Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৬৮

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৬৮

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৬৮
সাইয়্যারা খান

রাতটুকু আজ বেশ লম্বা কাটলো। পৌষের দু’চোখে ঘুম নেই। তৌসিফ ওর মাথায় হাত দিলো। চুলগুলো আলতো হাতে টেনে দিচ্ছে ও। পৌষ চোখ বুজে আবার খুলে। তাকিয়ে দেখে তৌসিফকে। তৌসিফ হাসে ওর দৃষ্টিতে। প্রশ্ন করে,
“ঘুমাবে না?”
“আপনি ঘুমাবেন না?”
“আগে তুমি ঘুমাও।”
“এখানে ঘুমাবেন?”
“হাতে ব্যথা পাবে তুমি।”
“পাব না। ডান সাইডে শুবেন।”
“আগে ঘুমাও।”
“ঘুম তো আসছে না।”
“কারণটা কি?”
“বলেছিলাম বাসায় যাব৷ শুনলেন না আমার কথা৷”
“সন্ধ্যায় কার জানি জ্বর বাড়লো।”
“এখন তো নেই।”

“তুমি বাসায় একা থাকো পৌষরাত। আমার তো আম্মু নেই, আব্বু নেই। কে দেখে রাখবে তোমাকে বলো?”
“আমারও মা-বাবা ছিলো না। এতিম ছিলাম। দেখার মতো তেমন কেউ ছিলো না। হেমু ভাই দেখতো আমাকে। এখন তো আপনি আছেন। কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়া আপনি আমার কত কাছে থাকেন৷ আমাকে দেখে রাখেন। হেমু ভাই তো এতকিছু করতে পারত না। সেঝ চাচি খুব খারাপ কথা বলতো। আমার জন্য আপনি খুব বেশি যথেষ্ট।”
“তুমি আমাকে এতটা কিভাবে মেনে নিলে পৌষরাত? এতটা কি মেনে নেওয়ার কথা ছিলো?”
“মোটেও ছিলো না। আমি বলে মেনে নিয়েছি অন্য কেউ হলে নিতো না।”
“তাই নাকি?”
“কয়জন মেয়ে পারবে আমার মতো গায়ে কলঙ্ক বয়ে বাড়ী ত্যাগ করে সুখে সংসার করতে? কয়জন এতিমের কপালে তৌসিফ জুটবে? কারো জুটবে না। হয়তো আরো ভালো নাহয় খারাপ জুটবে কিন্তু তৌসিফ জুটবে না। তৌসিফ তালুকদার তো একটা। আমাকে মেনে নিতে বাধ্য করেছে সে।”

“তৌসিফ তালুকদার এমন না পৌষরাত। তৌসিফ তালুকদার কোনদিনও এমন না৷ তৌসিফ তো ভীষণ রাগী, বদমেজাজী। খেয়ালখুশি মতো চলাফেরা করে সে, কারো কথা মানে না। কিন্তু তুমি, তুমি আমাকে বাধ্য করছো। আমাকে এমন হতে বাধ্য করেছো। শক্ত আমিটা তোমার সামনেই দূর্বল হয়ে যাই। আমি তো এমন ছিলাম না পৌষরাত। কখনোই এমন ছিলাম না।”
পৌষ হাত বাড়ায়। স্যালাইন শেষ পথে। তৌসিফ গিয়ে নার্স ডেকে এনে খুলালো সেটা। পৌষ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো,
“এখন আইসক্রিম খাওয়া যাবে না?”
“তুমি খাবে?”
“মন চাইছে।”
“জিজ্ঞেস করে আসি।”

সত্যি গিয়ে তৌসিফ জিজ্ঞেস করলো। অনুমতি পেতে একটা আইসক্রিম আনিয়ে বউকে দিলো। আবদার তো ফুরালো না। পৌষ হাঁটবে এখন। তৌসিফ বউকে নিয়ে এত রাতে করিডোরের এমাথা ওমাথা হাঁটলো। পৌষের শরীরের ভাড় তখন তৌসিফের উপর। কোমড় আঁকড়ে ধরে সাপোর্ট দেয় তৌসিফ। পৌষ হাত বাড়ায় ওর মুখের সামনে। চুপচাপ তৌসিফ আইসক্রিম খায় একটু। এই হ্যাংলাপাতলা মেয়েটার প্রেমে তৌসিফ বশ হয়ে গিয়েছে। উদ্ধার হওয়ার ইচ্ছে তার নিজেরও নেই।
সামনে খোলা বারান্দা। দু’জন গিয়ে দাঁড়ালো ওখানে। এত উঁচু বিল্ডিং থেকে সামনের রাস্তা সুন্দর দেখালো। পৌষ সেদিকে তাকিয়ে রইলো। বললো,
“জায়গাটা সুন্দর না? বলুন।”
“হ্যাঁ, সুন্দর।”
“আমার বাইরে… ”

