবার হাই তুলে বালিশে মাথা রাখতেই কানে ভেসে আসলো সেই পরিচিত শিস এর শব্দ। তবে শুভ্র আজ আর অবাক হলো না। যখনই সে বিপদে পড়ে তখনই সেই কালো কাপড় পড়া অবয়ব টি শিস বাজাতে বাজাতে তাঁকে বাঁচিয়ে নেয়। আবার মাঝে মাঝে গভীর রাতে ও শুনতে পায় সে এই শিস এর শব্দ।
শুভ্র চোখ বুজে গভীর ভাবে শুনতে লাগলো শিস এর শব্দ। তারপর কিছু ভেবে মুচকি হেসে চোখ বুঝতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো লামিয়ার হাসিমাখা মুখ খানি। শুভ্র চোখ বুজেই মৃদু হেঁসে বিরবির করে বললো ” আমার একান্ত ভ্রমর।”

পরেরদিন বিকেলে, আবিরা বেগমদের উঠানে মাদুর বিছিয়ে ভাবুক হয়ে বসে আছে ইসলাম ও খান বাড়ির ছেলেরা। আজকে তাদের আড্ডা খানাতে মেয়েরা নেই। কারণ সব মেয়েরা আজ ঘুমাচ্ছে। কাল রাতের খাবার খেয়ে যে সেই ঘুমোতে গিয়েছে এখনো তাদের উঠার নাম গন্ধ ই নেই। কাহিনী কী দেখার জন্য মাহির আর তায়েব সেখানে দেখতে গিয়েছিলো। গিয়ে দেখে তাঁরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুমিয়ে আছে। মাহির আর তায়েব তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে এতো বেলা করে ঘুমানোর কারণ জানতে চাইলে লামিয়া তাদের ইচ্ছা মতো পিটিয়ে পা*ছায় লাত্থি মেরে রুম থেকে বের করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। এবং সবাই কে বলে দিয়েছে ঘুম হলে তারাই উঠে যাবে। তাদের ঘুমে যেনো কেউ ব্যাঘাত না ঘটায়।
এর পরে কেউ আর তাদের ডাকার সাহস পায় নি।

” আহহহহ বোরিং লাগছে।”
” তাহলে চলো কিছু করি।”
” কী করবি??”
” ঘুরে আসি।”
” আমার ছবি কে রেখে ঘুরতে যাবো??” ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো লাবিব।
” এই লাবিব ভাই নাটক কম করেন। এমন ভাব করছেন মনে হয় ছবি কে ছাড়া কোথাও একা যান না।”
” আসলেই আমি যাই না বিশ্বাস কর। আমি তোদের বোন কে এতোটাই ভালোবাসি যে বাথরুমে গেলেও তোর বোন কে ভিডিও কলে রাখি।”
” ছিঃ লাবিব ভাই। ”
” আরেহহ সত্যি কথা।”
লাবিব এর কথায় রাশেদ, সাফওয়ান, আরিফ, আবির, মাহির, শুভ্র, তায়েব, জাহিদ বিরক্ত হয়ে তাকালো তাঁর দিকে।

” কী এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো তোমরা??”
রাশেদ লাবিব এর মাথায় গাট্টা মেরে বললো
” জ্ঞান কী সব গুলিয়ে গেয়ে ফেলেছিস??
” আরেহহ আমি আবার কি করলাম?”
” কি করিস না তুই সেটা বল।”
” এখানে এতো চেঁচামেচি কিসের??” হাই তুলতে তুলতে বললো শারমিন। শারমিনের কথার শব্দ শুনে ছেলেরা সব ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলো একে একে মেয়েদের দল এগিয়ে আসছে তাদের সামনে।
” ওওহোও মহারানী ভিক্টোরিয়া দের তাহলে আজ মুখ দর্শন হলো। যাক বাবা তাদের মুখ দেখে জীবন ধন্য হয়ে গেলো।” মুখ ভেংচি কেটে বললো লাবিব।
” সবসময় মেয়েদের মতো মুখ চ্যাগান কেনো?? দেখতে কেমন দেখা যায়??”
বলতে বলতে মাদুরে এসে বসলো তায়েবা। তায়েবার কথা শুনে লামিয়া বললো

