প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩২
নওরিন কবির তিশা
তপ্ত রোদ্দুরে আবৃত ধরণী। তবে আজ বাতায়নে নেই কোনো সুখকর বার্তা যা আছে তা শুধুই এক বিষাদের ছায়া। বিদায়ের মুহূর্তে আকাশ-বাতাস ভারী, যেন প্রকৃতিও বুঝতে পারছে হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা বিয়োগ ব্যথা। গাড়ির সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে সকলে, চোখে মুখে এক অব্যক্ত যন্ত্রণা। এই কয়েকটা দিনের বাঁধন যেন সহস্র বছরের হয়ে উঠেছিল, আর সেই বাঁধন ছিঁড়ে যাওয়ার কষ্টটা আজ প্রতিটি নিঃশ্বাসে অনুভূত হচ্ছে।
অবশেষে অশ্রুপূর্ণ নয়নে একে অপরকে আলিঙ্গন করলো সকলে। নুরজাহান বেগম চলাচলে প্রায় অক্ষম হয়ে পড়েছেন।তবুও পরিচারিকার সহায়তায় সকলকে বিদায় জানাতে এসেছেন তিনি। একে একে সকলের সঙ্গে কথা সেরে তিহুর কাছে এসে দাঁড়ালেন তিনি।তার ললাটে দীর্ঘ এক চুম্বন এঁকে দিয়ে, হেসে বললেন,,
—’উহু, আর একদম কাঁদবি না। আমরা কি মারা যাচ্ছি নাকি হ্যাঁ? বিয়ে তো করলি লুকিয়ে চুরিয়া। আহা গো কত সাধ ছিল, ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে, নিজের সতীন আনবো। তা না সবটা বানচাল করে দিলি তোরা। সে যাই হোক, সে আশা না হয় পরে পূরণ করা যাবে। তা পরের বার আসার সময় আমার খেলার সাথীকে সঙ্গে করে নিয়ে আসিস কিন্তু।
প্রথমে তার কথার মর্ম না বুঝলেও, বোঝার সঙ্গে সঙ্গেই লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠলো তিহুর ফর্সা মুখশ্রী। তার এমন অবস্থায় হেসে উঠলেন উপস্থিত সব মুরুব্বী। অতঃপর একে একে সকলের সঙ্গে কথা সেরে,বিদায় নিচ্ছে সবাই। গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে ফারিসা দৌড়ে এসে তিহুকে জড়িয়ে বললো,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—’খুব মিস করবো তোমাকে বউমনি। অনেক মিস করবো।
তিহুর ডাগর চোখে জল জমেছে।তবুও ফারিসাকে সান্ত্বনা দেওয়ার স্বরে বলল,—’ধুর পাগলী, আমি আবার আসবো।
হঠাৎ সে লক্ষ্য করল ছোট্ট আইরাত গুটি গুটি পায়ে, ললিপপ মুখে নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে তার সামনে। বরাবরের ন্যায় তিহুর ওড়নার আঁচল হাতে পেঁচিয়ে সে বলল,,—’তু-মি তলে জাচছো,তি-হু বে-বি?
আইরাতের কথায় ভেজা নয়নে মলিন হেসে তাকে কোলে তুলে নিল তিহু,তার ছোট্ট ললাটে চুম্বন একে দিয়ে বললো,,—’হ্যাঁ বেবি। আমি চলে যাচ্ছি।তবে ডোন্ট ওয়ারি জানু আমি আবার আসবো!
