প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৩৩+৩৪
Afnan Lara
আহানা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে শান্তর দিকে ব্রু কুঁচকে চেয়ে রইলো
.
শান্ত বাইকে হেলান দিয়ে আহানার দিকে তাকিয়ে বললো ববি আমাকে খুব জ্বালাচ্ছে,জাস্ট এমনি ফ্রেন্ডলি কথা বললাম আর ও তো আমাকে প্রোপোজই করে বসলো
.
আহানা ফিক করে হেসে দিলো কথাটা শুনে
তাহলে বিয়ে করে নেন
.
আহানা?তোমার মাথা ঠিক আছে? ওরে বিয়ে করলে আমার জীবন যৌবন সব যাবে
.
তাহলে কি করতে চান?
.
তুমি প্লিস হেল্প করো,ওর থেকে আমাকে বাঁচাও
আমার ঠ্যাকা পড়ে নাই
.
পড়সে আমার কথা না শুনলে মাঝপথে তোমাকে রেখে চলে যাবো আমি
.
আহানা চোখ বড় করে বললো ঠিক আছে ঠিক আছে
দেখি কি করা যায়,কিন্তু এখানে আপনার ও দোষ আছে
.
আমি কি করলাম?
.
আপনি ওর সাথে সাথে তাল মিলান,ওকে কাছে আসতে দেন সবসময়,লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছেন,এখন নামাতেও পারতেসেন না
.
আমি তোমাকে জ্বালানোর জন্য!
.
মানে?আমাকে জ্বালানোর জন্য??আমি জ্বলবো কেন?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নাহ কিছু না,চা খাওয়া শেষ?
.
হুম
.
দাও কাপ দাও,আমি রেখে আসি
.
শান্ত কাপ নিয়ে দোকানদারকে দিয়ে ফেরত এসে বাইকে বসে স্টার্ট দিতেই একটা ছেলে বলে উঠলো অল দ্যা বেস্ট ভাইয়া
শান্ত মুচকি হেসে চলে গেলো
.
আচ্ছা আপনাকে ওরা অল দ্যা বেস্ট বললো কেন?
.
এমনি তুমি বুঝবে না
.
একটা কথা বলেন,তখন বেবিকে নিয়ে কই গেছিলেন?
.
ববি আমাকে বললো ও ওর বাবা মায়ের বিবাহবার্ষিকীতে কি যেন গিফট করবে,আমি যেন চুজ করে দিই,আমি অনেক মানা করেছি তাও জোর করে নিয়ে গেছে
.
😒😒
.
হাতে ব্যাথা করে?
.
নাহ
.
গুড
.
আপনার?
শান্ত হেসে দিয়ে বললো নাহ তখনও করেনি এখন তো করেই না
.
আপনার বাবার বাসায় কে কে আছে?
.
বাবা,সৎ মা,সৎ বোন আর সুপার সৎ ভাই
.
সুপার সৎ ভাই মানে?
.
আমার এখন যে মা আছে উনার আগের সংসারের ছেলে
.
হাহা,তাই বুঝি সে সুপার সৎ ভাই?
.
হ্যাঁ
.
আপনার ভাগ্য ভালো,এক মা গেছে আরেক মা এসেছে
.
শান্ত কথাটা শুনে বাইক থামিয়ে ফেললো
.
আহানা ভয় পেয়ে ঢোক গিলে চুপ করে আছে
.
যে মা গেছে তার মতন কেউ হতে পারবে না,পারার চেষ্টাও করে না
.
ওহ,সরি জিজ্ঞেস করার জন্য
.
তোমাকে আর কি বলবো,আমার তাও সৎ আছে তোমার তো সেটাও নেই
.
আহানা চুপ করে থেকে সামনের দিকে তাকালো
.
শান্ত হুঠাৎ করে আবারও বাইক থামিয়ে নিলো
.
কি হয়েছে?
.
আইসক্রিম খাবে?
.
মাত্রই তো চা খেলাম
.
তো কি হয়েছে,আমি তো চা দিয়ে সিগারেট ও খাই
আহানা শান্তর কথায় হেসে দিলো
দুজনে আইসক্রিমের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে
শান্ত ভিতরে আইসক্রিম কিনতে গেছে
Za n Zee এর কোণ কিনলো,চকলেট ফ্লেভারের
আহানার দিকে তাকিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা পিছলিয়ে দুম করে নিচে পড়ে গেলো শান্ত
আহানা ধরে ফেললো কোনোরকম করে,এতবড় ছেলেকে কি আর একটা মেয়ে ধরতে পারে
আহানা পিছিয়ে গেলো তাও একরকম করে ধরলো ওকে
শান্ত তার আইসক্রিমটা খুলে ফেলছিলো বলে আইসক্রিমটা অনেকখানি আহানার মুখে লেগে গেছিলো
আহানা ওড়না নিয়ে মুছতেসে শান্তর দিকে ব্রু কুঁচকে চেয়ে
.
শান্ত হেসে দিয়ে বললো ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলো আমার,যেদিন তুমি তোমার সারা মুখে চকলেট মেখেছিলা
.
আহানা লজ্জা পেয়ে আরেকদিকে ফিরে গেলো
.
অবশ্য কেউ চাইলে সেটা ফেরত দিতে পারে
.
হুহ,আপনার এলিনা আর বেবিতে হয় না এবার আমার পিছে লাগছেন?
.
এক মিনিট!তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই,ওকে?
.
হুহ
.