” মনে করে তাঁকে ভীষণ সুন্দর লাগে। কিন্তু সে এটা জানে না তাঁকে পুরো বিশ্রী লাগে।”
” আসতে না আসতেই তোরা একজন আরেকজনের পিছু লাগা শুরু করে দিয়েছিস??”
” উফ ওওও বড় আপা এটা সত্যি কথা। আর সত্যি কথা শুনলে মানুষের পিছন জ্বলে।”
লামিয়ার কথা শুনে লাবিব জ্বলে উঠলো
” একটা থাপ্পর মেরে কান লাল করে দিবো বেয়াদব। কোনটা সত্যি বলেছিস তুই হ্যাঁ??”
লামিয়া এগিয়ে এসে শুভ্রর পাশে বসে লাবিব এর দিকে এক আঙ্গুল তুলে হামিদার দিকে তাকিয়ে বললো
” দেখেছিস বলেছিলাম না সত্যি কথা বললে মানুষের পিছন জ্বলে।লাবিব ভাই হলো তাঁর প্রমাণ।”
লামিয়ার কথা শুনে তায়েব, তায়েবা, মাহির হো হো করে হেঁসে উঠলো। হাসতে হাসতে তায়েব বললো ” বেশি জ্বালা করছে লাবিব ভাই??”
লাবিব এর কথা শেষ হতেই তায়েবা বলে উঠলো ” বেশি জ্বালা করলে বলুন আইস নিয়ে আসছি।”
তায়েবার কথা শেষ হতেই মাহির বলে উঠলো ” আর যদি শীতে বরফ লাগাতে ভয় পান তাহলে পানি লাগিয়ে আসুন জ্বালা টা কমবে।”

তাদের তিনজনের কথা শুনে এবার আর কেউ চুপ করে থাকলো না ফিক করে সবাই ফেঁসে উঠলো। ছবি হাসতে হাসতে লাবিব এর কাঁধে হালকা থাপ্পড় দিতেই লাবিব মুখ গোমড়া করে বললো ” তুই ওও??”
ছবি লাবিব এর ফেস দেখে নিজের হাঁসি কন্ট্রোল করতে চাইলো কিন্তু না পেরে উল্টো আরো হেঁসে উঠলো। তা দেখে এবার লাবিব এর রাগ হলো। তাই রেগে বললো
” তোরা সব গুলো আমার জাত শত্রু। যাও বউ টা আমার পাশে ছিলো সেই বউটা কেও তোরা আমার বিপক্ষে নিয়ে গিয়েছিস?? থাকবো না তোদের সাথে।”
হঠাৎ লাবিব এর এমন বাচ্চাদের মতো কথা শুনে সবাই আরেক দফা হেঁসে উঠতেই লাবিব রেগে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যেতে নিলেই ছবি লাবিব এর হাত ধরে আটকে দিলো।
” কোথায় যাচ্ছেন??”
” জাহান্নামের। ছাড় আমার হাত।”
” আরে বসেন তো। আমরা তো মজা করছিলাম।”
” না আমি বসবো না ছাড় তুই আমার হাত।”
” না ছাড়বো না বসেন।”

লাবিব তবুও বসছে না, ছবিও লাবিব এর হাত ছাড়ছে না। লাবিব এর খুব রাগ লাগছে নিজের উপর। কেনো যে এদের সাথে যেচে পড়ে কথা বলতে যায় কে জানে?? কথা বলতে গেলেই অন্য প্রসঙ্গে নিয়ে চলে যায়। দূর ভাল্লাগে না, আর তাঁর বউটা ও হয়েছে। কোথায় স্বামীর পক্ষ নিয়ে কথা বলবে তা না উল্টো সবার সাথে মিলে তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করে। যেখানে বউই তাঁকে বোঝে না সেখানে মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি তো করবেই। ভেবেই মনে মনে আফসোস করলো।
লাবিব কে বসতে না দেখে আবির বলে উঠলো
” আহা লাবিব কী বাচ্চাদের মতো করছিস?? বস চুপচাপ ।”
আবিরে কথা শুনে লাবিব মুখ ফুলিয়ে ছবির পাশটায় বসলো। তারপর জমে উঠলো তাদের দুষ্টু মিষ্টি হাসির আড্ডার আসর।
দূর বারান্দায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভাই – বোনদের হাসি ঠাট্টা মুগ্ধ হয়ে দেখছে আজমেরী বেগম।

