প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৬৩+৬৪
Afnan Lara
তো আমি একদিন বাসা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে দেখলাম সামনে দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যাচ্ছে
আমি কি ভয়টা না পেয়েছিলাম সেদিন
সাথে সাথে গোয়াল ঘরে লুকিয়ে পড়সিলাম,আমাকে তারা দেখতে পায়নি,তারা চলে যাওয়ার পর আমি মাঠে ফিরে গেসি বাবার জন্য চাল আর ডাল নিয়ে,মা রেঁধে দিসিলো
নওশাদ চাচার পিছন দিয়ে মাথা বাঁকিয়ে শান্তর দিকে তাকিয়ে মুখে হাত দিয়ে হেসে যাচ্ছে
শান্ত হাত দিয়ে তার মাথার চুল টানতেসে
রাত ৮টার দিকে চাচার কথা বলা শেষ হলো,শান্তর ঘুম এসে গেসিলো
নওশাদ তো সোফায় ঘুমিয়ে গেসে কাহিনী শুনতে শুনতে,পরে রুপা ফিরে এসে ওকে টেনে রুমে নিয়ে গেছে
শান্ত ঘাড়ে হাত দিয়ে চাপতে চাপতে নিজের রুমে ফিরে আসলো
“”লাইট অফ কেন!””
শান্ত লাইট জ্বালালো
লাইট অন করে দেখলো আহানা বিছানার এক কোণায় শুয়ে আছে হাত পা গুটিয়ে
শান্ত হেসে দিয়ে পুরো রুমটার দিকে তাকালো,খুব সুন্দর করেই সাজিয়েছে নওশাদ আর রুপা মিলে
হঠাৎ করে পিছন থেকে নওশাদ এক ধাক্কা মেরে ওকে রুমে ঢুকিয়ে বাইরে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো
এতক্ষন পর সুযোগ পেলি বউয়ের কাছে আসার আর এখন আবার ড্যাবড্যাব করে রুমই দেখে যাচ্ছিস,হারামি!!
তাই বলে ধাক্কা দিবি?আমার আর একটুর জন্য হার্ট এ্যাটাক হতো
শান্ত পিছন ফিরে আহানার দিকে তাকালো,পা টিপে টিপে ওর পাশে এসে হাঁটু গেড়ে নিচে বসলো
আহানার থুতনির তিলটা ধরে টেনে দিয়ে সেখানে কামড় বসিয়ে দিতেই আহানা ভয় পেয়ে উঠে বসে পড়লো
ভালো করে চেয়ে দেখলো শান্ত বসে আছে হাঁটু গেড়ে,ভয় টা চলে গেলো সাথে সাথে,খুশি হয়ে আহানা বিছানা থেকে নেমে গিয়ে শান্তকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
কি হয়েছে?ভয় পেলা?
আপনি কোথায় ছিলেন সারাদিন?আমি আপনাকে একবারের জন্যও দেখতে পাইনি,একবারও কি আমাকে দেখতে মন চায়নি আপনার?
চেয়েছে,কিন্তু সময় পাইনি,তার জন্য সরি
এক মিনিট তোমার গা কাঁপতেসে কেন,শরীর খারাপ নাকি??
না,এমনি একটু দূর্বল লাগতেসে
খেয়েছিলা কিছু?
হুমম,দুপুরে রুপা এনে দিয়েছিলো খাবার
তারপর থেকে কিছু খাওনি?
আমার খিধে নেই তো
চুপ!
শান্ত দরজার কাছে গিয়ে নক করতে লাগলো বারবার,কেউ নেই,যে যার রুমে চলে গেছে
আমি বললাম তো আমি ঠিক আছি,আমার খিধে নেই
এবার শান্ত ফোন নিয়ে নওশাদকে ফোন করে আনালো
কিরে??সবে না তোকে ঠেলে ঢুকালাম,আবার কি চাই?বাইরে কিছু রেখে গেছেন নাকি?আমি আনি দিব??😜
হারামি দরজা খোল,আহানা কিছু খায়নি দুপুর থেকে ওর জন্য খাবার আনবো
তুই থাক আমি খাবারের ব্যবস্থা করতেসি
ওকে
আহানা গাল ফুলিয়ে খাটে বসে আছে
এবার তার নজর গেলো রুমের দিকে,রুমটা তো বেশ সাজানো হয়েছে বাহ কি সুন্দর,গোলাপ আর গোলাপ,মনে হয় গোলাপের মেলা বসেছে,আমি তো খেয়ালই করিনি