আইসক্রিম খাওয়া শেষে আবার বাইকে এসে বসলো দুজনে,বাসায় ফিরে আহানা ভাবতে থাকলো আজকের শান্তর সাথে আগের দিনের শান্তর অনেক তফাৎ ছিল
.
শান্ত বারান্দায় বসে সিগারেট হাতে নিয়ে ব্যস্ত নগরী দেখতেসে,আজ যদি এলিনার হাতে সিগারেটের ছ্যাঁকা লাগতো সে পুরো বাংলাদেশ উল্টো করে ফেলতো চিৎকার করে
শান্ত কিসব ভেবে সিগারেট নিয়ে নিজের হাতে লাগিয়ে ধরলো
আমিও আহানার মত হয়ে গেলাম নাকি
হাত পুড়লো চিৎকার করলাম না,জাস্ট ব্রুটা কুঁচকেছে ব্যাথায়
শান্ত ফ্রিজ থেকে আইস কিউব নিয়ে হাতে লাগিয়ে বসে ভাবতে লাগলো অবশ্য আমি ব্যাথা পেলে চেঁচাই না
আগে জানতাম মেয়েরা চেঁচায়,কিন্তু আহানা সেটা ভুল প্রমান করলো আজ
রুমের বাইরে থেকে ফিসফিস শুনা যাচ্ছে,শান্ত কান খাড়া করে শুনার চেষ্টা করলো
হ্যাঁ বিশ্বাস কর,সে প্রেমে পড়েছে
.
তুই এমন করে আমাকে বিশ্বাস করাতে চাস কেন,আমিও তো জানি ও প্রেমে পড়সে,আমি স্বাক্ষী
.
নওশাদ তোর কাছে প্রুভ আছে?
.
রিয়াজ কি বলিস তুই,নিজের চোখে দেখছি আহানাকে নিয়ে বাইকে করে ঘুরতেসে
.
ওকে চল রুমের ভিতর আজ ওর একদিন কি আমাদের যতদিন লাগে
.
দুজনে পা টিপে টিপে রুমের ভিতরে ঢুকতেই দেখেলো শান্ত কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
.
তোরা যদি এখন বলিস আমি প্রেম করি তাও আহানার সাথে এটা ডাহা মিছা কথা
.
তুই আমাদের মিথ্যাবাদী প্রমান করাতে চাস?তাহলে বাইকে করে ওকে নিয়ে ঘুরানোর মানে টা কি?
.
রাত করে একা একটা মেয়েকে একা একা বাসায় আসতে দিই কি করে?তোরা হলে কি করতি?
ফাইন,তুই এখন আহানাকে ফোন করবি,লাউড স্পিকার দিবি,আহানা কি বলে আমরা শুনবো
.
তোরা আমাকে বিশ্বাস করোস না?নওশাদ??তুই আমার পিছে লাগছোস কেন?
.
তুই কল দিবি কিনা বল
.
ফাইন,নে কল দিলাম
.
লাউড স্পিকার দে
.
হ্যালো আহানা!
.
কি?
.
আমার নোটগুলো কমপ্লিট করসো?
.
এত বার জিগাইয়া মাথা খান কেন?প্রতিদিন তো আসার সময় নোট কমপ্লিট করেই আনি,অসহ্য!
.
শান্তর কান মনে হয় ফেটে গেছে,আহানা এত চেঁচায় বললো কথাগুলো
নওশাদ আর রিয়াজ ফোনে কান লাগিয়ে ছিল,তাদের ও মনে হয় কানের পর্দা ফেটে গেছে
.
ওকে বাই,এত গন্ডারের মত চিল্লাইতে হবে না আর!
.
কিহহহ আমি গন্ডার?তাহলে আপনি পেঙ্গুইন,সোজা হয়ে ঢুলি ঢুলি হাঁটেন😂
.
কি বললে?আমি পেঙ্গুইনের মত হাঁটি?তাহলে তুমিও হরিণের মত লাফায় লাফায় হাঁটো
.
আপনি তো ভাল্লুকের মত গাপুসগুপুস করে খান
.
এই তোরা থাম,উফ মাথা খাবে আমাদের দুজনের তোরা দুজন মিলে,ফোন কাট
.
শান্ত বিরক্তি নিয়ে ফোন রেখে দিলো
এবার বিশ্বাস হইসে তো যে আমরা প্রেম করতেসি না?
.
হ্যাঁ বিশ্বাস হইসে সাথে এটাও বুঝলাম তোদের জীবনে প্রেম হবে না,আজীবন আচারে পাঁচফোড়ন দিতেই থাকবি তোরা,আচার টেস্ট করা আর হবে না
শান্ত মুখ বাঁকিয়ে বিছানায় গিয়ে বসলো
.
আহানা ফোন রেখে জামায় সাবান দিতে দিতে ভাবতে লাগলো শান্ত কি ঝগড়া করার জন্য নক করেছিল নাকি,কে জানে,এই লোকটা কখন কি করে তা বোঝা দায়
.
পরেরদিন সকালে আহানা হেঁটে যাচ্ছে সাথে কেঁদে যাচ্ছে,চোখের পানি মুছতে গিয়ে ওড়না ভিজে শেষ,কাঁদতে কাঁদতে নাক গোলাপি রঙ হয়ে গেছে
ভয়ে ভয়ে শান্তর বাসার সামনে এসে দেখলো তার বাসার দরজা বন্ধ,ঢোক গিলে মিষ্টিকে পড়াতে চলে গেলো
প্রতিদিনকার মত পড়ানো শেষে বেরিয়ে দেখলো শান্ত দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে আছে
আমার নোটস কমপ্লিট করসো?