” বুঝলা শফিকুল ওগো সবাইরে এক লগে দেখলে যে কতোডা ভাল্লাগে আমার। এমনে একজন আরেকজনের পিছনে লাগে কিন্তু মিল দেখছো ওগো??”
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সামান্য হাসলো শফিকুল খান। তারপর দৃষ্টি দিলো উঠানে বসে থাকা নাতি নাতনি দের দিকে।
তাদের দেখে কে বলবে যে তাঁরা আলাদা আলাদা পরিবারের সন্তান। তাদের দেখলে মনে হয় তাঁরা সবাই এক রক্তের। নাতি – নাতনি, নাত বউ, নাত জামাইদের দেখে চোখ ভিজে আসলো আজমেরী বেগম এর। শাড়ির আঁচল দিয়ে ভেজা চোখ টা মুছে আবার বললো
” জানো শফিকুল এই জীবনে আমি সব পাইছি। আল্লাহ আমারে সব দিছে। ভালো ঘর দিছে, ভালো বর দিছিলো, আমার ঘর ভর্তি পোলাপাইন দিছে। হাঁসি মজার ছলে কাইট্টা গেছে আমার জীবন। কিন্তু আফসোস তোমার ভাই এই সুখের দিন দেখবার পারলো না।” বলেই নাক টানলেন আজমেরী বেগম। তারপর আবার বলতে লাগলো।
” এহন আমি মইরা ও শান্তি পামু। এই এক জীবনে আল্লাহ আমারে অনেক কিছু দিছে। আর কিছু চাই না আমি এই জগৎ সংসারে। আল্লাহ আমার পোলাপাইন গুলারে ভালো রাখুক এই দোয়াই করি। ওগো দেখলে যে বুকে কী শান্তি লাগে এইডা বইলা বোঝান যাইবো না।”
বলেই আজমেরী বেগম আবারো চোখ মুছলেন। শফিকুল খান তা দেখে মুচকি হাসলো। যে মহিলা নাকি সবসময় সবাই কে আনন্দে রাখে সে মহিলার চোখের ও পানি দেখছে শফিকুল খান।

হাসি – মজায় কেটে গেলো দুদিন। বাড়ির থেকে কল এসেছে কালকের মধ্যেই যেনো বাড়ি ফিরে যায় সবাই কড়া আদেশ জানিয়েছে লুবনা বেগম। তবে কিছু কাজ থাকায় শুভ্র, রাশেদ, লাবিব বাড়িতে সবার সাথে কথা বলে জানিয়ে দিয়েছে জরুরি কিছু কাজ থাকায় আরো দু’দিন পর বাড়িতে ফিরবে তাঁরা। একবারে কাজ শেষ করেই বাড়ি ফিরবে তাঁরা। বাড়ির ছেলেরা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাড়ির বড়রা আর কেউ কিছু বলে নি। তবে লুবনা বেগম বার বার বলে দিয়েছে লামহা কে যেনো সাবধানে দেখে রাখতে ‌। আবিরা বেগম দের সবার থেকে বিদায় নিয়ে বসে গিয়ে বসলো সবাই। তোয়া আবিরা বেগম এর কোলে বসে ফুঁপিয়ে কান্না করছে। এই কয়েকদিনে মেয়েটা বদ্দ আপন হয়ে গিয়েছে। লামিয়া, তায়েব, তায়েবা, মাহির জানালা দিয়ে মাথা বের করে হাত নাড়িয়ে তোয়া কে বিদায় জানাতেই তোয়া ছলছল চোখে তাদের দিকে তাকালো।