শান্ত দরজা থেকে সরে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবির উপরের কোটিটা খুলে ফেললো
নওশাদ খাবার এনে দরজা খুলে খাবারের প্লেট শান্তর হাতে দিয়ে চোখ মেরে চলে গেলো সে
শান্ত হাত ধুয়ে এসে আহানার পাশে বিছানায় গোল হয়ে বসলো
আহানাকে জোর করিয়ে পুরো প্লেটের পোলাও মাংস খাইয়ে দিলো সে
তার এক কথা সেটা হলো খাওয়া দাওয়া যেন বেশি বেশি করে
আহানা দরজার দিকে তাকিয়ে একটু নড়েচড়ে বসলো
শান্ত হাত ধুয়ে এসে নিজের পাঞ্জাবি খুলতেসে এবার
আহানা ঢোক গিলে কোমড় থেকে কাগজটা নিয়ে চেয়ে রইলো
শান্ত আয়নায় চোখ রেখে বললো”আমি তোমাকে জোর করবো না,ঘুমিয়ে পড়ো”
কথাটা বলেই শান্ত আহানার পাশে এসে শুয়ে পড়লো
আহানা কাগজটার দিকে একবার তাকাচ্ছে আবার শান্তর দিকে
শান্ত চ্যাপটা হয়ে শুয়েছে,পুরো পিঠ তার উপরের দিকে
আহানা শান্তর পিঠের দিকে তাকিয়ে বসে আছে,ঠিকই এই ডিসিশনের দায়িত্ব আমার উপর দিয়ে নিজে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে,এদিকে আমি কি করবো
আহানা কাগজটা ল্যাম্পশ্যাডের উপরে রেখে শান্তর দিকে তাকালো,তারপর লাইটটাও অফ করে দিলো
পুরো রুম অন্ধকার,আহানার চুড়ির ঝুনঝুন আওয়াজটাই হচ্ছে শুধু
বসে বসে অন্ধকারে সে নিজের চুড়ি গুলো খুলতেসে শান্তর ঘুমের যেন ডিস্টার্ব না হয় তাই লাইট ও জ্বালায়নি সাথে আস্তে আস্তে চুড়ি খুলে যাচ্ছে
অন্ধকারে কানার মত চুড়ি গুলো সব খুলেছে সে,এবার সমস্যা হলো গলার নেকলেস গুলো নিয়ে,ওগুলা টানতে টানতে হাত গলা ব্যাথা হয়ে গেসে কিন্তু সেগুলো খোলাই যাচ্ছে না
বাধ্য হয়ে সে লাইট জ্বালালো আবার,শান্ত ঘুমাচ্ছে তবে হাবভাব দেখে মনে হয় না এখন ঘুমে বিভোর সে
কারণ রাত সাড়ে ৮টার সময় শান্ত কোনোদিন ঘুমায় না
আহানা শান্তর পিঠে হাত রেখে ওকে জাগানোর চেষ্টা করলো
শান্ত সাথে সাথে মুখ তুলে বললো”কি?
ঐ আসলে নেকলেস গুলো খুলতে পারছি না
আচ্ছা
শান্ত উঠে এক এক করে নেকলেস সব খুলে দিয়ে আবার দুম করে শুয়ে পড়লো
আহানা ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ওর দিকে,এতদিন রোমান্টিক মুড দেখিয়ে আর আজ কিনা তাকাচ্ছেও না??
এসব ভেবে তারপর শুয়ে পড়লো আহানা,ল্যাম্পশ্যাডের উপরের কাগজটার দিকে তাকিয়ে থেকে কাগজটা বলপয়েন্ট দিয়ে চাপা দিয়ে শান্তর দিকে ফিরে ওকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে
এটা ভাবতে এতক্ষণ লাগছে আপনার আহানা ম্যাডাম?
আপনি বুঝবেন না
কেন বুঝবো না?
কিছু না,বাদ দেন
শান্ত উঠে বসে পড়লো,আহানা চমকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে
শান্ত এগিয়ে আসতেই আহানা একটু পিছিয়ে গেলো সাথে সাথে
শান্ত হাত বাড়িয়ে ল্যাম্প শ্যাড অফ করে দিলো
অন্ধকারে আহানা শান্তর হাত খুঁজে ধরে রেখেছে ভয়ে
২সেকেন্ড বাদেই কানের কাছে শান্তর ঠোঁটের স্পর্শ পেলো সে
শান্ত ওর কানে ঠোঁট লাগিয়ে চুপ করে আছে,তারপর ফিসফিস করে বললো”আজ কাগজটা দেখাবা না?”
উহু
কেন?আজ শান্তকে চাই বুঝি?