.
আসলে!
.
কি?
.
আমি আসলে!
কথা বলতে গিয়ে আহানা কেঁদেই দিলো
.
শান্ত চমকে এগিয়ে এসে বললো কি হয়েছে আহানা?
কেউ তোমাকে কিছু বলছে??
.
আমাকে মাফ করে দিয়েন আমি আসলে
.
কান্না থামাও
.
শান্ত যখন দেখলো আহানাকে সামলানো যাচ্ছে না সে বাচ্চাদের মতো কেঁদেই চলেছে শেষে ওর হাত ধরে বাসায় নিয়ে গেলো,সোফায় বসিয়ে পানি এক গ্লাস এনে দিলো ওর হাতে
আহানা পানি খেয়ে কিছুক্ষন চুপ করে কথা বলা শুরু করলো
আমি আপনার নোটস কমপ্লিট করতেছিলাম,নোট রেখে জামাকাপড় ধুইছি,এক বালতি সাবানের পানি ছিল রুমে,আমি টেবিল মুছতে গিয়ে ভুলে হাতের সাথে লেগে নোটটা বালতির ভিতরে পড়ে গেছিলো ,তাও তমাল ভাইয়ারটা😭
.
শান্ত চোখ বড় করে ফেললো আহানার কথা শুনে,আহানা আবারও কান্না শুরু করে দিলো ভয়ে,এতদিন বড় বড় কথা বলতো আর আজ নিজেকে বিড়াল মনে হচ্ছে
.
শান্ত হাসবে নাকি কাঁদবে সেটা বুঝতেসে না,শেষে নিজেও এক গ্লাস পানি খেলো,তমালের ঐ নোটবুকটাই এতদিনের সব কপি ছিল,পানিতে ধুয়ে সব শেষ,তমাল ওর মুখের উপর কিছু বলবে না বাট এটাতে তমালের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে,শান্ত ভাবনায় পড়ে গেলো সে কি করবে
.
আচ্ছা কান্না থামাও,আমি এক কাজ করবো,আমার কাছে সব নোটস আছে,তুমি অর্ধেক নাও আর আমি অর্ধেক,তারপর আমরা ২দিনেই আগের সব নোটস তুলে ফেলবো নিউ নোট খাতায়,আমি নওশাদ আর রিয়াজের ও হেল্প নিব,তাহলে ২দিনেই হবে যাবে
.
আহানার মনে হলো কাঁধ থেকে বোঝা হালকা হয়ে গেছে খুশি হয়ে লাফিয়ে উঠলো সে
.
শান্ত ব্রু কুঁচকে বললো খুব তো বড় বড় কথা বলতে,আর এখন??সব সাবান দিয়ে ধুয়ে দিলে!
.
😒
.
যাও বাসায়,পরেরটা পরে দেখা যাবে,আমি তমালকে সামলিয়ে নিব
.
আহানা বাসায় ফিরে ১০টা পর্যন্ত নোট কিছুটা লিখে নিলো,তাও ভয় কাটলো না
না জানি তমাল ভাইয়া কি বলবে আমাকে!!
ভয়ে ভয়ে ভার্সিটির দিকে রওনা হলো আহানা
ক্লাসে বসে কিছু নোটস লিখলো
কিরে আহানা?এটা কিসের নোটস লিখতেছিস??এটা তো আমাদের ক্লাসের মনে হচ্ছে না
.
এটা মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের
.
কিহহহহহ!তুই মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের নোট লিখস কেন,তোর শরীর ঠিক আছে তো?
.
হুম,এটা আমার চাকরি,শান্ত ভাইয়া দিসে😒
.
ওহ হো,ভিতরে ভিতরে টেম্ফু চালাও?আর আমরা ধরলে কও হরতাল
.
চুপ,যা এখান থেকে,শয়তান!
.
আহানা ব্রেক টাইমে ক্যামপাসে এসে শান্তকে খুঁজতেসে এদিক ওদিক তাকিয়ে
হঠাৎ কেউ পিছন থেকে ডাক দিলো
আহানা বুঝতে পারলো এটা তমালের কন্ঠ
ভয়ে পিছন ফিরে তাকালো
.
সরি ভাইয়া আসলে আমি
.
কিছু বলতে হবে না,শান্ত আমাকে বলেছে,তুমি নাকি বাচ্চাদের মত কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলে😂তখন নাকি তোমাকে নাককাঁদুনি লাগতেছিলো,তাই নাকি?
আমি তোমাকে এটা বলতে আসলাম যে কেঁদো না,ইটস ওকে
.
আহানা রেগে বললো আমি বাচ্চাদের মত কাঁদতেসিলাম?আমি নাককাঁদুনি??শান্ত ভাইয়া কই?
.
ও মনে হয় বটতলায়
.
আহানা হনহনিয়ে সেদিকে গেলো
গান শুনা যাচ্ছে বটতলা থেকে
♪♪♪কথা হবে দেখা হবে, প্রেমে প্রেমে মেলা হবে,
কাছে আসা আসি, আর হবে না.
চোখে চোখে কথা হবে, ঠোঁটে ঠোঁটে নাড়া দেবে,
ভালবাসা-বাসি, আর হবে না.
শত রাত জাগা হবে, থালে ভাত জমা রবে,
খাওয়া দাওয়া, কিছু মজা হবে না.
হুট করে ফিরে এসে, লুট করে নিয়ে যাবে,
এই মন ভেঙে যাবে, জানো না.
|| আমার এই বাজে স্বভাব, কোনোদিন যাবেনা ||
আহানা এগিয়ে এসে শান্তর সামনে দাঁড়ালো
শান্ত গান অফ করে দাঁত কেলিয়ে চেয়ে আছে ওর দিকে
.