” আরেহহফ গাধা কান্না করিস না। তোর যখন আমাদের কথা মন পড়বে তখনই কল করবি আমরা চলে আসবো। ” জানালা দিয়ে মাথা বের করে বললো তায়েব।
তায়েব এর কথা শুনে তোয়া মাথা নাড়িয়ে বললো ” সত্যি আসবে তো??”
” হ্যাঁ হ্যাঁ আসবো।”
লামিয়ার কথাটা শুনে তোয়ার ঠোঁটে হাসির ঝলক দেখা গেলো। তারপর খুলিতে লাফিয়ে বললো ” সত্যি বিগ বস??”
” তিন সত্যি।”
বলেই হাত নাড়িয়ে বিদায় দিয়ে মাথা ভিতরে দিয়ে বাসে হেলান দিয়ে চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই দেখলো শুভ্র মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।
লামিয়া ভ্রু নাচিয়ে বোঝালো কী?? শুভ্র মাথা নাড়িয়ে বললো ” কিছু না।”
” তাহলে তাকিয়ে আছেন কেনো?”
” তাহলে কী তাকাবো না?”
” যদি না বলি।”
” তোর বারণ শুনতে বাধ্য নই। আমার জিনিস এর দিকে আমি তাকাবো একশোবার তোর কী??”
” আর কিছু পারেন আর না পারেন মেয়েদের মতো ঝগড়া করতে ভালোই পারেন দেখছি।”
” হাহহ, বউ যদি ঝগড়ুটে হয় তাহলে জামাই কে তো টুকটাক ঝগড়া শিখতেই হয়।”
” আমি ঝগড়ুটে??”
” আপনি কী আমার বউ??”

শুভ্রর কথা শুনে লামিয়া বাঁকা চোখে তাকালো শুভ্রর দিকে। তারপর কিছু না বলে মুখ বাঁকিয়ে জানালার দিকে তাকালো। লামিয়ার মুখ বাঁকানো দেখে মৃদু হাসলো শুভ্র।
রিসোর্টে আসতে আসতে প্রায় বিকেল। ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আলাদা রুম বুক করা হয়েছে। সবাই ফ্রেশ হয়ে কিছু খাবার খেয়ে যার যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রুমে। এতো জার্নি করতে করতে সবাই বেশ ক্লান্ত।
তায়েবা বিছানায় ধপ করে হাত – পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে বললো
” আহহ বাড়ি যেতে চাই।”
” কেনো তোর ভালো লাগছে না??” ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে ছবি বললো।
” না লাগছে না। তোদের কাপল দের মাঝে আমি এক মাত্র অসহায় হাড্ডি হয়ে ঘুরা ঘুরি করি। তোদের দেখলে আমার হিংসে হয় বুঝলি।”
তায়েবার কথা শুনে শারমিন বললো
” কেনো রে জাহিদ ভাইয়ের ভালোবাসা বুঝি কমে গিয়েছে??”
” এই এই তুমি তোমার ওই খবিশ ভাইয়ের নাম নিও না তো।”
” ওমা কেনো রে??”
” আমি বলেছি তাই। সহ্য হয় না তোমার ভাই কে।”
” হহহ সহ্য হয় না আবার ফোনের ওয়াল পেপারে তাঁর ছবি একদম জ্বল জ্বল করছে দেখ।” বলেই সবার দিকে তায়েবার ফোন তুলে ধরলো হাফসা।