আহানা আর কিছু বললো না চুপ করে জানালার বাইরের দিকে চেয়ে রইলো
ক্ষেতের মাঝখানে থাকা পিলারটায় যে বাতি জ্বলতেসে সেটারই আলো আসতেসে এখন রুমে
আজ শান্ত আহানাকে নিজের মত করে ভালোবাসতেসে,আহানা তার জীবনের সব দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়েছে আজ,শান্ত একবারের জন্যও তাকে সেসব মনে করতে দেয়নি
শেষরাতে একটা দুঃস্বপ্নে জেগে গেলো আহানা,রুম অন্ধকার বলে খুব ভয় হলো তার,তাড়াতাড়ি করে ল্যাম্পশ্যাডের সুইচে টিপ দিলো,জ্বলতেসে না মনে হয় কারেন্ট নেই
এদিক ওদিক ছটফট করে শান্তর গায়ের স্পর্শ পেতেই ভয়টা কমলো তার,তখনই কারেন্ট চলে আসলো
শান্ত চাদর জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে,আহানা কিছুক্ষন ওর দিকে চেয়ে রইলো তারপর ওর পিঠে হাত বুলিয়ে বিছানা থেকে নেমে গেলো,৩টা বাজে মনে হয়,কিছুক্ষন বাদেই আবছা আলোতে ভরে যাবে চারিদিক
আহানা জানালার ধারে এসে আনমনে বাইরের দিকে চেয়ে আছে
কি একটা যেন খারাপ স্বপ্ন দেখলাম,তবে কি দেখেছি সেটাই মনে আসতেসে না
শান্তকে কি জাগাবো?নাহ থাক!ঘুমাক
ফজরের আজান দিতে আর কয়েক মিনিট বাকি
আহানা ব্যাগ থেকে একটা সুতির খয়েরী রঙের শাড়ী নিয়ে গোসল করে পরে আসলো
আজানা দিয়ে দিয়েছে ততক্ষনে
আহানা জায়নামাজ নিয়ে শান্তকে ২বার ডেকে জানালার পাশে ফ্লোরে নামাজ পরে নিলো
শান্ত ততক্ষণে উঠে গেসে,চোখ ডলতে ডলতে তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে চলে গেসে সে
আহানা নামাজ শেষ করে বিছানা থেকে ফুলগুলো ঝেড়ে বিছানায় এসে বসলো
শান্ত বাথরুম থেকে বের হতেই দেখলো আহানা খাটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে
চুপচাপ নামাজটা পড়ে শান্তও এসে আহানার পাশে বসলো,ওর চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে দিচ্ছে সে
আহানা ঠিক করে চুল ও মুছতে জানে না
শান্ত ওর চুল মুছে দিচ্ছে আর সে আয়নার দিকে তাকিয়ে বসে আছে চুপ করে
চুল মোছা শেষ করে শান্ত এক হাত দিয়ে আহানাকে ধরে বুকে এনে রাখলো
শান্তর বুকে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েছে আহানা
সকাল ৮টার দিকে মিতু চা বিসকিট নিয়ে এসে দরজায় নক করলো
শান্ত নামাজ পরে যে বিছানায় বসেছে তেমনই ছিল ঘুম আসেনি তার,আহানা ঘুমিয়েছে সেটাই শুধু দেখেছে সে
গিয়ে দরজা খুলে মিতুর হাত থেকে ট্রেটা নিয়ে আবার ফিরে আসলো,আহানা খুব সুন্দর করে ঘুমাচ্ছে,গালের নিচে তার দুহাত গুছিয়ে রেখে শুয়েছে,মুখে হাসি,নিশ্চয় স্বপ্নে ভালো কিছু দেখতেসে
শান্ত আহানার চুল গুলো নিয়ে কানের পাশে গুজে দিলো ভালোমতন করে
তারপর আহানার থুতনির তিলটা ধরে টেনে দিলো
আহানা জেগে গিয়ে উঠে বসে পড়েছে
ইস জেগে গেলা?সরি,আচ্ছা জাগছো যখন চা খেয়ে নাও
কয়টা বাজে??ইস,৮টা বেজে গেছে,আমি এত কেন ঘুমাইলাম ধুর!
ইটস ওকে,বাসায় কেউ আমাদের অপেক্ষা করছে না আহানা
ওহহ,তারপরেও এত দেরি হয়ে গেলো,কি ভাববে সবাই
আহানা চায়ে এক চুমুক দিয়ে উঠে পড়লো
চুল এখনও ভিজে আছে, আয়নার সামনে এসে শাড়ীর সাথে মিলিয়ে চুড়ি পরতেসে সে
শান্ত একটা বিসকুট খেয়ে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আহানার পিছনে এসে দাঁড়ালো
মুখ নিয়ে আহানার ঘাড়ে রাখতেই আহানা নড়ে উঠতে গেলো
শান্ত ফিসফিসিয়ে বললো “খবরদার নড়বা না!আমার হাতে কিন্তু গরম চায়ের কাপ”
আহানা রোবটের মতন দাঁড়িয়ে আছে
শান্ত ওর ঘাড়ে একটা চুমু দিয়ে চায়ের কাপ নিয়ে চলে গেলো
আহানা মুচকি হেসে চুড়িগুলো পরে চা শেষ করলো তারপর সেও বের হলো রুম থেকে
সোফার রুমে এসে দেখলো কেউ নেই,রেনু মা,খালা,ফুফু রান্নাঘরে, বাবা বাগানে মিতুর সাথে কথা বলতেসেন
আহানা সব দেখে পিছন ফিরতেই দেখলো রুপা দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে
কি?
কি মানে??তুই এখন আমাকে বলবি কি কি হইসে কাল
এটা কোন ধরনের প্রশ্ন??কি কি হইসে মানে,বাসর রাতে কি কত কিছু হয় নাকি যেভাবে জিজ্ঞেস করতেছিস?
নেগেটিভ নেস কেন?আমি কি চুম্মাচাম্মির কথা জিগাইসি নাকি?ভাইয়া কি দিলো সেটা বল,খালি উল্টা পাল্টা ভাবোস তুই,আমি কি তোকে এত খারাপ কিছু জিজ্ঞেস করতে পারি নাকি,আমার ও তো লজ্জা আছে
তোর লজ্জা আছে বুঝি?আজ জানলাম আমি
বল না ভাইয়া তোকে কি দিয়েছে?
আহানা হেসে বললো আমার জীবনকে পূর্নতা দিয়েছে সে,আর কি চাই
কি বলিস তুই?বাসর রাতে হাসবেন্ড তার ওয়াইফকে কিছু না কিছু গিফট দেয়,আর শান্ত ভাইয়া বুঝি তোকে দেয়নি?এটা আমি বিশ্বাস করতে পারতেসি না
কথাটা বলে রুপার চোখ গেলো আহানার কোমড়ের দিকে,চিকচিক করতেসে,চোখ বড় করে সে আহানার কোমড় থেকে শাড়ী সরিয়ে যা দেখলো তার তো মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা
আহানার কোমড়ে সোনার একটা কোমড়ের বিছা
তুই আমাকে মিথ্যা বললি??তোকে ভাইয়া এত গর্জিয়াস একটা গিফট দিয়েছে আর তুই বলিস কিছু দেয়নি??