আইরাত কিছু না বুঝেই মাথা নাড়লো, হাসলো খানিক। একে একে সকলের থেকে বিদায় নিয়ে তিহুরা গাড়িতে উঠল। আগের দিনের ন্যায় প্রবীণেরা অন্য গাড়িতে। নবীন গুলো আরেকটায়।তিহু-নীল বরাবরের ন্যায় আলাদা গাড়িতে।তবে রাওফিন মাহা,একই গাড়িতে গেলেও আলাদা নয়। সঙ্গে আছে আরো অনেকে।চাইলে আজকেও মাহার সঙ্গে অন্য গাড়িতে যেতে পারত সে। কিন্তু প্রিয়তমার মন খারাপের দরুন এরুপ যাত্রা।
মুহূর্ত কয়েকের মাঝে একটি চাপা, নিস্তব্ধ শব্দে গাড়িগুলো চলতে শুরু করল, সকলের হৃদয়ের স্পন্দনও যেন তার সঙ্গে এক লহমার জন্য থেমে গেল। প্রবীণদের গাড়িটি অগ্রবর্তী;সেটি মির্জা মহলের সুপ্রশস্ত ফটক পার হয়ে মন্থর গতিতে প্রধান রাস্তার দিকে এগিয়ে চলল।
তার ঠিক পিছনে, সামান্য দূরত্ব রেখে, নিহিতদের গাড়িগুলিও সারিবদ্ধভাবে যাত্রা শুরু করল। তাদের গাড়িগুলো অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতিতে ধু ধু করা পিচের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলল,ঠিক যেন তারুণ্যের বাঁধন হীনতার ন্যায় দ্রুত বেগে।তার পরপরই ছাড়া হলো অন্য গাড়িগুলো।
সবশেষে,ছাড়লো এতক্ষণ যাবৎ অপেক্ষমান তিহু আর নীলের গাড়িটি। নীল অত্যন্ত শান্তভাবে, পেছনের সকলকে একবার দেখে নিয়ে, ধীরে ধীরে গিয়ার পরিবর্তন করল। পেছনের জানলার কাঁচ তখনো খানিকটা নামানো, ফলে আবছাভাবে দেখা যাচ্ছিল বিদায় জানাতে আসা মানুষগুলোর ভিড়। শেষ বারের মতো তাদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে, কাঁচটি তুলে দিল নীল।
ধীরে ধীরে সবগুলো গাড়িই বাড়ির গেট পার হয়ে বিশাল চওড়া মসৃণ রাস্তায় মিশে গেল। রাস্তার দু’পাশের গাছপালা আর দূরে মিলিয়ে যেতে থাকা বাড়ির আবছা ছবিটা যেন হৃদয়ের শূন্যতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। গাড়ির চাকার অবিরাম ঘূর্ণনের শব্দ তখন যেন দীর্ঘশ্বাসের মতো লাগছে।
গাড়ির গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিছনের সব দৃশ্য দ্রুত অস্পষ্ট হতে শুরু করল। পেছনে রয়ে গেল শুধু ফেলে আসা স্মৃতির এক দীর্ঘশ্বাসের ক্যানভাস। আর সামনের খোলা রাস্তা কেবল নতুন করে শুরু হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে,দুই যুগলকে নীরবে-নিভৃতে এগিয়ে নিয়ে চলল গন্তব্যের দিকে ।
গাড়ি চলছে পিচ ঢালা চওড়া মসৃণ রাস্তার উপর দিয়ে গতি বেড়েছে সামান্য।নীল, অত্যন্ত শান্তভাবে গাড়ি চালাচ্ছে, হাতের কড়েগুলি স্টিয়ারিং-এর উপর আলতোভাবে রাখা, কিন্তু তার সমস্ত মনোযোগ পাশে বসে থাকা প্রিয়তমার দিকে।
কাঁচের জানলা দিয়ে বাইরের চলমান দৃশ্যের দিকে স্থির চোখে চেয়ে আছে সে, সদা চঞ্চলতা মুখর ফর্সা তার মুখশ্রীতে বিষাদের মৃদু ছায়া স্পষ্ট;নরম সিটে তিহু হেলান দিয়ে বসেছে।নীল এতক্ষণ নীরব থাকলেও; হঠাৎ গলা খাঁকারি দিয়ে হঠাৎ বলল,,
—’ মিসেস,নুরাইন ওয়াহাজ?লুক অ্যাট মি।
তিহুর ধ্যান ছুটলো নীলের আকস্মিক আদেশে। সে বাধ্য মেয়ের মত ধীরে ধীরে দৃষ্টি সরিয়ে নীলের দিকে চাইল।
—’দু’মিনিট আগে যা ফেলে এসেছো, নিঃসন্দেহে সেটা সুন্দর স্মৃতি। তবে তাকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এই মূল্যবান ক্ষণ নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।
নীল সামান্য বিরতি নিল,—’তুমি ভুলে যাচ্ছো, আমার একটা ইমেজ আছে।
তিহু অবাক হলো, তারপর কপট রাগ দেখিয়ে বলল, —’আমার মন খারাপের সাথে আপনার ইমেজের কী সম্পর্ক? আমি মন খারাপ করতেই পারি!