” হাফসার বাচ্চা ফোন দে।” তাড়াতাড়ি করে শোয়া থেকে উঠে হাফসার থেকে ফোন নেওয়ার চেষ্টা করলো তায়েবা।
” দিবো না।”
” দে বলছি নয়তো আমার ভাইকে ও তোকে দিবো না।”
” হুহহ তোমার ভাই কে নিতে আমার বয়েই গিয়েছে।”
বলেই ফোন হাতে ধরিয়ে দিলো হাফসা।
” তাই নাকি এই কথা তাহলে ওকে মাহির কে আমি বলে দিবো তুই এই কথা বলেছিস।”
” এই না না খবরদার কিছু বলবে না। এমনেই তোমার ভাই কথা বলে না বেশি। এখন তুমি যদি এইসব বলো তাহলে যাও বলে তখন আরো বলবে না। ”
হাফসার কথা শুনে তায়েব ঠোঁট বাকালো। তখনই হামিদা বেশ কিছু শপিং ব্যাগ হাতে রুমে প্রবেশ করলো।
” এতো গুলো ব্যাগ?? কী আছে এই ব্যাগে ভাবি??”
ফারিয়ার কথা শুনে হামিদা হেঁসে বলল ” শাড়ি। আজ রাতে আমরা ঘুরবো শাড়ি পড়ে বুঝলি। এখানে সবার জন্য শাড়ি আছে ফটাফট পড়ে তৈরি হয়ে যাবি রাতে বুঝলি সবাই।”
হামিদার কথা শুনে সবাই মাথা নাড়ালো শুধু লামিয়া বাদে। তা দেখে সবাই জহুরি চোখ করে তাকাতেই লামিয়া বলে উঠলো

” এভাবে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই আ শাড়ি ফাড়ি পড়তে পারবো না।”
” কিন্তু তোকে পড়তে হবেই।”
” দেখ বড় আপা মাইর খেতে না চাইলে এইসব নিয়ে বিদেয় হ।”
” আমরা সবাই যেহেতু পড়বো তাহলে তোর পড়তে অসুবিধা কী??”
” ভালো লাগে না শাড়ি। ওইটা পড়েই দেখ যাবে।” বলেই সবাই কে যার যার শাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলো হামিদা।
লামিয়া কপাল ভাঁজ ফেলে শাড়ির প্যাকেট টা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলো তারপর বিছানায় ছুঁড়ে শুয়ে পড়লো। মাথা ভার ভার লাগছে
না একটু ঘুমাতে হব নয়তো এই মাথা ভার থেকে মাথা ব্যথা শুরু হবে। তাই বেশি দেরি না করে চোখ বন্ধ করলো।

রাত প্রায় এগারোটা বেজে বিশ মিনিট,
শীতের রাত,একটা নির্জন জায়গায় জড়োসড়ো হয়ে রেগে দাঁড়িয়ে আছে লামিয়া। গাঁয়ে কালো পাতলা শাড়ি। তাঁর উপর শাল জড়িয়ে রেখেছে। একটু আগেই শুভ্রর সাথে বিরাট ঝগড়া করে বেরিয়েছে রিসোর্ট থেকে। ঝগড়ার কারণ শাড়ি, সে পড়তে চাই নি আর শুভ্র পড়তে বলেছে। এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া হয়েছে তাদের মধ্যে। তারপর থেকে কেউ কারোর সাথে দেখা করে নি আর না কোনো কথা বলেছে। এই নিয়েই লামিয়া বেশ ক্ষেপে আছে। তবুও জোড়া জোড়ি করে মেয়েদের গ্রুপ তাঁকে শাড়ি পড়িয়ে দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে তাঁকে নিয়ে বেরিয়েছিলো সবাই।
চোখ বুলিয়ে সবাই কে খুঁজছে কিন্তু কেউ কোথাও নেই। প্রায় ত্রিশ মিনিট হয়ে গেলো কিন্তু তাঁকে রেখে সবাই কোথায় গেলো? অচেনা একটা জায়গায় কীভাবে তাকে এতো রাতে একা রেখে যেতে পারলো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুভ্র ভাই? সে কোথায় আজকে। ভেবেই লামিয়া বেশ চিন্তিত হলো। আবার একটু ভিতর ভিতর ভয় ও লাগছে। কান্না পাচ্ছে ভীষণ, তবে কান্না করলে চলবে না মনটা কে শক্ত করতে হবে।