আহানা চমকে তার কোমড়ে হাত দিয়ে চেয়ে রইলো,এত সুন্দর দামি একটা জিনিস তার কোমড়ে ছিল সে বুঝতেই পারেনি
দৌড়ে বাসা থকে বেরিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে শান্তকে খুঁজতে লাগলো সে,টুটুল মিয়াকে দেখে জিজ্ঞেস করলো শান্ত কই
উনি বললেন “বাইরে হাঁটতে গেসে”
আহানা বাসা থেকে বেরিয়ে দেখলো শান্ত আশ্রমের দিকে যাচ্ছে,আহানা দৌড়ে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো
আহানা?তুমি এখানে?আশ্রমে যাচ্ছি,যাবা?
এক মিনিট,এটা আপনি দিসেন কখন??
পছন্দ হয়েছে তোমার?
এত দামি গিফট দেওয়ার কি ছিল??
শান্ত হাঁটতে হাঁটতে বললো ” আমার বউকে আমি গিফট দিয়েছি,তাতে তোমার কি”??
আমার কি মানে?এটা কেন দিলেন আপনি?
এটা দেওয়ার কারণ আছে
কি😒
তোমার কাগজের শর্ত কাল আমি ভেঙ্গেছি, তোমার কোমড়ে থাকা কাগজটা তো মন খারাপ করেছে সাথে কোমড় ও,কারণ কাগজটার বউ ছিল তোমার কোমড়,তাই কোমড়কে সাজিয়ে দিলাম সোনার কোমড়ের বিছা দিয়ে,সেও খুশি তার স্বামী কাগজটাও খুশি সাথে আমার বউ ও
আপনি কখন পরালেন এটা?আমি তো দেখিনি
তুমি যখন নামাজ পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলা তখন পরিয়ে দিয়েছিলাম
আহানা কোমড়ের দিকে তাকিয়ে শান্তর পাশে হাঁটতেসে,শান্তর ফোন বেজে উঠলো,শান্ত বললো ডাক্তারের ফোন
হ্যালো
শাহরিয়ার শান্ত??
হুম
আপনার ওয়াইফের রক্ত নিয়ে যে টেস্ট গুলো করিয়েছিলেন ওগুলোর রিপোর্ট তো এসে গেছে কাইন্ডলি এসে নিয়ে যাইয়েন আর হ্যাঁ রিপোর্টটা দেখলাম.আপনার ওয়াইফের তো….
হ্যালো??আমি শুনতেসি না,নেট নেই এখানে,কি বলতেসেন??
উফ!! এই নেটওয়ার্ক সিরিয়াস টাইমে কাজে আসে না
কি বললো?
বললো রিপোর্ট এসে নিয়ে যেতে,রিপোর্ট এসে গেসে
ওহ,তাহলে আমরা ঢাকা ফিরবো কবে?
এখন না,এখানে একটা নাম করা রিসোর্ট আছে,আমি তুমি আর নওশাদ রুপা যাবো সেখানে,কয়েকদিন ঘুরে সোজা ঢাকায় ফিরবো
আহানা হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে গেলো শান্ত ওর হাত ধরে ফেলেছে,পিছন ফিরতেই সে শান্তর মুখের দিকে চমকে তাকালো,হঠাৎ এসময়ে হাত ধরলো কেন সেটাই বুঝতেসে না
শান্ত count down করতেসে
৫…৪…৩…২…১!!!
একটা জড়ো বাতাসে উপর থেকে শতে শতে পাতা আর কৃষ্ণচূড়া ফুল পড়তেসে আহানার গায়ে,আহানা হেসে হাত বাড়িয়ে এক মুঠো ফুল নিয়ে হাসতে হাসতে বললো “এখানে এই গাছটা আছে?আমি তো জানতামই না একদম খেয়াল করিনি”
শান্ত আহানার চুলে গোটা একটা কৃষ্ণচূড়া ফুল গুজে দিতে দিতে বললো “”♥আমার মায়াবতী যেখানে তার প্রিয় সবকিছু সেখানে♥””
আহানা খুশি হয়ে শান্তকে জড়িয়ে ধরলো কাছে এসে
শান্ত মুচকি হেসে পকেট থেকে সানগ্লাসটা পরে হঠাৎ করে আহানাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে হাঁটা ধরলো আর একটা ভাব নিয়ে বললো-
“কোথা থেকে এসেছো তুমি মেয়ে??আমাকে চড় দিয়েছিলা যে মনে আছে তোমার??
যাও ভাগো,তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নাই!!
আহানা হেসে দিয়ে পিছন থেকে দৌড়ে এসে শান্তর গলা জড়িয়ে ধরে উঁচু হয়ে গেলো
শান্ত আহানার হাত দুটো ধরে খিলখিল করে হাসতেসে
“ভাবলাম আহানা আমার কথাগুলো সিরিয়াস নিয়ে নিয়েছে কিন্তু না সে আমার মজা করে বলা কথা মজা হিসেবেই নিয়েছে!!!
