মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৮
jannatul firdaus mithila
“ হু দা ফা’ক ডেয়ারড টু টাচ ইউ চাশমিস? জাস্ট টেল মি দা মাদারফা*কার’স নেইম!”
সপ্তদশীর নরম চোয়ালটা বুঝি এক্ষুণি ভেঙে গুড়িয়ে পড়ল বলে! চোখদুটো নিরবে ঝরাচ্ছে অশ্রু। ঠোঁটদুটো তিরতির করে কাঁপছে তার, দৃষ্টি মোটামুটি নত। চোয়ালের ব্যথায় গোঙাচ্ছে মাহি, মুখ দিয়ে কথা বেরুনোর জো নেই তেমন। এদিকে তার এহেন নিরবতা যেন সারা গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে নির্দয় মানবের। তার চোখদুটো কেমন রক্তবর্ণ ভাব ধারণ করছে ক্রমশ। চোয়ালের পেশি টানটান! ধারালো দাঁতকপাটির কিড়মিড় শব্দ বড্ড কানে বাজছে সপ্তদশীর। চোখদুটো খিঁচে বন্ধ করে রাখা তার। এরইমধ্যে কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধ নামক বলিষ্ঠ পুরুষের কটমটানো গর্জনধ্বনি!
“ আই ডোন্ট লাইক টু রিপিট এনিথিং জানোয়ারের বাচ্চা। জাস্ট আন্সার মি, হু দা ফা’কিং এসহোল ডেয়ারড টু টাচ ইউ।”
শুকনো ঢোক গিললো মাহি। রয়েসয়ে চোখের পর্দা সরাতেই চোখাচোখি হলো রূঢ় মানবের বাদামী চোখজোড়ার সাথে। চোখদুটোর রক্তাভ ভাব মুহুর্তেই থমকে দিলো সপ্তদশীর হৃদয়। সে কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো মুগ্ধের চোখদুটোর পানে। এদিকে মুগ্ধের রাগ ক্রমশ বিপদসীমা অতিক্রম করছে। মাহির হতবাক মুখখানার দিকে একমুহূর্ত ক্রুর চাহনি নিক্ষেপ করে, সহসা মেয়েটার চোয়াল ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিল মনস্টার। হুটহাট এরূপ অতর্কিত কান্ডে হকচকায় মাহি। দূর্বল শরীরটা কেমন তাল সামলাতে না পেরে তক্ষুনি ছিটকে পড়ল জমিনের ওপর। মুগ্ধ সেদিকে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ দেখায়নি, উল্টো নিজ হাতদুটো পকেটে গুঁজে কঠিন গলায় হুংকার ছুড়ঁল,
“ গিভ দ্যাম আ সারপ্রাইজ।”
মনস্টারের মুখনিঃসৃত বাক্যটা কর্ণকুহরে পৌঁছান মাত্রই বুলেটের বেগে গাড়ির দিকে ছুটলেন গোটাকতক গার্ডস। ফিরে এলেন মিনিট পাঁচেক বাদে। প্রত্যেকের হাতে তাজা তাজা ফুলের তোড়া, কি সুন্দর সুবাস বেরুচ্ছে সেসব থেকে! দূর্বল মাহি একপলক নজর উঠিয়ে তাকায় সেদিকে। গার্ডস উল্টো পথে হাঁটা ধরেছে। হাতে অসংখ্য ফুলের তোড়া নিয়ে এগোচ্ছে পুলিশ স্টেশনের দিকে। তৎক্ষনাৎ ভ্রু কুঁচকে গেল মাহির। মনে উত্থাপিত হলো নানান প্রশ্ন! রাক্ষসটা পুলিশ স্টেশনে এতোগুলাে ফুলের তোড়া কেন পাঠাচ্ছে? কিসের সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছে সে? মাহি ঠায় মগ্ন নিজ ভাবনায়। দৃষ্টি আঁটকে আছে গার্ডদের দিকে। ঠিক তক্ষুনি একখানা শক্তপোক্ত হাতের থাবা আচমকা এসে চেপে ধরল মাহি’র নরম চুলের গোড়া। তৎক্ষনাৎ ব্যথায় ককিয়ে ওঠে মাহি। একহাতে চেপে ধরে থাবা বসানো হাতটা। এদিকে শক্তপোক্ত হাতের জোর কেবল বাড়ছে ধীরে ধীরে, সে-ই সাথে বাড়ছে মাহি’র আর্তনাদ। সপ্তদশীর ওমন আর্তনাদে ভারী চারপাশ অথচ মুগ্ধ নামক নির্দয় মানবের হৃদয়টা গললো না মোটেও। সে কেমন জোরালো হাতে তক্ষুনি উঁচিয়ে তুলল মাহি’র ছোট্ট মাথাটা। ব্যথায় কুপোকাত মাহি, সহসা উঠে দাঁড়ায় কোনমতে। কাঁদতে কাঁদতে অনুনয় করে বলে ওঠে,
“ আ’ম সরি! আমি আর…!”