এই আমি নাককাঁদুনি?
.
হ্যাঁ,যেভাবে কাঁদতেসিলে সেটাই মনে হচ্ছিলো
.
তাহলে শুনে রাখুন আপনি আস্ত একটা জলহস্তী!!
আহানা কথাটা বলে চলে গেলো
.
হ্যাঁ রে শান্ত তোরে এত বড় কথা বলে গেলো তোর কোনো রিয়েকশান নাই কেন?
.
শান্ত জ্যাকেট ঠিক করে সানগ্লাস পরে নিয়ে আহানার পিছন পিছন এগিয়ে গেলো
.
আহানা দাঁড়াও
.
কি?
.
আমি জলহস্তী হলে তুমি কি জানো?তুমি জলহস্তিনী!!!
শান্ত ভেঁংচি কেটে চলে গেলো
.
আহানা ভাবতেসে জলহস্তী শুনেছি,জলহস্তিনী শুনি নি
.
কিরে আহানা তোরে পুরো ক্যামপাসে খুঁজলাম আর তুই এখানে?কি ভাবস এত?
আচ্ছা জলহস্তিনী মানে কি?
.
হাহা,এটাও জানস না?
রুপা চকলেটের প্যাকেট খুলতে খুলতে বললো জলহস্তীর ওয়াইফকে জলহস্তিনী বলে😜
.
আহানা চোখ বড় করে তাকালো বটতলার দিকে
.
আহানার রাগী লুক দেখে শান্ত মুচকি হেসে সবার সাথে গানে মন দিলো
.
♪♪♪♪ভুলভাল ভালবাসি, কান্নায় কাছে আসি,
ঘৃণা হয়ে চলে যাই, থাকি না.
কথা বলি একাএকা, সেধে এসে খেয়ে ছ্যাঁকা,
কেনো গাল দাও আবার, বুঝি না.♪♪♪♪
.
আহানা হাত নাড়িয়ে বললো আপনার বউ হতে আমার ভয়েই গেছে,উগান্ডার বউ হয়ে উগান্ডিনি হতে চাই না আমি
.
রুপা চকলেট মুখে দিয়ে বললো কিরে আহানা? উগান্ডার বউ বুঝি উগান্ডিনি হয়
.
হুম😒মিলাই নিলাম আর কি
ভার্সিটিতে ছুটি হতেই আহানা হাঁটা শুরু করে দিলো জলদি অফিসে তাড়াতাড়ি পৌঁছানোর জন্য,অনেকদূর এসে হাঁপিয়ে গেলো,আর হাঁটতে পারতেসে না সে
শান্ত বাইক নিয়ে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো,পথে দেখলো আহানা থেমে আছে,কোমড়ে হাত দিয়ে হাঁপাচ্ছে
.
কি হলো আহানা ম্যাডাম?কম বয়সে কোমড়ে ব্যাথা শুরু হয়ে গেলো নাকি আপনার?
.
চুপ!জোরে জোরে হেঁটে আসায় হাঁপিয়ে গেছি
.
আমার জন্য ওয়েট করতে পারো না?
.
কেন ওয়েট করবো?আপনার তো কত কাজ থাকে
.
কি মিন করতেসো এটা বলে?আমি তোমার লেখা নোট তমালকে দিতে গেছিলাম তাই লেট হইসে আর কিছু না
.
হুহ!
.
নাও উঠো বাইকে,এখান থেকে অফিস দূরে আছে
আহানা শান্তর পাশে উঠে বসলো
.
কাঁধ ধরার জন্য কি আপনার কাছে এপ্লিকেশন এপ্লাই করতে হবে?
.
ধরতেসি ধরতেসি!ওড়না ঠিক করতেসিলাম
.
ফাইন
.
অফিসে আসতেই বেবি শান্তর হাত ধরে দূরে নিয়ে গেলো,এমন ভাবে কথা বলছে যেন ওর বিএফ
.
শান্ত কাঁচুমাচু করতে করতে আহানার দিকে চেয়ে হেল্প চাইলো ইশারা করে
.
আহানা দুষ্টুমি করে নিজের কাজে মন দিলো,এমন ভাব করলো যেন শান্তকে সে দেখতেই পেলো না
.
ববি ঠিক হয়ে দাঁড়াও
.
কেন?আমার ছোঁয়া কি তোমার ভাল্লাগতেছে না?
না আসলে এমন করিও না,আমরা তো কলিগ ছাড়া কিছুই না তাই না?
.
কাম অন শান্ত,কাউকে ভয় পাচ্ছো?নাকি রিলেশনে যেতে ভয় পাচ্ছো?কোনটা?
.
শান্ত বারবার আহানার দিকে তাকাচ্ছে আহানা হেসে হেসে কম্পিউটারে কাজ করছে,শান্তকে এমন অসহায় দেখে এত ভালো লাগতেসে বলে বুঝানোর মত না,হিহিহি
.
শান্ত বেবিকে সরিয়ে এগিয়ে আসলো আহানার দিকে
এই আহানা তোমাকে ডাকতেসি শুনো না?
ওহহ তাই?ডাকতেছিলেন বুঝি?
.
আহানা আজ তোমার মাথার চুল একটাও তোমার মাথায় থাকবে না বলে দিচ্ছি
.
ইহহহ রে আমি ভয় পাই গেসি😼
তুমি আমাকে ববি থেকে সেভ করবা না?