“””যদি তুমি ভালোবাসো, ভালো করে ভেবে এসো,
খেলে ধরা কোনো খানে, রবে না,
আমি ছুঁয়ে দিলে পরে, অকালেই যাবে ঝরে,
গলে যাবে যে বরফ, গলে না.
আমি গলা বেচে খাবো, কানের আশেপাশে রবো,
ঠোঁটে ঠোঁটে রেখে কথা, হবে না.
কারো একদিন হবো, কারো একরাত হবো,
এর বেশি কারো রুচি, হবে না.
|| আমার এই বাজে স্বভাব, কোনোদিন যাবে না ||
যাওয়ার দরকার নেই,আমার এই বাজে স্বভাবআলা শান্তকেই চাই!!
তাই??
হুম
আচ্ছা চলো আশ্রমের বাচ্চাদের সাথে আজ নাস্তা করবো
ওকে
দুজনে মিলে আশ্রমে ঢুকে বাচ্চাদের রুমে আসতেই বাচ্চারা দৌড়ে এসে ওদের হাত পা ধরে দাঁড়িয়ে পড়লো,শান্ত হাঁটু গেড়ে বসে ওদের কয়েকজনের গাল টিপে দিলো তারপর ওদের পাশে বসলো
শান্ত এসেছে শুনে ম্যানেজার মিলে বাকি কর্মচারীরা ভালো নাস্তার ব্যবস্থা করলো,শান্ত বাচ্চাদের সাথে খেলতে খেলতে বললো সবার জন্য একই খাবারের ব্যবস্থা করতে
আরিফ আঙ্কেল খুশি হয়ে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আহানা আর শান্তকে দেখে যাচ্ছে
“আজ শান্তি মা থাকলে কতই না ভালো হতো,সবকিছুই আছে শুধু উনার কমতিটা রয়ে গেসে”
শান্ত একটা পুচকিকে উঁচু করে ধরে ঘুরাতে ঘুরাতে বললো”মা আছে!!!
মা এই ছোট ছোট বাচ্চাদের মাঝে আছে,এরা এখনও অবুঝ,এদের দ্বারা এখনও কোনো পাপ হয়নি,আমার মা এদের মাঝেই আছে,দেখুন না এদের মুখে হাসি আমার মায়ের হাসির মতন,আমি এদের দিকে তাকালেই আমার মাকে দেখতে পাই
আমার মায়ের দুটো প্রান ছিল,একটা আমি আর একটা এই আশ্রমের সবকয়টা অনাথ সন্তান,আমার মা এদের খুব ভালোবাসতো””
আহানা আশ্রমের বাইরের পিলারটা ধরে ডোবাটার দিকে তাকিয়ে আছে,হঠাৎ করে মাথার ভেতর টনটন শুরু হয়ে মাথার ভেতর জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেলো,অস্বস্তি লাগতেসে অনেক
(আপনাদের একটা কথা বলতে চাই,আপনারা অনেকেই বলতেসেন আহানা যেন তার মা বাবাকে খুঁজে পায়,কিন্তু বাস্তবে এমন হয় না,এটা সিনেমায় হয় যে হারিয়ে যাওয়া মা বাবা ফিরে আসে
বাস্তবে একবার হারালে আর পাওয়া যায় না,গল্পের থিম আমি বাস্তব থেকে নিয়েছি তাই কাল্পনিক কিছু যোগ করবো না,আশ্রমের অনাথেরা অনেকেই তাদের মা বাবা পায় তবে আসল না,যারা দত্তক নেয় তাদের পায়,আসল মা বাবাকে পায় না তারা,আহানাও পাবে না)
আহানা?
হুম
আসো নাস্তা করবা,তুমি আবার সেখানে গেসো??
আহানা শান্তর সামনে এসে ওর হাত ধরে বললো” একটা জিনিস চাইবো দিবেন?”
সব তোমার
এই ডোবাটা আমার নামে করে দিন
কি করবে?
আমি ডোবাটায় মাটি ফেলে ভর্তি করে একটা পার্ক তৈরি করবো এখানে,আশ্রমের বাচ্চাদের জন্য,তাদের খেলার জন্য আশ্রমে তেমন কোনো সুব্যবস্থা নেই
আর….
আর?
আর আবার কোনো মা বাবা তাদের অবৈধ সন্তানকে ফেলতে আসলে ডোবায় ফেলবে না,পার্কে ফেলে যাবে
সে বড় হলে কেউ তাকে বলতে পারবে না যে তোমাকে তো ডোবায় ফেলে গেসিলো,বলবে তোমাকে পার্কে রেখে গেছে
একটু হলেও তো সম্মান থাকবে তাই না?
শান্ত আহানার মাথা ধরে ওকে কাছে টেনে আনলো
“ঠিক আছে,আমি এখানে পার্ক বানিয়ে দিব”
ধন্যবাদ
আহানা আর শান্ত নাস্তা করে বের হতেই দেখলো নওশাদ আর রুপা এসেছে আশ্রমে
কিরে শান্ত রিসোর্টে কবে যাবি তোরা,আমার আর তর সইছে না
তোরা বললে আজ দুপুরে খেয়ে রওনা দিব,রিসোর্ট এখান থেকে ১০মিনিটের পথ
ভাইয়া আমি একটা কথা বলি,আমরা এখন তো সকালের নাস্তা করেছি,এখন গেলে কেমন হয়?
