প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৩৫+৩৬
Afnan Lara
এসব কি বলতেসে বাবা??মানে টা কি
আর বাবা এভাবে চলে গেলেন কেন??
তোমরা কি বলেছো বাবাকে?
.
শান্ত কিসব ভাবতে ভাবতে সোফায় বসে পড়লো
.
আহানা দাঁত কেলিয়ে বললো আমি তোর বাবাকে বলে দিসি তুই প্রেগন্যান্ট 😎
.
হোয়াট!!তোর মাথা ঠিক আছে তো?কি বলিস এসব
এমন করিস কেন, আজ নাহয় কাল তো প্রেগন্যান্ট হবিই তাহলে এত টেনসন কিসের আর তুই এ তো বলছিস রুমডেট করছস তাহলে তো প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়ার চান্স আছে
.
মানে টা কি,এটা বলার আগে একবারও আমাকে জিগাইছোস তুই?
নওশাদ আমাকে ৭২ঘন্টার ইমারজেন্সি একটা পিল এনে দিসিলো,ওটা খাইসি আমি,আমি প্রেগন্যান্ট হবো না
.
আহানা চোখ বড় করে শান্তর পাশে বসে গেলো
.
হলো তো?হুদাই এত বড় মিথ্যা বললে তুমি
.
তোরে আজ পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে আমাকে বলিস নি কেন?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
কি করে বলবো,বাবা আমার ফোন নিয়ে গেছে
পরে মায়ের ফোন থেকে লুকিয়ে নওশাদকে বলেছি আমি
.
শান্ত আহানার কাঁধ ঝাঁকিয়ে ব্রু কুঁচকে বললো এখন কি করবা?
.
প্রেগন্যান্ট হয়নি তো হয়ে যাবে
.
মানেহহহহ!
.
মানে আবার রুমডেট কর তোরা তাহলেই হবে,আপাতত আমি তুই নওশাদ আর শান্ত ভাইয়া সত্যিটা জানবো আর কেউ না,সবাই জানবে তুই প্রেগন্যান্ট
.
এক মিনিট আমি তোমার ভাইয়া না ওকে?
.
তো কি?
.
পাতানো বর
মানে?পাতানো কি আবার?তোরা কি বলিস এসব??
.
আমাকে আর কোনোদিন ভাইয়া ডাকবা না,নাহলে তোমার চুল ছিঁড়ে ফেলবো আমি
.
আপনি আমাকে পাতানো বউ ডাকবেন না একদম নাহলে আপনার গাল টেনে ছিঁড়ে আপনার হাতে ধরাই দিব আমি
.
কি বললে!!
শান্ত এগিয়ে এসে আহানার চুল এলোমেলো করে দিলো
আহানা রেগে শান্তর গাল ধরে টেনে ওকে বাঁকিয়ে ফেলে সোফার সাথে লাগিয়ে ধরলো
.
শুরু হলো মারামারি হানাহানি
.
রুপা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বক্সিং শো দেখতেসে,শেষে মাথায় হাত দিয়ে সোফায় ধপ করে বসে পড়লো,ল্যান্ডলাইন থেকে নওশাদকে কল দিলো
.
হ্যালো রুপা?শান্ত সব সামলিয়েছে তো?
তুমি আর কাউকে পেলে না আমার বাসায় পাঠানোর জন্য?শুধু শান্ত ভাইয়া হলেও এক কথা ছিল,সাথে আহানাও আসছে এখন দুজন মিলে মারামারি করতেসে,আমার বিয়ে কি আটকাবে তাদের ঝগড়া কেমনে আটকাবো আমি সেটাই ভাবতেসি এখন
.
দাঁড়াও আমি আসতেসি,তুমি ওদের দুজনকে একটা রুমে লক করে রাখো নাহলে আমাদের আর এ জীবনে বিয়ে করা হবে না
.
আচ্ছা
.
আহানা!!শান্ত ভাইয়া!!
.
কি?
.
তোমরা চলো আমার রুমে কথা আছে
.
রুপা দুজনকে টেনে হিঁচড়ে ধাক্কা মেরে রুমে ঢুকিয়ে দরজা লক করে দিলো
.
এই রুপা তুই দরজা আটকাইছিস কেন বেয়াদব!!দরজা খোল,রুপা!!
.
রুপা??তুমি দরজা লাগাইসো কেন?
সরি শান্ত ভাইয়া,নওশাদ বলসে আপনাদের খাঁচায় বন্দি রাখতে নাহলে দুজন একসাথে একজন আরেকজনকে মারতে মারতে আশেপাশের জনগণরেও ধরি পিটাবেন
.
আহানা!সব তোমার কারণে হইসে
.
আজব তো আমি কি করসি,আপনিই তো আগে আমার চুল টেনে দিসেন,নাহলে কি আমি দিতাম?
.
চুল টানছি তো কি হয়েছে,তোমার সাহস হয় কেমনে আমাকে ভাইয়া বলার
.
তো আপনি ভাইয়া নয়ত কি,চাচা জেঠা??
.
এই খবরদার আমাকে চাচা ডাকবা না
.
আপনি আমার চুল না টানলে এত কিছু হতো না
.
চুল টানসি বলে তুমি পাল্টা আমার গাল টানছো কেন?
নওশাদ প্লিস তাড়াতাড়ি আসো,ওরা আমার রুমকে উল্টায় ফেলতেসে,মারামারি করতে করতে সব ধুমধাম করতেসে.জলদি চলে আসো প্লিস
.