বাকিটা বলার ফুরসত দিলো না তাকে। তার আগেই মেয়েটার চুল ছেড়ে দিয়ে ঘাড়ে থাবা বসায় মনস্টার। শক্ত হাতের ধারালো নখগুলো আচমকা দাবিয়ে দেয় মেয়েটার ঘাড়ের দু’পাশে। মাহি চিৎকার দিয়ে উঠে যন্ত্রণায়!ছটফটাতে থাকে হাত-পা ছুড়েঁ। এদিকে মুগ্ধ কেমন আগুন চোখে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। সপ্তদশীর ছটফটানি দেখে ক্রুর হাসলো যুবক। শক্ত হাতে মেয়েটার ঘাড়টা খানিক এগিয়ে এনে কঠিন গলায় হিসহিসিয়ে বলল,
“ আমাকে ছেড়ে কোথায় যাবি তুই বান্দীর মেয়ে? কোথায় লুকাবি তুই? তোর মতো একটা দেড়ব্যাটারী পাতালে লুকলেও সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনার ক্ষমতা রাখি আমি। সেখানে এটা তো রাশিয়া! মা’ই ল্যান্ড।”
যুবকের ক্রুর ধ্বনিতে বুক কাঁপছে মাহির। মস্তিষ্ক হচ্ছে নড়বড়ে! মেয়েটা কেমন ঠোঁট ভেঙে কাঁদছে দেখো। মুগ্ধ তক্ষুনি পায়ে গতি টানল। মাহি’র নরম চুলগুলো টানতে টানতে তাকে নিয়ে গেল অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা — রোলস রয়েজ ফ্যানটাম গাড়িটির দিকে। নিরীহ মাহি’র ছোট ছোট কদম হোঁচট খাচ্ছে বারংবার। পড়ে যেতে গিয়েও বুঝি নিজেকে সামলে নিয়েছে বহুকষ্টে। মুগ্ধ গাড়ির দিকে এগোতেই একজন গার্ড কেমন তড়িঘড়ি করে এগিয়ে এসে গাড়ির দরজা খুলে দিলো আলগোছে। মাথাটা নুইয়ে রেখে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন গার্ড। মুগ্ধ তার পানে না তাকিয়েই কেমন হুংকার ছুঁড়ে ধমকে বলল,
“ মুভ বাস্টা’র্ড!”
তৎক্ষনাৎ কদম পেছায় গার্ড। মুগ্ধ তখন গাড়ির খোলা দরজা দিয়েই মেয়েটাকে হুট করে ছুঁড়ে ফেলল ভেতরে। বেচারি মাহি কেমন হকচকিয়ে উবু হয়ে পড়ল সিটের গায়ে। কপালটা হুট করে সিটের সঙ্গে লেগে যাওয়ায় খানিক ব্যথা পেল মাহি। ত্বরিত হাত এগিয়ে এনে ডলতে লাগল নিজ ললাট। রয়েসয়ে সিটে উঠে বসতেই পাশে কেমন ধুপ করে শব্দ হলো মনে হচ্ছে। সহসা হড়বড়িয়ে উঠল মাহি। চমকানো দৃষ্টে তাকায় পাশে। পাশের সিটে এসে বসেছে মুগ্ধ নামক মনস্টার। সম্পূর্ণ গায়ে কালো রঙা পোশাক তার, শরীরে ঝুলছে ঢিলেঢালা ওভারক্লোক। ডানহাতটা হাঁটুর ওপর ঠেকিয়ে রাখা, হাতদুটো কেমন মুষ্টিবদ্ধ! আগুন চোখজোড়া একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে তার পানে। মাহি ফাঁপা ঢোক গিললো বুঝি। ভয়ে জড়সড় মেয়ে তৎক্ষনাৎ চেপেচুপে বসতে চাইলো ওপাশের দরজার সঙ্গে। তার ভাবখানা এমন — পারলে বুঝি এক্ষুণি গাড়ি থেকে নেমে যাবে সপ্তদশী। মুগ্ধ কটমট করছে এখনো, তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তার দৃষ্টি কেন যেন মেয়েটার গালের ঐ দাগগুলোর ওপরেই নিবদ্ধ। ইশশ্! ফর্সা গালখানায় কেমন কালসিটে দাগ বসেছে দেখো।