রুপা আজ তো বৌভাত
হুম তাই তো
আচ্ছা তাহলে আমরা বরং দুপুরেই যাব
৪জনে মিলে সেই সরু পথটা ধরে হাঁটতেসে,সামনে নওশাদ আর রুপা
পিছনে শান্ত আর আহানা,সরু পথটার দুপাশে বিরাট বিরাট ঝাউ গাছ,আর দুপাশে ধানের ক্ষেত
পথটা মাটির,আহানা পথের দিকে চেয়ে হাঁটতেসে,মাঝে মাঝে চুলগুলো কানে গুজে দিচ্ছে,আর শান্ত পকেটে হাত ঢুকিয়ে সেন্টার ফ্রেশ চিবাচ্ছে
নওশাদ জায়গাটা ভিডিও করায় ব্যস্ত,রুপা একটা পকেট মিররে আইব্রো ঠিক করছে হেঁটে হেঁটে
আহানা কাদায় পা দিতেই পা আটকে গেলো আর সে দুম করে পড়ে যেতে নিতেই শান্ত ধরে ফেললো ওকে
আহানা মুখ তুলে চেয়ে দেখলো শান্ত আরেকদিকে তাকিয়ে আছে
আহানা হেসে ওর হাত জড়িয়ে ধরে আবার হাঁটা ধরলো
বাসায় এসেই দেখলো অনেক মেহমান এসে গেসে
তাড়াতাড়ি করে আহানা শাড়ীর আঁচল নিয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিলো
সবাই আহানার থুতনি ধরে টেনে বলতেসে বাহ কি সুন্দর
আহানা দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে ফুফু আর বাকিদের দিকে
আহানা?ওমা কি সুন্দর কোমড়ের বিছা দিয়েছো তুমি
আমি তো একদমই খেয়াল করিনি,অনেক সুন্দর এটা
তাই না ফুফু??কি কিউট তাই না?
তুই এত লাফাস কেন,ওহহহ আচ্ছা,তাহলে এটা তুই দিয়েছিস?
জি!!আর কে দিবে??
বাহ পছন্দ তো মাশাল্লাহহহ👌
বউ ও,কোমড়ের বিছাও😎
বৌভাতের অনুষ্ঠানটা জমজমাট হয়েছে,,নওশাদ,রিয়াজ আর সূর্যের কারণে,ওরা লুঙ্গী ডান্স দিয়েছে তার উপর ঘোড়ার গাড়ী করে ১কিলোমিটার ঘুরেছে তাদের ইচ্ছা পূরন হলো অবশেষে
৩টা বেজে গেসে,নওশাদ রুপা আর শান্ত আহানা বাবা আর পরিবারের সবাইকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে পড়লো রিসোর্টের উদ্দেশ্যে
রিকসায় বসে আহানা বাইরের ঝাউগাছ গুলো দেখছে
আর শান্ত গালে হাত দিয়ে আহানাকেই দেখে যাচ্ছে শুধু
হঠাৎ ডাক্তারের কথা মাথায় আসতেই তাকে কল করলো সে
ওমা তার দেখি ফোনই নট রিচেবল বলতেসে,আজব তো!
১০/১২মিনিটের মধ্যেই ওরা রিসোর্টে পৌঁছে গেলো,দোতলা দালানের রিসোর্টটা,,কমলা রঙের দালান,পাশ দিয়ে একটা বট গাছ অনেক উঁচুতে উঠে গেসে,আহানা দোতলার বারান্দাটার দিকে চেয়ে আছে,কারণ সেই বারান্দায় দাঁড়ালে অনায়াসেই বটগাছটা ছোঁয়া যাবে,,আহানা মনে মনে ভাবছে কিরকম লাগবে তখন
শান্ত আহানার তাকানো দেখে উপরের তলার চাবিটাই নিলো ম্যানেজার থেকে
নওশাদ রুপাও দোতলায় তবে তারা বাম পাশের ইউনিটে,সেখান দিয়ে সবুজ ঘাসে ঘেরা মাঠের মতন জায়গা দেখা যায়,রুপা বটগাছটা খেয়াল করেনি করলে পাগল হয়ে যেতে ডান পাশের ইউনিটের জন্য
শান্ত আর আহানা রুমে ঢুকলো দোতলায় এসে
রুমটায় ঢুকে আহানা কোনোদিক না তাকিয়েই বারান্দায় চলে আসলো,মাথা উপরে তুলে বটগাছটার শেষ সীমানা পর্যন্ত দেখতেসে সে
গাছটায় সিঁড়ির মত ডিজাইন করা মনে হচ্ছে
আহানা হাত দিয়ে জায়গাটা চেপে দেখলো উঠা যাবে কিনা
মজবুত দেখে হেসে শান্তকে ডাকতে যাবে তার আগেই শান্ত এক লাফে বারান্দা থেকে গাছে উঠে গেলো
আহানা ভয় পেয়ে মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
আরে ভয় পাও কেন,আসো তুমিও আসো,আমার হাত ধরো
না আমার ভয় করে
আমি আছি না?