আমি আসতেসি,তুমি এক কাজ করো ঐ রুমের লাইট অফ করে দাও,অন্ধকারে তো আর মারামারি করবে না
.
রাইট!বাট লাইট অফ করতে হলে তো রুমের ভিতরে ঢুকতে হবে,এখন কি করবো?
.
তুমি বাসার কারেন্টের মেইন লাইট অফ করে দাও তাহলেই হবে
.
আচ্ছা ভালো বুদ্ধি
রুপা গিয়ে মেইন সুইচ অফ করে দিলো
আহানা শান্তর চুল টানতেছিলো আর শান্ত আহানার কান টানতেছিলো কারেন্ট চলে যাওয়ায় দুজনে ২০সেকেন্ড চুপ করে থাকলো
.
যাক বাবা দুজনে ঝগড়া থামিয়েছে,বাঁচলাম!!
.
সব আপনার কারণে হচ্ছে
না আপনি আমাকে এখানে আনতেন না এত কিছু হতো
এই শুনো,সব তোমার বেস্টুকে বাঁচাতে করতে হচ্ছে
.
নওশাদ ভাইয়া আপনার বেস্টু না?
.
তো,আগে তোমার বেস্টু রুপা
.
না আগে নওশাদ ভাইয়া
.
খোদা!!!অন্ধকারেও মানুষ কেমনে ঝগড়া করতে পারে!!নওশাদটা কখন আসবে,আমার তো মনে হচ্ছে এটম বোম ব্লাস্ট হতে আর বেশি দেরি নাই
.
বাসার পাশ দিয়ে দুটো বিড়াল হেঁটে যাচ্ছিলো,আহানা শান্তর মত তারাও একে অপরের সাথে ঝগড়া করতেসে
তাদের চেঁচামেচিতে আহানা ভয় পেয়ে শান্তর চুল টানা রেখে ওরে চেপে ধরলো
.
হিহি,আহানা ম্যাডাম আপনার ভয় লাগছে বুঝি?
.
ওটা কিসের আওয়াজ?
.
আহানা আর শান্তর বিড়াল ভার্সন😂
.
ওহহ😒
আহানা পা টা একটু পিছতেই নিচে থাকা একটা কার্পেটে তার পা লাগলো,এমনিতেও মনের মধ্যে ভয় কাজ করতেসিলো বিড়ালের চিৎকার চেঁচামেচিতে
হঠাৎ পায়ে কার্পেট লাগায় ভয় পেয়ে পড়ে যাওয়ার সময় আহানা শান্তর জ্যাকেট টেনে ধরলো
.
শান্ত অন্ধকারে কিছু বুঝে উঠতে পারলো না,দুম করে আহানাকে নিয়ে বেডের উপর গিয়ে পড়লো
.
আহানা যখন বুঝতে পারলো শান্ত তার গায়ের উপর তখনই চিৎকার করতে যেতেই শান্ত ওর মুখ চেপে ধরলো
.
শুনো,তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই ওকে?তুমি পড়ে যাওয়ার সময় আমাকে ধরতে গেসো কেন,পড়লে তো আর মরে যেতে না
.
কি বললেন?আপনাকে ধরসি আপনি আমাকে সেভ না করে উল্টা আমার গায়ে পড়লেন,আপনার মনে মনে শয়তানি জানি আমি!
.
কি বললে তুমি,নিজে আমাকে নিয়ে বেডে পড়ে এখন আমাকেই দোষ দিচ্ছো?
আহানা কিছু বলতে যাবে তার আগেই লাইট জ্বলে উঠলো
দুজনে দুজনকে এমন অবস্থায় দেখে শান্ত স্বাভাবিক ভাবে রিয়েক্ট করলেও আহানা ইয়া বড় এক চিৎকার দিলো
.
শান্ত সাথে সাথে কানে হাত দিয়ে উঠে গেলো বিছানা থেকে
.
আহানা চোখ বড় করে চেয়ে আছে ওর দিকে
.
এত চেঁচাও কেন তুমি?
.
আপনার লজ্জা করে না এতক্ষন এই অবস্থায় থাকার পরেও?
.
কেন লজ্জা করবে,আমি কি তোমাকে টাচ করসি?একবারও?
.
দরজা খুলে নওশাদ আর রুপা ঢুকলো তখনই
.
কিরে শান্ত তুই কি বাচ্চা?এমন ঝগড়ুটে তো তুই ছিলি না,এখন এত ঝগড়া তোর আসে কই থেকে?
আহানা নাহয় ছোট তাই ঝগড়া করে আর তুই?তোর ঝগড়া করা খাটে না
রুপা পাগল হয়ে তোদের রুমে বন্ধ করসে,এমন করিস কেন?তোকে এ জন্যে পাঠিয়েছি আমি?
.
শুন,আমি সুন্দর করে হ্যান্ডেল করসিলাম ব্যাপারটা আহানা মাঝখানে দিয়ে বলে দিলো রুপা প্রেগন্যান্ট!
যা বলসে ভালো বলসে,এতে করে আঙ্কেল কোনো উপায় না পেয়ে রাজি হবেই
আহানা থ্যাংকস
.
আহানা দাঁত কেলিয়ে বললো হুহহহ সবাই তো সব কিছু পারে না,এসব শিখার জন্য ম্যাচুরিটি থাকা লাগে,কিছু কিছু বুইড়া খাটাশ এসব পারে নাহ
.