কথা শেষ করতে দেয় না তৌসিফ। বলে উঠে তড়িঘড়ি করে,
“এখন বাইরে যাওয়া যাবে না হানি। ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড।”
“বাইরে যেতে চাইনি নি তো। অন্য কিছু বলতাম।”
তৌসিফ শান্তি পেলো। বউ নিয়ে আতঙ্কে থাকে সে। টাকা পয়সা জনিত কোন আবদার তার বউ করে না, যতসব নাইতাই আবদার। না জানি কবে বলে তৌসিফের মাথায় চড়ে নাচতে ইচ্ছে করছে তার। এসব বললেও তৌসিফ বিন্দুমাত্র অবাক হবে না।
পৌষকে ওখান থেকে নিয়ে কেবিনে ঘুম পাড়াতে তৌসিফের বেশ ঝামেলা হলো আজ। তৌসিফও বুঝেছে এই ত্যাড়ামির কারণ। কারণ একটাই, পৌষ আজ বাসায় যেতে চেয়েছিলো কিন্তু তৌসিফ তা হতে দেয় নি।

ভোরের পাখিদের দল বেরিয়ে এসেছে আজান হতেই। চারপাশে কিচিরমিচির শব্দে মুখোরিত। ভোর হতে না হতে আজ হক বাড়ীর পরিবেশ গমগমে। হেমন্তের দরজাটা শুধু বন্ধ। সারারাত ছেলে ঘুমায় নি৷ দুদণ্ড বসে থাকে নি কেউ। শেষরাতে বড় চাচি এসে নিয়ে গিয়েছে। দাদীর কাছেও থাকেনি সে বেশিক্ষণ। অগত্যা আবার হেমন্ত নিয়ে এসেছে। বাড়ীর একমাত্র ছোট সদস্য সে। আদরে আদরে অস্থির হয়ে থাকে।
সেঝ চাচি বাদে বাকিরা কিছুটা তারাহুরো করছেন। আজ পৌষকে দেখতে যাবেন। চৈত্র গিয়ে ইনি, মিনিকে তুলেছে। এরপর থেকে আর কেউ ঘুমিয়ে থাকতে পারে নি। সবাইকে দুই বিচ্ছু টেনে টেনে তুলেছে। বাকি আছে কেবল হেমু ভাই যাকে ডাকার সাহস আপাতত কেউ পাচ্ছে না। রান্নাঘরে হরদম কাজ চলছে। ঘড়ির কাটাও থেমে নেই। ঘুরে ঘুরে সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে। পিহা একবার এগিয়ে এলো। হেমন্তের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এক টোকা দিলো। সাড়াশব্দ আসে নি। পিহাও আর দাঁড়ায় নি। চলে এসেছে। টেবিলে সবাই যখন খেতে বসেছে তখনই কাঙ্খিত দরজা খুলে গেলো। হেমন্ত একেবারে তৈরী হয়ে বেরিয়েছে। ইনি, মিনি খাওয়া রেখে উঠে দৌঁড়ে এলো। জৈষ্ঠ্য আগেভাগে বললো,