মুগ্ধ রীতিমতো ফুঁসছে সেদিকে চেয়ে থেকে। শক্ত হাতখানা খানিক উঠিয়ে এনে আচমকা নিজের মুখ থেকে মাস্ক উঠায় যুবক। মাত্রা তিরিক্ত রাগে গজগজ করতে করতে পিয়ার্সিং করা ঠোঁটটা কেমন কামড়ে ধরেছে সে। মাহি ভুলেও চোখ তুলল না ওপরে। ভয়ে জড়সড় বেচারি হাতদুটো কচলে যাচ্ছে অনবরত। চুলের গোছায় বাড়ছে ব্যথা। মুগ্ধ তখন হাত বাড়িয়ে আলগোছে আঙুল ঠেকালো সিটের পাশের কাপ হোল্ডারে। কভারের নিচে লুকিয়ে থাকা হোল্ডারটা ধীরে ধীরে উঠে আসে সিটের পাশে। মুগ্ধ সেথায় ডানহাতের কনুই ঠেকিয়ে বসল আরাম করে। পরক্ষণে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলল সম্মুখের সিটের গায়ে এটাচড টাচস্ক্রীনের দিকে। যুবক এক-দুবার দক্ষ হাতে আঙুল চালালো স্ক্রিনের গায়ে। একখানা সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও বের করে তা অন করতেই হকচকিয়ে ওঠে মাহি। ত্বরিত বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে সে-ও তাকালো স্ক্রিনের দিকে। একি! স্ক্রিনে তো তাকে দেখা যাচ্ছে। ঐ যে, সে কেমন দৌড়াচ্ছে। দৌড়াতে গিয়ে হুট করে ধাক্কা লাগলো মিষ্টি দোকানীর গায়ে। আর ওমনি ঘটল অঘটন। মুগ্ধ কপাল গুটিয়ে এতক্ষণ দেখল সবটা। তবে যে-ই না স্ক্রিনে মাহি’কে থাপ্পড় মা’রার দৃশ্যটা এলো ওমনি চোখদুটো বন্ধ হয়ে গেল মনস্টারের। নিচের ঠোঁটটা কেমন কামড়ে ধরল রাগে, চোয়ালের পেশি হয়ে গেল টানটান। হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে যুবক কেমন কটমটিয়ে ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে হুংকার ছুঁড়ল —
“ টেক দ্য কার টাওয়ার্ড দ্য সাদোভোদ মার্কেট।”
ড্রাইভার মহাশয় ত্বরিত মাথা কাত করলেন। চাবি ঘুরিয়ে ইঞ্জিনে স্টার্ট দিয়ে শুরু করলেন যাত্রা। মাহি চুপচাপ বসে আছে সিটে। মাথাটা নুইয়ে রেখে ফোঁপাচ্ছে বেচারি। দু’হাতে পেট চেপে রেখেছে ক্ষুধার জ্বালায়। আড়দৃষ্টে তা বেশ পরোখ করলেন মনস্টার। তক্ষুনি দাঁত খিঁচে গর্জন তুললেন,
“ স্টপ দা কার!”
সহসা ব্রেক কষল ড্রাইভার। হাই মাইলেজের গাড়ি হওয়ায় হুটহাট ব্রেক কষায় খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের। মুগ্ধ তখন কাপ হোল্ডার থেকে নিজের ফোনখানা হাতে তুলল। দক্ষ হাতে আঙুল চালিয়ে এয়ারপোডে কল কানেক্ট করে কাকে যেন আদেশ ছুড়েঁ বলল —
“ ইদি ভ তট সুপারমারকেত ভপিরিওদি। জাবিরি ফ্সিও, শ্তো ইয়েস্ত ইজ গাতোভই ইয়েদি। উ তিব্যা ফ্সিভো প্যাত মিনিট।”
(সামনের সুপার মার্কেটের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যা। ওয়ান টাইম ফুড কালেকশনে যা যা আছে সব নিয়ে আয়! সময় মাত্র পাঁচ মিনিট। গট ইট?)
ওপাশের উত্তরের অপেক্ষা কোনো কালেই করেনা মাফিয়া মনস্টার। আজও তার ব্যতিক্রম নয়! নিজ কথা শেষ হওয়া মাত্রই তিনি কল কাটলেন খট করে। কপালের চামড়ায় গোটাকতক ভাঁজ ফুটিয়ে, একহাত নিয়ে এলো মুখের কাছে। আড়ালে অধর পিষ্ট হচ্ছে দাঁতের নিচে। মাথাভর্তি জ্বলন্ত আগুন! মনটা কেমন চিড়বিড়িয়ে বলছে তার —
“ কতবড় সাহস! আমার শিকারের গায়ে স্পর্শ করে, বাস্টার্ড’স!”
