Home প্রেমের বাজিমাত প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১৩

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১৩

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১৩
রোজ ও রুশা

“আমার কেবিন থেকে বের হতে বলছি শামসুল।”(কাজল খান)
“উফফফ সুন্দরী,” এমন করছো কেন তুমি! দেখো, তোমার জন্য এখনো আমি সিঙ্গেল রয়ে গেছি। এখনো তোমাকে দেখলে বুক চিন চিন করে, তাই তো রাজনীতি সূত্র ধরে তোমার কাছে ছুটে আসি বারবার।(শামসুল)
—এডভোকেট কাজল খান-এর রাগটা বরাবরের মতো বেড়ে যায় এই লোকের আগমনে। মুহূর্তে মুখাবয়ব পাল্টে যায় কাজল খান-এর। এই লোকটাকে কবে গুম করে দিত কাজল খান, কিন্তু নোংরা মানুষকে মেরে হাত ময়লা করা তার স্বভাবে নেই। তারা এমনিতেই ফেঁসে যায়, সেই ফাঁসানোটাই তিনি খুব সূক্ষ্মভাবে ফাঁসান। কিন্তু শামসুল চৌধুরীর বিষয় অন্যরকম। তিনি শিয়াল পণ্ডিত, তাকে ধরা এত সহজ না। তাই তো কাজল নীরব আছে। আগে সব প্রমাণ হাতে পেয়ে নিক, তারপর বোম ব্লাস্ট করবেন তিনি। শামসুল চৌধুরীর কথা শুনে কাজল খান বলে ওঠে—

“তোর পাওয়ার পয়েন্ট এমন দুর্বল ছিল যে প্রথম বউই স্লাইড স্কিপ, তাকে সবার সামনে তোর পরিচিতি না দেওয়ার কারণে চলে গেছে!! আর দ্বিতীয় বউ? স্লাইড শো দেখেই কেটে পড়েছিল। কিন্তু তাকে তুই কী করেছিস?”
রাগে তেতে আবার বলে—
“আর শুন, তোর জন্য একখানা টিকিট কাটাই, বাইরে গিয়ে পাওয়ার ফুল চার্জ দিয়ে আয়!”(কাজল)
শামসুল হেসে উত্তর দেয়—
“তারা লগআউট করেছে কারণ আমার পাওয়ার কম ছিল না, বরং ওদের ক্যাপাসিটি কম ছিল আপডেট সহ্য করার। তাই কেটে পড়েছে, বা আমি ডিলিট করে দিয়েছি আমার লাইফ থেকে!”(শামসুল)
—কাজল মুখ ঘুরিয়ে নেয়। এই লোক যে এক নাম্বারে অসভ্য, তা তার জানা। জীবনে কী পাপ করেছিল যে এই লোকের মুখোমুখি বারবার হতে হয় তাকে?

“উফফফ ম্যাডাম, বলেছি না তোমার ১০টা বিয়ে হোক, তুমি বুড়ি হয়ে যাও, বাট একদিনের জন্য হলেও আমার বউ করব তোমায়। তোমায় আমার বেডে নেবো। তোমার এই তেজ এই বয়সে আমি নষ্ট করে দেবো জাস্ট এক রাতে। আমিও কিন্তু বুড়ো হইনি তোমার এক্স স্বামীর মতো। তোমার জন্য এখনো ছেলের সাথে জিমে যাই। বিশ্বাস করো, তোমায় দেখার পর আমার কোনো মেয়েকে ভালো লাগত না। কত মেয়ের সাথে রাত কাটাতে যেতাম, কিন্তু তাদের মাঝে তোমায় খুঁজে বেড়াতাম। তাই তো সব ডিলিট করে ফেলি লাইফ থেকে। তোমার মতো একা থাকি। যতই হোক, পছন্দের মানুষ একা থাকবে, আমি কী করে দু’কা থাকি বলো?”(শামসুল)
শামসুল চৌধুরীর এমন কথা শুনে মাথা ফেটে যাচ্ছে রাগে। তারা এমন পজিশনে আছে যে কেউ কাউকে কিছু করতে পারবে না প্রমাণ ছাড়া। মন্ত্রী শামসুল আর এডভোকেট কাজল খান তাদের ওঠাবসা একসাথে। আগে জ্বালাত, কিন্তু এখন জ্বালানোর মাত্রা অত্যাধিক। নাভানকে তেমন কিছু জানায়নি কাজল খান। চান না পুরোনো কিছু আবার তাদের সামনে আসতে। কিন্তু ভয়ও কম দেখায় না। কাজল খান চোখে রক্ত আগুন নিয়ে বলে—