—’না,পারো না। কারণ তোমার মন খারাপ হওয়ার অর্থ, আমি ফেল করেছি। আর ওয়াহাজ খান নীল কোনো বিষয়ে পরাজিত হয় না।
সে স্টিয়ারিং-এ হাত কার্যত রেখেই এক হাত দিয়ে তিহুর চিবুক আলতো করে ধরল, নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল,
—’নাও লিসন;ইউ সুড অলওয়েজ,ফোকাস অন মি।নো অন এলস। আন্ডারস্ট্যান্ড?
তিহু ভ্রু কুঞ্জনপূর্বক তাকালো এক ঝলক শুধু।
নিহিতদের গাড়িতে বাড়ির সকল নবীন প্রাণ প্রায়। নিহিত থাকায় এ গাড়িতেই উঠেছে রিশাদ। তবে কাকতালীয় ভাবে তার পাশে সিটেই নীরা বসে। রিশাদ নিহিতের সাথে গল্পে মত্ত থাকলেও নীরার চোখ বারংবার নিবদ্ধ হচ্ছে তার দিকে। হঠাৎ কি ভেবে রিশাদ এক ঝলক পাশে তাকালো, মূলত গন্তব্য আর কত বাকি তা দেখার উদ্দেশ্যেই। তবে সঙ্গে সঙ্গে তার নজর বিদ্ধ হলো একজোড়া চশমা মোড়ানো দৃষ্টিতে।
এদিকের রিশাদ তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি সরালো নীরা। ব্যাপারটা বোধহয় বোধগম্য হল রিশাদের। একই জিনিস বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছিল সে। মস্তিষ্ক আসল কথাটা জানান দিতেই সরু নেত্রে চেয়ে মৃদু হাসলো সে।
অন্যদিকে রাফা নিহিতের পাশে বসে থাকলেও কোনো বাক্যালাপ হচ্ছে না তাদের মাঝে। কেন?জানা নেই।খুব সম্ভবত নিহিত রেগে আছে রাফার উপর। তবে কারণটা অজ্ঞাত। জানলার কাঁচ খোলা থাকায়, সামান্য রৌদ্র রেখা এসে রাফার মুখে খেলা করছিল। বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে জালনাটা বন্ধ করতে যেতেই, তার হাত পড়ল নিহিতের হাতে। মূলত নিহিত এতক্ষণ যাবত খেয়াল করছিল তার বিরক্তি।
দুজনে একত্রে বদ্ধ করতে যাওয়ার দরুন হাতে হাত পড়েছে শুধু। সঙ্গে সঙ্গে তড়িৎ বেগে হাত ছড়িয়ে নিল নিহিত।রাফা ভেতরে ভেতরে ভারাক্রান্ত হলেও বাইরে প্রকাশ করল না একটুকুও।
রাওফিনদের গাড়িতে রাওফিন-মাহা, আইয়াজ আর নাহা।আইয়াজ আর রাওফিন সামনে । আর মাহা-নাহা পিছনে। হঠাৎ রাওফিন লুকিং গ্লাসে মাহার দিকে তাকিয়ে আইয়াজের উদ্দেশ্যে বলল,,
—’প্রেমে পড়েছো কভু ভায়া?
তার এমন কথায় চমকে উঠল আইয়াজ। নাহা বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকালো আইয়াজের দিকে, উদ্দেশ্য তার মনোভাব বোঝা।আইয়াজ দ্রুত মাথা নাড়িয়ে বলল,,
—’ন-না।
নাহা নিশ্চিন্ত হল।রাওফিন দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বলল,,-—’বেঁচে গেছ রে ভায়া। নইলে জীবনটা তেজপাতা হয়ে যেত..!
হঠাৎ তার এমন কথার মানে সকলে না বুঝলেও।মাহা ঠিকই বুঝতে পেরেছে। নাহা বলল,,—’কেন ভাইয়া? এমন ভাবে বলছো মনে হচ্ছে জীবনে এক্সপেরিয়েন্স আছে।
কথাটা বলার সময় একঝলক মাহার দিকে আড়-দৃষ্টিতে তাকালো সে।
—’এক্সপেরিয়েন্স বলে এক্সপেরিয়েন্স? একেবারে ফিলোসফি, এতদিনে ফিলোসফার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল আমার।
—’এমা,তাই নাকি?