কি বললে?আমি বুইড়া খাটাশ??
শান্ত এগিয়ে গেলো আহানার চুল টানতে নওশাদ ওরে সামলিয়ে বাইরের দিকে টেনে নিয়ে গেলো
.
আহানা তোমারে ছাড়বো না আমি
.
ছাড়িয়েন না
.
এই আহানা চুপ কর,এত বড় একটা ছেলের সাথে সারাদিন ঝগড়া করতে তোর শরম করে না,ভয় করে না?
.
বাদ দে,উনি হুদাই এমন করে সবসময়,আমি কিছু করি না
.
জানি আপনি কি করেন আর না করেন,এখন চলেন
আচ্ছা আঙ্কেল আপনি নওশাদকে ১টা মাস টাইম দেন,নওশাদ একটা ভালো জব পেয়েই রুপাকে বিয়ে করে নিবে
.
রুপার বাবা চুপ করে থেকে বললেন পরের সপ্তাহে নওশাদ যেন তার ফ্যামিলিকে নিয়ে আসে
.
নওশাদ তো খুব খুশি,হ্যাঁ বলে দিলো
.
বাসা থেকে বেরিয়ে খুশিতে লাফিয়ে উঠলো সে
.
থ্যাংকস ভাই,বোন তোমাদের কারণে আমি রুপাকে আমার করে পাবো,থ্যাংকস এ লট
আহানা সেই কখন থেকে বাইকে উঠে বসে আছে,শান্ত নওশাদের সাথে কথা বলতেসে দূরে দাঁড়িয়ে
রুপাদের বাসাটা সুন্দর,রুপার বাবা রুপাকে কত ভালোবাসে,ওদের ভালোবাসাটা মেনে নিয়েছে,বিয়েও দিবে বলসে
ওদের এখন বিয়ে হবে,কত খুশি রুপা
আহানা আকাশের দিকে তাকালো,আমার বিয়ে হবে কিনা আমি সেটাই জানি না,বিয়ে দিতেও তো একটা পরিবার লাগে,বাবা মা ভাইবোন লাগে,আর আমার তো!
তার মানে আমার বিয়ে হবে না কোনোদিন,,হবে না কি বলছি আমাকে কে বিয়ে করবে??একটা অনাথ মেয়েকে
যার না আছে রুপ না আছে টাকা পয়সা না আছে যোগ্যতা,অবশ্য বিয়ে ছাড়াও জীবন কাটানো যায়,আমি নাহয় আজীবন কুমারি থেকে যাবো
একটা দিনের কথা মনে পড়ে গেলো,মীম আপুদের বাসার সকল বাজার,সব কাজ করে একটা ছেলে,নাম রাকিব,তার সাথে আমার বিয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল মীম আপু,তার মতে আমার আর সেই ছেলেটার পারফেক্ট ম্যাচ হবে
দুনিয়ায় যত ভালো ভালো পরিবার আছে তারা ভালো পরিবারের মেয়ের সাথেই তাদের ছেলের বিয়ে দেয়,তাই আমার জন্য মীম আপু সেই ছেলেটাকেই ভালো মনে করেছিল হয়ত,আমিও গরীব,সেও গরীব
মাঝে মাঝে হাসি পায় এই ভেবে যে মানুষ আমার জন্য কত ভাবে,তাদের ভাবনা শুনে হাসি পায়,কি দরকার এত ভাবার,আমি তো ভালো আছি,বিয়ে ছাড়াও একা জীবনে ভালো থাকা যায়
এবার বেতন পেলে তারেক আঙ্কেলকে মাসের বেতন দিব আর একটা পাঞ্জাবি কিনে দিব,আমার প্রথম সেলারি,অনেক খুশি হবেন,মীম আপু আর কনিকা আপুকে তো জামা কিনে দেওয়ার সাধ্য নেই,তাদের ছোটখাটো কিছু গিফট কিনে দিব,মাসের সদাই করতে হবে,আর ২টা জামা আর একটা শাড়ী কিনবো,রুপার বিয়েতে পরার জন্য,তার পরেও কিছু সঞ্চয় থেকে যাবে,ওগুলা জমা রেখে দিব,একদিন জমাতে জমাতে অনেক টাকা হবে,আমি একটা নিজের বাড়ি বানাবো,টিনের হলেও চলবে সেটা শুধু আমার বাড়ি হবে,২টো রুম থাকবে,একটায় আমি ঘুমাবো আরেকটায় রান্না করবো,একটা টিভি ও কিনবো,আমার টিভি দেখার শখ অনেক,বাজারের দোকানগুলোতে টিভি দেখলে মন চায় একটু গিয়ে দেখি কিন্তু!
থাক একদিন আমিও টিভি কিনবো
ওকে তুই বাসায় যা আমি আহানাকে ওর বাসায় দিয়ে এসে বাসায় ফিরবো
.
ঠিক আছে,বাই
.
শান্ত নওশাদকে বিদায় দিয়ে পকেট থেকে বাইকের চাবি নিয়ে আসতে আসতে দেখলো আহানা আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছতেসে
.
শান্ত থেমে গেলো,এসময়ে কাঁদতেসে কেন মেয়েটা,আমি তো কিছু বলি নাই,আগেও তেমন কিছু বলিনি তাহলে কাঁদে কেন!