আর কিছু না ভেবে অন্ধকার দৌড়াতে লাগলো লামিয়া। দৌড়ে একটু সামনে আসতেই হঠাৎ চারপাশে আলো জ্বলে উঠলো। আলো জ্বলতেই লামিয়া চমকে উঠে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলো । তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র। হোটেল থেকে আসার সময় শুভ্র কে দেখে নি সে। রাশেদ বলেছিলো তার কী নাকি কাজ পড়েছে তাই সে পরে আসবে। কিন্তু শুভ্র কে এখানে দেখে বেশ অবাক হলো।
শুভ্র লামিয়ার দিকে এগিয়ে এসে হঠাৎ হাঁটু গেড়ে বসে লামিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে বললো ” ভালোবাসি ভ্রমর। অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি তোকে। সংসার করবি আমার সাথে? চল না একটা সংসার করি। আমি তুই মিলে একটা ছোট্ট সংসার পাতি দুজন মিলে। অনেক তো হলো রাগ অভিমান আর কতো? চল না আমাদের পিছনের কথা বাদ দিয়ে নতুন জীবন শুরু করি। সেই জীবনে কোনো কষ্ট থাকবেনা, দুঃখ থাকবেনা। তোর যতোটুকু সুখ দরকার তাঁর চেয়ে দ্বিগুণ সুখ আমি তোকে দিবো। আর কখনো কষ্ট পেতে দিবো না। সাজিয়ে রাখবো তোকে সারাজীবন আমার এই দিলে দিলওয়ালি করে।” বলেই থামলো শুভ্র। লামিয়া স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে।
শুভ্র তা দেখে আবারো লামিয়ার চোখে চোখ রেখে বললো ” আমার লাল টুকটুকে বউ হবি?
আমার ব্ল্যাকবেরি আর জ্যাকির মা হবি? আমার ভবিষ্যৎ ছেলে – মেয়ের মা হবি? আমার বৃদ্ধ বয়সের সঙ্গি হবি? এই শাহরিয়ার শুভ্রর বউ হবি ভ্রমর। ঘটা করে লিখে দে না এই শাহরিয়ার শুভ্রর পাশে নিজের নাম টা।”
লামিয়া নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে আছে কিছু বলছে না। হঠাৎ পাশ থেকে হামিদা রা সবাই এক সাথে বলে উঠলো ” হ্যাঁ বলে দে লামু, হ্যাঁ বলে দে।”

লামিয়া একজন চোখ ঘুরিয়ে সবার দিকে তাকালো। সবাই এইখানে তাঁর মানে তাকে সবাই প্লান করে ভয় দেখিয়েছিলো। ভেবেই আরো রাগ হলো। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শুভ্রর দিকে অগ্নি চোখে তাকিয়ে ঠাস করে গালে চড় বসিয়ে দিলো।
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। কেউ ভাবতে পারে নি লামিয়া শুভ্র কে থাপ্পড় দিবে। শুভ্র গালে হাত দিয়ে লামিয়ার দিকে তাকালো।
লামিয়া দাঁতে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে উঠল ” কী ভেবেছিস তোরা? আমাকে কেনো এমন ভয় দেখালি হ্যাঁ? তোদের কারণে আমার মনের উপর দিয়ে কী গিয়েছে একবার বুঝতে পেরেছিস? নাকি বোঝার চেষ্টা করেছিলি? আর তোকে আমি ঘৃণা করি বুঝতে পেরেছিস? চলে যা আমার সামনে থেকে। তোর মুখ আমি দেখতে চাই না। তোকে দেখলে আমার ঘৃণা লাগে।” কথাটা বলতে বলতে লামিয়ার চোখে পানি জমা হলো।
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে কোনো কথা না বলে উঠে দাঁড়িয়ে পিছন ঘুরে নিশ্চুপ পায়ে চলে যেতে লাগলো। লামিয়ার চোখে পানি চিকচিক করছে। রাগের মাথায় আবার উল্টো পাল্টা বলে দেয় নি তো। ভেবেই পিছনে ঘুরে তাকালো। সবাই মুখ কালো করে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে।
হামিদা রেগে লামিয়া কে বললো ” তোর রাগ ভাঙানোর জন্য ছেলেটা এতো কিছু করলো আর তুই কি না অপমান করলি থাপ্পড় মারলি?”