“এই জঘন্য কথা বলার সাহস কীভাবে পেলি!
শোন ভালো করে, আর একবার এমন নোংরা জবান খুললে তোর জিহ্বা আমি নিজে ছিঁড়ে দেবো। আমার অভিশাপ লাগলে আজরাইলও তোর কাছে হালকা লাগবে। তোর মুখের জবান কুকুরকে খাওয়াবো, যাতে তুই বুঝিস সম্মান কী জিনিস। আজ এখানেই শেষ সতর্কতা। এই পথ ছাড়, না হলে এমন শাস্তি দেবো যে নামটুকুও আর খুঁজে পাবি না।” (কাজল)
“জাওয়াদ খান তেজ ভাঙতে পারেনি তোমায়। আমি ভেঙে দেবো। বিদেশ যেতে হবে না আমার। আমি এমনিতেই স্ট্রং। চাইলে টেস্ট করতে পারো। তোমার এক্স স্বামীর থেকে সুখ বেশি দেবো, এটা সিউর। এই বয়সে!” (শামসুল)
“এই মুখটা আর এক সেকেন্ড খুলবি না।

যে জবান দিয়ে তুই আমায় অপমান করিস, সেই জবান দিয়েই তুই নিজের কবর ডেকে আনছিস।
শোন ভালো করে, আমি কোনো দুর্বল মানুষ না। আমি মা। তাও দুই সন্তানের। আর মায়ের রাগ মানে আগুন, জানিস সেটা? যেটা পুড়লে ছাই থাকে শুধু, নাম থাকে না। আমি যদি উঠে দাঁড়াই, তাহলে তোর হাঁটু অবধি কাঁপবে। আর আমার ছেলেরা যদি পাশে থাকে, তোর প্যান্ট এমনিতেই খারাপ হয়ে যাবে। তাই সাবধান করছি তোকে।” (কাজল)
“উফফফ আবার তোমার ছেলে, আরে আমার ছেলেও তো বলতে পারো।”(শামসুল)
“তোর লজ্জা করে না?” (কাজল)
“নাহ, তোমার সামনে আমার লজ্জা করে না।” (শামসুল)
“তোর ভাগ্য ভালো, তুই একটা মানুষের জন্য বারবার বেঁচে যাচ্ছিস। কেবল তাকে কথা দিয়েছি বলে তুই এখনো জীবিত। না হলে তুই এতদিনে মাটির নিচে থাকতি।” (কাজল)
“উফফ রাখো তোমার সো-কল্ড কথাবার্তা। ছেলেকে বলো, আমি আর তুমি অতি শিগগিরই এক হচ্ছি।” (শামসুল)
“হ্যাঁ, বলবো তোর কাফনের কাপড় কিনতে!! শোন, আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কিন্তু আমার ছেলেরা নয়। যদি শুনে তাদের মাকে অপমান করছিস!” (কাজল)
থেমে আবার বলে—

“তোকে কাফন ছাড়া দাফন করে দেবে আমার দুই চাঁদ।”(কাজল)
শামসুল খালি হাসে, কিছু বলে না।
কাজল খান এখনো সত্যিটা খুঁজে বেরাচ্ছে। যেদিন সত্যিটা বের হবে, সেদিন তার পতন নিশ্চিত। কিন্তু যদি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে যায়—এই ভয়েও আগাতে পারেন না তিনি। সেই দেওয়া মূল্যবান জিনিসটার যদি কিছু হয়, তখন নিজেকে কীভাবে ক্ষমা করবে? না, সে পারবে না। কিন্তু এই শামসুলকে এত সহজে মারা যাবে না। তাহলে সত্যিটা সে কোনোদিন প্রমাণ করতে পারবে না। শামসুলের কাছে কী মূল্যবান জিনিস আছে, তা বের করতে হবে!
(কি এমন বলেছে তার সেই, যার জন্য এই শামসুল অসভ্য লোকটাকে তার সহ্য করতে হয়, আর কেনই বা সত্যি সামনে আনতে ভয় পায় কাজল—প্রশ্ন রয়ে গেল, উত্তর কবে বের করবে কাজল, দেখা যাক।)