এখন জিজ্ঞেস করলে কিছু বলবেও না,থাক অজানাই থাক
শান্ত বাইকে বসতেই আহানা চমকে কল্পনার রাজ্য থেকে বেরিয়ে ঠিক হয়ে বসলো
.
শান্ত চুপচাপ বাইক চালাচ্ছে,কিছু বলছে না,আহানাও বলছে না
বাইকের আয়নায় দেখা যাচ্ছে আহানা আকাশের দিকে চেয়ে আছে
.
আহানা জানো?
.
কি?
আমি আগে ভাবতাম আমি হাঁটলে আকাশের তারা চাঁদ ও হাঁটে আমার সাথে আর আমি থেমে গেলে তারাও থেমে যায়
.
আমিও সেটাই ভাবতাম
.
আমি এখনও ভাবি,ছোটবেলার কিছু কিছু ভুলধারনা ভুলেই থাকতে ভালো লাগে
আবার জানো আমি ভাবতাম টিভিতে যে শো দেখাতো সেখানের নায়ক নায়িকারা একটা জামার ভিতরে আরেকটা জামা পরে থাকতো,৫সেকেন্ডে তারা যেন জামা বদলাতে পারে,আমি বোকা জানতামই না যে ভিডিও কাট করা যায় ওরা জামা চেঞ্জ করার সময়টা কাট করে ভিডিও এডিট করা হতো
.
আহানা হেসে দিলো
.
শান্ত ও মুচকি হাসলো,আহানাকে সে হাসাতে পেরেছে
আহানাকে সব কিছুতে মানায় কিন্তু কান্নায় মানায় না,আহানাকে কাঁদতে দেখলে শান্তর বুকের ভেতরটা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়,সে সহ্য করতে পারে না আহানার চোখের পানি
সেদিন মোহনগঞ্জে রাতের বেলায় আহানার কান্নায় শান্ত নিজেকে অনেক কষ্টে সামলিয়েছিল শুধুমাত্র আহানাকে সামলানোর জন্য,কারণ সে নিজেও কাঁদলে আহানাকে সামলানো যেতো না
.
তোমার বাসা এসে গেছে
.
আহানা বাইক থেকে নেমে শান্তকে বাই বলে হেসে দিয়ে চলে গেলো বাসার ভেতর
কান্নার পরেও যে এমন হাসতে পারে তার মত কঠিন মানুষ আর নেই
আমি কান্নার পর হাসতে জানি না আর এই মেয়েটা জানে,একদিন শিখে নিব,ওর থেকে শেখার অনেক কিছু আছে
কিভাবে হাতে টাকা না থাকলেও গায়ের অলংকার বেচে চাল কেনা যায়,কিভাবে শুধু ভাত নুন খেয়ে মাস কাটানো যায়,কিভাবে ২টো জামা দিয়ে বছর কাটানো যায়,একটা ধুয়ে আরেকটা পরে
আয়না না কিনে লেকের পানিতে নিজেকে দেখার বুদ্ধি
মেকআপ না করেও মুখে হাসি নিয়ে নিজেকে সুন্দর রাখা যায়
মা বাবা ছাড়া নিজেকে নিজেই আঁকড়ে ধরে কিভাবে বাঁচা যায়
আমি তো মাকে ছাড়া অচল আর এই মেয়েটা কিনা মা বাবা ছাড়া দিন অতিবাহিত করছে হয়ত তাই সে কান্নার পরেও হেসে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে
শান্ত জ্যামে বসে এসবই ভাবতেছে,আহানা extraordinary একটা মেয়ে!!
একটা ফেরিওয়ালা পাশ দিয়ে যাচ্ছে,তার কাছে হরেক রকমের আয়না
শান্ত লোকটাকে থামতে বলে একটা আয়না পছন্দ করে কিনলো
এটা আহানাকে দিব,কিন্তু ও তো এমনি দিলে জীবনেও নিবে না,কি করা যায়!
.
পরেরদিন সকালে আহানা মিষ্টিকে পড়াচ্ছে,মিষ্টি বললো মিস আমি তোমাকে একটা জিনিস দিব তুমি নিবা?
.
আহানা হেসে বললো কি?
.
মিষ্টি তার পিছন থেকে লুকানো একটা আয়না বের করে আহানাকে দিলো
.
আহানা চমকে তাকিয়ে আছে আয়নার দিকে,এটা তো সেই আয়না যেটা সে ঐদিন পছন্দ করেছিল,টাকার জন্য কিনতে পারে নাই
.
তুমি এটা পেলে কই,আর আমাকে কেন দিচ্ছো?
.
মিস প্লিস এটা নাও,আমার তরফ থেকে গিফট
কিন্তু এটা
নাও না প্লিস,নাহলে আমি কেঁদে দিব কিন্তু
.
আহানা মিষ্টির মাথায় হাত বুলিয়ে আয়নাটা নিলো
.
মিষ্টি মুচকি হেসে চেয়ে আছে,শান্ত ওকে যা যা বলতে বলেছে ও ঠিক তেমন করেই বলেছে
.
আহানা বাসা থেকে বের হতেই শান্ত লুকিয়ে আহানার হাতের দিকে তাকালো,হাতে আয়না দেখতে পেয়ে খুশিতে লাফিয়ে উঠলো সে
আহানা আওয়াজ পেয়ে পিছনে তাকালো,শান্তর বাসার দরজা খোলা
.