মনে মনে এরূপ হাজারো বাক্য আওড়ে যাচ্ছে শ্যাডো মনস্টার। অথচ আজ তার বিচক্ষণী মস্তিষ্ক একটিবারের জন্যও তাকে বলছেনা — কেন এতো ভাবছিস মেয়েটাকে নিয়ে? ওকে স্পর্শ করলে তোর এতো জ্বলছে কেন? না-কি মনস্টারের বিচক্ষণী মস্তিষ্কেও ধীরে ধীরে ঝং ধরছে কে জানে! এদিকে সময় বহমান! ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে ঘুরতে ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে এসে ঠেকেছে। ঠিক তখনি গাড়ির পেছন থেকে সাই সাই বেগে ছুটে আসে দু’দুটো ট্রাক! তাদের অপ্রতিরোধ্য গতি রোধ হলো মনস্টারের গাড়ির ঠিক পেছনে। রয়েসয়ে দু’জন গার্ড হন্তদন্ত পায়ে বেরিয়ে এলেন ট্রাক থেকে। বেচারা দুটো এহেন ঠান্ডা মরশুমেও যা ঘামাচ্ছে না! দুজন ছুটে এসে ঘাড় নুইয়ে দাঁড়ালেন মনস্টারের গাড়ির দরজার নিকট। সাউন্ড প্রুফ গাড়ির ওপাশ থেকে বেচারা দু’টো চেঁচাচ্ছে কি-না কে জানে! মনস্টার মোটেও ভাবাবেগ দেখালো না সেদিকে। উল্টো হাত বাড়িয়ে সিটের পাশের ডোর লক খুলে দিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে মাহি’কে বলল,
“ বের হ!”
ভড়কায় মাহি! জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইলো একপলক। অবোধের ন্যায় কান্না ভুলে চাপা স্বরে বলে উঠল,
“ হুউ?”
দাঁত খিঁচে মুগ্ধ! তৎক্ষনাৎ শক্ত চাহনি নিক্ষেপ করল মাহির পানে। সহসা নজর ঝুঁকায় মাহি। ইতস্তত ভাব নিয়ে বসে থাকতেই শুনতে পেল মুগ্ধের চিড়বিড় করা কন্ঠ,
“ গাড়ি থেকে নাম বান্দীর মেয়ে!”
শুনলো মাহি। পড়ল বিড়ম্বনায়! মনস্টার তাকে নিজে বলছে গাড়ি থেকে নামতে? এটাও সত্যি? না-কি কানে বেশি শুনছে সে? মাহি বোকার ন্যায় মাথা নুইয়ে বসে রইলো কেমন। তা দেখে মাথার র*ক্ত টগবগিয়ে ওঠে মুগ্ধের। বলিষ্ঠ যুবক কেমন কটমট করতে করতে মাথায় টুপি জড়ালো ফের। মুখটা খানিক আড়াল হলো এতে। পরক্ষণেই সে নামল গাড়ি থেকে। ঘুরে এসে তক্ষুনি মাহির সিটের পাশের দরজা খুলে আচমকা চেপে ধরল বেচারির ঘাড়। ভড়কানো মাহি কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুগ্ধ তাকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে বের করে আনল গাড়ি থেকে। আগের ন্যায় মেয়েটার ঘাড় চেপে ধরেই এগোয় যুবক। মেয়েটাকে সামনে হাঁটাচ্ছে আর সে হাঁটছে পেছনে। খানিকটা দূরেই দাঁড়িয়ে আছে দুটো ট্রাক। মুগ্ধ মাহি’কে টেনেহিঁচড়ে আনলো ট্রাকের সামনে। আঙুলের ইশারায় নিরবে গার্ডদের বোঝালো কিছু। আর ওমনি গার্ডস এগিয়ে এসে তৎক্ষনাৎ খুলে দেয় ট্রাকের দরজা। লোহার ভারী ঘর্ষণের আওয়াজে চোখ খিচঁল মাহি। সেকেন্ড পেরুতে না পেরুতেই ঘাড়ে চাপ অনুভুত হলো তার। কানে বাজল মনস্টারের কঠিন বাক্য,
“ ভেতরে ঢোক বান্দীর মেয়ে!”
সহসা চোখ খুলে মাহি। আনমনে সামনে তাকাতেই অদৃশ্য হোঁচট খেলো বোকা মেয়ে! আশ্চর্যের ন্যায় চোখ তুলল কপালে। ঠোঁট দুটোর মধ্যকার দুরত্ব বুঝি ক্রমশ বাড়ছে তার। সামনেই ট্রাকভর্তি প্যাকেটজাত খাবার-দাবার। ঝাপসা চোখে যা দেখা যাচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে সেথায় বুঝি চকলেট, চিপস, বিস্কিট দিয়ে ভরপুর। মাহি কেমন হতবিহ্বলের ন্যায় কদম পেছালো। তবে এক-দুকদম পেছাতেই তার পিঠ ঠেকল মনস্টারের শক্তপোক্ত বুকের সঙ্গে। ত্বরিত ঘাবড়ে গেল মাহি! সহসা ঘুরে তাকালো পেছনে। রয়েসয়ে ভয়ার্ত ঢোক গিলে কিছু বলবে তার আগেই টুপির ছত্রছায়ায় লুকিয়ে থাকা পিয়ার্সিং করা ঠোঁটদুটো নড়তে লাগল কেমন। কন্ঠে ভীষণ রাগান্বিত ভাবসাব ফুটিয়ে আওড়াল,
“ ট্রাকের ভেতর যা বেয়াদবের বাচ্চা! যতক্ষণ অব্ধি পেটের ক্ষুধা না কমবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাইরে বেরবি না। খবরদার, পেটের ক্ষুধা কমার আগে বাইরে বেরুলে, তোর পা ভেঙে গুঁড়ো গুড়ো করে ফেলব মাইন্ড ইট!”