আজ আমি থামছি, কারণ আমি চাই তুই বেঁচে থেকে ভয় পাস। কিন্তু যদি আর একবার আমার দিকে কুদৃষ্টি, কুটুকথা বা নোংরা ইশারা করিস, তা যদি আমার ছেলেদের কানে যায়, তখন শাস্তি আমি দেবো না, আমার ছেলেরা দেবে। তোর ভাগ্য নিজে এসে তোকে ছিঁড়ে খাবে তখন দেখিস। (কাজল)
কাজল এক পা এগিয়ে এসে আবার বলে—
“এলাকা ছাড় ‘মানুষ’ হ!
নইলে এমন জায়গায় পড়বি
যেখানে চিৎকার শোনবারও কেউ থাকবে না!!” (কাজল)

“অসভ্য গিটার ওয়ালা, আমায় এমন ভাবে ঝাপটে ধরেছেন কেনো?(হেরা)
নাভান বিরক্ত নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছে।এদিকে ঠিকমতো ড্রাইভ করতে না পেরে ,আরো মিশিয়ে নেয় নিজের সাথে হেরাকে। হেরার দম বন্ধ হয়ে আসছে। এদিকে ড্রাইভেও মনোযোগ দিতে পারছে না নাভান কোনো এক কারণে। যার জন্য সে নিজেই বিরক্ত।মেয়েলি ঘ্রাণে তার শিরা উপশিরা ফুলে যাচ্ছে। লাইফে এমন কিছুর মুখোমুখি সে কোনোদিন হয় নি।আর না মেয়েদের এতো কাছে এসেছে । নাভানের মন চাচ্ছে এই মেয়েকে মাথায় তুলে এক আছাড় দিতে। কি মাখে শরীরে ,যে নাভান এর বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আবার মিসাইল এর মতো ফুরফুর কথা বলতে থাকে। নাভানের মাঝে মাঝে মন চায় কস্টিপ এনে মুখে লাগিয়ে দিতে। মেয়ে মানুষ থাকবে চুপচাপ , না এ একটা কথা বললে সে ১০ টা কথা রেডি করে রাখে। নাভান বিরক্ত মাখা চোখে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলে—
তুমি যে আমার বউ তাই! ঝাপটিয়ে ধরেছি!

“ কিহহহ! বয়ে গেছে আপনার মতো অহংকারী, অসভ্য গিটার ওয়ালার বউ হতে। তবা পড়ুন এই কথা বলার জন্য!(হেরা)
“ কি বললে তুমি এটোম বোম .?“ কি ভাবছো তোমার মতো মেয়েকে এই শেহতাজ খান নাভান জরিয়ে ধরবে ?শখে ধরলে ওই কেম্পাসের মোড়ে ঘুরতে থাকা পাগলিকে ধরবো,তোমাকে না। তুমি আমার টাইপ না। না তোমার ব্যাপারে আমার কোনো কিউরিসিটি আছে। আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি মিসাইল গার্ল। সো আমার সাথে নিজেকে মিলাতে যেও না।
থেমে রাগ নিয়ে আফসোস এর সুর তুলে নাভান—
“ কপাল, নিজের বউ কে কোলে নিতে পারলাম না। তোমার মতো এটোম বোম কোলে উঠে বসে আছো।কি দুর্দশা এলো আমার জীবনে।
আবার!! আবার!! এই লোক আবার তাকে অপমান করেছে!! কী খালি আমার টাইপ না, তুমি আমার টাইপ না—মানে কী!! কেউ কি কারো টাইপ হয় নাকি!! যে যার মতো!! আর হেরার কি খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই ওই অহংকারী গিটারওয়ালার টাইপ নিজেকে বানাতে! আবার তাকে রাস্তার পাগলি থেকেও নিচু ভাবছে। না, পারা যায় না। তার থেকে নিজেকে উপরে উঠতে হবে। তার জন্য দরকার বোমার মতো উচিত জবাব! হেরাও নাভানের মতো করে বলে ওঠে—