.
নাহ,আমার ঠ্যাকা পড়ে নাই!
.
তাহলে আজ তোমাকে আমি মাঝপথে নামাই দিব
.
দিয়েন
.
ভয় করছে না তোমার?
.
নাহ তো
শান্ত রেগে পানির বোতল নিয়ে পানি খেয়ে চেয়ার টেনে ধুপ করে বসে পড়লো
হাত দিয়ে তার খয়েরী সিল্কি চুল গুলো কপাল থেকে সরিয়ে পিছনের দিকে নিয়ে গেলো,আহানার দিকে তাকিয়ে পকেট থেকে একটা সেন্টার ফ্রেশ নিলো
.
আহানা!!
.
আহানা শান্তর দিকে তাকালো,শান্তর চোখেমুখে শয়তানি হাসি
কিছু একটা করবে,কিন্তু কি করবে সেটা বুঝতেসি না আমি,কি করবে?
.
শান্ত হেসে দিয়ে বললো আরেহহ আহানা তোমার ওড়না পড়ে গেছে
.
আহানা হা করে নিজের দিকে তাকালো,সাথে সাথে শান্তর ওর মুখের ভেতর সেন্টার ফ্রেশ ঢুকিয়ে দিলো
আহানা মুখ বাঁকিয়ে ফেলতে গিয়ে দেখলো ক্লিনার রুম ক্লিন করতেসে,অফিসের এই লোকটা পরিষ্কার করে সবসময় কাউকে কিছু ফেলতে দেখলে চোখ এত বড় করে মনে হয় খুন খারাবি হয়ে যাবে,রক্তা রক্তি হয়ে যাবে
আহানা তাকে দেখে মুখ থেকে চুইংগাম ফেললো না
উঠতে গেলো শান্ত ওর হাত মুঠো করে চেপে ধরে ফেলেছে,উঠতেও পারতেসে না সে
হুহাহাহাহাহহুহাহহাহা!
.
স্টুপিড! হাত ছাড়ুন বলতেসি,আমার বমি আসতেসে,আমি এই চুইংগামটা ফেলবো
.
ফেলো না,আমি কি মানা করসি?
.
👿
.
আহানা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে,মাথা ঘুরাচ্ছে,শরীর খারাপ করছে
.
শান্ত যখন দেখলো আহানা আর হাত ছাড়ানোর জন্য মুছড়াচ্ছে না তখন তার দয়া হলো,হাত ছেড়ে দিলো
সাথে সাথে আহানা দৌড় দিলো বাথরুমের দিকে
.
অফিসে ফিরে রাগে গজগজ করতে করতে সিটে এসে বসলো আহানা
শান্ত কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনছে আর কাজ করতেছে
.
শান্ত!!
.
শান্ত চমকে ইয়ারফোন খুলে ফেললো
পাশেই বেবি হেলেদুলে কথা বলতেসে
.
শান্ত বিরক্তি নিয়ে বললো কি??
.
তুমি আমাকে avoid কেন করতেসো??
.
শুনো ববি,একটা সত্য তোমার জানা উচিত
.
ববি না বেবি
.
আচ্ছা বেবি,আমি বিবাহিত,আমার ওয়াইফ আছে
কথাটা আহানার দিকে চেয়ে বললো শান্ত
.
আহানা চোখ তুলে ওদের দিকে চেয়ে আছে,ডাহা মিথ্যা বললো,তাও এই মেয়েটাকে সরানোর জন্য
কিহহ কি বললে তুমি?
.
ইয়াহ এটাই সত্যি,এমনকি আমার ২বছরের একটা ছেলেও আছে
.
হোয়াট!না আমি বিশ্বাস করি না,তুমি তো ভার্সিটিতে পড়ো তুমি কিভাবে বিবাহিত হতে পারো,এটা মিথ্যা
.
আরে না, পালিয়ে বিয়ে করসিলাম তো তাই এত আর্লি হয়ে গেসে
.
ওহ😒তার মানে তুমি সেকেন্ড হ্যান্ড!!!
.
বেবি হনহনিয়ে চলে গেলো,আহানা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে,হাহাহা,মিঃ অশান্তর নিউ একটা নাম হইসে,সেকেন্ড হ্যান্ড!😂
.
আহানা চুপ করো,তাহলে তুমিও সেকেন্ড হ্যান্ড!
.
কেন কেন,আমি কেন,আমি তো বিবাহিত না
.
বিয়ে হলেই সেকেন্ড হ্যান্ড হয় তার আগে না এই ভুল তথ্য কে দিলো তোমায়?
.
মানে!
.
শান্ত মুচকি হেসে জিভ দিয়ে ঠোঁটটা ভিজিয়ে নিলো
ইয়ারফোন কানে গুজতে গুজতে বললো কিস করলেই সেকেন্ড হ্যান্ড হয়ে যায় বুঝছো আমার পাতানো বউ
.
আহানা চোখ বড় করে রেগে গিয়ে শান্তর গায়ে দুম করে কিল বসিয়ে দিলো
বেয়াদ্দপ কোথাকার!
শান্ত আহানার চুল টেনে দিলো
.
আহানা এবার শান্তর জ্যাকেট টেনে এলোমেলো করে দিলো
.
শান্ত হাত নিয়ে আহানার ওড়না ধরতে যেতেই হাত সরিয়ে ফেললো
আহানা গায়ে হাত দিয়ে চুপ করে তাকিয়ে থেকে রেগে রেগে বললো তো এখন আপনি আমার গায়ে হাত দিবেন?
.