শান্ত দরজার পিছনে লুকিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
.
আহানা কাউকে দেখতে না পেয়ে চলে গেলো বাসা থেকে,আজ ভার্সিটি অফ,শুক্রবার বলে
কিন্তু অফিস তো খোলা,১টা থেকে
.
আহানা বাসায় ফিরে সব পরিষ্কার করে নিলো,হাঁড়ি পাতিল মেজে রুমে আসলো হাত মোছার জন্য
তখনই আয়নার দিকে চোখ গেলো তার,এই প্রথম তার নিজের একটা আয়না হলো,নিজেকে আয়নার কাছে এসে দেখতেসে সে
কপালে পাতিলের কালি লেগে আছে,হাত দিয়ে মুছতে মুছতে ভাবলো পাতিল মাজার সময় লেগেছে হয়ত!
খুশি হয়ে আয়নাটা টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখলো,কি ভালো লাগতেসে আহানার,মিষ্টি খুব ভালো একটা মেয়ে,আমাকে গিফট করেছে তাও আমার পছন্দের একটা জিনিস,যেটার খুব দরকার ছিল আমার
ভাত চুলায় বসিয়ে আহানা টেবিলে বসে নোট কমপ্লিট করায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো
একেবারে ১২টার দিকে উঠে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হলো সে
এরই মাঝে ঘটে গেলো দূর্ঘটনা আর সেটা হলো স্লিপ খেয়ে পড়ে গিয়ে জুতা ছিঁড়ে গেছে
হাতে এক টাকাও নেই যে জুতাটা সেলাই করবে, আবার অফিস যেতেও দেরি হয়ে যাবে
জুতা বাসায় রেখে চুপ করে বসে রইলো কিছুক্ষন
বাসায় আহানা খালি পায়ে থাকে,সেন্ডেল কেনার টাকা তার হাতেই থাকে না কোনোদিন
যেখানে ৫০/৭০টাকায় চাল পাওয়া যাবে এক মাসের সেখানে সেই টাকা দিয়ে সেন্ডেল কেনার কি দরকার,খালি পায়ে থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে এখন,তাই কোনো উপায় না পেয়ে খালি পায়েই হাঁটা ধরলো সে
প্লাজো টেনে একটু নিচে নামালো যাতে পা দেখা না যায়
.
হেঁটে হেঁটে অফিসে আসলো সে,শান্ত কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতেসে
আহানা কেবিনে এসে বসতেই খেয়াল করলো বেবি আর আরও কয়েকজন মেয়ে হাসাহাসি করতেসে তার দিকে তাকিয়ে,এই হাসির কারন হলো আহানা খালি পায়ে এসেছে
একজন তো বলেই দিলো যে আহানা! আজ তুমি ভুলে জুতা ছাড়াই আসছো,হুস আছে তোমার?
আহানা চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে বসে রইলো
শান্ত কাজ করতে করতে বললো জুতা ভুলে রেখে আসার মত জিনিস না,কি হয়েছে সেটা বলো
.
নাহ সত্যি ভুলে গেছি
.
তো তাহলে চলো নতুন জুতা কিনবে
.
নাহ
.
শান্ত কিছু না বলেই আহানার ব্যাগটা ছোঁ মেরে নিয়ে নিলো
.
এই আপনি আমার ব্যাগ নিলেন কেন,দিন বলছি
.
ব্যাগে একটা রুমাল,এক বোতল পানি আর ৫০পয়সার একটা সিকি
.
শান্ত হেসে দিয়ে বললো ব্যাগে তো আহামরি কিছু নেই তুমি যেভাবে রনচন্ডী রুপ ধারণ করলা তাতে তো ভাবলাম সোনা রুপা লুকানো
আর এই ৫০পয়সার সিকি রাখসো কেন?
কোনোদিন যদি ৫০পয়সার আরেকটা সিকি পাই তাহলে এটা আর ওটা মিলে তো ১টাকা হবে তাই না?
.
হাহাহা!তোমার ধৈর্য্য আছে বলতে হবে আহানা,ও মাই গড!!
চলো জুতা কিনবা
.
টাকা নেই আর আমি আপনার থেকে টাকা নিব না
.
যখন বেতন পাবে তখন নাহয় দিয়ে দিও,এখন তো তোমার জুতা দরকার তাই না?
.
আহানা ভাবতে লাগলো, বেতন পেলে তো দিয়ে দিতে পারবো টাকা
ততদিন তো আর খালি পায়ে থাকা যায় না,হুম,আচ্ছা চলুন
অফিস শুরু হতে আর ৩০মিনিট বাকি,শান্ত আহানাকে নিয়ে বাটার একটা দোকানে আসলো,আহানার পায়ে হাত দিয়েই কর্মচারী চমকে বললো স্যার ম্যামের তো পা কাটা গেছে অনেকটা
.
না কাটা যায়নি,ইটের কণা ঢুকসিলো,ওটা ইটের কণার গুড়ো তাই রক্ত মনে হচ্ছে
শান্ত ছেলেদের জুতো দেখতেসিলো কর্মচারীর কথা শুনে কাছে এসে নিচে বসে আহানার পা ধরতে যেতেই ও পা সরিয়ে ফেললো
.
বললাম না ঠিক আছে,এই জুতাটা পছন্দ হইসে আমার,এটাই নিব,চলুন যাই
.