শুকনো ঢোক গিললো মাহি। সত্যি কথা বলতে পেটটা তার চো চো করছে ক্ষুধায়। এমুহূর্তে খাবার পেয়ে অন্তরটা খানিক প্রশান্ত হলো বুঝি। সে মাথা নুইয়ে এগোয় ট্রাকের পানে। তবে তার মতো ওমন ছোটখাটো মানুষ কি আর ট্রাকের দুয়ার নাগাল পায়? মাহি ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাকে উঠতে। এক-দুবার হাত উঠিয়েও পড়ে যাচ্ছে কেমন! মাহি ঠোঁট উল্টায় এবার। নাখোশ হয়ে ট্রাকের দরজার কাছ থেকে সরে যেতে চাইলেই একজোড়া শক্তপোক্ত হাত এসে খপ করে চেপে ধরে তার কোমর। মাহি হকচকায়! ভড়কানো কন্ঠে ঠোঁট নাড়তে যাবে তার আগেই শক্তপোক্ত হাতদ্বয় নিজেদের শক্তি দেখালো। মেয়েটাকে তুলোর ন্যায় এক ঝটকায় উঠিয়ে দিলো ট্রাকের ভেতর। মাহি তৎক্ষনাৎ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে পেছনে ঘুরলো। চোখাচোখি হলো রহস্যময় যুবকের বাদামী চোখদুটোর সাথে। টুপির আড়াল দিয়ে তাকিয়ে আছে তারা। চোখের ভাষায় লেপ্টে আছে তাচ্ছিল্যের টান! ঠোঁটের কোণে ঝুলছে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি। যুবক কেমন জিভ ঠেলল ঠোঁটের সঙ্গে। তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে হিসহিসিয়ে আওড়াল,
“ ঈদুরের মতো ওতোটুকু শরীর নিয়ে আমার প্যালেস থেকে কিভাবে পালালি তুই বান্দীর মেয়ে? কার সাহায্যে অতিক্রম করলি ওতোটা পথ?”
অগত্যা এরূপ বাক্যে গায়ে কাপঁন ধরল মাহি’র। সহসা নুইয়ে গেল ঘাড়। হাতদুটো ফের অস্থিরতায় কচলাচ্ছে সপ্তদশী। দৃষ্টি লুকচ্ছে এলোমেলো ভাবে। ঠোঁট দুটো বারবার ভেজাচ্ছে সিক্ত জিভ দিয়ে! মুগ্ধ নিখাঁদ চোখে পরোখ করল সবটা। আচমকা ঠোঁটের কোণে ক্রুর হাসি লেপ্টে নিয়ে কঠিন গলায় আওড়াল,
“ খেয়ে-দেয়ে শক্তি বানা গায়ে! আজকের রাতটা তোর জন্য কঠিন হবে।”
আটঁকে গেল মাহির নিশ্বাস! সম্পূর্ণ শরীর জুড়ে বয়ে গেল মৃদু ঝংকার। ঘাম ছুটে গেল ললাটে। বুকটা কেমন দুরুদুরু করে কাঁপছে ভীষণ! লোকটা কি তাকে আবার মা’রবে? না-কি আজ আবারও তার প্রাডাকে নিয়ে এসে বলবে — আ’ম হাঙ্গরি! ভাবনায় নিমগ্ন মাহি। হুটহাট ধ্যান ভাঙল গাড়ির হর্ণে। আচমকা নজর তুলে সামনে তাকাতেই দেখল — ট্রাকের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে মুগ্ধের গাড়ি। গাড়ির হেডলাইট দুটো বারবার জ্বলছে নিভছে। মাহি কেমন হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে রইলো সেদিকে। ঠিক তখনি ট্রাকের ইঞ্জিন চালু হলো বোধহয়। হুটহাট গাড়ি স্টার্ট হওয়ায় মেয়েটা কেমন দুলে উঠল বুঝি। পড়তেও গিয়েও সামান্য দুলে-টুলে সামলে নিলো নিজেকে। অতঃপর চোখের সামনে এতো এতো খাবার দেখে লোভী মনটা কেমন কুপরামর্শ দিয়ে ওঠে। কানের কাছে কেউ বুঝি ফিসফিসিয়ে আওড়াল —
“ খা না! এতো এতো খাবার পড়ে আছে সামনে। ক্ষুধা পেয়েছে না? খেয়ে নে তবে!”