তুমি প্রথমে আমার গায়ে হাত দিসো
.
তো তাই বলে আপনি এভাবে আমার ওড়না ধরতে আসবেন?
.
আমি ভুলে গেসিলাম তুমি মেয়ে, ওকে ফাইন সরি
.
হুহ
.
শান্ত কম্পিউটারে একটা ফাইল ওকে করে আহানার দিকে চেয়ে বললো যদি আর একদিন জ্যাকেটে হাত দিসো তো তোমার গায়ে তোমার ওড়না থাকবে না
.
আহানা চোখ তুলে বললো কিহহহহ,আপনার এত বড় সাহস আপনি….
.
চুপ!যখন ওড়না ছিনিয়ে নিব তখন এসব বলিও, ওকে?
.
বেয়াদব একটা!
.
তুমিও বেয়াদব
.
আপনি বেয়াদব
.
শান্ত রেগে আহানার চুল ধরে টেনে দিলো,আহানা শান্তর হাতে তার নখ ঢুকিয়ে দিলো
.
আউচচচ
.
শান্ত এবার আহানার মাথার চুল থেকে হাত নামিয়ে আহানার হাত ধরে করচচচচ করে এক কামড় বসিয়ে দিলো
আউউউউউউউউ
.
রাফি স্যার দৌড়ে আসলো তার কেবিন থেকে
কি হলো?আহানা?এমন চিৎকার দিলে কেন?কি হয়েছে?
.
আহানা ওড়না দিয়ে হাত লুকিয়ে বললো তেলাপোকা দেখসি তাই
.
ওহ,আমি তো ভাবলাম তোমারে তেলাপোকা কামড় দিসে
কথাটা বলে রাফি হেসে দিয়ে চলে গেলো
.
হিহি,মিঃ অশান্ত একটা তেলাপোকা
.
তুমি তেলাপোকি😂😁
.
জলহস্তিনী ঠিক ছিল,তেলাপোকি মানে কি আবার!
.
ও তুমি বুঝবে না,আমাকে যাই বলো না কেন তোমাকে বলার সময় (ই-কার বসিয়ে দিব)
.
ব্রেক টাইম শুরু হয়ে গেছে,আহানা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে চেয়ে আছে
.
হঠাৎ কেউ একজন পিছন থেকে হাত মুঠো করে ধরে টান দিলো
আহানা চমকে তাকালো সেদিকে
শান্ত হালকা করে হেসে বললো কি গো পাতানো বউ চলো ক্যানটিন যাই খাইতে
.
আমি যাব না,আর আপনাকে বলসি না আমাকে পাতানো বউ বলবেন না!
.
ওকে পাতানো বউ,চলো এখন
শান্ত আহানার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো ক্যানটিনের দিকে
তোমাকে ছাড়া কিছু খাওয়ার সময় মন বসে না আমার,কি খাবা বলো?
.
কিছু না
.
ওকে,ভাইয়া ২৯৯এর যে প্যাকেজ আছে সেগুলোর ২টা প্যাকেজ এই টেবিলে দিয়ে যান
.
আমি বলসি না খাব না
.
খেও না,বাসায় নিয়ে যাইও
.
শান্ত জ্যাকেটের চেইন খুলে গায়ে ফু দিতে দিতে বললো আজ এত গরম!
আহানা পিছনে চেয়ে দেখলো বেবি পায়ের উপর পা তুলে লিপস্টিক লাগাচ্ছে
আপনি অসভ্য একটা লোক,কিছুক্ষন আগে ওর থেকে ছাড়া পেতে বলেছেন আপনি বিবাহিত আর এখন ওরে দেখে বলেন আজ গরম!
.
শুনো অলওয়েজ এত নেগেটিভলি সব নিবা না,আমার সত্যি গরম লাগতেসে,ক্যানটিনের এসি নষ্ট দেখো না??আর আমি তো ববিকে দেখিও নাই
কথাটা বলে শান্ত ঠাস করে টেবিলে এক বাড়ি দিয়ে আরেকদিকে মুখ করে বসলো
.
ইহহ মিঃ অশান্ত রাগ করেছে!
.
তোমার সাথে কথা বলবো না যাও,খাবার এসে গেছে, খেয়ে যাও এখান থেকে
.
আমি না খেয়েই যাবো
আহানা উঠে চলে গেলো কথা শেষ করে
.
১০-১৫মিনিট হয়ে গেছে আহানা তমালের নোট কমপ্লিট করতেসে কেবিনে বসে বসে
শান্ত খাবার নিয়ে এসে আহানার সামনে চেয়ার টেনে বসলো
.
আমি বলসি না খাব না”
তুমি খাবে না তোমার ১৪গুষ্টি খাবে
শান্ত আহানার গাল টিপে ধরে এক লোকমা মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিলো
আহানা কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওর নাক টিপে ধরলো শান্ত,দম বন্ধ হয়ে আসতেসে তার,না চিবিয়েই গিলে ফেললো
.
শান্ত মুচকি হেসে ওর নাক থেকে হাত সরিয়ে ফেললো,আরেকটা লোকমা বানাতে বানাতে বললো আমি যখন মোহনগঞ্জে থাকতাম আমার এখনকার মা আমার বোন মিতুকে এমন করে খাওয়াতো,ও একদম খাবার খেতে চাইতো না,তাই নাক টিপে ধরতো ওর সাথে সাথে ও খাবার গিলে ফেলতো
.
তাই বলে আমাকেও এমন করে খাওয়াবেন?
.
তুমি নিজে খেলে তো আর আমার এত কষ্ট করতে হতো না
.