এই জন্যই তো ভাবি তুমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতেসিলা কি জন্যে!!
আমাকে বললে কি কেউ তোমাকে বকতো?আজব মেয়ে তো তুমি!
পা কেটে পায়ের ভিতরের মাংস দেখা যাচ্ছে আর উনি বলে ইটের গুড়ো,বোকা পাইসো আমাকে?
আচ্ছা ভাই আপনাদের কাছে ফার্স্ট এইড বক্স আছে?
নাহ,বাট এনে দিতে পারবো আপনি একটু বসেন
কর্মচারী চলে গেলো ফার্স্ট এইড বক্স আনতে
শান্ত আহানার দিকে এমন করে তাকালো মনে হয় এখনই কাঁচা গিলে খেয়ে ফেলবে
আহানা বিরক্তি নিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,জীবনে হাত পা কাটলে সে মলম লাগায় নাই এদিকে নজর ও দেয় নাই,এমনি এমনি ঠিক হয়ে যেতো আর এই লোকটা একটু কাটা গেলেই মলম নিয়ে হাজির হয়
শান্ত আহানাকে বকতে বকতে মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো পায়ে
নতুন জুতা বলে পায়ে দিয়ে হাঁটতে আহানার আরও বেশি কষ্ট হচ্ছে তাও চুপচাপ হাঁটছে
.
তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকো আমি বাইক আনতেছি অফিসের গ্যারেজ থেকে
.
একটু গেলেই তো অফিস,আবার বাইক লাগবে না,ঐ যে অফিস দেখা যাচ্ছে
.
তো তুমি কি চাও পা আরও কাটাতে??নাকি আমি তোমাকে কোলে নিতাম?সব আমার কোলে উঠার ধান্ধা! বুঝি বুঝি,সব বুঝি
.
শুনুন!উল্টা পাল্টা কথা বলবেন না একদম, ঠিক আছে বাইকে করেই যাব,যান এখন বাইক নিয়ে আসেন
.
শান্ত বাইকের চাবি হাতে নিয়ে ঘুরাতে ঘুরাতে হেঁটে চললো অফিসের দিকে
তারপর বাইক নিয়ে এসে আহানাকে নিয়ে অফিসে ফিরলো
.
ওকে গাইজ সবাই কাল তৈরি হয়ে থাকবে
আমরা সকাল ৮টায় কুমিল্লার জন্য রওনা হবো,সবাই ২দিনের জামাকাপড় নিয়ে বের হবা,ওকে?আর অবশ্যই ফাইল গুলো সাথে নিবা
.
ওকে জিসান স্যার!
আহানা?
.
কি?
.
শান্ত বললো কাল তুমি মিষ্টিকে পড়িয়ে আমার সাথে অফিসে যেও,তারপর সেখান থেকে আমরা অফিসের গাড়ীতে উঠবো,তুমি তো হাঁটতে পারতেসো না তাই
.
আপনি বাইক নিয়ে অফিসে যাবেন?তো আপনার বাইকের কি হবে?কুমিল্লা তো অফিসের গাড়ীতে যেতে হবে
.
আরে আমি আর তুমি রিকসা দিয়ে যাবো
.
ওকে
.
এই নাও ৫০টাকা
.
কেন?
.
মিষ্টিকে পড়াতে আসার সময় রিকসা নিও
.
আমি টাকা নিব না,হেঁটে আসতে পারবো
.
পরে টাকাটা দিয়ে দিও,তাহলেই তো হয়
.
😒ওকে,ধার কত টাকা হলো তাহলে?
.
জুতা ১০০,এখন ৫০,তুমি ১০০দিও
.
এক মিনিট!আমাকে বোকা পাইসেন?জুতা ১হাজার ৫০টাকা,আর এখন ৫০,তাহলে মোট হয় ১১০০ টাকা,আপনি মাত্র ১৫০পেলেন কই?
আরে আহানা ডিসকাউন্টে জুতা নিসি
.
তাই বলে ১০৫০টাকার জুতা ১০০তে দিয়ে দিবে?
.
তুমি জুতা কবে কিনসো মনে আছ তোমার?দোকানে ৯৯% ডিসকাউন্ট দিসিলো,সাইনবোর্ড দেখো নাই?
.
৯৯%ডিসকাউন্ট কেউ দেয়না,হয় ৫০% নাহয় ৪০% ,আপনি এত মিথ্যা কিভাবে বলেন?
.
আমি দেখসি সত্যি
আর তুমি আমাকে বেশি টাকা কেন দিতে চাচ্ছো,যত নিসে ততই দাও না
.
শুনুন,আমি দেখসি জুতার দাম ১০৫০,আর আপনিও এক হাজার টাকার নোট বের করসিলেন,সেটাও দেখসি আমি
.
তোহহহ?আমি তো জানতাম না ৯৯% ডিসকাউন্ট চলে,পরে ওরা আমাকে টাকা ফেরত দিয়া দিসে😁
.
আপনি একটা পাগল,আমাকেও পাগল বানাবেন!!
.