আহানা হেসে শান্তর হাত ধরলো,শান্ত এক টানে ওকেও গাছের উপর নিয়ে আসলো,একজনের দাঁড়ানোর জায়গা আছে আর সেটাতে শান্ত দাঁড়িয়ে আছে আর আহানা তার গায়ে ভর দিয়ে কোনোরকম দাঁড়িয়েছে
আহানা দেখো সাপ!!
সাপের কথা শুনে আহানা চিৎকার করে শান্তকে চেপে ধরলো
হিহি
হাসতেসেন কেন,তার মানে মিথ্যা?
হুমম😂
আহানা শান্তকে ধরে কয়েকটা কিল বসিয়ে দিলো
কেউ দরজায় নক করতেসে মনে হয়,চলো বারান্দায় নেমে যাই
শান্ত আহানার হাত ধরে ওকে নামিয়ে তারপর নিজে নামলো,গিয়ে দরজা খুলতেই দেখলো নওশাদ দাঁড়িয়ে আছে
পরনে হাফ প্যান্ট, টিশার্ট, চোখে চশমা,পায়ে স্যান্ডেল, একটা ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে
ও আবার হাতে একটা ফুটবল ও আছে
কিরে নওশাদ?কি হইসে তোর??এরকম শুটকি মাছের মত ব্যাকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?শরীর খারাপ নাকি তোর?
ধুর হারামি!!খেলতে যাবো চল,তোকে ডাকতে আসলাম তাই
খেলবো?কই?
আরে রিসোর্টের চারপাশে খোলা জায়গা আছে,আমি আর তুই ফুটবল খেলবো সেখানে
গোলকিপার কে হবে?
আমাদের বউরা আছে না
তোর মাথা গেসে?আহানা অসুস্থ,, ও এত দৌড়াদৌড়ি পারবে না
তাহলে বল কি খেলবি
ভাইয়া আমি বলি?
হুম বলো
কানামাছি খেলবো
রুপা এসে বললো হ্যাঁ এটা বেস্ট হবে
ব্যস সবাই মিলে রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে আসলো খোলা মাঠে
আহানা তার একটা ওড়না নিয়ে এসেছে সাথে করে
শান্ত সেন্টার ফ্রেশ চিবাতে চিবাতে বললো “তা আগে চোখ বাঁধবে কে?”
নওশাদ বললো”” সবাই দাঁড়াও গোল হয়ে,, আমি বের করতেসি””
অপু,১০,২০,৩০.৪০.৫০.৬০.৭০.৮০.৯০.১০০!
হাহা,,রুপা তুমি চোখ বাঁধবা
ধুরু!!
রুপাকে আহানা চোখ বেঁধে দিলো,চরকার মত ঘুরতেসে সে,নওশাদ ওকে চিমটি কেটে কেটে পালাচ্ছে বারবার
অবশেষে রুপা শান্তর হাত ধরে বললো “এটা নওশাদ”
তারপর চোখ থেকে ওড়না খুলে দেখলো শান্ত দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে আর নওশাদ রাগে ফুলতেসে
“তুমি আমাকে চিনলে না??”কথাটা বলে নওশাদ এক দৌড়ানি দিলো রুপাকে,দৌড়াতে দৌড়াতে দুজনে হাঁপিয়ে গেলো
তারপর কিলাকিলি করে আবার ফেরত আসলো
এবার চোখ বাঁধবে নওশাদ
রুপা আহানার হাত নিয়ে নওশাদকে ধরিয়ে দেওয়ার আগেই নওশাদ রুপার হাত ধরলো
রুপা তো লজ্জায় শেষ
না এইটা রুপা না,রুপার হাত এত খসখসে না,আমার রুপার হাত নরম
নওশাদ এবার আহানার হাত ধরে হেসে বললো “এই তো আমার রুপা☺”
তোমার মাথা,বেয়াদব,অসভ্য!!
নওশাদ জিভে কামড় দিয়ে এক দৌড় দিলো
এই তোরা কি শুধু মারামারি করবি?এখনও তো আমরাই চোখ বাঁধলাম না
এবার শান্ত বাঁধলো
রুপা আহানাকে অনেক দূরে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছে তারপর নওশাদ এর হাত নিয়ে শান্তর হাতে ধরিয়ে দিলো
শান্ত দাঁত বের করে বললো “এই হাতের আর গরিলার হাতের কোনো তফাৎ নাই,এইটা তো মাস্ট নওশাদের হাত
কি বললি তুই👿তোর চোখ বাঁধাই থাক,যতক্ষন না আহানাকে চিনতে পারিস!!
এবার রুপা নিজের হাত ঘষে মেজে শান্তর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো
শান্ত রুপাকে টাচ ও করলো না,শুধু মুচকি হেসে বললো “রুপা সরো”
রুপা এবার আহানাকে দাঁড় করিয়ে আহানার পিছন দিয়ে নিজের হাত এগিয়ে এনে শান্তর হাতের সামনে নিলো
শান্ত রুপার হাত ধরলো না,সে তার হাত এগিয়ে নিয়ে আহানার ঠোঁট স্পর্শ করলো,আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁটটা এলিয়ে দিয়ে হেসে বললো “এইটা আহানা”
ভাইয়া কেমনে বুঝলেন😒কেউ কেউ তো হাত ধরেও চিনে না আর আপনি কিনা ঠোঁট ধরে চিনতে পারলেন?