“শুনুন অসভ্য অহংকারী গিটারওয়ালা, আমারও কোনো আগ্রহ নেই আপনার টাইপ হতে!!! আর আমি কি আপনাকে বলেছি, আমাকে কোলে নিন? আপনি তো কোলে নিলেন, এখন আমায় কথা শুনাচ্ছেন। যা শুনাচ্ছেন, সব বিত্তহীন কথাবার্তা নয় কি? আর রাস্তার পাগলি আপনার জন্য পারফেক্ট আছে, সেই মানাবে দু’জনকে।”
“ইউ মিসাইল গার্ল, কোলে না নিলে গাড়ি ড্রাইভ করতাম কী করে! মিসাইল গার্ল!! আর ২/৩ ঘণ্টা আমার পক্ষে তোমার সাথে বসে থাকা অসম্ভব!! তাই কিভাবে এই বিপদ থেকে বের হবো, সেটাই করছি।”
হেরাও মনে মনে গালি দিয়ে যাচ্ছে নাভানকে।

এদিকে কোলে ওঠার কারণে ভালো করে দেখতে পারছে না। নাভান কাটা হাত দিয়ে কোনো মতে ড্রাইভ করছে। আবার প্রচুর ভিড় লেগেছে। ঝিনুককে ফোন দিয়ে জলদি আসতে বলেছে নাভান। সে বাইক নিয়ে আসছে, তার বেশিক্ষণ লাগবে না। তাড়াহুড়ির জন্য এসে নাভান পড়েছে বিপাকে। আজ কী হলো, এত ভিড় রাস্তায়! এদিকে এসি ফুল স্পিডে চালু করে দিয়েছে নাভান। হেরা শীতে কাঁপছে। বিরক্ত নিয়ে বলে—
“এই অসভ্য গিটারওয়ালা, আমায় কি মারতে চাচ্ছেন এসি চালিয়ে!! আরেকটু পর কাঠ হয়ে যাবো বরফে।”
নাভান বিরক্ত নিয়ে বলে—
“হয়ে যাও, আমার কী। আমার গরম লাগছে।”
“কেন, আপনি কি যুদ্ধ করছেন নাকি এতক্ষণ?”
“যুদ্ধ খেলার যন্ত্রপাতি নিয়ে বসে আছি, গরম তো লাগবেই।”
“এই কী বললেন?”

“আর একটা কথা বললে এখানে মাথা বরাবর শুট করে দেবো!! এটম বোম!!”
ভিড়ের কারণে সবার গাড়ি আগ-পিছ করছে। নাভানদের গাড়ির সাথে আরেক কাপলের গাড়ি ছিল। মেয়েটা অনেকক্ষণ ধরে নাভান আর হেরাকে লক্ষ্য করছিল। পাশ থেকে তার বরকে ইশারায় দেখায়—
“আমাকেও কোলে নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে।”
মেয়েটির স্বামী অবাক হয়। হঠাৎ কথা বলাতে—কোলে নেবে মানে! বিয়ের দিন বউকে কোলে নিয়ে এক সিঁড়ি ওপরে উঠতে গিয়ে যে উল্টে পড়ে গিয়েছিল, তাত্ক্ষণিক মনে পড়ে। বউটা তার অনেক গুলুমুলু, বরটা বাঁশ তার অনুযায়ী, আর সে মলি বাঁশ। বউয়ের কথা শুনে অবাক চোখে তাকিয়ে ঢোক গিলে বলে—

“কি?”
“দেখো না, ওই যে ছেলেটা তার বউকে কোলে তুলে কী সুন্দর গাড়ি চালাচ্ছে। হাউ রোমান্টিক! আমিও উঠবো তোমার কোলে, বেবি প্লিজ।”
বউ-পাগল মহন কটাক্ষ করে বলে—
“তোমার ওজন কত জানো? আমি চেপ্টা লেগে যাবো তো ডার্লিং! বিয়ের দিনের কথা মনে নেই তোমার?”
“কি! তুমি আমায় আবার মোটা বলে খোঁটা দিচ্ছো? যাও, আমি আর কথাই বলবো না। আজ মোটা বলে কোলে নিচ্ছো না!”
বলে মুখ গোমড়া করে বসে থাকে মেয়েটা। এবার ছেলেটা পড়েছে বিপাকে। এই গুলুমুলু বউটাকে যে খুব ভালোবাসে। কিন্তু কোলে উঠালে সে যে চেপ্টা লেগে যাবে! কী করবে! বউকে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকতে দেখতেও পারবে না সে। নিরুপায় হয়ে বলে—