“হেমু ভাই, খেয়ে বের হব নাকি এখনই বের হব।”
হেমন্তের কপালে ভাঁজ পড়লো। যতটুকু বুঝলো বাদবাকি সদস্যরাও যাবে। তাদের চোখমুখ দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। হেমন্ত ঘাটলো না৷ খেতে বসে কথাবার্তাও বললো না তেমন৷ খাওয়া যখন শেষ পর্যায়ে তখন বড় চাচা গলা খেঁকালেন৷ বললেন,
“হেমন্ত, এখন বের হবে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে?”
হেমন্ত পরিষ্কার প্লেটে খাবার তুলছে। শ্রেয়াকে খাওয়াবে আগে এরপর বের হবে। পৌষকে ওখানে রাখা দায় হয়ে গিয়েছে। দুপুর দিকেই হয়তো বাসায় নিবে। ততক্ষণে অন্তত চোখের সামনে দেখবে। ছোট করে উত্তর দিলো হেমন্ত,
“যাব একটু পর।”
“ওহ্, আমরাও যাচ্ছি।”
“যেতেই পারেন। আপনাদের ইচ্ছে।”
মেঝ চাচা বলে উঠলেন,
“একসাথেই তো যাব।”
“আমি তো জানি না মেঝচাচ্চু। আমি শুধু আমার ভাই-বোন নিয়ে যাব।”
“তুমি শুধু শুধু রাগ দেখাচ্ছো হেমন্ত।”
বাবার কথা কানে তুললো না হেমন্ত। নাস্তার প্লেট সাইডে রেখে নিজের সামনে থাকা প্লেট থেকে একটু তুলে ইনি, মিনির মুখে দিলো। সকালে ওদের খাওয়ানো কষ্টসাধ্য। হেমন্ত জোর করে দিলো বলে একটু একটু খেলো নাহয় পৌষ বাদে কার সাধ্য ওদের খাওয়াবে?
হেমন্ত উঠে নিজের রুমে এসে দরজা আটকে দিলো। শ্রেয়া মুখ হাত ধুয়ে বের হলো তখনই৷ বিছানার একপাশে খাবার রেখে হেমন্ত বললো,

“খাওয়ার আগের ঔষধটা কি শেষ? এখানে না ছিলো?”
“গতকাল আম্মু ভুলে ড্রয়ারে রেখেছে বোধহয়।”
হেমন্ত ড্রয়ার হাতালো। পেয়েও গেলো। খুলে শ্রেয়ার হাতে দিয়ে পানি ভর্তি গ্লাস এগিয়ে দিলো। নাস্তা দেখে শ্রেয়া একটু হেসে বললো,
“নিচে যেতে পারতাম তো।”
“কোন প্রয়োজন নেই। চুপচাপ খাও৷ ডিম দুটোই শেষ করবে শ্রেয়ু। এখনই আমি থাকতে থাকতে গোসল করবে এরপর চুপচাপ ঘুমাবে। ছেলে উঠবে বলে মনে হয় না৷ উঠলেও সমস্যা নেই, মা আসছেন।”
“আম্মু ওখানে যেতে বলে।”
“আমিও তো বলি এখানে থাকতে। আমার কথা তো শুনে না শ্রেয়ু। এটা কি তাদের বাড়ী নয়?”
“হুঁম।”
“এতো ভেবো না। শেষ করো। কুসুম রেখে দিলে কেন শ্রেয়ু? হা করো।”

ধমক খেয়ে শ্রেয়া খাওয়া নিয়ে হেরফের করলো না৷ হেমন্ত নিজে তদারকি করে ওর গোসল, ঘুম নিশ্চিত করলো। শাশুড়ী আসা মাত্র তাকে শ্রেয়ার পাশে বসিয়ে বেরিয়ে এলো। বাইরে এসেই দেখলো পাঁচটা দাঁড়িয়ে আছে। হেমন্ত ইনি, মিনির হাত ধরে বেরিয়ে যায়। উবার এসেছে ততক্ষণে। বাড়ীর গাড়িতে চাচা-চাচিরা উঠেছে। হেমন্ত আগ বাড়িয়ে তাদের কিছুই বলে নি। তার বুকে থাকা কষ্টটা আজও ছাইচাপা। সেটা কেউ দেখবে না৷ কোনদিন উপলব্ধি করতে পারবে না৷ হেমন্তের সেই সুপ্ত বাসনা কেউ কোনদিন পূরণ করতে পারবে না। তার ছোট্ট পৌষটার বাবা হেমন্ত কোনদিন হতে পারবে না৷ মানব সন্তান একবারই জন্ম নেয় সুতরাং এই ইচ্ছেটা পূরণ হওয়ার আর সুযোগ নেই। এজন্যই বোধহয় উপরওয়ালা তৌসিফ তালুকদারকে পাঠিয়েছে। তার পৌষকে তৌসিফ থেকে বেশি ভালো কেউ বাসতে পারবে না।