মাহির দৃঢ় মন খুব বেশিক্ষণ নিজের দৃঢ়তা বজায় রাখতে পারলোনা এহেন কুপরামর্শে। জিভটা বুঝি সামান্য ভিজে উঠল লোভের আগুনে। অতঃপর আর একমুহূর্ত খাবারগুলোর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো সপ্তদশী। তারপর কেমন হুট করে ঝাপিয়ে পড়ল খাবারগুলোর ওপর। দুপা ভাঁজ করে বসল একপাশে, অতঃপর হাতের কাছে যে-ই প্যাকেট-ই পেলো তা দাঁত দিয়ে টেনেটুনে ছিঁড়ে নিয়ে খাবারগুলো গাপুসগুপুস করে মুখে পুরলো সপ্তদশী। পটকা মাছের মত আজও দুগাল ভরে খাবার নিয়েছে মাহি। ঐটুকুন গোলাপি ঠোঁটদুটো কেমন গোল হয়ে আছে দেখো! মুখ ভর্তি খাবার নিয়ে আয়েশে চিবুচ্ছে সপ্তদশী, চোখদুটো বুঁজে রেখে খেয়ে যাচ্ছে একে একে। ওদিকে একজোড়া বাদামী চোখ যে তাকে নিখাঁদ দৃষ্টিতে পরোখ করে যাচ্ছে, সে খবর কি আর আছে তার? একজোড়া তামাকে পোড়া ঠোঁট কেমন নড়েচড়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বিড়বিড়ালো,
“ ব্লা’ডি বি”চ!”
প্যান্টের বেল্ট ঠিক করতে করতে এগোচ্ছেন অফিসার। মাত্রই বেরুলেন প্রেসার রুম থেকে। এতক্ষণে একটু আধটু হালকা লাগছে তাঁর। শরীরটা ভীষণ স্বস্তিতে মেতেছে বুঝি। তিনি খানিক এগোতেই হঠাৎ তার চোখ আটকালো পুরো থানা ভর্তি ফুলের তোড়াগুলোর দিকে। অফিসার সহসা ভ্রু গোটালেন। সন্দিহান গলায় কনস্টেবলকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুড়ঁলেন,
“ এসব কি? এতো এতো ফ্লাওয়ার ব্যুকে আসলো কোত্থেকে?”
কনস্টেবল মহাশয় নিজ জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে জবাব দিলেন,
“ স্যার! এগুলো মনস্টারের গার্ডস এসে দিয়ে গিয়েছে, আমাদের সংবর্ধনার জন্য।”
ব্যস! এটুকু কথা শুনতেই সর্বাঙ্গে ঘাম ছুটে গেল অফিসারের। লোকটা কেমন আতঙ্কে হড়বড়িয়ে চিৎকার দিয়ে সবাইকে বললেন,
“ এজ সুন এজ পসিবল থানা থেকে বের হও। আই সেইড জাস্ট লিভ দা প্লেস!”
বলেই তিনি সবার আগে ছুটলেন বাইরে। বাদবাকিরা কেমন হা করে তাকিয়ে রইলেন কেবল। কেউ কেউ কোনরূপ আগপাছ বিবেচনা না করে তক্ষুনি ছুটেছেন অফিসারের পেছন। গোটা কয়েকজন এখনো হতবিহ্বলের ন্যায় চেয়ে আছেন পেছন থেকে। অফিসার ছুটতে ছুটতে বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ালেন। শরীর বাকিয়ে পেছনে তাকাতে না তাকাতেই হুট করে পুরো থানা কেমন ব্লাস্ট হয়ে গেল! তৎক্ষনাৎ মুখের সামনে হাত উঁচিয়ে আনে বাকিরা। কেউ কেউ আফসোসের স্বরে আর্তনাদ করে বলে ওঠে,
“ এটা কি হলো! কিভাবে হলো এই ব্লাস্ট? অনেকেই তো বেরোয়নি! এখন কি করব আমরা? কি জবাব দিব হেডকোয়ার্টারে?”