“আচ্ছা, আসো বসো ডার্লিং।”
ধপাস করে কোলে বসতেই ছেলেটার পা চেপ্টা লেগে যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু তাও ছেলেটা বউকে কিছু বলে না। খিচ লেগে দম মেরে বসে থাকে। লোকটা একবার নিজের বউয়ের হাসিমুখের দিকে তাকায়, তো আবার নাভান আর হেরার দিকে। কখন নামাবে কোল থেকে? কিন্তু না—নাভান আর হেরার তো নামার নামই নেই। নিরুপায় মহন দম ধরে বসে থাকে।
আজ মনে হয় ঢাকা শহরে জ্যাম লেগেছে সব নাভানদের গাড়ির সামনে। প্রায় ৪০ মিনিট হয়ে গেছে, গাড়ি নড়ছে না। এবার লোকটা বউকে উদ্দেশ করে বলে—

“ডার্লিং, তুমি এবার নামো। আমি একটু বাইরে থেকে তোমার জন্য ফুল কিনে আনি।”
মেয়েটা খুশিতে গদগদ। কোল থেকে ধপাস করে নিজের সিটে বসে। লোকটা গাড়ি থেকে নেমে পা দু’টা ঝাড়ি মারে, আরামোড়া ভাঙে। পায়ের হাড়্ডি মর মর করে ফুটে যায়। ভাগ্য ভালো যে পা এখনো অক্ষত আছে। লোকটা নাভানদের গাড়ির সামনে যায় কিছুটা রাগ নিয়ে।
টকটক শব্দ পেয়ে গাড়ির গ্লাস নামায় নাভান। লোকটা রাগী সুরে বলে—
“ভাই, বেশি রোমান্টিক হয়ে সবাইকে দেখাতে গেলে তো আমাদের কিছু বিবাহিত পুরুষদের সমস্যা হয়। বউকে নিয়ে আল্লাদ করবেন বাসায় গিয়ে। কোলে বসিয়ে রাখেন। কেন পাবলিকদের দেখিয়ে হয়রানি করছেন? আপনার জন্য আমার পা চেপ্টা লেগে গেছে। সবাই তো আর আপনার বউয়ের মতো চিকনিচামিলি না যে সারাক্ষণ কোলে বসিয়ে রাখতে পারবে। আমাদের দিকে একটু দেখেন ভাই।”
শেষের কথাটা একটু করুন সুরে বলে লোকটা। হেরা কিছু বলতে যাবে, তার আগে নাভান ব্যাপারটা বুঝতে পেরে হেরাকে চুপ করিয়ে দিয়ে লোকটার উদ্দেশে বলে—

“কি করবো ভাই, মিসাইল নিয়ে ঘুরলে যা হয় আর কি! বুঝেন তো, সব মেয়েরাই এক। আমিও আপনার মতো হতভাগা।”
লোকটা মনে হয় নাভানের কষ্ট বুঝলো—
“তাই নাকি ভাই! তার মানে আপনিও ব্ল্যাকমেলের শিকার। আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল। মেয়ে জাত মানে ঝামেলার বস্তা। করলে শুরু, শেষ হবে না তাদের কাহিনি। যাই হোক, সমবেদনা ভাই।”
লোকটা চলে যেতে পাশ থেকে আরেক কাপল বলে ওঠে—
“এই, আমাকেও এভাবে কোলে বসিয়ে ড্রাইভ করবে। দেখো তো, কত সুন্দর রোমান্টিক কাপল! দাঁড়াও, পিক নিয়ে ছাড়বো ফেসবুকে।”
নাভান কে আর কে! ডান দিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে সেক্টরের ভিতর দিয়ে টান দেয় গাড়ি। এদিক দিয়ে গেলে অনেক সময় লাগবে, তাও ভালো—ট্রেন্ড না হয়ে যায় সে। যাওয়ার আগে মাস্ক পরে নিল, যাতে কেউ সহজে চিনতে না পারে।
হেরার কথায় ধ্যান ভাঙে নাভানের—