আহানা ঠোঁটে লিপস্টিক দেয়নি তাই চিনেছি আমি,, ওর শ্বাস নিশ্বাস সব কিছুর সাথে পরিচিত আমি
ওহ!!আচ্ছা,নওশাদ দেখে কিছু শিখো
হুহহহ!!শান্ত চল এই পুকুরে মাছ ধরবো
চল!!
আর আমরা?
তোমরা তাকায় তাকায় দেখো
শান্ত আর নওশাদ পুকুরের মালিকের সাথে কথা বলে জাল নিয়ে এসে হাজির
রুপা পিক তুলতেসে কারণ শান্ত আর নওশাদ লুঙ্গি পরে সেটা পেঁচিয়ে উদম গায়ে পুকুরে নেমেছে
আহানা মুখে হাত দিয়ে আরেকদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে
প্রচন্ডভাবে লজ্জা করছে তার,এর আগে সে শান্তকে এমন বেশে দেখেনি,আর শান্তকে উদম গায়ে দেখলে তার নিজেরই গায়ে কাঁটা দেয় শুধু
কিছুক্ষন বাদে আহানা চোখ বড় করে সামনে তাকালো,তার সামনে একটা ইয়া বড় রুই মাছ ঝুলতেসে,শান্ত ঝুলিয়ে ধরে রেখেছে
দেখসো?তোমার জামাই মাছ ধরায় কত এক্সপার্ট 😎
নওশাদ ভাইয়া কি ধরছে?
হেহে😎আমি তো শান্তর থেকে এক কদম এগিয়ে,আমি একটা রুই মাছ আর একটা….
কার জামাই দেখতে হবে না??রুপার জামাই নওশাদ তো বেশি মাছ ধরবেই হুহহহহ😎
পুরো কথা তো শুনো রুপা!!আমি একটা রুই মাছ আর একটা তেলাপিয়া মাছের বাবু ধরসি😶
কথাটা শুনে রুপা রেগে নওশাদের চুল টেনে দিলো
আরে এমন করো কেন,এটা ভাজি করতে অনেক মজা লাগবে
শান্ত আর আহানা হাসতে হাসতে রিসোর্টের দিকে যাচ্ছে
রিসোর্টের রান্নাঘরে গিয়ে যিনি রান্না করেন তার হাতে মাছগুলো দিয়ে তারা যে যার রুমে ফিরে আসলো
শান্ত গোসল করতে গেসে
আহানা শাড়ীটা পাল্টিয়ে একটা থ্রি পিস পরে নিলো,আবার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো সে
বিকাল হয়ে গেসে,৫টা বাজে মনে হয়,আহানা বারান্দার থেকে উঠে বটগাছটায় পা দুলিয়ে বসলো,বেশ লাগতেসে,চা হলে আরও বেশ হতো
পা দুলিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে সে,দূর দূরান্তে কোনো বাড়িঘর নেই,বিরাট এক সবুজ মাঠের মাঝখানে রিসোর্টটা আর রিসোর্টের পিছনে একটা খাল বয়ে গেসে,পাশে এই বটগাছটা আর সামনে এক কাতারে ১কিলোমিটার জায়গা জুড়ে কলাগাছ লাগানো,জায়গাটা বেশ সুন্দর,ঠাণ্ডা নিরিবিলি তাই হয়ত রিসোর্টটার নামও “নিরিবিলি”
শান্ত গোসল করে এসে দেখলো আহানা পা দুলিয়ে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে
কিছুক্ষণের জন্য শান্তর মনে হলো এই বুঝি আহানাকে হারিয়ে ফেললো সে
দৌড়ে এসে আহানার কোমড় জড়িয়ে ওকে উপর থেকে নামিয়ে নিলো সে
আরে আরে কি হইসে??
কি হইসে মানে?তুমি এত রিস্ক নিয়ে উঠে বসতে গেসো কেন?তাও পা দুলিয়ে,মাথা কি গেসে তোমার??বলদা গার্ডেন একটা
কথাটা গুলো বলে শান্ত চুল মুছতে মুছতে ল্যান্ডলাইনে কল করে বললো দুকাপ চা আর বিসকিট পাঠাতে
আহানা গাল ফুলিয়ে বিছানায় বসে আছে
কি?হাড্ডি ভাঙ্গলে ভালো লাগতো তোমার?
পড়ি নাই তো,জায়গাটা সেফ,আর আমি এক হাত দিয়ে গাছ ধরেও রাখসিলাম
শান্ত হাতে থাকা তোয়ালে আহানার গায়ে ছুঁড়ে মেরে গিয়ে ঠাস করে বারান্দার দরজা লাগিয়ে ফেললো
আহানা তোয়ালে মুখ থেকে সরিয়ে অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে,মনে হয় এখনই বুঝি কেঁদে দিবে
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৬১+৬২
তারপর শান্ত রুমের পর্দা টেনে দিলো,পুরো রুম কিঞ্চিত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে
আহানা এখনও বোকার মত চেয়ে আছে শান্তর মুখের দিকে
শান্ত এগিয়ে এসে হঠাৎ আচমকা আহানার ঠোঁটটা ৫সেকেন্ড ছুঁয়ে ওকে ছেড়ে পাশ থেকে তোয়ালে নিয়ে আয়নার সামনে চলে গেলো
আহানা ভূত দেখার মত ভয় পেয়ে থ মেরে বসে আছে
হুট করে শান্ত কিস করে বসবে তা একদমই ভাবেনি সে