অফিসার ছলছল চোখে তাকিয়ে আছেন দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা থানার দিকে। ঠোঁট দুটোর ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে মোটা কন্ঠে আওড়াচ্ছেন তিনি,
“ কেনো রাখতে গেলে ফ্লাওয়ার ব্যুকে গুলো? তোমরা কি জানতে না? মনস্টার লাভস ভায়োলেন্স! তিনি যেদিকে যান সেদিকটা হয়তো পুড়িয়ে ছাড়েন নয়তো ছিন্ন ভিন্ন করে ছাড়েন। এতোকিছু জানার পরও বোকামি করলে তোমরা! বড্ড বড় বোকামি করলে।”
মস্কোর সাদোভোদ পাইকারি মার্কেট! বরাবরের ন্যায় আজও হৈচৈ এ মত্ত জায়গাটা। ছোট ছোট দোকানীরা হাট খুলে বসে আছেন চারপাশে। ঠিক তখনি মহাসড়কের কনক্রিটের পথটা কেমন কেঁপে উঠতে লাগল আচমকা! অদূর থেকে ভেসে আসছে অগণিত হর্ণ। স্থানীয়রা নিজ নিজ কাজ ফেলে কেমন উদ্বেগ নিয়ে তাকিয়ে আছেন পথের দিকে। খানিকক্ষণ বাদেই দেখা গেল, মহাসড়কের পথ ধূলো উড়িয়ে ছুটে আসছে এক লম্বা গাড়ির বহর। দু’ধারে দুটো মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির লাইন, মাঝখানে দ্রুত বেগে ছুটছে রোলস রয়েজ ফ্যানটাম। গাড়িগুলো সব আচমকা ব্রেক কষল মার্কেটের সামনে। হকচকিয়ে ওঠেন স্থানীয়রা! তড়িঘড়ি করে নিজ নিজ দোকানপাট ছেড়ে উঠে এলেন পথের ধারে। উৎসুক জনতার ন্যায় ভীড় জমিয়েছে সবাই। কিয়তক্ষন যেতেই গাড়ি থেকে একযোগে বেরিয়ে আসেন কালো রঙা পোশাকধারী সশস্ত্র গার্ডস! তারা বের হয়েই রাইফেল নিয়ে ছুটলেন মার্কেটের দিকে। আচমকা কোনরূপ বলাকওয়া ছাড়া স্থানীয়দের ওপর রাইফেলের নল ঠেকাতেই আঁতকে ওঠেন সবাই। তৎক্ষনাৎ একপ্রকার চাপা হৈচৈ পড়ে গেল সবার মাঝে। গার্ডস সব কেমন ধমকে বললেন,
“ হ্যান্ডস আপ!”
সহসা হাত উঁচায় সবাই। ভয়ে তটস্থ মানুষজন একে-অপরের পানে তাকাচ্ছেন বারবার। এদিকে রোলস রয়েজের দুয়ার খুলল রয়েসয়ে। কালো রঙা ব্যুট পরিহিত একজোড়া দাম্ভিক কদম বেরিয়ে এলো পরক্ষণেই। গার্ডস তখন হুংকার ছুঁড়ে জানালেন,
“ হেড ডাউন এভরিওয়ান! ইট’স শ্যাডো মনস্তার।”
ত্বরিত ঝুঁকে গেল সকলের ঘাড়। পাদু’টো কাঁপতে লাগল সবার। সম্পূর্ণ শরীর ঘামছে কেন যেন! কেউ কেউ এখনো নিজ কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না যে এটা সত্যি মনস্তার! এদিকে গাড়ির থেকে নেমে এসেছে মুগ্ধ। পাতলা মাস্কের ওপর দিয়েই ঠোঁটে গুঁজেছে মোটার সিগার। বিষাক্ত ধোঁয়ায় মুখরিত মনস্তারের মুখমন্ডলের চারপাশ। গোলাকার টুপিতে ঢেকে আছে মুখের অনেকটা! মনস্টার কেমন গুনে গুনে পা ফেলে এগিয়ে যায় বামদিকে। একটু দূরেই থেমেছে ট্রাক! সেথায় বসে আছে মাহি। ট্রাকের দরজাটা খুলছে ধীরে ধীরে। মনস্তার সেদিকে এগিয়ে গিয়ে আচমকা হাত উঁচিয়ে দু-আঙুলের ইশারায় ডাকল মাহিকে। ভীতু মাহি পরপর ঢোক গিলে এগিয়ে এলো কেমন! আজ আর ঘাড়ত্যাড়ামি করেনি সপ্তদশী। এমনিতেই কপালে শনি নাচছে তার, তারওপর ওমন ঘাড়ত্যাড়ামি করলে ঘাড়টা থোড়াই আস্ত থাকবে! মাহি ট্রাকের শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়াতেই আচমকা তার হাতে টান বসায় মুগ্ধ! এক হেঁচকা টানে সপ্তদশীকে নিজের কাঁধে তুলে নিলো ভীষণ দক্ষ কায়দায়। মাহি হকচকায়! পাদু’টো তার ছটফটাতেই তা চট করে একহাতে চেপে ধরে মুগ্ধ। ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে থাকা সিগারে টান বসিয়ে এগোয় সম্মুখে। কয়েক-কদম সামনে এসে দাঁড়িয়ে আলতো করে মাহি’কে কাঁধ থেকে নামায় মুগ্ধ। মেয়েটা এখন তার খুব কাছে! কায়দা করে গুনতে পাচ্ছে সপ্তদশীর হৃৎস্পন্দনের প্রতিটি গতি। মাহি কাঁপছে কেমন! তড়িঘড়ি করে পাদু’টো সরাতে চাইলেই আচমকা কনুইয়ে টান পড়ল খানিক। সহসা চোখ নামায় মাহি! মুগ্ধের শক্তপোক্ত হাতের থাবা দৃশ্যমান হতেই ঢোক গিললো সামান্য। এদিকে মুগ্ধ কেমন হালকা নুইয়ে এনেছে নিজ মস্তক। মেয়েটার কানের লতির কাছে মুখ নামিয়ে এনে ফিসফিসিয়ে দাঁত খিঁচে বলল,
“ দ্য গ্রেট রুশদী কিং ওরফে শ্যাডো মনস্তারের কাঁধে উঠার মতো সৌভাগ্য কি-না শেষমেশ তোর মতো একটা দেড়ব্যাটারীর হলো? ছ্যাহঁ ছ্যাহ!!!”