লামিয়া তা শুনে মুখ ফুলিয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে শাড়ির কুচি ধরে শুভ্রর দিকে ছুটে গেলো।
” এই দাঁড়ান ফালতু লোক, দাঁড়ান বলছি।”
শুভ্র তবুও হাঁটতে লাগলো পিছন ফিরে তাকালো না। লামিয়া শুভ্রর পিছন পিছন দ্রুত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে বললো ” কোথায় যাচ্ছেন , দাঁড়ান বলছি।”
শুভ্র পিছনে না ঘুরে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে ” জানি না?”
” দাঁড়ান বলছি।”
” দাঁড়াবো না।”
” কেনো দাঁড়াবেন না?”
” যে আমার মুখ দেখতে চায় না, যে আমাকে ঘৃণা করে তাঁর সামনে কেনো দাঁড়াবো?”
” দেখুন দাঁড়ান বলছি। উফ হাঁটতে পারছি না।”
” তো হাঁটতে বলছে কে? চলে যান।”
” না যাবো না। একটু আস্তে হাঁটুন।”
” না হাটবো না আস্তে, চলে যান আপনি। আমার পিছু পিছু কেনো আসছেন? যাকে ঘৃণা লাগে তাঁর পিছন পিছন আসতে লজ্জা করেনা?”

” না করে ন…” বলতে বলতে ঠাস করে পড়ে গেলো শাড়ির সাথে বেজে। পড়ার সাথে সাথেই লামিয়া কুঁকড়ে উঠলো হাঁটু ধরে।
লামিয়ার কথা শুনতে না পেয়ে শুভ্র দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে দেখলো লামিয়া মাটিতে বসে হাঁটু চেপে বসে আছে। শুভ্র দৌড়ে লামিয়ার পাশে বসে অস্থির গলায় বললো ” দেখি কোথায় লেগেছে। সাবধানে কী চলা যায় না?”
লামিয়া মাথা নিচু করে বসে আছে। নাক টেনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললো ” আপনার জন্যই তো হয়েছে। ”
” এখন সব দোষ আমার?”
” তা নয়তো কী হ্যাঁ? কতো করে বললাম আস্তে হাঁটুন। ”
শুভ্র লামিয়ার কোমড় চেপে ধরে পাঁজা কোল তুলে হাঁটতে হাঁটতে কঠিন গলায় বললো ” কেনো আস্তে হাঁটবো ?”
লামিয়া হঠাৎ শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুঁজে নীচু স্বরে বললো ” আমি রাগের মাথায় বলে দিয়েছি।”
” ওই তো এক ই রাগের মাথায় মানুষ সত্যিটাই বলে দেয়। ”
” সরি।” বেশ নরম গলায় বললো লামিয়া।

শুভ্র লামিয়ার এমন নরম স্বর শুনে হালকা হাসলো কিছু বললো না।
বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার কর শুভ্র একটা বাড়িতে প্রবেশ করতেই লামিয়া শুভ্রর গলা থেকে মুখ তুলে চারপাশে চোখ বুলিয়ে অবাক হয়ে বললো ” বাড়িটা সুন্দর, আমরা কোথায় এসেছি? আর এই বাড়িটা কার?”
শুভ্র লামিয়া কে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বললো ” তোর।”
লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” সবসময় মজা ভালো লাগে না। কার বাড়িতে এনেছেন আপনি আমাকে?”
শুভ্র ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে স্যাভলন আর তুলা বের করতে করতে বললো ” মজা না সত্যি বলছি। এটা তোর বাড়ি, আমি কিনেছিলাম তোর জন্য। আমাকে বিশ্বাস না করলে বাড়ির কাগজ পত্র দেখতে পারিস।”
বলেই আলমারি খুলে কিছু কাগজপত্র বের করে লামিয়ার দিকে এগিয়ে দিলো।
লামিয়া কাগজে চোখ বোলাতেই চোখ গোল গোল করে ফেললো। সত্যি তো তাঁর নামে এই বাড়ি।
অবাক হয়ে শুভ্র কে জিগ্যেস করলো ” কবে কী ভাবে কিনলেন এই বাড়ি?”
শুভ্র লামিয়ার পায়ের কাছে বসে বললো ” এতো কিছু তোর না জানলেও চলবে এখন দেখি শাড়ি তোল উপরে।”
” শাড়ি তুলবো মানে? মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে আপনার?”
” সবসময় রোমান্টিক মুডে থাকিস কেনো? আমি বলছি শাড়ি উপরে তুল আমি পরিষ্কার করবো তোর ক্ষত জায়গাটা।”