ব্রেক টাইমে আহানা তার কেবিনে বসে শান্তর দিকে চেয়ে আছে,শান্ত রিয়াজের সাথে কথা বলতে বলতে একবার এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে
আহানা শান্তকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছে,শান্ত আজ সাদা একটা শার্টের সাথে ব্লেক টাই পরেছে,কথা বলার মাঝে মাঝে চুলগুলো মাথা থেকে সরিয়ে এপাশ ওপাশ করছে,কত সুন্দর লাগতেসে,শান্তর ওয়াইফ অনেক লাকি হবে,তবে আবার কিসমত ও তার একটু খারাপ হবে কারন শান্ত অনেক ঝগড়ুটে,মাথা খাওয়ার মত ঝগড়া করে বেড়ায় সারাদিন,মাগো মা,আমি পাগল হয়ে যাই আর উনার ওয়াইফ তো মনে হয় ডেইলে ২বার জ্ঞান হারাবে ঝগড়া সহ্য করতে করতে
.
হাই!!!!
.
আহানা চমকে শান্তর থেকে চোখ সরিয়ে যে হাই বললো তার দিকে তাকালো,কোণার কেবিনের নিহাল এসেছে,নিহাল হাই বললো
.
আহানা আজ পর্যন্ত তার সাথে কোনো কথা বলেনি,এভাবে হঠাৎ হাই শুনে সে চমকে গেলো,ইতস্তত হয়ে বললো হ্যালো
.
কি খবর,অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছো যে?এনিথিং রং?
.
নাহ,কিছু না
.
শান্ত কথা বলতে বলতে আহানার দিকেও নজর রাখতেসিলো,নিহালকে আহানার পাশে দেখে ফোনে কথা বলা অফ করে এগিয়ে এসে আহানার পাশে ওর কেবিনে বসে গেলো
.
নিহাল শান্তকে হাই বলে,আবার আহানার সাথে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো
.
রিয়াজ!!কি সমস্যা তোর??বুক করা জিনিসে মাছির মত ভাগ বসাতে আসিস কেন?
কি সমস্যা তোর? তোর জন্য কি মেয়ের অভাব পড়সিলো?বেয়াদব!
দুম করে ফোন কেটে শান্ত ফোনটা রেখে সামনে তাকিয়ে দেখলো নিহাল চলে গেছে
আহানা মুচকি হেসে পানির বোতল নিয়ে পানি খাচ্ছে
শান্ত ব্রু কুঁচকে নিহালের চলে যাও দেখছে,কোথা থেকে এসব বিনা দাওয়াতে চলে আসে কে জানে!
.
কোথা থেকে কি যেন পোড়া পোড়া গন্ধ আসতেসে
.
😒কই আমি তো পাচ্ছি না
.
সর্দি লাগছে মেবি
.
হুম হতে পারে
.
অফিস ছুটির পর আহানা শান্তর বাইকে উঠতেই নিহাল বললো শান্ত তোমার কাজ থাকলে বলিও আমি আহানাকে ড্রফ করে দিয়ে আসবো
.
শান্ত হেলমেট পরতে পরতে বললো আমার কাজ তো শেষ আহানার যখন শেষ হয়েছে ঠিক তখন,সো ইউ ডোন্ট ওয়ারি
.
নিহাল মুখ বাঁকিয়ে চলে গেলো
আহানা মুখে হাত দিয়ে হাসতেসে
.
এই যে ম্যাডাম এত না হেসে আমাকে শক্ত করে ধরুন,নাহলে পড়ে যাবেন
.
আহানা হাত নিয়ে শান্তর কাঁধে রাখতে গিয়ে আগে হাত পড়লো শান্তর গলায়
.
শান্ত সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে হেসে বললো আহানা গলার উপরের পাশে একটু চেপে দাও তো,সকাল থেকে ব্যাথা করতেসে
.
আচ্ছা
আহানা সুন্দর করে মালিশ করে দিলো
.
থ্যাংকস এর জন্য আজ তোমাকে বাদাম খাওয়াবো
.
নাহ আমি বাসায় যাববো,হাঁটতে পারবো না আর
.
তোমার বাইক থেকে নামতেও হবে না,আর হ্যাঁ তোমাকে খাওয়ানোর এত শখ নাই আমার,আমি জাস্ট নিজে খাবো তো তাই বললাম তোমাকেও খাওয়াবো
না খেলে খেও না,আমি খাব,চা ও খাব তুমি চেয়ে চেয়ে দেখিও
শান্ত বাইক থামিয়ে গেলো বাদাম আনতে,বাদাম হাতে নিয়ে চায়ের দোকানে গিয়ে বললো চা বানাতে
বাদাম খাচ্ছে আর আহানার দিকে ফিরে বাদামে ফু দিচ্ছে
আহানা মুখ বাঁকিয়ে এদিক ওদিক দেখে যাচ্ছে
.
নাও বাদামের খোসা ছাড়িয়েছি,খাও এবার
আমার মা আমি রাগ করলে আমাকে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দিতো কারণ আমার বাদাম অনেক প্রিয়
খাবা নাকি নাক টিপে খাওয়াইতাম
.
আহানা শান্তর হাত থেকে বাদাম নিয়ে মুখে দিলো,পাশ দিয়ে একটা কাপল হেঁটে যাচ্ছিলো ফুটপাতের উপর দিয়ে
মেয়েটা ছেলেটাকে বললো দেখো মানুষের বিএফরা তাদের জিএফকে বাদামের খোসা পর্যন্ত ছিলে দেয় আর তুমি কিনা আমাকে আজ পর্যন্ত বাদাম ও খাওয়ালে না
.