“এই লোকগুলো কী বলছিল ওইসব?”
“বলেছে, বউকে রুমে নিয়ে রোমান্স করতে, পাবলিক প্লেসে না।”
“কি! আপনার মতো লোককে এত ভালো উপাধি দিলো। দিলে খালু, মামা এসব বললেও মানা যেত। এমন বড় লোকের সাথে আমার মতো পিচ্চি মেয়েকে জড়াচ্ছে—ছি! কী দিন এলো হেরা তোর!!”
“দিন তোমার ভালো, আমার খারাপ। আমি যাদের পছন্দ করি, তারা নজরে পড়ে। তুমি তো নোটিসেই আসোনি। আর এরা তোমায় আমার লেভেলে উঠিয়ে দিচ্ছে!! ভুল লেভেলে এসে ভুল মানুষ নিয়ে ভাবছে এরা।”
হেরা কিছু বলতে যাবে, তার আগে নাভান ধমকে ওঠে—

“মিসাইল গার্ল, আর একটা কথা বললে কামড়িয়ে দেবো কিন্তু।”
বেশ বিরক্ত নিয়ে বলে নাভান কথাটা। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকে দু’জন।
এদিকে হেরার চুল নাভানের চোখে-মুখে পড়ছে বারবার। ড্রাইভ করতেও সমস্যা হচ্ছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে—
“ইস, কী গন্ধ! মিসাইল গার্ল, চুল বাঁধো। আমার বমি আসছে। ছি, ইয়াক।”
তার চুলে গন্ধ না—এটা মানা যায় না। এই লোকের নাকে নির্ঘাত সমস্যা আছে। হেরার মতে, মেয়েদের চুলের ঘ্রাণে ছেলেরা পাগল হয়ে যায়। আর জামাই থাকলে তো কথাই নেই।
“আপনার নাকে সমস্যা। আপনার ধারণা আছে কী ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ইউজ করি আমি? আপনি কিন্তু আমায় বারবার অপমান করছেন।”

“তো কী করবো, আমার বিচ্ছিরি লাগছে। তোমার চুলের ঘ্রাণ খুব বিরক্ত করছে আমায়।”
“আপনি জানেন এই চুলের ঘ্রাণে কয়টা ছেলে পটাতে পারতাম আমি?”
“একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না, মিস হেরা!”
“বেশি না। আমার চুলের মিষ্টি ঘ্রাণে আমার ভবিষ্যৎ জামাই উন্মাদ হয়ে যাবে। ওইসব আপনি বুঝবেন না।”
“উন্মাদ! হা হা! হার্ট অ্যাটাক করবে। নিজেকে কি নায়িকা ঐশ্বরিয়া মনে করছেন?”
“তার থেকেও বেশি।”
মুখ বাঁকিয়ে দু’জন দুই দিকে মুখ করে ফেলে। হঠাৎ নাভানের ভারী কণ্ঠে হকচকিয়ে যায় হেরা—
“ওড়না ঠিক করো, মেয়ে। তখন মানুষ বলবে গাড়ির ব্যাক সিট থাকতে ফ্রন্ট সিটে অকাজ করি। তোমার জন্য নিজের নামের উপর ট্যাগ লাগাতে পারবো না।”

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১২

নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে, ওড়না বুক থেকে গলায় পেঁচিয়ে গেছে। বুকের তিলটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। গলায় একসাথে দুইটা তিল দেখা গেলেও বুকের ভাজের উপরের তিলটা দেখা কম যায় ওড়না নেওয়ার কারণে। নিজেকে এমন অবস্থায় দেখে লজ্জায় পড়ে যায় হেরা। আর একটা কথাও বলে না। দু’জনের মুখে স্ট্যাপলার মেরে বসে থাকে।
বেশ খানিকক্ষণ ড্রাইভ করার পর হাসপাতালের সামনে আসে তারা। হেরা খুশিতে গদগদ। ইস, এখনই মেডিসিন দিয়ে হাত ছুটাতে পারলেই হলো। আর জীবনে এই বেটা গিটারওয়ালার আশেপাশে থাকবে না।
দু’জন গাড়ি থেকে নামতেই আরেকটা কার এসে তাদের মুখে কিছু একটা দিয়ে নিয়ে যায়, উঠিয়ে। নাভান কিছু করার আগেই—করবেই বা কী করে! এক হাত কাটা, আর এক হাত জোট লাগানো।

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১৪