নাকের পাটা কি ফুললো না-কি মাহির? গালদুটোয় আচমকা ওমন রক্তাভ ভাব ছেয়ে গেল কেন? কানদুটোর চামড়া দিয়ে কেমন ধোঁয়া ধোঁয়া কি বেরুচ্ছে কে জানে! মাহি নিজ ভাবনায় গভীর ভাবে মত্ত। ঠিক তখনি তাকে ফের এক হেঁচকা টানে সম্মুখে ঘোরায় মুগ্ধ। অতঃপর সপ্তদশীকে এক আকাশচুম্বী অবাক করে দিয়ে টেনে ধরল তার পাতলা বাঁকানো কোমর। হাতের জোরে মেয়েটাকে নিজের সঙ্গে ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে গর্জে ওঠে বলল,
“ হু দা ফা’কিং ব্র্যাট ডেয়ারড টু টাচ মা’ই গার্ল? এক্ষুনি সামনে আয়!”
আকাশ থেকে পড়ল মাহি! এ কাকে দেখছে সে? সে আবার এই রাক্ষসের হলো কবে থেকে? না-কি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছে সে? মাহিকে ফের অবাক করে দিয়ে মুগ্ধ সহসা ছেড়ে দিলো মেয়েটার কোমর। গটগট পায়ে সামনে এগুতেই কোত্থেকে যেন ছুটে এলেন দু’জন গার্ড। হাতে মোটা মোটা পাইপ লাইন! তারা এগিয়ে এসে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে পাইপ লাইন মুগ্ধের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। মনস্তার চট করে দু’হাতে তুললো পাইপ লাইন। অতঃপর ইশারায় কাকে যেন কি বোঝালো! আর ওমনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাইপের আগা দিয়ে ঝরঝরিয়ে নামল তরল জাতীয় কিছু! তরলের বিদঘুটে গন্ধে কারও আর বুঝতে বাকি নেই এ যে পেট্রোল।
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৭
পুরো মার্কেট জুড়ে পেট্রোল ছড়ালো মাফিয়া মনস্টার। সবশেষে হাত থেকে পাইপ লাইন নামিয়ে রেখে, ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে থাকা সিগারটায় শেষ টান বসিয়ে তা আচমকা আঙুলের ডগার সাহায্যে ছুঁড়ে ফেলল সামনে। আর ওমনি এক চিলতে আগুনের ছোঁয়া পেয়ে সম্পূর্ণ মার্কেট জুড়ে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। স্থানীয়রা ভয়ে গুটিয়ে গেলেন কেমন। তক্ষুনি হাঁটু গেঁড়ে বসলেন সবাই! শ্যাডো মনস্টার রয়েসয়ে হাত গুঁজলেন পকেটে। অতঃপর ফের এক গর্জনধ্বনি গুঁজে উঠল চারপাশে,
“ নেক্সট ২ মিনিটের মধ্যে বাইরে বের না হলে, আমি নিজে গিয়ে নিয়ে আসব তোকে বাস্টা’র্ড! আশা করি, এটা মোটেও তোর জন্য সুখকর হবে না।”

Please next part please din please please please please
আপু পরের পর্ব দেন 😞 তাড়াতাড়ি
পরের পর্ব গুলো তাড়াতাড়ি দেন plz plz plz plz plz plz 🙏
পরের পর্ব গুলো তাড়াতাড়ি দেন plz plz plz plz 🙏