—’হু রে বোন আমার।
—’আহাগো ভাইয়া, তোমার জন্য দুঃখ পেলুম।
রাওফিন ঠোঁট বাচ্চাদের মতো উল্টিয়ে বলল,,—’কি যে করব? জীবনটা পুরো ওই গানটার মত হয়ে গেছে..!
নাহা আগ্রহ নিয়ে শুধালো,,—’কি গান ভাইয়া?
রাওফিন গলা খাঁকারি দিয়ে হঠাৎ গেয়ে উঠলো,,
🎶 তার পিরিতে দিবানিশি….
থাকে আমার মন উদাসী…..
প্রেমের জ্বালা বড় জ্বালা রে…..
বুকের মাঝে আগুন জ্বলে….
নিভেনা রে জল ছিটালে……
কবে দিমু গলায় মালারে….🎶
তার গানে হেসে উঠলো নাহা, পরক্ষণে নিজেকে সামলাতে সামলাতে বলল,,—’ভাইয়া ওটা তার পিরিতে না, তোর পিরিতে হবে।
—’ওই হল একটা।
এমনই হাসি ঠাট্টায় গাড়িটা এগিয়ে চলল সম্মুখ পানে।
দিনের আলো ক্ষীণ হতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা নিকটবর্তী; গোধূলি তারে প্রমাণক হিসাবে কাজ করছে। প্রত্যেকটা গাড়ি এসে ভিড়েছে খান মহলের প্রধান ফটকের সামনে। শব্দের ঝংকার তুলে, খোলা হলো ফটকটা। একে একে ভেতরে প্রবেশ করল সবগুলো গাড়ি। শুধু নেই নীল-তিহুর অস্তিত্ব। সামান্য চিহ্নটিও দেখা যাচ্ছে না তাদের।
কারন কি…? প্রশ্নটা উত্থাপিত হলে, মির্জা সূচনা সকলকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,,
—’ওদের আসতে কিছুটা দেরি হবে। তোমরা দ্রুত নামো,আর মাহা-রিশাদকে একসঙ্গে নিয়ে তারপর ভেতরে ঢুকবে। আমি ওদের আনতে যাচ্ছি কেউ যেন আগে, ভেতরে প্রবেশ না করা হয়। ওরা আগে কখনো আসেনি মহলে।
বলেই সদ্য থামা গাড়িটা থেকে নামলেন তিনি। সকালে অপেক্ষমান দৃষ্টিতে চেয়ে রইল তার দাম্ভিকতায়পূর্ণ পদচারণার দিকে।
গোধূলির রাঙা আভা পশ্চিমে ঝরে পড়ছে,প্রকৃতিও যেন নিজের বিদায় কালের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। জানলার কাঁচের বাহিরে দূর দিগন্তে নিবদ্ধ তিহুর দৃষ্টি। উন্মুক্ত দিগন্তে, ভেলার ন্যায় রাশি রাশি ভেসে বেড়াচ্ছে, রক্তিম মেঘমালারা। এতক্ষণ সব ঠিকই ছিল হঠাৎ তিহুর ভ্রু কুঁচকে গেল যখন সে বুঝতে পারলো নীল বাড়ির পথে না গিয়ে অন্য পথে মোড় নিয়েছে।
তিহু কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঞ্জনপূর্বক শুধালো,,—’কোথায় যাচ্ছেন?
নীল তৎক্ষণাৎ বলল না কিছু।শুধু নিজের দক্ষ হাত জোড়া স্টিয়ারিংয়ে কার্যত রেখে এগিয়ে চলল সম্মুখ পানে। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে বলল,,-—’নামো।
তিহু গম্ভীর মুখে বলল,,—’পারবোনা।
নীল ভ্রু কুঁচকে শুধাতে গেল কেন? পরমুহূর্তেই তার মনে পড়ল একটু আগে সেও তিহুর কথার কোনো জবাব দেয়নি। মৃদু হেসে গলা খাঁকারি দিয়ে নীল বলল ,,—’উহু, তা কোলে ওঠার প্ল্যান করছেন নাকি ম্যাডাম?