পৌষের চুলগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে বাঁধছে তৌসিফ। পৌষের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। সকাল সকাল তাকে স্যালাইন দিচ্ছে আবার। হাতে দারুণ ব্যথা পেয়েছে ও। ফুলে উঠেছে। শরীরে পানি এসেছে সামান্য। ডাক্তার দেখে গিয়েছে সকালে। তৌসিফ তখন চেঁচামেচি করেছে। তার বউয়ের শরীরে তো গতরাতেও পানি ছিলো না। এখন কেন আসবে?
ডাক্তার পানি যাওয়ার ঔষধ দিয়েছেন৷ পৌষকে তৈরী করে তৌসিফ বাথরুমে ঢুকে। সবেই মুখটা ধুয়েছে তখনই একসাথে এত মানুষের কথাবার্তা কানে আসে। তারাতাড়ি দরজা খুলে পৌষের পরিবার সহ হেমন্তকে দেখে কিছুটা স্বস্তি পায় ও৷ দরজা বন্ধ করে পুণরায়।
বড় চাচা পৌষের মাথায় হাত রাখলেন। পৌষের অনুভূতি এক্ষেত্রে ভোঁতা। তাদের দেখে ভালোই চমকেছে ও। মনের ভেতর অস্থির হয়ে আসছে। তাদের সাথে ওর সম্পর্ক খুব তিক্ত। এরা কেউ কোনদিন মন থেকে পৌষকে ভালোবাসে নি৷ আদর করে দেখে কি। একটা অতিরিক্ত বস্তু বৈ পৌষ তাদের নিকট কিছুই না। ছোট চাচি এসে বসলেন পাশে।

“কেমন আছিস এখন?”
“ভালো।”
“আর কয়দিন থাকতে হবে?”
“চলে যাব আজ।”
পৌষ আর তেমন একটা কথা বললো না৷ বড় চাচা কথা বলতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না। ছোট চাচা এগিয়ে এলেন। পৌষের মাথায় হাত রেখে বললেন,
“সুস্থ হয়ে এবার বাসায় ফিরবি পৌষ।”
“হ্যাঁ, বাসায়ই যাব।”
“আজই তাহলে বাসায় চল? জামাইকে বলি?”
“বলার কি আছে? উনার সাথেই তো যাব। আমি আমার বাসায় যাব।”
ছোট চাচা ওর কথা ততটা বুঝলেন না৷ তৌসিফ বেরিয়ে এসেছে ততক্ষণে। নার্স এসে স্যালাইন চেক করে গেলেন। আর একটু বাকি। হেমন্ত তৌসিফকে দেখে পৌষের হাতের কথা জিজ্ঞেস করতেই তৌসিফ জানালো,
“পানি চলে এসেছে। আজ ক্যানোলা চেঞ্জ করে নতুনটা লাগিয়েছে তাই ব্যথা পেয়েছে।”
“দুপুরে ছাড়বে তাই তো?”
“হ্যাঁ।”
তৌসিফ অবশ্য মান রাখলো। চাচাদের সাথে কথা বললো। তারা সেদিন পৌষের সাপোর্ট টানলে আজ তৌসিফ কোথায় পেতো এই তোতাপাখি? তার বুকটা তো খালি থাকতো এখন।
পৌষ এদের কারো সাথে কথা বললো না৷ তার মনই চায় না কথা বলতে অথচ ভেতরটা খাবলে উঠে। কি হতো এরা যদি একটু ভালোবাসা দিতো? কম হয়ে যেতো তাদের বাচ্চাদের?

ইনি, মিনিকে কোলে তুলে তৌসিফ হাঁটাহাঁটি করছে। দু’বোন ঘুমাচ্ছে না। সমান তালে ত ত করে গল্প করছে। তৌসিফ অগত্যা ওদের নিয়ে সোফায় বসলো। কপালে থাকা কোঁকড়া চুল কানে গুঁজে দিয়ে বললো,
“ক্ষুধা লেগেছে না? এখন একটু খায়িয়ে দেই?”
“আপা উথবে না?”
তৌসিফ তাকালো দরজার দিকে। পৌষরটা একটু ঘুমিয়েছে। মেয়েটার চোখ লাগেই না। ক্ষুদ্র শ্বাস ফেললো তৌসিফ। বললো,
“উঠবে। আপা উঠলে তাকে খাওয়াবে না? আগে খেয়ে নাও তাহলে।”
“কি থাব?”
“কি খেতে চাও বলো?”