আচ্ছা দিন
.
আহানা খাবার হাতে নিতেই শান্ত উঠে দূরে জানালার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো,পকেট থেকে একটা সিগারেট নিয়ে ধরালো,এই ফ্লোরে এখন আহানা ছাড়া কেউ নেই তাই নিশ্চিন্তে সিগারেট খাওয়া যায়
.
আহানা খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে এসেছে
শান্ত সিগারেট হাতে রেখে সূর্যের সাথে ফোনে কথা বলতেসে,হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে
.
আহানা এই নিয়ে ৩বার তাকালো,ঐদিন সিগারেট খেয়ে অবস্থা খিঁচুড়ি হয়ে গেলেও টেস্টটা ভালই লেগেছে,আরও একবার খেতে পারলে মন্দ হতো না
আহানা এগিয়ে কাছে এসে দাঁড়ালো,এদিক ওদিক তাকালো,কেউ নেই,আর ৫/৬মিনিট পর সবাই ফিরে আসবো কেবিনে,এর ভিতরই যা করার করে ফেলতে হবে
.
আহানা ছোঁ মেরে সিগারেটটা নিয়ে নিলো,,শান্ত সূর্যর সাথে কথা বলায় ব্যস্ত থাকায় টেরই পেলো না যে তার হাতের সিগারেট গায়েব হয়ে গেছে
আহানা সিগারেটটা মুখে দিয়ে পরপর ২টান দিলো তারপর হা করে ধুঁয়া বের করে হাসতে হাসতে আরেকবার মুখে দিলো এবার মনে হচ্ছে মুখের সাথে সাথে চোখ ও জ্বলে যাচ্ছে
আহানা সিগারেটটা ফেলে কাশতে কাশতে চেয়ারে বসে পানির বোতল খুঁজতেসে
.
শান্ত ফোন রেখে হাতে চেয়ে দেখলো সিগারেট গায়েব,ফ্লোরে পড়ে আছে বাকি অংশ আর আহানা হাত দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে কি যেন খুঁজতেসে
আহানা?তুমি আমার সিগারেট নিসো কেন?মুখে দিসো আবার?
আহানা পানি খুঁজেই পাচ্ছে না,এক বোতল পানি ছিল,খাবার খেয়ে সব শেষ করে ফেলসে
.
শেষে শান্ত ক্যানটিন থেকে পানি নিয়ে ফিরে আসলো
ওর হাতে দিয়ে ওর মুখের দিকে চেয়ে দেখলো চোখ মুখ লাল অজগর হয়ে আছে
নাকের নিচে লাল লাল কি যেন দেখা যাচ্ছে,শান্ত আহানার মুখ টিপে উল্টিয়ে ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে দেখলো রক্ত,আর কিছুক্ষন হলেই গড়িয়ে পড়বে
শান্ত মহা চিন্তায় পড়ে গেলো,আহানাকে বকবে কি নাকি মারবে তা সব একপাশে রেখে ড্রয়ার থেকে টিসুর
বক্স নিয়ে আহানার মুখ টিপে রক্ত গুলো মুছে নিলো তারপর ব্রু কুঁচকে আহানার গালে চড় মারার জন্য হাত উঠালো,আহানা চোখ বন্ধ করে ফেলেছে ভয়ে
.
তোমার কি মাথা গেছে?ঐবার সিগারেট খেয়ে কি হয়েছিল তোমার মনে নেই?আজ আবার সেই ভুল করলে,হলো তো এবার? রক্ত বের হচ্ছে নাক দিয়ে,শান্তি হইসে তোমার?কেমন করে খেয়েছো সিগারেট যে নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এসে গেছে
.
আমি আসলে ধোঁয়া নাক দিয়ে বের করতে চাইসিলাম,অনেকেই নাক দিয়ে বের করে তো তাই,experience নেওয়ার জন্য এমন করসি
তাই?তাই বলে তুমি ছেলেদের মতো করতে চাইবা?বারবার ভুলে যাও কেন যে তুমি মেয়ে,তোমাকে এসব স্যুট করবে না,বুঝো না কেন,নাকি বুঝার চেষ্টা করো না তুমি!বেয়াদব মেয়ে কোথাকার!
আহানা চোখ মুছে কম্পিউটার অন করলো,সবাই এক এক করে আসতেসে অফিসে,যে যার কেবিনে বসতেসে
শান্ত শক্ত হয়ে তার কাজ করে যাচ্ছে
আহানা হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে কাজ করতেসে
.
বোকা মেয়ে একটা,একটু জ্ঞান বুদ্ধি যদি থাকত তো দ্বিতীয় বার সিগারেট খাওয়ার সাহস করত না
.
অফিস ছুটি হওয়ার পর আহানা গুটিগুটি পায়ে নিচে নেমে রোডের সামনে দাঁড়িয়ে শান্তর জন্য অপেক্ষা করছে
.
শান্ত বাইক নিয়ে এসে বললো তোমার কি খিধা পেয়েছে?
.
নাহ কেন?
.
তাহলে চলো এক জায়গায় যাব
.
কোথায়?
.
গেলেই দেখবে
.
আহানা চুপ করে বাইকে উঠে বসলো
কিছুক্ষন নিরবতা পালন করে বললো আমরা কই যাচ্ছি?
.
তোমার বেস্টুর বাসায়
.
রুপা?কিন্তু কেন?
.
আজ ওকে দেখতে আসবে ছেলে পক্ষ
.
কিহহহহ!ও আমাকে বলেনি কেন,আর নওশাদ ভাইয়া?