তিহু অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালে নীল মৃদু হেসে দৃষ্টি বিনিময় করল তার দিকে। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে সম্মুখে এগিয়ে গেল তিহু। নীল বরাবরের ন্যায় পিছু করলো তার। মাটিতে লুটোপুটি খাওয়া তিহুর ওড়নার আঁচল অতি যত্নে তুলে নিলো হাতে;তা থেকে তিহুর মেয়েলী পারফিউমের তীব্র সুবাস নিতে নিতে এগিয়ে চলল সম্মুখ পানে।
কিছুদের এগোতেই তাদের দেখা হলো নীলের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে। ইফাজ, আদনান, আরুশ,আবির সবাই সেখানেই ছিল। তিহুকে দেখে একে একে সালাম ঢুকলো সবাই। এই একটাই সময় যখন তিহু মাত্রাতিরিক্ত অস্বস্তিতে ভোগে। নিজের থেকে বয়সে এত বড় লোকজনদের কাছ থেকে ভাবি শুনতে ভালো লাগলেও প্রতিনিয়ত সালাম শুনতে একদম ভালো লাগেনা। তবুও অভ্যাস তো করতেই হবে নেতার বউ বলে কথা…!
তারা সবাই তিহুকে সালাম দিয়েই নীলের ইশারায় প্রস্থান করল। অতঃপর নীল তিহুর হাত ধরে এগিয়ে চলল সম্মুখের দিকে। মৃদু আলোয় সজ্জিত স্থানটা। সন্ধ্যার রক্তিম আকাশের নিচে এক জোড়া কতপ-কপতি রক্তবর্ণ কৃষ্ণচূড়ার ভূ-আকৃষ্ট ডালটার নিচে দাঁড়িয়ে। চারিদিকে বিভিন্ন ফুলের সমাহার।
মূলত একটা পার্ক এটা। যার কিছু অংশ নীলের মর্জি অনুসারে সজ্জিত হয়েছে। আশেপাশে আরো কিছু কপত-কপতির সমাহার। হঠাৎ তিহু বিস্মিত কন্ঠে শুধালো,,—’হঠাৎ এখানে কেন?
নীল তাকে জবাব দেওয়ার পূর্বেই দেখতে পেল,গাজরার ডালা হাতে একে একে তাদের দিকে আসছে দুটি বাচ্চা। গাঁজরা গুলো নীলের কাছে দিয়েই প্রস্থান করল তারা।তিহু হতবাক দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে পরক্ষণে নীলের দিকে তাকিয়ে বলল,
—’কি হলো ব্যাপারটা?
ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে বোধগম্য হয়নি তার, তবে তার প্রত্যুত্তরে কোনো মতামত ব্যক্ত না করে, নীল সন্তর্পণে তার হাতে পরিয়ে দিল বেলি ফুলের গাজরাটা।তিহু তখনো কপাল কুঁচকে চেয়ে আছে তার হাতের দিকে। গাঁজরা পড়ানো শেষ হতেই নীল বলল,,
—’আপনার সেদিনের সামান্য অভিযোগের সমাপ্তি ঘটালাম মাননীয়া।
তিহু সরু নেত্রে তাকানোপূর্বক বোঝার চেষ্টা করলো নীলের কথার মানে। পরক্ষণেই মস্তিষ্কে ধরা দিল কিছুদিন আগের কিছু কথা। তিহু সেভাবেই তাকিয়ে বলল,,
—’এতদিন পর আজ হঠাৎ…..?তা এর কারণ জানতে পারি জনাব?
—’উইথ আউট অ্যানি রিজন।
‘উইথ আউট অ্যানি রিজন..?’——তিহু চমকে তাকালো। পরপর মুখ বাঁকিয়ে বলল,,—’ঢংয়ে আর বাঁচি না!এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে যেন মনে হচ্ছে আমি যা চাইবো তাই করবে।
সে কথাটা ফিসফিসিয়ে বললেও তা কর্ণগোচর হলো না নীলের।সে গভীর কন্ঠে বলল,,
—’বলে দেখতে পারো।
তিহু নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে গাঁজরা পরিহিত হাতের পানে চেয়ে বলল,,—’সেসব না হয় বাদ দিন?কি কি করতে পারবেন আমার জন্য সেটাই নাহয় বলুন মিস্টার পলিটিশিয়ান।
নীল মৃদু হেসে গভীর পৌরুষ কন্ঠে গেয়ে উঠলো,,
প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩১
🎶 Ab to yah alam hai…
(এখন তো অবস্থা এমন…)
Tu Jaan mange to….
(যদি তুমি প্রাণও চাও….)
Main sokh se de do….🎶
(আমি সানন্দে তা দিয়ে দেব..)