দু’জন গভীর ভাবনায় হারালো। ভাবতে থাকলো কি খাওয়া যায়? তাদের কি কেউ জিজ্ঞেস করেছে আজ পর্যন্ত এই প্রশ্ন? নাহ্, করে নি। যখন যার মন চেয়েছে মুখে ঠুসে খায়িয়েছে। আদর করে শুধু আপা খায়িয়ে দিতো, এখন তো তাও দেয় না। মা রেখে গেলে পিঠে মাইর দেয় তখন হেমু ভাই খায়িয়ে দেয়। দু’জন ভাবতেই থাকলো। উত্তর আর দিতে পারলো না। তৌসিফের দিকে অসহায় মুখ করে তাকিয়ে রইলো। তৌসিফ ওদের মুখ দেখে নিজেও অসহায় বোধ করলো। পরপর বুয়াকে ডেকে নরম খিচুড়ি করতে বললো। দু’জন না করলো না বরং তৌসিফের দুই ঘাড়ে ঝুললো। তৌসিফ দু’জনকে কাঁধে তুলে ড্রয়িং রুম জুড়ে হাঁটলো কিছুক্ষণ। মাঝেমধ্যে সামান্য দৌড়ালো। মাঝেমধ্যে একটু ধীরে হাঁটলো৷ ঘরময় ইনি, মিনির কণ্ঠ শোনা গেলো কিছুক্ষণ। বুয়া খিচুড়ি দিতেই তৌসিফ অপরিপক্ক হাতে মুখে তুলে খাওয়ালো। এক জায়গায় বসে খেতে খেতে উঠে দু’জন আবার পৌষের কাছে দৌড়ে গেলো। তৌসিফও পিছনে ছুটলো। পৌষ তখন চোখ খুলেছে, খুলে আবার বন্ধও করেছে। ক্লান্ত হলো না তৌসিফ। দুই শালীকে খায়িয়ে মুখ মুছালো। বসে দু’জনকে কোলে নিতেই ধীরে ধীরে ওরা কাঁধে মাথা রাখে। ছোট্ট হাতে পিঠ জড়িয়ে ধরে। তৌসিফ বুঝলো ঘুমাবে তার দুই শালী। ওভাবেই ওদের নিয়ে চোখ বুজলো তৌসিফ।

“দুলাভাই?”
তৌসিফ তাকালো। কফি হাতে পিহা দাঁড়িয়ে। পিটপিট করে দেখছে তৌসিফকে। পিহা হাসিমুখে বললো,
“কফি নিন আপনার দুলাভাই? ইনি, মিনিকে আপার সাথে বিছানায় দিন৷ আমি কি আপনার চুল টেনে দিব?”
তৌসিফ তাকালো বিছানায়। পৌষ তাকিয়ে আছে। ইনি, মিনিকে ওর পাশে দিয়ে পিহা থেকে কফি নিলো। পৌষের পাশে বসতে বসতে বললো,
“এটা কি হলো হানি?”
“কি হয়েছে?”
“দিনকাল কি এলো দেখলে? শালীদের কোলেপিঠে করে মানুষ করছি। দুইটা ছোট্ট তোতা। এদিকে বেসাইজ শালী আমাকে পালতে এসেছে। দেখো, কফি এনেছে। বুঝলো কিভাবে? আবার বলে টুন টেনে দিবে। আমি কিন্তু ভুলি নি। আমার চুল, দাঁড়ি যে ওরা টেনে দেখেছিলো।”

“বেশ করেছিলো।”
“দুলাভাই?”
পিহা আবার ডাকছে। তৌসিফ তাকিয়ে দেখলো পিহা হাতে করে খাবার এনেছে। তৌসিফ না করতে পারলো না৷ কফির সাথে তো কিছু খায় না তৌসিফ কিন্তু শালীর মন তো রাখতে হবে তাই একটা টোস্ট নিয়ে বললো,
“এটাই যথেষ্ট পিহা।”
“আচ্ছা দুলাভাই।”
পৌষ দেখলো। চোখ ছোট ছোট করে বললো,

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৬৭

“এসেছি থেকে দেখছি বেশ যত্নে আছেন আপনি৷ আমার ভাই-বোনদের খাটাতে এনেছেন এখানে?”
“তাওবা পড়ো হানি। আমি খাটাব ওদের? আমাকে জমজ দুটো খাটাচ্ছে।”
কথা সত্যি। তৌসিফ ইনি, মিনিকে নিয়ে খুব খাটছে কিন্তু সে খামাখাই খাটছে। জোর করে দুপুরে হসপিটাল থেকে ওদের নিয়ে এসেছে এখানে। হেমন্ত দিতে চায় নি তৌসিফও ছাড়ে নি৷ বলেছে রাতে পাঠাবে। ইনি, মিনি ঘুমিয়ে গেলো খুব তারাতাড়ি। বেশ ভোরে উঠেছে কিনা৷
কলিং বেল বাজতেই পিহা ছুটে এলো। পৌষকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“বিয়াই এসেছে আপা।”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৬৯