ছেলেটা থতমত খেয়ে বললো আজই খাওয়াবো,এমনকি এখনই,ওয়েট বাবু
ছেলেটা বাদাম নিয়ে এসে তার জিএফকে বাদাম ছিলে দিতে লাগলো
.
আহানা হাসতেসে ওদের দিকে চেয়ে
.
শান্ত এবার গেলো চা আনতে,চা নিয়ে এসে আহানার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো
.
দুজনেই চায়ে চুমুক দিয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকালো
আমার চায়ে চিনি বেশি দিসে,আর তোমার?
.
আমার চায়ে চিমি কম দিসে
.
দাঁড়াও,আমি ঠিক করে দিচ্ছি
শান্ত তার চায়ের কাপের অর্ধেক চা আহানার চায়ের কাপে ঢেলে কাপটা ভর্তি করলো,আবার সেই কাপের চা আবার তার কাপে ঢেলে ঠিক করে নিলো
হুম এবার পারফেক্ট👌
.
চা খাওয়া শেষে দুজনে বাসায় ফিরে আসলো
আহানা জুতাটা খুলে খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে ভাত বসালো,খাওয়া শেষ করেই ঘুমিয়ে পড়লো সে,আজ খুব ঘুম পাচ্ছে,পায়ের ব্যাথার কারণে হয়তবা
সকালে অনেক কষ্টে উঠলো সে,ব্যাগে তার বাকি জামা,পানির বোতল,ফাইল,রুমাল আর ফোন নিলো
বাসা থেকে বের হতেই দেখলো রিকসা একটা দাঁড়িয়ে আছে
.
আহানা বললো যাবেন?
.
উনি বললো যাবে
.
আহানা চুপচাপ রিকসায় উঠে ভাবতে লাগলো তাদের এলাকায় সহজে রিকসা পাওয়া যায় না আর আজ কিনা ভোরবেলায় রিকসা পেয়ে গেলো
মিষ্টিদের বাসার সামনে এসে রিকসাআলাকে ৫০টাকা নিয়ে নামলো সে
তারপর এক ঘন্টা মিষ্টিকে পড়িয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে দেখলো শান্ত ব্যাগ নিয়ে বের হচ্ছে,ব্লু জ্যাকেট আর ব্লেক জিন্স পরেছে,চোখে সানগ্লাস,ব্যাগ বের করে আহানার দিকে চেয়ে মুচকি হাসলো সে
বাসা থেকে নেমে শান্ত একটা রিকসা নিলো,আহানা আগে উঠলো তারপর শান্ত,শান্ত উঠতেই আহানার মাথার সাথে দুম করে এক বাড়ি খেলো
.
আহহ মাগো,মাথা শেষ আমার!
.
একটু চেপে বসতে পারো না তুমি?
আর কত চাপবো??আপনার হাতের ফুলা ফুলা এগুলার কারণেই তো সরতে পারি না
.
ইউ মিন mussel?হাহা,তাহলে আহানা স্বীকার করতেসে যে আমার বডি আছে
.
এত কথা বলেন কেন আপনি?
.
মামা সোজা গিয়ে বাম পাশের গলি ক্রস করলে যে রেস্টুরেন্ট পড়ে,স্টার হোটেল,পপুলার হসপিটালের রাস্তার opposite পাশে ওটার সামনে দাঁড়াইও
.
রেস্টুরেন্ট কেন?
.
ওমা সকালের নাস্তা করবো না?
.
😒আমি কিছু খাব না
.
পরে টাকা দিয়ে দিও
.
আপনি খাবারের খরচ যদি ৫০০পড়ে আপনি পরে বলবেন ৫০টাকা,আপনাকে চিনি আমি
.
আচ্ছা ৫০০ই বলবো ওকে?
.
রেস্টুরেন্ট এ এসে শান্ত পরোটা,ভাজি আর চা অর্ডার করলো
.
খাওয়া শেষে আহানা বললো তাহলে আপনি আমার থেকে ১০৫০+৫০+৩০০(নাস্তার খরচ)=১৪০০টাকা পাবেন
.
শান্ত টিসু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বললো কিসের টাকা,কোথাকার টাকা?
.
ঐ যে জুতা,রিকসা ভাড়া আর এখন নাস্তার দাম
.
তো?
.
তো মানে কি,আমি বেতন পেলে দিয়ে দিব
.
আহানা তুমি কিসের টাকার কথা বলতেসো,আমি তো কোনো টাকাই দিই নাই তোমাকে
কাল তো তুমি তোমার টাকা দিয়ে জুতা কিনসো🐸
.
আজব তো,আপনি এত মিথ্যা কথা বলেন কেন?
ভাত আর নুন খেয়ে খেয়ে তোমাকে ইয়াবার নেশা ধরছে,ডাক্তার দেখাতে হবে
.
আপনি একটা বেয়াদব,মিথ্যাবাদি লোক আপনি
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৩৩+৩৪
শান্ত বিল পে করে,ধনিয়া এক চিমটি মুখে দিয়ে ব্যাগ নিতে নিতে বললো আহানা আমি তোমার থেকে কোনো টাকা পাই না,তোমার স্মৃতি শক্তি লোপ পাইসে,তোমাকে মধু গরম পানিতে গুলিয়ে খাওয়াতে হবে,এখন চলো অফিসে যাই,গাড়ীতে বসে ঝগড়া করিও কেমন?
আহানা রাগে গজগজ করতে করতে পিছন পিছন গেলো শান্তর