.
আরে তোমাকে কি বলবে?নওশাদ খবরটা মাত্রই জানছে,সে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে রুপার ফ্যামিলিকে বুঝানোর জন্য
.
তো আমরা কি এখন তাদের মানাতে যাচ্ছি?
.
হুমম,আমি তোমাকে নিতেছি কারন তুমি রুপাকে চিনো,সব কিছু জানো
.
আরে উনারা আমাদের কথা কেন শুনতে যাবে.?
চুপ করো তো এত প্রশ্ন করে মাথা খাইও না আমার
.
আহানা তো ভেবে যাচ্ছে রুপা ওরে এতবড় কথা জানালো না কেন!
রুপাদের বাসায় এসে আহানা ঢুকতে যেতেই শান্ত ওর হাত ধরে থামিয়ে দিলো
.
আহানার ওড়না টেনে ওর মাথায় ঘোমটা দিয়ে দিলো
.
শুনো তুমি বলবা আমি তোমার স্বামী,ওকে?
.
কিহ,কিন্তু কেন?
.
আরে নাহলে অবিবাহিত ছেলে মেয়েদের বাংলাদেশি পরিবারের লোকেরা বাচ্চা ভাবে,বুঝছো??বিবাহিত শুনলে আমাদের কথায় গুরুত্ব দিবে
.
😒তাই বলে এত বড় মিথ্যা?
.
ওকে আমি রুপাকে বলতেসি তুমি ওকে হেল্প করতে চাও না
আহানা শেষে রাজি হলো,কলিংবেলে চাপ দিলো শান্ত,একজন ভদ্রলোক এসে দরজা খুলেন
সম্ভবত রুপার বাবা হবেন
.
আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল
.
ওয়ালাইকুম আসসালাম,তোমরা কারা ঠিক চিনলাম না
.
আমি নওশাদের বড় ভাই শাহরিয়ার শান্ত আর এ আমার ওয়াইফ আহানা ইয়াসমিন
নওশাদ কথা শুনেই উনার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো,ব্রু কুঁচকে ভিতরো চলে গেলেন
.
এই হলো তো?মিথ্যা বলায় এখন হলো তো?বাসায় ও ঢুকতে দেয়নি
.
শান্ত দাঁতে দাঁত চেপে আহানার চুল টেনে বললো চুপ থাকতে পারো না তুমি?
.
লোকটা আবার ফেরত আসলেন সাথে একজন বয়স্ক মহিলা আনলেন,রুপার দাদি মনে হয় উনি,লোকটা শান্ত আর আহানাকে ভিতরে আসতে বলে নিজে সোফায় বসলেন
শান্ত আর আহানা বয়স্ক মহিলাকে সালাম দিয়ে সোফায় বসলো
.
আমরা নওশাদের ব্যাপারে জানি,তো তোমরা এখন কি বলতে এসেছো?
.
আমি বলতে এসেছি নওশাদ আমার ছোট ভাই,ওরে আমি চিনি,ও রুপাকে অনেক ভালোবাসে,রুপাও ভালোবাসে তাহলে আপনি কেন এখন রুপাকে আরেকটা ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন?
.
নওশাদ কোনো চাকরি করে??বলো
.
করে না তো করবে,নওশাদের পড়ালেখা অনেক ভালো,ও অনেক ভালো একটা চাকরি পাবে
.
পরেরটা পরে,এখন তো করে না,আর আমি আমার মেয়েকে এখনই বিয়ে দিব,ছেলে পক্ষ কিছুক্ষন পর আসবে,আপনারা আসতে পারেন এখন!
.
শান্ত আহানাকে এক খোঁচা দিলো,কিছু বলার জন্য
.
আহানা দাঁত কেলিয়ে বললো কিন্তু আঙ্কেল রুপা তো প্রেগন্যান্ট,নওশাদের বাচ্চার মা হতে চলেছে
.
শান্ত চোখ কপালে তুলে আহনাার দিকে তাকালো
রুপার বাবা সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন
.
কি বললে?এটা মিথ্যা কথা
.
এটাই সত্যি আঙ্কেল
.
শান্ত ফিস ফিস করে বললো এসব কি আজগুবি কথা বলে যাচ্ছো মাথা গেছে তোমার?
আরে ওরা ঐদিন রুমডেট করসে বলছেন না,তো এতদিনে তো প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়ারই কথা তাই না,আর এটা বলায় উনি বিয়ে দিতে বাধ্য হবেন!
.
রুপা!!রুপা!!এদিকে আয়
.
রুপা একটা মেরুন রঙের শাড়ী পরে রেডি হয়ে রুমে বসে ছিলো বাবার চিৎকারে দৌড়ে এসে আহানা আর শান্তকে দেখে চমকে উঠলো
.
রুপার বাবা হাত উঠালেন রুপাকে মারার জন্য
.
আরে আরে আঙ্কেল!!গর্ভবতী নারীর গায়ে হাত তুলে গুনাহর ভাগীদার হবেন না
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৩১+৩২
আহানার কথায় বাবা হাত থামিয়ে হনহনিয়ে বাসার ভেতর চলে গেলেন,বয়স্ক মহিলাটি মনে হয় কানে শুনে না,একবার আহানার দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার শান্তর দিকে,আবার রুপার দিকে তাকাচ্ছে,মাঝে মাঝে তাকানো বাদ দিয়ে তফসি পড়তেসেন,কোনো রিয়েক্ট করতেসেন না,তার মানে উনি কিছুই শুনেন নাই