” না না কোনো দরকার নেই আমি পড়ে করে নিবো।”
” এক কথা বারবার বলতে ভালো লাগে না। তুই পা দেখাবি নাকি আমি জোর করে দেখবো কোনটা?”
শুভ্রর কথায় ভয়ে লামিয়া বসা থেকে উঠে দূরে সরতেই শুভ্রর রাগ লাগে। লামিয়ার আঁচল টেনে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসলো। লামিয়ার দিকে তাকাতেই কেমন ঘোর লেগে গেলো তাঁর।
শাড়ি ভেদ করে উন্মুক্ত কোমড় শক্ত করে চেপে ধরে হাস্কি কন্ঠে বললো ” সবসময় জ্বালাস কেনো তুই? কথা কেনো শুনিস না হুঁ?”
লামিয়া নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু শুভ্র আরো জোড়ে চেপে ধরলো নিজের সাথে।
লামিয়ার জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। হার্টবিট ভীষণ দ্রুত চলছে। কিছু বলছে চাইছে শুভ্র কে কিন্তু কথা গুলো গলায় আটকে আছে।

শুভ্র এলোমেলো হাতে এক টানে খুলে দিলো লামিয়ার চুলের খোঁপা। লম্বা চুল গুলো ছাড়া পেতেই আছড়ে পড়লো লামিয়ার পিঠে, কপালে। শুভ্র নেশাগ্রস্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া শুভ্রর দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো। শুভ্র লামিয়ার কাঁধ থেকে চুল গুলো সরিয়ে ঘাড়ে ঠোঁট ছুঁয়ে দিতেই লামিয়ার পুরো শরীর কেঁপে উঠলো ‌। শুভ্র ঘাড় থেকে মুখ তুলে লামিয়ার দিকে তাকালো তারপর হাস্কি কন্ঠে বলে উঠলো ” আই ওয়ান্ট ইউ টুনাইট।”
লামিয়া মুখ খুলে কিছু বলার আগেই শুভ্র লামিয়া কে পাঁজা কোল তুলে নরম তুলতুলে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে হিসহিসিয়ে বললো ” উহু আজকে কোনো কথা শুনবো না। আজকে আমি যা বলবো তাই হবে। তুই বাঁধা দিলেও শুনবো না।” বলেই লামিয়ার গাঁয়ের শাল টেনে খুলে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে গলায় মুখ গুঁজে একটা চুমু এঁকে দিলো। লামিয়া সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে নিলো।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬০

শুভ্র পর পর চুমু খেয়ে গলা থেকে মুখ তুলে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলো ব্রাউন ঠোঁট জোড়া হালকা কাঁপছে, তা দেখে বাঁকা হেঁসে ঠোঁট জোড়া চেপে ধরলো। লামিয়া আজ আর বাঁধা দিলো না, আর না সরতে চাইলো। পুরোপুরি সপে দিলো নিজেকে তাঁর ভালোবাসার কাছে।
সময়টা যেনো থেমে গিয়েছে আজ । আজ রাতে চাদ সাক্ষী হলো তাদের ভালোবাসার নতুন শুরুতে।
হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসলো
~ বাতাসে গুন গুন, এসেছে ফাগুন।
বুঝিনি তোমার,
শুধু ছোঁয়ায় এতো যে আগুন।।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৬১

2 COMMENTS

Comments are closed.